আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · পাতা ২৮
৫৪১. কোন দেশের মহিলারা সর্বপ্রথম ভোটাধিকার লাভ করে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- খনিউজিল্যান্ড
- গবাহামা
- ঘসুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর: খ. নিউজিল্যান্ড
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশ সবার আগে জাতীয় নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার দেয়। উত্তর নিউজিল্যান্ড।
১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডে নতুন নির্বাচনী আইনে নারীরা ভোটাধিকার পান। কেট শেপার্ডের নেতৃত্বে হাজার হাজার নারীর স্বাক্ষর নিয়ে সংসদে আবেদন করা হয়েছিল, তারই ফল এই আইন। সেই বছরের নভেম্বরের নির্বাচনেই নারীরা ভোট দেন।
তুলনা করলে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীতে নারীরা ভোটাধিকার পান ১৯২০ সালে, বাহামায় নারীরা প্রথম ভোট দেন ১৯৬২ সালে, আর সুইজারল্যান্ডে জাতীয় পর্যায়ে নারীরা ভোটাধিকার পান মাত্র ১৯৭১ সালে।
ফাঁদ যুক্তরাষ্ট্র: নারী অধিকার আন্দোলনের জন্য দেশটি পরিচিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে নারীর ভোটাধিকার সেখানে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ২৭ বছর পরে আসে।
মনে রাখুন: নারীর ভোটাধিকারে প্রথম নিউজিল্যান্ড ১৮৯৩, ইউরোপে দেরিতে আসা সুইজারল্যান্ড ১৯৭১।
৫৪২. রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি (Chemical Weapons Convention) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১৯৯০
- খ১৯৯৩
- গ১৯৯৬
- ঘ১৯৯৯
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৯৩
প্রশ্নটা রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন স্বাক্ষরের সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৯৩।
১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে প্যারিসে চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং প্যারিসের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেই বহু দেশ স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি, মজুত, হস্তান্তর ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং বিদ্যমান মজুত ধ্বংসের বাধ্যবাধকতা দেয়।
স্বাক্ষর আর কার্যকর হওয়া আলাদা ধাপ। চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৯৭ সালে, আর এর বাস্তবায়ন তদারক করে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা, সংক্ষেপে ওপিসিডব্লিউ।
ফাঁদ ১৯৯০ ও ১৯৯৬: ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই দেশের মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের আলাদা চুক্তি করে, আর ১৯৯৬ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়। দুটোই আলাদা চুক্তি।
মনে রাখুন: স্বাক্ষর ১৯৯৩, কার্যকর ১৯৯৭: দুটো সাল আলাদা করে মনে রাখুন।
৫৪৩. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট ১২ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কতথ্যটি সঠিক নয়
- খজেমস মনরো
- গফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
- ঘহ্যারি এস ট্রুম্যান
সঠিক উত্তর: গ. ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। উত্তর ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।
রুজভেল্ট ১৯৩২, ১৯৩৬, ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালে মোট চারবার নির্বাচিত হন; চারবার নির্বাচিত হওয়া একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনিই। ১৯৩৩ সালের মার্চে দায়িত্ব নিয়ে ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে চতুর্থ মেয়াদের শুরুতে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। মহামন্দা আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুটোই তাঁর আমলে।
রুজভেল্টের পর এমন দীর্ঘ শাসন ঠেকাতে সংবিধানের ২২তম সংশোধনী আনা হয়, যা ১৯৫১ সালে কার্যকর হয়। এতে কোনো ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। তাই আর কারও পক্ষে ১২ বছর থাকা কার্যত সম্ভব নয়।
ফাঁদ হ্যারি ট্রুম্যান: রুজভেল্টের মৃত্যুর পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন এবং প্রায় ৮ বছর ছিলেন। আর তথ্যটি সঠিক নয় বিকল্পটি ভুল, কারণ রুজভেল্ট সত্যিই প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন।
মনে রাখুন: চারবার নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট; চার মেয়াদ মানেই ১২ বছরের বেশি থাকার সুযোগ।
৫৪৪. বাদশা ফাহাদের পর সৌদি বাদশা কে হন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কখালেদ
- খফয়সাল
- গআব্দুল আজিজ
- ঘআবদুল্লাহ
সঠিক উত্তর: ঘ. আবদুল্লাহ
প্রশ্নটা সৌদি আরবের রাজাদের ধারাক্রম জানতে চেয়েছে: বাদশা ফাহাদের পর কে বাদশা হন। উত্তর আবদুল্লাহ।
২০০৫ সালের আগস্টে বাদশা ফাহাদের মৃত্যুর পর তাঁর সৎভাই, তখনকার যুবরাজ আবদুল্লাহ বাদশা হন। এই পরীক্ষা হয় সে বছরের নভেম্বরে, তাই প্রশ্নটি তখনকার সাম্প্রতিক ঘটনা থেকে।
সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশা আবদুল আজিজ ইবনে সৌদের মৃত্যুর পর তাঁর ছেলেরা একে একে সিংহাসনে বসেন: সৌদ, ফয়সাল, খালেদ, ফাহাদ, তারপর আবদুল্লাহ। এই ক্রমটা মনে থাকলে এ ধরনের যেকোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যায়।
ফাঁদ খালেদ: তিনি ফাহাদের পরে নন, আগে বাদশা ছিলেন। ক্রমটা উল্টে ফেললেই এই ভুল হয়।
মনে রাখুন: ক্রম মুখস্থ: আবদুল আজিজ, সৌদ, ফয়সাল, খালেদ, ফাহাদ, আবদুল্লাহ।
৫৪৫. কোনটি বিংশ শতাব্দীর শেষভাগে উপনিবেশবাদের নিগড় থেকে মুক্ত হয়? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কহংকং
- খশ্রীলংকা
- গম্যাকাও
- ঘবাংলাদেশ
সঠিক উত্তর: গ. ম্যাকাও
প্রশ্নটা খুঁজছে এমন অঞ্চল, যা বিংশ শতাব্দীর একেবারে শেষ দিকে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্ত হয়। প্রচলিত উত্তর ম্যাকাও।
ম্যাকাও প্রায় সাড়ে চারশো বছর পর্তুগিজ শাসনে ছিল। ১৯৯৯ সালের ২০ ডিসেম্বর পর্তুগাল এটি চীনের কাছে হস্তান্তর করে; এশিয়ায় ইউরোপীয় ঔপনিবেশিক শাসনের অবসানের শেষ বড় ঘটনা এটিই।
হংকংও প্রায় একই সময়ের: ১৯৯৭ সালের ১ জুলাই ব্রিটেন হংকং চীনের কাছে হস্তান্তর করে। তাই কঠোর অর্থে হংকংও শর্ত পূরণ করে; তবে সময়ের দিক থেকে শেষেরটি ম্যাকাও, আর গাইডগুলো এটিকেই উত্তর ধরে।
শ্রীলঙ্কা ব্রিটেনের কাছ থেকে স্বাধীন হয় ১৯৪৮ সালে, শতাব্দীর মাঝামাঝি। বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয়; এটি শেষভাগের ঘটনাও নয়, ইউরোপীয় উপনিবেশ থেকে মুক্তিও নয়।
মনে রাখুন: হংকং ১৯৯৭, ম্যাকাও ১৯৯৯: শতাব্দীর একেবারে শেষটা ম্যাকাওয়ের।
৫৪৬. নিচের কোন চুক্তিটি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে অনুমোদিত হয়নি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কএবিএম চুক্তি (ABM)
- খসল্ট-১ চুক্তি (SALT-1)
- গসল্ট-২ চুক্তি (SALT-2)
- ঘস্টার্ট-২ চুক্তি (START-2)
সঠিক উত্তর: গ. সল্ট-২ চুক্তি (SALT-2)
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি মার্কিন সিনেটের অনুমোদন পায়নি। উত্তর সল্ট-২।
যুক্তরাষ্ট্রে কোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি বাধ্যতামূলক করতে সিনেটের দুই তৃতীয়াংশ ভোটে অনুমোদন লাগে। ১৯৭৯ সালের জুনে ভিয়েনায় প্রেসিডেন্ট কার্টার ও সোভিয়েত নেতা ব্রেজনেভ সল্ট-২ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
একই বছরের ডিসেম্বরে সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানে ঢোকে। এর প্রতিক্রিয়ায় ১৯৮০ সালের জানুয়ারিতে কার্টার সিনেটকে চুক্তিটির বিবেচনা স্থগিত রাখতে বলেন, ফলে চুক্তিটি আর কখনো অনুমোদন পায়নি।
অন্য তিনটি চুক্তি অনুমোদন পেয়েছিল। ১৯৭২ সালের এবিএম চুক্তি সিনেট অনুমোদন করে, একই বছরের সল্ট-১ অন্তর্বর্তী চুক্তিও কংগ্রেসের অনুমোদন পায়, আর স্টার্ট-২ চুক্তি সিনেট অনুমোদন করে ১৯৯৬ সালে।
মনে রাখুন: আফগানিস্তান আক্রমণে আটকে যাওয়া চুক্তি: সল্ট-২।
৫৪৭. Amnesty International কত সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিল? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১৯৭৭
- খ১৯৭৮
- গ১৯৭৯
- ঘ১৯৮১
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৭৭
প্রশ্নটা মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৭৭।
১৯৬১ সালে লন্ডনে আইনজীবী পিটার বেনেনসনের উদ্যোগে অ্যামনেস্টির যাত্রা শুরু হয়। বিনা বিচারে আটক রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে প্রচারণার স্বীকৃতিতে ১৯৭৭ সালে সংগঠনটি নোবেল শান্তি পুরস্কার পায়।
পাশের বছরগুলোর শান্তি পুরস্কার মনে রাখলে বিকল্পগুলো সহজে বাদ পড়ে। ১৯৭৮ সালে পান মিসরের আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের মেনাখেম বেগিন, ১৯৭৯ সালে মাদার তেরেসা, আর ১৯৮১ সালে জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা।
ফাঁদ ১৯৭৮ ও ১৯৭৯: খুব কাছের সাল, আর দুটো বছরেই শান্তি পুরস্কার বিখ্যাত বিজয়ীদের হাতে গেছে; সেই খ্যাতির কারণেই এগুলো বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: সাতাত্তরে অ্যামনেস্টি, আটাত্তরে সাদাত, ঊনআশিতে মাদার তেরেসা: পরপর তিন বছর।
৫৪৮. START-2 কি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কটিভিতে সম্প্রচারিত একটি সিরিয়াল
- খবাণিজ্য সংক্রান্ত একটি চুক্তি
- গকৌশলগত অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি
- ঘএর কোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস সংক্রান্ত চুক্তি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে স্টার্ট-২ কী। স্টার্ট শব্দটি স্ট্র্যাটেজিক আর্মস রিডাকশন ট্রিটির সংক্ষিপ্ত রূপ, বাংলায় কৌশলগত অস্ত্র হ্রাস চুক্তি।
স্টার্ট-২ চুক্তি ১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে মস্কোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ বুশ ও রুশ প্রেসিডেন্ট বরিস ইয়েলৎসিনের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়। এর লক্ষ্য ছিল দুই দেশের দূরপাল্লার পারমাণবিক ওয়ারহেড বড় আকারে কমানো এবং একাধিক ওয়ারহেডবাহী আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র নিষিদ্ধ করা। তবে চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত কার্যকর হয়নি।
নামের পার্থক্য মনে রাখুন। সত্তরের দশকের সল্ট চুক্তিগুলো অস্ত্র সীমিত রাখার, আর স্টার্ট চুক্তিগুলো অস্ত্র কমানোর। ১৯৯১ সালে স্টার্ট-১, ১৯৯৩ সালে স্টার্ট-২।
বাণিজ্য চুক্তি বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ চুক্তি শব্দটি মিলে যায়; কিন্তু স্টার্টের পূর্ণরূপেই আর্মস, অর্থাৎ অস্ত্র শব্দটি আছে।
মনে রাখুন: নামেই উত্তর: স্টার্টের আর মানে আর্মস, অর্থাৎ অস্ত্র।
৫৪৯. আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম (ARF) এর সদস্য সংখ্যা কত? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক২১
- খ২২
- গ২৩
- ঘ২৭
সঠিক উত্তর: ঘ. ২৭
প্রশ্নটা আসিয়ান রিজিওনাল ফোরাম বা এআরএফের সদস্যসংখ্যা জানতে চেয়েছে। এআরএফ হলো এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনার ফোরাম, যার যাত্রা ১৯৯৪ সালে।
পরে নতুন নতুন দেশ যোগ দেয়: পাকিস্তান ২০০৪ সালে, তিমুর লেস্তে ২০০৫ সালে, বাংলাদেশ ২০০৬ সালে ছাব্বিশতম সদস্য হিসেবে, আর শ্রীলঙ্কা ২০০৭ সালে সাতাশতম সদস্য হিসেবে। তখন থেকে সদস্যসংখ্যা ২৭, আর প্রচলিত উত্তরও এটিই।
তবে খেয়াল রাখুন, এই পরীক্ষা হয় ২০০৫ সালের নভেম্বরে। তখন তিমুর লেস্তেসহ সদস্য ছিল ২৫, যা বিকল্পে নেই। গাইডগুলো পরে উত্তর হালনাগাদ করে ২৭ লিখেছে।
সদস্যসংখ্যার প্রশ্নে কোন সালের তথ্য চাওয়া হচ্ছে তা মাথায় রাখা জরুরি; ২১, ২২ বা ২৩ পাকিস্তান যোগ দেওয়ার আগের সময়ের সংখ্যার কাছাকাছি, ২০০৫ সালের বা পরের নয়।
মনে রাখুন: বাংলাদেশ ছাব্বিশতম, শ্রীলঙ্কা সাতাশতম: শেষ সদস্যের ক্রমই মোট সংখ্যা।
৫৫০. মালয়েশিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ কত বছর ক্ষমতায় ছিলেন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক২১ বছর
- খ২২ বছর
- গ২৪ বছর
- ঘ২৫ বছর
সঠিক উত্তর: খ. ২২ বছর
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ড. মাহাথির মোহাম্মদ কত বছর ক্ষমতায় ছিলেন। পরীক্ষার সময়ের হিসাবে উত্তর ২২ বছর।
মাহাথির ১৯৮১ সালের জুলাইয়ে মালয়েশিয়ার চতুর্থ প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০০৩ সালের অক্টোবরে স্বেচ্ছায় অবসর নেন; তাঁর উত্তরসূরি হন আবদুল্লাহ আহমদ বাদাবি। ১৯৮১ থেকে ২০০৩, অর্থাৎ টানা ২২ বছর। তাঁর আমলে মালয়েশিয়া দ্রুত শিল্পায়িত হয়।
পরীক্ষা হয়েছিল ২০০৫ সালে, তখন তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী। অনেক পরে, ২০১৮ সালে তিনি আবার প্রধানমন্ত্রী হন এবং ২০২০ সালে পদত্যাগ করেন। তাই এখনকার কোনো বইয়ে দুই দফা মিলিয়ে প্রায় ২৪ বছর লেখা থাকতে পারে।
ফাঁদ ২৪ বছর: এটি দ্বিতীয় দফা যোগ করা পরের হিসাব। ২০০৫ সালের প্রশ্নে প্রথম দফার ২২ বছরই উত্তর।
মনে রাখুন: ২০০৩ − ১৯৮১ = ২২; পরীক্ষার পরের দ্বিতীয় দফা যোগ করবেন না।
৫৫১. ইরাকের বর্তমান প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ কোন সম্প্রদায়ের? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কসুন্নি
- খশিয়া
- গকুর্দি
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. কুর্দি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ইরাকের প্রেসিডেন্ট বারহাম সালিহ কোন সম্প্রদায়ের। উত্তর কুর্দি। তিনি ইরাকি কুর্দিস্তানের সুলায়মানিয়া শহরের মানুষ এবং ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ইরাকের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
প্রশ্নটি পরে হালনাগাদ করা রূপে এসেছে। ২০০৫ সালের মূল পরীক্ষার সময় প্রেসিডেন্ট ছিলেন জালাল তালাবানি, তিনিও কুর্দি। তাই দুই সময়েই উত্তর একই: কুর্দি।
২০০৫ সালের পর থেকে ইরাকে একটি অলিখিত ক্ষমতা ভাগাভাগির রীতি চলে আসছে: প্রেসিডেন্ট সাধারণত কুর্দি, প্রধানমন্ত্রী শিয়া আরব, আর সংসদের স্পিকার সুন্নি আরব। এই রীতি মনে রাখলে ইরাকের নেতাদের নিয়ে প্রশ্ন সহজ হয়।
ফাঁদ সুন্নি: অধিকাংশ কুর্দি ধর্মে সুন্নি মুসলমান, কিন্তু ইরাকের রাজনীতিতে কুর্দিদের আলাদা জাতিগোষ্ঠী হিসেবে ধরা হয়, আর সুন্নি বলতে সেখানে সাধারণত সুন্নি আরব বোঝায়।
মনে রাখুন: ইরাকে প্রেসিডেন্ট কুর্দি, প্রধানমন্ত্রী শিয়া, স্পিকার সুন্নি।
৫৫২. কোন মুসলিম মনীষী সর্বপ্রথম নোবেল পুরস্কার পান? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কপ্রফেসর আব্দুস সালাম
- খআনোয়ার সাদাত
- গনাগীব মাহফুজ
- ঘইয়াসির আরাফাত
সঠিক উত্তর: খ. আনোয়ার সাদাত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন মুসলিম ব্যক্তি সবার আগে নোবেল পুরস্কার পান। উত্তর মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত।
১৯৭৮ সালে ইসরায়েলের সঙ্গে ক্যাম্প ডেভিড শান্তি চুক্তির জন্য সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন যৌথভাবে নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। মুসলিমদের মধ্যে এটিই প্রথম নোবেল।
পরের বছর, ১৯৭৯ সালে, পাকিস্তানের পদার্থবিজ্ঞানী আবদুস সালাম পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পান; বিজ্ঞানে তিনিই প্রথম মুসলিম নোবেলজয়ী। মিসরের নাগিব মাহফুজ সাহিত্যে পান ১৯৮৮ সালে, আর ইয়াসির আরাফাত শান্তিতে পান ১৯৯৪ সালে।
ফাঁদ আবদুস সালাম: বিজ্ঞানে প্রথম মুসলিম নোবেলজয়ী হিসেবে তিনি বিখ্যাত, কিন্তু সাদাতের এক বছর পরে। প্রশ্নে বিজ্ঞানে প্রথম নয়, সামগ্রিকভাবে প্রথম জানতে চাওয়া হয়েছে।
মনে রাখুন: সামগ্রিকভাবে প্রথম সাদাত ১৯৭৮, বিজ্ঞানে প্রথম আবদুস সালাম ১৯৭৯।