“সন্ধ্যাভাষা” কোন সাহিত্যকর্মের সঙ্গে যুক্ত?
সঠিক উত্তর
কচর্যাপদ
ব্যাখ্যা
সন্ধ্যাভাষা কথাটি যুক্ত বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন চর্যাপদের সঙ্গে। চর্যাপদের ভাষা আর অর্থ দুটোই আলো-আঁধারির মতো, কিছুটা বোঝা যায়, কিছুটা যায় না; তাই একে সন্ধ্যাভাষা বলা হয়।
এই নাম দেন চর্যাপদের আবিষ্কারক হরপ্রসাদ শাস্ত্রী। বৌদ্ধ সহজিয়া সাধকেরা তাঁদের গোপন সাধনতত্ত্ব রূপক আর প্রতীকের আড়ালে লিখেছিলেন, যাতে বাইরের মানুষ সহজে না বোঝে; তাই ভাষাটি দ্ব্যর্থক।
অন্য সাহিত্যধারার ভাষাগত পরিচয় আলাদা। বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে যুক্ত ব্রজবুলি, মঙ্গলকাব্য লেখা মধ্যযুগের সাধারণ বাংলায়, আর রোমান্সকাব্য মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের প্রণয়োপাখ্যান, যার বড় অংশ আরাকান রাজসভায় রচিত।
ফাঁদ হলো পদাবলি বিকল্পটি, কারণ পদাবলিরও আলাদা নামের একটি ভাষা আছে। মনে রাখুন, পদাবলির ভাষা ব্রজবুলি আর চর্যার ভাষা সন্ধ্যাভাষা।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| সাহিত্যধারা | ভাষাগত পরিচয় |
|---|---|
| বৈষ্ণব পদাবলি | ব্রজবুলি |
| মঙ্গলকাব্য | মধ্যযুগের সাধারণ বাংলা |
| রোমান্সকাব্য | মুসলমান কবিদের প্রণয়োপাখ্যান |
| চর্যাপদ | সন্ধ্যাভাষা: আলো-আঁধারি, দ্ব্যর্থক |
- বৈষ্ণব পদাবলির ভাষা ব্রজবুলি।
- মঙ্গলকাব্য আর রোমান্সকাব্য মধ্যযুগের, এদের বিশেষ কোনো সাধনভাষা নেই।
- চর্যাপদের আলো-আঁধারি দ্ব্যর্থক ভাষা: সন্ধ্যাভাষা।
খ. পদাবলি: বৈষ্ণব পদাবলির সঙ্গে যুক্ত ভাষা ব্রজবুলি, সন্ধ্যাভাষা নয়।
গ. মঙ্গলকাব্য: মঙ্গলকাব্য দেবদেবীর মাহাত্ম্যের কাব্য, মধ্যযুগের সাধারণ বাংলায় লেখা; সন্ধ্যাভাষার সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
ঘ. রোমান্সকাব্য: রোমান্সকাব্য মধ্যযুগের মুসলমান কবিদের প্রণয়োপাখ্যান; এর ভাষা দ্ব্যর্থক সাধনভাষা নয়।
চর্যাপদ: সন্ধ্যাভাষা; পদাবলি: ব্রজবুলি। নাম দুটি জোড়ায় মনে রাখুন।
সাঁঝের আলোর মতো আধো বোঝা: চর্যার সন্ধ্যাভাষা।