‘বাবা ছেলের দীর্ঘায়ু কামনা করলেন’ – এই পরোক্ষ উক্তির প্রত্যক্ষরূপ হবে-
সঠিক উত্তর
গবাবা ছেলেকে বললেন, ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি পরোক্ষ উক্তিকে প্রত্যক্ষ উক্তিতে বদলাতে বলছে। প্রত্যক্ষ উক্তিতে বক্তার কথা হুবহু উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে বসে, আর তার আগে কমা দিয়ে বলা হয় কে কাকে বললেন।
দীর্ঘায়ু কামনা করা মানে আশীর্বাদ করা। বাবা ছেলেকে আশীর্বাদ করলে মুখে যা বলবেন তা হলো তুমি দীর্ঘজীবী হও। তাই সঠিক রূপ: বাবা ছেলেকে বললেন, তারপর উদ্ধৃতিচিহ্নের ভেতরে তুমি দীর্ঘজীবী হও।
প্রত্যক্ষ উক্তিতে যে সংযোজক বসে না; যে বসে পরোক্ষ উক্তিতে। আর বক্তার কথায় শ্রোতাকে সরাসরি তুমি বলে সম্বোধন করা হয়। একই নিয়মে আশীর্বাদের অন্য বাক্য হয় সুখী হও, ভালো থেকো।
ফাঁদ হলো যে দিয়ে শুরু হওয়া দুটি বিকল্প। দেখতে প্রত্যক্ষ উক্তির মতো লাগলেও এগুলোতে উদ্ধৃতিচিহ্ন নেই, যে আছে, তাই এগুলো আসলে পরোক্ষ উক্তির গঠন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- বর্ণনার অংশ আলাদা করি: বাবা ছেলেকে বললেন, তারপর কমা।
- বক্তার নিজের কথা উদ্ধৃতিচিহ্নে বসে, শ্রোতাকে সরাসরি তুমি বলা হয়।
- দীর্ঘায়ু কামনা মানে আশীর্বাদ, তাই বাবার মুখের কথা: ‘তুমি দীর্ঘজীবী হও’।
ক. বাবা ছেলেকে বললেন, বাবা তুমি দীর্ঘজীবী হও: উদ্ধৃতিচিহ্ন নেই, তাই বক্তার কথা আলাদা হয়নি; তুমি দীর্ঘজীবী হও কথাটি উদ্ধৃতির ভেতরে না বসায় এটি প্রত্যক্ষ উক্তির শুদ্ধ রূপ নয়।
খ. বাবা ছেলেকে বললেন যে, তোমার দীর্ঘয়ু হোক: যে সংযোজক আর উদ্ধৃতিচিহ্নহীন গঠন পরোক্ষ উক্তির বৈশিষ্ট্য; তার ওপর বিকল্পে ছাপা দীর্ঘয়ু বানানটিও ভুল, শুদ্ধ রূপ দীর্ঘায়ু।
ঘ. বাবা ছেলেকে বললেন যে, আমি তোমার দীর্ঘায়ু কামনা করি: যে সংযোজক বসেছে এবং উদ্ধৃতিচিহ্ন নেই; তা ছাড়া আশীর্বাদ মুখে কেউ আমি কামনা করি বলে দেন না, বলেন দীর্ঘজীবী হও।
পরোক্ষ উক্তির আশীর্বাদ, অনুরোধ বা আদেশকে প্রত্যক্ষে নিতে ভাবুন বক্তা মুখে ঠিক কী বলতেন; সেটিই উদ্ধৃতিচিহ্নে বসান, যে বাদ দিন।
প্রত্যক্ষে উদ্ধৃতি, পরোক্ষে যে।