বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২১
৪০১. কোন গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কনেগ্রিটো
- খভোটচীন
- গদ্রাবিড়
- ঘঅস্ট্রিক
সঠিক উত্তর: ঘ. অস্ট্রিক
প্রশ্নটা বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক উৎস জানতে চেয়েছে। নৃতাত্ত্বিকদের মতে বাঙালির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী থেকে, যাদের আদি-অস্ট্রেলীয় বা নিষাদ জাতিও বলা হয়।
বাঙালি একটি সংকর জাতি। অস্ট্রিকদের মূল ভিত্তির সঙ্গে পরে দ্রাবিড়, ভোটচীনীয় বা মঙ্গোলীয় এবং আর্যদের রক্তের মিশ্রণ ঘটেছে।
বাংলা ভাষার অনেক পুরোনো শব্দ এবং ধান চাষভিত্তিক গ্রামীণ জীবনের ধারায় অস্ট্রিক প্রভাব দেখা যায়, তাই তাদেরকেই প্রধান ভিত্তি ধরা হয়।
দ্রাবিড় বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ দ্রাবিড়রাও বাঙালির গঠনে মিশেছে; কিন্তু প্রধান অংশ অস্ট্রিক।
মনে রাখুন: বাঙালির মূল অস্ট্রিক, বাকিরা পরে মিশেছে।
৪০২. ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
- খ১৩১০ খ্রিস্টাব্দে
- গ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
- ঘ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: গ. ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ঢাকা প্রথম কবে বাংলার রাজধানী হয়। ১৬১০ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় আনেন।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে ইসলাম খান ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। বারো ভূঁইয়াদের দমন এবং পূর্ব বাংলার নদীপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুবিধার জন্য ঢাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিকল্পের অন্য সালগুলো অন্য ঘটনার। ১২০৬ সালে দিল্লিতে সুলতানি শাসন শুরু হয়, আর ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মুঘল শাসনের সূচনা।
১৫২৬ সালটি মুঘল শাসনের সঙ্গে যুক্ত বলে অনেকে বেছে নেন; কিন্তু মুঘলরা বাংলায় শক্ত অবস্থান নেয় অনেক পরে, আর ঢাকা রাজধানী হয় ১৬১০ সালে।
মনে রাখুন: ইসলাম খান, জাহাঙ্গীরনগর, ১৬১০: তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৪০৩. ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবীর প্রথম দাবীটি কি ছিল? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
- খপ্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- গপূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
- ঘবিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর: ক. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
প্রশ্নটা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা জানতে চেয়েছে। প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
ভাষা আন্দোলনের মাত্র দুই বছর পরে এই নির্বাচন হয়, তাই ভাষার দাবিকেই এক নম্বরে রাখা হয়েছিল। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
বিকল্পের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ ছিল দ্বিতীয় দফা, আর লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল উনিশ নম্বর দফা।
বিকল্পগুলো সবই সে সময়ের পরিচিত দাবি হওয়ায় এখানে ফাঁদ হলো ক্রম গুলিয়ে ফেলা। কোন দাবি কত নম্বরে, সেটিই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলনের পরের নির্বাচন, তাই এক নম্বরে ভাষা।
৪০৪. অপরাজেয় বাংলা কবে উদ্বোধন করা হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
- খ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
- গ১ জানুয়ারি ১৯৮০
- ঘ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০
সঠিক উত্তর: ক. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
প্রশ্নটা অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের উদ্বোধনের তারিখ জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অবস্থিত এই ভাস্কর্যের শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। এতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি আছে, যাঁদের একজন নারী; এটি মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা খুব স্বাভাবিক। তাই তারিখের প্রশ্নে বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর মাথায় রাখলে উত্তর দ্রুত মেলে।
একুশে ফেব্রুয়ারি বিকল্পটি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, আর ২৬ ডিসেম্বর তারিখটি বিজয় দিবসের সঙ্গে মিল রেখে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, উদ্বোধন বিজয় দিবসে।
৪০৫. জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা কত? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৪৬.৫ মি
- খ৪৬ মি
- গ৪৫.৫ মি
- ঘ৪৫ মি
সঠিক উত্তর: খ. ৪৬ মি
প্রশ্নটা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা জানতে চেয়েছে। স্মৃতিসৌধের উচ্চতা ১৫০ ফুট, মিটারে প্রায় ৪৬ মিটার।
ফুটকে মিটারে নিতে ০ দশমিক ৩০৪৮ দিয়ে গুণ করতে হয়। ১৫০ গুণ ০ দশমিক ৩০৪৮ সমান ৪৫ দশমিক ৭২ মিটার, যা পূর্ণসংখ্যায় ৪৬ মিটার।
স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল আছে, যেগুলো স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
অনেক বইয়ে ৪৬ দশমিক ৫ মিটার লেখা থাকে, তাই সেটি বড় ফাঁদ; কিন্তু ১৫০ ফুট হিসাব করলে ৪৫ দশমিক ৭২ মিটার আসে, যার নিকটতম বিকল্প ৪৬ মিটার।
মনে রাখুন: ফুট থেকে মিটার: মোটামুটি ৩.২৮ দিয়ে ভাগ করুন; ১৫০ ÷ ৩.২৮ ≈ ৪৫.৭, মানে প্রায় ৪৬ মিটার।
৪০৬. হাজংদের অধিবাস কোথায়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
- খকক্সবাজার ও রামু
- গরংপুর ও দিনাজপুর
- ঘসিলেট ও মণিপুর
সঠিক উত্তর: ক. ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা
প্রশ্নটা হাজং জনগোষ্ঠীর প্রধান বসতি জানতে চেয়েছে। হাজংরা মূলত বৃহত্তর ময়মনসিংহের নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলায়, গারো পাহাড়ের পাদদেশে বাস করে।
ব্রিটিশ আমলে এই অঞ্চলে টংক আন্দোলন হয়েছিল, যেখানে হাজং কৃষকেরা বড় ভূমিকা রাখেন। টংক ছিল ধানের নির্দিষ্ট খাজনা, ফসল না হলেও যা দিতে হতো।
ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রশ্নে প্রতিটি জনগোষ্ঠীকে তার অঞ্চলের সঙ্গে জোড়া বেঁধে শিখুন। রাখাইনরা কক্সবাজার ও পটুয়াখালীতে, সাঁওতালরা রাজশাহী ও দিনাজপুর অঞ্চলে, মণিপুরিরা সিলেট ও মৌলভীবাজারে।
সিলেট ও মণিপুর বিকল্পটি মণিপুরিদের কথা মনে করিয়ে বিভ্রান্ত করে; তা ছাড়া মণিপুর বাংলাদেশের নয়, ভারতের একটি রাজ্য।
মনে রাখুন: টংক আন্দোলন মনে পড়লেই হাজং আর নেত্রকোনা।
৪০৭. বাংলাদেশে গ্রামের সংখ্যা কত? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৮৭,১৯১ টি
- খ৮৪,৫০০ টি
- গ৮৫,৫০০ টি
- ঘ৮৩,৯০০ টি
সঠিক উত্তর: ক. ৮৭,১৯১ টি
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে বাংলাদেশের গ্রামের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। তখনকার প্রচলিত হিসাবে উত্তর ৮৭,১৯১টি গ্রাম।
দেশের প্রশাসনিক কাঠামো ওপর থেকে নিচে এভাবে সাজানো: বিভাগ, জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, মৌজা এবং গ্রাম। গ্রাম সবচেয়ে ছোট একক, তাই এর সংখ্যাই সবচেয়ে বড়।
মৌজা হলো রাজস্ব ও ভূমি জরিপের একক, আর গ্রাম হলো মানুষের বসতির একক। একটি মৌজায় একাধিক গ্রাম থাকতে পারে, আবার কোথাও মৌজা আর গ্রাম একই।
উৎস ও বছরভেদে গ্রামের সংখ্যা একটু আলাদা হয়, তাই এ ধরনের প্রশ্নে পরীক্ষার সময়ের প্রচলিত সংখ্যাটি মনে রাখাই নিরাপদ। বাকি বিকল্পগুলো কাছাকাছি গোল সংখ্যা দিয়ে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: কাঠামোর যত নিচে, সংখ্যা তত বেশি; গ্রামের সংখ্যা সবার চেয়ে বড়।
৪০৮. বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন কবে হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৭ মার্চ ১৯৭৩
- খ৫ মার্চ ১৯৭৩
- গ৬ এপ্রিল ১৯৭৩
- ঘ১১ এপ্রিল ১৯৭৩
সঠিক উত্তর: ক. ৭ মার্চ ১৯৭৩
প্রশ্নটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তারিখ জানতে চেয়েছে। নির্বাচনটি হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ।
১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর এই নির্বাচন হয়। তিনশো আসনের মধ্যে আওয়ামী লীগ ২৯৩টি আসন পায়।
নির্বাচনের এক মাস পরে, ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে। তাই নির্বাচন আর অধিবেশন দুটোর তারিখেই সাত সংখ্যাটি আছে, শুধু মাস আলাদা।
সাত মার্চ তারিখটি ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ভাষণের দিন হিসেবেও পরিচিত, তাই মনে রাখা সহজ। এপ্রিলের বিকল্পগুলো প্রথম অধিবেশনের মাসের সঙ্গে মিল রেখে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: নির্বাচন ৭ মার্চ, অধিবেশন ৭ এপ্রিল: তারিখ একই, মাস পরের।
৪০৯. বাংলাদেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কসেন্টমার্টিন
- খলালপুর
- গহিলি
- ঘলালমোহন
সঠিক উত্তর: ক. সেন্টমার্টিন
প্রশ্নটা আয়তনে দেশের সবচেয়ে ছোট ইউনিয়ন জানতে চেয়েছে। কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন, আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার, এই পরিচিতি পেয়েছে।
ইউনিয়ন হলো স্থানীয় সরকারের গ্রামীণ পর্যায়ের সবচেয়ে নিচের স্তর। সেন্টমার্টিন একটি দ্বীপ, আর পুরো দ্বীপটিই একটি ইউনিয়ন, তাই এর আয়তন দ্বীপের আয়তনের সমান।
উল্টো প্রশ্নও আসে: আয়তনে সবচেয়ে বড় ইউনিয়ন রাঙামাটির সাজেক। ছোট আর বড় দুটো একসঙ্গে মনে রাখুন।
বাকি বিকল্পগুলোর মধ্যে লালপুর ও লালমোহন আসলে উপজেলার নাম, আর হিলি একটি স্থলবন্দর। ইউনিয়ন আর উপজেলা গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন সেন্টমার্টিন, বৃহত্তম ইউনিয়ন সাজেক।
৪১০. NIPORT কি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কজনসংখ্যা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
- খপোলট্রি ফার্ম বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
- গনদীবন্দর বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
- ঘবন্দর বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর: ক. জনসংখ্যা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান
প্রশ্নটা একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের ইংরেজি সংক্ষিপ্ত নাম চিনতে চেয়েছে। নিপোর্ট নামের পূর্ণরূপ ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পপুলেশন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং, বাংলায় জাতীয় জনসংখ্যা গবেষণা ও প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান।
নামের ভেতরেই উত্তর লুকানো আছে। পপুলেশন মানে জনসংখ্যা, রিসার্চ মানে গবেষণা, ট্রেনিং মানে প্রশিক্ষণ। তাই এটি জনসংখ্যা বিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান।
প্রতিষ্ঠানটি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে কাজ করে। পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা বিষয়ে গবেষণা এবং এ খাতের কর্মীদের প্রশিক্ষণ দেওয়াই এর মূল কাজ।
সংক্ষিপ্ত নামের প্রশ্নে প্রতিটি অক্ষর কোন শব্দের, তা ভেঙে দেখলে বন্দর বা পোলট্রির মতো বিকল্পগুলো সহজেই বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: সংক্ষিপ্ত নামের মাঝের শব্দটিই সাধারণত প্রতিষ্ঠানের বিষয় বলে দেয়: নিপোর্টের পপুলেশন।
৪১১. সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে ‘ রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন’ বলা আছে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১০ নং অনুচ্ছেদে
- খ২১ (২) নং অনুচ্ছেদে
- গ২৭ নং অনুচ্ছেদে
- ঘ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদে
সঠিক উত্তর: ঘ. ২৮ (২) নং অনুচ্ছেদে
প্রশ্নটা সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশের একটি নির্দিষ্ট বাক্য চিনতে চেয়েছে। রাষ্ট্র ও গণজীবনের সর্বস্তরে নারী পুরুষের সমান অধিকার লাভ করিবেন, এই কথাটি আছে অনুচ্ছেদ ২৮ এর দফা ২ এ।
অনুচ্ছেদ ২৮ এর শিরোনাম ধর্ম প্রভৃতি কারণে বৈষম্য। এর প্রথম দফা বলে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষভেদ বা জন্মস্থানের কারণে রাষ্ট্র কোনো নাগরিকের প্রতি বৈষম্য করবে না; দ্বিতীয় দফায় নারী-পুরুষের সমান অধিকারের কথা আলাদা করে বলা হয়েছে।
এটি সংবিধানের তৃতীয় ভাগে, অর্থাৎ মৌলিক অধিকার অংশে, তাই আদালতের মাধ্যমে বলবৎযোগ্য। পরীক্ষার সময় অনুচ্ছেদ ১০ ছিল দ্বিতীয় ভাগের মূলনীতি, যেখানে জাতীয় জীবনের সর্বস্তরে মহিলাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার কথা বলা ছিল। ২০১১ সালের পঞ্চদশ সংশোধনীর পর সেই বিধান গেছে অনুচ্ছেদ ১৯ এর দফা ৩ এ, আর অনুচ্ছেদ ১০ এখন সমাজতন্ত্র ও শোষণমুক্তি।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ অনুচ্ছেদ ১০, কারণ দুটোতেই সর্বস্তরে আর নারী শব্দ আছে। মনে রাখুন, মূলনীতি অংশ বলে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা, আর অনুচ্ছেদ ২৮ বলে সমান অধিকার।
মনে রাখুন: ২৭ থেকে ২৯ ক্রমে সমতার তিন ধাপ: আইনে সমতা, বৈষম্য নিষেধ, সরকারি চাকরিতে সুযোগের সমতা।
৪১২. স্বাধীনতা যুদ্ধে অবদানের জন্য ‘ বীরপ্রতীক’ উপাধি লাভ করে কতজন ? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক৭ জন
- খ৬৮ জন
- গ১৭৫ জন
- ঘ৪২৬ জন
সঠিক উত্তর: ঘ. ৪২৬ জন
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের বীরত্বসূচক খেতাবের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। বীরপ্রতীক খেতাব পেয়েছেন ৪২৬ জন।
মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বের জন্য চার ধরনের খেতাব দেওয়া হয়। মর্যাদার ক্রমে সর্বোচ্চ বীরশ্রেষ্ঠ ৭ জন, তারপর বীর উত্তম ৬৮ জন, বীর বিক্রম ১৭৫ জন, আর সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বীরপ্রতীক ৪২৬ জন। সব মিলিয়ে ৬৭৬ জন।
মনে রাখার সহজ নিয়ম: খেতাব যত উঁচু, সংখ্যা তত কম। বীরপ্রতীক চার খেতাবের মধ্যে সবচেয়ে নিচের ধাপ, তাই এর সংখ্যাই সবচেয়ে বড়।
বিকল্পের বাকি তিনটি সংখ্যা আসলে অন্য তিন খেতাবের সংখ্যা। তাই সংখ্যা চেনা থাকলেও কোন খেতাবের সংখ্যা, সেটি গুলিয়ে ফেলাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: খেতাব নিচের দিকে নামলে সংখ্যা বাড়ে: ৭, ৬৮, ১৭৫, ৪২৬; মোট ৬৭৬।
৪১৩. বাংলাদেশের ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায় অবস্থিত? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কদিনাজপুর
- খগোপালপুর
- গপাকশী
- ঘঈশ্বরদী
সঠিক উত্তর: ঘ. ঈশ্বরদী
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে আখ বা ইক্ষু নিয়ে গবেষণার জাতীয় প্রতিষ্ঠান কোথায়। বাংলাদেশ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট পাবনা জেলার ঈশ্বরদীতে অবস্থিত; এখন এর নাম বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইনস্টিটিউট।
ঈশ্বরদী উপজেলা আরও কয়েকটি কারণে পরীক্ষায় আসে। রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র এই উপজেলায়, আর পদ্মার ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঈশ্বরদীর পাকশীতে।
জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানের অবস্থান মনে রাখতে প্রতিষ্ঠানকে তার স্থানের সঙ্গে জোড়া দিয়ে শিখুন: ইক্ষু ঈশ্বরদী, নদী গবেষণা ফরিদপুর, ধান গবেষণা গাজীপুর।
পাকশী বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ পাকশীও ঈশ্বরদী উপজেলার ভেতরে; কিন্তু ইনস্টিটিউটের ঠিকানা ঈশ্বরদী। গোপালপুর নামটি চিনির সঙ্গে যুক্ত বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
মনে রাখুন: ইক্ষু আর ঈশ্বরদী দুটোই ই দিয়ে শুরু।
৪১৪. রাজারবাগ পুলিশ লাইনে ‘দুর্জয়’ ভাস্কর্যটির শিল্পী কে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কহামিদুর রহমান
- খমৃণাল হক
- গশামিম শিকদার
- ঘনভেরা আহমেদ
সঠিক উত্তর: খ. মৃণাল হক
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধ স্মরণে নির্মিত একটি ভাস্কর্যের শিল্পী জানতে চেয়েছে। রাজারবাগ পুলিশ লাইনের দুর্জয় ভাস্কর্যটির শিল্পী মৃণাল হক।
রাজারবাগ পুলিশ লাইন মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে বিশেষ জায়গা। পঁচিশে মার্চ ১৯৭১ এর রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আক্রমণের বিরুদ্ধে এখানকার পুলিশ সদস্যরা প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। দুর্জয় ভাস্কর্যটি সেই অদম্য প্রতিরোধের স্মারক।
মৃণাল হক ঢাকার নগর-ভাস্কর্যের জন্য পরিচিত, যেমন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের কাছের রাজসিক। শিল্পী ও তাঁর কাজ জোড়া বেঁধে মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ হয়।
হামিদুর রহমান আর নভেরা আহমেদের নাম শহীদ মিনারের সঙ্গে জড়িত, শামীম শিকদারের নাম স্বোপার্জিত স্বাধীনতার সঙ্গে। এই পরিচিত নামগুলো দেখেই অনেকে ভুল বিকল্প বেছে নেন।
মনে রাখুন: শহীদ মিনার হলে হামিদুর ও নভেরা, টিএসসি হলে শামীম, রাজারবাগের দুর্জয় হলে মৃণাল।
৪১৫. রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে অবস্থিত মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের নাম কি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কবিজয়স্তম্ভ
- খবিজয়কেতন
- গস্বাধীনতা সোপান
- ঘরক্ত সোপান
সঠিক উত্তর: ঘ. রক্ত সোপান
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে গাজীপুরের রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাসে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভের নাম কী। উত্তর রক্ত সোপান।
নামটি অর্থ দিয়ে মনে রাখা যায়: সোপান মানে সিঁড়ি, তাই রক্ত সোপান মানে রক্তের সিঁড়ি। মুক্তিযুদ্ধ জ্ঞানকোষ অনুযায়ী এটি সেনাবাহিনীর অর্ডন্যান্স কোরের ৪৫ জন শহীদ মুক্তিযোদ্ধার স্মরণে নির্মিত, আর ২০০০ সালের ১৯ জুলাই এর উদ্বোধন হয়।
সেনানিবাসের স্মৃতিস্থাপনাগুলো প্রায়ই একসঙ্গে প্রশ্নে আসে। ঢাকা সেনানিবাসে আছে শিখা অনির্বাণ এবং ভাস্কর হামিদুজ্জামান খানের বিজয় কেতন।
বিজয় কেতন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ এটিও সেনানিবাসে; কিন্তু তা ঢাকা সেনানিবাসের, রাজেন্দ্রপুরের নয়।
মনে রাখুন: সোপান মানে সিঁড়ি; রাজেন্দ্রপুরে রক্তের সিঁড়ি।
৪১৬. বাংলাদেশের পোস্টাল একাডেমি কোথায় অবস্থিত? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- করাজশাহী
- খঢাকা
- গচট্টগ্রাম
- ঘখুলনা
সঠিক উত্তর: ক. রাজশাহী
প্রশ্নটা ডাক বিভাগের কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কোথায়, তা জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ পোস্টাল একাডেমি রাজশাহীতে অবস্থিত।
সরকারি বিভিন্ন বিভাগের প্রশিক্ষণ একাডেমি দেশের নানা জায়গায় ছড়ানো, আর রাজশাহীতে আছে দুটি পরিচিত একাডেমি: পোস্টাল একাডেমি এবং সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি।
চট্টগ্রামের নামটি এ ধরনের প্রশ্নে বারবার আসে, কারণ সেখানে ভাটিয়ারিতে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমি এবং মেরিন একাডেমি আছে। তাই একাডেমির প্রশ্নে কোন বিভাগের একাডেমি, সেটি আগে দেখুন।
রাজধানী ঢাকায় সব প্রধান কার্যালয় থাকায় অনেকে ঢাকা বেছে নেন; কিন্তু ডাক বিভাগের প্রশিক্ষণ একাডেমি রাজশাহীতে।
মনে রাখুন: রাজশাহীতে দুই প্রশিক্ষণ একাডেমি: ডাক আর পুলিশ।
৪১৭. প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য কত কিমি? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক৬.১৫
- খ৬.০৩
- গ৪.৮
- ঘ৬.৮
সঠিক উত্তর: ক. ৬.১৫
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময় প্রস্তাবিত পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার, যা পরে নির্মিত সেতুরও দৈর্ঘ্য।
পরীক্ষার সময় সেতুটি পরিকল্পনার পর্যায়ে ছিল, তাই বিভিন্ন সমীক্ষায় দৈর্ঘ্য ভিন্ন ভিন্ন এসেছে। চূড়ান্ত নকশায় সেতুটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া আর শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করে।
দৈর্ঘ্যটি হিসাব করেও মনে রাখা যায়: সেতুতে ১৫০ মিটারের ৪১টি স্প্যান, ৪১ গুণ ১৫০ সমান ৬১৫০ মিটার, অর্থাৎ ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ এটি যমুনা নদীর ওপর যমুনা সেতুর দৈর্ঘ্য, যার নাম একসময় ছিল বঙ্গবন্ধু সেতু।
মনে রাখুন: স্প্যান গুনে মনে রাখুন: একচল্লিশ গুণ দেড়শো।
৪১৮. বাংলাদেশে সর্বপ্রথম কোন মহিলা টেস্টটিউব শিশুর মা হন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কপারভীন ফাতেমা
- খফিরোজা বেগম
- গরওশন জাহান
- ঘকানিজ ফাতেমা
সঠিক উত্তর: খ. ফিরোজা বেগম
প্রশ্নটা বাংলাদেশে প্রথম টেস্টটিউব শিশুর মায়ের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর ফিরোজা বেগম।
২০০১ সালের ৩০ মে ভোরে ফিরোজা বেগম তিনটি কন্যাশিশুর জন্ম দেন; এরাই দেশের প্রথম টেস্টটিউব শিশু। টেস্টটিউব পদ্ধতিতে ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর মিলন শরীরের বাইরে ঘটিয়ে ভ্রূণ মায়ের গর্ভে স্থাপন করা হয়।
এই চিকিৎসার নেতৃত্বে ছিলেন বন্ধ্যাত্ব বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক পারভীন ফাতেমা। প্রশ্নটি তাই মা আর চিকিৎসকের নাম আলাদা করতে পারছেন কি না, সেটিই যাচাই করে।
পারভীন ফাতেমা বিকল্পটিই মূল ফাঁদ: নামটি এই ঘটনার সঙ্গে সত্যিই যুক্ত, কিন্তু তিনি চিকিৎসক, মা নন।
মনে রাখুন: দুটি নাম ঘটনার সঙ্গে যুক্ত: মা ফিরোজা, চিকিৎসক পারভীন।
৪১৯. বাংলাদেশ জাতিসংঘের কততম সদস্য? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১৩৬ তম
- খ১৩৭ তম
- গ১৩৮ তম
- ঘ১৩৯ তম
সঠিক উত্তর: ক. ১৩৬ তম
প্রশ্নটা জাতিসংঘে বাংলাদেশের সদস্যপদের ক্রম জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর জাতিসংঘের ১৩৬তম সদস্য হয়।
স্বাধীনতার পরের প্রথম কয়েক বছরে বাংলাদেশ পরপর আন্তর্জাতিক সংস্থায় যোগ দেয়: ১৯৭২ সালে কমনওয়েলথ, ১৯৭৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইসলামী সম্মেলন সংস্থা, তারপর সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ।
সদস্যপদ পাওয়ার এক সপ্তাহ পর, ২৫ সেপ্টেম্বর ১৯৭৪ তারিখে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বাংলায় ভাষণ দেন। এটি প্রায়ই একই প্রশ্নের সঙ্গী তথ্য হিসেবে আসে।
বিকল্পগুলো পাশাপাশি সংখ্যা, তাই এখানে আন্দাজ কাজ করে না; ১৩৬ সংখ্যাটি ১৯৭৪ সালের সঙ্গে জুড়ে মুখস্থ রাখুন।
মনে রাখুন: সতেরো সেপ্টেম্বর সদস্য, পঁচিশ সেপ্টেম্বর ভাষণ।
৪২০. কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতি কে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কতানভীর কবীর
- খহামিদুর রহমান
- গহামিদুজ্জামান
- ঘঅস্কার বাদল
সঠিক উত্তর: খ. হামিদুর রহমান
প্রশ্নটা ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের স্থপতির নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর শিল্পী হামিদুর রহমান।
ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে নির্মিত এই মিনারের নকশা করেন হামিদুর রহমান, আর ভাস্কর নভেরা আহমেদ তাঁর সহযোগী ছিলেন। মাঝের উঁচু স্তম্ভ ও দুপাশের নুয়ে পড়া স্তম্ভগুলোকে মা ও তাঁর শহীদ সন্তানদের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
স্থপতির প্রশ্নে কাছাকাছি নাম দিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়। জাতীয় স্মৃতিসৌধের স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন, আর হামিদুজ্জামান খান ভাস্কর, যাঁর পরিচিত কাজ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশপ্তক।
হামিদুর রহমান আর হামিদুজ্জামান, দুটো নামের শুরু একই হওয়ায় এটিই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: শহীদ মিনারে হামিদুর, সংশপ্তকে হামিদুজ্জামান।