বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২৮
৫৪১. বাংলাদেশের রাজধানী কোথায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঢাকা উত্তর
- খঢাকা দক্ষিণ
- গঢাকা
- ঘশেরে বাংলা নগর
সঠিক উত্তর: গ. ঢাকা
সংবিধানের ৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের রাজধানী ঢাকা। তাই সঠিক উত্তর ঢাকা।
২০১১ সালে প্রশাসনিক সুবিধার জন্য ঢাকা সিটি করপোরেশনকে ভাগ করে ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন করা হয়। এগুলো স্থানীয় সরকারের ইউনিট, আলাদা রাজধানী নয়।
শেরেবাংলা নগর ঢাকার একটি এলাকা, যেখানে জাতীয় সংসদ ভবন অবস্থিত। এলাকাটি রাজধানীর অংশ, রাজধানী নিজে নয়।
প্রশ্নটি সিটি করপোরেশন ভাগের পরপর এসেছিল, তাই উত্তর বা দক্ষিণ বেছে নেওয়ার ফাঁদ তৈরি হয়েছিল।
মনে রাখুন: রাজধানী সংবিধানে লেখা: ঢাকা; সিটি করপোরেশনের ভাগ রাজধানীকে ভাগ করে না।
৫৪২. শিল্পী জয়নুল আবেদিনের সংগ্রহশালাটি কোথায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কঢাকায়
- খময়মনসিংহে
- গচট্টগ্রামে
- ঘনড়াইলে
সঠিক উত্তর: খ. ময়মনসিংহে
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন সংগ্রহশালা ময়মনসিংহ শহরে, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে অবস্থিত। এটি ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
জয়নুল আবেদিনের শৈশব কেটেছে ময়মনসিংহে, ব্রহ্মপুত্রের তীরে। তাঁর অনেক ছবিতে এই নদ ও তার পাড়ের জীবন ফুটে উঠেছে, তাই সংগ্রহশালাটি এখানেই গড়া হয়।
নড়াইলে আছে শিল্পী এস এম সুলতানের সংগ্রহশালা, কারণ সুলতানের জন্ম ও জীবনের বড় অংশ সেখানে। ঢাকায় জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে চারুকলা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল, কিন্তু তাঁর নামের সংগ্রহশালা ময়মনসিংহে।
ফাঁদ হলো ঢাকা বিকল্পটি, কারণ জয়নুলের কর্মজীবনের কেন্দ্র ছিল ঢাকা।
মনে রাখুন: জয়নুল ময়মনসিংহ, সুলতান নড়াইল।
৫৪৩. বাংলাদেশের কোন ছবি সম্প্রতি ‘কোলকাতা ফিল্ম ফেস্টিভাল’ পুরস্কার লাভ করে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কওরা এগার জন
- খগেরিলা
- গআবার তোরা মানুষ হ
- ঘস্টপ জেনোসাইড
সঠিক উত্তর: খ. গেরিলা
প্রশ্নটি সম্প্রতির কথা বলেছে, অর্থাৎ পরীক্ষার কাছাকাছি সময়ের ছবি। নাসির উদ্দীন ইউসুফ পরিচালিত গেরিলা ২০১১ সালে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার পায়।
গেরিলা মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র, সৈয়দ শামসুল হকের উপন্যাস নিষিদ্ধ লোবান অবলম্বনে নির্মিত। ছবিটি দেশেও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে শ্রেষ্ঠ ছবিসহ অনেক পুরস্কার পায়।
বাকি তিনটি ছবিও মুক্তিযুদ্ধের, কিন্তু অনেক পুরোনো। ওরা এগারো জন ১৯৭২ সালের, চাষী নজরুল ইসলামের। আবার তোরা মানুষ হ ১৯৭৩ সালের, খান আতাউর রহমানের। স্টপ জেনোসাইড ১৯৭১ সালে জহির রায়হানের প্রামাণ্যচিত্র।
সম্প্রতি শব্দটিই এখানে চাবিকাঠি; পুরোনো বিখ্যাত ছবি দেখে বিভ্রান্ত হওয়াই ফাঁদ।
মনে রাখুন: সম্প্রতি থাকলে সবচেয়ে নতুন ছবিটি খুঁজুন।
৫৪৪. বাংলাদেশের আপীল বিভাগের মোট বিচারক কতজন? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১১
- খ২১
- গ৯
- ঘ১৫
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ১১। এখন: প্রধান বিচারপতিসহ ৫ জন (আগস্ট ২০২৬)।
প্রশ্নের সময় প্রচলিত উত্তর ছিল প্রধান বিচারপতিসহ ১১ জন। পরীক্ষার সময় আপিল বিভাগে বিচারকের এই সংখ্যাই ধরা হতো।
সংবিধানের ৯৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দুটি বিভাগ: আপিল বিভাগ ও হাইকোর্ট বিভাগ। প্রধান বিচারপতি ছাড়া কতজন বিচারক থাকবেন, তা রাষ্ট্রপতি প্রয়োজন অনুযায়ী ঠিক করেন; সংবিধানে নির্দিষ্ট সংখ্যা লেখা নেই।
তাই এ ধরনের প্রশ্নের উত্তর সময়ের সঙ্গে বদলায়। পরীক্ষায় এলে প্রশ্নের সময়ের প্রচলিত সংখ্যা মনে রাখতে হয়।
ফাঁদ হলো সংবিধানে নির্দিষ্ট সংখ্যা আছে ভেবে নেওয়া। সংখ্যা আসলে রাষ্ট্রপতির নিয়োগের উপর নির্ভর করে।
মনে রাখুন: বিচারকের সংখ্যা স্থির নয়; প্রশ্নের সময়ের তথ্য মনে রাখুন।
৫৪৫. বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘর কোথায় অবস্থিত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কময়নামতি
- খসোনারগাঁ
- গঢাকা
- ঘপাহাড়পুর
সঠিক উত্তর: খ. সোনারগাঁ
প্রশ্নটা বাংলাদেশের লোকশিল্প জাদুঘরের অবস্থান জানতে চেয়েছে। জাদুঘরটি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে অবস্থিত।
শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের উদ্যোগে ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। এই ফাউন্ডেশনের অধীনে সোনারগাঁয়ে লোকশিল্প জাদুঘর গড়ে ওঠে, যেখানে দেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প সংরক্ষিত আছে।
সোনারগাঁ বেছে নেওয়ার পেছনে ইতিহাসও আছে: এটি বাংলার এক প্রাচীন রাজধানী এবং মসলিনের মতো কারুশিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল।
ময়নামতি ও পাহাড়পুরেও জাদুঘর আছে, তাই সেগুলো ফাঁদ; কিন্তু সেগুলো প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের জাদুঘর, লোকশিল্পের নয়।
মনে রাখুন: লোকশিল্প মানে সোনারগাঁ, প্রত্নতত্ত্ব মানে ময়নামতি ও পাহাড়পুর।
৫৪৬. জাতিসংঘের জনসংখ্যা সংক্রান্ত রিপোর্ট ১৯৯৪ অনুযায়ী জনসংখ্যার দিক দিয়ে বাংলাদেশের স্থান কত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কসপ্তম
- খনবম
- গএকাদশ
- ঘত্রয়োদশ
সঠিক উত্তর: খ. নবম
প্রশ্নটা জাতিসংঘের ১৯৯৪ সালের জনসংখ্যা প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অবস্থান জানতে চেয়েছে। সেই প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশ ছিল নবম।
তখন শীর্ষ পাঁচে ছিল চীন, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রাজিল। এরপর রাশিয়া, পাকিস্তান ও জাপান, আর তার পরেই বাংলাদেশ।
পরের দশকে জাপানের জনসংখ্যা প্রায় স্থির থাকে, কিন্তু বাংলাদেশের জনসংখ্যা বাড়তে থাকে। তাই পরের হিসাবগুলোতে বাংলাদেশ ওপরের দিকে উঠে আসে।
প্রশ্নে নির্দিষ্ট বছর উল্লেখ আছে, তাই আজকের ক্রম দিয়ে উত্তর দিলে ভুল হবে; ১৯৯৪ সালের হিসাবে উত্তর নবম।
মনে রাখুন: প্রশ্নে বছর থাকলে সেই বছরের ক্রমই উত্তর।
৫৪৭. ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কবে প্রতিষ্ঠিত হয়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৯২১
- খ১৯২৫
- গ১৯২৯
- ঘ১৯৩৩
সঠিক উত্তর: ক. ১৯২১
প্রশ্নটা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার সাল জানতে চেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়টি ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর পটভূমি বঙ্গভঙ্গ। ১৯১১ সালে বঙ্গভঙ্গ রদ হলে পূর্ববঙ্গের মানুষের ক্ষোভ প্রশমনে ঢাকায় একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ১৯১২ সালে এ নিয়ে নাথান কমিশন গঠিত হয়।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধসহ নানা কারণে কাজ পিছিয়ে যায়, শেষে ১৯২১ সালে বিশ্ববিদ্যালয়টি যাত্রা শুরু করে। প্রথম উপাচার্য ছিলেন স্যার ফিলিপ জোসেফ হার্টগ।
ঘটনাক্রম মনে রাখলে বাকি সালগুলো সহজে বাদ পড়ে: পাঁচে বঙ্গভঙ্গ, এগারোতে রদ, একুশে বিশ্ববিদ্যালয়।
মনে রাখুন: পাঁচ, এগারো, একুশ: ভাঙা, জোড়া, বিশ্ববিদ্যালয়।
৫৪৮. বাংলাদেশের সংবিধানের কত অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন গঠিত হয়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৩৭
- খ১৩৮
- গ১৪৭
- ঘ১৫০
সঠিক উত্তর: ক. ১৩৭
প্রশ্নটা সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন গঠনের কথা আছে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর অনুচ্ছেদ ১৩৭।
সংবিধানের নবম ভাগে বাংলাদেশের কর্মবিভাগ নিয়ে আলোচনা আছে, আর তার দ্বিতীয় পরিচ্ছেদে সরকারি কর্ম কমিশন। অনুচ্ছেদ ১৩৭ কমিশন প্রতিষ্ঠার কথা বলে, ১৩৮ সদস্য নিয়োগের, আর ১৪০ কমিশনের দায়িত্বের।
সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের অনুচ্ছেদ জোড়া বেঁধে মনে রাখুন। যেমন নির্বাচন কমিশন অনুচ্ছেদ ১১৮, সরকারি কর্ম কমিশন অনুচ্ছেদ ১৩৭।
১৩৮ বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ এটিও কর্ম কমিশনের অনুচ্ছেদ; কিন্তু এতে সদস্য নিয়োগের কথা, গঠনের নয়।
মনে রাখুন: এক তিন সাতে কমিশনের জন্ম, এক তিন আটে সদস্য।
৫৪৯. কে বাংলার সাল গণনা শুরু করেন? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কলক্ষ্মণ সেন
- খইলিয়াস শাহ্
- গবিজয় সেন
- ঘআকবর
সঠিক উত্তর: ঘ. আকবর
প্রশ্নটা বাংলা সন বা বঙ্গাব্দ কে চালু করেন, তা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত উত্তর মুঘল সম্রাট আকবর।
আকবরের সময়ে খাজনা আদায় হতো হিজরি চান্দ্রবর্ষ ধরে, কিন্তু চান্দ্রবর্ষ সৌরবর্ষের চেয়ে ছোট হওয়ায় ফসল তোলার মৌসুমের সঙ্গে মিলত না। তাই তিনি সৌরবর্ষভিত্তিক নতুন সন চালুর নির্দেশ দেন, যা ফসলি সন নামেও পরিচিত।
রাজজ্যোতিষী ফতেহউল্লাহ সিরাজী এই সন তৈরি করেন। আকবরের সিংহাসনে বসার বছর ১৫৫৬ সালের হিজরি সন ৯৬৩ থেকে গণনা শুরু ধরা হয়। কোনো কোনো গবেষক রাজা শশাঙ্ককে প্রবর্তক বলেন, তবে পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর আকবর।
বিকল্পের অন্য শাসকেরা বাংলার ইতিহাসে বিখ্যাত বলে বিভ্রান্তি তৈরি করে; কিন্তু তাঁদের কেউ বাংলা সন চালু করেননি।
মনে রাখুন: ফসলি সন মানে খাজনা, খাজনা মানে আকবর।
৫৫০. গম্ভীরা বাংলাদেশের কোন অঞ্চলের লোকসঙ্গীত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কচট্টগ্রাম
- খরাঙামাটি
- গচাঁপাইনবাবগঞ্জ
- ঘজামালপুর
সঠিক উত্তর: গ. চাঁপাইনবাবগঞ্জ
প্রশ্নটা গম্ভীরা গানের অঞ্চল জানতে চেয়েছে। গম্ভীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জ অঞ্চলের লোকসংগীত।
গম্ভীরায় সাধারণত নানা ও নাতির চরিত্রে দুজন শিল্পী সংলাপ ও গানের মাধ্যমে সমাজের নানা সমস্যা হাস্যরসের সঙ্গে তুলে ধরেন। তাই এটি একই সঙ্গে বিনোদন ও সমাজসমালোচনা।
লোকসংগীতের প্রশ্নে গান আর অঞ্চল জোড়া বেঁধে শিখুন: ভাওয়াইয়া রংপুর অঞ্চলের, ভাটিয়ালি ময়মনসিংহ ও ভাটি অঞ্চলের, মাইজভাণ্ডারী চট্টগ্রামের, আর গম্ভীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জের।
চট্টগ্রামের নিজস্ব লোকগানের ধারা আছে বলে অনেকে সেটিকে বেছে নেন; কিন্তু গম্ভীরা উত্তরবঙ্গের চাঁপাইনবাবগঞ্জের।
মনে রাখুন: নানা-নাতির গান শুনলেই চাঁপাইনবাবগঞ্জ।
৫৫১. বাংলাদেশে কয়টি উপজাতীয় প্রতিষ্ঠান আছে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক৮ টি
- খ৫ টি
- গ৪ টি
- ঘ৩ টি
সঠিক উত্তর: ক. ৮ টি
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে দেশে সরকারি উপজাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা জানতে চেয়েছে; ২০১০ সালের আইনের পর এগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান নামে পরিচিত। প্রচলিত উত্তর ৮টি।
এই প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ভাষা, সংগীত, নৃত্য ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও চর্চার জন্য কাজ করে। রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নেত্রকোনার বিরিশিরি, রাজশাহী এবং মৌলভীবাজারের প্রতিষ্ঠান এর পরিচিত উদাহরণ।
এগুলো যেসব অঞ্চলে ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর বসতি বেশি, সেখানেই গড়ে উঠেছে: পার্বত্য চট্টগ্রাম, বৃহত্তর ময়মনসিংহ, সিলেট ও উত্তরবঙ্গ।
পার্বত্য চট্টগ্রামে তিনটি জেলা থাকায় অনেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান ভেবে নেন; কিন্তু পাহাড়ের বাইরেও এমন প্রতিষ্ঠান আছে, তাই সংখ্যাটি বেশি।
মনে রাখুন: পাহাড়ের তিনটির সঙ্গে সমতলের প্রতিষ্ঠান যোগ করুন: মোট আট।
৫৫২. রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব কত? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক৬২৭ কি.মি.
- খ৫২৯ কি.মি.
- গ৪১২ কি.মি.
- ঘ৩০৭ কি.মি.
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: ৪১২ কি.মি.। এখন: পদ্মা সেতু হয়ে প্রায় ২১২ কিমি (ডিসেম্বর ২০২৪ থেকে)।
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে রেলপথে ঢাকা থেকে খুলনার দূরত্ব জানতে চেয়েছে। তখনকার প্রচলিত উত্তর প্রায় ৪১২ কিলোমিটার।
মাওয়া-জাজিরা দিয়ে পদ্মা পার হওয়ার কোনো রেলপথ তখন ছিল না। তাই ঢাকা থেকে খুলনার ট্রেন যমুনা নদীর ওপর যমুনা সেতু, তখনকার নাম বঙ্গবন্ধু সেতু, পার হয়ে ঈশ্বরদী যেত। সেখান থেকে পাকশীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ দিয়ে পদ্মা পার হয়ে যশোর হয়ে খুলনা।
এই উত্তর-পশ্চিম ঘুরপথের কারণে দূরত্ব সরাসরি দূরত্বের চেয়ে অনেক বেশি ছিল; চিত্রা এক্সপ্রেস এই পথে প্রায় ৪১২ কিলোমিটার চলে। সময়নির্ভর এমন প্রশ্নে কোন পথের দূরত্ব চাওয়া হয়েছে, তা বোঝা জরুরি।
ছোট সংখ্যার বিকল্পগুলো সরাসরি দূরত্বের ধারণা থেকে আকর্ষণীয় মনে হয়, কিন্তু তখনকার ঘুরপথে দূরত্ব ছিল প্রায় ৪১২ কিলোমিটার। হার্ডিঞ্জ ব্রিজও পদ্মার ওপরের রেলসেতু, তাই পদ্মায় কোনো রেলসেতুই ছিল না, এমন ভাবা ভুল।
মনে রাখুন: পরীক্ষার সময় মাওয়া-জাজিরায় রেলসেতু ছিল না, তাই যমুনা সেতু আর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ ঘুরে লম্বা পথ।
৫৫৩. নিম্নলিখিত কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ বর্তমানে সবচেয়ে বেশি সাহায্য পায়? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- খজাপান
- গদক্ষিণ কোরিয়া
- ঘজার্মানি
সঠিক উত্তর: খ. জাপান
প্রশ্নটা পরীক্ষার সময়ে কোন দেশ থেকে বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি সাহায্য পেত, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর জাপান।
উন্নয়ন সাহায্য দুই ধরনের: দ্বিপক্ষীয়, যা একটি দেশ সরাসরি দেয়, আর বহুপক্ষীয়, যা বিশ্বব্যাংক বা এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের মতো সংস্থা দেয়। প্রশ্নটি দেশের কথা জানতে চেয়েছে, তাই উত্তর দ্বিপক্ষীয় দাতাদের মধ্যে খুঁজতে হবে।
দ্বিপক্ষীয় দাতা দেশ হিসেবে জাপান দীর্ঘদিন ধরে শীর্ষে। যমুনা সেতুসহ বহু বড় অবকাঠামো প্রকল্পে জাপান অর্থায়ন করেছে।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বড় অর্থনীতি হওয়ায় অনেকে তাকে বেছে নেন; কিন্তু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় দাতা জাপান।
মনে রাখুন: দাতা দেশ জিজ্ঞেস করলে জাপান, দাতা সংস্থা জিজ্ঞেস করলে বিশ্বব্যাংক।
৫৫৪. বাংলাদেশ কোন সাল থেকে শান্তিরক্ষা বাহিনীতে কাজ করছে? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- ক১৯৮৮
- খ১৯৮৫
- গ১৯৭৫
- ঘ১৯৭৯
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৮৮
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাংলাদেশ কবে থেকে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছে। উত্তর ১৯৮৮ সাল।
১৯৮৮ সালে ইরান ও ইরাকের যুদ্ধবিরতি তদারকির জন্য জাতিসংঘ একটি সামরিক পর্যবেক্ষক দল গঠন করে, যার সংক্ষিপ্ত নাম ইউনিমগ। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর পর্যবেক্ষকেরা এই মিশনে যোগ দেন; এখান থেকেই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা যাত্রা শুরু।
এরপর বাংলাদেশ ধাপে ধাপে আফ্রিকা, এশিয়া ও ইউরোপের বহু মিশনে সৈন্য ও পুলিশ পাঠিয়েছে এবং শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি হয়ে উঠেছে।
ফাঁদ হলো ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ এর মতো সাল, যেগুলো দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে পরিচিত বলে চোখে পড়ে। কিন্তু শান্তিরক্ষার শুরু ইরান ইরাক মিশন দিয়ে, সেটি ১৯৮৮।
মনে রাখুন: ইরান ইরাক যুদ্ধ থামে ১৯৮৮ সালে, আর সেই যুদ্ধবিরতির মিশন দিয়েই বাংলাদেশের শান্তিরক্ষা শুরু।
৫৫৫. বখতিয়ার খিলজি বাংলা জয় করেন কোন সালে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক১২১২
- খ১২০০
- গ১২০৪
- ঘ১২১১
সঠিক উত্তর: গ. ১২০৪
প্রশ্নটা বখতিয়ার খিলজির বাংলা জয়ের সাল জানতে চেয়েছে। প্রচলিত পাঠ্য অনুযায়ী উত্তর ১২০৪ সাল।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি অল্প কয়েকজন অশ্বারোহী নিয়ে নদিয়া আক্রমণ করেন। সেন বংশের রাজা লক্ষ্মণ সেন পালিয়ে পূর্ববঙ্গের বিক্রমপুরে চলে যান।
এই জয়ের মাধ্যমে বাংলায় মুসলিম শাসনের সূচনা হয়, আর বখতিয়ার লখনৌতিকে শাসনকেন্দ্র করেন। কিছু ইতিহাসবিদ সালটিকে ১২০৫ বলেন, তবে পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর ১২০৪।
বখতিয়ার খিলজি ১২০৬ সালে মারা যান, তাই ১২১১ বা ১২১২ সাল তাঁর জয়ের সাল হতে পারে না। ১২০০ সাল জয়ের আগের, আর পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর ১২০৪।
মনে রাখুন: বারোশো চার: নদিয়া জয়, মুসলিম শাসনের শুরু।
৫৫৬. প্রাচীন চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম কি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কমালদ্বীপ
- খসন্দ্বীপ
- গহাতিয়া
- ঘবরিশাল
সঠিক উত্তর: ঘ. বরিশাল
প্রশ্নটা প্রাচীন জনপদ চন্দ্রদ্বীপের বর্তমান নাম জানতে চেয়েছে। চন্দ্রদ্বীপ হলো বর্তমান বরিশাল অঞ্চল।
প্রাচীন বাংলা কয়েকটি জনপদে ভাগ ছিল, আর প্রতিটির একটি বর্তমান অঞ্চল আছে। বরিশাল অঞ্চলের আরেকটি পুরোনো নাম বাকলা।
প্রাচীন জনপদের প্রশ্নে কয়েকটি জোড়া একসঙ্গে শিখুন: পুণ্ড্র মানে বগুড়া অঞ্চল, সমতট মানে কুমিল্লা ও নোয়াখালী অঞ্চল, হরিকেল মানে সিলেট ও চট্টগ্রাম অঞ্চল, চন্দ্রদ্বীপ মানে বরিশাল।
নামে দ্বীপ শব্দ আছে বলে অনেকে সন্দ্বীপ বা হাতিয়ার মতো দ্বীপ বেছে নেন; কিন্তু চন্দ্রদ্বীপ একটি জনপদ, যা বর্তমান বরিশাল।
মনে রাখুন: নামে দ্বীপ থাকলেও চন্দ্রদ্বীপ একটি জনপদ, বরিশাল।
৫৫৭. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের মনোগ্রামে কতটি তারকা চিহ্ন রয়েছে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক৪ টি
- খ৫ টি
- গ৬ টি
- ঘ২ টি
সঠিক উত্তর: ক. ৪ টি
প্রশ্নটা গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মনোগ্রামে কয়টি তারকা আছে, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর চারটি।
সরকারি মনোগ্রামে লাল বৃত্তের মাঝে বাংলাদেশের মানচিত্র থাকে। চারপাশের সাদা বলয়ে লেখা থাকে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার, আর সেই বলয়ে আছে চারটি লাল তারকা।
জাতীয় প্রতীকেও চারটি তারকা আছে, পাট পাতার দুই পাশে। জাতীয় প্রতীকের এই চার তারকাকে সংবিধানের চার মূলনীতির প্রতীক হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়।
মনোগ্রাম আর জাতীয় প্রতীক দুটোতেই তারকা চারটি, তাই এ ধরনের প্রশ্নে চার মনে রাখলেই চলে। পাঁচ বা ছয় বিকল্প অন্য দেশের প্রতীকের ধারণা থেকে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: মনোগ্রাম হোক বা জাতীয় প্রতীক, তারকা চারটি।
৫৫৮. বাংলাদেশের নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট কোথায়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কফরিদপুর
- খচাঁদপুর
- গচট্টগ্রাম
- ঘনারায়ণগঞ্জ
সঠিক উত্তর: ক. ফরিদপুর
প্রশ্নটা বাংলাদেশ নদী গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবস্থান জানতে চেয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি ফরিদপুরে অবস্থিত।
এই প্রতিষ্ঠান নদীর গতিপথ, ভাঙন, পলি এবং নদীশাসন নিয়ে হাতে-কলমে মডেল তৈরি করে গবেষণা করে। বাঁধ বা সেতুর মতো বড় অবকাঠামোর নকশার আগে এ ধরনের গবেষণা দরকার হয়।
জাতীয় গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবস্থান জোড়া বেঁধে মনে রাখুন। ধান গবেষণা গাজীপুরে, মৎস্য গবেষণার সদর দপ্তর ময়মনসিংহে, আর মৎস্য গবেষণার নদী কেন্দ্র চাঁদপুরে।
চাঁদপুর বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ সেখানে নদী শব্দযুক্ত একটি গবেষণা কেন্দ্র আছে; কিন্তু সেটি মাছের, নদী গবেষণা ইনস্টিটিউট ফরিদপুরে।
মনে রাখুন: নদী ফরিদপুরে, মাছের নদী কেন্দ্র চাঁদপুরে।
৫৫৯. বাংলাদেশের নির্বাহী বিভাগ থেকে বিচার বিভাগ কবে পৃথক করা হয়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক৩১-১০-০৭
- খ১-১১-০৭
- গ৩-১১-০৭
- ঘ১-১০-০৭
সঠিক উত্তর: খ. ১-১১-০৭
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বিচার বিভাগ কবে নির্বাহী বিভাগ থেকে পৃথক হয়। উত্তর ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর।
এর ভিত্তি মাসদার হোসেন মামলা। ১৯৯৯ সালে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ এই মামলার রায়ে নিম্ন আদালতকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করার জন্য সরকারকে কয়েকটি নির্দেশনা দেয়।
রায় কার্যকর হতে কয়েক বছর লেগে যায়। শেষ পর্যন্ত ২০০৭ সালের ১ নভেম্বর থেকে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারকাজ বিচার বিভাগের অধীনে আসে।
বিকল্পগুলো একই সময়ের কাছাকাছি তারিখ, তাই অক্টোবরের শেষ দিন বা নভেম্বরের তিন তারিখ দেখে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। মনে রাখুন, নতুন মাসের প্রথম দিন।
মনে রাখুন: নভেম্বরের প্রথম দিন, ২০০৭।
৫৬০. ৬-দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কঢাকা
- খলাহোর
- গদিল্লি
- ঘচট্টগ্রাম
সঠিক উত্তর: খ. লাহোর
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ছয় দফা দাবি কোথায় উত্থাপিত হয়। উত্তর পাকিস্তানের লাহোর।
১৯৬৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বিরোধী দলগুলোর এক সম্মেলনে শেখ মুজিবুর রহমান ছয় দফা পেশ করেন। পূর্ব পাকিস্তানের স্বায়ত্তশাসনের এই কর্মসূচিকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়।
লাহোর নামটি আরেকটি ঐতিহাসিক প্রস্তাবের সঙ্গেও জড়িত: ১৯৪০ সালে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন করেন। একই শহর, দুটি আলাদা ঘটনা, আলাদা বছর।
ঢাকা বিকল্পটি প্রধান ফাঁদ, কারণ ছয় দফা পূর্ব বাংলার দাবি এবং এর আন্দোলন ঢাকায় গড়ে ওঠে; কিন্তু দাবিটি প্রথম পেশ করা হয় লাহোরে।
মনে রাখুন: ছয় দফা ছেষট্টিতে লাহোরে; লাহোর প্রস্তাব চল্লিশে।