'নীলকর' কোন সমাসের দৃষ্টান্ত?
সঠিক উত্তর
ঘউপপদ তৎপুরুষ
ব্যাখ্যা
নীলকর মানে নীল চাষ করে যে। এখানে পরপদ কর, যা করা অর্থের ধাতু থেকে প্রত্যয়যোগে গঠিত কৃদন্ত পদ, আর তার আগে বসেছে নীল।
নিয়ম: কৃদন্ত পদের আগে যে পদ বসে তাকে উপপদ বলে, আর উপপদের সঙ্গে কৃদন্ত পদের সমাসকে উপপদ তৎপুরুষ সমাস বলে। ব্যাসবাক্য সাধারণত হয়, অমুক করে যে বা অমুকে চরে যে।
একই ধরনের উদাহরণ: কুম্ভকার মানে কুম্ভ করে যে, জলচর মানে জলে চরে যে, ছেলেধরা মানে ছেলে ধরে যে।
ফাঁদ বহুব্রীহি, কারণ নীলকর একজন মানুষকে বোঝায়। কিন্তু বহুব্রীহিতে পদগুলোর বাইরে তৃতীয় অর্থ আসে, যেমন দশানন মানে দশ আনন যার; নীলকরে পরপদ কৃদন্ত হওয়ায় সেটি উপপদ তৎপুরুষ।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩উপপদ + কৃদন্ত পদ: কুম্ভকার, জলচর, ছেলেধরা
- ব্যাসবাক্য করি: নীল করে যে।
- পরপদ কর একটি কৃদন্ত পদ, আগে বসেছে উপপদ নীল।
- উপপদ আর কৃদন্তের সমাস: উপপদ তৎপুরুষ।
ক. দ্বন্দ্ব: দ্বন্দ্ব সমাসে দুটি পদের অর্থই সমান প্রধান, মাঝে ও থাকে; নীল ও কর এমন অর্থ দেয় না।
খ. বহুব্রীহি: বহুব্রীহিতে পদগুলোর বাইরে অন্য কিছু বোঝায়, যেমন দশানন; নীলকরে পরপদ কৃদন্ত, তাই এটি উপপদ তৎপুরুষ।
গ. নিত্য: নিত্য সমাসের ব্যাসবাক্য হয় না বা অন্য শব্দ দিয়ে করতে হয়, যেমন গ্রামান্তর মানে অন্য গ্রাম; নীলকরের ব্যাসবাক্য সহজে হয়।
ব্যাসবাক্যে করে যে, চরে যে, ধরে যে এলে এবং পরপদ ধাতু থেকে গঠিত হলে উপপদ তৎপুরুষ।
যে করে, সে কর: নীলকর, কুম্ভকার।