বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ২৭
৫২১. ১৯৭১ সনের কত তারিখে মুজিবনগরে স্বাধীন বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হয়? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক৭ মার্চ ১৯৭১ খৃঃ
- খ২৬ মার্চ ১৯৭১ খৃঃ
- গ১০ এপ্রিল ১৯৭১ খৃঃ
- ঘ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ খৃঃ
সঠিক উত্তর: গ. ১০ এপ্রিল ১৯৭১ খৃঃ
মুজিবনগর সরকার গঠিত হয় ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল। সেদিন স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র গৃহীত হয় এবং সরকারের কাঠামো ঠিক করা হয়।
এই সরকারে বঙ্গবন্ধু রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলাম উপরাষ্ট্রপতি ও অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দীন আহমদ প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। সাত দিন পর, ১৭ এপ্রিল, মেহেরপুরের বৈদ্যনাথতলায় সরকার শপথ নেয়।
গঠন আর শপথ গ্রহণ দুটি আলাদা তারিখ। ১০ এপ্রিল গঠন, ১৭ এপ্রিল শপথ; এই পার্থক্যই প্রশ্নের মূল বিষয়।
৭ মার্চ ভাষণের দিন, ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা, ১৬ ডিসেম্বর বিজয়। এগুলো পরিচিত তারিখ বলে বিভ্রান্ত করে।
মনে রাখুন: দশে গঠন, সতেরোতে শপথ।
৫২২. বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কত তারিখে জন্মগ্রহণ করেন? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক১ মার্চ ১৯১৯ খৃঃ
- খ১৭ মার্চ ১৯২০ খৃঃ
- গ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ খৃঃ
- ঘ২১ জুন ১৯৪১ খৃঃ
সঠিক উত্তর: খ. ১৭ মার্চ ১৯২০ খৃঃ
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। দিনটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হয়েছে।
তাঁর বাবা শেখ লুৎফর রহমান, মা সায়েরা খাতুন। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট তিনি সপরিবারে নিহত হন।
বিকল্পের ১৪ আগস্ট ১৯৪৭ হলো পাকিস্তানের স্বাধীনতার দিন। বাকি দুটি তারিখের সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর জন্মের সম্পর্ক নেই।
ফাঁদ হলো ১৯১৯ সাল; জন্মসাল এক বছর আগে বসিয়ে বিভ্রান্ত করা হয়েছে। মনে রাখুন ১৯২০, মার্চ মাস।
মনে রাখুন: মার্চ মাসে জন্ম, মার্চ মাসেই স্বাধীনতা: ১৭ মার্চ ও ২৬ মার্চ।
৫২৩. বহুল আলোচিত মুহুরীর চর কোন জেলায় অবস্থিত? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কনোয়াখালী
- খফেনী
- গলালমনিরহাট
- ঘসাতক্ষীরা
সঠিক উত্তর: খ. ফেনী
মুহুরীর চর ফেনী জেলার পরশুরাম অঞ্চলে, ভারতের ত্রিপুরা সীমান্তে মুহুরী নদীতে অবস্থিত।
নদীর গতিপথ বদলালে সীমানা কোথা দিয়ে যাবে, তা নিয়ে এই চরের মালিকানা নিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘদিন বিরোধ ছিল। তাই চরটি বহুল আলোচিত।
অন্য বিকল্পগুলোরও সীমান্ত বিরোধের ইতিহাস আছে। লালমনিরহাটে তিনবিঘা করিডোর ও দহগ্রাম আঙ্গরপোতা, সাতক্ষীরার কাছে দক্ষিণ তালপট্টি। এই মিলের কারণেই এগুলো বিকল্পে আছে।
ফাঁদ হলো নোয়াখালী, কারণ ফেনী আগে বৃহত্তর নোয়াখালীর অংশ ছিল।
মনে রাখুন: নদীর নাম মুহুরী, নদী ফেনী জেলায়: চরও ফেনীতে।
৫২৪. বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু হয় কত সনে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক১৯৪৭ খৃঃ
- খ১৯৫৮ খৃঃ
- গ১৯৬৪ খৃঃ
- ঘ১৯৬৫ খৃঃ
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৬৪ খৃঃ
বাংলাদেশ টেলিভিশনের যাত্রা শুরু ১৯৬৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর। তখন এটি পাকিস্তান টেলিভিশনের ঢাকা কেন্দ্র হিসেবে ঢাকার ডিআইটি ভবন থেকে সম্প্রচার শুরু করে।
স্বাধীনতার পর এর নাম হয় বাংলাদেশ টেলিভিশন। পরে রামপুরায় নিজস্ব ভবনে স্থানান্তর হয়, আর ১৯৮০ সালে রঙিন সম্প্রচার শুরু হয়।
১৯৪৭ সালে দেশভাগ হয়, তখন এই অঞ্চলে টেলিভিশন ছিল না। ১৯৬৫ সালে পাকিস্তান ও ভারতের যুদ্ধ হয়, টেলিভিশন তার আগের বছরেই চালু হয়।
ফাঁদ হলো ১৯৬৫, এক বছর পরের সাল। ডিসেম্বরের শেষে শুরু হওয়ায় অনেকে পরের বছর ভেবে ভুল করেন।
মনে রাখুন: টেলিভিশন ১৯৬৪, রঙিন ১৯৮০।
৫২৫. বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের প্রথম নির্বাচন কবে অনুষ্ঠিত হয়? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক৭ মার্চ ১৯৭৩ খৃঃ
- খ৭ এপ্রিল ১৯৭৩ খৃঃ
- গ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭২ খৃঃ
- ঘ৭ ডিসেম্বর ১৯৭২ খৃঃ
সঠিক উত্তর: ক. ৭ মার্চ ১৯৭৩ খৃঃ
স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচন হয় ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ। এতে আওয়ামী লীগ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
প্রথম সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ১৯৭৩ সালের ৭ এপ্রিল। নির্বাচন ও অধিবেশনের তারিখ একই দিনে, শুধু মাস আলাদা; তাই সহজেই গুলিয়ে যায়।
এর আগে ১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর সংবিধান গৃহীত হয় এবং ১৬ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। সংবিধান কার্যকর হওয়ার পরই নির্বাচনের পথ খোলে।
ফাঁদ হলো ৭ এপ্রিল ১৯৭৩, যা প্রথম অধিবেশনের দিন, নির্বাচনের নয়।
মনে রাখুন: মার্চে ভোট, এপ্রিলে অধিবেশন; দুটোই ৭ তারিখ, ১৯৭৩।
৫২৬. চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত প্রবর্তন করা হয় কত সনে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- ক১৭৫৭ খৃঃ
- খ১৭৭০ খৃঃ
- গ১৮৫৭ খৃঃ
- ঘ১৭৯৩ খৃঃ
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৭৯৩ খৃঃ
চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত চালু হয় ১৭৯৩ সালে, গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্নওয়ালিসের সময়ে।
এই ব্যবস্থায় জমিদারদের জমির স্থায়ী মালিকানা দেওয়া হয়, আর তাদের দেয় রাজস্বের পরিমাণ চিরদিনের জন্য নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়। কোম্পানির উদ্দেশ্য ছিল নিয়মিত ও নিশ্চিত রাজস্ব আদায়।
নির্দিষ্ট দিনে সূর্যাস্তের আগে রাজস্ব জমা না দিলে জমিদারি নিলামে উঠত; একে সূর্যাস্ত আইন বলা হয়। এতে অনেক পুরোনো জমিদার জমিদারি হারান।
বিকল্পের বাকি সালগুলো অন্য বিখ্যাত ঘটনার: ১৭৫৭ পলাশীর যুদ্ধ, ১৭৭০ ছিয়াত্তরের মন্বন্তর, ১৮৫৭ সিপাহি বিদ্রোহ। পরিচিত সাল দেখে ভুল করাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: কর্নওয়ালিস মানেই চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত, ১৭৯৩।
৫২৭. বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের সমন্বয়কারী কোন সংস্থা? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কএ, ডি, বি
- খবিশ্বব্যাংক
- গজাইকা
- ঘআই, এম, এফ
সঠিক উত্তর: খ. বিশ্বব্যাংক
বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম হলো সরকার ও উন্নয়ন সহযোগী দেশ ও সংস্থাগুলোর সমন্বয় সভা। প্রচলিত উত্তর বিশ্বব্যাংক।
এই ফোরামের আগের রূপ ছিল প্যারিসে অনুষ্ঠিত দাতাদের সাহায্য সভা, যা বিশ্বব্যাংকের সভাপতিত্বে হতো। ২০০২ সাল থেকে এর জায়গায় বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরাম চালু হয়।
২০০৫ সালে সরকার ঘোষণা দেয় যে ফোরাম আয়োজনের দায়িত্ব বিশ্বব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নেবে। তবে প্রচলিত বইয়ে সমন্বয়কারী হিসেবে বিশ্বব্যাংকই লেখা হয়, কারণ শুরু থেকে সংস্থাটিই এই দায়িত্ব পালন করেছে।
এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, জাইকা ও আইএমএফ সবাই এই ফোরামের অংশগ্রহণকারী, সমন্বয়কারী নয়। বড় ঋণদাতা দেখে এদের বেছে নেওয়াই ফাঁদ।
মনে রাখুন: দাতাদের সভার সমন্বয়ক বললে বিশ্বব্যাংক।
৫২৮. বাংলাদেশ ও বার্মার সীমান্তবর্তী নদী কোনটি? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কগোমতী
- খজিঞ্জিরাম
- গনাফ
- ঘকর্ণফুলী
সঠিক উত্তর: গ. নাফ
বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে সীমান্ত নদী নাফ। নদীটি কক্সবাজারের টেকনাফে, দুই দেশের মাঝ দিয়ে বয়ে বঙ্গোপসাগরে পড়েছে।
বার্মা হলো মিয়ানমারের পুরোনো নাম। মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত প্রায় ২৭১ কিলোমিটার; এর দক্ষিণ অংশে সীমানা নাফ নদী ধরে বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত গেছে।
গোমতী ভারতের ত্রিপুরা থেকে কুমিল্লায় ঢোকে। জিঞ্জিরাম ভারত থেকে কুড়িগ্রাম অঞ্চলে আসে। কর্ণফুলী ভারতের মিজোরাম থেকে এসে রাঙামাটি হয়ে চট্টগ্রামে পড়েছে। এগুলোর কোনোটিই মিয়ানমার সীমান্তের নদী নয়।
ফাঁদ হলো কর্ণফুলী, কারণ এটিও দক্ষিণ পূর্বের পাহাড়ি অঞ্চলের নদী। তবে কর্ণফুলীর উৎস ভারতে, মিয়ানমারে নয়।
মনে রাখুন: মিয়ানমার সীমান্তের নদী একটাই মনে রাখুন: নাফ।
৫২৯. বাংলাদেশে শেয়ারবাজার কার্যক্রম কোন সংস্থা নিয়ন্ত্রণ করে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কঅর্থ মন্ত্রণালয়
- খপ্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
- গবাংলাদেশ ব্যাংক
- ঘসিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন
সঠিক উত্তর: ঘ. সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশন
বাংলাদেশে শেয়ারবাজার নিয়ন্ত্রণ করে সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, যা ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এখন এর নাম বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
কমিশনের কাজ বিনিয়োগকারীর স্বার্থ রক্ষা, শেয়ার ইস্যুর অনুমোদন, স্টক এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারদের তদারকি এবং কারসাজি ঠেকানো।
বাংলাদেশ ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংক; এটি মুদ্রানীতি ও ব্যাংক খাত নিয়ন্ত্রণ করে। অর্থ মন্ত্রণালয় নীতি ঠিক করে, কিন্তু দৈনন্দিন বাজার নিয়ন্ত্রণ কমিশনের হাতে।
ফাঁদ হলো বাংলাদেশ ব্যাংক বিকল্পটি, কারণ অনেকে আর্থিক খাতের সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংককেই ভাবেন।
মনে রাখুন: শেয়ার মানে সিকিউরিটিজ, তাই নিয়ন্ত্রক সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন।
৫৩০. জামাল নজরুল ইসলাম কে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কফুটবল খেলোয়াড়
- খঅর্থনীতিবিদ
- গকবি
- ঘবৈজ্ঞানিক
সঠিক উত্তর: ঘ. বৈজ্ঞানিক
জামাল নজরুল ইসলাম ছিলেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন বাংলাদেশি গণিতবিদ ও পদার্থবিজ্ঞানী। তাঁর গবেষণার মূল বিষয় ছিল মহাবিশ্বের উৎপত্তি ও পরিণতি, অর্থাৎ বিশ্বতত্ত্ব।
তাঁর বিখ্যাত বই দি আলটিমেট ফেট অব দি ইউনিভার্স, যেখানে মহাবিশ্বের দূর ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আছে। বিদেশে দীর্ঘ গবেষণার পর ১৯৮৪ সালে তিনি দেশে ফিরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে কাজ করেন।
নামের মিল থেকেই এই প্রশ্নের ফাঁদ। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম আর ফুটবলার জামাল ভূঁইয়ার নাম মনে পড়ে বলে কবি বা ফুটবল খেলোয়াড় বিকল্প বিভ্রান্ত করে।
তাঁর মূল পরিচয় তাই বিজ্ঞানী; অর্থনীতিবিদ বিকল্পটিও ভুল।
মনে রাখুন: মহাবিশ্বের পরিণতি নিয়ে বই যাঁর, তিনিই জামাল নজরুল ইসলাম।
৫৩১. নিচের কোন সংস্থাটি ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছে? (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কUNDP
- খUNESCO
- গUNICEF
- ঘUNCTAD
সঠিক উত্তর: খ. UNESCO
১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
ভাষা ও সংস্কৃতি ইউনেস্কোর কাজের বিষয়, তাই মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতিও এই সংস্থা থেকে এসেছে। ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণেই দিনটি বেছে নেওয়া হয়।
ইউএনডিপি উন্নয়ন কর্মসূচি, ইউনিসেফ শিশু কল্যাণ এবং আঙ্কটাড বাণিজ্য ও উন্নয়ন নিয়ে কাজ করে। ভাষা বা সংস্কৃতি এদের বিষয় নয়।
নিয়ম মনে রাখুন: শিক্ষা, বিজ্ঞান, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের যেকোনো স্বীকৃতি সাধারণত ইউনেস্কো দেয়।
মনে রাখুন: সংস্কৃতি আর ঐতিহ্যের স্বীকৃতি মানেই ইউনেস্কো।
৫৩২. পূর্বাশা দ্বীপের অপর নাম কি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কনিঝুম দ্বীপ
- খসন্দ্বীপ
- গদক্ষিণ তালপট্টি
- ঘকুতুবদিয়া
সঠিক উত্তর: গ. দক্ষিণ তালপট্টি
প্রশ্নটি একটি দ্বীপের দুটি নাম মেলাতে বলেছে। পূর্বাশা হলো দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের ভারতীয় নাম।
সাতক্ষীরার কাছে হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায় বঙ্গোপসাগরে সত্তরের দশকে একটি চর জেগে ওঠে। বাংলাদেশ একে দক্ষিণ তালপট্টি বলত, আর ভারত বলত নিউ মুর বা পূর্বাশা। দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বিরোধ ছিল; পরে দ্বীপটি সমুদ্রে তলিয়ে যায় বলে জানা যায়।
বাকি তিনটি দ্বীপ বাংলাদেশের ভেতরের পরিচিত দ্বীপ, এদের কোনো ভারতীয় নাম নেই। নিঝুম দ্বীপ নোয়াখালীর হাতিয়ায়, সন্দ্বীপ চট্টগ্রামে, কুতুবদিয়া কক্সবাজারে।
ফাঁদ হলো নিঝুম দ্বীপ, কারণ এরও পুরোনো নাম আছে; তবে সেই নাম চর ওসমান, পূর্বাশা নয়।
মনে রাখুন: পূর্বাশা, নিউ মুর, দক্ষিণ তালপট্টি: একই দ্বীপের তিন নাম।
৫৩৩. মুজিবনগর কোন জেলায় অবস্থিত? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কযশোর
- খকুষ্টিয়া
- গমেহেরপুর
- ঘচুয়াডাঙ্গা
সঠিক উত্তর: গ. মেহেরপুর
মুজিবনগর মেহেরপুর জেলায় অবস্থিত। জায়গাটির আগের নাম বৈদ্যনাথতলা, ভবেরপাড়া গ্রামের একটি আমবাগান।
১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল এই আমবাগানে বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ নেয় এবং বঙ্গবন্ধুর নামে জায়গাটির নাম রাখা হয় মুজিবনগর। এখানে এখন মুজিবনগর স্মৃতিসৌধ আছে।
জায়গাটি ভারত সীমান্তের একেবারে কাছে, তাই শপথ অনুষ্ঠানের জন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। মেহেরপুর আগে কুষ্টিয়া জেলার একটি মহকুমা ছিল, পরে আলাদা জেলা হয়।
ফাঁদ হলো কুষ্টিয়া বিকল্পটি। ১৯৭১ সালে জায়গাটি বৃহত্তর কুষ্টিয়ার মধ্যে ছিল বলে পুরোনো বইয়ে কুষ্টিয়া লেখা থাকে, কিন্তু বর্তমান জেলা মেহেরপুর।
মনে রাখুন: মুজিবনগর, মেহেরপুর: দুটোই ম দিয়ে শুরু।
৫৩৪. বাংলাদেশের সেন্টমার্টিন দ্বীপ কোন জেলায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কভোলা
- খনোয়াখালী
- গচট্টগ্রাম
- ঘকক্সবাজার
সঠিক উত্তর: ঘ. কক্সবাজার
সেন্টমার্টিন দ্বীপ কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলায় অবস্থিত। এটি বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ।
টেকনাফের দক্ষিণে বঙ্গোপসাগরে দ্বীপটির অবস্থান। নারিকেল গাছের প্রাচুর্যের জন্য স্থানীয়ভাবে একে নারিকেল জিঞ্জিরা বলা হয়। এর পাশেই ছেঁড়া দ্বীপ, যা বাংলাদেশের সর্বদক্ষিণ বিন্দু হিসেবে পরিচিত।
ভোলা, নোয়াখালী ও চট্টগ্রামেও অনেক দ্বীপ আছে বলে এগুলো বিকল্পে রাখা হয়েছে। ভোলা নিজেই একটি দ্বীপ জেলা, নোয়াখালীতে হাতিয়া ও নিঝুম দ্বীপ, চট্টগ্রামে সন্দ্বীপ।
ফাঁদ হলো চট্টগ্রাম বিকল্পটি, কারণ কক্সবাজার চট্টগ্রাম বিভাগের অংশ। প্রশ্ন জেলা জানতে চেয়েছে, বিভাগ নয়।
মনে রাখুন: দক্ষিণের সব শেষ: টেকনাফ, সেন্টমার্টিন, ছেঁড়া দ্বীপ; সবই কক্সবাজারে।
৫৩৫. বাংলাদেশের সর্বাধিক বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনকারী বিষয় কি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কপ্রবাসী শ্রমিক
- খপাট
- গরেডিমেড গার্মেন্টস
- ঘচামড়া
সঠিক উত্তর: গ. রেডিমেড গার্মেন্টস
প্রশ্নের সময় বাংলাদেশের সবচেয়ে বেশি বৈদেশিক মুদ্রা আসত তৈরি পোশাক বা রেডিমেড গার্মেন্টস রপ্তানি থেকে। মোট রপ্তানি আয়ের চার ভাগের তিন ভাগেরও বেশি আসত এই খাত থেকে।
বৈদেশিক মুদ্রার দ্বিতীয় বড় উৎস প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স। প্রবাসী শ্রমিকেরা বিপুল অর্থ পাঠান, তবে মোট অঙ্কে তা পোশাক রপ্তানির চেয়ে কম।
পাট একসময় বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য ছিল, তাই একে সোনালি আঁশ বলা হতো। কিন্তু আশির দশকের শেষ দিকে পোশাক খাত পাটকে ছাড়িয়ে যায়। চামড়াও রপ্তানি পণ্য, তবে আয়ের দিক থেকে অনেক পিছনে।
ফাঁদ হলো প্রবাসী শ্রমিক বিকল্পটি। রেমিট্যান্স বড় উৎস ঠিকই, কিন্তু একক খাত হিসেবে সর্বোচ্চ আয় পোশাক রপ্তানির।
মনে রাখুন: রপ্তানিতে পোশাক এক নম্বর, বৈদেশিক মুদ্রায় রেমিট্যান্স দুই নম্বর।
৫৩৬. শালবন বিহার কোথায়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কগাজীপুর
- খমধুপুর
- গরাজবাড়ী
- ঘকুমিল্লার ময়নামতি পাহাড়ের পাশে
সঠিক উত্তর: ঘ. কুমিল্লার ময়নামতি পাহাড়ের পাশে
শালবন বিহার কুমিল্লার কোটবাড়িতে, ময়নামতি ও লালমাই পাহাড়ের মাঝামাঝি অবস্থিত একটি প্রাচীন বৌদ্ধ বিহার।
আট শতকের দিকে দেব বংশের রাজা শ্রীভবদেব বিহারটি নির্মাণ করেন বলে একে ভবদেব মহাবিহারও বলা হয়। বর্গাকার এই বিহারে ভিক্ষুদের থাকার অনেকগুলো কক্ষ আর মাঝখানে একটি মন্দির আছে।
নামের শালবন অংশটি এসেছে আশপাশের শালবন থেকে। এ কারণেই গাজীপুর ও মধুপুর বিকল্প রাখা হয়েছে, কারণ ওই দুই এলাকাও শালবনের জন্য বিখ্যাত।
ফাঁদ হলো নামের মিল: শাল গাছ দেখে গাজীপুর বা মধুপুর ভাবা। প্রত্নতাত্ত্বিক বিহারটি কিন্তু কুমিল্লার ময়নামতিতে।
মনে রাখুন: ময়নামতির তিন বিহার মনে রাখুন: শালবন বিহার, আনন্দ বিহার, ভোজ রাজার বিহার।
৫৩৭. সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি কোথায় অবস্থিত? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কটিএসসি মোড়ে
- খঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে
- গরেসকোর্স ময়দানে
- ঘরাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে
সাবাস বাংলাদেশ ভাস্কর্যটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। শিল্পী নিতুন কুণ্ডু মুক্তিযুদ্ধের স্মরণে এটি নির্মাণ করেন।
ভাস্কর্যে দুজন তরুণ মুক্তিযোদ্ধা সামনে এগিয়ে চলেছেন, দুজনের হাতেই রাইফেল, একজনের অন্য হাত মুষ্টিবদ্ধ। এর সামনে কবি সুকান্ত ভট্টাচার্যের যে পঙক্তি লেখা আছে, তা শুরু হয় সাবাস বাংলাদেশ কথাটি দিয়ে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মুক্তিযুদ্ধের বিখ্যাত ভাস্কর্য অপরাজেয় বাংলা, শিল্পী সৈয়দ আবদুল্লাহ খালিদ। টিএসসি মোড়ে আছে সন্ত্রাসবিরোধী রাজু স্মারক ভাস্কর্য, আর রেসকোর্স ময়দান বা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আছে স্বাধীনতা স্তম্ভ।
ফাঁদ হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বিকল্পটি, কারণ মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য বললেই অনেকে অপরাজেয় বাংলার কথা ভাবেন।
মনে রাখুন: অপরাজেয় বাংলা ঢাকায়, সাবাস বাংলাদেশ রাজশাহীতে।
৫৩৮. এশিয়া কাপ ক্রিকেট, ২০১২ কোন স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কবঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম
- খশেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম
- গবাংলাদেশ আর্মি স্টেডিয়াম
- ঘরাজশাহী স্টেডিয়াম
সঠিক উত্তর: খ. শেরে বাংলা জাতীয় স্টেডিয়াম
২০১২ সালের এশিয়া কাপ ক্রিকেট হয়েছিল ঢাকার মিরপুরে শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। টুর্নামেন্টের সব ম্যাচ এই একটি মাঠেই হয়।
মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত এই আসরে বাংলাদেশ ভারত ও শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে প্রথমবার এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠে। ফাইনালে পাকিস্তান মাত্র ২ রানে জিতে শিরোপা নেয়।
বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে একসময় আন্তর্জাতিক ক্রিকেট হতো, কিন্তু মিরপুরের মাঠ চালু হওয়ার পর এটি ফুটবলের মাঠে পরিণত হয়। তাই ২০১২ সালে সেখানে ক্রিকেট হয়নি।
ফাঁদ হলো বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম বিকল্পটি, কারণ পুরোনো বইয়ে এটিকে দেশের প্রধান ক্রিকেট মাঠ হিসেবে দেখা যায়।
মনে রাখুন: এখনকার ঢাকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট মানেই মিরপুর।
৫৩৯. বাংলাদেশের জাতীয় দিবস কবে? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১৬ ডিসেম্বর
- খ৭ মার্চ
- গ২৬ মার্চ
- ঘ১৭ এপ্রিল
সঠিক উত্তর: গ. ২৬ মার্চ
বাংলাদেশের জাতীয় দিবস ২৬ মার্চ, যা স্বাধীনতা দিবস হিসেবেও পালিত হয়। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়া হয়।
কোনো দেশের জাতীয় দিবস সাধারণত তার স্বাধীনতা বা প্রতিষ্ঠার দিন। বাংলাদেশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা ঘোষণার দিনটিকেই জাতীয় দিবস ধরা হয়।
১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস, যেদিন পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের দিন, আর ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারের শপথ গ্রহণের দিন।
ফাঁদ হলো ১৬ ডিসেম্বর। বিজয় দিবস আর জাতীয় দিবস আলাদা; জাতীয় দিবস স্বাধীনতার দিন।
মনে রাখুন: জাতীয় দিবস মানে স্বাধীনতা দিবস: ২৬ মার্চ।
৫৪০. বাংলাদেশের প্রথম প্রধান সেনাপতি কে ছিলেন? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- কমে. জে. জিয়াউর রহমান
- খমে. জে. সফিউল্লা
- গলে. জে. এইচ. এম. এরশাদ
- ঘজে. আতাউল গণি ওসমানি
সঠিক উত্তর: ঘ. জে. আতাউল গণি ওসমানি
মুক্তিযুদ্ধের সময় বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান সেনাপতি ছিলেন জেনারেল মুহাম্মদ আতাউল গনি ওসমানী। মুজিবনগর সরকার তাঁকে এই দায়িত্ব দেয়।
প্রধান সেনাপতি আর সেনাপ্রধান আলাদা পদ। প্রধান সেনাপতি পুরো সশস্ত্র বাহিনী পরিচালনা করেন, আর সেনাপ্রধান শুধু সেনাবাহিনীর প্রধান। স্বাধীনতার পর সেনাবাহিনীর প্রথম প্রধান হন মেজর জেনারেল কে এম সফিউল্লাহ।
জিয়াউর রহমান মুক্তিযুদ্ধে সেক্টর কমান্ডার ছিলেন এবং ১৯৭৫ সালে সেনাপ্রধান হন। এরশাদ সেনাপ্রধান হন আরও পরে, ১৯৭৮ সালে।
ফাঁদ হলো সফিউল্লাহ বিকল্পটি। তিনি প্রথম সেনাপ্রধান, প্রথম প্রধান সেনাপতি নন।
মনে রাখুন: প্রধান সেনাপতি ওসমানী, প্রথম সেনাপ্রধান সফিউল্লাহ।