কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি
১. 0x1234 সংখ্যার বাইনারিরূপ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক001010011100
- খ0010010010100
- গ1110101111001011
- ঘ0001001000110100
সঠিক উত্তর: ঘ. 0001001000110100
প্রশ্নের শুরুর শূন্য-এক্স চিহ্ন বলে দেয় সংখ্যাটি হেক্সাডেসিমেল বা ষোলোভিত্তিক। তাই এক দুই তিন চার এখানে দশমিক সংখ্যা নয়, ষোলোভিত্তিক অঙ্ক।
ষোলোভিত্তিক থেকে বাইনারিতে যাওয়ার সহজ নিয়ম: প্রতিটি অঙ্ককে আলাদাভাবে চার বিটের বাইনারিতে লিখুন, কারণ ষোলো হলো দুইয়ের চার ঘাত। এক হয় শূন্য শূন্য শূন্য এক, দুই হয় শূন্য শূন্য এক শূন্য, তিন হয় শূন্য শূন্য এক এক, চার হয় শূন্য এক শূন্য শূন্য।
এই চারটি চার-বিটের দল পাশাপাশি বসালে পাই ষোলো বিটের সংখ্যা, যা চতুর্থ বিকল্পের সঙ্গে হুবহু মেলে। দশমিকে এর মান চার হাজার ছয়শো ষাট।
চেনার সহজ উপায়: চার অঙ্কের হেক্স সংখ্যায় ঠিক ষোলোটি বিট থাকবে। প্রথম ও দ্বিতীয় বিকল্পে বারো ও তেরোটি বিট, তাই আগেই বাদ। তৃতীয়টিতে ষোলো বিট থাকলেও প্রথম দল এক এক এক শূন্য, যা হেক্সে ই, এক নয়।
মনে রাখুন: হেক্স থেকে বাইনারি: প্রতিটি অঙ্ককে ৪ বিটে লিখে পাশাপাশি বসান; শুরুর দল 0001 আর শেষের দল 0100 দেখেই ঘ মিলে যায়।
২. কোনটি ই-কমার্সের প্লাটফর্ম হিসাবে কাজ করতে পারে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কFacebook
- খAmazon
- গYouTube
- ঘAll of the above
সঠিক উত্তর: ঘ. All of the above
ই-কমার্স মানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পণ্য বা সেবা কেনাবেচা। প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি এমন প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে; লক্ষ করুন ‘পারে’ শব্দটি।
অ্যামাজন সরাসরি ই-কমার্স সাইট, অনলাইন খুচরা বিক্রির সবচেয়ে বড় উদাহরণগুলোর একটি। ফেসবুকে মার্কেটপ্লেস আছে, আর বাংলাদেশে ফেসবুক পেজ খুলে পণ্য বিক্রি এত প্রচলিত যে একে এফ-কমার্স বলা হয়।
ইউটিউবও এখন কেনাকাটার মাধ্যম: ইউটিউব শপিং সুবিধায় ভিডিও ও লাইভের সঙ্গে পণ্য ট্যাগ করে বিক্রি করা যায়। মূল কাজ ভিডিও শেয়ার হলেও এটি ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করতে পারে।
ফাঁদ হলো অ্যামাজন। ক্লাসিক ই-কমার্স বলে অনেকে শুধু অ্যামাজন বেছে নেন, কিন্তু প্রশ্নটি তিনটিরই সক্ষমতা জানতে চেয়েছে, তাই উত্তর উপরের সবগুলো।
মনে রাখুন: ‘কাজ করতে পারে’ ধরনের প্রশ্নে প্রতিটির সক্ষমতা আলাদা করে যাচাই করুন; সবগুলো পারলে ‘All of the above’।
৩. 'Pixel' দ্বারা কী বুঝায়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কPixie land
- খPerson length
- গPixure length
- ঘPicture element
সঠিক উত্তর: ঘ. Picture element
পিক্সেল শব্দটি এসেছে পিকচার এলিমেন্ট থেকে, মানে ছবির উপাদান। ডিজিটাল ছবি বা পর্দা অসংখ্য ছোট ছোট বিন্দু দিয়ে তৈরি; এর প্রতিটি বিন্দুই একটি পিক্সেল, ছবির ক্ষুদ্রতম একক।
শব্দ গঠনটা মজার: পিকচারের চলতি ছোট রূপ পিক্স, আর এলিমেন্টের প্রথম অংশ এল; দুটো জুড়ে হয়েছে পিক্সেল।
প্রতিটি পিক্সেলে লাল, সবুজ ও নীল আলোর মিশ্রণে একটি রং থাকে। পর্দায় মোট পিক্সেলের সংখ্যাকে রেজোলিউশন বলে; যেমন ফুল এইচডি পর্দায় আড়াআড়ি এক হাজার নয়শো বিশটি আর খাড়াখাড়ি এক হাজার আশিটি পিক্সেল থাকে। পিক্সেল যত বেশি, ছবি তত সূক্ষ্ম।
ফাঁদ হলো পিক্সার লেংথ; শুরুর অংশ পিক্সেলের মতো শোনায় বলে বিভ্রান্ত করে, অথচ এমন কোনো শব্দই নেই। পিক্সেল দৈর্ঘ্যের একক নয়, ছবির একটি উপাদান।
মনে রাখুন: Pix (Picture) + el (Element) = Pixel: নামটাই উত্তর বলে দেয়।
৪. ক্লাউড কম্পিউটিং কোন্ পরিষেবা প্রদান করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কশুধুমাত্র লোকাল স্টোরেজ
- খভার্চুয়াল কম্পিউটিং রিসোর্সেস
- গশুধুমাত্র ভার্চুয়াল স্টোরেজ
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: খ. ভার্চুয়াল কম্পিউটিং রিসোর্সেস
ক্লাউড কম্পিউটিং মানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে অন্যের ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সম্পদ চাহিদামতো ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করা। নিজের যন্ত্র কিনতে হয় না, যতটুকু ব্যবহার ততটুকু খরচ।
এই সম্পদ ভার্চুয়াল: একটি বড় সার্ভারকে ভাগ করে অনেক ভার্চুয়াল কম্পিউটার বানানো হয়। এর মধ্যে আছে প্রসেসিং ক্ষমতা, মেমোরি, স্টোরেজ, ডেটাবেস, নেটওয়ার্ক ও সফটওয়্যার; সব মিলিয়েই ভার্চুয়াল কম্পিউটিং রিসোর্স।
সেবার ধরন প্রধানত তিনটি। ইনফ্রাস্ট্রাকচার অ্যাজ এ সার্ভিস দেয় ভার্চুয়াল সার্ভার ও স্টোরেজের মতো অবকাঠামো, প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ এ সার্ভিস দেয় অ্যাপ বানানোর প্ল্যাটফর্ম, আর সফটওয়্যার অ্যাজ এ সার্ভিস দেয় সরাসরি ব্যবহারের সফটওয়্যার, যেমন জিমেইল।
ফাঁদ হলো উপরের সবগুলো। এতে শুধুমাত্র লোকাল স্টোরেজও আছে, যা নিজের যন্ত্রের ভেতরের স্টোরেজ, ক্লাউড নয়। আর শুধুমাত্র ভার্চুয়াল স্টোরেজ ক্লাউডের একটি অংশমাত্র; ‘শুধুমাত্র’ শব্দটিই এটিকে ভুল করেছে।
মনে রাখুন: MCQ-তে ‘শুধুমাত্র’ শব্দ থাকা বিকল্প প্রায়ই ভুল; আর ক্লাউড মানেই লোকাল নয়।
৫. একটা 4-bit বাইনারি সিস্টেমে শূণ্য এর 2's complement এর ডেসিম্যাল মান কত হবে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক১৬
- খ০
- গ১৫
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. ০
প্রশ্নটি টুজ কমপ্লিমেন্ট পদ্ধতি যাচাই করছে। কোনো সংখ্যার টুজ কমপ্লিমেন্ট পেতে দুটি ধাপ: প্রথমে সব বিট উল্টে ওয়ানস কমপ্লিমেন্ট নিন, তারপর এক যোগ করুন। প্রশ্নে বানানটি ‘শূণ্য’ ছাপা হয়েছে, সঠিক বানান ‘শূন্য’।
চার বিটে শূন্য হলো শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য। সব বিট উল্টালে হয় এক এক এক এক, দশমিকে পনেরো। এর সঙ্গে এক যোগ করলে হয় এক শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য, যা পাঁচ বিটের সংখ্যা।
কিন্তু ব্যবস্থাটি চার বিটের, তাই বাঁ দিকের বাড়তি পঞ্চম বিট, মানে ক্যারি, ফেলে দেওয়া হয়। থাকে শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য, অর্থাৎ শূন্য। তাই শূন্যের টুজ কমপ্লিমেন্টও শূন্য; এই পদ্ধতিতে শূন্যের একটিই রূপ থাকে, যা এর বড় সুবিধা।
দুটি ফাঁদ আছে। ওয়ানস কমপ্লিমেন্টে থেমে গেলে উত্তর আসে পনেরো, আর ক্যারি না ফেললে পাঁচ বিটের এক শূন্য শূন্য শূন্য শূন্য, মানে ষোলো।
মনে রাখুন: যেকোনো n-বিট ব্যবস্থায় শূন্যের 2's complement সবসময় শূন্য; হিসাব না করেও উত্তর।
৬. GHz কিসের একক? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কমেমরির আকার
- খপ্রসেসরের গতি
- গতথ্য স্থানান্তরের গতি
- ঘতথ্য উৎপাদনের পরিমাণ
সঠিক উত্তর: খ. প্রসেসরের গতি
গিগাহার্টজ কম্পাঙ্কের একক, আর কম্পিউটারে এটি দিয়ে প্রসেসরের ক্লক স্পিড বা গতি মাপা হয়। হার্টজ মানে প্রতি সেকেন্ডে একটি চক্র, আর গিগা মানে একশো কোটি।
প্রসেসরের ভেতরে একটি ঘড়ি নির্দিষ্ট ছন্দে স্পন্দন দেয়, আর প্রতিটি স্পন্দনে প্রসেসর কাজের একটি ধাপ এগোয়। তিন গিগাহার্টজ প্রসেসর মানে এর ঘড়ি সেকেন্ডে তিনশো কোটিবার স্পন্দিত হয়।
অন্য এককগুলো আলাদা করে মনে রাখুন। মেমোরির আকার মাপা হয় বাইটে, যেমন গিগাবাইট; আর তথ্য স্থানান্তরের গতি মাপা হয় বিট প্রতি সেকেন্ডে, যেমন মেগাবিট প্রতি সেকেন্ড।
ফাঁদ হলো গিগাহার্টজ আর গিগাবাইটের মিল। দুটোতেই গিগা আছে, কিন্তু হার্টজ মানে কম্পাঙ্ক বা গতি, আর বাইট মানে তথ্যের পরিমাণ।
মনে রাখুন: হার্টজ মানে গতি, বাইট মানে আকার, bps মানে স্থানান্তর।
৭. কম্পিউটার সায়েন্সে Trojan Horse একটি- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কছবি এডিট করার সফটওয়্যার
- খঅপারেটিং সিস্টেম
- গপ্রোগ্রামিং ল্যাঙ্গুয়েজ
- ঘম্যালওয়্যার
সঠিক উত্তর: ঘ. ম্যালওয়্যার
ট্রোজান হর্স এক ধরনের ম্যালওয়্যার, মানে ক্ষতিকর সফটওয়্যার। এটি নিজেকে দরকারি বা আকর্ষণীয় প্রোগ্রাম, যেমন ফ্রি গেম বা ক্র্যাক করা সফটওয়্যারের ছদ্মবেশে আনে, আর ব্যবহারকারী নিজেই সেটি ইনস্টল করেন।
নামটি এসেছে গ্রিক উপকথা থেকে। ট্রয় নগরীর দেয়াল ভাঙতে না পেরে গ্রিকরা একটি বিশাল কাঠের ঘোড়া রেখে যায়, যার ভেতরে সৈন্য লুকানো ছিল। ট্রয়বাসী ঘোড়াটি ভেতরে নেওয়ার পর রাতে সৈন্যরা বেরিয়ে শহর দখল করে।
কম্পিউটারেও তাই: ঢোকার পর ট্রোজান গোপনে পাসওয়ার্ড চুরি করতে পারে, দূর থেকে কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণের পথ খুলে দিতে পারে, বা অন্য ম্যালওয়্যার নামাতে পারে। ভাইরাস ও ওয়ার্মের সঙ্গে পার্থক্য হলো, ট্রোজান নিজে নিজে কপি তৈরি করে ছড়ায় না।
বাকি বিকল্পগুলো নামের সঙ্গে মেলে না: ট্রোজান কোনো ছবি সম্পাদনার সফটওয়্যার, অপারেটিং সিস্টেম বা প্রোগ্রামিং ভাষা নয়।
মনে রাখুন: ছদ্মবেশ = Trojan, নিজে ছড়ায় = Worm, ফাইলে লেগে ছড়ায় = Virus।
৮. ডেটাবেস হল- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কতথ্য রাখার হার্ডওয়্যারসমূহ
- খতথ্য রাখার প্রোগ্রামসমূহ
- গতথ্যসমূহের সুসঙ্গঠিত রূপ
- ঘতথ্য স্থানান্তরের জন্য ইন্টারনেট পরিষেবা
সঠিক উত্তর: গ. তথ্যসমূহের সুসঙ্গঠিত রূপ
ডেটাবেস হলো পরস্পর সম্পর্কিত তথ্যের সুসংগঠিত সংগ্রহ, যেখান থেকে সহজে তথ্য খোঁজা, যোগ করা, বদলানো ও মোছা যায়। প্রশ্নে বানানটি ‘সুসঙ্গঠিত’ ছাপা হয়েছে, প্রমিত বানান ‘সুসংগঠিত’।
ডেটাবেসে তথ্য সাধারণত টেবিলে সাজানো থাকে। প্রতিটি সারি একটি রেকর্ড, যেমন একজন ছাত্রের সব তথ্য, আর প্রতিটি কলাম একটি ফিল্ড, যেমন নাম বা রোল নম্বর। এভাবে সাজানো বলেই হাজার হাজার রেকর্ডের মধ্যেও মুহূর্তে কাঙ্ক্ষিত তথ্য পাওয়া যায়।
ডেটাবেস চালানোর সফটওয়্যারকে বলে ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম বা ডিবিএমএস, যেমন মাইএসকিউএল, ওরাকল বা মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস। আর তথ্য যেখানে ভৌতভাবে থাকে, সেটি হার্ড ডিস্ক বা সার্ভারের মতো হার্ডওয়্যার।
ফাঁদ হলো প্রোগ্রাম আর হার্ডওয়্যার। ডেটাবেস নিজে তথ্যের সংগঠিত রূপ; তা চালানোর প্রোগ্রামটি হলো ডিবিএমএস, আর হার্ডওয়্যার কেবল তা রাখার জায়গা।
মনে রাখুন: Data = কাঁচা তথ্য, Database = সাজানো তথ্য, DBMS = সাজানো তথ্য চালানোর সফটওয়্যার।
৯. Transmission Control Protocol (TCP) OSI রেফারেন্স মডেলের কোন্ লেয়ারের প্রোটোকল? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅ্যাপ্লিকেশন লেয়ার
- খনেটওয়ার্ক লেয়ার
- গট্রান্সপোর্ট লেয়ার
- ঘডেটালিঙ্ক লেয়ার
সঠিক উত্তর: গ. ট্রান্সপোর্ট লেয়ার
ওএসআই রেফারেন্স মডেল নেটওয়ার্ক যোগাযোগকে সাতটি স্তরে ভাগ করে: নিচ থেকে ফিজিক্যাল, ডেটা লিংক, নেটওয়ার্ক, ট্রান্সপোর্ট, সেশন, প্রেজেন্টেশন ও অ্যাপ্লিকেশন। টিসিপি, মানে ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল, চতুর্থ স্তর ট্রান্সপোর্ট লেয়ারের প্রোটোকল।
ট্রান্সপোর্ট লেয়ারের কাজ হলো এক কম্পিউটারের নির্দিষ্ট প্রোগ্রাম থেকে আরেক কম্পিউটারের নির্দিষ্ট প্রোগ্রামে পুরো তথ্য ঠিকঠাক পৌঁছে দেওয়া। টিসিপি আগে সংযোগ স্থাপন করে, তথ্যকে খণ্ডে ভাগ করে নম্বর দেয়, প্রাপ্তি নিশ্চিত করে, আর কোনো খণ্ড হারালে আবার পাঠায়। তাই একে নির্ভরযোগ্য ও সংযোগভিত্তিক প্রোটোকল বলে।
একই স্তরের আরেক প্রোটোকল ইউডিপি, যা দ্রুত কিন্তু প্রাপ্তি নিশ্চিত করে না। আর আইপি কাজ করে তার নিচের নেটওয়ার্ক লেয়ারে, ঠিকানা দেখে পথ ঠিক করে।
ফাঁদ হলো নেটওয়ার্ক লেয়ার, কারণ টিসিপি আর আইপি প্রায় সবসময় একসঙ্গে টিসিপি-আইপি নামে উচ্চারিত হয়। কিন্তু নামের প্রথম অংশ টিসিপি ট্রান্সপোর্টে, দ্বিতীয় অংশ আইপি নেটওয়ার্কে।
মনে রাখুন: TCP/IP নামের TCP = ট্রান্সপোর্ট (স্তর ৪), IP = নেটওয়ার্ক (স্তর ৩)।
১০. আপনার পারসোনাল কম্পিউটারে (পিসি) কোন একটি প্রোগ্রাম এর কর্মদক্ষতা (performance) বৃদ্ধির জন্য কোন্ কাজটি করা সর্বোত্তম হবে বলে আপনি মনে করেন? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপ্রোগ্রামটির জন্য এমন একটা এলগরিদম তৈরি করা যা asymptotically faster
- খপিসির Configuration উন্নত করা
- গখুব দ্রুত গতির I/O devices লাগানো
- ঘখ এবং গ উভয়েই
সঠিক উত্তর: ক. প্রোগ্রামটির জন্য এমন একটা এলগরিদম তৈরি করা যা asymptotically faster
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে একটি প্রোগ্রামের কর্মদক্ষতা বাড়ানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় কী। উত্তর এমন অ্যালগরিদম তৈরি করা, যা অ্যাসিম্পটোটিক্যালি দ্রুত, মানে ইনপুট বড় হলে যার সময় অনেক কম হারে বাড়ে।
হার্ডওয়্যার উন্নত করলে গতি বাড়ে একটি নির্দিষ্ট গুণক পরিমাণ, ধরুন দুই বা চার গুণ, এবং তা ইনপুট যত বড়ই হোক মোটামুটি একই থাকে। কিন্তু ভালো অ্যালগরিদম সমস্যার মূল হিসাবটাই কমিয়ে দেয়, তাই ইনপুট যত বড়, লাভ তত বেশি।
উদাহরণ দিই। দশ লাখ সংখ্যা সাজাতে এন বর্গ ধাপের পদ্ধতি নেয় প্রায় এক লক্ষ কোটি ধাপ, আর এন লগ এন পদ্ধতি নেয় মাত্র দুই কোটির মতো ধাপ; পার্থক্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার গুণ। কোনো কম্পিউটার আপগ্রেডে এত গতি বাড়ানো সম্ভব নয়।
ফাঁদ হলো ‘খ এবং গ উভয়েই’। কনফিগারেশন বা দ্রুত ইনপুট-আউটপুট যন্ত্র কিছুটা সাহায্য করে ঠিকই, কিন্তু সর্বোত্তম উপায় জানতে চাইলে উত্তর অ্যালগরিদম।
মনে রাখুন: সফটওয়্যারের গতির প্রশ্নে ‘asymptotically faster algorithm’ থাকলে সেটিই সাধারণত সর্বোত্তম উত্তর।
১১. কোনটি কম্বিনেশনাল লজিক সার্কিট নয়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- করেজিস্টার
- খডিকোডার
- গমাল্টিপ্লেক্সার
- ঘNAND গেট
সঠিক উত্তর: ক. রেজিস্টার
ডিজিটাল সার্কিট দুই ধরনের। কম্বিনেশনাল সার্কিটের আউটপুট নির্ভর করে শুধু এই মুহূর্তের ইনপুটের ওপর; এর কোনো স্মৃতি নেই। সিকুয়েন্সিয়াল সার্কিটের আউটপুট নির্ভর করে বর্তমান ইনপুট আর আগের অবস্থা দুটোর ওপর; তাই এর স্মৃতি থাকে।
রেজিস্টার তৈরি হয় কয়েকটি ফ্লিপ-ফ্লপ দিয়ে, আর প্রতিটি ফ্লিপ-ফ্লপ একটি করে বিট মনে রাখে। ইনপুট বদলে গেলেও রেজিস্টার আগের তথ্য ধরে রাখে, তাই এটি সিকুয়েন্সিয়াল সার্কিট, কম্বিনেশনাল নয়।
ডিকোডার কয়েকটি ইনপুট বিট দেখে নির্দিষ্ট একটি আউটপুট লাইন চালু করে, আর মাল্টিপ্লেক্সার অনেক ইনপুটের মধ্যে একটিকে বেছে আউটপুটে পাঠায়। দুটোই শুধু বর্তমান ইনপুট দেখে কাজ করে। ন্যান্ড গেট নিজেই মৌলিক কম্বিনেশনাল উপাদান।
ফাঁদ হলো ন্যান্ড গেট। একে সর্বজনীন গেট বলা হয় এবং ফ্লিপ-ফ্লপ বানাতেও ব্যবহার হয়, তাই অনেকে দ্বিধায় পড়েন। কিন্তু একটি একক ন্যান্ড গেটের কোনো স্মৃতি নেই, তাই এটি কম্বিনেশনাল।
মনে রাখুন: স্মৃতি থাকলে সিকুয়েন্সিয়াল: ফ্লিপ-ফ্লপ, রেজিস্টার, কাউন্টার। বাকি গেট, অ্যাডার, এনকোডার, ডিকোডার, MUX, DEMUX কম্বিনেশনাল।
১২. মোবাইল ফোন অপারেটররা কোন্ অ্যালগরিদম ব্যবহার করে লোকেশন ট্র্যাক করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কShortest Path
- খTriangulation
- গNearest-neighbour
- ঘEncryption
সঠিক উত্তর: খ. Triangulation
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে মোবাইল অপারেটর কোন পদ্ধতিতে ফোনের অবস্থান বের করে। উত্তর ট্রায়াঙ্গুলেশন বা ত্রিভুজায়ন।
ফোন সবসময় কাছের কয়েকটি টাওয়ারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখে। টাওয়ার সিগন্যালের শক্তি, সিগন্যাল পৌঁছানোর সময় বা আসার দিক মেপে বোঝে ফোনটা মোটামুটি কত দূরে বা কোন দিকে। একটি টাওয়ার দিলে শুধু একটা বৃত্ত পাওয়া যায়, দুটি দিলে দুটি সম্ভাব্য বিন্দু, আর তিনটি টাওয়ারের মাপ মেলালে একটি নির্দিষ্ট জায়গা।
কঠোর অর্থে দূরত্ব দিয়ে মাপাকে বলে ট্রাইল্যাটারেশন আর কোণ দিয়ে মাপাকে ট্রায়াঙ্গুলেশন; তবে সাধারণ ভাষায় দুটোকেই ট্রায়াঙ্গুলেশন বলা হয়। জিপিএসও দূরত্বভিত্তিক একই ধারণায় কাজ করে।
বাকিগুলো অন্য কাজের অ্যালগরিদম। শর্টেস্ট পাথ দুই জায়গার মধ্যে সবচেয়ে ছোট পথ খোঁজে, নিয়ারেস্ট নেইবার সবচেয়ে কাছের বিন্দু খোঁজে, আর এনক্রিপশন তথ্য গোপন রাখে। ম্যাপ অ্যাপের কথা ভেবে অনেকে শর্টেস্ট পাথ বেছে নেন, এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: অবস্থান বের করতে অন্তত ৩টি রেফারেন্স (টাওয়ার বা স্যাটেলাইট) লাগে; নামেই ‘Tri’।
১৩. HTTPS কোন বৈশিষ্ট্য HTTP-এর সাথে যোগ করে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কSecurity
- খStandardization
- গSoftware
- ঘSense
সঠিক উত্তর: ক. Security
এইচটিটিপিএস মানে হাইপারটেক্সট ট্রান্সফার প্রোটোকল সিকিউর। নামের শেষের এস অক্ষরটিই বলে দেয় এটি এইচটিটিপির সঙ্গে নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি যোগ করে।
সাধারণ এইচটিটিপিতে ব্রাউজার আর সার্ভারের মধ্যে তথ্য খোলা অবস্থায় যায়, তাই পথে কেউ পাসওয়ার্ড বা কার্ডের তথ্য পড়ে ফেলতে পারে। এইচটিটিপিএস তথ্য পাঠানোর আগে টিএলএস, যার পুরোনো নাম এসএসএল, দিয়ে এনক্রিপ্ট করে নেয়।
এটি তিনটি জিনিস নিশ্চিত করে: তথ্য গোপন থাকে, পথে কেউ বদলাতে পারে না, আর ডিজিটাল সার্টিফিকেট দেখে বোঝা যায় সাইটটি আসল। ব্রাউজারের ঠিকানা-বারের তালা চিহ্ন এটাই বোঝায়। এইচটিটিপির ডিফল্ট পোর্ট আশি, এইচটিটিপিএসের চারশো তেতাল্লিশ।
বাকি তিনটি বিকল্প শুধু এস অক্ষর দিয়ে শুরু হওয়া শব্দ, যাতে আন্দাজে কেউ ভুল করেন। স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন, সফটওয়্যার বা সেন্সের সঙ্গে এইচটিটিপিএসের কোনো সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: HTTPS-এর S = Secure; ঠিকানা-বারে তালা চিহ্ন দেখুন।
১৪. OCR ______ থেকে _____ এ রূপান্তরের জন্য ব্যবহার করা হয়। (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅডিও হতে টেক্সট
- খইমেজ হতে টেক্সট
- গভিডিও হতে টেক্সট
- ঘবাইনারি হতে ডেসিমেল
সঠিক উত্তর: খ. ইমেজ হতে টেক্সট
ওসিআর মানে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন। এটি ছবি বা স্ক্যান করা কাগজের ভেতরের লেখা অক্ষর চিনে সম্পাদনযোগ্য টেক্সটে রূপান্তর করে, তাই উত্তর ইমেজ হতে টেক্সট।
স্ক্যানার বা ক্যামেরা কাগজের একটি ছবি তোলে; কম্পিউটারের কাছে তখন সেটা কেবল পিক্সেলের সমষ্টি। ওসিআর সফটওয়্যার আকৃতি মিলিয়ে প্রতিটি অক্ষর চেনে, ফলে সেই লেখা কপি, সম্পাদনা বা খোঁজা যায়। মোবাইলে ছবি থেকে লেখা কপি করার সুবিধাটিও ওসিআর।
কাছাকাছি প্রযুক্তি আলাদা করে মনে রাখুন। ওএমআর কাগজে দাগানো ঘর পড়ে, যেমন বিসিএসের এমসিকিউ উত্তরপত্র। এমআইসিআর চৌম্বক কালিতে ছাপা ব্যাংকের চেকের নম্বর পড়ে। আর অডিও থেকে টেক্সট করাকে বলে স্পিচ রিকগনিশন।
ফাঁদ হলো অডিও হতে টেক্সট। ভয়েস টাইপিং পরিচিত বলে অনেকে এটি বেছে নেন, কিন্তু ওসিআর-এর প্রথম শব্দ অপটিক্যাল, মানে আলো বা ছবিভিত্তিক।
মনে রাখুন: OCR = ছবি থেকে লেখা, OMR = দাগ, MICR = চেক, Speech Recognition = কণ্ঠ।
১৫. স্মার্টফোনে GPS ব্যবহারের জন্য কোনটি প্রয়োজন? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কDHCP
- খAccelerometer
- গGyroscope
- ঘSatellite Signal
সঠিক উত্তর: ঘ. Satellite Signal
জিপিএস মানে গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম, যুক্তরাষ্ট্রের স্যাটেলাইটভিত্তিক অবস্থান নির্ণয় ব্যবস্থা। ফোনের জিপিএস রিসিভার কাজ করতে হলে স্যাটেলাইটের সিগন্যাল লাগবেই, তাই উত্তর স্যাটেলাইট সিগন্যাল।
প্রতিটি জিপিএস স্যাটেলাইট অবিরাম তার অবস্থান আর অত্যন্ত নিখুঁত সময় পাঠায়। সিগন্যাল আসতে কত সময় লাগল, তা থেকে ফোন প্রতিটি স্যাটেলাইটের দূরত্ব হিসাব করে।
তিনটি স্যাটেলাইটের দূরত্ব মেলালে অবস্থান পাওয়া যায়, আর চতুর্থটি লাগে ফোনের ঘড়ির ভুল শোধরাতে। তাই নিখুঁত অবস্থানের জন্য অন্তত চারটি স্যাটেলাইটের সিগন্যাল দরকার। খোলা আকাশে জিপিএস ভালো কাজ করে, ঘরের ভেতরে দুর্বল হয়।
বাকিগুলো সহায়ক বা অপ্রাসঙ্গিক। অ্যাক্সেলেরোমিটার মাপে গতির পরিবর্তন, জাইরোস্কোপ মাপে ঘূর্ণন; এরা ন্যাভিগেশনে সাহায্য করে, কিন্তু অবস্থান নির্ণয় করতে পারে না। আর ডিএইচসিপি নেটওয়ার্কে যন্ত্রকে আইপি ঠিকানা দেয়, জিপিএসের সঙ্গে সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: GPS = স্যাটেলাইট; অবস্থানের জন্য ৩টি, ঘড়ি ঠিক রাখতে আরও ১টি, মোট অন্তত ৪টি।
১৬. QR কোডে ব্যবহৃত হয় - (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কতড়িৎ চৌম্বকত্ব
- খরেডিও ফ্রিকুয়েন্সি
- গকোয়ান্টাম কম্পিউটিং
- ঘঅপটিক্যাল রিডিং
সঠিক উত্তর: ঘ. অপটিক্যাল রিডিং
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কিউআর কোডে কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। উত্তর অপটিক্যাল রিডিং, অর্থাৎ আলো দিয়ে ছবি দেখে পড়া।
কিউআর মানে কুইক রেসপন্স। এটি সাদা-কালো ছোট বর্গের নকশায় তথ্য লিখে রাখা একটি দ্বিমাত্রিক বারকোড। মোবাইলের ক্যামেরা নকশাটির ছবি তোলে, তারপর সফটওয়্যার সাদা-কালো ঘর পড়ে তথ্য, যেমন ওয়েব ঠিকানা বা পেমেন্টের নম্বর, বের করে। পুরো কাজটি আলো আর ছবির ওপর নির্ভর, তাই অপটিক্যাল।
জাপানের ডেনসো ওয়েভ কোম্পানির প্রকৌশলী মাসাহিরো হারা ১৯৯৪ সালে গাড়ির যন্ত্রাংশ দ্রুত শনাক্ত করতে কিউআর কোড তৈরি করেন। এখন বিকাশ বা নগদের পেমেন্ট থেকে টিকিট পর্যন্ত সবখানে এর ব্যবহার।
ফাঁদ রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি, কারণ আরএফআইডি ট্যাগও পণ্য শনাক্তে ব্যবহৃত হয়। কিন্তু আরএফআইডি রেডিও তরঙ্গে পড়া হয়, দেখা না গেলেও; কিউআর কোড ক্যামেরায় চোখে দেখা যেতে হয়। চুম্বকীয় ফিতার কার্ড তড়িৎ চৌম্বকত্বে পড়া হয়, আর কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের সঙ্গে কিউআর-এর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: QR (Quick Response) ও বারকোড দুটোই অপটিক্যাল; RFID ও NFC রেডিও তরঙ্গে।
১৭. Precision Agriculture এ সাধারণত নিচের কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কইনফ্রা রেড ইমেজিং
- খআই.ও.টি (IoT), সেন্সর
- গতার মাধ্যম সম্পন্ন নেটওয়ার্ক
- ঘও.এল.ই.ডি (OLED) ডিসপ্লে
সঠিক উত্তর: খ. আই.ও.টি (IoT), সেন্সর
প্রশ্নটি প্রিসিশন এগ্রিকালচার বা সূক্ষ্ম কৃষিতে ব্যবহৃত প্রযুক্তি জানতে চেয়েছে। উত্তর আইওটি এবং সেন্সর।
প্রিসিশন এগ্রিকালচার মানে পুরো জমিকে এক রকম না ধরে প্রতিটি অংশের প্রকৃত চাহিদা মেপে ঠিক ততটুকু পানি, সার বা কীটনাশক দেওয়া। এতে খরচ কমে, ফলন বাড়ে, পরিবেশের ক্ষতিও কমে।
এর জন্য জমিতে বসানো থাকে মাটির আর্দ্রতা, তাপমাত্রা, পুষ্টি মাপার সেন্সর। আইওটি বা ইন্টারনেট অব থিংস এই সেন্সরগুলোকে ইন্টারনেটে যুক্ত করে তথ্য কৃষকের মোবাইলে পাঠায়, প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেচ চালু করে। সঙ্গে জিপিএস, ড্রোন আর উপগ্রহের ছবিও ব্যবহৃত হয়।
ফাঁদ ইনফ্রারেড ইমেজিং, কারণ ড্রোন বা উপগ্রহের অবলোহিত ছবি দিয়েও ফসলের স্বাস্থ্য দেখা হয়। কিন্তু এটি সহায়ক একটি পদ্ধতি; মূল ও সাধারণ ভিত্তি আইওটি আর সেন্সর। তারযুক্ত নেটওয়ার্ক মাঠে অবাস্তব, আর ওএলইডি শুধু একটি পর্দার প্রযুক্তি।
মনে রাখুন: স্মার্ট কৃষি, স্মার্ট হোম, স্মার্ট সিটি: সবখানে মূল প্রযুক্তি IoT ও সেন্সর।
১৮. অপারেটিং সিস্টেমে ভার্চুয়াল মেমোরি ব্যবহার করা হয়- (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কঅনেক বেশি ডেটা সংরক্ষণের জন্য
- খক্লাউডে ডেটা সংরক্ষণের জন্য
- গসেকেন্ডারি স্টোরেজ ব্যবহার করে RAM বাড়াতে
- ঘএক্সটারনাল মেমোরি সংযোগের জন্য
সঠিক উত্তর: গ. সেকেন্ডারি স্টোরেজ ব্যবহার করে RAM বাড়াতে
প্রশ্নটি অপারেটিং সিস্টেমে ভার্চুয়াল মেমোরির কাজ জানতে চেয়েছে। উত্তর সেকেন্ডারি স্টোরেজ ব্যবহার করে র্যাম বাড়ানো, অর্থাৎ র্যাম কম পড়লে হার্ডডিস্ক বা এসএসডির একটি অংশকে র্যামের মতো ব্যবহার করা।
ধরুন র্যাম আট গিগাবাইট, কিন্তু খোলা প্রোগ্রামগুলোর দরকার বারো গিগাবাইট। তখন অপারেটিং সিস্টেম কম ব্যবহৃত অংশগুলো ডিস্কের একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সরিয়ে রাখে; উইন্ডোজে একে পেজ ফাইল, লিনাক্সে সোয়াপ বলে। দরকার হলে আবার র্যামে ফিরিয়ে আনে। প্রোগ্রামের কাছে মনে হয়, র্যাম অনেক বড়।
এই আদান-প্রদানকে পেজিং বা সোয়াপিং বলে। এতে কম র্যামেও বড় প্রোগ্রাম চলে, তবে ডিস্ক র্যামের চেয়ে অনেক ধীর বলে বেশি নির্ভর করলে কম্পিউটার ধীর হয়ে যায়।
ফাঁদ হলো অনেক বেশি ডেটা সংরক্ষণ। ভার্চুয়াল মেমোরি স্থায়ী সংরক্ষণের জন্য নয়, চলমান প্রোগ্রামের জন্য সাময়িক জায়গা। ক্লাউড বা এক্সটারনাল মেমোরির সঙ্গে এর সম্পর্ক নেই।
মনে রাখুন: Virtual memory = RAM + ডিস্কের অংশ (page file / swap); কাজ: RAM-কে বড় দেখানো, স্থায়ী সংরক্ষণ নয়।
১৯. কম্পিউটার সিস্টেমের বেঞ্চমার্কিং করা হয় কী পরিমাপের জন্য? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কসিস্টেমের দাম
- খসিস্টেমের কর্ম ক্ষমতা (Performance)
- গশুধু বিদ্যুৎ শক্তি খরচের পরিমাণ
- ঘস্টোরেজের ধারণ ক্ষমতা
সঠিক উত্তর: খ. সিস্টেমের কর্ম ক্ষমতা (Performance)
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কম্পিউটার সিস্টেমের বেঞ্চমার্কিং কী মাপার জন্য করা হয়। উত্তর সিস্টেমের কর্মক্ষমতা বা পারফরম্যান্স।
বেঞ্চমার্ক হলো আদর্শ পরীক্ষা: সব কম্পিউটারকে একই নির্দিষ্ট কাজ দেওয়া হয়, তারপর দেখা হয় কে কত দ্রুত বা কত ভালোভাবে করল। এর ফল একটি স্কোর, যা দিয়ে প্রসেসর, গ্রাফিক্স কার্ড, মেমোরি বা স্টোরেজের গতি তুলনা করা যায়।
যেমন মোবাইল বা ল্যাপটপের রিভিউতে যে স্কোর দেখা যায়, সেগুলো বেঞ্চমার্ক সফটওয়্যারের ফল। সুপারকম্পিউটারের বিশ্ব তালিকাও একটি বেঞ্চমার্ক পরীক্ষার ফল দিয়ে তৈরি হয়।
দাম, বিদ্যুৎ খরচ বা স্টোরেজের ধারণক্ষমতা সরাসরি তালিকা দেখেই জানা যায়, পরীক্ষা লাগে না। বিদ্যুৎ সাশ্রয় কখনো কখনো বেঞ্চমার্কের অংশ হয়, কিন্তু শুধু বিদ্যুৎ খরচ মাপা এর মূল উদ্দেশ্য নয়; শুধু শব্দটিই এই বিকল্পকে ভুল করে।
মনে রাখুন: Benchmark = Performance test; স্কোর দিয়ে প্রসেসর, GPU, স্টোরেজের গতি তুলনা।
২০. নিচের কোন ডিভাইসটি প্রধানত এম্বেডেড সিস্টেম ব্যবহৃত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- করাউটার
- খসুপার কম্পিউটার
- গহাই-অ্যান্ড সার্ভার
- ঘমাইক্রোকন্ট্রোলার
সঠিক উত্তর: ঘ. মাইক্রোকন্ট্রোলার
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে এম্বেডেড সিস্টেমে প্রধানত কোন যন্ত্র ব্যবহৃত হয়। উত্তর মাইক্রোকন্ট্রোলার, যা এম্বেডেড সিস্টেমের মস্তিষ্ক।
এম্বেডেড সিস্টেম হলো কোনো বড় যন্ত্রের ভেতরে বসানো ছোট কম্পিউটার, যা শুধু একটি নির্দিষ্ট কাজ করে, যেমন ওয়াশিং মেশিনের প্রোগ্রাম, মাইক্রোওয়েভের টাইমার বা গাড়ির ব্রেক নিয়ন্ত্রণ। এমন কাজে পুরো কম্পিউটার লাগে না, দরকার ছোট, সস্তা আর কম বিদ্যুতের একটি চিপ।
মাইক্রোকন্ট্রোলার ঠিক সেটাই: একটি চিপের ভেতরেই প্রসেসর, র্যাম, ফ্ল্যাশ মেমোরি আর ইনপুট-আউটপুট পোর্ট থাকে। তাই একে চিপের ওপর একটি পুরো কম্পিউটার বলা হয়।
রাউটারের ভেতরেও একটি এম্বেডেড সিস্টেম থাকে, তাই এটি ফাঁদ; কিন্তু রাউটার নিজে এম্বেডেড সিস্টেমের একটি প্রয়োগ, এম্বেডেড সিস্টেম গড়ার মূল যন্ত্র নয়। সুপারকম্পিউটার আর হাই-এন্ড সার্ভার বিশাল সাধারণ কাজের কম্পিউটার, এম্বেডেডের ঠিক বিপরীত।
মনে রাখুন: এম্বেডেড সিস্টেম প্রশ্নে মূল যন্ত্র Microcontroller; উদাহরণ Arduino-র চিপ।