ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ১১
২০১. বাংলাদেশে কালবৈশাখির ঝড় কখন হয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কমৌসুমী বায়ু ঋতুতে
- খশীতকালে
- গমৌসুমী বায়ু ঋতুর পরবর্তী সময়ে
- ঘপ্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
সঠিক উত্তর: ঘ. প্রাক-মৌসুমী বায়ু ঋতুতে
বাংলাদেশে কালবৈশাখী ঝড় হয় প্রাক-মৌসুমি ঋতুতে, মানে মার্চ থেকে মে মাসে, বাংলা চৈত্র-বৈশাখে।
এই সময়ে দিনের প্রচণ্ড গরমে ভূমি দ্রুত উত্তপ্ত হয়, নিচের বাতাস গরম ও আর্দ্র হয়ে দ্রুত উপরে ওঠে। উপরে তখনো ঠান্ডা শুষ্ক বাতাস থাকে। এই অস্থিতিশীল অবস্থায় বিশাল বজ্রমেঘ তৈরি হয়, আর সাধারণত বিকেলে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে হঠাৎ প্রবল ঝড়, বজ্রপাত, শিলাবৃষ্টি নামে।
বৈশাখ মাসে এই ঝড় বেশি হয় বলে এর নামের সঙ্গে বৈশাখ জুড়ে আছে। এই ঝড় স্বল্পস্থায়ী হলেও ঘরবাড়ি, ফসল আর নৌযানের বড় ক্ষতি করে।
বাংলাদেশের জলবায়ুতে চারটি ঋতু ধরা হয়: শীতকাল, প্রাক-মৌসুমি, মৌসুমি বা বর্ষা, আর মৌসুমি-পরবর্তী। মৌসুমি-পরবর্তী সময়ে, মানে অক্টোবর-নভেম্বরে, বঙ্গোপসাগরে ঘূর্ণিঝড় বেশি হয়; কালবৈশাখীর সঙ্গে একে গুলিয়ে ফেলা সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: কালবৈশাখী = প্রাক-মৌসুমি = চৈত্র-বৈশাখ।
২০২. পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই কোন দুর্যোগ সংঘটিত হয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কবন্যা
- খখরা
- গভূমিকম্প
- ঘঘূর্ণিঝড়
সঠিক উত্তর: গ. ভূমিকম্প
পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই যে দুর্যোগ ঘটে, তা হলো ভূমিকম্প।
ভূমিকম্প হয় মাটির নিচে ভূত্বকীয় প্লেটে জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে। কোন মুহূর্তে চাপ মুক্ত হবে, তা আগে থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে বলার কোনো বৈজ্ঞানিক উপায় এখনো নেই। কোন অঞ্চল ঝুঁকিপূর্ণ তা বলা যায়, কিন্তু কবে আঘাত হানবে তা নয়।
অন্যদিকে ঘূর্ণিঝড় উপগ্রহ ও রাডারে কয়েক দিন আগেই ধরা পড়ে, তাই আবহাওয়া অফিস সংকেত দিতে পারে। বন্যা নদীর পানির উচ্চতা দেখে আগাম জানানো যায়, আর খরা ধীরে ধীরে মাসের পর মাস ধরে তৈরি হয়।
ঘূর্ণিঝড় হঠাৎ ভয়াবহ রূপ নেয় বলে অনেকে এটা বেছে নেন, কিন্তু বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড়ের জন্য সুপরিচিত পূর্ব সতর্কতা ব্যবস্থা, মানে সংকেত ও স্বেচ্ছাসেবক নেটওয়ার্ক, আছে।
মনে রাখুন: আকস্মিক দুর্যোগ: ভূমিকম্প; ধীরগতির দুর্যোগ: খরা।
২০৩. ভারতীয় কোন রাজ্যের সাথে বাংলাদেশের কোনো সীমান্ত নেই? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কআসাম
- খমিজোরাম
- গত্রিপুরা
- ঘনাগাল্যান্ড
সঠিক উত্তর: ঘ. নাগাল্যান্ড
বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের পাঁচটি রাজ্যের সীমান্ত আছে: পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা ও মিজোরাম। নাগাল্যান্ড এই তালিকায় নেই।
নাগাল্যান্ড ভারতের উত্তর-পূর্বে, আসামের পূর্বে আর মিয়ানমারের পাশে। এর আর বাংলাদেশের মাঝে আসাম পড়ে, তাই সরাসরি সীমান্ত নেই।
সীমান্তের দৈর্ঘ্যে সবচেয়ে বেশি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে, আর সবচেয়ে কম আসামের সঙ্গে। আসামের সীমান্ত ছোট বলে অনেকে ভুলে যান যে আসামের সঙ্গেও বাংলাদেশের সীমান্ত আছে।
উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যকে সেভেন সিস্টার্স বলে। এদের মধ্যে চারটি, অর্থাৎ আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরা, মিজোরাম, বাংলাদেশ ছুঁয়েছে; অরুণাচল, নাগাল্যান্ড ও মণিপুর ছোঁয়নি।
মনে রাখুন: সীমান্ত রাজ্য পাঁচ: পশ্চিমবঙ্গ, মেঘালয়, আসাম, ত্রিপুরা, মিজোরাম।
২০৪. ‘জুম’ চাষ পদ্ধতি বাংলাদেশের কোন জেলাসমূহে দেখা যায়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসাতক্ষিরা, যশোহর, কুষ্টিয়া
- খনাটোর, পাবনা, সিরাজগঞ্জ
- গবগুড়া, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম
- ঘচট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
সঠিক উত্তর: ঘ. চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাসমূহ
জুম চাষ দেখা যায় চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলাগুলোতে, অর্থাৎ রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানের পাহাড়ি এলাকায়।
জুম হলো পাহাড়ের ঢালে স্থানান্তরিত চাষ। শুকনো মৌসুমে ঢালের জঙ্গল কেটে পুড়িয়ে ফেলা হয়, ছাই জমির সার হিসেবে কাজ করে। বর্ষার শুরুতে একই গর্তে ধান, ভুট্টা, তিল, মরিচসহ নানা ফসলের বীজ একসঙ্গে বোনা হয়।
কয়েক বছর চাষের পর মাটির উর্বরতা কমে গেলে চাষিরা অন্য ঢালে সরে যান, পুরোনো জমি আবার জঙ্গলে ভরে ওঠে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর এটা প্রথাগত পদ্ধতি, তবে এতে বন উজাড় ও ভূমিক্ষয় হয়।
অন্য বিকল্পের জেলাগুলো সমতল বা নদী-অববাহিকার। সেখানে পাহাড়ের ঢাল নেই, তাই জুম চাষের প্রশ্নই আসে না।
মনে রাখুন: জুম = পাহাড়; পাহাড় = পার্বত্য চট্টগ্রাম।
২০৫. বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ কত শতাংশ? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক৭৫.৮%
- খ৭৮.১%
- গ৭৯.২%
- ঘপ্রায় ৮০%
সঠিক উত্তর: খ. ৭৮.১%
বায়ুমণ্ডলে নাইট্রোজেনের পরিমাণ প্রায় আটাত্তর দশমিক এক শতাংশ। এটাই বায়ুর সবচেয়ে বড় উপাদান।
শুষ্ক বায়ুতে দ্বিতীয় স্থানে অক্সিজেন, প্রায় বিশ দশমিক নয় পাঁচ শতাংশ। তৃতীয় আর্গন, প্রায় শূন্য দশমিক নয় তিন শতাংশ। কার্বন ডাই-অক্সাইড এক শতাংশের অনেক কম, তবু গ্রিনহাউস প্রভাবে এর ভূমিকা বড়।
নাইট্রোজেন তুলনামূলক নিষ্ক্রিয় গ্যাস, সহজে বিক্রিয়া করে না, তাই বায়ুতে জমে থাকে। এটি অক্সিজেনকে পাতলা করে রাখে, ফলে আগুন অনিয়ন্ত্রিতভাবে জ্বলে ওঠে না। গাছ মাটির ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে এই নাইট্রোজেন আমিষ তৈরিতে কাজে লাগায়।
প্রায় আশি শতাংশ বিকল্পটি মোটামুটি ঠিক শোনায়, কিন্তু যেখানে সুনির্দিষ্ট মান দেওয়া আছে, সেখানে সঠিক মানটিই বেছে নিতে হবে।
মনে রাখুন: বায়ু মোটামুটি ৭৮ : ২১ : ১ = নাইট্রোজেন : অক্সিজেন : আর্গন ও অন্যান্য।
২০৬. নিম্নে উল্লেখিত ভূমিরূপসমূহের মধ্যে কোনটি হিমবাহের ক্ষয় কার্যের দ্বারা গঠিত? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপার্শ্ব গ্রাবরেখা
- খশৈলশিলা
- গভি-আকৃতির উপত্যকা
- ঘইউ-আকৃতির উপত্যকা
সঠিক উত্তর: ঘ. ইউ-আকৃতির উপত্যকা
হিমবাহের ক্ষয়কার্যে গঠিত ভূমিরূপ হলো ইউ-আকৃতির উপত্যকা।
হিমবাহ হলো বরফের বিশাল নদী, যা উপত্যকা জুড়ে ধীরে ধীরে নামে। পুরো উপত্যকা ভরে থাকে বলে বরফ আর তার ভেতরের পাথরকুচি তলা ও দুই পাশ সমানভাবে ঘষে ক্ষয় করে। ফলে উপত্যকার তলা চওড়া ও সমতল আর পাশ খাড়া হয়ে ইংরেজি ইউ অক্ষরের মতো আকার নেয়।
নদী শুধু তলদেশ কেটে নিচের দিকে গভীর করে, তাই নদীর উপত্যকা হয় ভি-আকৃতির। আর পার্শ্ব গ্রাবরেখা হলো হিমবাহের দুই পাশে জমা হওয়া পাথর-নুড়ির স্তূপ, যা ক্ষয় নয়, সঞ্চয়ের ফল। শৈলশিলা নামটি পাঠ্যবইয়ের প্রচলিত পরিভাষা নয়, তাই নিশ্চিত উত্তর ইউ-আকৃতির উপত্যকা।
ভি-আকৃতি আর ইউ-আকৃতি গুলিয়ে ফেলাই প্রধান ফাঁদ। মনে রাখুন: নদী কাটে ভি, হিমবাহ ঘষে ইউ।
মনে রাখুন: নদী = ভি, হিমবাহ = ইউ; গ্রাবরেখা = হিমবাহের সঞ্চয়।
২০৭. নিচের কোনটি আপদ (Hazard) এর প্রত্যক্ষ প্রভাব? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কঅর্থনৈতিক
- খসামাজিক
- গপরিবেশগত
- ঘঅবকাঠামোগত
সঠিক উত্তর: ঘ. অবকাঠামোগত
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় আপদের প্রভাবকে দুই ভাগে দেখা হয়: প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ। প্রশ্নের বিকল্পগুলোর মধ্যে প্রত্যক্ষ প্রভাব হলো অবকাঠামোগত।
প্রত্যক্ষ প্রভাব মানে আপদ আঘাত হানার মুহূর্তেই যে ভৌত ক্ষতি হয়: ঘরবাড়ি, রাস্তা, সেতু, বাঁধ, বিদ্যুৎ লাইন ভেঙে পড়া, আর প্রাণহানি। এগুলো সরাসরি চোখে দেখা যায় ও গোনা যায়।
পরোক্ষ প্রভাব আসে পরে, প্রত্যক্ষ ক্ষতির ফল হিসেবে। যেমন সেতু ভাঙায় ব্যবসা বন্ধ হয়ে আয় কমে, যা অর্থনৈতিক প্রভাব; স্কুল বন্ধ থাকে বা মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়, যা সামাজিক প্রভাব।
অর্থনৈতিক ক্ষতি সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয় বলে অনেকে সেটাকেই প্রত্যক্ষ ভাবেন। কিন্তু অর্থনৈতিক ক্ষতি আসে অবকাঠামো ভাঙার পরের ধাপে।
মনে রাখুন: চোখের সামনে ভাঙে যা, তা প্রত্যক্ষ; তার জেরে যা ঘটে, তা পরোক্ষ।
২০৮. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন কাজকে পর্যায়ক্রম অনুযায়ী সাজাতে হলে কোন কাজটি সর্বপ্রথমে হবে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কপুনর্বাসন
- খঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ
- গদুর্যোগ প্রস্তুতি
- ঘদুর্যোগ প্রশমন কর্মকাণ্ড
সঠিক উত্তর: খ. ঝুঁকি (Risk) চিহ্নিতকরণ
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার কাজ পর্যায়ক্রমে সাজালে সবার আগে আসে ঝুঁকি চিহ্নিতকরণ।
কোন এলাকায় কোন আপদের সম্ভাবনা, কারা কতটা ঝুঁকিতে, কী সম্পদ আছে, তা আগে না জানলে কোনো পরিকল্পনাই করা যায় না। ঝুঁকি চিহ্নিত হলে তারপর ঝুঁকি কমানোর কাজ, অর্থাৎ প্রশমন, যেমন বাঁধ বা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ।
এরপর প্রস্তুতি, যেমন সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ, মহড়া। দুর্যোগ ঘটলে সাড়াদান ও উদ্ধার, আর সবশেষে পুনর্বাসন ও পুনর্গঠন।
পুনর্বাসন দুর্যোগ চক্রের শেষ ধাপ, তাই সেটাকে প্রথম ভাবা স্পষ্ট ভুল। প্রশমন আর প্রস্তুতি গুরুত্বপূর্ণ হলেও দুটোই ঝুঁকি জানার পরের ধাপ।
মনে রাখুন: আগে জানো, পরে কমাও, তারপর প্রস্তুত হও, শেষে গড়ো।
২০৯. প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে নিম্নের কোন পর্যায়ে ব্যবস্থা গ্রহণ সবচেয়ে ফলপ্রসূ হবে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ককমিউনিটি পর্যায়ে
- খজাতীয় পর্যায়ে
- গউপজেলা পর্যায়ে
- ঘআঞ্চলিক পর্যায়ে
সঠিক উত্তর: ক. কমিউনিটি পর্যায়ে
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সবচেয়ে ফলপ্রসূ হলো কমিউনিটি বা স্থানীয় জনগোষ্ঠী পর্যায়ে ব্যবস্থা নেওয়া।
দুর্যোগ আঘাত হানলে প্রথম কয়েক ঘণ্টায় বাইরের সাহায্য পৌঁছাতে সময় লাগে। তখন জীবন বাঁচায় স্থানীয় মানুষই: কে বয়স্ক, কে প্রতিবন্ধী, কোন রাস্তা ডোবে, আশ্রয়কেন্দ্র কোথায়, এসব তারাই সবচেয়ে ভালো জানে। তাই প্রথম সাড়াদানকারী হিসেবে কমিউনিটির ভূমিকা সবচেয়ে বড়।
বাংলাদেশের ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচি এর উজ্জ্বল উদাহরণ। উপকূলের হাজারো স্বেচ্ছাসেবক গ্রামে গ্রামে সংকেত পৌঁছে দেন আর মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে নেন। এর ফলে আগের তুলনায় ঘূর্ণিঝড়ে প্রাণহানি নাটকীয়ভাবে কমেছে।
জাতীয় পর্যায় নীতি, অর্থ আর সমন্বয় দেয়, যা জরুরি; কিন্তু মাঠে ব্যবস্থা কার্যকর হয় কমিউনিটিতে। তাই জাতীয় পর্যায়কে সবচেয়ে ফলপ্রসূ ভাবা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: দুর্যোগে প্রথম সাড়া দেয় প্রতিবেশী; তাই কমিউনিটিভিত্তিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাই সবচেয়ে কার্যকর।
২১০. কীসের স্রোতে নদীখাত গভীর হয়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কসমুদ্রস্রোত
- খনদীস্রোত
- গবানের স্রোত
- ঘজোয়ার-ভাটার স্রোত
সঠিক উত্তর: ঘ. জোয়ার-ভাটার স্রোত
প্রশ্নটি মাধ্যমিক ভূগোলের জোয়ার-ভাটার সুফল থেকে নেওয়া। জোয়ার-ভাটার স্রোতে নদীখাত গভীর হয়, তাই এটাই প্রচলিত উত্তর।
জোয়ারের সময় সমুদ্রের পানি জোরে নদীর ভেতরে ঢোকে, আর ভাটার সময় সেই পানি দ্রুত বেগে নেমে যায়। দিনে দুবার এই আসা-যাওয়ার স্রোত নদীর তলদেশের পলি ধুয়ে সাগরে নিয়ে যায়, ফলে মোহনায় পলি জমতে পারে না আর নদীখাত গভীর থাকে।
এই কারণে জোয়ার-ভাটার নদীতে বড় জাহাজ চলাচল সহজ হয়, আর অনেক সমুদ্রবন্দর নদীর মোহনার কাছে গড়ে ওঠে। যেমন কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দর আর পশুর নদীর তীরে মোংলা বন্দর।
নদীস্রোতও তলদেশ ক্ষয় করে, তাই এটা বেছে নেওয়া স্বাভাবিক। কিন্তু প্রশ্নের অন্য বিকল্পগুলো, মানে সমুদ্রস্রোত, বান আর জোয়ার-ভাটা, সবই জোয়ার-ভাটা অধ্যায়ের, আর সেই অধ্যায়ে নদীখাত গভীর হওয়াকে জোয়ার-ভাটার স্রোতের সুফল হিসেবেই পড়ানো হয়।
মনে রাখুন: জোয়ার-ভাটার সুফল: নদীখাত গভীর, মোহনা পলিমুক্ত, বন্দর সচল।
২১১. বাংলাদেশের সুন্দরবনে কতো প্রজাতির হরিণ দেখা যায়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- ক১
- খ২
- গ৩
- ঘ৪
সঠিক উত্তর: খ. ২
বাংলাদেশের সুন্দরবনে বর্তমানে দুই প্রজাতির হরিণ দেখা যায়: চিত্রা হরিণ আর মায়া হরিণ।
চিত্রা হরিণ বা চিত্রল হরিণ সুন্দরবনের সবচেয়ে পরিচিত প্রাণী, গায়ে সাদা ফোঁটা। এরা দলে থাকে, আর বাঘের প্রধান খাদ্য। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশে বুনো চিত্রা হরিণ এখন শুধু সুন্দরবনেই সীমাবদ্ধ।
মায়া হরিণ বা বার্কিং ডিয়ার আকারে ছোট, বিপদ টের পেলে কুকুরের মতো ডাকে। এটি সুন্দরবন ছাড়াও সিলেট ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বনে থাকে।
একসময় সুন্দরবনে বারশিঙ্গা বা জলাভূমির হরিণ আর পারা হরিণও ছিল, কিন্তু বিশ শতকের মাঝামাঝি থেকে এরা সেখানে বিলুপ্ত হয়ে যায়। তাই অতীতের তথ্য ধরে তিন বা চার প্রজাতি বলা এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: সুন্দরবনে হরিণ দুটি: চিত্রা আর মায়া।
২১২. সুনামীর কারণ হল- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কআগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
- খঘূর্ণীঝড়
- গচন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
- ঘসমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর: ঘ. সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প
প্রশ্নটি ত্রিশতম বিসিএসেও প্রায় হুবহু এসেছিল। সুনামির প্রধান কারণ সমুদ্রের তলদেশে ভূমিকম্প।
সুনামি সাধারণ বাতাসের ঢেউ নয়। সাধারণ ঢেউ শুধু পানির উপরের স্তরে থাকে, কিন্তু সমুদ্রতলের ভূমিকম্পে তলদেশ থেকে উপরিতল পর্যন্ত পুরো পানির স্তম্ভ নড়ে যায়। তাই এর শক্তি বিপুল, আর ঢেউ হাজার কিলোমিটার দূরের উপকূলেও আঘাত হানে।
প্রশান্ত মহাসাগরের চারপাশের আগ্নেয় মেখলা, যাকে রিং অব ফায়ার বলে, আর ভারত মহাসাগরের সুমাত্রা অঞ্চলে প্লেটের সংযোগস্থল বেশি বলে সেখানে সুনামিও বেশি হয়।
ঘূর্ণিঝড়ে যে জলোচ্ছ্বাস হয়, তা বাতাসের ধাক্কায় পানি ফুলে ওঠা; এটাকে সুনামি ভাবা সাধারণ ভুল। প্রশ্নে ঘূর্ণীঝড় ও সুনামী বানান যেভাবে ছাপা হয়েছে, প্রমিত বানান ঘূর্ণিঝড় ও সুনামি।
মনে রাখুন: সমুদ্রে তিন ঢেউ: বাতাসে জলোচ্ছ্বাস, চাঁদে জোয়ার, ভূমিকম্পে সুনামি।
২১৩. প্রাকৃতিক কোন উৎস হতে সবচেয়ে বেশি মৃদু পানি পাওয়া যায়? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কনদী
- খসাগর
- গহ্রদ
- ঘবৃষ্টিপাত
সঠিক উত্তর: ঘ. বৃষ্টিপাত
প্রশ্নে মৃদু পানি বলতে বোঝানো হয়েছে খর পানির উল্টো, অর্থাৎ যে পানিতে ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের লবণ প্রায় নেই। প্রকৃতিতে সবচেয়ে মৃদু পানি পাওয়া যায় বৃষ্টি থেকে।
বৃষ্টির পানি আসলে সূর্যের তাপে বাষ্প হয়ে আবার ঘনীভূত হওয়া পানি, অনেকটা প্রাকৃতিকভাবে পাতিত পানির মতো। বাষ্প হওয়ার সময় লবণ ও খনিজ পেছনে পড়ে থাকে, তাই বৃষ্টির পানিতে দ্রবীভূত খনিজ খুব কম।
বৃষ্টির পানি মাটিতে পড়ে নদী, হ্রদ বা ভূগর্ভে যাওয়ার পথে পাথর আর মাটি থেকে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম গলিয়ে নেয়, তখন পানি খর হতে থাকে। খর পানিতে সাবানের ফেনা সহজে হয় না, মৃদু পানিতে সহজে হয়।
সাগরের পানিতে প্রচুর লবণ, তাই সেটা মৃদু তো নয়ই, পানযোগ্যও নয়। নদী আর হ্রদের পানিতে কিছু খনিজ মিশে থাকে, আর এদের পানির মূল জোগানও বৃষ্টি। তাই মৃদু পানিকে মিঠা পানি অর্থে ধরলেও উত্তর একই থাকে: বৃষ্টিপাত।
মনে রাখুন: মৃদু পানি মানে খনিজ কম; বৃষ্টির পানি প্রকৃতির পাতিত পানি।
২১৪. জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ককৃত্রিম সার প্রয়োগ
- খপানি সেচ
- গমাটিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
- ঘপ্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ
সঠিক উত্তর: খ. পানি সেচ
এই প্রশ্নটি ত্রিশতম বিসিএসেও এসেছিল, উত্তর একই: পানি সেচ জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে।
লবণাক্ত মাটিতে গাছের শিকড় সহজে পানি টানতে পারে না, কারণ মাটির পানিতে লবণের ঘনত্ব বেশি থাকে। প্রচুর মিঠা পানি দিয়ে সেচ দিলে লবণ গলে শিকড়ের স্তর থেকে নিচে নেমে যায় বা নালা দিয়ে বেরিয়ে যায়।
উপকূলে শুকনো মৌসুমে নদীর মিঠা পানি কমে গেলে সমুদ্রের লবণ ভেতরে ঢোকে, আর বাষ্পীভবনে মাটির উপরে লবণ জমে। তাই সেখানে বৃষ্টির পানি ধরে রাখা আর মিঠা পানির সেচ লবণাক্ততা কমানোর প্রধান উপায়।
সার বা নাইট্রোজেন মাটির পুষ্টি বাড়ায়, লবণ সরায় না। আর প্রাকৃতিক গ্যাস প্রয়োগ জমির সঙ্গে সম্পর্কহীন বিকল্প।
মনে রাখুন: লবণ ধুয়ে সরাতে লাগে মিঠা পানি; তাই উত্তর পানি সেচ।
২১৫. Which of the following ecosystems covers the largest area of the earth’s surface ? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কDesert Ecosystem
- খMountain Ecosystem
- গFreshwater Ecosystem
- ঘMarine Ecosystem
সঠিক উত্তর: ঘ. Marine Ecosystem
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে পৃথিবীর উপরিভাগের সবচেয়ে বেশি জায়গা জুড়ে কোন বাস্তুতন্ত্র। উত্তর সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র, ইংরেজিতে মেরিন ইকোসিস্টেম।
পৃথিবীর উপরিভাগের প্রায় একাত্তর শতাংশ সমুদ্র, আর স্থলভাগ মাত্র ঊনত্রিশ শতাংশের মতো। মরুভূমি, পর্বত, বনভূমি সবই এই ঊনত্রিশ শতাংশের ভাগে পড়ে।
সমুদ্রে সূর্যালোকিত উপরিতল থেকে অন্ধকার গভীর খাত পর্যন্ত নানা আবাস আছে। পৃথিবীর অক্সিজেনের বড় অংশ তৈরি করে সমুদ্রের আণুবীক্ষণিক শৈবাল।
মিঠা পানির বাস্তুতন্ত্র, মানে নদী, হ্রদ, জলাভূমি, পৃথিবীর উপরিভাগের খুব সামান্য অংশ। মরুভূমি স্থলভাগের বড় অংশ জুড়ে আছে বলে অনেকে একে বেছে নেন, কিন্তু তা সমুদ্রের ধারেকাছেও নয়।
মনে রাখুন: পৃথিবীর তিন ভাগ জল, এক ভাগ স্থল: সবচেয়ে বড় সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র।
২১৬. গ্রীনিচ মানমন্দির অবস্থিত- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কযুক্তরাজ্য
- খযুক্তরাষ্ট্রে
- গফ্রান্সে
- ঘজার্মানিতে
সঠিক উত্তর: ক. যুক্তরাজ্য
গ্রিনিচ মানমন্দির, যার পুরো নাম রয়্যাল অবজারভেটরি গ্রিনিচ, যুক্তরাজ্যের লন্ডনে, টেমস নদীর কাছে গ্রিনিচ পার্কের উঁচু জায়গায় অবস্থিত।
রাজা দ্বিতীয় চার্লস ষোলোশো পঁচাত্তর সালে সমুদ্রপথে দ্রাঘিমা নির্ণয় সহজ করতে এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পরে আঠারোশো চুরাশি সালের আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গ্রিনিচের উপর দিয়ে যাওয়া রেখাকেই শূন্য ডিগ্রি দ্রাঘিমা বা মূল মধ্যরেখা হিসেবে মেনে নেওয়া হয়।
এই রেখা থেকেই পূর্ব ও পশ্চিমে দ্রাঘিমা মাপা হয়, আর গ্রিনিচ মান সময় থেকে পৃথিবীর সব দেশের প্রমাণ সময় হিসাব হয়। যেমন বাংলাদেশের সময় গ্রিনিচের চেয়ে ছয় ঘণ্টা এগিয়ে।
আন্তর্জাতিক তারিখরেখা থাকে এর উল্টো দিকে, মোটামুটি একশো আশি ডিগ্রি দ্রাঘিমা ধরে, প্রশান্ত মহাসাগরে। গ্রিনিচ নামটি ইংরেজি বলে যুক্তরাষ্ট্র ভাবার ভুল হতে পারে।
মনে রাখুন: গ্রিনিচ = লন্ডন = ০° দ্রাঘিমা; তারিখরেখা = ১৮০°।
২১৭. পৃথিবীর গভীরতম স্থান কোন মহাসাগরে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কভারত মহাসাগরে
- খআটলান্টিক মহাসাগরে
- গপ্রশান্ত মহাসাগরে
- ঘউত্তর মহাসাগরে
সঠিক উত্তর: গ. প্রশান্ত মহাসাগরে
পৃথিবীর গভীরতম স্থান প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা খাতের চ্যালেঞ্জার ডিপ। এর গভীরতা প্রায় এগারো হাজার মিটার।
মারিয়ানা খাত তৈরি হয়েছে যেখানে প্রশান্ত মহাসাগরীয় প্লেট পশ্চিমের ছোট মারিয়ানা প্লেটের নিচে ঢুকে যাচ্ছে। এক প্লেট আরেকটির নিচে ঢুকলে সমুদ্রতলে লম্বা, সরু, খুব গভীর খাত তৈরি হয়।
এভারেস্টের উচ্চতা প্রায় আট হাজার আটশো মিটার, তাই এভারেস্টকে চ্যালেঞ্জার ডিপে রাখলেও চূড়ার উপরে দুই কিলোমিটারের বেশি পানি থাকবে। প্রশান্ত মহাসাগর আয়তনেও সবচেয়ে বড় আর গড়ে সবচেয়ে গভীর মহাসাগর।
আটলান্টিকের গভীরতম স্থান পুয়ের্তো রিকো খাত, ভারত মহাসাগরের সুন্দা বা জাভা খাত। এগুলো গভীর হলেও মারিয়ানার চেয়ে অনেক কম।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বড়, সবচেয়ে গভীর: প্রশান্ত মহাসাগর, মারিয়ানা খাত।
২১৮. পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ককাস্পিয়ান
- খবৈকাল
- গমানস সরোবর
- ঘডেড সী (Dead Sea)
সঠিক উত্তর: খ. বৈকাল
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদ। এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় এক হাজার ছয়শো বিয়াল্লিশ মিটার।
বৈকাল একটি গ্রস্ত উপত্যকা হ্রদ: ভূত্বক দুই দিকে সরে গিয়ে মাঝখানে যে গভীর ফাটল তৈরি হয়েছে, তাতেই পানি জমে হ্রদ। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম হ্রদগুলোর একটি, আর পানির পরিমাণের হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিঠা পানি ধারণ করে।
কাস্পিয়ান সাগর আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ, গভীরতায় নয়; এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় এক হাজার পঁচিশ মিটার। মৃত সাগর বিখ্যাত অতিরিক্ত লবণাক্ততা আর পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থলভাগের তীরের জন্য।
বৃহত্তম আর গভীরতম গুলিয়ে কাস্পিয়ান বেছে নেওয়াই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: বৃহত্তম কাস্পিয়ান, গভীরতম বৈকাল, লবণাক্ততম ও নিচুতম মৃত সাগর।
২১৯. হাজার হ্রদের দেশ কোনটি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কনরওয়ে
- খফিনল্যান্ড
- গইন্দোনেশিয়া
- ঘজাপান
সঠিক উত্তর: খ. ফিনল্যান্ড
এই প্রশ্নটি ত্রিশতম বিসিএসেও হুবহু এসেছিল, উত্তর ফিনল্যান্ড। দেশটিকে হাজার হ্রদের দেশ বলা হয়।
ফিনল্যান্ডের মোট আয়তনের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ পানি। হিমযুগের হিমবাহ সরে যাওয়ার সময় ভূমি চেঁছে অসংখ্য অগভীর খাদ তৈরি করে, যেগুলো পরে বরফগলা পানিতে ভরে হ্রদ হয়ে যায়।
উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর উপনাম একসঙ্গে মনে রাখলে সুবিধা: নরওয়ে নিশীথ সূর্যের দেশ, ফিনল্যান্ড হাজার হ্রদের দেশ। দূর প্রাচ্যে জাপান সূর্যোদয়ের দেশ।
ইন্দোনেশিয়ায় হাজারো দ্বীপ আছে, তাই হাজার শব্দটি দেখে সেটি বেছে নেওয়ার ফাঁদ আছে। কিন্তু উপনামটি হ্রদের, দ্বীপের নয়।
মনে রাখুন: ‘হাজার হ্রদ’ শুনলেই ফিনল্যান্ড।
২২০. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ কোনটি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কঅস্ট্রেলিয়া
- খকানাডা
- গযুক্তরাষ্ট্র
- ঘচীন
সঠিক উত্তর: ঘ. চীন
প্রশ্নটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময়, মানে দুই হাজার এগারো সালের দিকে, এক নম্বরে ছিল চীন, তার পরে ভারত।
চীনের উত্তরের সমভূমি, বিশেষ করে হোয়াংহো অববাহিকা, গম চাষের প্রধান এলাকা। বিশাল আবাদি জমি, সেচ ব্যবস্থা আর বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা চীনকে শীর্ষে রেখেছে।
মনে রাখার বিষয় হলো, উৎপাদন আর রপ্তানি আলাদা জিনিস। চীন নিজের উৎপাদিত গম মূলত নিজেই খায়, তাই রপ্তানিতে এগিয়ে থাকে অন্য দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়া বড় গম রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত, তাই এদের একটিকে উৎপাদনেও শীর্ষ ভাবার ভুল হয়।
মনে রাখুন: ধান ও গম দুটোর উৎপাদনেই শীর্ষ চীন, দ্বিতীয় ভারত।