কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি · পাতা ২
২১. ই-কমার্সে সুরক্ষিত অনলাইন লেনদেনে প্রধানত কোন প্রটোকল ব্যবহৃত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কDHCP
- খSMTP
- গHTTPS
- ঘARP
সঠিক উত্তর: গ. HTTPS
প্রশ্নটি ই-কমার্সে নিরাপদ অনলাইন লেনদেনের প্রধান প্রোটোকল জানতে চেয়েছে। উত্তর এইচটিটিপিএস।
অনলাইনে কেনাকাটায় কার্ডের নম্বর, পাসওয়ার্ড আর ঠিকানা আদান-প্রদান হয়। এইচটিটিপিএস ব্রাউজার আর ওয়েবসাইটের মধ্যে সব তথ্য টিএলএস দিয়ে এনক্রিপ্ট করে, তাই মাঝপথে কেউ ধরলেও পড়তে পারে না। সঙ্গে সার্টিফিকেট দিয়ে নিশ্চিত হয় যে আপনি আসল দোকানের সাইটেই আছেন।
ব্রাউজারের ঠিকানার পাশে তালার চিহ্ন আর ঠিকানার শুরুতে এইচটিটিপিএস দেখলে বুঝবেন সংযোগ এনক্রিপ্টেড। এ জন্য কার্ড দিয়ে পেমেন্টের আগে এটি দেখে নেওয়া জরুরি।
ডিএইচসিপি যন্ত্রকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আইপি ঠিকানা দেয়, এসএমটিপি ই-মেইল পাঠায়, আর এআরপি আইপি ঠিকানা থেকে যন্ত্রের ম্যাক ঠিকানা বের করে। এরা কেউ লেনদেনের তথ্য এনক্রিপ্ট করে না।
মনে রাখুন: নিরাপদ ওয়েব লেনদেন = HTTPS (HTTP + TLS), পোর্ট ৪৪৩; ব্রাউজারে তালা চিহ্ন।
২২. বিভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের জন্য নিচের কোন ডিভাইসটি ব্যবহৃত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- করাউটার
- খসুইচ
- গব্রিজ
- ঘহাব
সঠিক উত্তর: ক. রাউটার
প্রশ্নটি বিভিন্ন বা ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে যোগাযোগ স্থাপনের যন্ত্র জানতে চেয়েছে। উত্তর রাউটার।
রাউটার প্রতিটি ডেটা প্যাকেটের আইপি ঠিকানা পড়ে ঠিক করে, প্যাকেটটি কোন নেটওয়ার্কে যাবে এবং কোন পথে সবচেয়ে দ্রুত পৌঁছাবে। এ জন্য এর ভেতরে একটি রাউটিং টেবিল থাকে। ইন্টারনেট আসলে লাখো নেটওয়ার্কের জোড়া, আর এগুলোকে জুড়ে রেখেছে রাউটার।
সুইচ, ব্রিজ আর হাব মূলত একটি নেটওয়ার্কের ভেতরে কাজ করে। সুইচ ম্যাক ঠিকানা দেখে একই ল্যানের নির্দিষ্ট যন্ত্রে ডেটা পাঠায়, ব্রিজ একই ল্যানের দুটি অংশ জোড়ে, আর হাব সব পোর্টে সংকেত ছড়িয়ে দেয়।
ফাঁদ ব্রিজ, কারণ এটিও দুটি অংশ জোড়ে। কিন্তু ব্রিজ একই ধরনের নেটওয়ার্কের অংশ জোড়ে, আইপি ঠিকানা দেখে ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে পথ খোঁজে না।
মনে রাখুন: ভিন্ন নেটওয়ার্ক জোড়া = Router (ওএসআই স্তর ৩, IP ঠিকানা)।
২৩. ক্লাউড কম্পিউটিং এর কোন মডেলটি অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করার জন্য প্রোগ্রামারদেরকে প্লাটফর্ম সরবরাহ করে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কIaaS
- খSaaS
- গPaaS
- ঘDaaS
সঠিক উত্তর: গ. PaaS
প্রশ্নটি ক্লাউডের সেই সেবা মডেল জানতে চেয়েছে, যা প্রোগ্রামারদের অ্যাপ্লিকেশন তৈরির প্ল্যাটফর্ম দেয়। উত্তর পাস, অর্থাৎ প্ল্যাটফর্ম অ্যাজ আ সার্ভিস।
পাস-এ সেবাদাতা সার্ভার, অপারেটিং সিস্টেম, ডেটাবেস আর প্রোগ্রামিং পরিবেশ তৈরি করে রাখে। প্রোগ্রামার শুধু নিজের কোড লিখে আপলোড করেন; যন্ত্র বা অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে মাথা ঘামাতে হয় না। গুগল অ্যাপ ইঞ্জিন আর হিরোকু এর পরিচিত উদাহরণ।
তিন মূল মডেলকে স্তর হিসেবে ভাবুন। নিচে আইয়াস দেয় শুধু কাঁচা অবকাঠামো, মাঝে পাস দেয় অ্যাপ বানানোর প্ল্যাটফর্ম, আর ওপরে সাস দেয় সরাসরি ব্যবহারের তৈরি সফটওয়্যার। ডাস সাধারণত ডেস্কটপ অ্যাজ আ সার্ভিস, মানে ইন্টারনেটে পুরো ভার্চুয়াল ডেস্কটপ দেওয়া; কখনো ডেটা অ্যাজ আ সার্ভিস অর্থেও বলা হয়।
ফাঁদ আইয়াস, কারণ এতেও প্রোগ্রামার অ্যাপ চালাতে পারেন; কিন্তু সেখানে অপারেটিং সিস্টেম থেকে সবকিছু নিজেকে সাজাতে হয়, প্ল্যাটফর্ম তৈরি থাকে না।
মনে রাখুন: ব্যবহারকারী অনুযায়ী মনে রাখুন: IaaS = নেটওয়ার্ক প্রশাসক, PaaS = প্রোগ্রামার, SaaS = সাধারণ ব্যবহারকারী।
২৪. একটি কম্পিউটার সিস্টেমে (১১০০১০১১)২ বাইনারি সংখ্যাটির মান ডেসিমেল এ কত হবে? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- ক– ৫২
- খ- ৫৩
- গ২০৩
- ঘউপরের সবকটি হতে পারে
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবকটি হতে পারে
প্রশ্নটি বাইনারি এক এক শূন্য শূন্য এক শূন্য এক এক সংখ্যাটির দশমিক মান জানতে চেয়েছে, তবে কৌশলটি হলো কম্পিউটার সিস্টেমে শব্দ দুটি। কম্পিউটারে একই আট বিট তিনভাবে পড়া যায়, আর তিনভাবে তিনটি ভিন্ন মান আসে। তাই উত্তর উপরের সবকটি হতে পারে।
চিহ্নহীন বা আনসাইনড ধরে স্থানীয় মান যোগ করলে একশো আটাশ, চৌষট্টি, আট, দুই আর এক মিলে দুইশো তিন।
চিহ্নযুক্ত ধরলে সবচেয়ে বাঁয়ের বিট এক, তাই সংখ্যাটি ঋণাত্মক। ওয়ানস কমপ্লিমেন্ট পদ্ধতিতে সব বিট উল্টে দিলে পাই শূন্য শূন্য এক এক শূন্য এক শূন্য শূন্য, যার মান বাহান্ন; তাই মান ঋণাত্মক বাহান্ন। টুস কমপ্লিমেন্টে তার সঙ্গে আরও এক যোগ হয়, তাই মান ঋণাত্মক তিপ্পান্ন; একইভাবে দুইশো তিন থেকে দুইশো ছাপ্পান্ন বাদ দিলেও ঋণাত্মক তিপ্পান্ন আসে।
আধুনিক কম্পিউটার সাধারণত টুস কমপ্লিমেন্ট ব্যবহার করে, তাই শুধু একটি মান বেছে নেওয়াই ফাঁদ। সংখ্যাটি কোন পদ্ধতিতে রাখা, প্রশ্নে বলা নেই, তাই তিনটিই সম্ভব।
মনে রাখুন: ৮ বিটের টুস কমপ্লিমেন্ট মান = আনসাইনড মান − ২৫৬ (যখন বাঁয়ের বিট ১)।
২৫. কোন CPU আর্কিটেকচার স্মার্টফোনে বেশি ব্যবহৃত হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কX86
- খX64
- গQualcomm
- ঘRISC
সঠিক উত্তর: ঘ. RISC
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে স্মার্টফোনের প্রসেসর কোন নির্দেশনা-নকশা বা আর্কিটেকচারে তৈরি। উত্তর রিস্ক, মানে রিডিউসড ইনস্ট্রাকশন সেট কম্পিউটার।
রিস্ক নকশায় নির্দেশনা কম, ছোট ও সরল; প্রায় প্রতিটি নির্দেশনা এক ঘড়ি-চক্রে শেষ হয়। ফলে চিপ সরল হয়, বিদ্যুৎ কম লাগে, গরমও কম হয়। ব্যাটারিতে চলা ফোনের জন্য এটাই সবচেয়ে বড় সুবিধা।
প্রায় সব স্মার্টফোনের প্রসেসর এআরএম নকশার, আর এআরএম একটি রিস্ক আর্কিটেকচার। কোয়ালকমের স্ন্যাপড্রাগন, অ্যাপলের নিজস্ব চিপ, মিডিয়াটেক, সবই এআরএম ভিত্তিক।
ফাঁদ হলো কোয়ালকম। এটি একটি কোম্পানির নাম, আর্কিটেকচার নয়; কোয়ালকম নিজেও এআরএম নকশায় চিপ বানায়। আর এক্স এইটি সিক্স ও এক্স সিক্সটি ফোর হলো সিস্ক বা জটিল নির্দেশনার নকশা, যা মূলত ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে চলে।
মনে রাখুন: ফোন মানে ব্যাটারি, ব্যাটারি মানে কম বিদ্যুৎ, কম বিদ্যুৎ মানে RISC (ARM)।
২৬. কম্পিউটার টার্ন অন এর সময় সঠিক অর্ডার নিচের কোনটি? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কPOST → Kernel → Bootloader
- খKernel → POST → Bootloader
- গKernel → Bootloader → POST
- ঘPOST → Bootloader → Kernel
সঠিক উত্তর: ঘ. POST → Bootloader → Kernel
প্রশ্নটি কম্পিউটার চালু করার পর কোন কাজ কোন ক্রমে হয়, অর্থাৎ বুটিং প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছে। সঠিক ক্রম: পোস্ট, তারপর বুটলোডার, তারপর কার্নেল।
সুইচ চাপলে প্রথমে মাদারবোর্ডের রমে থাকা ফার্মওয়্যার, মানে বায়োস বা ইউইএফআই চালু হয়। সে পোস্ট, মানে পাওয়ার অন সেলফ টেস্ট চালিয়ে দেখে র্যাম, প্রসেসর, কিবোর্ড ও ডিস্ক ঠিক আছে কি না। সমস্যা থাকলে বিপ শব্দ বা ত্রুটি বার্তা দেখায়।
হার্ডওয়্যার ঠিক থাকলে ফার্মওয়্যার ডিস্ক থেকে বুটলোডার নামের ছোট প্রোগ্রাম চালায়, যেমন উইন্ডোজ বুট ম্যানেজার বা লিনাক্সের গ্রাব। বুটলোডারের কাজ অপারেটিং সিস্টেমের মূল অংশ কার্নেলকে মেমোরিতে তুলে চালু করা। এরপর কার্নেল বাকি সিস্টেম চালু করে।
যুক্তিটা সহজ: যন্ত্র ঠিক আছে কি না, তা না জেনে কিছু লোড করা যায় না, তাই পোস্ট সবার আগে। আর কার্নেল নিজে নিজে মেমোরিতে আসতে পারে না, তাকে আনে বুটলোডার; তাই কার্নেল সবার শেষে। যেসব বিকল্পে কার্নেল আগে, সেগুলো এই কারণেই ভুল।
মনে রাখুন: বুটিং ক্রম: BIOS/UEFI → POST → Bootloader → Kernel → OS।
২৭. কোন ধরনের Storage Device সবচেয়ে দ্রুত গতি সম্পন্ন? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কHDD
- খFloppy Disk
- গSSD
- ঘSSHD
সঠিক উত্তর: গ. SSD
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন স্টোরেজ সবচেয়ে দ্রুত। উত্তর এসএসডি, মানে সলিড স্টেট ড্রাইভ।
এসএসডি তথ্য রাখে ফ্ল্যাশ মেমোরি চিপে, এতে ঘোরার মতো কোনো যান্ত্রিক অংশ নেই। তাই তথ্য খুঁজতে অপেক্ষা লাগে না, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পড়া-লেখা হয়। সাধারণ সাটা এসএসডি সেকেন্ডে প্রায় সাড়ে পাঁচশো মেগাবাইট পড়তে পারে, আর এনভিএমই এসএসডি কয়েক হাজার মেগাবাইট।
হার্ড ডিস্ক বা এইচডিডিতে চৌম্বক প্লেটার ঘোরে আর একটি হেড সঠিক জায়গায় সরে গিয়ে পড়ে, তাই এর গতি সেকেন্ডে মোটামুটি একশো থেকে আড়াইশো মেগাবাইট। ফ্লপি ডিস্ক এর চেয়েও বহু গুণ ধীর, আর ধারণক্ষমতা মাত্র এক দশমিক চার চার মেগাবাইট।
ফাঁদ হলো এসএসএইচডি। নাম শুনে মনে হয় এসএসডির চেয়ে উন্নত, কিন্তু এটি আসলে হাইব্রিড: সাধারণ হার্ড ডিস্কের সঙ্গে অল্প একটু ফ্ল্যাশ ক্যাশ। বারবার ব্যবহৃত ফাইল একটু দ্রুত খোলে, কিন্তু বাকিটা হার্ড ডিস্কের গতিতেই চলে।
মনে রাখুন: চলমান যান্ত্রিক অংশ নেই মানে দ্রুত: SSD > SSHD > HDD > Floppy।
২৮. ধরা যাক Algorithm A এর running time O(n²) এবং Algorithm B এর running time O(n)। তাহলে নিচের কোনটি সবচেয়ে সঠিক? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কAlgorithm A, Algorithm B এর চেয়ে ধীর গতির
- খAlgorithm A, Algorithm B এর চেয়ে দ্রুত গতির
- গAlgorithm A, Algorithm B এর চেয়ে asymptotically ধীর গতির
- ঘAlgorithm B সর্বদা Algorithm A এর চেয়ে দ্রুত চলে
সঠিক উত্তর: গ. Algorithm A, Algorithm B এর চেয়ে asymptotically ধীর গতির
প্রশ্নটি বিগ ও নোটেশন বোঝা যাচাই করছে। বিগ ও বলে ইনপুটের আকার বড় হতে থাকলে চলার সময় কোন হারে বাড়ে; একে বলে অ্যাসিম্পটোটিক আচরণ। এটি ছোট ইনপুটের আসল গতির নিশ্চয়তা দেয় না।
অ্যালগরিদম এ-র সময় বাড়ে এন বর্গের হারে, বি-র সময় এন-এর হারে। এন দশ গুণ হলে বি-র সময় দশ গুণ হয়, কিন্তু এ-র সময় একশো গুণ। তাই এন যথেষ্ট বড় হলে এ অবশ্যই বি-এর চেয়ে ধীর।
কিন্তু বিগ ও ধ্রুবক গুণক বাদ দিয়ে লেখা হয়। ধরুন এ আসলে নেয় এন বর্গ ধাপ, আর বি নেয় একশো গুণ এন ধাপ। তাহলে এন দশ হলে এ-র লাগে একশো ধাপ, বি-র এক হাজার; অর্থাৎ ছোট ইনপুটে এ-ই দ্রুত। এন এক হাজার হলে এ-র লাগে দশ লাখ ধাপ, বি-র মাত্র এক লাখ।
তাই সবচেয়ে নিখুঁত কথা হলো এ, বি-এর চেয়ে অ্যাসিম্পটোটিক্যালি ধীর। ফাঁদ হলো প্রথম আর শেষ বিকল্প; এগুলো সব ইনপুটের জন্য সত্য বলে দাবি করে, যা বিগ ও দিয়ে প্রমাণ হয় না।
মনে রাখুন: Big-O প্রশ্নে ‘সর্বদা’ বা শর্তহীন ‘দ্রুত/ধীর’ লেখা বিকল্প সাধারণত ভুল; ‘asymptotically’ শব্দটি খুঁজুন।
২৯. LLM চালানোর জন্য নিম্নোক্ত কম্পিউটারের কোন যন্ত্রাংশ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কRAM
- খProcessor
- গGraphics Card
- ঘStorage Device
সঠিক উত্তর: গ. Graphics Card
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে এলএলএম, মানে লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল বা চ্যাটজিপিটির মতো বড় ভাষা মডেল চালাতে কম্পিউটারের কোন অংশ সবচেয়ে জরুরি। উত্তর গ্রাফিক্স কার্ড বা জিপিইউ।
বড় ভাষা মডেলের প্রতিটি শব্দ তৈরিতে কোটি কোটি সংখ্যার ম্যাট্রিক্স গুণ করতে হয়। একটি ম্যাট্রিক্স গুণের ভেতরের হাজারো গুণ-যোগ একটি আরেকটির ওপর নির্ভর করে না, তাই সেগুলো একসঙ্গে সমান্তরালে করা যায়। জিপিইউতে হাজার হাজার ছোট কোর থাকে, যা ঠিক এমন সমান্তরাল কাজের জন্যই তৈরি।
প্রসেসর বা সিপিইউতে কোর থাকে অল্প কয়েকটি, যদিও প্রতিটি শক্তিশালী; তাই একই কাজে সে অনেক ধীর। জিপিইউর নিজস্ব দ্রুত মেমোরি, মানে ভিডিও র্যামও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ পুরো মডেলটাকে সেখানে রাখতে হয়।
ফাঁদ হলো র্যাম। র্যাম লাগে ঠিকই, কিন্তু কেবল জায়গা দেয়, হিসাব করে না। আর স্টোরেজে মডেল ফাইল জমা থাকে মাত্র; চালানোর গতিতে এর ভূমিকা সামান্য।
মনে রাখুন: AI মডেল চালানো বা প্রশিক্ষণ মানে ম্যাট্রিক্স গুণ, আর ম্যাট্রিক্স গুণ মানে GPU।
৩০. Quantum Computing এর জনক কাকে মনে করা হয়? (৪৭তম বিসিএস, ২০২৫)
- কDavid Deutsch
- খRichard Feynman
- গPaul Benloff
- ঘAlexei Kitaev
সঠিক উত্তর: খ. Richard Feynman
প্রশ্নটি কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের জনক জানতে চেয়েছে। প্রচলিত ও বহুল স্বীকৃত উত্তর মার্কিন পদার্থবিদ রিচার্ড ফাইনম্যান।
উনিশশো একাশি সালে এমআইটির এক সম্মেলনে ফাইনম্যান দেখান যে সাধারণ কম্পিউটার দিয়ে কোয়ান্টাম ব্যবস্থার আচরণ হিসাব করা প্রায় অসম্ভব, কারণ কণা বাড়লে হিসাব সূচকীয় হারে বাড়ে। তাই তিনি প্রস্তাব দেন, কোয়ান্টাম নিয়মে চলা কম্পিউটারই এ কাজ পারবে। এই বক্তৃতা উনিশশো বিরাশিতে প্রকাশিত হয় এবং একে এই ক্ষেত্রের সূচনা ধরা হয়।
অন্যরাও বড় অবদান রেখেছেন। পল বেনিওফ উনিশশো আশি সালে প্রথম কোয়ান্টাম বলবিদ্যার ভাষায় কম্পিউটারের তাত্ত্বিক মডেল দেন। ডেভিড ডয়েচ উনিশশো পঁচাশিতে সর্বজনীন কোয়ান্টাম কম্পিউটারের ধারণা দেন, তাই কেউ কেউ তাঁকেও জনক বলেন। আলেক্সেই কিতায়েভ উনিশশো সাতানব্বইতে টপোলজিক্যাল কোয়ান্টাম কম্পিউটিংয়ের প্রস্তাব দেন।
এই প্রশ্নের প্রশ্নপত্রেই বেনিওফের নাম ভুল করে ‘বেনলফ’ ছাপা হয়েছিল; সঠিক নাম পল বেনিওফ। কিছু গাইড ডয়েচকে উত্তর ধরেছে, তবে প্রচলিত ও বহুল স্বীকৃত উত্তর ফাইনম্যান; ডয়েচ এখানে সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: কোয়ান্টাম কম্পিউটিং: ধারণার জনক Feynman (১৯৮১), সর্বজনীন মডেল Deutsch (১৯৮৫)।
৩১. Windows অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কিত নিম্নের কোন তথ্যটি সঠিক? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কএটি মাল্টি টাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম
- খএটি Open source অপারেটিং সিস্টেম
- গক এবং খ উভয়ই সত্য
- ঘকোনোটিই সত্য নয়
সঠিক উত্তর: ক. এটি মাল্টি টাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম
প্রশ্নটি উইন্ডোজ অপারেটিং সিস্টেম সম্পর্কে সঠিক তথ্য বাছতে বলেছে। উইন্ডোজ মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম, তবে ওপেন সোর্স নয়। তাই শুধু প্রথম বিকল্পটি সত্য।
মাল্টিটাস্কিং মানে একসঙ্গে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো। উইন্ডোজে একই সময়ে ব্রাউজার, ওয়ার্ড আর গান চালানো যায়, প্রতিটি আলাদা জানালায়; উইন্ডোজ নামটিও এখান থেকেই।
ওপেন সোর্স মানে সোর্স কোড সবার জন্য উন্মুক্ত। উইন্ডোজের সোর্স কোড মাইক্রোসফটের নিজস্ব সম্পদ, লাইসেন্স কিনে ব্যবহার করতে হয়, কোড দেখা বা বদলানোর অনুমতি নেই। তাই এটি মালিকানাধীন বা প্রোপ্রাইটারি সফটওয়্যার। ওপেন সোর্স অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ লিনাক্স।
দ্বিতীয় তথ্য মিথ্যা বলে ক এবং খ উভয়ই সত্য বিকল্পটি বাদ। আর একটি তথ্য সত্য থাকায় কোনোটিই সত্য নয়ও ভুল।
মনে রাখুন: Windows ও macOS মালিকানাধীন; Linux ও Android-এর মূল অংশ ওপেন সোর্স।
৩২. নিচের কোনটি কম্পিউটার মেমোরি হিসেবে দ্রুততম? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কRAM
- খHard Disk
- গROM
- ঘRegister
সঠিক উত্তর: ঘ. Register
প্রশ্নটি কম্পিউটারের দ্রুততম মেমোরি জানতে চেয়েছে। উত্তর রেজিস্টার। রেজিস্টার সিপিইউ-র ভেতরেই তৈরি, প্রসেসর যে উপাত্ত নিয়ে এই মুহূর্তে কাজ করছে সেটি এখানে থাকে।
মেমোরিকে দ্রুততা অনুযায়ী সিঁড়ির মতো সাজানো যায়: রেজিস্টার, তারপর ক্যাশ, তারপর র্যাম ও রম, আর সবার নিচে হার্ডডিস্ক। ওপরের দিকে গতি বেশি, দাম বেশি, ধারণক্ষমতা কম; নিচের দিকে ঠিক উল্টো।
রম আর র্যাম দুটোই প্রধান মেমোরি, তবে রম সাধারণত র্যামের চেয়ে ধীর; এতে মূলত চালু হওয়ার স্থায়ী নির্দেশনা থাকে। হার্ডডিস্কে ঘোরা চাকতি আর নড়াচড়া করা মাথা থাকে, তাই এটি সবচেয়ে ধীর।
ফাঁদ র্যাম, কারণ কম্পিউটারের গতি বাড়াতে সবাই র্যাম বাড়ানোর কথা বলে। কিন্তু দ্রুততম মেমোরি প্রশ্নে রেজিস্টার থাকলে সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: Register > Cache > RAM > ROM > Hard Disk: এই ক্রমেই গতি কমে।
৩৩. নিচের কোনটি কম্পিউটার সিস্টেমের কর্মক্ষমতায় কোনো ভূমিকা রাখে না? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কSize of RAM
- খSize of ROM
- গSize of Cache Memory
- ঘSize of Register
সঠিক উত্তর: খ. Size of ROM
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন অংশের আকার কম্পিউটারের কর্মক্ষমতায় ভূমিকা রাখে না। উত্তর রমের আকার।
রম বা রিড অনলি মেমোরিতে থাকে শুধু কম্পিউটার চালু করার স্থায়ী নির্দেশনা, যেমন বায়োস। চালু হয়ে গেলে প্রতিদিনের কাজে রমের ভূমিকা প্রায় নেই। তাই রম বড় হলেও প্রোগ্রাম দ্রুত চলে না।
অন্যদিকে র্যাম বেশি থাকলে একসঙ্গে বেশি প্রোগ্রাম চলে, বারবার ধীর ডিস্কে যেতে হয় না। ক্যাশ বড় হলে প্রসেসর বেশি উপাত্ত হাতের কাছে পায়। আর রেজিস্টারের আকার, যেমন বত্রিশ বিট বা চৌষট্টি বিট, ঠিক করে প্রসেসর একবারে কত বড় সংখ্যা নিয়ে কাজ করতে পারে।
ফাঁদ রেজিস্টার, কারণ এটি খুব ছোট মেমোরি বলে গুরুত্বহীন মনে হয়। আসলে রেজিস্টারের আকারই প্রসেসরের শক্তির একটি মূল মাপকাঠি।
মনে রাখুন: কর্মক্ষমতা নির্ভর করে প্রসেসর, রেজিস্টার, ক্যাশ, র্যামের ওপর; রম শুধু বুট করে।
৩৪. নিচের কোনটি অক্টাল সংখ্যা (২৪)৮ এর সঠিক বাইনারি রূপ? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক(111 101)2
- খ(010 100)2
- গ(111 100)2
- ঘ(101 010)2
সঠিক উত্তর: খ. (010 100)2
প্রশ্নটি অক্টাল দুই চার সংখ্যাটিকে বাইনারিতে রূপান্তর চায়। নিয়ম খুব সহজ: অক্টালের প্রতিটি অঙ্ককে আলাদাভাবে তিন বিটের বাইনারিতে লিখে পাশাপাশি বসানো। উত্তর শূন্য এক শূন্য, এক শূন্য শূন্য।
কেন তিন বিট? কারণ আট হলো দুইয়ের তিন ঘাত, তাই প্রতিটি অক্টাল অঙ্ক, শূন্য থেকে সাত, ঠিক তিনটি বিটে ধরা যায়। তিন বিটের ঘরগুলোর মান বাঁ থেকে চার, দুই, এক।
দুই লিখতে লাগে শুধু দুইয়ের ঘর, তাই শূন্য এক শূন্য। চার লিখতে লাগে শুধু চারের ঘর, তাই এক শূন্য শূন্য। পাশাপাশি বসালে শূন্য এক শূন্য এক শূন্য শূন্য। যাচাই: অক্টাল দুই চার দশমিকে বিশ, আর এই বাইনারির মানও ষোলো যোগ চার, অর্থাৎ বিশ।
অন্য বিকল্পগুলো ভুল অঙ্কের বাইনারি: এক এক এক মানে সাত, এক শূন্য এক মানে পাঁচ। দুই আর চারের জায়গায় এগুলো আসে না।
মনে রাখুন: অক্টাল থেকে বাইনারি: প্রতিটি অঙ্ক আলাদা করে ৩ বিটে লিখুন; ০ = ০০০ থেকে ৭ = ১১১।
৩৫. একটি অপারেটিং সিস্টেম একজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন symbols, icon অথবা visual metaphor এর মাধ্যমে কম্পিউটারের সাথে সংযোগ স্থাপনে ভূমিকা পালন করে। নিচের কোনটি এ শ্রেণির কাজকে নির্দেশ করে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কCommand-Line Interface
- খGraphical User Interface
- গBlock User Interface
- ঘTap User Interface
সঠিক উত্তর: খ. Graphical User Interface
প্রশ্নটি এমন ব্যবস্থার নাম চেয়েছে, যেখানে ব্যবহারকারী আইকন, প্রতীক আর ছবির মতো দৃশ্যমান উপাদান দেখে কম্পিউটার চালান। এটি গ্রাফিক্যাল ইউজার ইন্টারফেস, সংক্ষেপে জিইউআই।
জিইউআই-তে মাউস বা আঙুল দিয়ে আইকনে ক্লিক, মেনু থেকে বাছাই, আর জানালা খোলা-বন্ধ করে কাজ হয়। ফোল্ডারের ছবি, রিসাইকেল বিনের ঝুড়ি এগুলোই ভিজ্যুয়াল মেটাফর, অর্থাৎ বাস্তব জিনিসের প্রতীক দিয়ে কাজ বোঝানো। ১৯৮৪ সালের অ্যাপল ম্যাকিনটোশ আর পরে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ জিইউআই-কে জনপ্রিয় করে।
এর বিপরীত কমান্ড লাইন ইন্টারফেস, যেখানে কি-বোর্ডে লিখিত নির্দেশ দিয়ে কম্পিউটার চালাতে হয়, যেমন ডস বা লিনাক্সের টার্মিনাল। শিখতে কঠিন, কিন্তু দক্ষ ব্যবহারকারীর জন্য দ্রুত।
ব্লক ইউজার ইন্টারফেস আর ট্যাপ ইউজার ইন্টারফেস প্রচলিত কোনো পরিভাষা নয়, বানানো বিকল্প। ট্যাপ শব্দটি স্পর্শপর্দার কথা মনে করায় বলে ফাঁদ হতে পারে, কিন্তু স্পর্শপর্দার আইকনও জিইউআই-এরই অংশ।
মনে রাখুন: প্রশ্নে icon, symbol, visual, window, mouse থাকলে GUI; command বা টাইপ করা নির্দেশ থাকলে CLI।
৩৬. নিচের কোন বিবৃতিটি কম্পাইলার সম্পর্কিত সঠিক? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কএটি Interpreter-এর চেয়ে অনুবাদ করতে বেশি সময় লাগে
- খএটি প্রতি লাইন প্রোগ্রাম পড়ে এবং অনুবাদ করে
- গএটি একবারে পুরো প্রোগ্রাম অনুবাদ করে
- ঘএটি মেশিন প্রোগ্রামকে সোর্স প্রোগ্রামে রূপান্তর করে
সঠিক উত্তর: গ. এটি একবারে পুরো প্রোগ্রাম অনুবাদ করে
কম্পাইলার আর ইন্টারপ্রেটার দুটোই অনুবাদক প্রোগ্রাম: এরা মানুষের লেখা উচ্চস্তরের ভাষার সোর্স প্রোগ্রামকে কম্পিউটারের বোঝার মতো মেশিন কোডে রূপান্তর করে। পার্থক্য হলো অনুবাদের ধরনে।
কম্পাইলার পুরো প্রোগ্রাম একবারে পড়ে অনুবাদ করে একটি আলাদা মেশিন কোড ফাইল তৈরি করে। এরপর প্রোগ্রাম চালাতে আর অনুবাদ লাগে না, তাই কম্পাইল করা প্রোগ্রাম দ্রুত চলে। সব ভুল একসঙ্গে, অনুবাদ শেষে দেখায়।
ইন্টারপ্রেটার এক লাইন করে পড়ে, অনুবাদ করে, সঙ্গে সঙ্গে চালায়। প্রথম ভুল পেলেই থেমে যায়, আর প্রতিবার চালানোর সময় নতুন করে অনুবাদ করতে হয় বলে ধীর।
ফাঁদ হলো দ্বিতীয় অপশন, লাইন ধরে অনুবাদ; এটা ইন্টারপ্রেটারের বৈশিষ্ট্য। আর শেষ অপশনটি দিক উল্টে দিয়েছে; মেশিন কোড থেকে সোর্স কোড বানানোকে বলে ডিকম্পাইল করা।
মনে রাখুন: ‘পুরো একবারে’ = কম্পাইলার, ‘লাইন বাই লাইন’ = ইন্টারপ্রেটার।
৩৭. নিচের কোনটি সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কFacebook
- খInstagram
- গTwitter
- ঘGoogle
সঠিক উত্তর: ঘ. Google
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম নয়। উত্তর গুগল। সোশ্যাল মিডিয়া মানে যেখানে ব্যবহারকারীরা নিজের প্রোফাইল খুলে পোস্ট, ছবি, ভিডিও শেয়ার করেন আর একে অপরের সঙ্গে যুক্ত থাকেন।
ফেসবুক ২০০৪ সালে মার্ক জাকারবার্গ চালু করেন; ইনস্টাগ্রাম ছবি ও ভিডিও শেয়ারের প্ল্যাটফর্ম, যার মালিক এখন ফেসবুকের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা। টুইটার ছোট বার্তা বা টুইট পোস্ট করার প্ল্যাটফর্ম, ২০২৩ সালে এর নাম বদলে এক্স রাখা হয়, তবুও এটি সোশ্যাল মিডিয়া।
গুগল মূলত সার্চ ইঞ্জিন এবং একটি প্রযুক্তি কোম্পানি, যার আছে জিমেইল, ম্যাপস, ইউটিউবের মতো নানা সেবা। গুগলের নিজস্ব সামাজিক মাধ্যম গুগল প্লাস ২০১৯ সালে সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য বন্ধ হয়ে যায়।
ফাঁদ হতে পারে গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউব, যা অনেকে সোশ্যাল মিডিয়া ধরেন; কিন্তু প্রশ্নে লেখা গুগল নিজে, যা সার্চ ইঞ্জিন।
মনে রাখুন: সোশ্যাল মিডিয়া বনাম সার্চ ইঞ্জিন আলাদা রাখুন: Google, Bing, Yahoo সার্চ ইঞ্জিন।
৩৮. Cellular Data Network এর ক্ষেত্রে GPRS বলতে কী বুঝায়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কGlobal Positioning Radio Service
- খGeneral Positioning Radio Service
- গGlobal Packet Radio Service
- ঘGeneral Packet Radio Service
সঠিক উত্তর: ঘ. General Packet Radio Service
প্রশ্নটি মোবাইল ডেটা নেটওয়ার্কের জিপিআরএস-এর পুরো নাম চেয়েছে। জিপিআরএস মানে জেনারেল প্যাকেট রেডিও সার্ভিস।
জিএসএম মোবাইল নেটওয়ার্ক শুরুতে শুধু কথা বলার জন্য তৈরি, যেখানে কলের পুরো সময় একটি লাইন দখল থাকে; একে সার্কিট সুইচিং বলে। জিপিআরএস এর সঙ্গে প্যাকেট সুইচিং যোগ করে, অর্থাৎ ডেটা ছোট ছোট প্যাকেটে ভাগ হয়ে যায়, লাইন সারাক্ষণ দখল থাকে না। ফলে মোবাইলে ইন্টারনেট, ই-মেইল আর এমএমএস চালানো সহজ হয়।
দ্বিতীয় প্রজন্ম আর তৃতীয় প্রজন্মের মাঝামাঝি বলে জিপিআরএস-কে আড়াই-জি বলা হয়। ইউরোপের মান সংস্থা ইটিএসআই এটি তৈরি করে, এখন থ্রিজিপিপি এর রক্ষণাবেক্ষণ করে।
ফাঁদ হলো জিপিএস-এর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলা। গ্লোবাল আর পজিশনিং শব্দ দুটি জিপিএস বা গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম থেকে এসেছে, যা অবস্থান নির্ণয়ের ব্যবস্থা। জিপিআরএস-এর পি মানে প্যাকেট, পজিশনিং নয়।
মনে রাখুন: GPRS-এর G ও P নিয়ে ফাঁদ হয়: General ও Packet। GPS-এর Global ও Positioning আলাদা।
৩৯. বাহিরের আক্রমণ থেকে প্রাইভেট নেটওয়ার্ক রক্ষার্থে নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কAntivirus
- খDigital Signature
- গEncryption
- ঘFirewall
সঠিক উত্তর: ঘ. Firewall
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বাইরের আক্রমণ থেকে একটি প্রাইভেট নেটওয়ার্ক রক্ষায় কী ব্যবহৃত হয়। উত্তর ফায়ারওয়াল।
ফায়ারওয়াল প্রাইভেট নেটওয়ার্ক আর বাইরের ইন্টারনেটের মাঝখানে দেয়ালের মতো বসে। প্রতিটি আগত ও বহির্গত ডেটা প্যাকেট নিয়মের সঙ্গে মিলিয়ে দেখে; অচেনা বা সন্দেহজনক সংযোগ ঢুকতেই দেয় না। নামটি এসেছে ভবনের আগুন ঠেকানোর দেয়াল থেকে।
অ্যান্টিভাইরাস কাজ করে প্রতিটি কম্পিউটারের ভেতরে, ঢুকে পড়া ক্ষতিকর ফাইল খুঁজে মুছে ফেলে; নেটওয়ার্কের প্রবেশপথ পাহারা দেয় না। এনক্রিপশন তথ্যকে গোপন সংকেতে বদলায়, যাতে কেউ পেলেও পড়তে না পারে। ডিজিটাল সিগনেচার প্রেরকের পরিচয় আর বার্তা অবিকৃত আছে কি না তা প্রমাণ করে।
ফাঁদ অ্যান্টিভাইরাস, কারণ এটিও সুরক্ষা দেয়। কিন্তু প্রশ্নে নেটওয়ার্ক আর বাইরের আক্রমণ শব্দ দুটো স্পষ্টভাবে ফায়ারওয়ালের দিকে ইঙ্গিত করে।
মনে রাখুন: “নেটওয়ার্ক” + “বাইরের আক্রমণ” = Firewall; “ভাইরাস মোছা” = Antivirus।
৪০. নিচের কোনটি সার্চ ইঞ্জিন নয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কBing
- খGoogle
- গYahoo
- ঘSafari
সঠিক উত্তর: ঘ. Safari
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি সার্চ ইঞ্জিন নয়। উত্তর সাফারি, কারণ এটি একটি ওয়েব ব্রাউজার।
সার্চ ইঞ্জিন হলো ওয়েবসাইট বা সেবা, যা কোটি কোটি পেজ আগে থেকে সূচিবদ্ধ করে রাখে এবং আপনার লেখা শব্দের সঙ্গে মেলে এমন পেজের তালিকা দেয়। গুগল, মাইক্রোসফটের বিং আর ইয়াহু এর উদাহরণ।
ব্রাউজার হলো সেই সফটওয়্যার, যা দিয়ে আপনি যেকোনো ওয়েবসাইট খোলেন, সার্চ ইঞ্জিনও তার মধ্যে একটি। সাফারি অ্যাপলের ব্রাউজার, ২০০৩ সালে আসে, আইফোন ও ম্যাকে থাকে। ক্রোম, ফায়ারফক্স, এজও ব্রাউজার।
ফাঁদ হলো ইয়াহু, কারণ এটিকে অনেকে শুধু ই-মেইল সেবা বা ওয়েব পোর্টাল হিসেবে চেনেন। কিন্তু ইয়াহুর নিজস্ব সার্চ সেবাও আছে, তাই এটি সার্চ ইঞ্জিন হিসেবেও পরিচিত।
মনে রাখুন: ব্রাউজার: Chrome, Firefox, Safari, Edge, Opera। সার্চ ইঞ্জিন: Google, Bing, Yahoo, DuckDuckGo, Baidu।