কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি · পাতা ৩
৪১. ইন্টারনেট জগতে hyper-linked document গুলোর কালেকশানকে কী বলে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কHTML
- খEmail
- গWWW
- ঘDWS
সঠিক উত্তর: গ. WWW
প্রশ্নটি ইন্টারনেটে হাইপারলিংক দিয়ে পরস্পর যুক্ত ডকুমেন্টের সংগ্রহের নাম চেয়েছে। উত্তর ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ, অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব।
১৯৮৯ সালে সার্নে কর্মরত টিম বার্নার্স-লি ওয়েবের প্রস্তাব দেন। এর মূল ধারণা হলো প্রতিটি পেজে এমন লিংক থাকবে, যাতে ক্লিক করলেই অন্য পেজে যাওয়া যায়, পেজটি পৃথিবীর যেখানেই থাকুক। এভাবে কোটি কোটি পেজ মিলে একটি বিশাল জাল তৈরি হয়েছে, তাই নাম ওয়েব।
মনে রাখুন, ইন্টারনেট আর ওয়েব এক নয়। ইন্টারনেট হলো কম্পিউটারের বিশ্বজোড়া নেটওয়ার্ক, আর ওয়েব সেই নেটওয়ার্কের ওপর চলা একটি সেবা। ওয়েব পেজ লেখা হয় এইচটিএমএল ভাষায়, আর আনা হয় এইচটিটিপি প্রোটোকলে।
ফাঁদ এইচটিএমএল, কারণ এর নামেও হাইপারটেক্সট শব্দটি আছে। কিন্তু এইচটিএমএল পেজ লেখার ভাষা, পেজের সংগ্রহ নয়। ই-মেইল বার্তা পাঠানোর সেবা, আর ডিডব্লিউএস কোনো প্রচলিত পরিভাষা নয়।
মনে রাখুন: পেজ লেখার ভাষা HTML, আনার প্রোটোকল HTTP, পেজের সংগ্রহ WWW।
৪২. গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী, ইউটিলিটি-ভিত্তিক কম্পিউটিং পরিষেবা প্রদানের জন্য কোন প্রযুক্তিটি Distributed Computing এর একটি দৃষ্টান্ত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কRemote Sensing
- খCloud Computing
- গRemote Invocation
- ঘPrivate Computing
সঠিক উত্তর: খ. Cloud Computing
প্রশ্নটি এমন প্রযুক্তির নাম চেয়েছে, যা ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিংয়ের উদাহরণ এবং গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ বা পানির মতো ইউটিলিটি-ভিত্তিক সেবা দেয়। উত্তর ক্লাউড কম্পিউটিং।
ডিস্ট্রিবিউটেড কম্পিউটিং মানে অনেক কম্পিউটার নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়ে একসঙ্গে কাজ করা, ব্যবহারকারীর কাছে যা একটি ব্যবস্থার মতো দেখায়। ক্লাউড সেবাদাতার বিশাল ডেটা সেন্টারে হাজারো সার্ভার এভাবেই কাজ ভাগ করে নেয়।
ইউটিলিটি-ভিত্তিক মানে ঠিক বিদ্যুতের মিটারের মতো: যতটুকু সার্ভার, স্টোরেজ বা সময় ব্যবহার করবেন, ততটুকুর বিল। দরকার হলে মুহূর্তে বাড়ানো যায়, দরকার ফুরোলে কমানো যায়। চাহিদামতো সেবা আর মেপে বিল, দুটোই ক্লাউডের মূল বৈশিষ্ট্য।
রিমোট সেন্সিং হলো উপগ্রহ বা বিমান থেকে দূর থেকে পৃথিবীর তথ্য সংগ্রহ। রিমোট ইনভোকেশন মানে দূরের কম্পিউটারে একটি প্রোগ্রাম অংশ চালানোর কৌশল, পুরো সেবা মডেল নয়। প্রাইভেট কম্পিউটিং কোনো প্রচলিত পরিভাষা নয়; প্রাইভেট ক্লাউড শব্দের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: “On-demand”, “pay-as-you-go”, “utility computing” শব্দ থাকলে উত্তর Cloud Computing।
৪৩. নিচের কোন নেটওয়ার্কটি সবচেয়ে বেশি জায়গা ব্যাপ্তি হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কLAN
- খWAN
- গMAN
- ঘPAN
সঠিক উত্তর: খ. WAN
প্রশ্নটি সবচেয়ে বড় এলাকাজুড়ে বিস্তৃত নেটওয়ার্ক জানতে চেয়েছে। উত্তর ওয়ান, অর্থাৎ ওয়াইড এরিয়া নেটওয়ার্ক।
পরিসর অনুযায়ী নেটওয়ার্ক চার রকম। প্যান বা পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক এক ব্যক্তির চারপাশে কয়েক মিটারে, যেমন ব্লুটুথ। ল্যান বা লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক একটি ভবন বা ক্যাম্পাসে। ম্যান বা মেট্রোপলিটন এরিয়া নেটওয়ার্ক পুরো একটি শহরে, যেমন শহরজুড়ে কেবল টিভি নেটওয়ার্ক।
ওয়ান দেশ, মহাদেশ, এমনকি সারা পৃথিবীজুড়ে বিস্তৃত, আর সবচেয়ে বড় উদাহরণ ইন্টারনেট নিজেই। এটি সাধারণত অনেক ল্যান ও ম্যানকে জুড়ে তৈরি হয়।
ফাঁদ ম্যান, কারণ মেট্রোপলিটন শব্দটি বড় শোনায়; কিন্তু ম্যান একটি শহরেই সীমিত।
মনে রাখুন: ছোট থেকে বড়: PAN < LAN < MAN < WAN।
৪৪. নিচের কোন প্রযুক্তি Face Recognition সিস্টেমে ব্যবহার করা হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কApplied Al
- খApplied I0T
- গVirtual Reality
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. Applied Al
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ফেস রিকগনিশন বা মুখমণ্ডল শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় কোন প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়। উত্তর প্রয়োগকৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, অর্থাৎ অ্যাপ্লায়েড এআই।
ফেস রিকগনিশন ক্যামেরার ছবি থেকে মুখ খুঁজে বের করে, তারপর চোখের দূরত্ব, নাকের আকার, চোয়ালের গড়নের মতো বৈশিষ্ট্য মেপে একটি গাণিতিক ছাপ বানায়। এরপর সংরক্ষিত ছাপের সঙ্গে মিলিয়ে বলে দেয়, এটি কার মুখ।
এই চেনার কাজটি করে মেশিন লার্নিং ও ডিপ লার্নিং মডেল, যা লাখো মুখের ছবি দেখে শিখেছে। এগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাখা, তাই প্রযুক্তিটি এআই-নির্ভর। ফোনের মুখ দেখে আনলক বা বিমানবন্দরের ই-গেট এর পরিচিত উদাহরণ।
ফাঁদ আইওটি, কারণ স্মার্ট দরজার তালা বা ক্যামেরা আইওটি যন্ত্র হতে পারে। কিন্তু আইওটি শুধু যন্ত্রগুলোকে ইন্টারনেটে যুক্ত করে; মুখ চেনার বুদ্ধি আসে এআই থেকে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক জগৎ দেখায়, চেনে না। বিকল্পে ছাপা এ-এল আসলে এআই, আর আই-শূন্য-টি আসলে আইওটি; বড় আই আর ছোট এল, কিংবা ও আর শূন্য দেখতে প্রায় এক রকম বলে এমন হয়েছে।
মনে রাখুন: চেনা, শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া (মুখ, কণ্ঠ, লেখা চেনা) = AI; যন্ত্রে যন্ত্রে সংযোগ = IoT।
৪৫. নেটওয়ার্ক ট্রান্সমিশন রেট বোঝাতে ব্যবহৃত 'MbPS' এর পূর্ণরূপ কী? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কMegabytes per second
- খMegabits per second
- গMilibits per second
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. Megabits per second
প্রশ্নটি নেটওয়ার্কের গতির একক এমবিপিএস-এর পুরো নাম চেয়েছে। উত্তর মেগাবিটস পার সেকেন্ড, অর্থাৎ প্রতি সেকেন্ডে কত মেগাবিট তথ্য যায়।
মূল পার্থক্য ছোট হাতের বি আর বড় হাতের বি-তে। ছোট হাতের বি মানে বিট, আর বড় হাতের বি মানে বাইট। এক বাইট সমান আট বিট। নেটওয়ার্ক বা ইন্টারনেট সংযোগের গতি সবসময় বিটে মাপা হয়, তাই এমবিপিএস মানে মেগাবিট।
এক মেগাবিট মানে দশ লক্ষ বিট। তাই একশো মেগাবিটের সংযোগে সর্বোচ্চ প্রতি সেকেন্ডে সাড়ে বারো মেগাবাইট ফাইল নামে, কারণ একশোকে আট দিয়ে ভাগ করলে সাড়ে বারো। এজন্যই বিজ্ঞাপনের গতি আর ডাউনলোডের গতিতে আট গুণ পার্থক্য দেখা যায়।
ফাঁদ মেগাবাইটস পার সেকেন্ড, কারণ ফাইলের আকার আমরা বাইটে দেখি। মিলিবিট মানে বিটের হাজার ভাগের এক ভাগ, যা নেটওয়ার্কের গতিতে কখনো ব্যবহৃত হয় না।
মনে রাখুন: MBps (বড় B) = Megabytes, Mbps (ছোট b) = Megabits; MBps = Mbps ÷ ৮।
৪৬. GPU-এর পূর্ণরূপ কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কGraph Processing Unit
- খGraphic Processing Unit
- গGraphics Processing Unit
- ঘGeographical Processing Unit
সঠিক উত্তর: গ. Graphics Processing Unit
প্রশ্নটি জিপিইউ-র পুরো নাম জানতে চেয়েছে। জিপিইউ মানে গ্রাফিক্স প্রসেসিং ইউনিট। খেয়াল করুন, শব্দটি গ্রাফিক নয়, বহুবচনের মতো শোনানো গ্রাফিক্স।
জিপিইউ এমন একটি প্রসেসর, যা ছবি, ভিডিও আর ত্রিমাত্রিক দৃশ্য পর্দায় আঁকার জন্য তৈরি। সিপিইউ অল্প কয়েকটি শক্তিশালী কোর দিয়ে একটির পর একটি কাজ করে, আর জিপিইউ হাজারো ছোট কোর দিয়ে একসঙ্গে অসংখ্য হিসাব করে। এই সমান্তরাল হিসাবের ক্ষমতার জন্যই আজ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রশিক্ষণে জিপিইউ এত গুরুত্বপূর্ণ।
এনভিডিয়া ১৯৯৯ সালে তাদের জিফোর্স দুইশো ছাপ্পান্ন কার্ডকে বিশ্বের প্রথম জিপিইউ বলে বাজারে আনে, তখন থেকেই নামটি প্রচলিত।
বাকি বিকল্পগুলো একটি শব্দ বদলে বানানো ফাঁদ। গ্রাফিক আর গ্রাফিক্স খুব কাছাকাছি, তাই সবচেয়ে বেশি ভুল হয় দ্বিতীয় বিকল্পে; গ্রাফ বা জিওগ্রাফিক্যাল শব্দগুলো ব্যবহৃতই হয় না।
মনে রাখুন: পূর্ণরূপে বানানের সূক্ষ্ম পার্থক্য দেখুন: Graphics (s সহ)।
৪৭. নিচের কোনটি ALU-এর আউটপুট রাখার জন্য ব্যবহৃত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কRegister
- খROM
- গFlags
- ঘOutput Unit
সঠিক উত্তর: ক. Register
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে এএলইউ, অর্থাৎ অ্যারিথমেটিক লজিক ইউনিট, হিসাব শেষে ফল কোথায় রাখে। উত্তর রেজিস্টার।
এএলইউ যোগ, বিয়োগ, তুলনা আর লজিকের কাজ করে। কাজের আগে উপাত্ত রেজিস্টারে আসে, হিসাব হয়, আর ফল সঙ্গে সঙ্গে আবার একটি রেজিস্টারে জমা হয়। অনেক প্রসেসরে এই কাজের জন্য বিশেষ রেজিস্টার থাকে, যার নাম অ্যাকুমুলেটর।
রেজিস্টার সিপিইউ-র ভেতরের অতি দ্রুত ছোট মেমোরি, তাই পরের হিসাবেই ফলটি আবার ব্যবহার করা যায়, র্যাম পর্যন্ত যেতে হয় না।
ফাঁদ হলো ফ্ল্যাগস। ফ্ল্যাগও একটি বিশেষ রেজিস্টার, কিন্তু সেখানে মূল ফল থাকে না; থাকে ফল সম্পর্কে তথ্য, যেমন ফল শূন্য কি না, ঋণাত্মক কি না, ক্যারি হলো কি না। রম স্থায়ী মেমোরি, আর আউটপুট ইউনিট মানে পর্দা বা প্রিন্টারের মতো যন্ত্র।
মনে রাখুন: এএলইউ-র কাজের সঙ্গী সবসময় রেজিস্টার: ইনপুটও রেজিস্টারে, আউটপুটও রেজিস্টারে।
৪৮. DBMS-এর পূর্ণরূপ কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কData Backup Management System
- খDatabase Management Service
- গDatabase Management System
- ঘData of Binary Management System
সঠিক উত্তর: গ. Database Management System
প্রশ্নটি ডিবিএমএস-এর পুরো নাম চেয়েছে। ডিবিএমএস মানে ডেটাবেস ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম।
ডেটাবেস হলো সুশৃঙ্খলভাবে সাজানো তথ্যের ভান্ডার, যেমন একটি কলেজের সব ছাত্রের নাম, রোল আর ফল। ডিবিএমএস হলো সেই সফটওয়্যার, যা দিয়ে এই ভান্ডার তৈরি, তথ্য যোগ, খোঁজা, হালনাগাদ ও সুরক্ষা করা যায়।
পরিচিত উদাহরণ মাইএসকিউএল, ওরাকল, মাইক্রোসফট অ্যাক্সেস আর পোস্টগ্রেএসকিউএল। এদের বেশির ভাগ রিলেশনাল, অর্থাৎ তথ্য টেবিলে রাখে, আর এসকিউএল ভাষায় কাজ করে।
ফাঁদ দ্বিতীয় বিকল্প, যেখানে শুধু শেষ শব্দ সিস্টেমের বদলে সার্ভিস বসানো। ডেটা ব্যাকআপ বা বাইনারি শব্দগুলো শুনতে প্রযুক্তিগত হলেও পুরো নামে নেই।
মনে রাখুন: DBMS-এর শেষ অক্ষর S = System, Service নয়; RDBMS মানে Relational DBMS।
৪৯. 2 কিলোবাইট মেমোরি address করার জন্য কতটি address লাইন দরকার? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক10
- খ11
- গ12
- ঘ14
সঠিক উত্তর: খ. 11
প্রশ্নটা মেমোরি অ্যাড্রেসিং-এর মূল নিয়ম পরীক্ষা করছে। প্রতিটি অ্যাড্রেস লাইন একটি বাইনারি অঙ্ক বহন করে, শূন্য বা এক। তাই n টি লাইন দিয়ে ২-এর ঘাত n সংখ্যক আলাদা ঠিকানা তৈরি করা যায়।
১ কিলোবাইট সমান ১০২৪ বাইট, যা ২-এর ঘাত ১০। তাই ২ কিলোবাইট সমান ২০৪৮ বাইট, যা ২-এর ঘাত ১১। প্রতিটি বাইটের একটা আলাদা ঠিকানা লাগে।
২০৪৮টি ঠিকানার জন্য দরকার এমন n, যাতে ২-এর ঘাত n সমান ২০৪৮। সেটা ১১, তাই ১১টি অ্যাড্রেস লাইন লাগবে।
ফাঁদ হলো ১০, যা ১ কিলোবাইটের জন্য ঠিক। মেমোরি দ্বিগুণ হলে অ্যাড্রেস লাইন একটি বাড়ে, দ্বিগুণ হয় না।
মনে রাখুন: ১ KB = ২¹⁰ মনে রাখুন; মেমোরি যতবার দ্বিগুণ, লাইন ততবার এক করে বাড়ে।
৫০. (2FA)16 এই হেক্সাডেসিমেল সংখ্যাটিকে অক্টালে রূপান্তর করুন: (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক(762)8
- খ(1372)8
- গ(228)8
- ঘ(1482)8
সঠিক উত্তর: খ. (1372)8
প্রশ্নটি হেক্সাডেসিমেল দুই এফ এ সংখ্যাটিকে অক্টালে রূপান্তর চায়। সবচেয়ে সহজ পথ বাইনারির মধ্য দিয়ে যাওয়া: হেক্সের প্রতিটি অঙ্ক চার বিট, আর অক্টালের প্রতিটি অঙ্ক তিন বিট। উত্তর অক্টালে এক তিন সাত দুই।
প্রথমে প্রতিটি হেক্স অঙ্ককে চার বিটে লিখি। দুই হয় শূন্য শূন্য এক শূন্য, এফ মানে পনেরো, তাই এক এক এক এক, আর এ মানে দশ, তাই এক শূন্য এক শূন্য। পাশাপাশি বসালে বারো বিটের একটি বাইনারি সংখ্যা পাই।
এবার ডান দিক থেকে তিনটি করে বিট নিয়ে দল বাঁধি: সবচেয়ে ডানে শূন্য এক শূন্য, মানে দুই; তারপর এক এক এক, মানে সাত; তারপর শূন্য এক এক, মানে তিন; আর বাঁয়ে শূন্য শূন্য এক, মানে এক। বাঁ থেকে পড়লে এক তিন সাত দুই।
যাচাই হিসেবে দশমিকে নিলে দুই এফ এ হয় সাতশো বাষট্টি। আর এখানেই বড় ফাঁদ: প্রথম বিকল্প সাত ছয় দুই আসলে দশমিক মানটিকে অক্টাল বলে লিখে দেওয়া। দুই দুই আট আর এক চার আট দুই বিকল্পে আট অঙ্ক আছে, যা অক্টালে থাকতেই পারে না।
মনে রাখুন: হেক্স থেকে অক্টাল: হেক্স → ৪ বিট করে বাইনারি → ডান থেকে ৩ বিট করে দল → অক্টাল। দশমিকে যাওয়ার দরকার নেই।
৫১. এম্বেডেড সিস্টেমে সাধারণত কোন ধরনের মেমোরি ব্যবহৃত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কRAM
- খহার্ডডিস্ক ড্রাইভ
- গফ্লাশ মেমোরি
- ঘঅপটিকাল ডিস্ক ড্রাইভ
সঠিক উত্তর: ক. RAM
প্রশ্নটি এম্বেডেড সিস্টেমের মেমোরি নিয়ে। এম্বেডেড সিস্টেম হলো কোনো যন্ত্রের ভেতরে বসানো ছোট কম্পিউটার, যা একটি নির্দিষ্ট কাজ করে, যেমন ওয়াশিং মেশিন, মাইক্রোওয়েভ বা গাড়ির নিয়ন্ত্রক। নির্ধারিত উত্তর র্যাম।
এম্বেডেড সিস্টেমের মূল অংশ মাইক্রোকন্ট্রোলার, যার একই চিপের ভেতরে প্রসেসর, র্যাম আর স্থায়ী মেমোরি থাকে। প্রোগ্রাম চলার সময় সব চলমান উপাত্ত, যেমন তাপমাত্রার মান বা টাইমারের হিসাব, থাকে র্যামে। তাই র্যাম ছাড়া কোনো এম্বেডেড সিস্টেম চলে না।
তবে প্রোগ্রামটি নিজে স্থায়ীভাবে রাখা হয় ফ্ল্যাশ মেমোরি বা রমে, কারণ বিদ্যুৎ গেলে র্যামের তথ্য মুছে যায়। অর্থাৎ বাস্তবে এম্বেডেড সিস্টেমে র্যাম আর ফ্ল্যাশ দুটোই সাধারণ; অনেক উৎস ফ্ল্যাশকেই উত্তর হিসেবে ধরে। নির্ধারিত উত্তর অনুযায়ী এখানে র্যাম।
হার্ডডিস্ক আর অপটিক্যাল ডিস্ক এম্বেডেড সিস্টেমে প্রায় ব্যবহৃত হয় না, কারণ এরা বড়, বেশি বিদ্যুৎ খায়, আর ঘোরার যন্ত্রাংশ থাকায় ঝাঁকুনিতে নষ্ট হতে পারে।
মনে রাখুন: এম্বেডেড সিস্টেমের মাইক্রোকন্ট্রোলারে একই চিপে থাকে CPU + RAM + Flash/ROM।
৫২. নিচের কোনটি Spyware এর উদাহরণ? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কKey loggers
- খAvast
- গNorton
- ঘKasparasky
সঠিক উত্তর: ক. Key loggers
প্রশ্নটি স্পাইওয়্যারের উদাহরণ চেয়েছে। স্পাইওয়্যার হলো এমন ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে কম্পিউটারে বসে তার কাজকর্মের তথ্য গোপনে সংগ্রহ করে অন্যের কাছে পাঠায়। উত্তর কি-লগার।
কি-লগার কি-বোর্ডের প্রতিটি চাপ নীরবে লিখে রাখে। ফলে আপনি যা টাইপ করেন, যেমন পাসওয়ার্ড, ব্যাংকের তথ্য বা ব্যক্তিগত বার্তা, সবই অপরাধীর হাতে চলে যায়। এজন্য এটি স্পাইওয়্যারের সবচেয়ে পরিচিত উদাহরণ।
বাকি তিনটি ঠিক উল্টো জিনিস। অ্যাভাস্ট, নর্টন আর ক্যাসপারস্কি হলো অ্যান্টিভাইরাস, যারা স্পাইওয়্যারসহ নানা ক্ষতিকর সফটওয়্যার খুঁজে মুছে ফেলে। প্রশ্নে শেষ নামটি ভুল বানানে ছাপা; সঠিক ইংরেজি বানান কে এ এস পি ই আর এস কে ওয়াই।
ফাঁদ এখানে খুব সরল: সব নামই নিরাপত্তা-সংক্রান্ত, তাই তাড়াহুড়ায় অ্যান্টিভাইরাসকেও কেউ কেউ বেছে নেন। মনে রাখবেন, প্রশ্ন আক্রমণকারী সফটওয়্যার চেয়েছে, রক্ষাকারী নয়।
মনে রাখুন: অ্যান্টিভাইরাসের পরিচিত নাম: Avast, Norton, Kaspersky, McAfee, Bitdefender; এদের কেউ ক্ষতিকর সফটওয়্যারের উদাহরণ নয়।
৫৩. IPv4-এ নিচের কোনটি Google DNS Server এর IP Adders? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক8.8.7.6
- খ8.7.8.6
- গ8.8.8.6
- ঘ8.8.8.8
সঠিক উত্তর: ঘ. 8.8.8.8
প্রশ্নটি গুগলের পাবলিক ডিএনএস সার্ভারের আইপি-ভার্সন-ফোর ঠিকানা চেয়েছে। উত্তর আট দশমিক আট দশমিক আট দশমিক আট। প্রশ্নের অ্যাডারস শব্দটি দিয়ে বোঝানো হয়েছে অ্যাড্রেস, মানে ঠিকানা।
গুগল ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে বিনামূল্যের পাবলিক ডিএনএস সেবা চালু করে। এর দুটি সহজ ঠিকানা: প্রধান আট দশমিক আট দশমিক আট দশমিক আট, আর বিকল্প আট দশমিক আট দশমিক চার দশমিক চার। মনে রাখার সুবিধার জন্যই ইচ্ছা করে এমন একই অঙ্কের ঠিকানা নেওয়া হয়েছে।
কম্পিউটার বা রাউটারে ডিএনএস হিসেবে এই ঠিকানা বসালে ওয়েবসাইটের নাম থেকে আইপি ঠিকানা খোঁজার কাজটি গুগলের সার্ভার করে দেয়। আরেকটি পরিচিত উদাহরণ ক্লাউডফ্লেয়ারের এক দশমিক এক দশমিক এক দশমিক এক।
বাকি তিনটি বিকল্প আসল ঠিকানার একটি বা দুটি অঙ্ক বদলে বানানো; মুখস্থ না থাকলে বিভ্রান্তি হয়। চারটিই আট, এটুকু মনে রাখলেই যথেষ্ট।
মনে রাখুন: Google DNS: 8.8.8.8 ও 8.8.4.4; Cloudflare: 1.1.1.1।
৫৪. ফায়ারওয়ালের প্রাথমিক কাজ কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসমস্ত আগত ট্রাফিক নেটওয়ার্কে ঢুকতে না দেওয়া।
- খসমস্ত আগত ট্রাফিক নেটওয়ার্কে ঢুকার অনুমতি দেওয়া।
- গআগত এবং বহির্গত নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নিরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণ করা।
- ঘসমস্ত নেটওয়ার্ক ট্রাফিক এনক্রিপ্ট করা।
সঠিক উত্তর: গ. আগত এবং বহির্গত নেটওয়ার্ক ট্রাফিক নিরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রণ করা।
প্রশ্নটি ফায়ারওয়ালের মূল কাজ জানতে চেয়েছে। ফায়ারওয়াল নেটওয়ার্কের দারোয়ান: নেটওয়ার্কে যা ঢুকছে আর যা বের হচ্ছে, সব ট্রাফিক পরীক্ষা করে পূর্বনির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী অনুমতি দেয় বা আটকায়।
যেমন নিয়ম থাকতে পারে, অফিসের নেটওয়ার্কে বাইরে থেকে শুধু ওয়েবসাইটের ট্রাফিক ঢুকবে, অচেনা পোর্টের সংযোগ বন্ধ থাকবে। আবার ভেতর থেকে কোনো সন্দেহজনক প্রোগ্রাম বাইরে তথ্য পাঠাতে চাইলে সেটাও আটকাতে পারে। এজন্য উত্তর আগত ও বহির্গত দুই দিকের ট্রাফিক নিরীক্ষা ও নিয়ন্ত্রণ।
ফায়ারওয়াল হার্ডওয়্যার যন্ত্রও হতে পারে, আবার কম্পিউটারের ভেতরের সফটওয়্যারও হতে পারে, যেমন উইন্ডোজের নিজস্ব ফায়ারওয়াল।
সব আগত ট্রাফিক আটকে দিলে ইন্টারনেটই চলবে না, আর সব ঢুকতে দিলে ফায়ারওয়ালের কোনো দরকারই থাকে না। এনক্রিপশন ফায়ারওয়ালের কাজ নয়, সেটা ভিপিএন বা এইচটিটিপিএস-এর কাজ; এটিই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
মনে রাখুন: ফায়ারওয়াল = নিয়মভিত্তিক ছাঁকনি, দুই দিকেই; এনক্রিপশন আলাদা প্রযুক্তি।
৫৫. ইন্টারনেটের মাধ্যমে তথ্য আদান-প্রদানের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রোটোকল কী? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কHTTP
- খFTP
- গDNS
- ঘTCP/IP
সঠিক উত্তর: ঘ. TCP/IP
প্রশ্নটি ইন্টারনেটে তথ্য আদান-প্রদানের সর্বাধিক ব্যবহৃত প্রোটোকল জানতে চেয়েছে। উত্তর টিসিপি-আইপি, অর্থাৎ ট্রান্সমিশন কন্ট্রোল প্রোটোকল আর ইন্টারনেট প্রোটোকলের জোড়া।
টিসিপি-আইপি আসলে পুরো ইন্টারনেটের মূল নিয়মের পরিবার। আইপি প্রতিটি ডেটা প্যাকেটে ঠিকানা বসিয়ে পথ দেখায়, আর টিসিপি নিশ্চিত করে যে প্যাকেটগুলো ঠিক ক্রমে, হারানো ছাড়াই পৌঁছেছে। ইন্টারনেটে যা কিছু চলে, সবই এর ওপর দাঁড়িয়ে।
এইচটিটিপি, এফটিপি আর ডিএনএস এই পরিবারেরই সদস্য, যারা সবচেয়ে ওপরের অ্যাপ্লিকেশন স্তরে নির্দিষ্ট কাজ করে: এইচটিটিপি ওয়েব পেজ, এফটিপি ফাইল, ডিএনএস নাম থেকে ঠিকানা। এরা সবাই নিচে টিসিপি-আইপি ব্যবহার করে।
ফাঁদ এইচটিটিপি, কারণ ব্রাউজারে সবাই একে দেখে। কিন্তু এইচটিটিপি শুধু ওয়েবের জন্য; মেইল, ফাইল, ভিডিও কল সবকিছুর নিচের ভিত্তি টিসিপি-আইপি।
মনে রাখুন: ইন্টারনেটের “মূল”, “আদর্শ” বা “সর্বাধিক ব্যবহৃত” প্রোটোকল চাইলে উত্তর TCP/IP।
৫৬. একটি কম্পিউটার নেটওয়ার্কে একটি LAN-এর একাধিক ডিভাইসকে একটি WAN-এর সাথে সংযুক্ত করে এমন ডিভাইস কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- করাউটার
- খওয়েব সার্ভার
- গব্রীজ
- ঘহাব
সঠিক উত্তর: ক. রাউটার
প্রশ্নটি এমন যন্ত্র খুঁজছে, যা একটি ল্যানের যন্ত্রগুলোকে ওয়ানের সঙ্গে যুক্ত করে। ল্যান হলো অফিস বা বাড়ির ছোট নেটওয়ার্ক, আর ওয়ান হলো বড় পরিসরের নেটওয়ার্ক, যেমন ইন্টারনেট। দুটি আলাদা নেটওয়ার্ক জোড়ার কাজ রাউটারের।
রাউটার প্রতিটি ডেটা প্যাকেটের আইপি ঠিকানা দেখে ঠিক করে, প্যাকেটটি ভেতরের নেটওয়ার্কে থাকবে নাকি বাইরে যাবে, আর গেলে কোন পথে সবচেয়ে ভালো। বাসার ওয়াই-ফাই রাউটার এর পরিচিত উদাহরণ: ঘরের সব মোবাইল-ল্যাপটপ এক সংযোগ দিয়ে ইন্টারনেটে যায়।
রাউটার কাজ করে ওএসআই মডেলের তৃতীয় স্তর, অর্থাৎ নেটওয়ার্ক স্তরে। ব্রিজ কাজ করে দ্বিতীয় স্তরে, একই ধরনের দুটি ল্যান অংশকে জোড়ে। হাব প্রথম স্তরের সরল যন্ত্র, যা পাওয়া সংকেত সব পোর্টে ছড়িয়ে দেয়।
ফাঁদ ব্রিজ, কারণ এটিও দুটি নেটওয়ার্ক অংশ জোড়ে; কিন্তু ব্রিজ ল্যানের ভেতরে কাজ করে, ল্যান থেকে ওয়ানে পথ খুঁজতে পারে না। ওয়েব সার্ভার কোনো সংযোগকারী যন্ত্রই নয়, এটি ওয়েবসাইট রাখার কম্পিউটার।
মনে রাখুন: ভিন্ন নেটওয়ার্ক জোড়া বা LAN থেকে WAN বা ইন্টারনেট: Router। একই LAN-এর ভেতরে: Switch, Bridge, Hub।
৫৭. প্রতারণামূলকভাবে সংবেদনশীল তথ্য যেমন পাসওয়ার্ড ও ক্রেডিট কার্ড নম্বর অর্জন করার জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করার অনুশীলনকে কী বলা হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কPhishing
- খSpamming
- গRansom ware
- ঘSniffing
সঠিক উত্তর: ক. Phishing
প্রশ্নটি এমন প্রতারণার নাম চেয়েছে, যাতে ইন্টারনেট ব্যবহার করে কৌশলে পাসওয়ার্ড বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বরের মতো সংবেদনশীল তথ্য আদায় করা হয়। এর নাম ফিশিং। ইংরেজি মাছ ধরা শব্দ থেকে নামটি এসেছে: টোপ ফেলে শিকার ধরার মতো।
সাধারণ কৌশল হলো ব্যাংক, বিকাশ বা পরিচিত কোম্পানির নাম করে ভুয়া ই-মেইল, এসএমএস বা ওয়েবসাইট পাঠানো। দেখতে হুবহু আসলের মতো; লিংকে ক্লিক করে তথ্য দিলেই সেটা প্রতারকের হাতে চলে যায়।
ফিশিং প্রযুক্তির দুর্বলতার চেয়ে মানুষের বিশ্বাসকে কাজে লাগায়, তাই একে সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আক্রমণ বলা হয়। প্রতিরোধের মূল উপায় হলো লিংকের ঠিকানা যাচাই করা আর কখনো ওটিপি বা পিন কাউকে না জানানো।
স্প্যামিং মানে অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপনী বার্তা গণহারে পাঠানো, র্যানসমওয়্যার ফাইল আটকে মুক্তিপণ চায়, আর স্নিফিং নেটওয়ার্কের ডেটা গোপনে পড়ে। স্নিফিং ফাঁদ, কারণ এতেও পাসওয়ার্ড চুরি হতে পারে; কিন্তু সেখানে প্রতারণা করে ব্যবহারকারীকে দিয়ে তথ্য দেওয়ানো হয় না।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “প্রতারণা”, “ভুয়া ওয়েবসাইট”, “পাসওয়ার্ড বা কার্ড নম্বর আদায়” থাকলেই Phishing।
৫৮. চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটার-এর কাজ কোনটি? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কতথ্য সংরক্ষণ
- খইমেজ বিশ্লেষণ
- গরোগী পর্যবেক্ষণ
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
প্রশ্নটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে কম্পিউটারের কাজ জানতে চেয়েছে। তথ্য সংরক্ষণ, ছবি বিশ্লেষণ আর রোগী পর্যবেক্ষণ, তিনটিই কম্পিউটারের বাস্তব কাজ, তাই উত্তর উপরের সবগুলো।
তথ্য সংরক্ষণ: হাসপাতাল রোগীর ইতিহাস, পরীক্ষার ফল আর ওষুধের তালিকা ইলেকট্রনিক স্বাস্থ্য রেকর্ডে রাখে, যাতে যেকোনো চিকিৎসক মুহূর্তে দেখতে পারেন। ছবি বিশ্লেষণ: সিটি স্ক্যান, এমআরআই আর আলট্রাসনোগ্রাফির ছবি কম্পিউটারই তৈরি করে ও বিশ্লেষণ করে, এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাও রোগ শনাক্তে সাহায্য করে।
রোগী পর্যবেক্ষণ: আইসিইউ-তে কম্পিউটারচালিত মনিটর হৃৎস্পন্দন, রক্তচাপ আর অক্সিজেনের মাত্রা প্রতি মুহূর্তে মাপে, বিপদ হলে সতর্কসংকেত দেয়। এর বাইরে টেলিমেডিসিন আর রোবটিক সার্জারিতেও কম্পিউটার কাজ করে।
ফাঁদ হলো যেকোনো একটি বিকল্পে থেমে যাওয়া। তিনটিই সত্য হলে সবগুলো বিকল্পই সঠিক।
মনে রাখুন: প্রতিটি বিকল্প আলাদাভাবে সত্য কি না যাচাই করুন; সব সত্য হলে “সবগুলো”।
৫৯. নিচের কোনটি সার্বজনীন ডিজিটাল লজিক গেইট? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কXOR
- খAND
- গNOR
- ঘOR
সঠিক উত্তর: গ. NOR
প্রশ্নটি সার্বজনীন বা ইউনিভার্সাল লজিক গেট চিনতে বলেছে। যে গেট দিয়ে অন্য সব মৌলিক গেট, অর্থাৎ নট, অর, অ্যান্ড, বানানো যায়, তাকে সার্বজনীন গেট বলে। এমন গেট দুটি: ন্যান্ড আর নর। বিকল্পে আছে নর, তাই সেটিই উত্তর।
নর মানে অর-এর পর নট: দুই ইনপুটের যেকোনোটি এক হলেই আউটপুট শূন্য, শুধু দুটোই শূন্য হলে আউটপুট এক। নর গেটের দুই ইনপুটে একই সংকেত দিলে সেটি নট গেটের মতো কাজ করে।
নর-এর আউটপুটকে আরেকটি নর দিয়ে উল্টে দিলে পাওয়া যায় অর গেট। আর দুই ইনপুটকে আলাদা নর দিয়ে আগে উল্টে তারপর আরেকটি নরে দিলে পাওয়া যায় অ্যান্ড গেট। এভাবে শুধু নর দিয়েই পুরো ডিজিটাল সার্কিট বানানো যায়, তাই ডিজিটাল নকশায় এর বিশেষ গুরুত্ব।
অ্যান্ড আর অর মৌলিক গেট, কিন্তু এদের দিয়ে নট বানানো যায় না, তাই সার্বজনীন নয়। এক্সঅর একটি বিশেষ বা যৌগিক গেট। ফাঁদ এক্সঅর, কারণ এটিও নামে নট বা অর-এর সঙ্গে মেলে।
মনে রাখুন: সার্বজনীন গেট মাত্র দুটি: NAND ও NOR। বিকল্পে যেটি আছে সেটিই উত্তর।
৬০. নিচের কোনটি ক্লাউড কম্পিউটিং এর বৈশিষ্ট্য নয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কOn-demand self service
- খBroad network access
- গLimited customization
- ঘPhysical ownership of servers
সঠিক উত্তর: ঘ. Physical ownership of servers
প্রশ্নটি ক্লাউড কম্পিউটিংয়ের বৈশিষ্ট্যের তালিকা থেকে যেটি বৈশিষ্ট্য নয় সেটি খুঁজতে বলেছে। উত্তর সার্ভারের ভৌত মালিকানা।
ক্লাউডের মূল কথাই হলো ব্যবহারকারী সার্ভার কেনেন না, ইন্টারনেটের মাধ্যমে সেবাদাতার যন্ত্র ভাড়া নিয়ে ব্যবহার করেন, আর যতটুকু ব্যবহার ততটুকু টাকা দেন। সার্ভারের মালিকানা থাকে সেবাদাতার হাতে, তাই নিজের সার্ভারের মালিক হওয়া ক্লাউডের ঠিক বিপরীত ধারণা।
মার্কিন সংস্থা নিস্ট ক্লাউডের পাঁচটি মূল বৈশিষ্ট্য দিয়েছে: চাহিদামতো নিজে নিজে সেবা নেওয়া, যেকোনো যন্ত্র থেকে নেটওয়ার্কে প্রবেশ, সম্পদ ভাগাভাগি, দ্রুত বাড়ানো-কমানো, আর মেপে মেপে বিল। প্রথম দুটি বিকল্প এই তালিকা থেকেই এসেছে।
সীমিত কাস্টমাইজেশন নিস্টের তালিকায় নেই, তবে বাস্তবে ক্লাউডের একটি পরিচিত দিক, কারণ সেবাদাতার তৈরি কাঠামোর ভেতরেই কাজ করতে হয়, বিশেষ করে সাস-এ। তাই সবচেয়ে স্পষ্টভাবে ক্লাউডের বিপরীত হলো ভৌত মালিকানা।
মনে রাখুন: নিস্টের পাঁচ বৈশিষ্ট্য: On-demand self-service, Broad network access, Resource pooling, Rapid elasticity, Measured service।