জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে কাকে কেন্দ্র করে?
সঠিক উত্তর
কশ্রীচৈতন্যদেব
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি মধ্যযুগের জীবনী সাহিত্যের উৎস জানতে চায়। বাংলায় জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে ওঠে শ্রীচৈতন্যদেবকে কেন্দ্র করে।
চৈতন্যদেব ছিলেন বৈষ্ণব ধর্মের প্রবর্তক ও প্রচারক। তাঁর প্রভাব এত বিশাল ছিল যে তাঁর জীবন ও কাজ নিয়ে একের পর এক কাব্য লেখা হয়, যাদের বলে চৈতন্যজীবনী। মধ্যযুগে মানুষকে কেন্দ্র করে সাহিত্য লেখার এটাই প্রথম বড় ধারা, কারণ এর আগে সাহিত্যের কেন্দ্রে থাকতেন দেবদেবী।
বাংলায় প্রথম চৈতন্যজীবনী বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত। সবচেয়ে বিখ্যাতটি কৃষ্ণদাস কবিরাজের চৈতন্যচরিতামৃত। লোচনদাসের চৈতন্যমঙ্গলও এই ধারার।
বাকি তিনজনকে কেন্দ্র করে এমন ধারা গড়ে ওঠেনি। কাহ্নপা চর্যাপদের কবি, বিদ্যাপতি মিথিলার বৈষ্ণব পদকর্তা, আর রামকৃষ্ণ পরমহংস উনিশ শতকের সাধক, মধ্যযুগের অনেক পরের মানুষ।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| ব্যক্তি | পরিচয় |
|---|---|
| কাহ্নপা | চর্যাপদের কবি |
| বিদ্যাপতি | মিথিলার বৈষ্ণব পদকর্তা |
| রামকৃষ্ণ পরমহংস | উনিশ শতকের সাধক |
| শ্রীচৈতন্যদেব | চৈতন্যভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত: জীবনী সাহিত্য |
- কাহ্নপা: চর্যাপদের সবচেয়ে বেশি পদের রচয়িতা।
- বিদ্যাপতি: মিথিলার কবি, ব্রজবুলিতে বৈষ্ণব পদ।
- রামকৃষ্ণ পরমহংস: উনিশ শতকের সাধক।
- শ্রীচৈতন্যদেব: তাঁর জীবন নিয়ে চৈতন্যভাগবত, চৈতন্যচরিতামৃত; জীবনী সাহিত্যের সূচনা।
খ. কাহ্নপা: কাহ্নপা চর্যাপদের কবি; তাঁকে নিয়ে জীবনীকাব্যের কোনো ধারা গড়ে ওঠেনি।
গ. বিদ্যাপতি: বিদ্যাপতি মিথিলার কবি, ব্রজবুলিতে বৈষ্ণব পদ লিখেছেন; তিনি পদকর্তা, জীবনী সাহিত্যের কেন্দ্র নন।
ঘ. রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব: রামকৃষ্ণ পরমহংস উনিশ শতকের সাধক; মধ্যযুগের জীবনী সাহিত্যের ধারা গড়ে উঠেছিল তাঁর জন্মের কয়েক শতাব্দী আগে।
মধ্যযুগে জীবনী মানেই চৈতন্যজীবনী: প্রথমটি বৃন্দাবন দাসের চৈতন্যভাগবত।
দেবতার বদলে মানুষ: চৈতন্যের জীবন দিয়েই জীবনী শুরু।