নিচের যে মন্তব্যটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক নয় -
সঠিক উত্তর
ঙকোনোটিই নয়
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন মন্তব্য ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের ক্ষেত্রে খাটে না। কিন্তু চারটি মন্তব্যই আসলে তাঁর অবদানের সঙ্গে মেলে, তাই প্রশ্নটি ত্রুটিপূর্ণ।
বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্যের প্রথম যথার্থ শিল্পী বলা হয়। রবীন্দ্রনাথের মূল্যায়নে, তিনি বাংলা গদ্যের এলোমেলো রূপকে সুবিন্যস্ত ও সুসংযত করেছিলেন; অর্থাৎ গদ্যে ভেতরের শৃঙ্খলা ও ছন্দ এনেছিলেন। তিনিই বাংলা গদ্যে কমা, সেমিকোলনের মতো যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগ শুরু করেন।
১৮৫৫ সালে প্রকাশিত ‘বর্ণপরিচয়’ বইয়ে তিনি বাংলা বর্ণমালা নতুন করে সাজান: স্বরবর্ণ বারোটি করেন, দীর্ঘ ঋ ও দীর্ঘ ৯ বাদ দেন, আর ড়, ঢ়, য় যোগ করেন।
তাঁর অধিকাংশ সাহিত্যকর্মই অনুবাদ বা রূপান্তর: সংস্কৃত থেকে ‘শকুন্তলা’ ও ‘সীতার বনবাস’, হিন্দি থেকে ‘বেতাল পঞ্চবিংশতি’, শেক্সপিয়র থেকে ‘ভ্রান্তিবিলাস’। তাই অনুবাদ-সাহিত্যও তাঁর বড় অবদান। পরীক্ষায় এমন প্রশ্নে চারটি অবদানই মনে রাখুন।
এই প্রশ্নের উত্তর নিয়ে প্রকাশিত গাইডগুলোতে দ্বিমত আছে; এখানে সবচেয়ে প্রচলিত উত্তরটি দেওয়া হলো।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| মন্তব্য | বিদ্যাসাগরের সঙ্গে সম্পর্ক |
|---|---|
| গদ্যে শৃঙ্খলা | বাংলা গদ্যের প্রথম শিল্পী; গদ্যকে সুসংযত করেন |
| যতিচিহ্নের প্রয়োগ | বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু |
| বর্ণমালার বিন্যাস | বর্ণপরিচয় (১৮৫৫): বর্ণমালা সংস্কার |
| অনুবাদ-সাহিত্য | শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস |
- গদ্যে শৃঙ্খলা: বিদ্যাসাগর বাংলা গদ্যকে সুবিন্যস্ত ও শিল্পিত করেন।
- যতিচিহ্ন: বাংলা গদ্যে কমা, সেমিকোলনের সার্থক প্রয়োগ তাঁরই।
- বর্ণপরিচয় ১৮৫৫: বর্ণমালা নতুন করে সাজানো।
- অনুবাদ: শকুন্তলা, সীতার বনবাস, ভ্রান্তিবিলাস। চারটিই প্রাসঙ্গিক, তাই প্রশ্নটি ত্রুটিপূর্ণ।
ক. অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলাঋদ্ধ গদ্য -ব্যবহার: প্রাসঙ্গিক: রবীন্দ্রনাথ বলেছেন তিনি বাংলা গদ্যকে সুবিন্যস্ত ও সুসংযত করেছেন, অর্থাৎ গদ্যে শৃঙ্খলা এনেছেন।
খ. ভাষায় নতুন যতি -চিহ্নের প্রয়োগ: প্রাসঙ্গিক: বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক প্রয়োগের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
গ. বর্ণমালার সুপরিকল্পিত বিন্যাস: প্রাসঙ্গিক: ‘বর্ণপরিচয়’ বইয়ে তিনি বর্ণমালা সংস্কার করে নতুনভাবে সাজান।
ঘ. সমৃদ্ধ অনুবাদ - সাহিত্য সৃজন: প্রাসঙ্গিক: তাঁর প্রধান রচনাগুলোর বেশিরভাগই অনুবাদ বা রূপান্তর।
বিদ্যাসাগরের চার পরিচয় মনে রাখুন: গদ্যশিল্পী, যতিচিহ্ন, বর্ণপরিচয়, অনুবাদ।
বিদ্যাসাগর = গদ্যে শৃঙ্খলা + যতিচিহ্ন + বর্ণপরিচয় + অনুবাদ।
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য: এ রকম আরও প্রশ্ন
- কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী?৩৫তম বিসিএস (২০১৫)
- কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনী?সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার (ক্যাশ) (২০২১)
- কোনটি ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের আত্মজীবনীমূলক লেখা?সমন্বিত ১০ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার (২০২৩)
- নিচের কোনটি বিশেষ্য পদ?৩৬তম বিসিএস (২০১৬)
- নিচের কোনটি অশুদ্ধ?৩৭তম বিসিএস (২০১৬)
- নিচের কোনটি সমার্থক নয়?প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক: অফিসার (ক্যাশ) (২০২১)
বাংলা ভাষা ও সাহিত্য-এর সব প্রশ্ন › · রূপালী ব্যাংক: অফিসার (২০১৯)-এর পুরো প্রশ্নপত্র ›