কম্পিউটার ও তথ্যপ্রযুক্তি · পাতা ৬
১০১. নিচের কোন প্রযুক্তি Face Recognition System-এর সহায়ক ভূমিকা পালন করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কApplied Artificial Intelligence (AI)
- খApplied Internet of Things (IoT)
- গVirtual Reality
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. Applied Artificial Intelligence (AI)
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন প্রযুক্তি মুখ শনাক্তকরণ ব্যবস্থায় সহায়ক। উত্তর প্রয়োগকৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।
মুখ শনাক্ত করতে কম্পিউটারকে ছবি দেখে বুঝতে হয় কোথায় মুখ আছে, তারপর চোখের দূরত্ব, নাকের আকারের মতো বৈশিষ্ট্য মেপে জমা থাকা মুখের সঙ্গে মেলাতে হয়। এই দেখা আর চেনার কাজ করে কম্পিউটার ভিশন আর মেশিন লার্নিং, যা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার শাখা।
মোবাইলের ফেস আনলক, বিমানবন্দরের স্বয়ংক্রিয় গেট আর সামাজিক মাধ্যমে ছবিতে বন্ধুকে চিনে ফেলা সবই এর উদাহরণ।
ফাঁদ হলো ইন্টারনেট অব থিংস। ক্যামেরা ইন্টারনেটে যুক্ত থাকতে পারে, কিন্তু মুখ চেনার বুদ্ধিটা আসে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে। ভার্চুয়াল রিয়েলিটি কৃত্রিম ত্রিমাত্রিক পরিবেশ তৈরি করে, শনাক্ত করে না।
মনে রাখুন: চেনা, শেখা, সিদ্ধান্ত নেওয়া = AI; যুক্ত থাকা = IoT; কৃত্রিম জগৎ = VR।
১০২. নিচের কোনটি output device নয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কmonitor
- খmicrophone
- গprinter
- ঘspeaker
সঠিক উত্তর: খ. microphone
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি আউটপুট যন্ত্র নয়। উত্তর মাইক্রোফোন, কারণ এটি শব্দ গ্রহণ করে কম্পিউটারে পাঠায়, অর্থাৎ ইনপুট যন্ত্র।
ইনপুট যন্ত্র বাইরের তথ্য কম্পিউটারে ঢোকায়, আর আউটপুট যন্ত্র কম্পিউটারের প্রক্রিয়াজাত ফল বাইরে দেখায় বা শোনায়। মাইক্রোফোন শব্দ তরঙ্গকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে কম্পিউটারে দেয়।
মনিটর পর্দায় লেখা ও ছবি দেখায়, প্রিন্টার কাগজে ছাপে, আর স্পিকার শব্দ শোনায়; তিনটিই আউটপুট যন্ত্র।
ফাঁদ হলো মাইক্রোফোন আর স্পিকারকে গুলিয়ে ফেলা, কারণ দুটোই শব্দের যন্ত্র। মনে রাখুন, মাইক্রোফোন শব্দ নেয়, স্পিকার শব্দ দেয়।
মনে রাখুন: শব্দের যন্ত্রে: মাইক্রোফোন = ইনপুট, স্পিকার = আউটপুট।
১০৩. নিচের কোনটি একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ঠিকানাকে নির্দেশ করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কhttp
- খwww
- গURL
- ঘHTML
সঠিক উত্তর: গ. URL
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েব ঠিকানা নির্দেশ করে। উত্তর ইউআরএল, মানে ইউনিফর্ম রিসোর্স লোকেটর।
ইউআরএল হলো ইন্টারনেটে কোনো ওয়েবপেজ বা ফাইলের পূর্ণ ঠিকানা। এর কয়েকটি অংশ থাকে: শুরুতে প্রটোকল, যেমন এইচটিটিপিএস; তারপর ডোমেইন নেম, যেমন কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম ডট জিওভি ডট বিডি; শেষে নির্দিষ্ট পাতার পথ।
বাকি বিকল্পগুলো ইউআরএলের অংশ বা সংশ্লিষ্ট বিষয়, পুরো ঠিকানা নয়। এইচটিটিপি হলো ব্রাউজার ও সার্ভারের যোগাযোগের প্রটোকল। ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ হলো ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ওয়েব, যা অনেক ঠিকানার শুরুতে বসে।
এইচটিএমএল হলো ওয়েবপেজ তৈরির মার্কআপ ভাষা। ফাঁদ হলো ডব্লিউডব্লিউডব্লিউ, কারণ ঠিকানার শুরুতে দেখা যায়; কিন্তু এটি ঠিকানার একটি অংশ মাত্র।
মনে রাখুন: ঠিকানা = URL; ভাষা = HTML; নিয়ম = HTTP; ওয়েব = WWW।
১০৪. নিচের কোন প্রযুক্তি ‘Pay as You Go’ সার্ভিস মডেল অনুসরণ করে? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কInternet of Things (IoT)
- খCloud Computing
- গClient-Server Systems
- ঘBig Data Analytics
সঠিক উত্তর: খ. Cloud Computing
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন প্রযুক্তি পে অ্যাজ ইউ গো মডেল অনুসরণ করে, মানে যতটুকু ব্যবহার ততটুকু মূল্য। উত্তর ক্লাউড কম্পিউটিং।
ক্লাউডে নিজের সার্ভার কিনতে হয় না; সেবাদাতার কাছ থেকে প্রয়োজনমতো সার্ভার, স্টোরেজ বা সফটওয়্যার ভাড়া নেওয়া যায়। ব্যবহার মাপা হয় ঘণ্টা, সেকেন্ড বা গিগাবাইট হিসাবে, আর বিল আসে ঠিক সেই পরিমাণের। যুক্তরাষ্ট্রের মান সংস্থা নিস্ট একে ক্লাউডের মৌলিক বৈশিষ্ট্য মেজার্ড সার্ভিস হিসেবে উল্লেখ করেছে।
এটা অনেকটা বিদ্যুতের বিলের মতো: নিজের বিদ্যুৎকেন্দ্র লাগে না, যত ইউনিট খরচ তত টাকা। ফলে ছোট প্রতিষ্ঠানও বড় বিনিয়োগ ছাড়া শক্তিশালী কম্পিউটিং ব্যবহার করতে পারে।
ফাঁদ হলো ক্লায়েন্ট-সার্ভার ব্যবস্থা, যা ক্লাউডের মতো শোনায়। কিন্তু এটি শুধু কাজ ভাগের একটি গঠন, অর্থ পরিশোধের মডেল নয়। ইন্টারনেট অব থিংস আর বিগ ডেটা নিজে কোনো বিলিং মডেল নয়।
মনে রাখুন: Pay as you go, on-demand, measured service শুনলেই Cloud Computing।
১০৫. যে সাইবার আক্রমণ সংঘটিত হলে গ্রাহকের বৈধ অনুরোধসমূহ কোন একটি web server সম্পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয় সেটি কী নামে পরিচিত? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কPhishing
- খMan-in-the-Middle
- গDenial of Service
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. Denial of Service
প্রশ্নটি এমন সাইবার আক্রমণের নাম জানতে চেয়েছে, যাতে সার্ভার সচল থাকলেও আসল গ্রাহকের অনুরোধের জবাব দিতে পারে না। এর নাম ডিনায়াল অব সার্ভিস, সংক্ষেপে ডস আক্রমণ। ডিনায়াল মানে অস্বীকার, অর্থাৎ বৈধ ব্যবহারকারীকে সেবা থেকে বঞ্চিত করা।
কৌশলটি সহজ: আক্রমণকারী একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ ভুয়া অনুরোধ পাঠিয়ে সার্ভারের প্রসেসর, মেমোরি বা নেটওয়ার্ক লাইন ভরিয়ে ফেলে। সার্ভারের সামর্থ্য সীমিত, তাই ভুয়া অনুরোধ সামলাতে সামলাতেই সে ক্লান্ত হয়ে পড়ে, আর আসল গ্রাহক অপেক্ষা করতে করতে খালি হাতে ফেরে।
একই আক্রমণ যখন হাজার হাজার সংক্রমিত কম্পিউটার বা বটনেট থেকে একসঙ্গে চালানো হয়, তখন তাকে ডিস্ট্রিবিউটেড ডিনায়াল অব সার্ভিস বা ডিডস বলে। বহু উৎস থেকে আসে বলে একে ঠেকানো আরও কঠিন।
ফাঁদ হলো ফিশিং ও ম্যান ইন দ্য মিডল। এ দুটোর লক্ষ্য তথ্য চুরি বা আড়ি পাতা, সার্ভারকে অচল করা নয়। প্রশ্নে সেবা না পাওয়ার কথা থাকলেই উত্তর ডস।
মনে রাখুন: প্রশ্নে “বৈধ ব্যবহারকারী সেবা পায় না” বা “সার্ভার অচল” থাকলে উত্তর DoS; বহু উৎস থেকে হলে DDoS।
১০৬. নিচের কোন মেমোরিটিতে Access Time সবচেয়ে কম? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কRegisters
- খSSD
- গRAM
- ঘCache memory
সঠিক উত্তর: ক. Registers
প্রশ্নটি মেমোরির অ্যাক্সেস টাইম, অর্থাৎ প্রসেসর কত দ্রুত মেমোরি থেকে তথ্য পড়তে বা লিখতে পারে, তা নিয়ে। সবচেয়ে কম অ্যাক্সেস টাইম রেজিস্টারের, কারণ রেজিস্টার সিপিইউ-র ভেতরেই থাকে এবং প্রসেসরের নিজের গতিতে কাজ করে।
কম্পিউটারের মেমোরি একটি সিঁড়ির মতো সাজানো। সবার ওপরে রেজিস্টার, তারপর ক্যাশ মেমোরি, তারপর প্রধান মেমোরি র্যাম, আর সবার নিচে এসএসডি বা হার্ডডিস্কের মতো সেকেন্ডারি স্টোরেজ। যত ওপরে, তত দ্রুত, তত দামি আর তত কম ধারণক্ষমতা।
রেজিস্টার সাধারণত এক ক্লক সাইকেলের মধ্যেই সাড়া দেয়, ক্যাশ কয়েক সাইকেল নেয়, র্যাম আরও অনেক বেশি। এসএসডি দ্রুত হলেও র্যামের চেয়ে বহু গুণ ধীর, কারণ সেটি প্রসেসর থেকে দূরে, আলাদা সংযোগ দিয়ে যুক্ত।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ক্যাশ মেমোরি। ক্যাশকে দ্রুততম মেমোরি বলে অনেকে মনে রাখেন, কিন্তু সেটা র্যামের তুলনায়; রেজিস্টার থাকলে রেজিস্টারই এগিয়ে।
মনে রাখুন: দ্রুততার ক্রম মুখস্থ রাখুন: Register > Cache > RAM > SSD > HDD। ধারণক্ষমতা ঠিক উল্টো ক্রমে বাড়ে।
১০৭. নিচের কোন ডিভাইসটি ডিজিটাল সিগন্যালকে অ্যানালগ সিগন্যালে পরিবর্তনে ব্যবহৃত হয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কRouter
- খSwitch
- গModem
- ঘHUB
সঠিক উত্তর: গ. Modem
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন যন্ত্র ডিজিটাল সংকেতকে অ্যানালগ সংকেতে বদলায়। উত্তর মডেম। নামটি এসেছে দুটি শব্দ মিলিয়ে: মডুলেটর আর ডিমডুলেটর।
কম্পিউটার কাজ করে শূন্য আর একের ডিজিটাল সংকেতে, কিন্তু পুরোনো টেলিফোন লাইন বা অনেক সংযোগ মাধ্যম বহন করে অবিচ্ছিন্ন তরঙ্গ বা অ্যানালগ সংকেত। পাঠানোর সময় মডেম ডিজিটালকে অ্যানালগ তরঙ্গে বসায়, একে বলে মডুলেশন।
অপর প্রান্তের মডেম সেই অ্যানালগ তরঙ্গ থেকে আবার শূন্য-একের ডিজিটাল তথ্য বের করে, একে বলে ডিমডুলেশন। তাই একটি মডেম দুই দিকের রূপান্তরই করে।
রাউটার, সুইচ আর হাব তিনটিই নেটওয়ার্কের যন্ত্র, কিন্তু এরা ডিজিটাল ডেটা প্যাকেট পাঠায় বা ভাগ করে, সংকেতের ধরন বদলায় না। রাউটারকে অনেকে বেছে নেন, কারণ বাসার ইন্টারনেট যন্ত্রে প্রায়ই মডেম আর রাউটার একসঙ্গে থাকে।
মনে রাখুন: Modem = MOdulator + DEModulator। ডিজিটাল থেকে অ্যানালগ মডুলেশন, অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল ডিমডুলেশন।
১০৮. নিচের কোনটি multi-tasking operating system নয়? (৪৩তম বিসিএস, ২০২১)
- কWindows
- খLinux
- গWindows NT
- ঘDOS
সঠিক উত্তর: ঘ. DOS
প্রশ্নটি মাল্টিটাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে। মাল্টিটাস্কিং মানে একই সময়ে একাধিক প্রোগ্রাম চালানো, যেমন গান শুনতে শুনতে লেখা আর ফাইল ডাউনলোড। যেটি এমন পারে না, সেটি ডস।
ডস, অর্থাৎ ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম, বিশেষ করে মাইক্রোসফটের এমএস-ডস ১৯৮১ সালে আইবিএম পার্সোনাল কম্পিউটারের সঙ্গে আসে। এটি কমান্ড লিখে চালাতে হয় এবং একসময় একটিই প্রোগ্রাম চালাতে পারে, তাই একে সিঙ্গেল ইউজার, সিঙ্গেল টাস্কিং অপারেটিং সিস্টেম বলা হয়।
উইন্ডোজ, লিনাক্স ও উইন্ডোজ এনটি তিনটিই মাল্টিটাস্কিং। লিনাক্স ১৯৯১ সালে লিনুস টরভাল্ডস শুরু করেন, আর উইন্ডোজ এনটি ১৯৯৩ সালে সার্ভার ও অফিসের জন্য মাইক্রোসফট আনে; দুটোই শুরু থেকেই একাধিক কাজ একসঙ্গে চালাতে পারে।
ফাঁদ হলো উইন্ডোজ এনটি নামটি; অপরিচিত বলে অনেকে একে পুরোনো বা সিঙ্গেল টাস্কিং ভাবেন। আসলে আধুনিক উইন্ডোজের ভিত্তিই এই এনটি প্রযুক্তি।
মনে রাখুন: সিঙ্গেল টাস্কিং বা সিঙ্গেল ইউজার অপারেটিং সিস্টেমের উদাহরণ চাইলে প্রথমেই DOS খুঁজুন।
১০৯. H.323 Protocol সাধারণত কি কাজে ব্যবহৃত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কFile transfer
- খVoIP
- গData Security
- ঘFile download
সঠিক উত্তর: খ. VoIP
প্রশ্নটি এইচ তিনশো তেইশ প্রটোকলের কাজ জানতে চেয়েছে। উত্তর ভিওআইপি, মানে ভয়েস ওভার ইন্টারনেট প্রটোকল।
এইচ তিনশো তেইশ হলো আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের একটি সুপারিশ, প্রথম প্রকাশ ১৯৯৬ সালে। এটি ইন্টারনেট প্রটোকলভিত্তিক নেটওয়ার্কে অডিও কল, ভিডিও কল ও ভিডিও কনফারেন্সের সংকেত আদান-প্রদানের নিয়ম ঠিক করে।
ভিওআইপি মানে সাধারণ টেলিফোন লাইনের বদলে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলা, যেমন হোয়াটসঅ্যাপ বা ইমোতে কল। এ কাজে এইচ তিনশো তেইশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী এসআইপি প্রটোকল, যা এখন বেশি প্রচলিত।
ফাঁদগুলো সহজ: ফাইল স্থানান্তর ও ডাউনলোডের প্রটোকল এফটিপি বা এইচটিটিপি, আর ডেটা নিরাপত্তার জন্য আছে টিএলএস জাতীয় প্রটোকল।
মনে রাখুন: VoIP-এর দুই প্রধান প্রটোকল: H.323 ও SIP।
১১০. মুদ্রিত লেখা সরাসরি ইনপুট নেয়ার জন্য নিচের কোনটি ব্যবহৃত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কOMR
- খOCR
- গMICR
- ঘScanner
সঠিক উত্তর: খ. OCR
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন যন্ত্র বা প্রযুক্তি ছাপা লেখা পড়ে সরাসরি লেখা হিসেবে কম্পিউটারে ইনপুট দেয়। উত্তর ওসিআর, মানে অপটিক্যাল ক্যারেক্টার রিকগনিশন।
ওসিআর ছাপা বা হাতে লেখা অক্ষরের আকার চিনে সেগুলোকে সম্পাদনযোগ্য লেখায় রূপান্তর করে। ফলে বই বা কাগজের লেখা আবার টাইপ না করেই কম্পিউটারে কপি ও সম্পাদনা করা যায়।
অন্য দুটি পাঠক যন্ত্রের কাজ আলাদা। ওএমআর শুধু কাগজে দেওয়া দাগ বা ভরাট বৃত্ত শনাক্ত করে, যেমন বিসিএস প্রিলিমিনারির উত্তরপত্র। এমআইসিআর চৌম্বক কালিতে ছাপা অক্ষর পড়ে, যা ব্যাংকের চেকের নিচে থাকে।
ফাঁদ হলো স্ক্যানার। স্ক্যানার পাতার একটি ছবি তোলে মাত্র; সেই ছবি থেকে অক্ষর চিনতে আলাদা ওসিআর সফটওয়্যার লাগে।
মনে রাখুন: Mark = OMR, Magnetic = MICR, Character = OCR।
১১১. একটি রিলেশনাল ডাটাবেস মডেলে নিচের কোনটি দ্বারা Relation প্রকাশ করা হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কTuples
- খAttributes
- গTables
- ঘRows
সঠিক উত্তর: গ. Tables
প্রশ্নটি রিলেশনাল ডেটাবেজের পরিভাষা যাচাই করছে। রিলেশনাল মডেলে রিলেশন মানে একটি টেবিল, তাই উত্তর টেবিলস।
এই মডেলটি ১৯৭০ সালে ই এফ কড প্রস্তাব করেন। এখানে সব তথ্য সারি আর কলামের টেবিলে রাখা হয়। গণিতের ভাষায় এমন টেবিলকে রিলেশন বলে, সেখান থেকেই রিলেশনাল নাম।
টেবিলের প্রতিটি সারিকে বলে টাপল, যেমন একজন ছাত্রের পুরো রেকর্ড। প্রতিটি কলামকে বলে অ্যাট্রিবিউট, যেমন নাম বা রোল নম্বর। তাই পুরো টেবিল রিলেশন, সারি টাপল, কলাম অ্যাট্রিবিউট।
ফাঁদ বোঝার কৌশল: টাপল আর রো একই জিনিস। দুটো সমার্থক বিকল্প একসঙ্গে সঠিক হতে পারে না, তাই দুটোই বাদ; আর অ্যাট্রিবিউট হলো কলাম।
মনে রাখুন: Relation = Table, Tuple = Row, Attribute = Column।
১১২. Bluetooth কিসের উদাহরণ ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কPersonal Area Network
- খLocal Area Network
- গVirtual Private Network
- ঘকোনটি নয়
সঠিক উত্তর: ক. Personal Area Network
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে ব্লুটুথ কোন ধরনের নেটওয়ার্কের উদাহরণ। উত্তর পার্সোনাল এরিয়া নেটওয়ার্ক বা প্যান, মানে একজন মানুষের চারপাশের যন্ত্রগুলোর ছোট নেটওয়ার্ক।
নেটওয়ার্ককে আয়তন অনুযায়ী ভাগ করা হয়। প্যান কয়েক মিটারের মধ্যে, যেমন ফোনের সঙ্গে হেডফোন বা স্মার্টওয়াচ। ল্যান একটি ভবন বা ক্যাম্পাসে, ম্যান একটি শহরে আর ওয়ান দেশ বা পুরো পৃথিবীজুড়ে, যেমন ইন্টারনেট।
ব্লুটুথ সাধারণত দশ মিটারের মতো দূরত্বে কাজ করে এবং ব্যক্তিগত যন্ত্রগুলো জোড়া লাগায়, তাই এটি প্যান। আইইইই ব্লুটুথকে আটশো দুই দশমিক পনেরো দশমিক এক নামে মানদণ্ড হিসেবে গ্রহণ করেছিল, যা প্যানের জন্য নির্ধারিত আটশো দুই দশমিক পনেরো পরিবারের অংশ।
ফাঁদ হলো ভিপিএন। এটি আকারভিত্তিক নেটওয়ার্ক নয়; ইন্টারনেটের ওপর দিয়ে এনক্রিপ্ট করা একটি নিরাপদ সুড়ঙ্গ।
মনে রাখুন: Bluetooth = PAN, Wi-Fi = LAN, WiMAX = MAN, Internet = WAN।
১১৩. মোবাইল ফোনে কোন Mode এর যোগাযোগ হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কSimplex
- খHalf-duplex
- গFull-duplex
- ঘকোনটি নয়
সঠিক উত্তর: গ. Full-duplex
প্রশ্নটি ডেটা ট্রান্সমিশন মোড নিয়ে। মোবাইল ফোনে যোগাযোগ হয় ফুল-ডুপ্লেক্স মোডে, কারণ দুই পক্ষ একই সময়ে কথা বলতে আর শুনতে পারে।
মোড তিন রকম। সিমপ্লেক্সে তথ্য চলে শুধু একদিকে, যেমন রেডিও বা টিভি সম্প্রচার। হাফ-ডুপ্লেক্সে দুই দিকেই চলে, তবে একসঙ্গে নয়, পালা করে; যেমন ওয়াকি-টকি, যেখানে বোতাম চেপে একজন বলে আর অন্যজন শোনে।
ফুল-ডুপ্লেক্সে দুই দিকেই একই সময়ে তথ্য চলে। মোবাইল ফোন বা সাধারণ টেলিফোনে আপনি কথা বলার সময়ও অপর পক্ষের কথা শুনতে পান, তাই এটি ফুল-ডুপ্লেক্স।
ফাঁদ হলো হাফ-ডুপ্লেক্স। ফোনে আমরা সাধারণত পালা করে কথা বলি, কিন্তু যন্ত্রটি একসঙ্গে দুই দিকেই তথ্য বহন করতে পারে; মোড ঠিক হয় এই ক্ষমতা দিয়ে।
মনে রাখুন: একসঙ্গে বলা-শোনা = Full-duplex; বোতাম চেপে বলা = Half-duplex।
১১৪. Firewall কি protection দেয়ার জন্য ব্যবহৃত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কFire attacks
- খUnauthorized access
- গVirus attacks
- ঘData – driven attack
সঠিক উত্তর: খ. Unauthorized access
প্রশ্নটি ফায়ারওয়ালের কাজ জানতে চেয়েছে। ফায়ারওয়াল নেটওয়ার্কে অননুমোদিত প্রবেশ ঠেকায়, তাই উত্তর আনঅথোরাইজড অ্যাকসেস।
ফায়ারওয়াল একটি নিরাপত্তা দেয়ালের মতো, যা হার্ডওয়্যার বা সফটওয়্যার দুই রকমই হতে পারে। এটি ভেতরের নেটওয়ার্ক আর বাইরের ইন্টারনেটের মাঝে বসে প্রতিটি আসা-যাওয়ার ডেটা প্যাকেট নির্দিষ্ট নিয়ম মিলিয়ে দেখে, আর অনুমতি না থাকলে আটকে দেয়।
নামটি এসেছে ভবনের অগ্নিনিরোধক দেয়াল থেকে, যা আগুন এক অংশ থেকে অন্য অংশে ছড়াতে দেয় না। তাই ফায়ার অ্যাটাক বিকল্পটি নাম দেখে বিভ্রান্ত করার ফাঁদ।
ভাইরাস ঠেকানোর মূল দায়িত্ব অ্যান্টিভাইরাসের। আর ডেটা-ড্রিভেন অ্যাটাকে ক্ষতিকর কোড অনুমোদিত ডেটার ভেতরে লুকিয়ে আসে, যেমন ই-মেইলের সংযুক্তি; অনুমোদিত পথে আসে বলে সাধারণ ফায়ারওয়াল এটি ধরতে পারে না।
মনে রাখুন: Firewall = দারোয়ান (কে ঢুকবে), Antivirus = ডাক্তার (ঢুকে পড়া রোগ সারায়)।
১১৫. TV Remote এর Carrier Frequency-র Range কত? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক< 100 MHZ
- খ< 1 GHZ
- গ< 2 GHZ
- ঘInfrared range এর
সঠিক উত্তর: ঘ. Infrared range এর
প্রশ্নটি টিভি রিমোটের সংকেত নিয়ে। প্রচলিত ও প্রদত্ত উত্তর হলো ইনফ্রারেড রেঞ্জ, কারণ টিভি রিমোট অবলোহিত আলো দিয়ে টিভিতে আদেশ পাঠায়।
রিমোটের সামনের ছোট বাতিটি একটি ইনফ্রারেড এলইডি, যার আলো প্রায় নয়শো চল্লিশ ন্যানোমিটার তরঙ্গদৈর্ঘ্যের, তাই চোখে দেখা যায় না। এই আলোর কম্পাঙ্ক কয়েকশো টেরাহার্জ, যা ইনফ্রারেড অঞ্চলে পড়ে। মোবাইলের ক্যামেরা দিয়ে রিমোটের বাতির দিকে তাকালে বোতাম চাপলে আলো জ্বলতে দেখা যায়।
সূক্ষ্ম কথা: ঘরের অন্য আলো থেকে আলাদা করতে এই অবলোহিত আলো প্রায় আটত্রিশ কিলোহার্জ হারে জ্বলে-নেভে; একে বলে মডুলেশন ক্যারিয়ার। কঠোর অর্থে সেই সংখ্যা একশো মেগাহার্জের কমই, তবে পরীক্ষার উত্তর হিসেবে ইনফ্রারেডই গ্রহণযোগ্য।
ইনফ্রারেড আলো দেয়াল ভেদ করতে পারে না, তাই রিমোট টিভির দিকে তাক করে চাপতে হয়। মেগাহার্জ বা গিগাহার্জের বিকল্পগুলো রেডিও তরঙ্গের পরিসর, যা ব্লুটুথ বা রেডিও রিমোটে ব্যবহৃত হয়।
মনে রাখুন: টিভি রিমোট = ইনফ্রারেড; তাই দেয়াল পেরোয় না, তাক করে চাপতে হয়।
১১৬. নিচের কোনটি Octal number নয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক19
- খ77
- গ15
- ঘ101
সঠিক উত্তর: ক. 19
প্রশ্নটি অক্টাল সংখ্যা পদ্ধতির নিয়ম যাচাই করছে। অক্টাল পদ্ধতির ভিত্তি আট, তাই এতে শুধু শূন্য থেকে সাত পর্যন্ত আটটি অঙ্ক থাকে; আট বা নয় অঙ্ক এতে থাকতেই পারে না।
এখন বিকল্পগুলো দেখি। এক নয় সংখ্যাটিতে নয় অঙ্ক আছে, যা সাতের বড়। তাই এটি অক্টাল সংখ্যা হতে পারে না; এটাই উত্তর।
বাকিগুলো বৈধ অক্টাল। সাত সাত মানে সাত গুণ আট যোগ সাত, দশমিকে তেষট্টি। এক পাঁচ মানে আট যোগ পাঁচ, দশমিকে তেরো। এক শূন্য এক মানে চৌষট্টি যোগ এক, দশমিকে পঁয়ষট্টি।
ফাঁদ হলো এক শূন্য এক, যা দেখতে বাইনারির মতো। কিন্তু শূন্য আর এক অক্টালেও বৈধ অঙ্ক, তাই এটিও অক্টাল সংখ্যা হতে পারে।
মনে রাখুন: ভিত্তি n হলে অঙ্ক ০ থেকে n−১। অক্টালে ৮ বা ৯ দেখলেই বাদ।
১১৭. Time-shared OS- এর জন্য কোন sheduling policy সবচেয়ে ভাল? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কFirst come first serve
- খRound-robin
- গShortest job first
- ঘLast come first serve
সঠিক উত্তর: খ. Round-robin
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে টাইম-শেয়ারিং অপারেটিং সিস্টেমের জন্য কোন সিপিইউ শিডিউলিং নীতি সবচেয়ে ভালো। উত্তর রাউন্ড-রবিন। প্রশ্নে শিডিউলিং শব্দটির ইংরেজি বানানে একটি অক্ষর বাদ পড়েছে।
টাইম-শেয়ারিং মানে অনেক ব্যবহারকারী বা প্রোগ্রাম একসঙ্গে একটি সিপিইউ ভাগাভাগি করে, আর প্রত্যেকে মনে করে কম্পিউটার শুধু তারই। এর জন্য দরকার সবাইকে দ্রুত ও সমানভাবে সাড়া দেওয়া।
রাউন্ড-রবিনে প্রতিটি প্রসেস পালা করে একটি নির্দিষ্ট ছোট সময় পায়, যাকে বলে টাইম কোয়ান্টাম, সাধারণত দশ থেকে একশো মিলিসেকেন্ড। সময় শেষ হলে প্রসেসটি লাইনের শেষে চলে যায় আর পরেরজন সিপিইউ পায়। তাই কেউ বেশি অপেক্ষা করে না।
ফাঁদ হলো ফার্স্ট কাম ফার্স্ট সার্ভ। এতে একটি বড় কাজ এলে সেটা শেষ না হওয়া পর্যন্ত সবাই আটকে থাকে। শর্টেস্ট জব ফার্স্টে বড় কাজ অনির্দিষ্টকাল অপেক্ষা করতে পারে।
মনে রাখুন: Time-sharing বা time quantum শুনলেই Round-robin।
১১৮. নিচের কোনটি 52(16) এর বাইনারী রূপ? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- ক01010010(2)
- খ0111 0011(2)
- গ0000 1100(2)
- ঘ1111 0000(2)
সঠিক উত্তর: ক. 01010010(2)
প্রশ্নটি হেক্সাডেসিমাল থেকে বাইনারিতে রূপান্তর চেয়েছে। নিয়ম হলো, প্রতিটি হেক্স অঙ্ককে আলাদাভাবে চার বিটের বাইনারিতে লিখে পাশাপাশি বসাতে হয়, কারণ ষোলো হলো দুইয়ের চার ঘাত।
প্রথম অঙ্ক পাঁচ। চার বিটে পাঁচ হলো শূন্য এক শূন্য এক, কারণ চার যোগ এক সমান পাঁচ। দ্বিতীয় অঙ্ক দুই, চার বিটে শূন্য শূন্য এক শূন্য।
দুটো পাশাপাশি বসালে পাই শূন্য এক শূন্য এক শূন্য শূন্য এক শূন্য। এটাই প্রথম বিকল্প। যাচাই করতে দশমিকে নিই: পাঁচ গুণ ষোলো যোগ দুই সমান বিরাশি, আর বাইনারিটিও চৌষট্টি যোগ ষোলো যোগ দুই সমান বিরাশি।
ভুল এড়াতে প্রতিটি অঙ্কের জন্য পুরো চার বিট লিখবেন, সামনের শূন্য বাদ দেবেন না। দুইকে শুধু এক শূন্য লিখলে বিটগুলো সরে গিয়ে ভুল উত্তর আসে।
মনে রাখুন: হেক্স → বাইনারি: প্রতি অঙ্কে ৪ বিট। অক্টাল → বাইনারি: প্রতি অঙ্কে ৩ বিট।
১১৯. প্রথম Web browser কোনটি? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কNetscape Navigator
- খWorldWideWeb
- গInternet Explorer
- ঘSafari
সঠিক উত্তর: খ. WorldWideWeb
প্রশ্নটি পৃথিবীর প্রথম ওয়েব ব্রাউজারের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর ওয়ার্ল্ডওয়াইডওয়েব, যা ১৯৯০ সালে সার্নে টিম বার্নার্স-লি তৈরি করেন।
বার্নার্স-লি একই সময়ে ওয়েবের মূল উপাদানগুলোও তৈরি করেছিলেন, যেমন এইচটিএমএল, এইচটিটিপি আর প্রথম ওয়েব সার্ভার। তাঁর ব্রাউজারটি একসঙ্গে ওয়েবপেজ দেখা আর সম্পাদনা দুটোই করতে পারত। পরে ওয়েবের সঙ্গে নাম গুলিয়ে না যায়, তাই এর নাম রাখা হয় নেক্সাস।
এরপর আসে জনপ্রিয় ব্রাউজারগুলো: ১৯৯৩ সালে মোজাইক, ১৯৯৪ সালে নেটস্কেপ নেভিগেটর, ১৯৯৫ সালে ইন্টারনেট এক্সপ্লোরার আর ২০০৩ সালে অ্যাপলের সাফারি।
ফাঁদ হলো নেটস্কেপ নেভিগেটর। এটি প্রথম ব্যাপক জনপ্রিয় বাণিজ্যিক ব্রাউজার ছিল, কিন্তু প্রথম ব্রাউজার নয়।
মনে রাখুন: প্রথম ব্রাউজার WorldWideWeb; প্রথম জনপ্রিয় গ্রাফিক্যাল ব্রাউজার Mosaic।
১২০. Social Networking Site – এ যোগাযোগে কোন media ব্যবহৃত হয়? (৪০তম বিসিএস, ২০১৯)
- কimage /video
- খAudio
- গText
- ঘউপরের সবগুলো
সঠিক উত্তর: ঘ. উপরের সবগুলো
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে সামাজিক যোগাযোগের সাইটে কোন মাধ্যমে যোগাযোগ হয়। উত্তর উপরের সবগুলো, কারণ এসব সাইটে লেখা, ছবি, ভিডিও আর অডিও সবই ব্যবহৃত হয়।
ফেসবুকের কথাই ধরুন। স্ট্যাটাস আর মন্তব্য হলো লেখা, ছবি ও রিল হলো ছবি-ভিডিও, আর মেসেঞ্জারের ভয়েস মেসেজ বা অডিও কল হলো অডিও। লাইভ ভিডিওতে সব একসঙ্গে থাকে।
একাধিক মাধ্যম একসঙ্গে ব্যবহার করাকে বলে মাল্টিমিডিয়া। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম মূলত মাল্টিমিডিয়া প্ল্যাটফর্ম, তাই কোনো একটি মাধ্যম আলাদা করে বেছে নেওয়া অসম্পূর্ণ উত্তর।
মনে রাখুন: প্রতিটি বিকল্প আলাদাভাবে সত্য হলে ‘উপরের সবগুলো’ বেছে নিন।