ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ
১. বস্তুর ওজন পৃথিবীর কোন্ স্থানে সবচেয়ে বেশি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কমেরু অঞ্চল
- খনিরক্ষীয় অঞ্চল
- গএকটি পাহাড়ের চূড়ায়
- ঘপৃথিবীর কেন্দ্রে
সঠিক উত্তর: ক. মেরু অঞ্চল
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে পৃথিবীর কোথায় একই বস্তুর ওজন সবচেয়ে বেশি। ভর আর ওজন আলাদা জিনিস: ভর সব জায়গায় এক থাকে, কিন্তু ওজন হলো ভর গুণ অভিকর্ষজ ত্বরণ। তাই যেখানে অভিকর্ষজ ত্বরণ বেশি, সেখানে ওজনও বেশি।
পৃথিবী পুরো গোল নয়, মেরুর দিকে একটু চাপা আর নিরক্ষরেখায় একটু স্ফীত। ফলে মেরুতে ভূপৃষ্ঠ পৃথিবীর কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছে, তাই টান বেশি। তার ওপর মেরুতে পৃথিবীর ঘূর্ণনজনিত বাইরের দিকের ঝোঁক প্রায় শূন্য, যা নিরক্ষরেখায় সবচেয়ে বেশি।
এই দুই কারণে অভিকর্ষজ ত্বরণ মেরুতে প্রায় নয় দশমিক আট তিন মিটার প্রতি বর্গসেকেন্ড, আর নিরক্ষরেখায় প্রায় নয় দশমিক সাত আট। তাই ওজন মেরুতে সবচেয়ে বেশি, নিরক্ষীয় অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের মধ্যে সবচেয়ে কম।
পাহাড়ের চূড়ায় কেন্দ্র থেকে দূরত্ব বাড়ে, তাই ওজন একটু কমে। আর পৃথিবীর কেন্দ্রে চারদিকের ভর সমানভাবে টানে, ফলে অভিকর্ষজ ত্বরণ ও ওজন শূন্য। কেন্দ্রের কাছে গেলে টান বাড়বে ভেবে কেন্দ্র বেছে নেওয়াই এখানে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: ভূপৃষ্ঠে ওজন: মেরুতে সর্বোচ্চ, নিরক্ষরেখায় সর্বনিম্ন; কেন্দ্রে শূন্য।
২. বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপদ্মা
- খমেঘনা
- গযমুনা
- ঘব্রহ্মপুত্র
সঠিক উত্তর: ক. পদ্মা
প্রশ্নটা বাংলাদেশের দীর্ঘতম নদী জানতে চেয়েছে, আর এখানে উত্তর ধরা হয়েছে পদ্মা। এর ভিত্তি জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বই, বাংলাদেশের নদ-নদী: সংজ্ঞা ও সংখ্যা, যা দুই হাজার তেইশ সালের চব্বিশে সেপ্টেম্বর বিশ্ব নদী দিবসে প্রকাশিত হয়। সেখানে পদ্মাকে দেশের দীর্ঘতম নদী বলা হয়েছে, দৈর্ঘ্য তিনশো একচল্লিশ কিলোমিটার।
মনে রাখবেন, নদীর দৈর্ঘ্য অনেকটাই নির্ভর করে কোন অংশকে কোন নামে ধরা হচ্ছে তার ওপর। যেমন বাংলাপিডিয়া পদ্মা বলে কেবল গোয়ালন্দের কাছে গঙ্গা ও যমুনার মিলনস্থল থেকে চাঁদপুরের কাছে মেঘনায় মেশা পর্যন্ত অংশকে, যার দৈর্ঘ্য প্রায় একশো বিশ কিলোমিটার। তাই কমিশনের হিসাব আর বাংলাপিডিয়ার হিসাব মেলে না।
তালিকা বদলালে উত্তরও বদলায়। কমিশনের দুই হাজার তেইশ সালের আগস্টের খসড়া তালিকায় দীর্ঘতম বলা হয়েছিল ইছামতীকে, দৈর্ঘ্য তিনশো চৌত্রিশ কিলোমিটার। ইছামতী বিকল্পে নেই, তাই দেওয়া চারটির মধ্যে কমিশনের চূড়ান্ত বই মেনে পদ্মাই উত্তর।
এই প্রশ্নে বিভ্রান্তি আছে। কোনো কোনো উত্তরমালায় মেঘনা লেখা হয়েছে, আর বাংলাপিডিয়ার হিসাবে বাংলাদেশের ভেতরে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার দৈর্ঘ্য দুইশো ছিয়াত্তর কিলোমিটার, যা পদ্মার একশো বিশের চেয়ে বেশি। তাই পরীক্ষার জন্য মনে রাখুন উৎসটা: নদী রক্ষা কমিশনের বইয়ে দীর্ঘতম পদ্মা।
মনে রাখুন: দীর্ঘতম নদীর প্রশ্নে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের বই মনে রাখুন: পদ্মা, ৩৪১ কিলোমিটার।
৩. বাংলাদেশের পদ্মা ও যমুনা নদীর শাখা নদীগুলো কোনগুলো? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কগড়াই ও মধুমতী
- খমহানন্দা ও বংশী
- গমহানন্দা ও আত্রাই
- ঘগড়াই ও ধলেশ্বরী
সঠিক উত্তর: ঘ. গড়াই ও ধলেশ্বরী
প্রশ্নটা শাখা নদী আর উপনদীর পার্থক্য পরীক্ষা করছে। যে নদী মূল নদী থেকে বেরিয়ে আলাদা পথে বয়ে যায়, সেটা শাখা নদী। আর যে নদী এসে মূল নদীতে মেশে, সেটা উপনদী।
পদ্মার প্রধান শাখা নদী গড়াই; কুষ্টিয়ার কাছে পদ্মা থেকে বেরিয়ে দক্ষিণে যায়, আর ভাটির দিকে এরই নাম মধুমতী। অন্যদিকে মহানন্দা পদ্মার উপনদী, রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে এসে পদ্মায় মেশে।
যমুনার প্রধান শাখা নদী ধলেশ্বরী, টাঙ্গাইলের উত্তর-পশ্চিমে যমুনা থেকে বের হয়, আর একসময় ধলেশ্বরী থেকেই বেরিয়েছিল বুড়িগঙ্গা। অন্যদিকে আত্রাই হুরাসাগর হয়ে বাঘাবাড়ীর কাছে যমুনায় এসে মেশে, আর বংশী এসে মেশে ধলেশ্বরীতে।
তাই সঠিক জোড়া গড়াই ও ধলেশ্বরী। প্রথম বিকল্পে গড়াই ও মধুমতী দুটোই পদ্মার দিকের ধারা, যমুনার কোনো শাখা নেই; নাম চেনা লাগায় অনেকে এটাই বেছে নেন।
মনে রাখুন: শাখা নদী জোড়া মুখস্থ: পদ্মা থেকে গড়াই, যমুনা থেকে ধলেশ্বরী, ধলেশ্বরী থেকে বুড়িগঙ্গা।
৪. উত্তর কোরিয়া ও দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যকার বিভক্তকারী রেখা হলো ______ উত্তর অক্ষাংশ। (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক৩৮°
- খ৩৪°
- গ৪৯°
- ঘ২৩.৫০°
সঠিক উত্তর: ক. ৩৮°
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে দুই কোরিয়াকে কোন অক্ষরেখা ভাগ করেছিল। উত্তর আটত্রিশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ, ইংরেজিতে যাকে বলে থার্টি-এইটথ প্যারালাল।
উনিশশো দশ থেকে কোরিয়া জাপানের অধীনে ছিল। উনিশশো পঁয়তাল্লিশ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জাপানের পরাজয়ের পর আটত্রিশ ডিগ্রি অক্ষরেখার উত্তরে সোভিয়েত ইউনিয়ন আর দক্ষিণে যুক্তরাষ্ট্র দখল নেয়। উনিশশো আটচল্লিশ সালে দুই আলাদা রাষ্ট্র গঠিত হয়।
উনিশশো তিপ্পান্ন সালের যুদ্ধবিরতির পর আসল সীমানা হয় যুদ্ধবিরতি রেখা, যা আটত্রিশ ডিগ্রি রেখার কাছাকাছি দিয়ে আঁকাবাঁকাভাবে গেছে। এর দুই পাশে প্রায় চার কিলোমিটার চওড়া অসামরিক অঞ্চল আছে।
অন্য বিকল্পগুলোর অক্ষরেখাও পরীক্ষায় আসে। উনপঞ্চাশ ডিগ্রি উত্তর অক্ষরেখা যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার পশ্চিমাংশের সীমানা, আর সাড়ে তেইশ ডিগ্রি উত্তর হলো কর্কটক্রান্তি রেখা, যা বাংলাদেশের মাঝখান দিয়ে গেছে।
মনে রাখুন: কোরিয়া ৩৮, ভিয়েতনাম ১৭, যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা ৪৯।
৫. এভারেস্ট শৃঙ্গের তিব্বতী ও চীনা নাম কী কী? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কদালাইলামা এবং চিংলু
- খচোমোলাংমা এবং কোমোলাংমা
- গকোমোলাংমা এবং চিংলু
- ঘচোমোলাংমা এবং এলবার্গ
সঠিক উত্তর: খ. চোমোলাংমা এবং কোমোলাংমা
প্রশ্নটা পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ এভারেস্টের স্থানীয় নাম জানতে চেয়েছে। তিব্বতি ভাষায় এর নাম চোমোলাংমা, যার অর্থ পবিত্র মা।
চীনা নামটি আসলে এই তিব্বতি নামেরই চীনা রূপ: চীনা অক্ষরে ঝুমুলাংমা। আর কোমোলাংমা হলো চোমোলাংমারই আরেকটি রোমান বানান, যা চীনে বেশ প্রচলিত; তাই প্রশ্নে চীনা নাম হিসেবে কোমোলাংমা ধরা হয়েছে, আর চোমোলাংমা ও কোমোলাংমা জোড়াটিই উত্তর।
নেপালে এর নাম সাগরমাথা, অর্থাৎ আকাশে মাথা। আর ইংরেজি নাম এভারেস্ট এসেছে ব্রিটিশ ভারতের সার্ভেয়ার জেনারেল জর্জ এভারেস্টের নাম থেকে।
দুই হাজার বিশ সালে নেপাল ও চীন যৌথভাবে এর উচ্চতা ঘোষণা করে আট হাজার আটশো আটচল্লিশ দশমিক আট ছয় মিটার। বাকি বিকল্পের দালাইলামা তিব্বতি বৌদ্ধ ধর্মগুরুর উপাধি, আর চিংলু বা এলবার্গ এভারেস্টের কোনো স্বীকৃত নাম নয়।
মনে রাখুন: তিব্বতি আর চীনা নাম প্রায় একই শোনায়: চোমো-লাংমা, কোমো-লাংমা।
৬. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার প্রথম ধাপ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কউদ্ধার
- খপুনর্বাসন
- গপুনর্গঠন
- ঘপ্রস্তুতি
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রস্তুতি
প্রশ্নটা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ক্রম জানতে চেয়েছে। এই চক্রকে তিন ভাগে ভাবা যায়: দুর্যোগের আগে, দুর্যোগের সময় আর দুর্যোগের পরে।
দুর্যোগের আগের কাজ হলো প্রতিরোধ, প্রশমন আর প্রস্তুতি। যেমন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করা, আগাম সতর্কবার্তা দেওয়া, আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি রাখা আর স্বেচ্ছাসেবকদের প্রশিক্ষণ। বিকল্পগুলোর মধ্যে কেবল প্রস্তুতিই এই আগের পর্যায়ে পড়ে, তাই এটিই প্রথম ধাপ।
দুর্যোগ ঘটার সময় বা ঠিক পরপর আসে সাড়াদান: উদ্ধার, প্রাথমিক চিকিৎসা আর ত্রাণ। দুর্যোগের পরে আসে পুনরুদ্ধার, যার মধ্যে পড়ে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন আর ঘরবাড়ি ও অবকাঠামোর পুনর্গঠন।
অনেকে মনে করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শুরু হয় উদ্ধার দিয়ে, কারণ খবরে সেটাই বেশি দেখা যায়। কিন্তু আধুনিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মূল কথাই হলো আগে থেকে প্রস্তুত থাকা।
মনে রাখুন: চক্রের ক্রম: প্রস্তুতি, তারপর উদ্ধার, তারপর পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন।
৭. প্রত্যয়ন বায়ু উত্তর গোলার্ধে _____ দিক থেকে ____ দিকে প্রবাহিত হয়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপূর্ব, পশ্চিম
- খদক্ষিণপশ্চিম, উত্তরপূর্ব
- গউত্তর, দক্ষিণ
- ঘউত্তর, পশ্চিম
সঠিক উত্তর: খ. দক্ষিণপশ্চিম, উত্তরপূর্ব
প্রশ্নটা নিয়ত বায়ুর দিক জানতে চেয়েছে। প্রত্যয়ন বায়ুকে পশ্চিমা বায়ুও বলে; উত্তর গোলার্ধে এটি দক্ষিণ-পশ্চিম দিক থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে বয়।
বায়ু সবসময় উচ্চচাপ থেকে নিম্নচাপের দিকে যায়। প্রত্যয়ন বায়ু বয় প্রায় ত্রিশ ডিগ্রি অক্ষাংশের উপক্রান্তীয় উচ্চচাপ বলয় থেকে প্রায় ষাট ডিগ্রির মেরুবৃত্তীয় নিম্নচাপ বলয়ের দিকে, অর্থাৎ উত্তর গোলার্ধে দক্ষিণ থেকে উত্তরে।
কিন্তু পৃথিবীর ঘূর্ণনের কারণে কোরিওলিস বল উত্তর গোলার্ধে বায়ুকে ডান দিকে বাঁকিয়ে দেয়। তাই সোজা উত্তরে না গিয়ে বায়ু দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে উত্তর-পূর্বে যায়, আর পশ্চিম দিক থেকে আসে বলে নাম পশ্চিমা বায়ু। দক্ষিণ গোলার্ধে একই কারণে এর দিক উত্তর-পশ্চিম থেকে দক্ষিণ-পূর্বে।
আয়ন বায়ুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা বড় ফাঁদ। আয়ন বায়ু উল্টো দিকে, ত্রিশ ডিগ্রি থেকে নিরক্ষরেখার দিকে বয়, উত্তর গোলার্ধে উত্তর-পূর্ব থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমে।
মনে রাখুন: উত্তর গোলার্ধে আয়ন বায়ু উত্তর-পূর্ব থেকে, প্রত্যয়ন বায়ু ঠিক উল্টো, দক্ষিণ-পশ্চিম থেকে।
৮. বায়ুমণ্ডল ও মহাশূন্যের মধ্যবর্তী রেখাটির নাম কী? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কবিষুবরেখা
- খট্রপোপজ
- গকারমান লাইন
- ঘকলোরাডো লাইন
সঠিক উত্তর: গ. কারমান লাইন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বায়ুমণ্ডল কোথায় শেষ আর মহাশূন্য কোথায় শুরু ধরা হয়। এই কাল্পনিক সীমার নাম কারমান রেখা, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় একশো কিলোমিটার ওপরে।
নামটি এসেছে হাঙ্গেরীয়-মার্কিন প্রকৌশলী থিওডোর ভন কারমানের নাম থেকে। এত ওপরে বাতাস এত পাতলা যে ডানার ওপর ভর করে বিমান আর উড়তে পারে না; উড়তে হলে প্রায় কক্ষপথের গতি লাগে। আন্তর্জাতিক বিমান চালনা সংস্থা এফ এ আই মহাকাশ রেকর্ডের জন্য একশো কিলোমিটারকেই সীমা ধরে।
স্তরের হিসাবে কারমান রেখা মধ্যমণ্ডলের ঠিক ওপরে, তাপমণ্ডলের নিচের অংশে। তবে এটা সর্বজনীন আইনি সীমা নয়; যুক্তরাষ্ট্রের নাসা ও বিমানবাহিনী প্রায় আশি কিলোমিটার বা পঞ্চাশ মাইলকে সীমা ধরে।
ট্রপোপজ বিকল্পটি বড় ফাঁদ। এটিও একটি সীমারেখা, তবে ট্রপোমণ্ডল আর স্ট্র্যাটোমণ্ডলের মাঝের, ভূপৃষ্ঠ থেকে মাত্র আট থেকে আঠারো কিলোমিটার উঁচুতে। বিষুবরেখা পৃথিবীর গায়ে আঁকা অক্ষরেখা, আর কলোরাডো লাইন নামে এমন কোনো সীমা নেই।
মনে রাখুন: পোজ শব্দ দেখলেই বুঝবেন দুই স্তরের মাঝের সীমা; মহাশূন্যের সীমা মানে কারমান রেখা, প্রায় ১০০ কিমি।
৯. ভঙ্গিল পর্বত, আগ্নেয় পর্বত ও স্তূপ পর্বতের উদাহরণ যথাক্রমে- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- করকি, ভিসুভিয়াস, ব্ল্যাক ফরেস্ট
- খহিমালয়, আল্পস, রকি
- গহিমালয়, রকি, বিন্দা
- ঘআল্পস, হেনরী, ফুজিয়ামা
সঠিক উত্তর: ক. রকি, ভিসুভিয়াস, ব্ল্যাক ফরেস্ট
প্রশ্নটা উৎপত্তি অনুযায়ী পর্বতের শ্রেণিবিভাগ পরীক্ষা করছে, আর যথাক্রমে শব্দটা বলছে তিনটি উদাহরণের ক্রমও মিলতে হবে। সঠিক ক্রম রকি, ভিসুভিয়াস, ব্ল্যাক ফরেস্ট।
ভঙ্গিল পর্বত তৈরি হয় পাশ থেকে প্রচণ্ড চাপে পাললিক শিলাস্তর ভাঁজ হয়ে ওপরে উঠলে। উত্তর আমেরিকার রকি, এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস আর দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ এর উদাহরণ।
আগ্নেয় পর্বত তৈরি হয় আগ্নেয়গিরি থেকে বের হওয়া লাভা ও ছাই জমে, সাধারণত মোচার আকারে। ইতালির ভিসুভিয়াস, জাপানের ফুজিয়ামা আর তানজানিয়ার কিলিমানজারো এর উদাহরণ।
স্তূপ পর্বত তৈরি হয় দুই চ্যুতির মাঝের ভূখণ্ড খাড়াভাবে ওপরে উঠে গেলে। জার্মানির ব্ল্যাক ফরেস্ট, ফ্রান্সের ভোজ আর ভারতের বিন্ধ্য ও সাতপুরা এর উদাহরণ; বিকল্পে লেখা বিন্দা বলতে সম্ভবত বিন্ধ্যকেই বোঝানো হয়েছে। আরেক বিকল্পের হেনরি পর্বত যুক্তরাষ্ট্রের ল্যাকোলিথ বা গম্বুজ পর্বত, যা ভূগর্ভে ম্যাগমা জমে ফুলে ওঠে; এটি আগ্নেয়গিরি নয়।
মনে রাখুন: যথাক্রমে প্রশ্নে প্রথমে মাঝের উদাহরণ যাচাই করুন: আগ্নেয় পর্বত হিসেবে কেবল ভিসুভিয়াসই ঠিক জায়গায় আছে।
১০. ঘূর্ণিঝড়, 'সিডর' ও 'আইলা' বাংলাদেশে আঘাত হানে _____ এবং _____ সালে। (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক২০০৭, ২০০৮
- খ২০০৮, ২০০৯
- গ২০০৭, ২০০৯
- ঘ২০০৭, ২০০৬
সঠিক উত্তর: গ. ২০০৭, ২০০৯
প্রশ্নটা বাংলাদেশে আঘাত হানা দুটি বড় ঘূর্ণিঝড়ের সাল জানতে চেয়েছে। সিডর আঘাত হানে দুই হাজার সাত সালে, আর আইলা দুই হাজার নয় সালে।
সিডর দুই হাজার সাত সালের পনেরো নভেম্বর বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে আঘাত হানে; বাগেরহাট আর বরগুনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে অন্তত তিন হাজার চারশো সাতচল্লিশ জন মারা যান, আর সুন্দরবনের প্রায় এক চতুর্থাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
আইলা দুই হাজার নয় সালের পঁচিশে মে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের উপকূলে আঘাত হানে। জলোচ্ছ্বাসে খুলনার দাকোপসহ উপকূলের বহু এলাকায় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়, আর বহু মানুষ দীর্ঘদিন গৃহহীন ছিল।
দুই হাজার আট সালের বিকল্পটা ফাঁদ, কারণ সে বছর আসা বড় ঘূর্ণিঝড় নার্গিস আঘাত হেনেছিল মিয়ানমারে, বাংলাদেশে নয়।
মনে রাখুন: সিডর আর আইলার মাঝে এক বছর ফাঁক: ০৭ আর ০৯।
১১. ছায়া প্রেমী (shadow loving) অর্থনৈতিক ফসল কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কআখ
- খতামাক
- গধান
- ঘচা
সঠিক উত্তর: ঘ. চা
প্রশ্নটি ফসলের আলো পছন্দের ধরন নিয়ে। ছায়াপ্রেমী অর্থকরী ফসল হলো চা।
চা গাছ কড়া রোদ সরাসরি সহ্য করতে পারে না; বেশি রোদে পাতা পুড়ে যায় আর মান কমে। তাই চা-বাগানে সারি সারি ছায়াবৃক্ষ লাগানো হয়, যেমন শিরীষ বা কড়ই জাতীয় গাছ, যা হালকা ছায়া দেয়। এই গাছগুলো শিম গোত্রের হওয়ায় মাটিতে নাইট্রোজেনও যোগ করে।
চা চাষে আরও দরকার প্রচুর বৃষ্টি, কিন্তু গোড়ায় পানি জমবে না এমন ঢালু জমি আর অম্লীয় মাটি। এজন্য বাংলাদেশে চা হয় সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের টিলা এলাকায়, আর পঞ্চগড়ের সমতলেও।
আখ, তামাক ও ধান সবই রোদ পছন্দ করা ফসল; খোলা মাঠে প্রচুর সূর্যালোকেই এদের ফলন ভালো হয়। তাই এগুলোর কোনোটিই ছায়াপ্রেমী নয়।
মনে রাখুন: চা-বাগানে ছায়াগাছ দেখলেই মনে পড়বে: চা ছায়াপ্রেমী।
১২. কিয়োটো প্রটোকলের বিষয়বস্তু কী? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কওজোনস্তরের ক্ষয় হ্রাস
- খজৈব নিরাপত্তা
- গজীববৈচিত্র্যের সুরক্ষা
- ঘগ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস
সঠিক উত্তর: ঘ. গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস
প্রশ্নটি কিয়োটো প্রটোকলের বিষয়বস্তু জানতে চেয়েছে। উত্তর গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন হ্রাস।
উনিশশো সাতানব্বই সালে জাপানের কিয়োটো শহরে জাতিসংঘ জলবায়ু সনদের তৃতীয় সম্মেলনে এই প্রটোকল গৃহীত হয়, আর কার্যকর হয় দুই হাজার পাঁচ সালে। এতে উন্নত দেশগুলোর জন্য প্রথমবার আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক লক্ষ্য দেওয়া হয়: কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন, নাইট্রাস অক্সাইডসহ ছয়টি গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন উনিশশো নব্বই সালের তুলনায় কমাতে হবে।
কিয়োটো প্রটোকলে কার্বন বাণিজ্য বা কার্বন ক্রেডিটের ধারণাও আসে। পরে দুই হাজার পনেরো সালের প্যারিস চুক্তি এর জায়গা নেয়, যেখানে উন্নত-উন্নয়নশীল সব দেশ নিজ নিজ লক্ষ্য দেয়।
ওজোনস্তর বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ দুটো চুক্তির নামই শহরের নামে। ওজোন রক্ষা মন্ট্রিল প্রটোকলের, জৈব নিরাপত্তা কার্টাগেনা প্রটোকলের, আর জীববৈচিত্র্য রক্ষা জীববৈচিত্র্য সনদের বিষয়।
মনে রাখুন: কিয়োটো আর প্যারিস জলবায়ু ও গ্যাস; মন্ট্রিল ওজোন।
১৩. বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক৫ জুন
- খ২২ এপ্রিল
- গ৬ জুলাই
- ঘ৫ জুলাই
সঠিক উত্তর: ক. ৫ জুন
প্রশ্নটি বিশ্ব পরিবেশ দিবসের তারিখ জানতে চেয়েছে। উত্তর পাঁচ জুন।
উনিশশো বাহাত্তর সালের পাঁচ জুন সুইডেনের স্টকহোমে পরিবেশ বিষয়ে জাতিসংঘের প্রথম বড় সম্মেলন শুরু হয়। সেই দিনটি স্মরণে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ পাঁচ জুনকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘোষণা করে, আর উনিশশো তিয়াত্তর সাল থেকে এটি পালিত হচ্ছে। একই সম্মেলনের ফলে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি বা ইউনেপ গঠিত হয়।
পরিবেশ-সংক্রান্ত আরও কিছু দিবস পরীক্ষায় আসে। বাইশ এপ্রিল ধরিত্রী দিবস, ষোলো সেপ্টেম্বর বিশ্ব ওজোন দিবস, আর বাইশ মার্চ বিশ্ব পানি দিবস।
বাইশ এপ্রিল সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ ধরিত্রী দিবসও পরিবেশের দিবস। পাঁচ জুলাই বিকল্পটি তারিখের সংখ্যা মিলিয়ে মাস বদলে বিভ্রান্ত করার জন্য।
মনে রাখুন: স্টকহোম সম্মেলনের দিন, ৫ জুন, পরিবেশ দিবস।
১৪. Climate Vulnerable Form (CVF) কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক২০০৮
- খ২০০৯
- গ২০১১
- ঘ২০১০
সঠিক উত্তর: খ. ২০০৯
প্রশ্নটি ক্লাইমেট ভালনারেবল ফোরামের প্রতিষ্ঠার সাল জানতে চেয়েছে। প্রশ্নে ফর্ম লেখা থাকলেও সঠিক নাম ফোরাম। এটি প্রতিষ্ঠিত হয় দুই হাজার নয় সালে।
দুই হাজার নয় সালের নভেম্বরে মালদ্বীপের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ নাশিদের উদ্যোগে রাজধানী মালের কাছে এর প্রথম সভা হয়। জলবায়ু পরিবর্তনে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলো একসঙ্গে আন্তর্জাতিক মঞ্চে কথা বলার জন্য এই জোট গড়ে। বাংলাদেশ এর প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একটি।
বাংলাদেশ দুবার এর সভাপতিত্ব করেছে: দুই হাজার এগারো থেকে তেরো, এবং দুই হাজার বিশ থেকে বাইশ। ফোরামের সদস্য দেশগুলোর অর্থমন্ত্রীদের জোটকে বলা হয় ভি-বিশ বা ভালনারেবল টোয়েন্টি।
দুই হাজার এগারো বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ সে বছর বাংলাদেশ প্রথম সভাপতি হয়। প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তার দুই বছর আগে।
মনে রাখুন: সিভিএফ ২০০৯, মালদ্বীপ; বাংলাদেশের সভাপতিত্ব ২০১১ ও ২০২০।
১৫. বাংলাদেশের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভারতের কোন রাজ্যের সাথে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমেঘালয়
- খআসাম
- গপশ্চিমবঙ্গ
- ঘত্রিপুরা
সঠিক উত্তর: গ. পশ্চিমবঙ্গ
প্রশ্নটি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত নিয়ে। বাংলাদেশের দীর্ঘতম স্থলসীমান্ত ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে।
ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। ভারতের হিসাবে পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে সীমান্ত প্রায় দুই হাজার দুইশো সতেরো কিলোমিটার, যা মোট বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের অর্ধেকের বেশি।
এরপর ত্রিপুরা প্রায় আটশো ছাপ্পান্ন, মেঘালয় প্রায় চারশো তেতাল্লিশ, মিজোরাম প্রায় তিনশো আঠারো আর আসাম প্রায় দুইশো বাষট্টি কিলোমিটার। সবচেয়ে ছোট সীমান্ত আসামের সঙ্গে।
ত্রিপুরা বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ ছোট রাজ্য হলেও এর তিন দিক বাংলাদেশে ঘেরা এবং এটি দ্বিতীয় দীর্ঘতম। দেশের পুরো পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিম সীমানা ধরে আছে পশ্চিমবঙ্গ, তাই সেটিই দীর্ঘতম।
মনে রাখুন: দীর্ঘতম পশ্চিমবঙ্গ, ক্ষুদ্রতম আসাম; দ্বিতীয় ত্রিপুরা।
১৬. প্রতি ৩০° দ্রাঘিমার স্থানান্তরে সময়ের ব্যবধান কত মিনিট হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক১৫ মিনিট
- খ৩০ মিনিট
- গ৬০ মিনিট
- ঘ১২০ মিনিট
সঠিক উত্তর: ঘ. ১২০ মিনিট
প্রশ্নটি দ্রাঘিমা ও সময়ের সম্পর্ক নিয়ে। প্রতি তিরিশ ডিগ্রি দ্রাঘিমায় সময়ের ব্যবধান একশো বিশ মিনিট।
পৃথিবী চব্বিশ ঘণ্টায় একবার, মানে তিনশো ষাট ডিগ্রি ঘোরে। চব্বিশ ঘণ্টা হলো এক হাজার চারশো চল্লিশ মিনিট। তাই প্রতি এক ডিগ্রি ঘুরতে লাগে এক হাজার চারশো চল্লিশ ভাগ তিনশো ষাট, মানে চার মিনিট।
তিরিশ ডিগ্রির জন্য তিরিশ গুণ চার, মানে একশো বিশ মিনিট, বা দুই ঘণ্টা। আরেকভাবে মনে রাখা যায়: প্রতি পনেরো ডিগ্রিতে এক ঘণ্টা, তাই তিরিশ ডিগ্রিতে দুই ঘণ্টা।
ষাট মিনিট বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ অনেকে প্রতি ডিগ্রিতে দুই মিনিট ধরে ফেলেন। আবার তিরিশ মিনিট আসে তিরিশ ডিগ্রিকে সরাসরি মিনিট ভেবে নিলে।
মনে রাখুন: ১° = ৪ মিনিট, ১৫° = ১ ঘণ্টা।
১৭. বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান কোন দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডরের মাঝখানে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কমালাক্কা ও হরমুজ প্রণালী
- খহরমুজ ও পক প্রণালী
- গসুয়েজ খাল ও জিব্রাল্টার প্রণালী
- ঘজিব্রাল্টার ও বসফরাস প্রণালী
সঠিক উত্তর: ক. মালাক্কা ও হরমুজ প্রণালী
প্রশ্নটি বাংলাদেশের ভূ-রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে। বাংলাদেশ ভারত মহাসাগরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক করিডর, মালাক্কা ও হরমুজ প্রণালীর মাঝখানে।
পূর্ব দিকে মালাক্কা প্রণালী মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রার মাঝে, যা ভারত মহাসাগরকে দক্ষিণ চীন সাগর ও প্রশান্ত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করে। চীন, জাপান ও কোরিয়ার বাণিজ্যের বড় অংশ এই পথে যায়। পশ্চিমে হরমুজ প্রণালী পারস্য উপসাগরের মুখে, যেখান দিয়ে বিশ্বের বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল রপ্তানি হয়।
এই দুই প্রবেশদ্বারের মাঝে ভারত মহাসাগরের উত্তর অংশে বঙ্গোপসাগর, আর তার মাথায় বাংলাদেশ। তাই ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলে বাংলাদেশের অবস্থানকে গুরুত্বপূর্ণ ধরা হয়।
পক প্রণালী ভারত ও শ্রীলঙ্কার মাঝে একটি অগভীর প্রণালী, বড় বাণিজ্যিক করিডর নয়। সুয়েজ, জিব্রাল্টার ও বসফরাস ভূমধ্যসাগর অঞ্চলের, বাংলাদেশ থেকে অনেক দূরে।
মনে রাখুন: ভারত মহাসাগরের পূর্ব দরজা মালাক্কা, পশ্চিম দরজা হরমুজ; মাঝে বঙ্গোপসাগর।
১৮. হিমালয় পর্বতমালার উদ্ভব কোন দুটি টেকটোনিক প্লেটের সংঘর্ষে হয়েছে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কইউরেশিয়ান ও আফ্রিকান
- খইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান
- গআমেরিকান ও ইউরেশিয়ান
- ঘপ্যাসিফিক ও ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান
সঠিক উত্তর: খ. ইন্দোঅস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান
প্রশ্নটি হিমালয় পর্বতমালার উৎপত্তি নিয়ে। হিমালয় তৈরি হয়েছে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে।
ভারতীয় উপমহাদেশ যে প্লেটের ওপর, তাকে ভারতীয় প্লেট বলে, আর অনেক বইয়ে অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে মিলিয়ে একে ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট বলা হয়। এই প্লেট উত্তর দিকে সরে প্রায় পাঁচ কোটি বছর আগে ইউরেশিয়ান প্লেটে ধাক্কা দেয়। মাঝের প্রাচীন টেথিস সাগরের পলি ভাঁজ খেয়ে উঠে তৈরি হয় হিমালয়।
এভাবে দুই মহাদেশীয় প্লেটের সংঘর্ষে ভাঁজ খেয়ে ওঠা পর্বতকে ভঙ্গিল পর্বত বলে। একইভাবে আফ্রিকান ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে আল্পস পর্বত তৈরি হয়েছে। আর আন্দিজ তৈরি হয়েছে মহাসাগরীয় নাজকা প্লেট দক্ষিণ আমেরিকান প্লেটের নিচে ঢুকে যাওয়ায়।
ইউরেশিয়ান ও আফ্রিকান বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ ইউরেশিয়ান নামটি এতে আছে। কিন্তু এই জোড়া আল্পসের জন্য দায়ী, হিমালয়ের জন্য নয়।
মনে রাখুন: হিমালয়ে ভারত ও ইউরেশিয়া, আল্পসে আফ্রিকা ও ইউরেশিয়া।
১৯. বায়ুমণ্ডলের কোন স্তরে ওজোন গ্যাসের স্তর অবস্থান করে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কট্রপোমণ্ডল
- খথার্মোমণ্ডল
- গস্ট্র্যাটোমণ্ডল
- ঘমেসোমণ্ডল
সঠিক উত্তর: গ. স্ট্র্যাটোমণ্ডল
প্রশ্নটি বায়ুমণ্ডলের স্তর নিয়ে। ওজোন গ্যাসের স্তর থাকে স্ট্র্যাটোমণ্ডলে।
ভূপৃষ্ঠ থেকে ওপরের দিকে বায়ুমণ্ডলের স্তর: ট্রপোমণ্ডল, স্ট্র্যাটোমণ্ডল, মেসোমণ্ডল ও থার্মোমণ্ডল। স্ট্র্যাটোমণ্ডলের ভেতরে মোটামুটি পনেরো থেকে পঁয়ত্রিশ কিলোমিটার উচ্চতায় ওজোনের ঘনত্ব সবচেয়ে বেশি, একেই ওজোনস্তর বলে।
ওজোন সূর্যের ক্ষতিকর অতিবেগুনি রশ্মি শোষণ করে, তাই এটি জীবজগতের প্রাকৃতিক ছাতা। এই শোষণে তাপ তৈরি হয় বলে স্ট্র্যাটোমণ্ডলে উচ্চতার সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়ে, যা ট্রপোমণ্ডলের উল্টো। এই স্তর স্থির ও মেঘহীন, তাই জেট বিমান এর নিচের অংশ দিয়ে চলে।
ট্রপোমণ্ডল বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ আমাদের চেনা সব আবহাওয়া সেখানেই। কিন্তু মেঘ, বৃষ্টি, ঝড় ট্রপোমণ্ডলে; ওজোনস্তর তার ঠিক ওপরে, স্ট্র্যাটোমণ্ডলে।
মনে রাখুন: আবহাওয়া ট্রপোতে, ওজোন স্ট্র্যাটোতে।
২০. ভূতাত্ত্বিক গঠন অনুযায়ী বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে সবচেয়ে পুরাতন শিলা গঠন পাওয়া যায়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসিলেট
- খদিনাজপুর
- গপার্বত্য চট্টগ্রাম
- ঘমধ্যভাগের উচ্চভূমি
সঠিক উত্তর: খ. দিনাজপুর
প্রশ্নটি বাংলাদেশের ভূতাত্ত্বিক গঠনের বয়স নিয়ে। সবচেয়ে পুরোনো শিলা গঠন পাওয়া যায় দিনাজপুর অঞ্চলে।
দিনাজপুরের মধ্যপাড়ায় ভূপৃষ্ঠের মাত্র একশো ত্রিশ মিটারের মতো নিচে প্রিক্যাম্ব্রিয়ান যুগের কঠিন ভিত্তিশিলা পাওয়া গেছে। প্রিক্যাম্ব্রিয়ান মানে পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে প্রাচীন যুগ, যা চুয়ান্ন কোটি বছরেরও বেশি আগের। এখানে গ্রানাইট জাতীয় এই শিলা খনি থেকে তুলে নির্মাণকাজে ব্যবহার হয়।
দেশের বাকি অংশ অনেক নবীন। সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড় টারশিয়ারি যুগের, মানে কয়েক কোটি বছর পুরোনো। বরেন্দ্র ও মধুপুরের উচ্চভূমি প্লাইস্টোসিন যুগের, আর বাকি প্লাবনভূমি একেবারে সাম্প্রতিক কালের পলিতে গড়া।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ পাহাড় দেখলে পুরোনো মনে হয়। কিন্তু উঁচু হওয়া আর পুরোনো হওয়া এক কথা নয়; বাংলাদেশের পাহাড়গুলো ভূতাত্ত্বিকভাবে নবীন ভঙ্গিল পাহাড়।
মনে রাখুন: প্রাচীনতম শিলা মানেই মধ্যপাড়ার কঠিন শিলা, দিনাজপুর।