রবীন্দ্রনাথ কোন কারক বাদ দিতে চেয়েছিলেন?
সঠিক উত্তর
খসম্প্রদান কারক
ব্যাখ্যা
প্রশ্নটি কারক নিয়ে রবীন্দ্রনাথের একটি মত জানতে চায়। রবীন্দ্রনাথ সম্প্রদান কারককে আলাদা কারক হিসেবে রাখার পক্ষে ছিলেন না।
প্রচলিত বাংলা ব্যাকরণে কারক ছয়টি: কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান, অধিকরণ। স্বত্ব ত্যাগ করে কিছু দান করা হলে যাকে দেওয়া হয়, সে সম্প্রদান; যেমন ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও।
যুক্তিটা হলো, সংস্কৃতে সম্প্রদানের নিজস্ব বিভক্তি আছে, কিন্তু বাংলায় সম্প্রদানে কে বিভক্তি বসে, ঠিক কর্ম কারকের মতো। রূপে কোনো পার্থক্য না থাকায় বাংলায় একে আলাদা কারক রাখার প্রয়োজন রবীন্দ্রনাথ দেখেননি।
অন্য কারকগুলোর বাংলায় নিজস্ব চেহারা আছে: করণে দিয়ে বা দ্বারা, অপাদানে থেকে বা হতে, অধিকরণে এ বা তে। তাই এগুলো বাদ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনি।
স্টেপ বাই স্টেপ শিখুন
৪/৪| কারক | বাংলায় চেনার চিহ্ন | উদাহরণ |
|---|---|---|
| করণ | দিয়ে, দ্বারা | কলম দিয়ে লেখে |
| অপাদান | থেকে, হতে | গাছ থেকে পাতা পড়ে |
| অধিকরণ | এ, তে | ঘরে বসে আছে |
| সম্প্রদান | কে, কর্মের মতোই | ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও |
- করণ: দিয়ে, দ্বারা; যেমন কলম দিয়ে লেখে।
- অপাদান: থেকে, হতে; যেমন গাছ থেকে পাতা পড়ে।
- অধিকরণ: এ, তে; যেমন ঘরে বসে আছে।
- সম্প্রদান: কে, কর্মের মতোই; তাই রবীন্দ্রনাথ একে বাদ দিতে চেয়েছিলেন।
ক. করণ কারক: করণ কারকের বাংলায় নিজস্ব চিহ্ন আছে, দিয়ে বা দ্বারা; রবীন্দ্রনাথ এটি বাদ দিতে চাননি।
গ. অপাদান কারক: অপাদান কারক থেকে বা হতে দিয়ে স্পষ্টভাবে চেনা যায়; এটি বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রবীন্দ্রনাথের নয়।
ঘ. অধিকরণ কারক: অধিকরণ কারক এ বা তে বিভক্তিতে আলাদা করে চেনা যায়; এটি বাদ দেওয়ার প্রশ্ন ওঠেনি।
যে কারকের বাংলায় আলাদা বিভক্তি নেই, সেটিকেই বাদ দেওয়ার কথা উঠেছিল: সম্প্রদান, যার বিভক্তি কর্মের মতোই কে।
দানের কারক সম্প্রদান, রবীন্দ্রনাথ দিতে চাননি তাকে আলাদা আসন।