কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি · পাতা ১৬
৩০১. যে ইলেক্ট্রনিক লজিক গেইটের আউটপুট লজিক 0 শুধুমাত্র যখন সকল ইনপুট লজিক 1 তার নাম- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কAND গেইট
- খOR গেইট
- গNAND গেইট
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. NAND গেইট
প্রশ্নটি এমন গেট খুঁজছে যার আউটপুট শূন্য হয় শুধু তখন, যখন সব ইনপুট এক। উত্তর ন্যান্ড গেট।
ন্যান্ড মানে নট অ্যান্ড, অর্থাৎ অ্যান্ড গেটের আউটপুট উল্টে দেওয়া। অ্যান্ড গেট এক দেয় শুধু সব ইনপুট এক হলে, বাকি সব ক্ষেত্রে শূন্য। উল্টে দিলে ন্যান্ড শূন্য দেয় শুধু সব ইনপুট এক হলে, বাকি সব ক্ষেত্রে এক।
ন্যান্ড আর নর গেটকে সর্বজনীন গেট বলা হয়, কারণ শুধু এদের যেকোনো একটি দিয়ে অ্যান্ড, অর, নট সহ সব গেট তৈরি করা যায়।
ফাঁদ হলো অর গেট। অর গেট শূন্য দেয় শুধু তখন, যখন সব ইনপুট শূন্য; প্রশ্নের শর্তের ঠিক উল্টো। আর অ্যান্ড সব এক ইনপুটে এক দেয়, শূন্য নয়।
মনে রাখুন: শুধু সব 1-এ আউটপুট 0 = NAND; শুধু সব 0-তে আউটপুট 1 = NOR।
৩০২. নিচের কোনটির যোগাযোগের দূরত্ব সবচেয়ে কম? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কWi-Fi
- খBluetooth
- গWi-Max
- ঘCellular network
সঠিক উত্তর: খ. Bluetooth
প্রশ্নটি বেতার প্রযুক্তিগুলোর যোগাযোগ দূরত্ব তুলনা করতে বলেছে। সবচেয়ে কম দূরত্ব ব্লুটুথের, সাধারণত দশ মিটারের মতো।
ছোট থেকে বড় সাজালে: ব্লুটুথ কয়েক মিটার থেকে দশ মিটারের মতো, তাই এটি পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক। ওয়াই-ফাই একটি বাড়ি বা অফিসজুড়ে, কয়েক দশ মিটার থেকে একশো মিটারের মতো, তাই লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক।
ওয়াইম্যাক্স পুরো শহর ঢাকতে পারে, কয়েক কিলোমিটার থেকে প্রায় পঞ্চাশ কিলোমিটার পর্যন্ত, তাই মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক। সেলুলার নেটওয়ার্কে প্রতিটি টাওয়ার কয়েক কিলোমিটার এলাকা ঢাকে, আর টাওয়ারগুলো মিলে পুরো দেশজুড়ে সংযোগ দেয়।
ফাঁদ হলো ওয়াই-ফাই। ঘরে ব্যবহার করি বলে একে ছোট পরিসরের ভাবা হয়, কিন্তু ব্লুটুথের চেয়ে এর পরিসর অনেক বেশি।
মনে রাখুন: দূরত্বের ক্রম: Bluetooth < Wi-Fi < WiMAX < Cellular।
৩০৩. নিচের কোনটি ১০০ এর ১ কমপ্লিমেন্ট? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১১১
- খ১০১
- গ০১১
- ঘ০০১
সঠিক উত্তর: গ. ০১১
প্রশ্নটি এক শূন্য শূন্য বাইনারি সংখ্যার ওয়ানস কমপ্লিমেন্ট জানতে চেয়েছে। নিয়ম হলো প্রতিটি বিট উল্টে দেওয়া: এক হবে শূন্য, শূন্য হবে এক।
প্রথম বিট এক উল্টে শূন্য, দ্বিতীয় বিট শূন্য উল্টে এক, তৃতীয় বিট শূন্য উল্টে এক। তাই উত্তর শূন্য এক এক।
মজার ব্যাপার, এর সঙ্গে এক যোগ করলে টুস কমপ্লিমেন্ট আবার এক শূন্য শূন্য হয়ে যায়। কারণ তিন বিটে এক শূন্য শূন্য হলো সবচেয়ে ছোট ঋণাত্মক সংখ্যা, যার টুস কমপ্লিমেন্ট সে নিজেই।
ফাঁদ হলো এক এক এক, যা আসলে মূল সংখ্যা আর তার ওয়ানস কমপ্লিমেন্টের যোগফল। কোনো সংখ্যা আর তার পরিপূরক যোগ করলে সব বিট এক হয়।
মনে রাখুন: 1's complement: বিট উল্টান। 2's complement: বিট উল্টে ১ যোগ।
৩০৪. RFID বলতে বুঝায়- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কRandom Frequency Identification
- খRandom Frequency Information
- গRadio Frequency Information
- ঘRadio Frequency Identification
সঠিক উত্তর: ঘ. Radio Frequency Identification
প্রশ্নটি আরএফআইডির পূর্ণরূপ জানতে চেয়েছে। আরএফআইডি মানে রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন, অর্থাৎ রেডিও তরঙ্গ দিয়ে কোনো বস্তুকে শনাক্ত করা।
এই ব্যবস্থার দুটি অংশ। একটি ছোট ট্যাগ, যার ভেতরে একটি চিপ আর অ্যান্টেনা থাকে; আর একটি রিডার, যা রেডিও তরঙ্গ পাঠিয়ে ট্যাগ থেকে তথ্য পড়ে নেয়। অনেক ট্যাগে ব্যাটারিও লাগে না, রিডারের তরঙ্গ থেকেই শক্তি পায়।
ব্যবহার দেখা যায় দোকানের পণ্য চুরি রোধে, গাড়ির স্বয়ংক্রিয় টোল আদায়ে, লাইব্রেরির বইয়ে, ই-পাসপোর্টে আর প্রবেশ কার্ডে।
ফাঁদ হলো র্যান্ডম আর ইনফরমেশন শব্দ দুটি। মনে রাখুন, শুরুতে রেডিও, কারণ প্রযুক্তিটি রেডিও তরঙ্গে চলে; আর শেষে আইডেন্টিফিকেশন, কারণ এর কাজ শনাক্ত করা।
মনে রাখুন: RFID = Radio Frequency Identification; রেডিও তরঙ্গে শনাক্তকরণ।
৩০৫. RFID বলতে বোঝায়- (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কRandom Frequency Identification
- খRandom Frequency Information
- গRadio Frequency Information
- ঘRadio Frequency Identification
সঠিক উত্তর: ঘ. Radio Frequency Identification
প্রশ্নটি আরএফআইডির পূর্ণরূপ জানতে চেয়েছে। উত্তর রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেন্টিফিকেশন। একই প্রশ্ন একচল্লিশতম বিসিএসেও এসেছিল।
আরএফআইডি ট্যাগে থাকা চিপের তথ্য রিডার রেডিও তরঙ্গ দিয়ে পড়ে নেয়। বারকোডের সঙ্গে তুলনা করলে বিষয়টি পরিষ্কার হয়। বারকোড পড়তে স্ক্যানারকে কোডের দিকে সরাসরি তাক করতে হয় এবং একবারে একটি পড়া যায়।
আরএফআইডি ট্যাগ বাক্সের ভেতরে থাকলেও পড়া যায়, সরাসরি দেখার দরকার নেই, আর একসঙ্গে অনেকগুলো ট্যাগ পড়া যায়। এজন্য গুদামে পণ্যের হিসাব, টোল আদায় আর ই-পাসপোর্টে এটি জনপ্রিয়।
ফাঁদ হলো ইনফরমেশন শব্দটি; ট্যাগে তথ্য থাকলেও প্রযুক্তির মূল কাজ শনাক্তকরণ, তাই শেষ শব্দটি আইডেন্টিফিকেশন।
মনে রাখুন: RFID-এর R = Radio, ID = Identification; Random বা Information দেখলেই বাদ।
৩০৬. কোন মাধ্যমে আলোর পালস্ ব্যবহৃত হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কতামার তার
- খকো-এক্সিয়াল ক্যাবল
- গঅপটিক্যাল ফাইবার
- ঘওয়্যারলেস মিডিয়া
সঠিক উত্তর: গ. অপটিক্যাল ফাইবার
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন মাধ্যমে আলোর পালস ব্যবহৃত হয়। উত্তর অপটিক্যাল ফাইবার। একই প্রশ্ন আটত্রিশতম বিসিএসেও এসেছিল।
অপটিক্যাল ফাইবারের গঠন বুঝলে কারণটা পরিষ্কার হয়। কেন্দ্রে থাকে কাচের সরু কোর, যার ভেতর দিয়ে আলো চলে। তার চারপাশে ক্ল্যাডিং, যার প্রতিসরাঙ্ক কোরের চেয়ে কম। তাই কোরের আলো বাইরে বের হতে না পেরে পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলনে বারবার ফিরে আসে।
সবার বাইরে থাকে বাফার আর প্লাস্টিকের জ্যাকেট, যা তন্তুকে আঘাত ও আর্দ্রতা থেকে রক্ষা করে। আলো জ্বলা-নেভার মাধ্যমে এক ও শূন্য পাঠানো হয়, তাই গতি অনেক বেশি আর বিদ্যুৎ-চৌম্বক গোলযোগ প্রায় নেই।
ফাঁদ হলো ওয়্যারলেস মাধ্যম। এতে তরঙ্গ বাতাসে ছড়িয়ে যায়, মূলত রেডিও আর মাইক্রোওয়েভ; কাচের তন্তুর ভেতর দিয়ে পরিচালিত আলোর পালস নয়। তামার তার আর কো-এক্সিয়ালে চলে বৈদ্যুতিক সংকেত।
মনে রাখুন: আলো + পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন = অপটিক্যাল ফাইবার।
৩০৭. নিচের কোনটি anti-virus সফটওয়্যার নয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কOracle
- খMcAfee
- গNorton
- ঘKaspersky
সঠিক উত্তর: ক. Oracle
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি অ্যান্টিভাইরাস সফটওয়্যার নয়। উত্তর ওরাকল। একই প্রশ্ন একচল্লিশতম বিসিএসেও এসেছিল।
ওরাকল যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান, যার প্রধান পণ্য ওরাকল ডেটাবেজ। ২০১০ সালে সান মাইক্রোসিস্টেমস কিনে নেওয়ার পর জাভা প্রোগ্রামিং ভাষা আর মাইএসকিউএল ডেটাবেজও ওরাকলের মালিকানায় আসে।
ম্যাকাফি, নর্টন আর ক্যাসপারস্কি তিনটিই অ্যান্টিভাইরাস, যারা কম্পিউটারকে ভাইরাস, র্যানসমওয়্যার আর অন্যান্য ক্ষতিকর সফটওয়্যার থেকে রক্ষা করে।
মনে রাখার উপায়: ডেটাবেজের নাম শুনলে ওরাকল, মাইএসকিউএল, এসকিউএল সার্ভার; নিরাপত্তার নাম শুনলে ম্যাকাফি, নর্টন, ক্যাসপারস্কি।
মনে রাখুন: Oracle = ডেটাবেজ; এটি অ্যান্টিভাইরাস তালিকায় ঢোকানো পুরোনো ফাঁদ।
৩০৮. কোন চিহ্নটি ই-মেইল ঠিকানায় অবশ্যই থাকবে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক$
- খ#
- গ&
- ঘ@
সঠিক উত্তর: ঘ. @
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ই-মেইল ঠিকানায় কোন চিহ্ন অবশ্যই থাকবে। উত্তর অ্যাট চিহ্ন। একই প্রশ্ন আটত্রিশতম বিসিএসেও এসেছিল।
প্রতিটি ই-মেইল ঠিকানার গঠন একই: প্রথমে ব্যবহারকারীর নাম, তারপর অ্যাট চিহ্ন, তারপর ডোমেইন। অ্যাট চিহ্নটি দেখে মেইল ব্যবস্থা বোঝে কোন অংশ ব্যক্তির নাম আর কোন অংশ মেইল সার্ভারের ঠিকানা। সাধারণ ঠিকানায় এই চিহ্ন থাকে একবারই।
অন্য চিহ্নগুলোর নিজস্ব জায়গা আছে। হ্যাশ চিহ্ন সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগে, ডলার চিহ্ন মুদ্রায়, আর অ্যান্ড চিহ্ন ‘এবং’ বোঝাতে বা ওয়েব ঠিকানার ভেতর একাধিক তথ্য আলাদা করতে ব্যবহৃত হয়।
ফাঁদ হলো হ্যাশ চিহ্ন। সামাজিক মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ সবার চেনা বলে অনেকে একে ইন্টারনেট ঠিকানার চিহ্ন ভাবেন। আসলে সামাজিক মাধ্যমে কাউকে উল্লেখ করতেও অ্যাট চিহ্নই লাগে, আর ই-মেইল ঠিকানায় এটি বাধ্যতামূলক।
মনে রাখুন: ই-মেইল = নাম @ ডোমেইন; @ ছাড়া কোনো ই-মেইল ঠিকানা হয় না।
৩০৯. Keyboard এবং CPU-এর মধ্যে কোন পদ্ধতিতে data transmission হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কSimplex
- খDuplex
- গHalf duplex
- ঘTriplex
সঠিক উত্তর: ক. Simplex
প্রশ্নটি ডেটা ট্রান্সমিশন মোড নিয়ে। কিবোর্ড থেকে সিপিইউতে তথ্য যায় শুধু একদিকে, তাই এটি সিমপ্লেক্স পদ্ধতি।
আমরা কিবোর্ডে চাপ দিলে অক্ষরের সংকেত কম্পিউটারে যায়, কিন্তু কম্পিউটার কিবোর্ডকে তথ্য ফেরত পাঠায় না, ফলাফল দেখায় মনিটরে। পাঠ্যবইয়ে তাই কিবোর্ড থেকে সিপিইউকে সিমপ্লেক্সের আদর্শ উদাহরণ ধরা হয়, রেডিও আর টিভির মতো।
হাফ-ডুপ্লেক্সে দুই দিকেই তথ্য যায়, তবে পালা করে, যেমন ওয়াকি-টকি। ফুল-ডুপ্লেক্স বা ডুপ্লেক্সে দুই দিকে একসঙ্গে যায়, যেমন মোবাইল ফোন। ট্রিপ্লেক্স নামে কোনো ট্রান্সমিশন মোডই নেই।
সূক্ষ্মভাবে বললে আধুনিক কিবোর্ড কম্পিউটার থেকে ক্যাপস লক বাতি জ্বালানোর সংকেতও পায়, তবে পরীক্ষার পাঠ্যবইয়ের উত্তর সিমপ্লেক্স।
মনে রাখুন: একমুখী যন্ত্র (কিবোর্ড, রেডিও, টিভি, মাউস) = Simplex।
৩১০. Blockchain-এর প্রতিটি block কী তথ্য বহন করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কA hash pointer to the previous block
- খTimestamp
- গList of transactions
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
প্রশ্নটি ব্লকচেইনের একটি ব্লকের ভেতরের তথ্য নিয়ে। তিনটি বিকল্পই ব্লকে থাকে, তাই উত্তর উপরের সবগুলো।
ব্লকচেইন হলো ব্লকের একটি শিকল, যেখানে প্রতিটি ব্লক একটি ডিজিটাল খাতার পাতা। প্রতিটি ব্লকে থাকে কিছু লেনদেনের তালিকা, ব্লকটি কখন তৈরি হলো তার সময়চিহ্ন বা টাইমস্ট্যাম্প, আর আগের ব্লকের হ্যাশ।
হ্যাশ হলো তথ্যের একটি ডিজিটাল আঙুলের ছাপ। আগের ব্লকের হ্যাশ রাখার ফলে ব্লকগুলো শিকলের মতো জোড়া থাকে। পুরোনো কোনো ব্লকের তথ্য কেউ বদলালে তার হ্যাশ বদলে যায়, পরের সব ব্লকের সঙ্গে মিল ভেঙে যায়; তাই জালিয়াতি সহজে ধরা পড়ে।
এই ধারণা জনপ্রিয় হয় ২০০৮ সালে সাতোশি নাকামোতো ছদ্মনামে প্রকাশিত বিটকয়েনের নথি থেকে। কোনো একটি বিকল্প আলাদা করে বেছে নেওয়া অসম্পূর্ণ উত্তর।
মনে রাখুন: ব্লক = লেনদেন + টাইমস্ট্যাম্প + আগের ব্লকের হ্যাশ।
৩১১. নিচের কোনটি Bluetooth-এর IEEE standard? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কIEEE 802.15
- খIEEE 802.1
- গIEEE 802.3
- ঘIEEE 802.11
সঠিক উত্তর: ক. IEEE 802.15
প্রশ্নটি ব্লুটুথের আইইইই মানদণ্ড জানতে চেয়েছে। উত্তর আইইইই আটশো দুই দশমিক পনেরো, যা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্কের জন্য নির্ধারিত পরিবার।
আইইইই হলো ইনস্টিটিউট অব ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ার্স। এর আটশো দুই পরিবারের মানদণ্ডগুলো স্থানীয় ও মহানগর নেটওয়ার্কের নিয়ম ঠিক করে। ব্লুটুথের মূল স্তরগুলো আটশো দুই দশমিক পনেরো দশমিক এক নামে গৃহীত হয়েছিল।
অন্যগুলো মনে রাখুন: আটশো দুই দশমিক তিন হলো ইথারনেট বা তারযুক্ত ল্যান, আটশো দুই দশমিক এগারো হলো ওয়াই-ফাই, আটশো দুই দশমিক ষোলো হলো ওয়াইম্যাক্স। আর আটশো দুই দশমিক এক নেটওয়ার্ক সেতুবন্ধন ও ব্যবস্থাপনার মানদণ্ড।
ফাঁদ হলো আটশো দুই দশমিক এগারো। ওয়াই-ফাই আর ব্লুটুথ দুটোই বেতার ও একই দুই দশমিক চার গিগাহার্জ ব্যান্ডে চলে, তাই অনেকে গুলিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: ৩ = Ethernet, ১১ = Wi-Fi, ১৫ = Bluetooth, ১৬ = WiMAX।
৩১২. ১০১১১০ বাইনারি নাম্বারের সমতুল্য ডেসিমাল নাম্বার কোনটি? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- ক৪৬
- খ১৬
- গ২৪
- ঘ৫৪
সঠিক উত্তর: ক. ৪৬
প্রশ্নটি বাইনারি থেকে দশমিকে রূপান্তর চেয়েছে। নিয়ম হলো, ডান দিক থেকে প্রতিটি ঘরের স্থানীয় মান এক, দুই, চার, আট, ষোলো, বত্রিশ এভাবে দ্বিগুণ হয়; যে ঘরে এক আছে, শুধু সেই মানগুলো যোগ করতে হয়।
এক শূন্য এক এক এক শূন্য সংখ্যাটিতে বাঁ দিক থেকে ঘরগুলোর মান বত্রিশ, ষোলো, আট, চার, দুই, এক। এক আছে বত্রিশ, আট, চার আর দুইয়ের ঘরে।
তাই বত্রিশ যোগ আট যোগ চার যোগ দুই সমান ছেচল্লিশ। উত্তর ছেচল্লিশ।
ফাঁদ হলো চুয়ান্ন। এটি আসে যদি কেউ আটের ঘর বাদ দিয়ে ষোলোর ঘর ধরে ফেলেন। তাই প্রতিটি ঘরের নিচে তার মান লিখে নিয়ে যোগ করুন।
মনে রাখুন: বাইনারি → দশমিক: ১ যেখানে, সেই ঘরের মান যোগ করুন (১, ২, ৪, ৮, ১৬, ৩২…)।
৩১৩. DNS সার্ভারের কাজ হচ্ছে _____ কে _____ address-এ পরিবর্তন করা। (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কEmail, DNS
- খMAC Address, IP
- গDomain name, IP
- ঘEmail, IP
সঠিক উত্তর: গ. Domain name, IP
প্রশ্নটি ডিএনএস সার্ভারের কাজ জানতে চেয়েছে। ডিএনএস ডোমেইন নেমকে আইপি অ্যাড্রেসে রূপান্তর করে, তাই উত্তর ডোমেইন নেম আর আইপি।
ডিএনএস মানে ডোমেইন নেম সিস্টেম। মানুষ সহজে মনে রাখে নামের ঠিকানা, যেমন গুগল ডট কম; কিন্তু কম্পিউটার যোগাযোগ করে সংখ্যার ঠিকানা দিয়ে, যাকে আইপি অ্যাড্রেস বলে। ব্রাউজারে নাম লিখলে ডিএনএস সার্ভার সেই নামের আইপি খুঁজে দেয়, তারপর সংযোগ হয়।
এজন্য ডিএনএসকে ইন্টারনেটের ফোনবুক বলা হয়: নাম দেখে নম্বর বের করা।
ফাঁদ হলো ম্যাক অ্যাড্রেস ও আইপি। ম্যাক আর আইপির মধ্যে সম্পর্ক খোঁজে ভিন্ন প্রটোকল, যেমন এআরপি, ডিএনএস নয়। আর ই-মেইলকে ডিএনএস বা আইপিতে রূপান্তর করা ডিএনএসের কাজ নয়।
মনে রাখুন: DNS = নাম → IP; ARP = IP → MAC।
৩১৪. নিচের কোনটি Open Source DBMS? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কMySQL.
- খMicrosoft SQL Server
- গMicrosoft Access
- ঘOracle
সঠিক উত্তর: ক. MySQL.
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি ওপেন সোর্স ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার। উত্তর মাইএসকিউএল।
ওপেন সোর্স মানে সফটওয়্যারের মূল কোড সবার জন্য উন্মুক্ত; যে কেউ বিনা মূল্যে ব্যবহার, পরিবর্তন ও বিতরণ করতে পারে। মাইএসকিউএল ১৯৯৫ সালে সুইডেনের একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করে, আর এটি জিএনইউ জেনারেল পাবলিক লাইসেন্সে উন্মুক্ত। ওয়ার্ডপ্রেসের মতো বহু ওয়েবসাইট এর ওপর চলে।
মাইক্রোসফট এসকিউএল সার্ভার, মাইক্রোসফট অ্যাকসেস আর ওরাকল ডেটাবেজ তিনটিই মালিকানাধীন বা প্রোপ্রাইটারি সফটওয়্যার; এদের কোড বন্ধ এবং সাধারণত লাইসেন্স কিনে ব্যবহার করতে হয়।
সূক্ষ্ম ফাঁদ: মাইএসকিউএলের মালিক এখন ওরাকল, ২০১০ সাল থেকে। কিন্তু মালিক বদলালেও মাইএসকিউএলের মূল সংস্করণ ওপেন সোর্সই রয়ে গেছে, আর ওরাকল ডেটাবেজ মালিকানাধীন।
মনে রাখুন: ওপেন সোর্স DBMS: MySQL, PostgreSQL, SQLite, MariaDB।
৩১৫. নিচের Job Scheduling Policy সমূহের মধ্যে কোনটি Starvation থেকে মুক্ত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কPriority Scheduling
- খShortest Job First
- গYoungest Job First
- ঘRound-robin
সঠিক উত্তর: ঘ. Round-robin
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন শিডিউলিং নীতি স্টারভেশন থেকে মুক্ত। স্টারভেশন বা অনাহার মানে কোনো প্রসেস অনির্দিষ্টকাল সিপিইউ না পেয়ে অপেক্ষায় থাকা। উত্তর রাউন্ড-রবিন।
রাউন্ড-রবিনে প্রতিটি প্রসেস পালা করে একটি নির্দিষ্ট সময় পায়, তারপর লাইনের শেষে যায়। লাইনে যত প্রসেসই থাকুক, প্রত্যেকের পালা একটি সীমিত সময়ের মধ্যে আসবেই। তাই কেউ চিরকাল বসে থাকে না।
প্রায়োরিটি শিডিউলিংয়ে উচ্চ অগ্রাধিকারের প্রসেস একটার পর একটা আসতে থাকলে নিম্ন অগ্রাধিকারের প্রসেস কখনো সুযোগ পায় না। এর প্রতিকার হলো এজিং, মানে অপেক্ষার সঙ্গে অগ্রাধিকার বাড়ানো। শর্টেস্ট জব ফার্স্টে ছোট কাজ আসতে থাকলে বড় কাজ অনাহারে থাকে।
ইয়াংগেস্ট জব ফার্স্ট মানে সবচেয়ে নতুন কাজ আগে; নতুন কাজ আসতে থাকলে পুরোনো কাজ পেছনেই পড়ে থাকে। তাই এটিও স্টারভেশনমুক্ত নয়।
মনে রাখুন: ‘সবাই পালা পায়’ = Round-robin = starvation নেই।
৩১৬. নিচের কোন প্রযুক্তি Face Recognition System-এর সহায়ক ভূমিকা পালন করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কApplied Artificial Intelligence (AI)
- খApplied Internet of Things (IoT)
- গVirtual Reality
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. Applied Artificial Intelligence (AI)
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন প্রযুক্তি মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় সহায়ক। উত্তর প্রয়োগকৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
মুখ শনাক্ত করতে কম্পিউটারকে ছবি দেখে বুঝতে হয় কোথায় মুখ আছে, তারপর চোখের দূরত্ব, নাকের আকারের মতো বৈশিষ্ট্য মেপে জমা থাকা মুখের সঙ্গে মেলাতে হয়। এই দেখা আর চেনার কাজ করে কম্পিউটার ভিশন আর মেশিন লার্নিং, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাখা।
মোবাইলের ফেস আনলক, বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় গেট আর সামাজিক মাধ্যমে ছবিতে বন্ধুকে চিনে ফেলা সবই এর উদাহরণ।
ফাঁদ হলো ইন্টারনেট অব থিংস। ক্যামেরা ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে পারে, কিন্তু মুখ চেনার বুদ্ধিটা আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক পরিবেশ তৈরি করে, শনাক্ত করে না।
মনে রাখুন: চেনা, শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া = AI; যুক্ত থাকা = IoT; কৃত্রিম জগৎ = VR।
৩১৭. নিচের কোনটি output device নয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কmonitor
- খmicrophone
- গprinter
- ঘspeaker
সঠিক উত্তর: খ. microphone
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি আউটপুট যন্ত্র নয়। উত্তর মাইক্রোফোন, কারণ এটি শব্দ গ্রহণ করে কম্পিউটারে পাঠায়, অর্থাৎ ইনপুট যন্ত্র।
ইনপুট যন্ত্র বাইরের তথ্য কম্পিউটারে ঢোকায়, আর আউটপুট যন্ত্র কম্পিউটারের প্রক্রিয়াজাত ফল বাইরে দেখায় বা শোনায়। মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে দেয়।
মনিটর পর্দায় লেখা ও ছবি দেখায়, প্রিন্টার কাগজে ছাপে, আর স্পিকার শব্দ শোনায়; তিনটিই আউটপুট যন্ত্র।
ফাঁদ হলো মাইক্রোফোন আর স্পিকারকে গুলিয়ে ফেলা, কারণ দুটোই শব্দের যন্ত্র। মনে রাখুন, মাইক্রোফোন শব্দ নেয়, স্পিকার শব্দ দেয়।
মনে রাখুন: শব্দের যন্ত্রে: মাইক্রোফোন = ইনপুট, স্পিকার = আউটপুট।
৩১৮. নিচের কোনটি একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ঠিকানাকে নির্দেশ করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কhttp
- খwww
- গURL
- ঘHTML
সঠিক উত্তর: গ. URL
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ঠিকানা নির্দেশ করে। উত্তর ইউআরএল, মানে ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর।
ইউআরএল হলো ইন্টারনেটে কোনো ওয়েবপেজ বা ফাইলের পূর্ণ ঠিকানা। এর কয়েকটি অংশ থাকে: শুরুতে প্রটোকল, যেমন এইচটিটিপিএস; তারপর ডোমেইন নেম, যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ডট জিওভি ডট বিডি; শেষে নির্দিষ্ট পাতার পথ।
বাকি বিকল্পগুলো ইউআরএলের অংশ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়, পুরো ঠিকানা নয়। এইচটিটিপি হলো ব্রাউজার ও সার্ভারের যোগাযোগের প্রটোকল। ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, যা অনেক ঠিকানার শুরুতে বসে।
এইচটিএমএল হলো ওয়েবপেজ তৈরির মার্কআপ ভাষা। ফাঁদ হলো ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ, কারণ ঠিকানার শুরুতে দেখা যায়; কিন্তু এটি ঠিকানার একটি অংশ মাত্র।
মনে রাখুন: ঠিকানা = URL; ভাষা = HTML; নিয়ম = HTTP; ওয়েব = WWW।
৩১৯. নিচের কোন প্রযুক্তি ‘Pay as You Go’ সার্ভিস মডেল অনুসরণ করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কInternet of Things (IoT)
- খCloud Computing
- গClient-Server Systems
- ঘBig Data Analytics
সঠিক উত্তর: খ. Cloud Computing
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন প্রযুক্তি পে অ্যাজ ইউ গো মডেল অনুসরণ করে, মানে যতটুকু ব্যবহার ততটুকু মূল্য। উত্তর ক্লাউড কম্পিউটিং।
ক্লাউডে নিজের সার্ভার কিনতে হয় না; সেবাদাতার কাছ থেকে প্রয়োজনমতো সার্ভার, স্টোরেজ বা সফটওয়্যার ভাড়া নেওয়া যায়। ব্যবহার মাপা হয় ঘণ্টা, সেকেন্ড বা গিগাবাইট হিসাবে, আর বিল আসে ঠিক সেই পরিমাণের। যুক্তরাষ্ট্রের মান সংস্থা নিস্ট একে ক্লাউডের মৌলিক বৈশিষ্ট্য মেজার্ড সার্ভিস হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এটা অনেকটা বিদ্যুতের বিলের মতো: নিজের বিদ্যুৎকেন্দ্র লাগে না, যত ইউনিট খরচ তত টাকা। ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানও বড় বিনিয়োগ ছাড়া শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবহার করতে পারে।
ফাঁদ হলো ক্লায়েন্ট-সার্ভার ব্যবস্থা, যা ক্লাউডের মতো শোনায়। কিন্তু এটি শুধু কাজ ভাগের একটি গঠন, অর্থ পরিশোধের মডেল নয়। ইন্টারনেট অব থিংস আর বিগ ডেটা নিজে কোনো বিলিং মডেল নয়।
মনে রাখুন: Pay as you go, on-demand, measured service শুনলেই Cloud Computing।
৩২০. যে সাইবার আক্রমণ সংঘটিত হলে গ্রাহকের বৈধ অনুরোধসমূহ কোন একটি web server সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয় সেটি কী নামে পরিচিত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কPhishing
- খMan-in-the-Middle
- গDenial of Service
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. Denial of Service
প্রশ্নটি এমন সাইবার আক্রমণের নাম জানতে চেয়েছে, যাতে সার্ভার সচল থাকলেও আসল গ্রাহকের অনুরোধের জবাব দিতে পারে না। এর নাম ডিনায়াল অব সার্ভিস, সংক্ষেপে ডস আক্রমণ। ডিনায়াল মানে অস্বীকার, অর্থাৎ বৈধ ব্যবহারকারীকে সেবা থেকে বঞ্চিত করা।
কৌশলটি সহজ: আক্রমণকারী একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভুয়া অনুরোধ পাঠিয়ে সার্ভারের প্রসেসর, মেমোরি বা নেটওয়ার্ক লাইন ভরিয়ে ফেলে। সার্ভারের সামর্থ্য সীমিত, তাই ভুয়া অনুরোধ সামলাতে সামলাতেই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর আসল গ্রাহক অপেক্ষা করতে করতে খালি হাতে ফেরে।
একই আক্রমণ যখন হাজার হাজার সংক্রমিত কম্পিউটার বা বটনেট থেকে একসঙ্গে চালানো হয়, তখন তাকে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস বা ডিডস বলে। বহু উৎস থেকে আসে বলে একে ঠেকানো আরও কঠিন।
ফাঁদ হলো ফিশিং ও ম্যান ইন দ্য মিডল। এ দুটোর লক্ষ্য তথ্য চুরি বা আড়ি পাতা, সার্ভারকে অচল করা নয়। প্রশ্নে সেবা না পাওয়ার কথা থাকলেই উত্তর ডস।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “বৈধ ব্যবহারকারী সেবা পায় না” বা “সার্ভার অচল” থাকলে উত্তর DoS; বহু উৎস থেকে হলে DDoS।