মানুষের কোন ক্রিয়া নীতিবিদ্যার আলোচ্য বিষয়?
সঠিক উত্তর
কঐচ্ছিক ক্রিয়া
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মানুষের কোন ধরনের কাজের নৈতিক বিচার হয়। উত্তর ঐচ্ছিক ক্রিয়া, অর্থাৎ যে কাজ মানুষ জেনে-বুঝে, উদ্দেশ্য নিয়ে এবং স্বাধীনভাবে বেছে নিয়ে করে।
নৈতিক দায় তখনই আসে যখন মানুষ চাইলে অন্যভাবে কাজটি করতে পারত। কেউ মিথ্যা বলবে কি না, ঘুষ নেবে কি না, এগুলো সে নিজে ঠিক করে; তাই এসব কাজের জন্য তাকে প্রশংসা বা নিন্দা করা যায়।
অনৈচ্ছিক ক্রিয়া, যেমন হৃৎপিণ্ডের স্পন্দন, হাঁচি বা চোখের পলক পড়া, ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে না। ঘুমের মধ্যে হাঁটা বা হঠাৎ প্রতিবর্ত ক্রিয়ার মতো ইচ্ছা-নিরপেক্ষ কাজও তাই নৈতিক বিচারের বাইরে।
ফাঁদ হলো শেষ বিকল্প ‘ক ও গ’। ইচ্ছা-নিরপেক্ষ কাজে উদ্দেশ্য বা বাছাই নেই, তাই এটিকে ঐচ্ছিক ক্রিয়ার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া যায় না।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| ক্রিয়ার ধরন | উদাহরণ | নৈতিক বিচার হয়? |
|---|---|---|
| ঐচ্ছিক | সত্য বলা, ঘুষ নেওয়া | হ্যাঁ |
| অনৈচ্ছিক | হৃৎস্পন্দন, হাঁচি | না |
| ইচ্ছা-নিরপেক্ষ | ঘুমের মধ্যে হাঁটা, প্রতিবর্ত ক্রিয়া | না |
| নীতিবিদ্যার বিষয় | শুধু ঐচ্ছিক ক্রিয়া | কারণ এতে বাছাইয়ের স্বাধীনতা আছে |
- ঐচ্ছিক ক্রিয়া: জেনে-বুঝে, স্বাধীনভাবে বেছে নেওয়া কাজ।
- অনৈচ্ছিক ও ইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া: ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
- যেখানে বাছাই আছে, শুধু সেখানেই নৈতিক দায়; তাই নীতিবিদ্যা ঐচ্ছিক ক্রিয়া বিচার করে।
খ. অনৈচ্ছিক ক্রিয়া: অনৈচ্ছিক ক্রিয়া ইচ্ছার নিয়ন্ত্রণে নেই, তাই এর জন্য কাউকে দোষ বা প্রশংসা করা যায় না।
গ. ইচ্ছা নিরপেক্ষ ক্রিয়া: ইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়ায় উদ্দেশ্য বা বাছাই থাকে না; এটি নৈতিকতার বাইরে।
ঘ. ক ও গ নামক ক্রিয়া: গ বা ইচ্ছা-নিরপেক্ষ ক্রিয়া নীতিবিদ্যার বিষয় নয়, তাই ‘ক ও গ’ জোড়াও ভুল।
‘ইচ্ছা’, ‘উদ্দেশ্য’, ‘স্বাধীন বাছাই’ যেখানে আছে, সেখানেই নৈতিক বিচার।
যে কাজ বেছে নেওয়া যায়, তারই দায় নিতে হয়।