‘ছেলেটি গোল্লায় গেছে।’ এ বাক্যের ক্রিয়াপদ কোনটি?
সঠিক উত্তর
কমিশ্র ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা গঠন অনুযায়ী ক্রিয়ার প্রকার নিয়ে। বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক শব্দের সঙ্গে কর্, হ্, যা, দে, পা, কাট্ ইত্যাদি ধাতু যুক্ত হয়ে যে ক্রিয়া গঠিত হয়, তাকে মিশ্র বা সংযোগমূলক ক্রিয়া বলে।
“গোল্লায় গেছে” অংশে গোল্লা একটি বিশেষ্য, তার সঙ্গে যা ধাতু মিলে একটি নতুন অর্থ তৈরি করেছে: নষ্ট হয়ে যাওয়া। তাই এটি মিশ্র ক্রিয়া। একই রকম উদাহরণ: ভয় পাওয়া, দর্শন করা, ঘেউ ঘেউ করা।
যৌগিক ক্রিয়ায় থাকে একটি অসমাপিকা আর একটি সমাপিকা ক্রিয়া, যেমন “খেয়ে ফেলল”, “বেজে উঠল”। এখানে “গোল্লায়” কোনো ক্রিয়াই নয়, তাই যৌগিক ক্রিয়া হয় না।
“গোল্লায় গেছে” দুটি শব্দ মিলে ক্রিয়া হয়েছে দেখে অনেকে যৌগিক ক্রিয়া বেছে নেন; এটাই প্রধান ফাঁদ। মনে রাখবেন, প্রথম অংশটা বিশেষ্য হলে মিশ্র, অসমাপিকা ক্রিয়া হলে যৌগিক।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩বিশেষ্য/বিশেষণ/ধ্বন্যাত্মক শব্দ + কর্, হ্, যা, পা, দে = মিশ্র ক্রিয়া
- ক্রিয়া অংশটি হলো “গোল্লায় গেছে”।
- গোল্লা একটি বিশেষ্য, গেছে এসেছে যা ধাতু থেকে।
- বিশেষ্য যোগ ধাতু মিলে ক্রিয়া, তাই এটি মিশ্র ক্রিয়া।
খ. যৌগিক ক্রিয়া: যৌগিক ক্রিয়ায় অসমাপিকা আর সমাপিকা থাকে, যেমন খেয়ে ফেলা; গোল্লা ক্রিয়া নয়, বিশেষ্য।
গ. দ্বিকর্মক ক্রিয়া: দ্বিকর্মক ক্রিয়ার দুটি কর্ম থাকে, যেমন “শিক্ষক ছাত্রকে অঙ্ক শেখান”; এ বাক্যে কোনো কর্মই নেই।
ঘ. প্রযোজক ক্রিয়া: প্রযোজক ক্রিয়ায় একজন অন্যকে দিয়ে কাজ করায়, যেমন “মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন”; এখানে তা নেই।
প্রথম অংশ নাম-শব্দ (ভয়, গান, দর্শন, ঘেউ ঘেউ) হলে মিশ্র; প্রথম অংশ “-এ” দিয়ে শেষ হওয়া অসমাপিকা (খেয়ে, বেজে) হলে যৌগিক।
নামে নামে মিশ্র, কাজে কাজে যৌগিক।