নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয় কী?
সঠিক উত্তর
ঘসমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের আলোচনা ও মূল্যায়ন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে নীতিবিদ্যা আসলে কী নিয়ে কাজ করে। নীতিবিদ্যা সমাজে বসবাসকারী মানুষের স্বেচ্ছাকৃত আচরণ আলোচনা করে এবং সেই আচরণ ভালো না মন্দ, উচিত না অনুচিত, তা বিচার বা মূল্যায়ন করে।
নীতিবিদ্যার ইংরেজি নাম এথিক্স এসেছে গ্রিক শব্দ ইথোস থেকে, যার অর্থ চরিত্র, রীতি বা অভ্যাস। ব্রিটিশ দার্শনিক জন স্টুয়ার্ট ম্যাকেঞ্জি তাঁর পাঠ্যবই আ ম্যানুয়াল অব এথিক্সে নীতিবিদ্যাকে বলেছেন আচরণের বিজ্ঞান, যা মানুষের কাজকে ঠিক না ভুল, ভালো না মন্দ, সেই দিক থেকে বিচার করে।
এ কারণে নীতিবিদ্যাকে আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান বলা হয়। মনোবিজ্ঞান বা সমাজবিজ্ঞান বলে মানুষ কেমন আচরণ করে আর কেন করে; নীতিবিদ্যা বলে মানুষের কেমন আচরণ করা উচিত। শুধু ব্যাখ্যা নয়, মূল্যায়নই এর বিশেষত্ব।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ তৃতীয় বিকল্প, যেখানে শুধু আচরণ ব্যাখ্যার কথা আছে। ব্যাখ্যা তো সমাজবিজ্ঞানও করে; আলোচনার সঙ্গে মূল্যায়ন যোগ হলেই তা নীতিবিদ্যা।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| শাস্ত্র | মূল প্রশ্ন | ধরন |
|---|---|---|
| মনোবিজ্ঞান | মানুষ কেন এমন আচরণ করে? | বর্ণনামূলক |
| সমাজবিজ্ঞান | সমাজে মানুষ কেমন আচরণ করে? | বর্ণনামূলক |
| নীতিবিদ্যা | মানুষের কেমন আচরণ করা উচিত? | আদর্শনিষ্ঠ: আলোচনা ও মূল্যায়ন |
- মনোবিজ্ঞান মনের দিক থেকে আচরণ ব্যাখ্যা করে: মানুষ কেন এমন করে।
- সমাজবিজ্ঞান সমাজে মানুষের আচরণ যেমন আছে তেমন ব্যাখ্যা করে।
- নীতিবিদ্যা আচরণ আলোচনা করে এবং ভালো-মন্দ বিচার করে: তাই এটি আদর্শনিষ্ঠ বিজ্ঞান।
ক. মানুষের আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা প্রদান: আচরণের মনস্তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা মনোবিজ্ঞানের কাজ; এতে ভালো-মন্দ বিচার নেই।
খ. মানুষের জীবনের সফলতার দিকগুলো আলোচনা: নীতিবিদ্যা সফলতা নয়, আচরণের নৈতিক ঔচিত্য বিচার করে; সফল কাজও অনৈতিক হতে পারে।
গ. সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণ ব্যাখ্যা: শুধু ব্যাখ্যা সমাজবিজ্ঞানও করে; মূল্যায়ন না থাকায় এটি অসম্পূর্ণ উত্তর।
প্রশ্নে ‘মূল্যায়ন’, ‘উচিত-অনুচিত’ বা ‘ভালো-মন্দ বিচার’ থাকলে সেটাই নীতিবিদ্যা; শুধু ‘ব্যাখ্যা’ থাকলে তা অন্য শাস্ত্র।
বিজ্ঞান বলে ‘যা আছে’, নীতিবিদ্যা বলে ‘যা হওয়া উচিত’।