তাম্বুল রাতুল হইল অধর পরশে। - -অর্থ কী?
সঠিক উত্তর
কঠোঁটের পরশে পান লাল হল
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটা মধ্যযুগের কাব্যভাষার একটি পঙ্ক্তির অর্থ জানতে চেয়েছে। শব্দগুলোর মানে আলাদা করে জানলেই উত্তর বেরিয়ে আসে।
তাম্বুল মানে পান, রাতুল মানে লাল বা রক্তিম, অধর মানে ঠোঁট, আর পরশে মানে স্পর্শে। তাহলে পুরো লাইন দাঁড়ায়: ঠোঁটের স্পর্শে পান লাল হলো।
কবি এখানে নায়িকার রূপের বাড়াবাড়ি প্রশংসা করছেন: ঠোঁট এত লাল যে পান মুখে দিতেই পান নিজে লাল হয়ে গেছে। স্বাভাবিকভাবে পান খেলে ঠোঁট লাল হয়; কবি সেটাকে উল্টে দিয়েছেন, এটাই কাব্যের চমক।
ফাঁদ হলো উল্টো অর্থ, পানের পরশে ঠোঁট লাল হলো। বাস্তবে সেটাই ঘটে বলে ওটাকেই ঠিক মনে হয়, কিন্তু বাক্যে রাতুল হয়েছে তাম্বুল, মানে পান। সূর্য বা অস্তাচলের কোনো শব্দই পঙ্ক্তিতে নেই, তাই শেষ দুটি বিকল্প সহজেই বাদ।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৩/৩| শব্দ | অর্থ |
|---|---|
| তাম্বুল | পান |
| রাতুল | লাল, রক্তিম |
| অধর | ঠোঁট |
| পরশে | স্পর্শে |
| পুরো পঙ্ক্তি | ঠোঁটের পরশে পান লাল হলো |
- তাম্বুল মানে পান, রাতুল মানে লাল।
- অধর মানে ঠোঁট, পরশে মানে স্পর্শে।
- পুরো অর্থ: ঠোঁটের পরশে পান লাল হলো।
খ. পানের পরশে ঠোঁট লাল হল: উল্টো অর্থ: বাস্তবে পানে ঠোঁট লাল হয় বলে এটাই চেনা লাগে, কিন্তু লাইনে লাল হয়েছে তাম্বুল, মানে পান।
গ. অস্তাচলগামী সূর্যের আভায় মুখ রক্তিম দেখা গেল: পঙ্ক্তিতে সূর্য বা অস্তাচলের কোনো শব্দ নেই; অধর মানে ঠোঁট।
ঘ. অস্তাচলগামী সূর্য ও মুখ একই রকম লাল হয়ে গেল: সূর্যের কোনো উল্লেখ পঙ্ক্তিতে নেই; তুলনাটা ঠোঁট আর পানের মধ্যে।
পুরোনো কাব্যের পঙ্ক্তিতে প্রতিটি শব্দের মানে বসিয়ে বাক্যটা আবার সাজান; কে কী হলো, তা কর্তা দেখে ঠিক করুন।
পান খেলে ঠোঁট লাল হয়, কিন্তু রূপসীর ঠোঁটে পানই লাল হয়।