‘সর্বাঙ্গীণ’ শব্দের সঠিক প্রকৃতি -প্রত্যয়-
সঠিক উত্তর
ঘসর্বাঙ্গ + ঈন
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি সর্বাঙ্গীণ শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় জানতে চেয়েছে। আগে সর্ব আর অঙ্গ মিলে সর্বাঙ্গ, তারপর তার সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ঈন যোগ হয়ে সর্বাঙ্গীণ। তাই প্রকৃতি সর্বাঙ্গ, প্রত্যয় ঈন।
প্রত্যয়টি দন্ত্য ন দিয়ে ঈন, তবু শব্দে মূর্ধন্য ণ কেন? এখানে ণত্ব বিধান কাজ করছে। র-এর পরে মাঝখানে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ বা প-বর্গের বর্ণ থাকলেও পরের ন মূর্ধন্য ণ হয়। সর্বাঙ্গীণ শব্দে র-এর পরে ব, আ, ঙ, গ, ঈ আছে, এদের কোনোটিই বাধা দেয় না।
তুলনা করুন: প্রাচীন আর অর্বাচীন শব্দেও একই ঈন প্রত্যয় আর র আছে, কিন্তু মাঝে চ-বর্গের চ বাধা দেয়, তাই সেখানে দন্ত্য ন। কুলীন শব্দে র-ই নেই, তাই দন্ত্য ন।
বিকল্প যাচাই: সর্বঙ্গ কোনো শব্দ নয়, কারণ সর্ব আর অঙ্গের সন্ধিতে আ-কার আসে। অঙ্গীন বা ঙ্গীন কোনো প্রত্যয় নয়; শব্দের মাঝখান কেটে প্রত্যয় বানানো যায় না।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩র-এর পরে স্বর, ক-বর্গ, প-বর্গ মাঝে থাকলেও ন হয় ণ
- সর্ব আর অঙ্গ মিলে সর্বাঙ্গ।
- সর্বাঙ্গের সঙ্গে ঈন প্রত্যয়: সর্বাঙ্গীণ।
- র-এর পরে বাধা নেই, তাই ণত্ব বিধানে ন হয়েছে ণ।
ক. সর্বঙ্গ + ঈন: সর্ব আর অঙ্গ মিলে হয় সর্বাঙ্গ, আ-কারসহ; সর্বঙ্গ বলে কোনো শব্দ নেই।
খ. সর্ব + অঙ্গীন: অঙ্গীন কোনো প্রত্যয় নয়; সমাস আর প্রত্যয় গুলিয়ে শব্দ ভুলভাবে ভাঙা হয়েছে।
গ. সর্ব + ঙ্গীন: ঙ্গীন অংশটি শব্দের ভেতর থেকে কেটে আনা, এটি কোনো প্রত্যয় নয়।
সর্বাঙ্গ + ঈন = সর্বাঙ্গীণ; একই ঈন প্রত্যয়ে কুলীন, প্রাচীন, অর্বাচীন, যেখানে দন্ত্য ন থাকে।
র থাকলে আর পথ খোলা থাকলে ন হয়ে যায় ণ।