বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২৯
৫৬১. দেশের প্রথম ঔষধ পার্ক কোথায় স্থাপিত হচ্ছে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কগজারিয়া
- খগাজীপুর
- গসাভার
- ঘভালুকা
সঠিক উত্তর: ক. গজারিয়া
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময় দেশের প্রথম ঔষধ শিল্প পার্ক কোথায় স্থাপিত হচ্ছিল, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া।
এই পার্কের মূল লক্ষ্য ওষুধের কাঁচামাল, অর্থাৎ সক্রিয় উপাদান দেশেই উৎপাদন করা। এতে আমদানিনির্ভরতা কমে এবং ওষুধ শিল্পের খরচ কমে।
শিল্প পার্ক বা বিশেষ শিল্পনগরীর প্রশ্নে খাত আর স্থান জোড়া বেঁধে শিখুন। যেমন চামড়া শিল্পনগরী সাভারে, আর ঔষধ শিল্প পার্ক গজারিয়ায়।
সাভার বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ সেখানে আরেকটি বিশেষায়িত শিল্পনগরী আছে; কিন্তু সেটি চামড়ার।
মনে রাখুন: ওষুধ গজারিয়া, চামড়া সাভার।
৫৬২. ক্রিকেটে বাংলাদেশ কোন সালে টেস্ট মর্যাদা পায়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক১৯৯৮
- খ১৯৯৯
- গ২০০০
- ঘ২০০১
সঠিক উত্তর: গ. ২০০০
প্রশ্নটা ক্রিকেটে বাংলাদেশের টেস্ট মর্যাদা পাওয়ার সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ২০০০ সাল।
২০০০ সালের ২৬ জুন বাংলাদেশ আইসিসির দশম পূর্ণ সদস্য হিসেবে টেস্ট মর্যাদা পায়। একই বছরের নভেম্বরে ঢাকার বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে ভারতের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রথম টেস্ট খেলে।
এর আগের ধাপগুলো মনে রাখলে সাল গুলিয়ে যায় না। ১৯৯৭ সালে আইসিসি ট্রফি জয়, ১৯৯৯ সালে প্রথম বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে পাকিস্তানকে হারানো, আর তারপর ২০০০ সালে টেস্ট মর্যাদা।
১৯৯৯ বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ সে বছরের বিশ্বকাপ সাফল্য টেস্ট মর্যাদার পথ খুলে দেয়; কিন্তু মর্যাদা আসে পরের বছর।
মনে রাখুন: সাতানব্বই ট্রফি, নিরানব্বই বিশ্বকাপ, দুই হাজার টেস্ট।
৫৬৩. বাংলাদেশের জাতীয় ফল কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কআম
- খকাঁঠাল
- গকলা
- ঘপেঁপে
সঠিক উত্তর: খ. কাঁঠাল
প্রশ্নটা বাংলাদেশের জাতীয় ফল জানতে চেয়েছে। উত্তর কাঁঠাল।
জাতীয় প্রতীকের প্রশ্ন সাধারণত একসঙ্গে আসে, তাই পুরো তালিকাটি শিখে রাখা ভালো: জাতীয় ফল কাঁঠাল, ফুল শাপলা, বৃক্ষ আমগাছ, পাখি দোয়েল, পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগার, মাছ ইলিশ।
আম বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ। আমগাছ জাতীয় বৃক্ষ, কিন্তু আম জাতীয় ফল নয়; গাছ আর ফল আলাদা করে মনে রাখুন।
কলা ও পেঁপে দেশে প্রচুর জন্মালেও এগুলো জাতীয় প্রতীক নয়।
মনে রাখুন: গাছ আম, ফল কাঁঠাল।
৫৬৪. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক১৯১১ সালে
- খ১৯২১ সালে
- গ১৯৩১ সালে
- ঘ১৯৪১ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২১ সালে
প্রশ্নটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠার সাল যাচাই করছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯২১ সালের ১ জুলাই; প্রথম উপাচার্য ছিলেন পি জে হার্টগ।
এর পেছনের ইতিহাসটা জানলে সাল ভোলা কঠিন। ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গে পূর্ববঙ্গ আলাদা প্রদেশ হয়, কিন্তু ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ করা হয়। পূর্ববঙ্গের মানুষের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১৯১২ সালে ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা আসে।
এরপর প্রস্তুতি ও আইন পাসের কাজ চলে, আর শেষ পর্যন্ত ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম শুরু হয়।
ফাঁদ হলো ১৯১১। ওই বছর বঙ্গভঙ্গ রদ হয়, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের পটভূমি; প্রতিষ্ঠা হয় ঠিক দশ বছর পরে।
মনে রাখুন: বঙ্গভঙ্গ রদের ঠিক ১০ বছর পর: ১৯১১ যোগ ১০ সমান ১৯২১।
৫৬৫. বাংলাদেশে কয়টি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৪১ টি
- খ২৪ টি
- গ৩৪ টি
- ঘ৫০ টি
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৩৪ টি। এখন: ৫৮টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় (ইউজিসি বাজেট, জুন ২০২৬)।
প্রশ্নটা ২০০৯ সালে দেশের সরকারি বা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। এই প্রশ্নব্যাংকের গৃহীত উত্তর ৩৪টি, তবে বিভিন্ন সমাধানে উত্তর ভিন্ন এবং অনেকে প্রশ্নটিকে বাতিল ধরেন।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সরকারের অর্থে চলে এবং এদের তদারকি করে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন। নতুন বিশ্ববিদ্যালয় আইন পাস হলেই সংখ্যা বাড়ে, তাই এই সংখ্যা প্রতি বছর বদলাতে পারে।
এ ধরনের সময়নির্ভর সংখ্যার প্রশ্নে পরীক্ষার বছরের সবচেয়ে কাছের হিসাবটি বেছে নিতে হয়। আজকের সংখ্যা পরীক্ষার সময়ের চেয়ে অনেক বেশি।
চব্বিশ বিকল্পটি কোনো সমাধানেই উত্তর হিসেবে ধরা হয়নি, আর পঞ্চাশ পরীক্ষার সময়ের তুলনায় অনেক বেশি; সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা পঞ্চাশের কাছে পৌঁছায় অনেক পরে।
মনে রাখুন: সংখ্যার প্রশ্নে পরীক্ষার বছর মিলিয়ে দেখুন।
৫৬৬. বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কলর্ড কার্জন
- খলর্ড ওয়েলেসলি
- গলর্ড ডালহৌসি
- ঘলর্ড মাউন্টব্যাটেন
সঠিক উত্তর: ক. লর্ড কার্জন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ১৯০৫ সালের বঙ্গভঙ্গের সময় ভারতের গভর্নর জেনারেল কে ছিলেন। উত্তর লর্ড কার্জন, যিনি একই সঙ্গে ভাইসরয় ছিলেন।
প্রশাসনিক সুবিধার কথা বলে কার্জন বাংলা প্রদেশ ভাগ করে পূর্ববঙ্গ ও আসাম নামে নতুন প্রদেশ গঠন করেন, যার রাজধানী হয় ঢাকা। বঙ্গভঙ্গ কার্যকর হয় ১৯০৫ সালের ১৬ অক্টোবর।
তীব্র আন্দোলনের মুখে ১৯১১ সালে লর্ড হার্ডিঞ্জের সময় বঙ্গভঙ্গ রদ হয়। তাই বঙ্গভঙ্গ মানে কার্জন, রদ মানে হার্ডিঞ্জ।
বিকল্পের অন্য তিনজন অন্য সময়ের: ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতার জন্য, ডালহৌসি স্বত্ববিলোপ নীতির জন্য, আর মাউন্টব্যাটেন শেষ ভাইসরয় হিসেবে পরিচিত।
মনে রাখুন: বঙ্গভঙ্গ কার্জন, রদ হার্ডিঞ্জ।
৫৬৭. অপশনগুলোর মধ্যে ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন পরিষদ কোনটি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কসেন্টমার্টিন
- খসাতগ্রাম
- গমুজিবনগর
- ঘচৌদ্দগ্রাম
সঠিক উত্তর: ক. সেন্টমার্টিন
প্রশ্নটা বিকল্পগুলোর মধ্যে আয়তনে ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন পরিষদ জানতে চেয়েছে। উত্তর কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন।
পুরো সেন্টমার্টিন দ্বীপ মিলেই একটি ইউনিয়ন, আয়তন প্রায় ৮ বর্গকিলোমিটার। এ কারণে এটি দেশের ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন হিসেবে পরিচিত।
ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে নিচের স্তর। তাই কোনো নাম ইউনিয়নের, নাকি উপজেলার, সেটি আগে যাচাই করুন।
চৌদ্দগ্রাম কুমিল্লার একটি উপজেলা, আর মুজিবনগর মেহেরপুরের একটি উপজেলা। উপজেলা অনেকগুলো ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত, তাই সেগুলো ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন হতে পারে না।
মনে রাখুন: সেন্টমার্টিন একসঙ্গে দ্বীপ, ইউনিয়ন আর ক্ষুদ্রতম ইউনিয়ন।
৫৬৮. বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ কোনটি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কভারত
- খশ্রীলংকা
- গমায়ানমার
- ঘরাশিয়া
সঠিক উত্তর: ক. ভারত
প্রশ্নটা বিকল্পগুলোর মধ্যে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতিদানকারী দেশ জানতে চেয়েছে। উত্তর ভারত, যে ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর স্বীকৃতি দেয়।
একই দিনে ভুটানও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়, এবং কিছু উৎসে ভুটানকে প্রথম বলা হয়। তবে ভুটান এই প্রশ্নের বিকল্পে নেই, তাই এখানে উত্তর ভারত।
অন্য দেশগুলোর স্বীকৃতি আসে স্বাধীনতার পরে। মিয়ানমার ১৯৭২ সালের ১৩ জানুয়ারি, সোভিয়েত ইউনিয়ন ২৪ জানুয়ারি, আর শ্রীলঙ্কা ৪ মার্চ স্বীকৃতি দেয়।
রাশিয়া বিকল্পটি মুক্তিযুদ্ধে সোভিয়েত সমর্থনের কারণে বিভ্রান্তিকর; সমর্থন যুদ্ধের সময় থাকলেও আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আসে ১৯৭২ সালে।
মনে রাখুন: বিজয়ের দশ দিন আগে, ৬ ডিসেম্বর, ভারত ও ভুটান।
৫৬৯. বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম কি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কসৈয়দ নজরুল ইসলাম
- খতাজউদ্দিন আহমেদ
- গশেখ মুজিবুর রহমান
- ঘক্যাপটেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর: গ. শেখ মুজিবুর রহমান
প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতির নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর শেখ মুজিবুর রহমান।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত প্রবাসী সরকার, যা মুজিবনগর সরকার নামে পরিচিত, শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করে। ১৭ এপ্রিল মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় এই সরকার শপথ নেয়।
শেখ মুজিব তখন পাকিস্তানে বন্দি ছিলেন, তাই উপরাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, অর্থমন্ত্রী ক্যাপ্টেন মনসুর আলী।
সৈয়দ নজরুল ইসলাম বিকল্পটি প্রধান ফাঁদ, কারণ তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন; কিন্তু তিনি ছিলেন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, প্রথম রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিব।
মনে রাখুন: মুজিবনগর সরকারের চার পদ, চার নাম: রাষ্ট্রপতি মুজিব, অস্থায়ী নজরুল, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন, অর্থ মনসুর।
৫৭০. সুলতানী আমলে বাংলার রাজধানীর নাম কি? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কসোনারগাঁ
- খজাহাঙ্গীরনগর
- গঢাকা
- ঘগৌড়
সঠিক উত্তর: ঘ. গৌড়
প্রশ্নটা সুলতানি আমলে বাংলার রাজধানীর নাম জানতে চেয়েছে। এই প্রশ্নের প্রচলিত উত্তর গৌড়, যার আরেক নাম লখনৌতি।
সুলতানি আমলের বেশির ভাগ সময়, বিশেষ করে হোসেনশাহী আমলে, বাংলার রাজধানী ছিল গৌড়। ইলিয়াস শাহী আমলে কিছুকাল পাণ্ডুয়াও রাজধানী ছিল।
সোনারগাঁও স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনায় ফখরুদ্দিন মোবারক শাহের রাজধানী ছিল, তবে তা মূলত পূর্ব বাংলার কেন্দ্র। তাই সব সময়ের প্রধান রাজধানী হিসেবে গৌড়কেই ধরা হয়।
জাহাঙ্গীরনগর আর ঢাকা একই শহর, এবং তা মুঘল আমলের রাজধানী, সুলতানি আমলের নয়। দুটি বিকল্প একই উত্তর বোঝায় বলে দুটোই বাদ।
মনে রাখুন: একই শহরের দুই নাম, ঢাকা ও জাহাঙ্গীরনগর, একসঙ্গে বিকল্পে থাকলে দুটোই বাদ।
৫৭১. বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কশেখ মুজিবুর রহমান
- খজেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
- গতাজউদ্দিন আহমেদ
- ঘক্যাপটেন মনসুর আলী
সঠিক উত্তর: খ. জেনারেল আতাউল গণি ওসমানি
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশ বাহিনীর প্রধান সেনাপতির নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর মুহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী।
মুক্তিযুদ্ধ শুরুর সময় ওসমানী ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল। মুজিবনগর সরকার তাঁকে প্রধান সেনাপতি নিয়োগ দেয়, আর স্বাধীনতার পর তাঁকে জেনারেল পদমর্যাদা দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর সামরিক নেতৃত্ব আলাদা করে মনে রাখুন। শেখ মুজিবুর রহমান রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী, মনসুর আলী অর্থমন্ত্রী, আর যুদ্ধ পরিচালনায় প্রধান সেনাপতি ওসমানী।
রাষ্ট্রপতি সাংবিধানিকভাবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বাধিনায়ক হন বলে অনেকে শেখ মুজিবকে বেছে নেন; কিন্তু যুদ্ধক্ষেত্রের প্রধান সেনাপতি ছিলেন ওসমানী।
মনে রাখুন: যুদ্ধের প্রশ্নে সামরিক পদ, সরকারের প্রশ্নে রাজনৈতিক পদ খুঁজুন।
৫৭২. পার্বত্য চট্টগ্রামে কয়টি জেলা আছে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৩ টি
- খ৫ টি
- গ৭ টি
- ঘ৯ টি
সঠিক উত্তর: ক. ৩ টি
প্রশ্নটা পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলার সংখ্যা জানতে চেয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা: রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান।
একসময় পুরো অঞ্চলটি একটি জেলা ছিল, পরে প্রশাসনিক পুনর্বিন্যাসে তিনটি জেলায় ভাগ হয়। এই তিন জেলা চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত।
তিন জেলার মধ্যে রাঙামাটি আয়তনে দেশের বৃহত্তম জেলা। কাপ্তাই হ্রদ এই জেলাতেই।
চট্টগ্রাম বিভাগের মোট জেলা ১১টি; বিভাগের জেলার সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা গুলিয়ে ফেললে বড় সংখ্যাগুলো বেছে নেওয়ার ঝুঁকি থাকে।
মনে রাখুন: রাঙা খাগড়া বান: তিন পাহাড়ি জেলা।
৫৭৩. ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয় কে ছিলেন? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কলর্ড কার্জন
- খলর্ড মাউন্টব্যাটেন
- গলর্ড বেন্টিঙ্ক
- ঘলর্ড ওয়াভেল
সঠিক উত্তর: খ. লর্ড মাউন্টব্যাটেন
প্রশ্নটা ব্রিটিশ ভারতের শেষ ভাইসরয়ের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর লর্ড মাউন্টব্যাটেন।
১৯৪৭ সালে তাঁর সময়েই ভারত ভাগ হয়ে ভারত ও পাকিস্তান দুটি স্বাধীন রাষ্ট্র হয়। স্বাধীনতার পর তিনি স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন, আর পাকিস্তানের প্রথম গভর্নর জেনারেল হন মুহম্মদ আলী জিন্নাহ।
মাউন্টব্যাটেনের ঠিক আগের ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ওয়াভেল। লর্ড বেন্টিঙ্ক ১৮২৯ সালে সতীদাহ প্রথা বিলোপের জন্য এবং ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল হিসেবে পরিচিত।
ওয়াভেল বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ তিনি শেষের দিকের ভাইসরয়, কিন্তু শেষজন নন।
মনে রাখুন: শেষ ভাইসরয় আর স্বাধীন ভারতের প্রথম গভর্নর জেনারেল একই ব্যক্তি: মাউন্টব্যাটেন।
৫৭৪. মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৪ টি
- খ৭ টি
- গ১১ টি
- ঘ১৪ টি
সঠিক উত্তর: গ. ১১ টি
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধে সামরিক পরিচালনার জন্য দেশকে কয়টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ১১টি সেক্টর।
প্রতিটি সেক্টরের দায়িত্বে একজন সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, আর সেক্টরগুলো আবার কয়েকটি সাব-সেক্টরে ভাগ ছিল। দশ নম্বর সেক্টর ছিল নৌ কমান্ডোদের জন্য, এর কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকা ছিল না।
সেক্টরের পাশাপাশি তিনটি ব্রিগেড ফোর্সও গঠিত হয়েছিল: জেড ফোর্স, কে ফোর্স ও এস ফোর্স, অধিনায়কদের নামের আদ্যক্ষর অনুযায়ী।
তিনটি ফোর্সের সংখ্যা বা অন্য কাছাকাছি সংখ্যা দেখে বিভ্রান্ত হওয়া স্বাভাবিক; সেক্টর এগারোটি, ফোর্স তিনটি।
মনে রাখুন: এগারো সেক্টর, তিন ফোর্স, দশ নম্বর নৌ সেক্টর।
৫৭৫. গৌড়ের সোনা মসজিদ কার আমলে নির্মিত হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কফখরুদ্দিন মোবারক শাহ
- খহোসেন শাহ্
- গশায়েস্তা খাঁ
- ঘঈশা খাঁ
সঠিক উত্তর: খ. হোসেন শাহ্
প্রশ্নটা গৌড়ের সোনা মসজিদ কোন শাসকের আমলে নির্মিত, তা জানতে চেয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে অবস্থিত ছোট সোনা মসজিদ সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের আমলে নির্মিত।
হোসেন শাহ ১৪৯৩ থেকে ১৫১৯ সাল পর্যন্ত বাংলা শাসন করেন, আর তাঁর সময়কে বাংলার সুলতানি আমলের স্বর্ণযুগ বলা হয়। মসজিদটির গম্বুজ একসময় সোনালি রঙে ঝলমল করত বলে এর নাম সোনা মসজিদ; একে গৌড়ের রত্নও বলা হয়।
বিকল্পের শাসকদের আমল মিলিয়ে নিলেই উত্তর পরিষ্কার হয়। ফখরুদ্দিন মোবারক শাহ স্বাধীন সুলতানি যুগের সূচনাকারী, শায়েস্তা খাঁ মুঘল সুবাদার, আর ঈশা খাঁ বারো ভূঁইয়াদের নেতা।
শায়েস্তা খাঁ ঢাকার অনেক স্থাপনার সঙ্গে যুক্ত বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন; কিন্তু গৌড়ের সোনা মসজিদ সুলতানি আমলের স্থাপনা।
মনে রাখুন: সুলতানি আমলের স্থাপনা হলে মুঘল সুবাদারের নাম বাদ।
৫৭৬. কোন গোষ্ঠী থেকে বাঙালি জাতির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কনেগ্রিটো
- খভোটচীন
- গদ্রাবিড়
- ঘঅস্ট্রিক
সঠিক উত্তর: ঘ. অস্ট্রিক
প্রশ্নটা বাঙালি জাতির নৃতাত্ত্বিক উৎস জানতে চেয়েছে। নৃতাত্ত্বিকদের মতে বাঙালির প্রধান অংশ গড়ে উঠেছে অস্ট্রিক জনগোষ্ঠী থেকে, যাদের আদি-অস্ট্রেলীয় বা নিষাদ জাতিও বলা হয়।
বাঙালি একটি সংকর জাতি। অস্ট্রিকদের মূল ভিত্তির সঙ্গে পরে দ্রাবিড়, ভোটচীনীয় বা মঙ্গোলীয় এবং আর্যদের রক্তের মিশ্রণ ঘটেছে।
বাংলা ভাষার অনেক পুরোনো শব্দ এবং ধান চাষভিত্তিক গ্রামীণ জীবনের ধারায় অস্ট্রিক প্রভাব দেখা যায়, তাই তাদেরকেই প্রধান ভিত্তি ধরা হয়।
দ্রাবিড় বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ দ্রাবিড়রাও বাঙালির গঠনে মিশেছে; কিন্তু প্রধান অংশ অস্ট্রিক।
মনে রাখুন: বাঙালির মূল অস্ট্রিক, বাকিরা পরে মিশেছে।
৫৭৭. ঢাকায় সর্বপ্রথম কবে বাংলার রাজধানী স্থাপিত হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১২০৬ খ্রিস্টাব্দে
- খ১৩১০ খ্রিস্টাব্দে
- গ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
- ঘ১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে
সঠিক উত্তর: গ. ১৬১০ খ্রিস্টাব্দে
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ঢাকা প্রথম কবে বাংলার রাজধানী হয়। ১৬১০ সালে মুঘল সুবাদার ইসলাম খান রাজমহল থেকে রাজধানী ঢাকায় আনেন।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের নামে ইসলাম খান ঢাকার নাম রাখেন জাহাঙ্গীরনগর। বারো ভূঁইয়াদের দমন এবং পূর্ব বাংলার নদীপথ নিয়ন্ত্রণে রাখার সুবিধার জন্য ঢাকাকে বেছে নেওয়া হয়েছিল।
বিকল্পের অন্য সালগুলো অন্য ঘটনার। ১২০৬ সালে দিল্লিতে সুলতানি শাসন শুরু হয়, আর ১৫২৬ সালে পানিপথের প্রথম যুদ্ধে মুঘল শাসনের সূচনা।
১৫২৬ সালটি মুঘল শাসনের সঙ্গে যুক্ত বলে অনেকে বেছে নেন; কিন্তু মুঘলরা বাংলায় শক্ত অবস্থান নেয় অনেক পরে, আর ঢাকা রাজধানী হয় ১৬১০ সালে।
মনে রাখুন: ইসলাম খান, জাহাঙ্গীরনগর, ১৬১০: তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
৫৭৮. ঐতিহাসিক ২১-দফা দাবীর প্রথম দাবীটি কি ছিল? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
- খপ্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন
- গপূর্ববাংলার অর্থনৈতিক বৈষম্য দূরীকরণ
- ঘবিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারী উচ্ছেদ
সঠিক উত্তর: ক. বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষা
প্রশ্নটা ১৯৫৪ সালের প্রাদেশিক নির্বাচনে যুক্তফ্রন্টের ২১ দফার প্রথম দফা জানতে চেয়েছে। প্রথম দফা ছিল বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করা।
ভাষা আন্দোলনের মাত্র দুই বছর পরে এই নির্বাচন হয়, তাই ভাষার দাবিকেই এক নম্বরে রাখা হয়েছিল। যুক্তফ্রন্টের নির্বাচনী প্রতীক ছিল নৌকা।
বিকল্পের অন্য দাবিগুলোর মধ্যে বিনা ক্ষতিপূরণে জমিদারি উচ্ছেদ ছিল দ্বিতীয় দফা, আর লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন ছিল উনিশ নম্বর দফা।
বিকল্পগুলো সবই সে সময়ের পরিচিত দাবি হওয়ায় এখানে ফাঁদ হলো ক্রম গুলিয়ে ফেলা। কোন দাবি কত নম্বরে, সেটিই পরীক্ষা করা হচ্ছে।
মনে রাখুন: ভাষা আন্দোলনের পরের নির্বাচন, তাই এক নম্বরে ভাষা।
৫৭৯. অপরাজেয় বাংলা কবে উদ্বোধন করা হয়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
- খ২৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
- গ১ জানুয়ারি ১৯৮০
- ঘ২১ ফেব্রুয়ারি ১৯৮০
সঠিক উত্তর: ক. ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯
প্রশ্নটা অপরাজেয় বাংলা ভাস্কর্যের উদ্বোধনের তারিখ জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭৯।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলাভবনের সামনে অবস্থিত এই ভাস্কর্যের শিল্পী সৈয়দ আব্দুল্লাহ খালিদ। এতে তিনজন মুক্তিযোদ্ধার মূর্তি আছে, যাঁদের একজন নারী; এটি মুক্তিযুদ্ধে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণের প্রতীক।
মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বিজয় দিবসে উদ্বোধন করা খুব স্বাভাবিক। তাই তারিখের প্রশ্নে বিজয় দিবস ১৬ ডিসেম্বর মাথায় রাখলে উত্তর দ্রুত মেলে।
একুশে ফেব্রুয়ারি বিকল্পটি ভাষা আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত, আর ২৬ ডিসেম্বর তারিখটি বিজয় দিবসের সঙ্গে মিল রেখে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য, উদ্বোধন বিজয় দিবসে।
৫৮০. জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা কত? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৪৬.৫ মি
- খ৪৬ মি
- গ৪৫.৫ মি
- ঘ৪৫ মি
সঠিক উত্তর: খ. ৪৬ মি
প্রশ্নটা সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধের উচ্চতা জানতে চেয়েছে। স্মৃতিসৌধের উচ্চতা ১৫০ ফুট, মিটারে প্রায় ৪৬ মিটার।
ফুটকে মিটারে নিতে ০ দশমিক ৩০৪৮ দিয়ে গুণ করতে হয়। ১৫০ গুণ ০ দশমিক ৩০৪৮ সমান ৪৫ দশমিক ৭২ মিটার, যা পূর্ণসংখ্যায় ৪৬ মিটার।
স্মৃতিসৌধে সাত জোড়া ত্রিভুজাকার দেয়াল আছে, যেগুলো স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ পর্বের প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়। এর স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।
অনেক বইয়ে ৪৬ দশমিক ৫ মিটার লেখা থাকে, তাই সেটি বড় ফাঁদ; কিন্তু ১৫০ ফুট হিসাব করলে ৪৫ দশমিক ৭২ মিটার আসে, যার নিকটতম বিকল্প ৪৬ মিটার।
মনে রাখুন: ফুট থেকে মিটার: মোটামুটি ৩.২৮ দিয়ে ভাগ করুন; ১৫০ ÷ ৩.২৮ ≈ ৪৫.৭, মানে প্রায় ৪৬ মিটার।