গঠনরীতিতে “শ্রীকৃষ্ণকীর্তন” কাব্য মূলত -
সঠিক উত্তর
ঘনাট্যগীতি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বড়ু চণ্ডীদাসের শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের গঠন কেমন। কাব্যটি কৃষ্ণ, রাধা আর দূতী বড়াই, এই তিন চরিত্রের উক্তি-প্রত্যুক্তিতে এগিয়েছে, আর গাওয়ার জন্য রাগ ও তাল উল্লেখ করে লেখা। সংলাপ আর গান মিলে এর গঠন তাই নাট্যগীতি।
কাব্যটি তেরোটি খণ্ডে বিভক্ত, যেমন জন্মখণ্ড, দানখণ্ড, নৌকাখণ্ড, রাধাবিরহ। এটি মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন হিসেবে ধরা হয়।
এর পুথি পাওয়া যায় ১৩১৬ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯০৯ সালে, বাঁকুড়া জেলার কাঁকিল্যা গ্রাম থেকে; আবিষ্কারক বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ। তাঁর সম্পাদনায় বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ থেকে এটি প্রকাশিত হয় ১৩২৩ বঙ্গাব্দে, অর্থাৎ ১৯১৬ সালে।
ফাঁদ হলো পদাবলি বিকল্পটি। চণ্ডীদাস নামটি বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে জড়িত বলে অনেকে পদাবলি বেছে নেন, কিন্তু পদাবলি আলাদা আলাদা গীতিকবিতা, আর শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটানা কাহিনির সংলাপধর্মী কাব্য। বিকল্পে ছাপা গ্রেমগীতি শব্দটি আসলে প্রেমগীতি; এটি প্রশ্নপত্রেরই ছাপার ভুল।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| রচয়িতা | বড়ু চণ্ডীদাস |
| চরিত্র ও খণ্ড | কৃষ্ণ, রাধা, বড়াই; ১৩ খণ্ড |
| আবিষ্কার | ১৯০৯, কাঁকিল্যা, বাঁকুড়া; বসন্তরঞ্জন রায় বিদ্বদ্বল্লভ |
| প্রকাশ | ১৯১৬, বঙ্গীয় সাহিত্য পরিষৎ |
| গঠনরীতি | নাট্যগীতি: সংলাপ আর গান |
- রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস; মধ্যযুগের প্রথম নিদর্শন।
- তিন চরিত্র কৃষ্ণ, রাধা, বড়াই; কাব্য তেরো খণ্ডে বিভক্ত।
- ১৯০৯ সালে বাঁকুড়ায় পুথি আবিষ্কার, ১৯১৬ সালে প্রকাশ।
- চরিত্রের সংলাপ আর গান মিলে গঠন: নাট্যগীতি।
ক. পদাবলি: পদাবলি স্বতন্ত্র ছোট গীতিকবিতার ধারা; শ্রীকৃষ্ণকীর্তন একটানা কাহিনির সংলাপধর্মী কাব্য। চণ্ডীদাস নামের কারণে এই ভুল হয়।
খ. ধামালি: ধামালি রঙ্গরসে ভরা লৌকিক প্রেমালাপের গান; কাব্যের কোনো কোনো অংশে এর ছোঁয়া থাকলেও পুরো কাব্যের গঠন এটি নয়।
গ. গ্রেমগীতি: বিকল্পে ছাপা গ্রেমগীতি আসলে প্রেমগীতি, প্রশ্নপত্রের ছাপার ভুল। বিষয় রাধাকৃষ্ণের প্রেম হলেও প্রশ্নটি গঠনরীতি জানতে চেয়েছে, বিষয় নয়।
শ্রীকৃষ্ণকীর্তন: বড়ু চণ্ডীদাস, তিন চরিত্র, তেরো খণ্ড, ১৯০৯ সালে আবিষ্কার, ১৯১৬ সালে প্রকাশ।
তিন চরিত্রের কথা আর গান: শ্রীকৃষ্ণকীর্তন নাট্যগীতি।