বাংলা লিপি সংস্কারে বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন-
সঠিক উত্তর
কঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা বাংলা বর্ণমালা ও লিপি সংস্কারের কারিগর কে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর।
১৮৫৫ সালে প্রকাশিত বর্ণপরিচয় বইয়ে বিদ্যাসাগর বাংলা বর্ণমালাকে নতুন করে সাজান। তিনি দীর্ঘ ঋ ও দীর্ঘ ঌ বর্ণ দুটি বাদ দেন, অনুস্বার ও বিসর্গকে স্বরবর্ণ থেকে ব্যঞ্জনবর্ণে নেন, আর ড়, ঢ়, য় বর্ণগুলো যুক্ত করেন। এভাবে স্বরবর্ণ দাঁড়ায় ১২টি, ব্যঞ্জনবর্ণ ৪০টি।
তাঁকে বাংলা গদ্যের জনকও বলা হয়, কারণ তিনি বাংলা গদ্যে যতিচিহ্নের সার্থক ব্যবহার শুরু করেন।
ফাঁদ হলো রামমোহন রায়। তিনি বাংলা গদ্য ও ব্যাকরণ চর্চায় অগ্রণী ছিলেন, গৌড়ীয় ব্যাকরণ লিখেছেন, কিন্তু লিপি সংস্কারের কৃতিত্ব বিদ্যাসাগরের।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ১৮৩৩রামমোহন রায়: গৌড়ীয় ব্যাকরণ
- ১৮৫৫বিদ্যাসাগর: বর্ণপরিচয়, লিপি সংস্কার
- ১৮৫৫১২ স্বরবর্ণ, ৪০ ব্যঞ্জনবর্ণ
- রামমোহন রায় লেখেন গৌড়ীয় ব্যাকরণ।
- বিদ্যাসাগরের বর্ণপরিচয়ে বর্ণমালা নতুন করে সাজানো হয়।
- তিনি দীর্ঘ ঋ (ৠ) ও দীর্ঘ ঌ (ৡ) বাদ দেন; ড়, ঢ়, য় যোগ করেন।
খ. রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর: রবীন্দ্রনাথ বাংলা বানান সংস্কার আলোচনায় যুক্ত ছিলেন, কিন্তু লিপি বা বর্ণমালা সংস্কার বিদ্যাসাগরের কাজ।
গ. রামমোহন রায়: রামমোহন বাংলা গদ্য ও ব্যাকরণে অগ্রণী, লিপি সংস্কারে নয়; এটাই ফাঁদ।
ঘ. বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়: বঙ্কিমচন্দ্র ঔপন্যাসিক ও সাহিত্য সম্রাট, লিপি সংস্কারক নন।
বর্ণপরিচয় মানেই বিদ্যাসাগর; বাংলা লিপি ও বর্ণমালা সংস্কারের প্রশ্নে উত্তর তিনিই।
বর্ণ চেনালেন যিনি, লিপি সাজালেন তিনি: বিদ্যাসাগর।