মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারক -এর প্রভাব অপরিসীম?
সঠিক উত্তর
কশ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে কোন ধর্মপ্রচারকের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। উত্তর শ্রীচৈতন্যদেব। তাঁর প্রচারিত গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্মের প্রভাবে বৈষ্ণব পদাবলি সমৃদ্ধ হয় এবং বাংলা জীবনী সাহিত্যের সূচনা ঘটে।
তাঁর প্রভাব এত গভীর যে মধ্যযুগকে চৈতন্যপূর্ব যুগ আর চৈতন্যোত্তর যুগ, এভাবে ভাগ করা হয়। তাঁর জীবন নিয়ে বাংলায় প্রথম গ্রন্থ বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত; আর কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত সবচেয়ে বিখ্যাত চৈতন্যজীবনী।
শ্রীকৃষ্ণ ধর্মপ্রচারক নন, পৌরাণিক দেবতা; তাঁকে নিয়ে কাব্য লেখা হয়েছে, যেমন বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন। আদিনাথ নাথধর্মে শিবের নাম; নাথসাহিত্য ছিল, কিন্তু তার প্রভাব সীমিত।
ফাঁদ শ্রীকৃষ্ণ বিকল্পটি। বৈষ্ণব সাহিত্যের কেন্দ্রে কৃষ্ণ আছেন ঠিকই, কিন্তু তিনি কাব্যের বিষয়, প্রচারক নন; প্রচারক চৈতন্যদেব।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| নাম | পরিচয় |
|---|---|
| শ্রীকৃষ্ণ | পৌরাণিক দেবতা, কাব্যের বিষয় |
| আদিনাথ | নাথধর্মে শিব |
| শ্রীচৈতন্যদেব | বৈষ্ণব ধর্মপ্রচারক |
| চৈতন্যভাগবত | বৃন্দাবন দাস, প্রথম বাংলা চৈতন্যজীবনী |
- প্রশ্ন চেয়েছে একজন ধর্মপ্রচারক, দেবতা নয়।
- শ্রীচৈতন্যদেব গৌড়ীয় বৈষ্ণব ধর্ম প্রচার করেন।
- ফল: বৈষ্ণব পদাবলির বিকাশ আর জীবনী সাহিত্যের জন্ম; মধ্যযুগ চৈতন্যপূর্ব ও চৈতন্যোত্তর দুই ভাগে।
খ. শ্রীকৃষ্ণ: শ্রীকৃষ্ণ পৌরাণিক দেবতা, কাব্যের বিষয়; তিনি মধ্যযুগের ধর্মপ্রচারক নন।
গ. আদিনাথ: আদিনাথ নাথধর্মে শিবের নাম; নাথসাহিত্যের প্রভাব চৈতন্যপ্রভাবের তুলনায় সীমিত।
ঘ. মনোহর দাশ: মনোহর দাশ নামে কারও যুগনির্ধারক প্রভাব বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে নেই।
মধ্যযুগের ভাগ মনে রাখুন: চৈতন্যপূর্ব আর চৈতন্যোত্তর। জীবনী সাহিত্য মানেই চৈতন্যজীবনী।
কৃষ্ণ কাব্যের নায়ক, চৈতন্য তার প্রচারক।