কেন্তুমের কোন দুটি শাখা এশিয়ার অন্তর্গত?
সঠিক উত্তর
কহিত্তিক ও তুখারিক
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি ইন্দো-ইউরোপীয় ভাষাবংশের শাখা নিয়ে। এই ভাষাবংশকে দুই ভাগে ভাগ করা হয়: কেন্তুম আর শতম। নাম দুটি এসেছে একশো সংখ্যার শব্দ থেকে; লাতিনে একশো কেন্তুম, আর আবেস্তা ভাষায় সতম।
কেন্তুম শাখার ভাষাগুলো প্রধানত ইউরোপের: গ্রিক, ইতালীয় বা লাতিন, কেলটিক, জার্মানিক। কিন্তু এই শাখার দুটি ভাষা প্রচলিত ছিল এশিয়ায়: হিত্তীয় বা হিত্তিক, যা চলত আনাতোলিয়া অর্থাৎ বর্তমান তুরস্কে, আর তুখারীয় বা তুখারিক, যা চলত মধ্য এশিয়ার তারিম অববাহিকায়।
অন্যদিকে শতম শাখায় আছে ইন্দো-ইরানীয়, বাল্টো-স্লাভিক, আর্মেনীয়, আলবেনীয়। বাংলা এই শতম শাখারই ইন্দো-ইরানীয় ধারা থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো মাগধী ও গৌড়ী। এগুলো আমাদের পরিচিত প্রাকৃত, বাংলার উৎস হিসেবে আলোচিত, তাই চোখে পড়ে। কিন্তু এরা শতম শাখার ভারতীয় ধারার, কেন্তুমের নয়।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| শাখা | ভাষা | অঞ্চল |
|---|---|---|
| কেন্তুম | গ্রিক, লাতিন, কেলটিক, জার্মানিক | ইউরোপ |
| কেন্তুম | হিত্তীয় (হিত্তিক) | আনাতোলিয়া, এশিয়া |
| কেন্তুম | তুখারীয় (তুখারিক) | তারিম অববাহিকা, এশিয়া |
| শতম | ইন্দো-ইরানীয়, বাল্টো-স্লাভিক | বাংলা এই শাখার |
- কেন্তুমের ইউরোপীয় ভাষা: গ্রিক, লাতিন, কেলটিক, জার্মানিক।
- কেন্তুমের এশীয় ভাষা ১: হিত্তীয়, আনাতোলিয়ায়।
- কেন্তুমের এশীয় ভাষা ২: তুখারীয়, মধ্য এশিয়ার তারিম অববাহিকায়।
- শতম: ইন্দো-ইরানীয় ইত্যাদি; বাংলা, মাগধী, গৌড়ী এই শাখার।
খ. তামিল ও দ্রাবিড়: তামিল দ্রাবিড় ভাষাবংশের ভাষা, আর দ্রাবিড় নিজেই আলাদা ভাষাবংশ; ইন্দো-ইউরোপীয়ই নয়।
গ. আর্য ও অনার্য: আর্য ও অনার্য জাতিগোষ্ঠী বা সাংস্কৃতিক ভাগের নাম, কোনো ভাষাশাখা নয়।
ঘ. মাগধী ও গৌড়ী: মাগধী ও গৌড়ী প্রাকৃত শতম শাখার ভারতীয় ধারার; কেন্তুমের সঙ্গে এদের সম্পর্ক নেই।
কেন্তুমের এশিয়ার জোড়া মনে রাখুন হি আর তু দিয়ে: হিত্তিক ও তুখারিক।
কেন্তুম ইউরোপের, তবু এশিয়ায় দুই অতিথি: হিত্তি আর তুখারি।