বাক্যের প্রতিটি শব্দের সঙ্গে অন্বয় সাধনের জন্য যে সকল বর্ণ যুক্ত হয় তাদের কি বলে?
সঠিক উত্তর
খবিভক্তি
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা বিভক্তির সংজ্ঞা নিয়ে। বাক্যের অন্য শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক বা অন্বয় তৈরির জন্য শব্দের শেষে যে বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়, তাকে বিভক্তি বলে।
যেমন “ছাদে বসে মা শিশুকে চাঁদ দেখাচ্ছেন” বাক্যে ছাদ-এর সঙ্গে এ, শিশু-র সঙ্গে কে যুক্ত হয়েছে। এগুলোই বিভক্তি; এরা না থাকলে শব্দগুলো বাক্যে কীভাবে জুড়বে, বোঝা যেত না।
বিভক্তিযুক্ত শব্দকে পদ বলে। বাংলা শব্দবিভক্তি মূলত সাতটি: প্রথমা থেকে সপ্তমী। ক্রিয়ার সঙ্গেও বিভক্তি যুক্ত হয়, তাকে ক্রিয়াবিভক্তি বলে।
ফাঁদ হলো কারক: কারক হলো ক্রিয়ার সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনামের সম্পর্ক, আর সেই সম্পর্ক প্রকাশ করার চিহ্ন হলো বিভক্তি। অর্থাৎ কারক সম্পর্ক, বিভক্তি তার চিহ্ন।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩কারক = সম্পর্ক; বিভক্তি = সম্পর্কের চিহ্ন (এ, কে, র, তে ...)
- প্রশ্নের মূল কথা: অন্বয় তৈরির জন্য শব্দে যুক্ত বর্ণ।
- ছাদ + এ, শিশু + কে: এ, কে হলো বিভক্তি।
- কারক হলো সম্পর্ক, আর বিভক্তি সেই সম্পর্কের চিহ্ন।
ক. সমাস: সমাস হলো একাধিক পদ মিলে এক পদ হওয়া, বর্ণ যুক্ত হওয়া নয়।
গ. কারক: কারক হলো ক্রিয়ার সঙ্গে নামপদের সম্পর্ক; সম্পর্ক প্রকাশের চিহ্ন বিভক্তি।
ঘ. সম্বন্ধ পদ: সম্বন্ধ পদ হলো র বা এর যুক্ত পদ, যা কারক নয়; এটি বিভক্তির একটি ফল মাত্র।
শব্দের সঙ্গে যুক্ত হওয়া বর্ণ বা চিহ্নের কথা থাকলে উত্তর বিভক্তি; সম্পর্কের কথা থাকলে কারক।
শব্দ জোড়ার আঠা হলো বিভক্তি।