‘দেশের যত নদীর ধারা জল না, ওরা অশ্রুধারা’ – এই উক্তিটি নিচের কোন পারিভাষিক অলংকার দ্বারা শোভিত?
সঠিক উত্তর
কঅপহৃতি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি অর্থালংকার চিনতে চেয়েছে। উপমেয়কে অস্বীকার করে তার জায়গায় উপমানকে প্রতিষ্ঠা করলে সেই অলংকারকে বলে অপহ্নুতি। শব্দটির অর্থই হলো গোপন করা বা অস্বীকার করা। প্রশ্নপত্রের বিকল্পে বানানটি ছাপা হয়েছে অপহৃতি, তবে শুদ্ধ বানান অপহ্নুতি।
চরণে উপমেয় হলো নদীর ধারা। কবি বলছেন এটি জল না, অর্থাৎ নদীর আসল পরিচয়কে অস্বীকার করছেন, এবং বলছেন ওরা অশ্রুধারা, অর্থাৎ উপমানকে প্রতিষ্ঠা করছেন। এই অস্বীকার আর প্রতিষ্ঠা মিলেই অপহ্নুতি।
চেনার কৌশল: চরণে ‘নয়’, ‘না’, ‘নহে’ দিয়ে কোনো কিছু অস্বীকার করে তার বদলে অন্য কিছু বলা হলে অপহ্নুতি খুঁজুন। উপমায় তুলনা হয়, রূপকে অভেদ কল্পনা হয়, আর অপহ্নুতিতে আগে অস্বীকার থাকে।
যমক শব্দালংকার, যেখানে একই শব্দ বারবার এসে ভিন্ন ভিন্ন অর্থ দেয়। অর্থোন্নতি আর অভিযোজন অলংকারই নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪উপমেয়কে অস্বীকার করে উপমান প্রতিষ্ঠা = অপহ্নুতি
- উপমেয়: নদীর ধারা।
- কবি বলছেন জল না: উপমেয়কে অস্বীকার।
- বলছেন অশ্রুধারা: উপমান প্রতিষ্ঠা।
- অস্বীকার করে উপমান বসানো মানেই অপহ্নুতি।
খ. যমক: যমকে একই শব্দ একাধিকবার এসে ভিন্ন অর্থ দেয়; এই চরণে তেমন শব্দের পুনরাবৃত্তি নেই।
গ. অর্থোন্নতি: অর্থোন্নতি শব্দের অর্থ পরিবর্তনের একটি ধারা, যেখানে অর্থের মান বাড়ে; এটি অলংকার নয়।
ঘ. অভিযোজন: অভিযোজন মানে খাপ খাওয়ানো; এটি কোনো অলংকারের নাম নয়।
চরণে ‘না’ বা ‘নয়’ দিয়ে আসলটাকে বাতিল করে অন্য কিছু বসালে অপহ্নুতি।
জল না, অশ্রু: না বললেই অপহ্নুতি।