বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১৯
৩৬১. শালবন বিহার কোথায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কগাজীপুর
- খমধুপুর
- গরাজবাড়ী
- ঘকুমিল্লার ময়নামতি পাহাড়ের পাশে
সঠিক উত্তর: ঘ. কুমিল্লার ময়নামতি পাহাড়ের পাশে
শালবন বিহার কুমিল্লার কোটবাড়িতে, ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
আট শতকের দিকে দেব বংশের রাজা শ্রীভবদেব বিহারটি নির্মাণ করেন বলে একে ভবদেব মহাবিহারও বলা হয়। বর্গাকার এই বিহারে ভিক্ষুদের থাকার অনেকগুলো কক্ষ আর মাঝখানে একটি মন্দির আছে।
নামের শালবন অংশটি এসেছে আশপাশের শালবন থেকে। এ কারণেই গাজীপুর ও মধুপুর বিকল্প রাখা হয়েছে, কারণ ওই দুই এলাকাও শালবনের জন্য বিখ্যাত।
ফাঁদ হলো নামের মিল: শাল গাছ দেখে গাজীপুর বা মধুপুর ভাবা। প্রত্নতাত্ত্বিক বিহারটি কিন্তু কুমিল্লার ময়নামতিতে।
মনে রাখুন: ময়নামতির তিন বিহার মনে রাখুন: শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ রাজার বিহার।
৩৬২. সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কটিএসসি মোড়ে
- খঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
- গরেসকোর্স ময়দানে
- ঘরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। শিল্পী নিতুন কুণ্ডু মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে এটি নির্মাণ করেন।
ভাস্কর্যে দুজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সামনে এগিয়ে চলেছেন, দুজনের হাতেই রাইফেল, একজনের অন্য হাত মুষ্টিবদ্ধ। এর সামনে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের যে পঙক্তি লেখা আছে, তা শুরু হয় সাবাস বাংলাদেশ কথাটি দিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা, শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। টিএসসি মোড়ে আছে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য, আর রেসকোর্স ময়দান বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আছে স্বাধীনতা স্তম্ভ।
ফাঁদ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্পটি, কারণ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বললেই অনেকে অপরাজেয় বাংলার কথা ভাবেন।
মনে রাখুন: অপরাজেয় বাংলা ঢাকায়, সাবাস বাংলাদেশ রাজশাহীতে।
৩৬৩. এশিয়া কাপ ক্রিকেট, ২০১২ কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কবঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম
- খশেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম
- গবাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম
- ঘরাজশাহী স্টেডিয়াম
সঠিক উত্তর: খ. শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম
২০১২ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট হয়েছিল ঢাকার মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ এই একটি মাঠেই হয়।
মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে পাকিস্তান মাত্র ২ রানে জিতে শিরোপা নেয়।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হতো, কিন্তু মিরপুরের মাঠ চালু হওয়ার পর এটি ফুটবলের মাঠে পরিণত হয়। তাই ২০১২ সালে সেখানে ক্রিকেট হয়নি।
ফাঁদ হলো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বিকল্পটি, কারণ পুরোনো বইয়ে এটিকে দেশের প্রধান ক্রিকেট মাঠ হিসেবে দেখা যায়।
মনে রাখুন: এখনকার ঢাকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই মিরপুর।
৩৬৪. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কবে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১৬ ডিসেম্বর
- খ৭ মার্চ
- গ২৬ মার্চ
- ঘ১৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর: গ. ২৬ মার্চ
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস ২৬ মার্চ, যা স্বাধীনতা দিবস হিসেবেও পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কোনো দেশের জাতীয় দিবস সাধারণত তার স্বাধীনতা বা প্রতিষ্ঠার দিন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ঘোষণার দিনটিকেই জাতীয় দিবস ধরা হয়।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, যেদিন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন, আর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের দিন।
ফাঁদ হলো ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস আর জাতীয় দিবস আলাদা; জাতীয় দিবস স্বাধীনতার দিন।
মনে রাখুন: জাতীয় দিবস মানে স্বাধীনতা দিবস: ২৬ মার্চ।
৩৬৫. বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কমে. জে. জিয়াউর রহমান
- খমে. জে. সফিউল্লা
- গলে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
- ঘজে. আতাউল গণি ওসমানি
সঠিক উত্তর: ঘ. জে. আতাউল গণি ওসমানি
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী। মুজিবনগর সরকার তাঁকে এই দায়িত্ব দেয়।
প্রধান সেনাপতি আর সেনাপ্রধান আলাদা পদ। প্রধান সেনাপতি পুরো সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনা করেন, আর সেনাপ্রধান শুধু সেনাবাহিনীর প্রধান। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর প্রথম প্রধান হন মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালে সেনাপ্রধান হন। এরশাদ সেনাপ্রধান হন আরও পরে, ১৯৭৮ সালে।
ফাঁদ হলো সফিউল্লাহ বিকল্পটি। তিনি প্রথম সেনাপ্রধান, প্রথম প্রধান সেনাপতি নন।
মনে রাখুন: প্রধান সেনাপতি ওসমানী, প্রথম সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ।
৩৬৬. বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঢাকা উত্তর
- খঢাকা দক্ষিণ
- গঢাকা
- ঘশেরে বাংলা নগর
সঠিক উত্তর: গ. ঢাকা
সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা। তাই সঠিক উত্তর ঢাকা।
২০১১ সালে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভাগ করে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন করা হয়। এগুলো স্থানীয় সরকারের ইউনিট, আলাদা রাজধানী নয়।
শেরেবাংলা নগর ঢাকার একটি এলাকা, যেখানে জাতীয় সংসদ ভবন অবস্থিত। এলাকাটি রাজধানীর অংশ, রাজধানী নিজে নয়।
প্রশ্নটি সিটি করপোরেশন ভাগের পরপর এসেছিল, তাই উত্তর বা দক্ষিণ বেছে নেওয়ার ফাঁদ তৈরি হয়েছিল।
মনে রাখুন: রাজধানী সংবিধানে লেখা: ঢাকা; সিটি করপোরেশনের ভাগ রাজধানীকে ভাগ করে না।
৩৬৭. শিল্পী জয়নুল আবেদিনের সংগ্রহশালাটি কোথায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঢাকায়
- খময়মনসিংহে
- গচট্টগ্রামে
- ঘনড়াইলে
সঠিক উত্তর: খ. ময়মনসিংহে
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহ শহরে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। এটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
জয়নুল আবেদিনের শৈশব কেটেছে ময়মনসিংহে, ব্রহ্মপুত্রের তীরে। তাঁর অনেক ছবিতে এই নদ ও তার পাড়ের জীবন ফুটে উঠেছে, তাই সংগ্রহশালাটি এখানেই গড়া হয়।
নড়াইলে আছে শিল্পী এস এম সুলতানের সংগ্রহশালা, কারণ সুলতানের জন্ম ও জীবনের বড় অংশ সেখানে। ঢাকায় জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে চারুকলা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, কিন্তু তাঁর নামের সংগ্রহশালা ময়মনসিংহে।
ফাঁদ হলো ঢাকা বিকল্পটি, কারণ জয়নুলের কর্মজীবনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা।
মনে রাখুন: জয়নুল ময়মনসিংহ, সুলতান নড়াইল।
৩৬৮. বাংলাদেশের কোন ছবি সম্প্রতি ‘কোলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভাল’ পুরস্কার লাভ করে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কওরা এগার জন
- খগেরিলা
- গআবার তোরা মানুষ হ
- ঘস্টপ জেনোসাইড
সঠিক উত্তর: খ. গেরিলা
প্রশ্নটি সম্প্রতির কথা বলেছে, অর্থাৎ পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ের ছবি। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত গেরিলা ২০১১ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায়।
গেরিলা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান অবলম্বনে নির্মিত। ছবিটি দেশেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ ছবিসহ অনেক পুরস্কার পায়।
বাকি তিনটি ছবিও মুক্তিযুদ্ধের, কিন্তু অনেক পুরোনো। ওরা এগারো জন ১৯৭২ সালের, চাষী নজরুল ইসলামের। আবার তোরা মানুষ হ ১৯৭৩ সালের, খান আতাউর রহমানের। স্টপ জেনোসাইড ১৯৭১ সালে জহির রায়হানের প্রামাণ্যচিত্র।
সম্প্রতি শব্দটিই এখানে চাবিকাঠি; পুরোনো বিখ্যাত ছবি দেখে বিভ্রান্ত হওয়াই ফাঁদ।
মনে রাখুন: সম্প্রতি থাকলে সবচেয়ে নতুন ছবিটি খুঁজুন।
৩৬৯. বাংলাদেশের আপীল বিভাগের মোট বিচারক কতজন? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১১
- খ২১
- গ৯
- ঘ১৫
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১১। এখন: প্রধান বিচারপতিসহ ৫ জন (আগস্ট ২০২৬)।
প্রশ্নের সময় প্রচলিত উত্তর ছিল প্রধান বিচারপতিসহ ১১ জন। পরীক্ষার সময় আপিল বিভাগে বিচারকের এই সংখ্যাই ধরা হতো।
সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ছাড়া কতজন বিচারক থাকবেন, তা রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করেন; সংবিধানে নির্দিষ্ট সংখ্যা লেখা নেই।
তাই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে বদলায়। পরীক্ষায় এলে প্রশ্নের সময়ের প্রচলিত সংখ্যা মনে রাখতে হয়।
ফাঁদ হলো সংবিধানে নির্দিষ্ট সংখ্যা আছে ভেবে নেওয়া। সংখ্যা আসলে রাষ্ট্রপতির নিয়োগের উপর নির্ভর করে।
মনে রাখুন: বিচারকের সংখ্যা স্থির নয়; প্রশ্নের সময়ের তথ্য মনে রাখুন।
৩৭০. বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কময়নামতি
- খসোনারগাঁ
- গঢাকা
- ঘপাহাড়পুর
সঠিক উত্তর: খ. সোনারগাঁ
প্রশ্নটা বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘরের অবস্থান জানতে চেয়েছে। জাদুঘরটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের অধীনে সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর গড়ে ওঠে, যেখানে দেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সংরক্ষিত আছে।
সোনারগাঁ বেছে নেওয়ার পেছনে ইতিহাসও আছে: এটি বাংলার এক প্রাচীন রাজধানী এবং মসলিনের মতো কারুশিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল।
ময়নামতি ও পাহাড়পুরেও জাদুঘর আছে, তাই সেগুলো ফাঁদ; কিন্তু সেগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জাদুঘর, লোকশিল্পের নয়।
মনে রাখুন: লোকশিল্প মানে সোনারগাঁ, প্রত্নতত্ত্ব মানে ময়নামতি ও পাহাড়পুর।
৩৭১. জাতিসংঘের জনসংখ্যা সংক্রান্ত রিপোর্ট ১৯৯৪ অনুযায়ী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের স্থান কত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কসপ্তম
- খনবম
- গএকাদশ
- ঘত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর: খ. নবম
প্রশ্নটা জাতিসংঘের ১৯৯৪ সালের জনসংখ্যা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চেয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ছিল নবম।
তখন শীর্ষ পাঁচে ছিল চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল। এরপর রাশিয়া, পাকিস্তান ও জাপান, আর তার পরেই বাংলাদেশ।
পরের দশকে জাপানের জনসংখ্যা প্রায় স্থির থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। তাই পরের হিসাবগুলোতে বাংলাদেশ ওপরের দিকে উঠে আসে।
প্রশ্নে নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ আছে, তাই আজকের ক্রম দিয়ে উত্তর দিলে ভুল হবে; ১৯৯৪ সালের হিসাবে উত্তর নবম।
মনে রাখুন: প্রশ্নে বছর থাকলে সেই বছরের ক্রমই উত্তর।
৩৭২. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৯২১
- খ১৯২৫
- গ১৯২৯
- ঘ১৯৩৩
সঠিক উত্তর: ক. ১৯২১
প্রশ্নটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাল জানতে চেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর পটভূমি বঙ্গভঙ্গ। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ববঙ্গের মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ১৯১২ সালে এ নিয়ে নাথান কমিশন গঠিত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধসহ নানা কারণে কাজ পিছিয়ে যায়, শেষে ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ।
ঘটনাক্রম মনে রাখলে বাকি সালগুলো সহজে বাদ পড়ে: পাঁচে বঙ্গভঙ্গ, এগারোতে রদ, একুশে বিশ্ববিদ্যালয়।
মনে রাখুন: পাঁচ, এগারো, একুশ: ভাঙা, জোড়া, বিশ্ববিদ্যালয়।
৩৭৩. বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৩৭
- খ১৩৮
- গ১৪৭
- ঘ১৫০
সঠিক উত্তর: ক. ১৩৭
প্রশ্নটা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের কথা আছে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর অনুচ্ছেদ ১৩৭।
সংবিধানের নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ নিয়ে আলোচনা আছে, আর তার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন। অনুচ্ছেদ ১৩৭ কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলে, ১৩৮ সদস্য নিয়োগের, আর ১৪০ কমিশনের দায়িত্বের।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অনুচ্ছেদ জোড়া বেঁধে মনে রাখুন। যেমন নির্বাচন কমিশন অনুচ্ছেদ ১১৮, সরকারি কর্ম কমিশন অনুচ্ছেদ ১৩৭।
১৩৮ বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ এটিও কর্ম কমিশনের অনুচ্ছেদ; কিন্তু এতে সদস্য নিয়োগের কথা, গঠনের নয়।
মনে রাখুন: এক তিন সাতে কমিশনের জন্ম, এক তিন আটে সদস্য।
৩৭৪. কে বাংলার সাল গণনা শুরু করেন? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কলক্ষ্মণ সেন
- খইলিয়াস শাহ্
- গবিজয় সেন
- ঘআকবর
সঠিক উত্তর: ঘ. আকবর
প্রশ্নটা বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ কে চালু করেন, তা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর মুঘল সম্রাট আকবর।
আকবরের সময়ে খাজনা আদায় হতো হিজরি চান্দ্রবর্ষ ধরে, কিন্তু চান্দ্রবর্ষ সৌরবর্ষের চেয়ে ছোট হওয়ায় ফসল তোলার মৌসুমের সঙ্গে মিলত না। তাই তিনি সৌরবর্ষভিত্তিক নতুন সন চালুর নির্দেশ দেন, যা ফসলি সন নামেও পরিচিত।
রাজজ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ সিরাজী এই সন তৈরি করেন। আকবরের সিংহাসনে বসার বছর ১৫৫৬ সালের হিজরি সন ৯৬৩ থেকে গণনা শুরু ধরা হয়। কোনো কোনো গবেষক রাজা শশাঙ্ককে প্রবর্তক বলেন, তবে পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর আকবর।
বিকল্পের অন্য শাসকেরা বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে; কিন্তু তাঁদের কেউ বাংলা সন চালু করেননি।
মনে রাখুন: ফসলি সন মানে খাজনা, খাজনা মানে আকবর।
৩৭৫. গম্ভীরা বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কচট্টগ্রাম
- খরাঙামাটি
- গচাঁপাইনবাবগঞ্জ
- ঘজামালপুর
সঠিক উত্তর: গ. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রশ্নটা গম্ভীরা গানের অঞ্চল জানতে চেয়েছে। গম্ভীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের লোকসংগীত।
গম্ভীরায় সাধারণত নানা ও নাতির চরিত্রে দুজন শিল্পী সংলাপ ও গানের মাধ্যমে সমাজের নানা সমস্যা হাস্যরসের সঙ্গে তুলে ধরেন। তাই এটি একই সঙ্গে বিনোদন ও সমাজসমালোচনা।
লোকসংগীতের প্রশ্নে গান আর অঞ্চল জোড়া বেঁধে শিখুন: ভাওয়াইয়া রংপুর অঞ্চলের, ভাটিয়ালি ময়মনসিংহ ও ভাটি অঞ্চলের, মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রামের, আর গম্ভীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের।
চট্টগ্রামের নিজস্ব লোকগানের ধারা আছে বলে অনেকে সেটিকে বেছে নেন; কিন্তু গম্ভীরা উত্তরবঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জের।
মনে রাখুন: নানা-নাতির গান শুনলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
৩৭৬. বাংলাদেশে কয়টি উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান আছে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক৮ টি
- খ৫ টি
- গ৪ টি
- ঘ৩ টি
সঠিক উত্তর: ক. ৮ টি
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে দেশে সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জানতে চেয়েছে; ২০১০ সালের আইনের পর এগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নামে পরিচিত। প্রচলিত উত্তর ৮টি।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংগীত, নৃত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চর্চার জন্য কাজ করে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নেত্রকোনার বিরিশিরি, রাজশাহী এবং মৌলভীবাজারের প্রতিষ্ঠান এর পরিচিত উদাহরণ।
এগুলো যেসব অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি বেশি, সেখানেই গড়ে উঠেছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট ও উত্তরবঙ্গ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা থাকায় অনেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান ভেবে নেন; কিন্তু পাহাড়ের বাইরেও এমন প্রতিষ্ঠান আছে, তাই সংখ্যাটি বেশি।
মনে রাখুন: পাহাড়ের তিনটির সঙ্গে সমতলের প্রতিষ্ঠান যোগ করুন: মোট আট।
৩৭৭. রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব কত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক৬২৭ কি.মি.
- খ৫২৯ কি.মি.
- গ৪১২ কি.মি.
- ঘ৩০৭ কি.মি.
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪১২ কি.মি.। এখন: পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ২১২ কিমি (ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব জানতে চেয়েছে। তখনকার প্রচলিত উত্তর প্রায় ৪১২ কিলোমিটার।
মাওয়া-জাজিরা দিয়ে পদ্মা পার হওয়ার কোনো রেলপথ তখন ছিল না। তাই ঢাকা থেকে খুলনার ট্রেন যমুনা নদীর ওপর যমুনা সেতু, তখনকার নাম বঙ্গবন্ধু সেতু, পার হয়ে ঈশ্বরদী যেত। সেখান থেকে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পদ্মা পার হয়ে যশোর হয়ে খুলনা।
এই উত্তর-পশ্চিম ঘুরপথের কারণে দূরত্ব সরাসরি দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি ছিল; চিত্রা এক্সপ্রেস এই পথে প্রায় ৪১২ কিলোমিটার চলে। সময়নির্ভর এমন প্রশ্নে কোন পথের দূরত্ব চাওয়া হয়েছে, তা বোঝা জরুরি।
ছোট সংখ্যার বিকল্পগুলো সরাসরি দূরত্বের ধারণা থেকে আকর্ষণীয় মনে হয়, কিন্তু তখনকার ঘুরপথে দূরত্ব ছিল প্রায় ৪১২ কিলোমিটার। হার্ডিঞ্জ ব্রিজও পদ্মার ওপরের রেলসেতু, তাই পদ্মায় কোনো রেলসেতুই ছিল না, এমন ভাবা ভুল।
মনে রাখুন: পরীক্ষার সময় মাওয়া-জাজিরায় রেলসেতু ছিল না, তাই যমুনা সেতু আর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঘুরে লম্বা পথ।
৩৭৮. নিম্নলিখিত কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পায়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- খজাপান
- গদক্ষিণ কোরিয়া
- ঘজার্মানি
সঠিক উত্তর: খ. জাপান
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেত, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর জাপান।
উন্নয়ন সাহায্য দুই ধরনের: দ্বিপক্ষীয়, যা একটি দেশ সরাসরি দেয়, আর বহুপক্ষীয়, যা বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো সংস্থা দেয়। প্রশ্নটি দেশের কথা জানতে চেয়েছে, তাই উত্তর দ্বিপক্ষীয় দাতাদের মধ্যে খুঁজতে হবে।
দ্বিপক্ষীয় দাতা দেশ হিসেবে জাপান দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে। যমুনা সেতুসহ বহু বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপান অর্থায়ন করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় অর্থনীতি হওয়ায় অনেকে তাকে বেছে নেন; কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় দাতা জাপান।
মনে রাখুন: দাতা দেশ জিজ্ঞেস করলে জাপান, দাতা সংস্থা জিজ্ঞেস করলে বিশ্বব্যাংক।
৩৭৯. বাংলাদেশ কোন সাল থেকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করছে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৯৮৮
- খ১৯৮৫
- গ১৯৭৫
- ঘ১৯৭৯
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৮৮
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ কবে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। উত্তর ১৯৮৮ সাল।
১৯৮৮ সালে ইরান ও ইরাকের যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য জাতিসংঘ একটি সামরিক পর্যবেক্ষক দল গঠন করে, যার সংক্ষিপ্ত নাম ইউনিমগ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষকেরা এই মিশনে যোগ দেন; এখান থেকেই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা যাত্রা শুরু।
এরপর বাংলাদেশ ধাপে ধাপে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বহু মিশনে সৈন্য ও পুলিশ পাঠিয়েছে এবং শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
ফাঁদ হলো ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ এর মতো সাল, যেগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরিচিত বলে চোখে পড়ে। কিন্তু শান্তিরক্ষার শুরু ইরান ইরাক মিশন দিয়ে, সেটি ১৯৮৮।
মনে রাখুন: ইরান ইরাক যুদ্ধ থামে ১৯৮৮ সালে, আর সেই যুদ্ধবিরতির মিশন দিয়েই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা শুরু।
৩৮০. বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কোন সালে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক১২১২
- খ১২০০
- গ১২০৪
- ঘ১২১১
সঠিক উত্তর: গ. ১২০৪
প্রশ্নটা বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের সাল জানতে চেয়েছে। প্রচলিত পাঠ্য অনুযায়ী উত্তর ১২০৪ সাল।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি অল্প কয়েকজন অশ্বারোহী নিয়ে নদিয়া আক্রমণ করেন। সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে চলে যান।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়, আর বখতিয়ার লখনৌতিকে শাসনকেন্দ্র করেন। কিছু ইতিহাসবিদ সালটিকে ১২০৫ বলেন, তবে পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর ১২০৪।
বখতিয়ার খিলজি ১২০৬ সালে মারা যান, তাই ১২১১ বা ১২১২ সাল তাঁর জয়ের সাল হতে পারে না। ১২০০ সাল জয়ের আগের, আর পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর ১২০৪।
মনে রাখুন: বারোশো চার: নদিয়া জয়, মুসলিম শাসনের শুরু।