'সে কৌতুক করার কৌতূহল সংবরণ করতে পারল না।'- এই বাক্য কী কারণে ত্রুটিপূর্ণ?
সঠিক উত্তর
গঅর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি বাক্যের ত্রুটির ধরন চিনতে বলেছে। বাক্যে কৌতুক আর কৌতূহল, কাছাকাছি শোনায় এমন দুটি শব্দ আছে, কিন্তু এদের অর্থ আলাদা।
কৌতুক মানে রসিকতা বা মজা, আর কৌতূহল মানে কিছু জানার আগ্রহ। কৌতুক করার কৌতূহল বললে দাঁড়ায় রসিকতা করার জানার আগ্রহ, যা অর্থসংগত নয়। শুদ্ধ রূপ হতে পারে, সে কৌতুক করার লোভ সংবরণ করতে পারল না।
বাক্যের বানান ঠিক আছে: কৌতুক শব্দে হ্রস্ব উ, কৌতূহল শব্দে দীর্ঘ ঊ। পদক্রমও কর্তা, কর্ম, ক্রিয়ার স্বাভাবিক নিয়মে আছে। তাই ত্রুটি অর্থের, মানে অর্থ অনুযায়ী শব্দের প্রয়োগ হয়নি।
ফাঁদ হলো বানান ভুলের বিকল্পটি, কারণ এই দুটি শব্দের বানান নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন আসে। এখানে বানান শুদ্ধ; সমস্যা শব্দ বাছাইয়ে।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| শব্দ | অর্থ | বাক্যে |
|---|---|---|
| কৌতুক | রসিকতা, মজা | ঠিক আছে |
| কৌতূহল | জানার আগ্রহ | অর্থ মেলে না |
| শুদ্ধ রূপ | কৌতুক করার লোভ | অর্থসংগত |
- কৌতুক মানে রসিকতা; বাক্যে এটি ঠিক জায়গায় আছে।
- কৌতূহল মানে জানার আগ্রহ; রসিকতা করার সঙ্গে অর্থ মেলে না।
- শুদ্ধ রূপ: কৌতুক করার লোভ সংবরণ করতে পারল না।
ক. বানান ভুল আছে: কৌতুক হ্রস্ব উ আর কৌতূহল দীর্ঘ ঊ দিয়ে, দুটিই শুদ্ধ বানানে লেখা; বানানে ভুল নেই।
খ. বাক্যের পদবিন্যাস যথাযথ নয়: কর্তা সে, তারপর কর্ম, শেষে ক্রিয়া, স্বাভাবিক ক্রমেই আছে; পদবিন্যাসে সমস্যা নেই।
ঘ. বিশেষ্য-বিশেষণের অপপ্রয়োগ ঘটেছে: কৌতুক ও কৌতূহল দুটিই বিশেষ্য এবং বিশেষ্য হিসেবেই বসেছে; বিশেষ্য বিশেষণের গোলমাল নেই।
শুদ্ধ বাক্যের তিন শর্ত আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি, যোগ্যতা; শব্দের অর্থ প্রসঙ্গে না মিললে যোগ্যতা নষ্ট হয়।
কৌতুকে হাসি, কৌতূহলে প্রশ্ন।