বাংলাদেশ বিষয়াবলি
১. কোন বিষয়টি মুদ্রাপাচারের অন্তর্ভুক্ত নয়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- করপ্তানী পণ্যের অবমূল্যায়ন
- খআমদানী পণ্যের অধিক মূল্য নির্ধারণ
- গআয়কর ফাঁকি দেয়া
- ঘঅবৈধ চ্যানেলে বিদেশে টাকা পাঠানো
সঠিক উত্তর: গ. আয়কর ফাঁকি দেয়া
প্রশ্নটা মুদ্রাপাচার বা মানি লন্ডারিংয়ের কৌশল আর এর সঙ্গে যুক্ত অপরাধ আলাদা করতে চেয়েছে। মুদ্রাপাচার মানে অবৈধ বা অপ্রদর্শিত অর্থ দেশের বাইরে পাঠানো বা তার উৎস লুকিয়ে বৈধ চেহারা দেওয়া।
বাণিজ্যের আড়ালে পাচারের দুটি পরিচিত কৌশল আছে। রপ্তানিতে পণ্যের দাম কম দেখালে বাকি টাকা বিদেশেই থেকে যায়, একে আন্ডার ইনভয়েসিং বলে। আমদানিতে দাম বেশি দেখালে বাড়তি টাকা বিদেশে চলে যায়, একে ওভার ইনভয়েসিং বলে। আর হুন্ডির মতো অবৈধ চ্যানেলে টাকা পাঠানো সরাসরি পাচার।
আয়কর ফাঁকি দেওয়া নিজে একটি আলাদা অপরাধ, অর্থ পাচারের কৌশল নয়। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ অনুযায়ী কর সংক্রান্ত অপরাধ একটি সম্পৃক্ত অপরাধ; অর্থাৎ কর ফাঁকির টাকা পরে পাচার হতে পারে, কিন্তু ফাঁকি দেওয়া কাজটি নিজে পাচার নয়।
দুটি বিষয় গুলিয়ে ফেলাই এই প্রশ্নের ফাঁদ: যে অপরাধ থেকে টাকা আসে, আর সেই টাকা সরানোর কৌশল আলাদা জিনিস।
মনে রাখুন: ফাঁকি বা দুর্নীতি হলো টাকার উৎস; টাকা সরানো বা উৎস লুকানোর কৌশলই পাচার।
২. বাংলাদেশের মধ্যম আয়ের ফাঁদে (Middle-Income Trap) পড়ার ঝুঁকি মূলত কোন্ কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতার সঙ্গে যুক্ত? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ককৃষি রপ্তানি হ্রাস
- খনগর জনসংখ্যার উচ্চ ঘনত্ব
- গপ্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা বৃদ্ধি
- ঘপুঁজি বৃদ্ধি সত্ত্বেও মোট উৎপাদনশীলতার (Total Factor Productivity) বৃদ্ধি ধীর গতির হওয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. পুঁজি বৃদ্ধি সত্ত্বেও মোট উৎপাদনশীলতার (Total Factor Productivity) বৃদ্ধি ধীর গতির হওয়া
প্রশ্নটা মধ্যম আয়ের ফাঁদের মূল কারণ জানতে চেয়েছে। মধ্যম আয়ের ফাঁদ মানে একটি দেশ সস্তা শ্রম ও পুঁজি বিনিয়োগ দিয়ে দ্রুত মধ্যম আয়ে পৌঁছায়, কিন্তু তারপর প্রবৃদ্ধি থমকে যায় এবং উচ্চ আয়ে উঠতে পারে না।
অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি আসে তিন উৎস থেকে: শ্রম, পুঁজি এবং মোট উৎপাদনশীলতা, যাকে ইংরেজিতে টোটাল ফ্যাক্টর প্রোডাক্টিভিটি বলে। শুধু শ্রম আর পুঁজি বাড়িয়ে একসময় আর লাভ বাড়ে না, কারণ প্রতিটি বাড়তি একক থেকে প্রাপ্তি কমতে থাকে। তখন প্রযুক্তি, দক্ষতা ও প্রতিষ্ঠানের উন্নতি দিয়ে উৎপাদনশীলতা বাড়াতে হয়।
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বা পুঁজি বাড়লেও মোট উৎপাদনশীলতা ধীরে বাড়ছে, তাই এটিই ফাঁদে পড়ার মূল কাঠামোগত ঝুঁকি।
প্রবাসী আয়ের ওপর নির্ভরতা বা নগরের ঘনত্বও সমস্যা, কিন্তু সেগুলো কাঠামোগত উৎপাদনশীলতার মূল প্রশ্ন নয়; এগুলো বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: মধ্যম আয়ের ফাঁদের প্রশ্নে উত্তর প্রায় সবসময় উৎপাদনশীলতা বা প্রযুক্তি।
৩. বাংলাদেশের সংবিধান কার্যকর হয়- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১
- খ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
- গ২৬ মার্চ, ১৯৭২
- ঘ২৬ মার্চ, ১৯৭৩
সঠিক উত্তর: খ. ১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭২
প্রশ্নটা সংবিধান কার্যকর হওয়ার তারিখ জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধান ১৯৭২ সালের ১৬ ডিসেম্বর, বিজয়ের প্রথম বার্ষিকীতে কার্যকর হয়।
এর আগের ধাপগুলোও মনে রাখা দরকার। ১৯৭২ সালের ১০ এপ্রিল গণপরিষদের প্রথম অধিবেশন বসে, ১১ এপ্রিল ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে সংবিধান প্রণয়ন কমিটি গঠিত হয়, আর ৪ নভেম্বর গণপরিষদে সংবিধান গৃহীত হয়।
তাই গৃহীত হওয়ার তারিখ ৪ নভেম্বর আর কার্যকর হওয়ার তারিখ ১৬ ডিসেম্বর; প্রশ্নে কোনটি চাওয়া হয়েছে তা খেয়াল করতে হবে।
১৬ ডিসেম্বর দেখেই ১৯৭১ বেছে নেওয়া সাধারণ ভুল; ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, তখন সংবিধানই ছিল না।
মনে রাখুন: গৃহীত ৪ নভেম্বর, কার্যকর ১৬ ডিসেম্বর, দুটোই ১৯৭২।
৪. বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা দুর্বল হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কউপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের মধ্যে দ্বৈত প্রশাসনিক কর্তৃত্ব
- খসংবিধানে আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বিধান থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অতিকেন্দ্রীভূত
- গপৌরসভা পর্যায়ে সরকারি বেসরকারি অংশীদারিত্বের অভাব
- ঘদাতা সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা
সঠিক উত্তর: খ. সংবিধানে আর্থিক ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের বিধান থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে তা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে অতিকেন্দ্রীভূত
প্রশ্নটা স্থানীয় সরকারের দুর্বলতার মূল প্রাতিষ্ঠানিক দ্বন্দ্ব জানতে চেয়েছে। সংবিধান কাগজে স্থানীয় সরকারকে ক্ষমতা দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সেই ক্ষমতা, বিশেষ করে অর্থ ও সিদ্ধান্তের ক্ষমতা, কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে কেন্দ্রীভূত।
সংবিধানের ৫৯ অনুচ্ছেদ বলে প্রতিটি প্রশাসনিক একাংশে নির্বাচিত ব্যক্তিদের নিয়ে স্থানীয় শাসনের দায়িত্ব থাকবে। ৬০ অনুচ্ছেদ স্থানীয় শাসন প্রতিষ্ঠানকে কর আরোপ, বাজেট প্রণয়ন ও নিজস্ব তহবিল রক্ষণাবেক্ষণের ক্ষমতা দেওয়ার কথা বলে।
বাস্তবে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব আয় খুব কম, তারা কেন্দ্রের বরাদ্দের ওপর নির্ভর করে, আর প্রকল্প অনুমোদন ও তদারকির ক্ষমতাও কেন্দ্রের হাতে। তাই সাংবিধানিক বিকেন্দ্রীকরণ আর বাস্তবের অতিকেন্দ্রীকরণের এই ফারাকই সবচেয়ে বড় দ্বন্দ্ব।
উপজেলা ও ইউনিয়নের দ্বৈত কর্তৃত্বও একটি সমস্যা, কিন্তু সেটি এই বড় দ্বন্দ্বেরই একটি উপসর্গ; তাই সেটি বেছে নেওয়া এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: স্থানীয় সরকারের দুর্বলতার প্রশ্নে উত্তর সাধারণত কেন্দ্রের হাতে ক্ষমতা ও অর্থের কেন্দ্রীকরণ।
৫. কোন্ সংস্থা বাংলাদেশের GDP হিসাব করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কবাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
- খবাংলাদেশ ব্যাংক
- গঅর্থ বিভাগ
- ঘবাংলাদেশ পরিকল্পনা কমিশন
সঠিক উত্তর: ক. বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি কোন সংস্থা হিসাব করে। উত্তর বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, সংক্ষেপে বিবিএস।
বিবিএস দেশের সরকারি পরিসংখ্যানের প্রধান সংস্থা। জাতীয় হিসাবের অংশ হিসেবে এটি জিডিপি, প্রবৃদ্ধির হার ও মাথাপিছু আয় হিসাব ও প্রকাশ করে; মূল্যস্ফীতি, জনশুমারি ও শ্রমশক্তি জরিপও এর কাজ। বিবিএস পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের অধীন।
অন্য সংস্থাগুলো জিডিপির তথ্য ব্যবহার করে, কিন্তু হিসাব করে না। বাংলাদেশ ব্যাংক মুদ্রানীতি চালায়, অর্থ বিভাগ বাজেট তৈরি করে, আর পরিকল্পনা কমিশন পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কর্মসূচি তৈরি করে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের নাম দেখে পরিকল্পনা কমিশন বেছে নেওয়া এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: সংখ্যা মাপার প্রশ্ন মানেই পরিসংখ্যান ব্যুরো।
৬. কোন্ আদালতের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপীল করা যায় না? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅর্থ ঋণ আদালত
- খআন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল
- গসামরিক আদালত
- ঘসুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন
সঠিক উত্তর: গ. সামরিক আদালত
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে সাধারণ আদালতে আপিল চলে না। উত্তর সামরিক আদালত, অর্থাৎ শৃঙ্খলা বাহিনীর আইনে গঠিত কোর্ট মার্শাল।
সামরিক আদালতের রায় সংশ্লিষ্ট বাহিনীর নিজস্ব আইনের ভেতরেই নিষ্পত্তি হয়; এর বিরুদ্ধে বেসামরিক আদালতে আপিলের পথ নেই। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদে রিটের আওতা থেকেও প্রতিরক্ষা কর্মবিভাগ বা শৃঙ্খলা বাহিনীর আইনে গঠিত আদালতকে বাদ রাখা হয়েছে।
বাকি তিনটির বিরুদ্ধে আপিল চলে। হাইকোর্ট বিভাগের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আপিল করা যায়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধেও আপিল বিভাগে আপিল হয়, যেমন যুদ্ধাপরাধ মামলাগুলোতে হয়েছে। অর্থ ঋণ আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আইনে নির্ধারিত উচ্চতর আদালতে আপিলের সুযোগ আছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিশেষ আদালত বলে অনেকে ভাবেন এর রায় চূড়ান্ত; কিন্তু আপিল বিভাগে আপিলের বিধান আছে।
মনে রাখুন: শৃঙ্খলা বাহিনীর আদালত সাধারণ আদালতের আপিল ও রিটের আওতার বাইরে।
৭. প্রাচীন 'হরিকেল জনপদটি' কোন কোন বিভাগ সমন্বয়ে গঠিত? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- করাজশাহী ও রংপুর
- খচট্টগ্রাম ও সিলেট
- গরাজশাহী ও খুলনা
- ঘখুলনা ও ঢাকা
সঠিক উত্তর: খ. চট্টগ্রাম ও সিলেট
প্রশ্নটা প্রাচীন বাংলার জনপদ হরিকেলের অবস্থান জানতে চেয়েছে। হরিকেল ছিল বাংলার পূর্বপ্রান্তের জনপদ, যা বর্তমান চট্টগ্রাম ও সিলেট অঞ্চলজুড়ে বিস্তৃত ছিল বলে ধরা হয়।
প্রাচীন জনপদগুলো দিক দিয়ে মনে রাখা সহজ। উত্তরবঙ্গে, অর্থাৎ রাজশাহী ও রংপুর অঞ্চলে ছিল পুণ্ড্র ও বরেন্দ্র। দক্ষিণ-পূর্বে কুমিল্লা-নোয়াখালী অঞ্চলে সমতট। আর একেবারে পূর্বে পাহাড় ও সাগরঘেঁষা চট্টগ্রাম থেকে সিলেট পর্যন্ত হরিকেল।
চীনা পরিব্রাজক ই-ৎসিং হরিকেলকে পূর্ব ভারতের পূর্ব সীমা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এটিও হরিকেলের পূর্বপ্রান্তে থাকার প্রমাণ। পশ্চিম বা উত্তরের বিভাগ বেছে নিলে দিকের ভুল হয়।
মনে রাখুন: হরিকেল মানে বাংলার পূর্বপ্রান্ত: পাহাড়ি চট্টগ্রাম আর সিলেট।
৮. কোন্ ফসলটি রপ্তানী বহুমুখীকরণে সম্ভাবনাময়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কআউশ ধান
- খতেলবীজ
- গপাট
- ঘআলু
সঠিক উত্তর: ঘ. আলু
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন ফসল রপ্তানি বহুমুখীকরণে সম্ভাবনাময়। রপ্তানি বহুমুখীকরণ মানে প্রচলিত পণ্যের বাইরে নতুন পণ্য বা নতুন বাজারে রপ্তানি বাড়ানো, যাতে কয়েকটি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমে।
আলু এর ভালো উদাহরণ। দেশে আলুর উৎপাদন চাহিদার চেয়ে বেশি হওয়ায় প্রতি বছর উদ্বৃত্ত থাকে, আর মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরসহ কয়েকটি দেশে আলু রপ্তানি হয়। তাই এটি অপ্রচলিত কৃষিপণ্য হিসেবে রপ্তানি বহুমুখীকরণের সম্ভাবনাময় ফসল।
পাট বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী ও প্রচলিত রপ্তানি পণ্য, তাই এটি বহুমুখীকরণের নতুন পণ্য নয়; যদিও পাটের বহুমুখী পণ্য আলাদা বিষয়। কয়েকটি গাইড পাটকেও উত্তর দিয়েছে, তাই এই প্রশ্নে মতভেদ আছে।
তেলবীজে বাংলাদেশ ঘাটতির দেশ, ভোজ্যতেলের বড় অংশ আমদানি করতে হয়। আউশ ধান দেশের খাদ্য চাহিদা মেটায়।
মনে রাখুন: বহুমুখীকরণ মানে নতুন পণ্য; পুরোনো পণ্য পাট এখানে ফাঁদ।
৯. কোন এলাকাটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধকালীন জনযুদ্ধে ক্যাপ্টেন (অবঃ) আব্দুল হালিম চৌধুরীর দ্বারা গঠিত আঞ্চলিক বাহিনীর আওতাধীন এলাকা ছিল না? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কধামরাই
- খকেরানীগঞ্জ
- গকালিয়াকৈর
- ঘসাভার
সঠিক উত্তর: গ. কালিয়াকৈর
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের আঞ্চলিক বাহিনী হালিম বাহিনীর কর্মএলাকা জানতে চেয়েছে, আর জিজ্ঞেস করেছে কোন এলাকা এর বাইরে ছিল। উত্তর কালিয়াকৈর।
ক্যাপ্টেন অবসরপ্রাপ্ত আব্দুল হালিম চৌধুরী মানিকগঞ্জে এই বাহিনী গড়ে তোলেন। ১৯৭১ সালের এপ্রিলের দ্বিতীয় সপ্তাহে মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পদ্মাতীরে এর সদর দপ্তর হয়। ২২টি থানার প্রায় ৮০০ বর্গকিলোমিটার এলাকায় বাহিনীটি সক্রিয় ছিল, যোদ্ধার সংখ্যা এক পর্যায়ে প্রায় দুই হাজারে পৌঁছায়।
এর এলাকা ছিল মানিকগঞ্জের থানাগুলো, ঢাকার ধামরাই, সাভার, নবাবগঞ্জ ও দোহার, আর মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগর পর্যন্ত। বাহিনীর একটি ইউনিট নবাবগঞ্জ, দোহার ও কেরানীগঞ্জে সক্রিয় ছিল। অর্থাৎ মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ।
কালিয়াকৈর গাজীপুরে, ঢাকার উত্তরে। মানচিত্রে ধামরাই ও সাভারের কাছে হওয়ায় একে এলাকার ভেতরে ভাবাই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: হালিম বাহিনী মানে মানিকগঞ্জ থেকে ঢাকার পশ্চিম ও দক্ষিণ-পশ্চিম; গাজীপুর নয়।
১০. Habeas Corpus writ দায়ের করা হয় সংবিধানের ______ অনুচ্ছেদ লঙ্ঘনের কারণে। (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক৩১
- খ৩২
- গ৩৪
- ঘ৩৩
সঠিক উত্তর: ঘ. ৩৩
প্রশ্নটা হেবিয়াস কর্পাস রিট আর সংবিধানের অনুচ্ছেদের সম্পর্ক জানতে চেয়েছে। হেবিয়াস কর্পাস কথাটির অর্থ বন্দিকে সশরীরে হাজির করো। বেআইনিভাবে আটক কাউকে আদালতে হাজির করিয়ে আটকের বৈধতা যাচাই করতে এই রিট করা হয়।
সংবিধানের ৩৩ অনুচ্ছেদ গ্রেপ্তার ও আটকের রক্ষাকবচ দেয়: গ্রেপ্তারের কারণ যথাশীঘ্র জানাতে হবে, আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়ার অধিকার থাকবে, আর চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নিকটতম ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হাজির করতে হবে। এই রক্ষাকবচ লঙ্ঘন হলে ১০২ অনুচ্ছেদের অধীনে হাইকোর্ট বিভাগে হেবিয়াস কর্পাস রিট করা যায়।
৩২ অনুচ্ছেদ জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার দেয়; বেআইনি আটক এই অধিকারও লঙ্ঘন করে, তাই অনেক সমাধানে উত্তর ৩২ দেওয়া হয়েছে। তবে গ্রেপ্তার ও আটকের সুনির্দিষ্ট রক্ষাকবচ ৩৩ অনুচ্ছেদে, সেই যুক্তিতে এখানে উত্তর ৩৩।
মনে রাখুন: আটক মানে ৩৩, আর রিটের ক্ষমতা মানে ১০২।
১১. শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে উৎপাদন ভিত্তিক অর্থনীতিতে রূপান্তরের পথে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বাধা কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কশিল্পাঞ্চলের অভাব
- খরাজনৈতিক অস্থিরতা
- গদক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের অসামঞ্জস্য
- ঘক্ষুদ্রঋণের স্বল্পতা
সঠিক উত্তর: গ. দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের অসামঞ্জস্য
প্রশ্নটা শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে উৎপাদনভিত্তিক, বিশেষ করে উচ্চমূল্যের শিল্প উৎপাদনে যাওয়ার প্রধান বাধা জানতে চেয়েছে। উত্তর দক্ষ মানবসম্পদের ঘাটতি এবং শিক্ষার সঙ্গে কর্মক্ষেত্রের চাহিদার অমিল।
সস্তা শ্রম দিয়ে পোশাকের মতো শ্রমঘন শিল্প চালানো যায়, কিন্তু যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিকস বা ওষুধের মতো উচ্চমূল্যের উৎপাদনে প্রযুক্তিগত দক্ষতা লাগে। শিক্ষাব্যবস্থা যদি সেই দক্ষতা তৈরি না করে, তাহলে কারখানা হলেও দক্ষ কর্মী পাওয়া যায় না।
এর একটি লক্ষণ হলো শিক্ষিত বেকারত্ব: ডিগ্রি থাকলেও শিল্পের প্রয়োজনীয় দক্ষতা না থাকায় অনেকে কাজ পান না, আবার শিল্পকে দক্ষ ব্যবস্থাপক ও প্রকৌশলী বিদেশ থেকে আনতে হয়।
রাজনৈতিক অস্থিরতাও বিনিয়োগে বাধা, তাই এটি বেছে নেওয়ার প্রবণতা থাকে; কিন্তু রূপান্তরের কাঠামোগত মূল বাধা মানবসম্পদের দক্ষতা।
মনে রাখুন: রূপান্তর বা উৎপাদনশীলতার প্রশ্নে উত্তর সাধারণত দক্ষ মানবসম্পদ।
১২. ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়নের অন্যতম প্রভাব কি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কবিদেশে বিনিয়োগে উৎসাহ প্রদান
- খতারল্য সংকট কাটিয়ে উঠা
- গখেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা
- ঘরপ্তানী বাড়ানো
সঠিক উত্তর: ঘ. রপ্তানী বাড়ানো
প্রশ্নটা টাকার অবমূল্যায়নের প্রভাব জানতে চেয়েছে। অবমূল্যায়ন মানে এক ডলার কিনতে আগের চেয়ে বেশি টাকা লাগা। এর প্রধান প্রত্যাশিত প্রভাব রপ্তানি বাড়ানো।
উদাহরণ দিলে বোঝা সহজ। ধরুন একটি শার্ট বানাতে খরচ ১০০০ টাকা। এক ডলার ১০০ টাকা হলে বিদেশি ক্রেতার কাছে দাম ১০ ডলার; এক ডলার ১২৫ টাকা হলে দাম নেমে আসে ৮ ডলারে। সস্তা হওয়ায় বিদেশে বাংলাদেশি পণ্যের চাহিদা বাড়ে।
উল্টো দিকে আমদানি ব্যয়বহুল হয়, ফলে আমদানি নিরুৎসাহিত হয় এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়ে। তাই অবমূল্যায়ন রপ্তানির পক্ষে, আমদানির বিপক্ষে কাজ করে।
বিদেশে বিনিয়োগ বা খেলাপি ঋণের মতো বিকল্প অর্থনীতির শব্দ হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি করে, কিন্তু বিনিময় হারের সরাসরি প্রভাব পড়ে বাণিজ্যে।
মনে রাখুন: টাকা দুর্বল মানে রপ্তানি সস্তা, আমদানি দামি।
১৩. '______' জেলায় রেল যোগাযোগ নেই। (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কজামালপুর
- খপটুয়াখালী
- গনাটোর
- ঘনেত্রকোনা
সঠিক উত্তর: খ. পটুয়াখালী
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জেলায় রেল যোগাযোগ নেই। পরীক্ষার সময় উত্তর পটুয়াখালী, কারণ বরিশাল বিভাগের কোনো জেলাতেই তখনো রেলপথ চালু হয়নি।
বরিশাল অঞ্চল নদী ও খালে ঘেরা, তাই এখানে যোগাযোগ গড়ে উঠেছে মূলত নৌপথ ও সড়কপথে। পটুয়াখালী এই বিভাগেরই জেলা।
বাকি তিন জেলায় পুরোনো রেলপথ আছে। জামালপুরে জামালপুর জংশন, নাটোরে আব্দুলপুর জংশন, আর নেত্রকোনা ময়মনসিংহ থেকে মোহনগঞ্জ রেলপথে যুক্ত। কৌশল হলো আগে বিভাগ চিনে নেওয়া: বরিশাল বিভাগের জেলা দেখলেই রেল নেই ধরে নেওয়া যায়।
মনে রাখুন: বরিশাল বিভাগের জেলা মানেই রেল নেই।
১৪. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কোন্ ধরনের অধিকার? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কব্যক্তিগত
- খসামাজিক
- গরাষ্ট্রীয়
- ঘনীতিগত
সঠিক উত্তর: খ. সামাজিক
প্রশ্নটা পৌরনীতির অধিকারের শ্রেণিবিভাগ জানতে চেয়েছে। আইনগত অধিকারকে সাধারণত তিন ভাগে ভাগ করা হয়: সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক। সংবাদপত্রের স্বাধীনতাকে সামাজিক অধিকার হিসেবে ধরা হয়।
সামাজিক অধিকার হলো সমাজে সুন্দরভাবে বসবাস ও ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় অধিকার, যেমন জীবনরক্ষা, চলাফেরা, মতপ্রকাশ, ধর্মপালন ও সংবাদপত্রের স্বাধীনতা। রাজনৈতিক অধিকার হলো রাষ্ট্র পরিচালনায় অংশ নেওয়ার অধিকার, যেমন ভোট দেওয়া ও নির্বাচিত হওয়া। অর্থনৈতিক অধিকার হলো কাজ ও ন্যায্য মজুরির অধিকার।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদেও চিন্তা, বিবেক, বাক্ ও ভাবপ্রকাশের স্বাধীনতার সঙ্গে সংবাদক্ষেত্রের স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে।
ব্যক্তিগত, রাষ্ট্রীয় বা নীতিগত, এগুলো পাঠ্যবইয়ের প্রচলিত শ্রেণির নাম নয়; নামের মিল দেখে বিভ্রান্ত হওয়াই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: ভোট মানে রাজনৈতিক, মজুরি মানে অর্থনৈতিক, বাকি বসবাসের স্বাধীনতাগুলো সামাজিক।
১৫. বাংলাদেশের উন্নয়ন ধারার সবচেয়ে বড় কাঠামোগত বৈপরীত্য কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কজনসংখ্যা বৃদ্ধির স্থবিরতা সত্ত্বেও জিডিপির দ্রুত প্রবৃদ্ধি
- খশক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা
- গরেমিট্যান্স বৃদ্ধি কিন্তু শ্রম অভিবাসন হ্রাস
- ঘরপ্তানি বৃদ্ধি কিন্তু শিল্পায়ন কমে যাওয়া
সঠিক উত্তর: খ. শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা
প্রশ্নটা বাংলাদেশের উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বৈপরীত্য জানতে চেয়েছে। উত্তর হলো শক্তিশালী সামষ্টিক অর্থনৈতিক সূচকের পাশাপাশি দুর্বল প্রাতিষ্ঠানিক শাসনব্যবস্থা।
দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশে জিডিপি প্রবৃদ্ধি স্থিতিশীল ছিল, দারিদ্র্য কমেছে, গড় আয়ু ও শিশুমৃত্যুর মতো সামাজিক সূচকে বড় উন্নতি হয়েছে। অথচ একই সময়ে দুর্নীতি, জবাবদিহির অভাব, ব্যাংক খাতের দুর্বলতা আর প্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা রয়ে গেছে।
সাধারণ ধারণা হলো ভালো প্রতিষ্ঠান ছাড়া টেকসই প্রবৃদ্ধি হয় না। বাংলাদেশে দুর্বল শাসনের মধ্যেও উচ্চ প্রবৃদ্ধি হওয়াকে অনেক অর্থনীতিবিদ বাংলাদেশ প্যারাডক্স বলেন।
বাকি বিকল্পগুলোর একটি অংশ তথ্যের সঙ্গে মেলে না, অথবা সেগুলো দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত বৈপরীত্য নয়; তাই প্রতিটি বিকল্পের দুই অংশ আলাদা করে যাচাই করলেই চলে।
মনে রাখুন: বৈপরীত্যের প্রশ্নে আগে দেখুন কোন বিকল্পের দুই অংশই সত্য অথচ পরস্পরবিরোধী।
১৬. বাংলাদেশে রপ্তানী আয়ের প্রধান উৎস কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কজনশক্তি রপ্তানী
- খতৈরি পোশাক রপ্তানী
- গজাতিসংঘ শান্তি মিশনে শান্তিরক্ষী প্রেরণ
- ঘচামড়া জাতীয় পণ্য রপ্তানী
সঠিক উত্তর: খ. তৈরি পোশাক রপ্তানী
প্রশ্নটা বাংলাদেশের রপ্তানি আয়ের প্রধান উৎস জানতে চেয়েছে। উত্তর তৈরি পোশাক, যা মোট পণ্য রপ্তানি আয়ের পাঁচ ভাগের চার ভাগেরও বেশি জোগায়।
নিট ও ওভেন দুই ধরনের পোশাক মিলিয়ে এই খাত বছরে কয়েক হাজার কোটি ডলার আয় করে, আর বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বড় পোশাক রপ্তানিকারক। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য তালিকায় অনেক পেছনে।
এখানে ফাঁদ জনশক্তি রপ্তানি। প্রবাসী কর্মীরা যে অর্থ পাঠান তাকে বলে রেমিট্যান্স, এটি বৈদেশিক মুদ্রার বড় উৎস, কিন্তু পণ্য রপ্তানি আয়ের হিসাবে ধরা হয় না। শান্তিরক্ষী পাঠানো থেকে আসা অর্থও পণ্য রপ্তানি আয় নয়।
মনে রাখুন: রপ্তানি আয় মানেই পোশাক; রেমিট্যান্স আলাদা হিসাব।
১৭. বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার স্থাপিত হয় ______ । (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কযুক্তরাজ্যে
- খযুক্তরাষ্ট্রে
- গভারতে
- ঘপাকিস্তানে
সঠিক উত্তর: ক. যুক্তরাজ্যে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বাংলাদেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার কোথায় হয়। উত্তর যুক্তরাজ্য: ১৯৯৭ সালের অক্টোবরে ইংল্যান্ডের ওল্ডহ্যাম শহরে প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্যোগে ব্রিটেনের প্রথম স্থায়ী শহীদ মিনার নির্মিত হয়, যাকে দেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার ধরা হয়।
এর পরে ১৯৯৯ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি লন্ডনের আলতাব আলী পার্কে শহীদ মিনার উদ্বোধন করা হয়, যা দেশের বাইরের সবচেয়ে পরিচিত শহীদ মিনার। যুক্তরাজ্যে বড় বাংলাদেশি প্রবাসী সমাজ থাকায় সেখানেই প্রথম উদ্যোগ আসে।
আলতাব আলী পার্কের নাম বেশি শোনা যায় বলে অনেকে প্রথমটি লন্ডনে ভাবেন; প্রথম আসলে ওল্ডহ্যামে, তবে দুটিই যুক্তরাজ্যে, তাই উত্তর বদলায় না।
মনে রাখুন: দেশের বাইরে প্রথম শহীদ মিনার: ওল্ডহ্যাম, ১৯৯৭।
১৮. বাংলাদেশের উচ্চফলনশীল (উফশী) জাতের ধান ও গমের নাম যথাক্রমে- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কহরিধান, রূপালী
- খইরাটম, বর্ণালী
- গব্রি-শাইল, বলাকা
- ঘহীরা, উত্তরণ
সঠিক উত্তর: গ. ব্রি-শাইল, বলাকা
প্রশ্নটা উফশী বা উচ্চফলনশীল জাতের ধান ও গমের নাম যথাক্রমে চেয়েছে, অর্থাৎ প্রথম নামটি ধানের আর দ্বিতীয়টি গমের হতে হবে। উত্তর ব্রি-শাইল ও বলাকা।
ব্রি-শাইল বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের উদ্ভাবিত শুরুর দিকের উফশী ধান, যার আরেক নাম বিআর চার। বলাকা শুরুর দিকের পরিচিত উফশী গমের জাত। কাঞ্চন, আকবর, সৌরভ ও গৌরবও পরিচিত উফশী গমের জাত।
যথাক্রমে শব্দটাই এখানে মূল চাবি। ইরাটম উফশী ধান হলেও তার জোড়া বর্ণালী আসলে ভুট্টার জাত; তাই জোড়াটি ভুল। প্রথম নাম ঠিক দেখেই এই বিকল্প বেছে নেওয়া সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: যথাক্রমে থাকলে জোড়ার দুটি নামই আলাদাভাবে যাচাই করুন।
১৯. কোনটি UNESCO 'Intangible Cultural Heritage'-এর অন্তর্ভুক্ত? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কএকুশে ফেব্রুয়ারি
- খপহেলা বৈশাখ
- গবাউল গান
- ঘজামদানি বয়ন শিল্প
সঠিক উত্তর: গ. বাউল গান
প্রশ্নটা ইউনেস্কোর মানবতার অধরা সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় বাংলাদেশের উপাদান জানতে চেয়েছে। প্রদত্ত উত্তর বাউল গান: ইউনেস্কো ২০০৫ সালে বাউল গানকে মানবতার মৌখিক ও অধরা ঐতিহ্যের শ্রেষ্ঠ নিদর্শন ঘোষণা করে এবং ২০০৮ সালে তা প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়। এটিই এই তালিকায় বাংলাদেশের প্রথম উপাদান।
এরপর তালিকায় এসেছে জামদানি বয়নশিল্প ২০১৩ সালে, পহেলা বৈশাখের মঙ্গল শোভাযাত্রা ২০১৬ সালে, সিলেটের শীতলপাটি ২০১৭ সালে, ঢাকার রিকশা ও রিকশাচিত্র ২০২৩ সালে, আর টাঙ্গাইল শাড়ি বয়নশিল্প ২০২৫ সালে। পরীক্ষার সময় তালিকায় বাংলাদেশের মোট ছয়টি উপাদান ছিল। তাই জামদানিও তথ্যগতভাবে এই তালিকায় আছে; প্রশ্নটিতে একাধিক সঠিক বিকল্প থাকলেও এখানে দেওয়া উত্তর প্রথম ও সবচেয়ে পরিচিত উপাদান বাউল গান।
একুশে ফেব্রুয়ারিকে ইউনেস্কো ১৯৯৯ সালে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ঘোষণা করেছে; এটি দিবসের স্বীকৃতি, অধরা ঐতিহ্যের তালিকা নয়। পহেলা বৈশাখ নিজে তালিকাভুক্ত নয়, তালিকাভুক্ত হয়েছে এর মঙ্গল শোভাযাত্রা।
মনে রাখুন: অধরা ঐতিহ্যের তালিকা ক্রমে মনে রাখুন: বাউল, জামদানি, শোভাযাত্রা, শীতলপাটি, রিকশাচিত্র, টাঙ্গাইল শাড়ি।
২০. বাংলাদেশ সরকার এবং পিসিজেএসএস (PCJSS)-এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়েছিল? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক০৪ ডিসেম্বর ১৯৯৫
- খ০৬ নভেম্বর ১৯৯৮
- গ০২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
- ঘ০৭ ডিসেম্বর ১৯৯৮
সঠিক উত্তর: গ. ০২ ডিসেম্বর ১৯৯৭
প্রশ্নটা পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তির তারিখ জানতে চেয়েছে। চুক্তিটি ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সরকার ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়।
সরকারের পক্ষে জাতীয় সংসদের তৎকালীন চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ এবং জনসংহতি সমিতির পক্ষে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা, যিনি সন্তু লারমা নামে পরিচিত, চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন। এর মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলে দুই দশকের বেশি সময়ের সশস্ত্র সংঘাতের অবসান ঘটে।
চুক্তির পর পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ গঠিত হয় এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। প্রতি বছর ২ ডিসেম্বর শান্তিচুক্তির বর্ষপূর্তি পালিত হয়।
ডিসেম্বর মাস মনে থাকলেও সাল গুলিয়ে ১৯৯৮ বেছে নেওয়াই সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: শান্তিচুক্তি মানে দুই ডিসেম্বর সাতানব্বই।