সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ্র 'চাঁদের অমাবস্যা' উপন্যাসে কোন জীবনদর্শনের রূপায়ণ ঘটেছে?
সঠিক উত্তর
গঅস্তিত্ববাদ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর চাঁদের অমাবস্যা উপন্যাসের দার্শনিক ভিত্তি জানতে চেয়েছে। উত্তর অস্তিত্ববাদ।
অস্তিত্ববাদে মানুষকে দেখা হয় একা, নিজের বিবেক আর সিদ্ধান্তের দায় নিয়ে। ১৯৬৪ সালে প্রকাশিত এই উপন্যাসে যুবক শিক্ষক আরেফ আলীর ভয়, অপরাধবোধ আর নৈতিক সিদ্ধান্তের অন্তর্গত সংকট এই দর্শনের আলোয় আঁকা হয়েছে।
ওয়ালীউল্লাহর পরের উপন্যাস কাঁদো নদী কাঁদোতেও চরিত্রের মনের গভীরে প্রবেশ আর অস্তিত্ব সংকট দেখা যায়। তাঁর প্রথম উপন্যাস লালসালু অবশ্য গ্রামীণ সমাজের ধর্মব্যবসার বাস্তব ছবির জন্য পরিচিত।
ফাঁদ হলো বাস্তববাদ, কারণ লালসালুর সঙ্গে বাস্তবতার কথা বেশি শোনা যায়। চাঁদের অমাবস্যার মূল ঝোঁক বাইরের সমাজচিত্র নয়, ব্যক্তির ভেতরের সংকট।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ১৯৪৮লালসালু: সমাজবাস্তবতা
- ১৯৬৪চাঁদের অমাবস্যা: অস্তিত্ববাদ
- ১৯৬৮কাঁদো নদী কাঁদো: অন্তর্জগৎ
- লালসালু: গ্রামীণ সমাজের বাস্তব ছবি।
- চাঁদের অমাবস্যা: শিক্ষক আরেফ আলীর বিবেক ও অস্তিত্বের সংকট।
- কাঁদো নদী কাঁদো: মনের গভীরে প্রবেশ; শেষ দুই উপন্যাসেই অস্তিত্ববাদী ঝোঁক।
ক. মার্কসবাদ: মার্কসবাদ শ্রেণিসংগ্রাম ও অর্থনৈতিক শোষণকে কেন্দ্রে রাখে; এই উপন্যাসের কেন্দ্র ব্যক্তির বিবেকের সংকট।
খ. বাস্তববাদ: বাস্তববাদের সঙ্গে বেশি যুক্ত লালসালু; চাঁদের অমাবস্যার মূল ঝোঁক ব্যক্তির অন্তর্গত সংকট, তাই এটি ফাঁদ।
ঘ. পরাবাস্তববাদ: পরাবাস্তববাদ স্বপ্ন ও অবচেতনের অযৌক্তিক চিত্রকল্পের শিল্পধারা; এই উপন্যাসের দর্শন হিসেবে তা চিহ্নিত নয়।
ওয়ালীউল্লাহর তিন উপন্যাস: লালসালুতে সমাজ, শেষ দুটিতে অস্তিত্ব।
অমাবস্যার অন্ধকারে আরেফ আলী নিজের বিবেকের মুখোমুখি।