রবীন্দ্রনাথের ‘সোনার তরী’ কবিতা কোন ছন্দে রচিত?
সঠিক উত্তর
ঘমাত্রাবৃত্ত
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি রবীন্দ্রনাথের সোনার তরী কবিতার ছন্দ জানতে চেয়েছে। কবিতাটি মাত্রাবৃত্ত ছন্দে লেখা, প্রতিটি চরণে আট আর পাঁচ মাত্রার পর্ব।
প্রথম চরণ ধরি: গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা। গগনে তিন মাত্রা, গরজে তিন, আর মেঘ রুদ্ধ দল বলে দুই মাত্রা; মোট আট। ঘন দুই আর বরষা তিন, মোট পাঁচ।
মাত্রাবৃত্তের চিহ্ন হলো রুদ্ধ দল, মানে ব্যঞ্জনে শেষ হওয়া অক্ষর, সবসময় দুই মাত্রা পায়। লয় মাঝারি, পড়তে গানের মতো দোলা লাগে। স্বরবৃত্তে পর্ব হয় চার মাত্রার আর লয় দ্রুত, ছড়ার মতো।
ফাঁদ হলো মন্দাক্রান্তা বিকল্পটি। এটি সংস্কৃত ছন্দের নাম, কালিদাসের মেঘদূতের ছন্দ; মেঘ শব্দ দেখে অনেকে মিলিয়ে ফেলেন, কিন্তু সোনার তরী বাংলা মাত্রাবৃত্তে লেখা।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪- প্রথম চরণ নিই: গগনে গরজে মেঘ, ঘন বরষা।
- গগনে তিন, গরজে তিন, মেঘ দুই: প্রথম পর্ব আট মাত্রা।
- ঘন দুই, বরষা তিন: দ্বিতীয় পর্ব পাঁচ মাত্রা।
- রুদ্ধ দল দুই মাত্রা আর আট যোগ পাঁচের চাল: মাত্রাবৃত্ত।
ক. স্বরবৃত্ত: স্বরবৃত্তে রুদ্ধ দল এক মাত্রা ও পর্ব চার মাত্রার; সোনার তরীর পর্ব আট মাত্রার।
খ. অক্ষরবৃত্ত: অক্ষরবৃত্তের চেনা চাল পয়ার, আট আর ছয় মাত্রার; সোনার তরীর আট আর পাঁচের চাল মাত্রাবৃত্তের।
গ. মন্দাক্রান্তা: মন্দাক্রান্তা সংস্কৃত ছন্দ, মেঘদূতের ছন্দ; বাংলা সোনার তরীর নয়।
রুদ্ধ দল সবসময় দুই মাত্রা ধরে পর্ব মিললে মাত্রাবৃত্ত; এক মাত্রা ধরে চার মাত্রার পর্ব মিললে স্বরবৃত্ত।
সোনার তরী দোলে আট আর পাঁচের ঢেউয়ে।