গৌড়ী প্রাকৃত বলতে বোঝায়-
সঠিক উত্তর
কগৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা
ব্যাখ্যা
প্রাকৃত শব্দের মূল অর্থ স্বাভাবিক বা সাধারণ; প্রাচীন ভারতে সংস্কৃতের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মুখের ভাষাগুলোকে প্রাকৃত বলা হতো। গৌড় অঞ্চলের মানুষের মুখে প্রচলিত প্রাকৃতই গৌড়ী প্রাকৃত।
বাংলা ভাষার উৎস নিয়ে দুটি মত আছে। মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্র মতে গৌড়ী প্রাকৃত থেকে গৌড় অপভ্রংশ, তা থেকে বাংলা। সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়ের মতে মাগধী প্রাকৃত থেকে মাগধী অপভ্রংশ হয়ে বাংলা।
সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রে গৌড়ী রীতি নামে একটি কাব্যরীতিও আছে। তাই সাহিত্যের রীতি বিকল্পটি বিভ্রান্ত করতে পারে, কিন্তু প্রাকৃত বলতে রীতি নয়, ভাষা বোঝায়।
প্রাকৃতকে সংস্কৃতের বিকৃত রূপ ভাবাও ভুল; এটি স্বাভাবিকভাবে বিবর্তিত কথ্য ভাষা। আর এর মূল পরিচয় মুখের ভাষা, লিখিত নমুনা নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| মত | বাংলার উৎসধারা |
|---|---|
| প্রাকৃত | সাধারণ মানুষের মুখের ভাষা |
| মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্ | গৌড়ী প্রাকৃত → গৌড় অপভ্রংশ → বাংলা |
| সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায় | মাগধী প্রাকৃত → মাগধী অপভ্রংশ → বাংলা |
- প্রাকৃত মানে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক মুখের ভাষা।
- গৌড় অঞ্চলের মুখের ভাষা গৌড়ী প্রাকৃত।
- শহীদুল্লাহ্র মতে এ থেকেই বাংলা ভাষার জন্ম।
খ. গৌড় সাহিত্যের স্বাভাবিক রীতি: গৌড়ী রীতি সংস্কৃত অলংকারশাস্ত্রের কাব্যরীতি; প্রাকৃত বলতে রীতি নয়, মুখের ভাষা বোঝায়।
গ. গৌড় ভাষার লিখিত নমুনা: প্রাকৃতের মূল পরিচয় কথ্য ভাষা; লিখিত নমুনা এর সংজ্ঞা নয়।
ঘ. গৌড় ভাষার বিকৃত উচ্চারণ: প্রাকৃত সংস্কৃতের বিকৃতি নয়, স্বাভাবিকভাবে বিবর্তিত মুখের ভাষা।
গৌড়ী শহীদুল্লাহ্র, মাগধী সুনীতিকুমারের; আর প্রাকৃত মানেই মুখের ভাষা।
প্রাকৃত মানে প্রকৃতির মতো স্বাভাবিক বুলি।