কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি · পাতা ২৭
৫২১. নিচের কোন স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেমটি ওপেন সোর্স প্লাটফর্ম? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কIOS
- খWindows phone
- গAndroid
- ঘSymbian
সঠিক উত্তর: গ. Android
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন স্মার্টফোন অপারেটিং সিস্টেম ওপেন সোর্স। উত্তর অ্যান্ড্রয়েড। ওপেন সোর্স মানে সফটওয়্যারের মূল কোড সবার জন্য উন্মুক্ত: যে কেউ দেখতে, বদলাতে ও নিজের যন্ত্রে ব্যবহার করতে পারে।
অ্যান্ড্রয়েড লিনাক্স কার্নেলের ওপর তৈরি, আর গুগল এর মূল কোড অ্যান্ড্রয়েড ওপেন সোর্স প্রজেক্ট নামে উন্মুক্ত রাখে। এজন্যই স্যামসাং, শাওমি, ওয়ালটনের মতো নানা কোম্পানি নিজেদের ফোনে অ্যান্ড্রয়েড বসাতে পারে।
আইওএস অ্যাপলের নিজস্ব বন্ধ সফটওয়্যার, শুধু আইফোনে চলে। উইন্ডোজ ফোন ছিল মাইক্রোসফটের মালিকানাধীন। নোকিয়ার সিম্বিয়ান দুই হাজার দশ সালে কিছুদিন ওপেন সোর্স হলেও পরের বছরই আবার বন্ধ লাইসেন্সে ফিরে যায়।
ফাঁদ হলো আইওএস, কারণ এটি খুব জনপ্রিয়। জনপ্রিয় আর ওপেন সোর্স এক কথা নয়; আইওএস-এর কোড অ্যাপল প্রকাশ করে না।
মনে রাখুন: ওপেন সোর্স মোবাইল ওএস প্রশ্নে উত্তর অ্যান্ড্রয়েড; বন্ধ ওএস প্রশ্নে আইওএস।
৫২২. মোবাইল কমিউনিকেশনে 4G-এর ক্ষেত্রে 3G এর তুলনায় অতিরিক্ত বৈশিষ্ট্য কি? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কভয়েস টেলিফোনি
- খভিডিও কল
- গমোবাইল টিভি
- ঘব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা
সঠিক উত্তর: ঘ. ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে থ্রি-জির তুলনায় ফোর-জির বাড়তি বৈশিষ্ট্য কী। উত্তর ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবা। ফোর-জি পুরোপুরি ইন্টারনেট প্রোটোকলভিত্তিক নেটওয়ার্ক, যা থ্রি-জির চেয়ে বহুগুণ দ্রুত তারহীন ব্রডব্যান্ড দেয়।
প্রজন্মগুলো ক্রমে মনে রাখুন। ওয়ান-জি ছিল অ্যানালগ কণ্ঠস্বর। টু-জি আনে ডিজিটাল কণ্ঠস্বর ও এসএমএস। থ্রি-জি আনে মোবাইলে ডেটা, ভিডিও কল ও মোবাইল টিভি। ফোর-জি, যেমন এলটিই, আনে উচ্চগতির ব্রডব্যান্ড, যাতে মোবাইলে বাসার ইন্টারনেটের মতো এইচডি ভিডিও দেখা যায়।
মাপকাঠি হিসেবে আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়ন ফোর-জির জন্য চলন্ত অবস্থায় প্রতি সেকেন্ডে একশো মেগাবিট পর্যন্ত গতির লক্ষ্য ঠিক করেছিল, যেখানে থ্রি-জির গতি সাধারণত কয়েক মেগাবিটের ঘরে থাকে।
ফাঁদ হলো ভিডিও কল ও মোবাইল টিভি। এ দুটি থ্রি-জিতেই চালু হয়েছিল, তাই ফোর-জির নতুন বৈশিষ্ট্য নয়। আর কণ্ঠস্বর তো প্রথম প্রজন্ম থেকেই আছে।
মনে রাখুন: প্রতি প্রজন্মের একটি শব্দ: ১জি কথা, ২জি এসএমএস, ৩জি ভিডিও কল, ৪জি ব্রডব্যান্ড।
৫২৩. Oracle Corporation–এর প্রতিষ্ঠাতা কে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কBill Gates
- খTim Cook
- গAndrew S Grove
- ঘLawrence J. Ellison
সঠিক উত্তর: ঘ. Lawrence J. Ellison
প্রশ্নটি ওরাকল কর্পোরেশনের প্রতিষ্ঠাতার নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর লরেন্স জে এলিসন, যিনি ল্যারি এলিসন নামে পরিচিত। তিনি ১৯৭৭ সালে বব মাইনার ও এড ওটসের সঙ্গে মিলে কোম্পানিটি গড়েন, শুরুতে যার নাম ছিল সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ল্যাবরেটরিজ।
ওরাকল মূলত ডেটাবেজ ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যারের জন্য বিখ্যাত। তাদের ওরাকল ডেটাবেজ বিশ্বের ব্যাংক, সরকার ও বড় প্রতিষ্ঠানে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। পরে ওরাকল সান মাইক্রোসিস্টেমস কিনে নেয়, যার ফলে জাভা ভাষাও এখন ওরাকলের।
বাকি তিনজনও প্রযুক্তি জগতের বড় নাম, তবে অন্য প্রতিষ্ঠানের। বিল গেটস পল অ্যালেনের সঙ্গে মাইক্রোসফট প্রতিষ্ঠা করেন। টিম কুক অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী, প্রতিষ্ঠাতা নন। অ্যান্ড্রু গ্রোভ ইন্টেলের প্রথম দিকের কর্মী ও পরে প্রধান নির্বাহী ছিলেন।
ফাঁদ হলো বিল গেটস, কারণ সফটওয়্যার কোম্পানি শুনলেই তাঁর নাম মনে আসে।
মনে রাখুন: ওরাকল মানে ডেটাবেজ আর ল্যারি এলিসন; মাইক্রোসফট মানে বিল গেটস।
৫২৪. প্রোগ্রাম থেকে কপি করা ডাটা কোথায় থাকে? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কRAM
- খClipboard
- গTerminal
- ঘHard Disk
সঠিক উত্তর: খ. Clipboard
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনো প্রোগ্রাম থেকে কপি করা ডেটা কোথায় থাকে। উত্তর ক্লিপবোর্ড। ক্লিপবোর্ড হলো অপারেটিং সিস্টেমের একটি অস্থায়ী জমার জায়গা, যেখানে কপি বা কাট করা লেখা, ছবি বা ফাইল পেস্ট করার আগ পর্যন্ত থাকে।
কন্ট্রোল আর সি চাপলে নির্বাচিত অংশ ক্লিপবোর্ডে যায়; কন্ট্রোল আর ভি চাপলে সেখান থেকে নতুন জায়গায় বসে। সাধারণত নতুন কিছু কপি করলে আগেরটি মুছে যায়, আর কম্পিউটার বন্ধ করলে ক্লিপবোর্ড খালি হয়ে যায়।
সূক্ষ্ম বিষয় হলো, ক্লিপবোর্ড নিজে র্যামের একটি অংশ ব্যবহার করে। কিন্তু প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কপি করা ডেটার নির্দিষ্ট জায়গার নাম, আর সেই নাম ক্লিপবোর্ড।
তাই মূল ফাঁদ র্যাম। আর হার্ডডিস্কে ফাইল স্থায়ীভাবে থাকে, কপি করা অংশ নয়; টার্মিনাল হলো আদেশ লেখার পর্দা বা যন্ত্র।
মনে রাখুন: কপি-পেস্টের মাঝের থাকার জায়গা মানেই ক্লিপবোর্ড।
৫২৫. পারসোনাল কম্পিউটার যুক্ত করে নিচের কোনটি তৈরি করা যায়? (৩৫তম বিসিএস, ২০১৫)
- কSupercomputer
- খNetwork
- গServer
- ঘEnterprise
সঠিক উত্তর: খ. Network
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কয়েকটি পার্সোনাল কম্পিউটার যুক্ত করলে কী তৈরি হয়। উত্তর নেটওয়ার্ক। দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে তার বা তারহীন মাধ্যমে যুক্ত করলে তারা তথ্য, ফাইল ও প্রিন্টারের মতো যন্ত্র ভাগাভাগি করতে পারে; এই ব্যবস্থার নামই কম্পিউটার নেটওয়ার্ক।
আকার অনুযায়ী নেটওয়ার্ক কয়েক রকম। একটি ঘর বা অফিসের ভেতরে ল্যান, একটি শহর জুড়ে ম্যান, আর দেশ বা মহাদেশ জুড়ে ওয়ান। ইন্টারনেট পৃথিবীর সবচেয়ে বড় ওয়ান।
সার্ভার হলো নেটওয়ার্কের ভেতরে একটি বিশেষ কম্পিউটার, যা অন্যদের সেবা দেয়। সুপার কম্পিউটার বিশেষভাবে নকশা করা, হাজার হাজার প্রসেসরের অত্যন্ত শক্তিশালী ব্যবস্থা; কয়েকটি পিসি যুক্ত করলেই তা সুপার কম্পিউটার হয় না।
ফাঁদ হলো সার্ভার, কারণ নেটওয়ার্কে সার্ভার থাকে। কিন্তু কয়েকটি পিসি যুক্ত করার ফল পুরো নেটওয়ার্ক, সার্ভার তার একটি অংশ মাত্র।
মনে রাখুন: যুক্ত করা, সংযোগ, ভাগাভাগি শব্দ দেখলে উত্তর নেটওয়ার্ক।
৫২৬. The term PC means- (৩৪তম বিসিএস, ২০১৩)
- কPrivate Computer
- খPrime Computer
- গPersonal Computer
- ঘProfessional Computer
সঠিক উত্তর: গ. Personal Computer
প্রশ্নটি পিসি সংক্ষেপের পূর্ণরূপ জানতে চেয়েছে। উত্তর পার্সোনাল কম্পিউটার, অর্থাৎ ব্যক্তিগত কম্পিউটার। একজন মানুষ একা ব্যবহার করার জন্য তৈরি মাইক্রোপ্রসেসরভিত্তিক কম্পিউটারকেই পিসি বলে।
আকার ও ক্ষমতা অনুযায়ী কম্পিউটারকে চার ভাগে ভাগ করা হয়: সুপার কম্পিউটার, মেইনফ্রেম, মিনি কম্পিউটার আর মাইক্রো কম্পিউটার। পিসি হলো মাইক্রো কম্পিউটার; ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাবলেট সবই এর মধ্যে পড়ে।
পিসি নামটি জনপ্রিয় হয় ১৯৮১ সালে আইবিএম তাদের আইবিএম পার্সোনাল কম্পিউটার বাজারে আনার পর। এর আগে কম্পিউটার মানে ছিল প্রতিষ্ঠানের ঘর ভরা বড় যন্ত্র।
প্রাইভেট, প্রাইম বা প্রফেশনাল শব্দগুলোও পি দিয়ে শুরু, তাই অনুমানে ভুলের ফাঁদ। প্রাইম আসলে একটি পুরোনো কম্পিউটার কোম্পানির নাম ছিল, পিসির পূর্ণরূপ নয়।
মনে রাখুন: পিসি মানে Personal Computer; পি-দিয়ে শুরু অন্য শব্দ দেখে বিভ্রান্ত হবেন না।
৫২৭. ইন্টারনেট চালুর বছর- (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ক১৯৫৯
- খ১৯৬৫
- গ১৯৬৯
- ঘ১৯৮১
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৬৯
প্রশ্নটি ইন্টারনেটের শুরুর বছর জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৬৯। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের গবেষণা সংস্থা আরপা তাদের আরপানেট নেটওয়ার্ক চালু করে, যাকে ইন্টারনেটের সূচনা ধরা হয়।
আরপানেট প্রথমে চারটি জায়গার কম্পিউটারকে যুক্ত করে: ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় লস অ্যাঞ্জেলেস, স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট, ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয় সান্তা বারবারা আর ইউটাহ বিশ্ববিদ্যালয়। ১৯৬৯ সালের অক্টোবরে প্রথম বার্তা পাঠানো হয়।
পরে ১৯৮৩ সালে আরপানেট টিসিপি-আইপি প্রোটোকল গ্রহণ করে, যা আজকের ইন্টারনেটের ভিত্তি। আর ১৯৯১ সালে ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব সবার জন্য উন্মুক্ত হলে ইন্টারনেট সাধারণ মানুষের হাতে আসে।
ফাঁদ হলো ১৯৬৫। ওই বছর টেলিফোন লাইনে দুটি কম্পিউটারের পরীক্ষামূলক সংযোগ হয়েছিল, কিন্তু নেটওয়ার্ক হিসেবে ইন্টারনেটের যাত্রা শুরু ১৯৬৯ সালে।
মনে রাখুন: ইন্টারনেট ১৯৬৯ (আরপানেট), টিসিপি-আইপি ১৯৮৩, ওয়েব ১৯৯১: তিনটি সাল একসঙ্গে মনে রাখুন।
৫২৮. কম্পিউটার-টু- কম্পিউটারের তথ্য আদান-প্রদানের প্রযুক্তিকে বলা হয়- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কই-মেইল
- খইন্টারকম
- গইন্টারনেট
- ঘটেলিকমিউনিকেশন
সঠিক উত্তর: গ. ইন্টারনেট
আগের বছরের প্রায় একই প্রশ্ন, শুধু শেষ বিকল্পে টেলিগ্রামের বদলে টেলিকমিউনিকেশন। উত্তর আবারও ইন্টারনেট, কারণ কম্পিউটারের সঙ্গে কম্পিউটারের তথ্য বিনিময়ের নির্দিষ্ট ব্যবস্থাই ইন্টারনেট।
টেলিকমিউনিকেশন মানে দূরে তথ্য পাঠানোর যেকোনো ব্যবস্থা: টেলিফোন, রেডিও, টেলিভিশন, মোবাইল, সবই এর মধ্যে পড়ে। এটি খুব বড় একটি ছাতা, শুধু কম্পিউটারের জন্য নয়। ইন্টারনেট এই ছাতার নিচে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের বিশেষ ব্যবস্থা।
এভাবে ধাপে ভাবা যায়: সবচেয়ে বড় পরিসর টেলিকমিউনিকেশন, তার ভেতরে কম্পিউটার নেটওয়ার্কের বিশ্বজোড়া রূপ ইন্টারনেট, আর ইন্টারনেটের ওপর চলা একটি সেবা ই-মেইল।
নতুন ফাঁদ টেলিকমিউনিকেশন। শব্দটা বড় আর প্রযুক্তিগত শোনায় বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু প্রশ্নে নির্দিষ্টভাবে কম্পিউটার থেকে কম্পিউটার বলা আছে।
মনে রাখুন: প্রশ্নে কম্পিউটার-টু-কম্পিউটার থাকলে উত্তর ইন্টারনেট; বড় ছাতা টেলিকমিউনিকেশন বা ছোট সেবা ই-মেইল নয়।
৫২৯. কম্পিউটার থেকে কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদানের প্রযুক্তিকে বলা হয়- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কই-মেইল
- খইন্টারকম
- গইন্টারনেট
- ঘটেলিগ্রাম
সঠিক উত্তর: গ. ইন্টারনেট
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন প্রযুক্তি দিয়ে এক কম্পিউটার থেকে আরেক কম্পিউটারে তথ্য আদান-প্রদান হয়। উত্তর ইন্টারনেট। ইন্টারনেট হলো সারা বিশ্বের অসংখ্য কম্পিউটার নেটওয়ার্ককে যুক্ত করা এক বিশাল নেটওয়ার্ক, তাই একে নেটওয়ার্কের নেটওয়ার্ক বলা হয়।
ইন্টারনেটে সব কম্পিউটার একই নিয়ম বা প্রোটোকল মেনে চলে, যার নাম টিসিপি-আইপি। এই সাধারণ ভাষার কারণেই ভিন্ন দেশের ভিন্ন ধরনের কম্পিউটার একে অপরের সঙ্গে তথ্য বিনিময় করতে পারে।
ই-মেইল আলাদা প্রযুক্তি নয়, এটি ইন্টারনেটের ওপর চলা একটি সেবা, যেমন ওয়েবসাইট দেখা বা ভিডিও কলও সেবা। ইন্টারকম হলো একই ভবনের ভেতরে টেলিফোনের মতো কথা বলার ব্যবস্থা, আর টেলিগ্রাম পুরোনো তারবার্তা সেবা।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ই-মেইল, কারণ এতেও কম্পিউটারে বার্তা যায়। কিন্তু ই-মেইল ইন্টারনেট ছাড়া চলে না; মূল প্রযুক্তি ইন্টারনেটই।
মনে রাখুন: প্রযুক্তি বা ব্যবস্থা চাইলে ইন্টারনেট; সেবা বা মাধ্যমে বার্তা পাঠানো চাইলে ই-মেইল।
৫৩০. কম্পিউটারের স্থায়ী স্মৃতিশক্তিকে কি বলে? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কRAM
- খROM
- গহার্ডওয়্যার
- ঘসফ্টওয়্যার
সঠিক উত্তর: খ. ROM
প্রশ্নটি কম্পিউটারের স্থায়ী স্মৃতি বা মেমোরির নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর রম, পুরো নাম রিড অনলি মেমোরি। এতে কারখানাতেই প্রয়োজনীয় নির্দেশনা লিখে দেওয়া থাকে, আর বিদ্যুৎ চলে গেলেও তথ্য মুছে যায় না।
কম্পিউটার চালু হওয়ার মুহূর্তে কী করতে হবে, সেই প্রাথমিক নির্দেশনা বা বায়োস রমে থাকে। তাই সুইচ দিলেই কম্পিউটার নিজেকে পরীক্ষা করে অপারেটিং সিস্টেম চালু করতে পারে।
অন্যদিকে র্যাম বা র্যান্ডম অ্যাক্সেস মেমোরি অস্থায়ী। কাজ চলার সময় প্রোগ্রাম ও ডেটা র্যামে থাকে, কিন্তু বিদ্যুৎ বন্ধ হলে সব মুছে যায়। এজন্য র্যামকে উদ্বায়ী আর রমকে অনুদ্বায়ী মেমোরি বলে।
হার্ডওয়্যার আর সফটওয়্যার মেমোরির নামই নয়; প্রথমটি যন্ত্রাংশ, দ্বিতীয়টি প্রোগ্রাম। মূল ফাঁদ র্যাম, কারণ দুটোই প্রধান মেমোরি বলে নাম দুটো গুলিয়ে যায়।
মনে রাখুন: স্থায়ী, অনুদ্বায়ী, নন-ভোলাটাইল দেখলেই রম; অস্থায়ী, উদ্বায়ী দেখলেই র্যাম।
৫৩১. পৃথিবীতে কখন ল্যাপটপ কম্পিউটার প্রবর্তিত হয় এবং কোন কোম্পানি এটা তৈরি করে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ককমপ্যাক, ১৯৮৫
- খএপসন, ১৯৮১
- গআইবিএম, ১৯৮৩
- ঘঅ্যাপল, ১৯৭৭
সঠিক উত্তর: খ. এপসন, ১৯৮১
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে প্রথম ল্যাপটপ কবে এবং কোন কোম্পানি তৈরি করে। প্রচলিত উত্তর জাপানের এপসন কোম্পানি, ১৯৮১ সাল। ওই বছর এপসন তাদের এইচএক্স-বিশ নামের ছোট বহনযোগ্য কম্পিউটারটি ঘোষণা করে, আর পরের বছর জুলাইয়ে সেটি বাজারে আসে।
এইচএক্স-বিশ ছিল একটি খাতার মাপের কম্পিউটার। এর ভেতরেই কি-বোর্ড, ছোট পর্দা, ছোট প্রিন্টার আর রিচার্জেবল ব্যাটারি ছিল, তাই কোলে রেখে বা যেকোনো জায়গায় নিয়ে চালানো যেত। এ কারণে একে প্রথম নোটবুক আকারের বহনযোগ্য কম্পিউটার বলা হয়।
মনে রাখা দরকার, প্রথম ল্যাপটপ নিয়ে উৎসভেদে মতভেদ আছে। একই ১৯৮১ সালে অসবর্ন ওয়ান নামের একটি বহনযোগ্য কম্পিউটার আসে, তবে সেটি প্রায় এগারো কেজি ওজনের, স্যুটকেসের মতো। আর ১৯৮২ সালের গ্রিড কম্পাস প্রথম ঢাকনা খোলা-বন্ধ করা নকশা আনে। বিকল্পগুলোর মধ্যে শুধু এপসন ও ১৯৮১ মিলে যায়।
ফাঁদ হলো অ্যাপল, ১৯৭৭। ওই বছর অ্যাপল টু এসেছিল, যা ছিল টেবিলে রাখা ডেস্কটপ কম্পিউটার, ল্যাপটপ নয়।
মনে রাখুন: প্রথম ল্যাপটপ: এপসন এইচএক্স-২০, ১৯৮১ (জাপান)। প্রথম বহনযোগ্য কম্পিউটার হিসেবে অসবর্ন ১ (১৯৮১) নামটিও আসে।