ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ১৩
২৪১. বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক৫ মে
- খ১৫ মে
- গ৫ জুন
- ঘ১৫ জুন
সঠিক উত্তর: গ. ৫ জুন
বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় প্রতি বছর পাঁচ জুন।
উনিশশো বাহাত্তর সালের পাঁচ জুন সুইডেনের স্টকহোমে পরিবেশ নিয়ে জাতিসংঘের প্রথম বড় সম্মেলন শুরু হয়। সেই দিনটিকে স্মরণে রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দিনটিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘোষণা করে, আর উনিশশো চুয়াত্তর সাল থেকে এটি পালিত হচ্ছে।
দিবসটির আয়োজন করে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, যার সংক্ষিপ্ত নাম ইউএনইপি। প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্য আর একটি আয়োজক দেশ বেছে নেওয়া হয়।
পনেরো মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস, তাই মে মাসের তারিখগুলো দেখে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। পরিবেশ দিবস মনে রাখুন জুনের পাঁচ তারিখ।
মনে রাখুন: স্টকহোম সম্মেলন শুরুর দিন = পরিবেশ দিবস = ৫ জুন।
২৪২. East London কোথায় অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কইংল্যান্ডে
- খজার্মানিতে
- গআমেরিকায়
- ঘদক্ষিণ আফ্রিকায়
সঠিক উত্তর: ঘ. দক্ষিণ আফ্রিকায়
প্রশ্নটি নামের ফাঁদে ফেলার জন্য। ইস্ট লন্ডন হলো দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের একটি বন্দর শহর, ভারত মহাসাগরের তীরে।
ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে অনেক শহরের নাম ইংল্যান্ডের শহরের নামে রাখা হয়েছিল। সেই ধারায় দক্ষিণ আফ্রিকার এই শহরের নাম রাখা হয় ইস্ট লন্ডন।
একইভাবে কানাডায় লন্ডন নামে একটি শহর আছে, আর অস্ট্রেলিয়ায় আছে নিউক্যাসেল, পার্থের মতো ব্রিটিশ নাম। তাই নামের মিল দেখে দেশ ধরে নেওয়া যায় না।
লন্ডন শব্দটি দেখে ইংল্যান্ড বেছে নেওয়াই এখানে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ইংল্যান্ডের লন্ডনের পূর্বাংশকে কথ্যভাবে ইস্ট এন্ড বা পূর্ব লন্ডন বলা হলেও, ইস্ট লন্ডন নামের শহরটি দক্ষিণ আফ্রিকায়।
মনে রাখুন: ইস্ট লন্ডন, কেপটাউন, ডারবান, পোর্ট এলিজাবেথ: সব দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দর।
২৪৩. টেকনাফ কোন নদীর তীরে অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কপদ্মা
- খযমুনা
- গনাফ
- ঘকর্ণফুলী
সঠিক উত্তর: গ. নাফ
প্রশ্নটি টেকনাফের অবস্থান নিয়ে। টেকনাফ কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে দক্ষিণের উপজেলা, যা নাফ নদীর তীরে অবস্থিত।
নাফ নদী বাংলাদেশ আর মিয়ানমারের সীমান্ত নদী। এর পূর্ব পারে মিয়ানমার, পশ্চিম পারে টেকনাফ। টেকনাফ নামের শেষেই নাফ শব্দটি আছে, তাই মনে রাখা সহজ।
টেকনাফ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম প্রান্ত, আর সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার প্রধান নৌপথ টেকনাফ থেকেই।
কর্ণফুলীও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদী, তাই অনেকে এটা বেছে নেন। কিন্তু কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দর, টেকনাফ নয়।
মনে রাখুন: নামেই উত্তর: টেক-নাফ = নাফ নদী।
২৪৪. দক্ষিণ তালপট্টি কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কনাফ
- খতেতুলিয়া
- গআড়িয়াল খাঁ
- ঘহাড়িয়াভাঙ্গা
সঠিক উত্তর: ঘ. হাড়িয়াভাঙ্গা
প্রশ্নটি দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এটি ছিল হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায়, বঙ্গোপসাগরে।
হাড়িয়াভাঙ্গা সাতক্ষীরা জেলায় বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নদী। উনিশশো সত্তর সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর এর মোহনায় একটি চর জেগে ওঠে, বাংলাদেশ যার নাম দেয় দক্ষিণ তালপট্টি আর ভারত বলত নিউ মুর বা পূর্বাশা।
দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বিরোধ ছিল। পরীক্ষার পর দুই হাজার দশ সালের দিকে দ্বীপটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়, আর দুই হাজার চৌদ্দ সালে সমুদ্রসীমা মামলার রায়ে এলাকাটি ভারতের ভাগে পড়ে।
নাফ নদী মিয়ানমার সীমান্তে, তাই পূর্ব-পশ্চিম গুলিয়ে ফেললে এটা বেছে নেওয়ার ভুল হয়।
মনে রাখুন: পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা-তালপট্টি, পূর্বে নাফ-সেন্ট মার্টিন।
২৪৫. জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
- খ৮ ঘণ্টা
- গ১২ ঘণ্টা
- ঘ১৩ ঘণ্টা ১৫ মি.
সঠিক উত্তর: ক. ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জোয়ার শুরুর কত পরে ভাটা আসে। উত্তর ছয় ঘণ্টা তেরো মিনিট।
পৃথিবী নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে চব্বিশ ঘণ্টা নেয়, কিন্তু এই সময়ে চাঁদও নিজের কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। তাই একই জায়গা আবার চাঁদের ঠিক নিচে আসতে লাগে চব্বিশ ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট।
এই সময়ে একটি জায়গায় দুবার জোয়ার আসে: একবার চাঁদের দিকে মুখ করে থাকার সময়, আরেকবার ঠিক উল্টো দিকে থাকার সময়। তাই এক জোয়ার থেকে পরের জোয়ার বারো ঘণ্টা পঁচিশ মিনিট পর।
জোয়ার আর পরের জোয়ারের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে আসে ভাটা। বারো ঘণ্টা পঁচিশ মিনিটের অর্ধেক হলো ছয় ঘণ্টা সাড়ে বারো মিনিট, যা প্রায় ছয় ঘণ্টা তেরো মিনিট। বারো ঘণ্টা বিকল্পটি আসলে দুই জোয়ারের ব্যবধানের কাছাকাছি, ভাটার নয়।
মনে রাখুন: ২৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ÷ ৪ ≈ ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
২৪৬. নিঝুম দ্বীপের আয়তন কত? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৮০ব. মা.
- খ৮২ ব. মা.
- গ৮৫ ব. মা.
- ঘ৯০ ব. মা.
সঠিক উত্তর: ঘ. ৯০ ব. মা.
প্রশ্নটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দ্বীপ নিঝুম দ্বীপের আয়তন জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার উত্তরমালায় যে উত্তরটি চলে আসছে, তা হলো নব্বই বর্গমাইল।
তবে মনে রাখতে হবে, দ্বীপের আয়তন নিয়ে সূত্রভেদে বেশ ফারাক আছে। বিশ্বকোষীয় সূত্রে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মোট আয়তন প্রায় একশো তেষট্টি বর্গকিলোমিটার, মানে প্রায় তেষট্টি বর্গমাইল, যার বড় অংশই পানি। আর দ্বীপের আয়তন ধরা হয় প্রায় চৌদ্দ হাজার পঞ্চাশ একর, মানে বাইশ বর্গমাইলের মতো।
চর গঠনের দ্বীপ বলে নিঝুম দ্বীপের আকার সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই বিভিন্ন বইয়ে আলাদা সংখ্যা পাওয়া যায়। পরীক্ষার জন্য দ্বীপটির পরিচয়গুলো বেশি জরুরি: এটি মেঘনার মোহনায়, চিত্রা হরিণের জন্য বিখ্যাত, আর দুই হাজার এক সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়।
অপশনগুলো আশি থেকে নব্বইয়ের মধ্যে কাছাকাছি রাখা হয়েছে, তাই আন্দাজে উত্তর করা কঠিন। এই প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর নব্বই বর্গমাইল মনে রাখাই নিরাপদ।
মনে রাখুন: নিঝুম দ্বীপ মানে হাতিয়া, চিত্রা হরিণ, জাতীয় উদ্যান ২০০১; আয়তনের প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর ৯০ বর্গমাইল।
২৪৭. হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি স্থল কোথায়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কহিমালয়
- খকুয়েনলুন পর্বত
- গব্ল্যাক ফরেস্ট
- ঘআল্পস
সঠিক উত্তর: খ. কুয়েনলুন পর্বত
প্রশ্নটি চীনের হোয়াংহো নদীর উৎস জানতে চেয়েছে। হোয়াংহো উৎপন্ন হয়েছে কুয়েনলুন পর্বতমালার অংশ বায়ান হার পর্বত থেকে, চীনের চিংহাই প্রদেশে।
সেখান থেকে নদীটি উত্তর চীনের সমভূমি পেরিয়ে বোহাই সাগরে পড়েছে। পথে বিপুল পরিমাণ হলুদ পলি বয়ে আনে বলে একে পীত নদী বা হলুদ নদী বলা হয়।
পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায়, ফলে বারবার ভয়াবহ বন্যা হয় আর নদী গতিপথ বদলায়। এই কারণে হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হয়।
হিমালয় নামটি শুনে অনেকে ভুল করেন, কারণ এশিয়ার বড় অনেক নদী হিমালয় থেকে আসে। কিন্তু হোয়াংহো এসেছে আরও উত্তরের কুয়েনলুন পর্বত থেকে।
মনে রাখুন: হোয়াংহো = পীত নদী = চীনের দুঃখ, উৎস কুয়েনলুন।
২৪৮. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কপ্রাকৃতিক পরিবেশ
- খসামাজিক পরিবেশ
- গবায়বীয় পরিবেশ
- ঘসাংস্কৃতিক পরিবেশ
সঠিক উত্তর: ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় আঘাত কোন পরিবেশে পড়ে। উত্তর প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানে মাটি, পানি, বায়ু, বন আর জীববৈচিত্র্য।
মানুষ বাড়লে খাদ্য, বাসস্থান আর জ্বালানির চাহিদা বাড়ে। তখন বন কেটে আবাদি জমি ও বসতি বানানো হয়, জলাভূমি ভরাট হয়, বেশি সার-কীটনাশক দেওয়া হয়, আর কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া বাড়ে।
এর ফলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়, প্রাণী তাদের আবাস হারায়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতির দেশে এই চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও প্রভাব পড়ে, কিন্তু সবচেয়ে ব্যাপক ও সরাসরি ক্ষতি প্রাকৃতিক পরিবেশের। আর বায়বীয় পরিবেশ আলাদা কোনো শ্রেণি নয়, বায়ু প্রাকৃতিক পরিবেশেরই অংশ।
মনে রাখুন: মাটি-পানি-বায়ু-বন যেখানে, ক্ষতিও সেখানে: প্রাকৃতিক পরিবেশ।
২৪৯. কোথায় দিন রাত্রি সর্বত্র সমান? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কমেরু অঞ্চলে
- খনিরক্ষরেখায়
- গউত্তর গোলার্ধে
- ঘদক্ষিণ গোলার্ধে
সঠিক উত্তর: খ. নিরক্ষরেখায়
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোথায় সারা বছর দিন আর রাত সমান থাকে। উত্তর নিরক্ষরেখা।
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় সাড়ে তেইশ ডিগ্রি হেলে আছে বলে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর বা দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝোঁকে। তখন এক গোলার্ধে দিন বড় হয়, অন্যটিতে রাত বড় হয়।
কিন্তু আলোকিত অর্ধেক আর অন্ধকার অর্ধেকের সীমারেখা, যাকে ছায়াবৃত্ত বলে, সবসময় নিরক্ষরেখাকে ঠিক মাঝখান দিয়ে কাটে। তাই নিরক্ষরেখায় সারা বছর প্রায় বারো ঘণ্টা দিন আর বারো ঘণ্টা রাত।
মেরু অঞ্চলে উল্টো অবস্থা: সেখানে টানা ছয় মাস দিন আর ছয় মাস রাত। আর মার্চ ও সেপ্টেম্বরের বিষুবে সারা পৃথিবীতে দিন-রাত সমান হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা বছরে মাত্র দুই দিন।
মনে রাখুন: সারা বছর দিন-রাত সমান: নিরক্ষরেখা। সারা পৃথিবীতে সমান: শুধু ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি বিষুবে।