কোন দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল’- 'চাইতে' ক্রিয়াটির ব্যবহার কোন ধরণের?
সঠিক উত্তর
ঘঅনুসর্গ তৈরী
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা অনুসর্গ নিয়ে। দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের পঙ্ক্তি “কোন দেশেতে তরুলতা, সকল দেশের চাইতে শ্যামল”-এ “চাইতে” আসলে কোনো কাজ বোঝাচ্ছে না, বোঝাচ্ছে তুলনা।
চাইতে শব্দটি এসেছে চাওয়া ক্রিয়ার অসমাপিকা রূপ থেকে। কিন্তু এখানে কেউ কিছু চাইছে না; শব্দটি “সকল দেশের” পদের পরে বসে “অপেক্ষা” অর্থ দিচ্ছে। এভাবে ক্রিয়া থেকে জাত শব্দ যখন বিশেষ্য বা সর্বনামের পরে বসে বিভক্তির মতো কাজ করে, তখন তাকে ক্রিয়াজাত অনুসর্গ বলে।
একই রকম ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: দিয়ে, থেকে, হতে, চেয়ে, করে। যেমন “ছুরি দিয়ে কাটা”, “বাড়ি থেকে আসা”, “তোমার চেয়ে বড়”। তাই চাইতে-র ব্যবহার অনুসর্গ তৈরি।
ক্রিয়াবাচক বিশেষণ বা বিশেষণ ভাবাপন্ন ধরলে ভুল হবে, কারণ চাইতে কোনো বিশেষ্যের গুণ বলছে না। আর অনন্বয়ী অব্যয় বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না, অথচ চাইতে সরাসরি “সকল দেশের”-এর সঙ্গে যুক্ত।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: দিয়ে, থেকে, হতে, চেয়ে, চাইতে, করে
- চাইতে শব্দের মূল চাওয়া ক্রিয়া।
- কিন্তু বাক্যে এটি “অপেক্ষা” বা তুলনা বোঝাচ্ছে।
- বিশেষ্যের পরে বসে বিভক্তির কাজ করছে, তাই এটি ক্রিয়াজাত অনুসর্গ।
ক. অনন্বয়ী অব্যয়: অনন্বয়ী অব্যয় (যেমন আহা, মরি মরি) বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে না; চাইতে কিন্তু “সকল দেশের” সঙ্গে যুক্ত।
খ. ক্রিয়াবাচক বিশেষণ: চাইতে কোনো বিশেষ্যের গুণ বলছে না, তাই বিশেষণ নয়।
গ. বিশেষণ বাচকতা: এখানে কোনো বিশেষণের ভাব নেই; শব্দটি তুলনার সম্পর্ক বোঝাচ্ছে।
তুলনা বোঝাতে চেয়ে বা চাইতে বসলেই ক্রিয়াজাত অনুসর্গ: আমার চেয়ে, তোমার চাইতে, সবার চেয়ে।
ক্রিয়া থেকে জন্ম, কাজ বিভক্তির: সেটাই অনুসর্গ।