বাংলা সাহিত্যের প্রাচীন যুগের নিদর্শন কোনটি?
সঠিক উত্তর
খদোহাকোষ
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা প্রাচীন যুগের সাহিত্য নিদর্শন চেনার। দোহাকোষ বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচিত দোহা বা ছোট পদের সংকলন, যা প্রাচীন যুগের নিদর্শন।
হরপ্রসাদ শাস্ত্রী নেপাল থেকে চর্যাপদের সঙ্গে দোহাকোষও সংগ্রহ করেন। ১৯১৬ সালে চর্যাপদ, সরহপাদ ও কৃষ্ণাচার্যের দোহাকোষ আর ডাকার্ণব মিলিয়ে তিনি প্রকাশ করেন হাজার বছরের পুরাণ বাঙ্গালা ভাষায় বৌদ্ধগান ও দোহা। দোহাগুলোর ভাষা অবশ্য মূলত অপভ্রংশ।
নিরঞ্জনের রুষ্মা রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণের একটি অংশ, যাকে প্রাচীন যুগের পরে, সাধারণত তেরো শতকের রচনা ধরা হয়। গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস আর ময়নামতির গান মধ্যযুগের নাথসাহিত্যের কাহিনি; প্রশ্নপত্রে এ দুটি গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস আর ময়নামতির নাম হিসেবে ছাপা হয়েছে।
ফাঁদ হলো নিরঞ্জনের রুষ্মা, কারণ এটি পুরোনো ও তুর্কি আক্রমণের সময়ের বলে প্রাচীন মনে হয়। কিন্তু প্রাচীন যুগ শেষ ১২০০ সালে; এর নিদর্শন বলতে চর্যাপদ আর দোহাকোষ।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩- ৬৫০–১২০০প্রাচীন যুগ: চর্যাপদ ও দোহাকোষ
- তেরো শতকশূন্যপুরাণ: নিরঞ্জনের রুষ্মা
- মধ্যযুগনাথসাহিত্য: গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস, ময়নামতির গান
- নিরঞ্জনের রুষ্মা: শূন্যপুরাণের অংশ, প্রাচীন যুগের পরের রচনা।
- গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস ও ময়নামতির গান: মধ্যযুগের নাথসাহিত্য।
- দোহাকোষ: বৌদ্ধ সিদ্ধাচার্যদের রচনা, প্রাচীন যুগের নিদর্শন।
ক. নিরঞ্জনের রুষ্মা: নিরঞ্জনের রুষ্মা রামাই পণ্ডিতের শূন্যপুরাণের অংশ, প্রাচীন যুগের পরের, সাধারণত তেরো শতকের রচনা।
গ. গুপিচন্দ্রের সন্ন্যাস: গোপীচন্দ্রের সন্ন্যাস মধ্যযুগের নাথসাহিত্যের কাহিনি।
ঘ. ময়নামতির নাম: ময়নামতির গান মধ্যযুগের নাথসাহিত্যের অংশ, প্রাচীন যুগের নয়।
প্রাচীন যুগের নিদর্শন মাত্র দুটি নাম: চর্যাপদ আর দোহাকোষ; বাকি যা আসে, তা পরের যুগের।
চর্যার সঙ্গী দোহা: দুজনই প্রাচীন।