ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৩
৪১. জাপানিজ শব্দ 'সুনামি' এর অর্থ কী? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কবিশালাকৃতির ঢেউ
- খসামুদ্রিক ঢেউ
- গজলোচ্ছ্বাস
- ঘপোতাশ্রয়ের ঢেউ
সঠিক উত্তর: ঘ. পোতাশ্রয়ের ঢেউ
প্রশ্নটি সুনামি শব্দের অর্থ জানতে চেয়েছে। জাপানি ভাষায় সুনামি মানে পোতাশ্রয়ের ঢেউ।
শব্দটি দুই অংশে গঠিত: সু মানে পোতাশ্রয় বা বন্দর, আর নামি মানে ঢেউ। জাপানের জেলেরা গভীর সমুদ্রে কোনো বড় ঢেউ টের পেতেন না, কিন্তু ফিরে এসে দেখতেন বন্দর ধ্বংস হয়ে গেছে। কারণ গভীর সমুদ্রে সুনামির ঢেউ নিচু কিন্তু খুব দ্রুতগামী; উপকূলের অগভীর পানিতে এসে তা হঠাৎ বিশাল উঁচু হয়ে যায়।
সুনামির প্রধান কারণ সমুদ্রতলের ভূমিকম্প, এ ছাড়া সমুদ্রের নিচের ভূমিধস বা আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতেও হতে পারে। দুই হাজার চার সালের ভারত মহাসাগরের সুনামি এর সবচেয়ে ভয়াবহ উদাহরণগুলোর একটি।
বিশালাকৃতির ঢেউ বা জলোচ্ছ্বাস সুনামির বৈশিষ্ট্য বোঝায়, শব্দের অর্থ নয়, তাই এগুলো ফাঁদ। জলোচ্ছ্বাস আসলে ঘূর্ণিঝড়ের বাতাসে তৈরি আলাদা ঘটনা।
মনে রাখুন: সু মানে বন্দর, নামি মানে ঢেউ: বন্দরে এসে ঢেউটি ভয়ংকর হয়।
৪২. বৈশ্বিক উষ্ণায়নের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ নয় কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কমরুকরণ
- খবন্যা
- গসমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি
- ঘভূমিকম্প
সঠিক উত্তর: ঘ. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোনটি বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ঝুঁকি নয়। উত্তর ভূমিকম্প।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন হলো গ্রিনহাউস গ্যাস বেড়ে বায়ুমণ্ডল ও সমুদ্রের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া। এর প্রভাব পড়ে আবহাওয়া, পানিচক্র ও বরফের ওপর: হিমবাহ ও মেরুর বরফ গলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে, বৃষ্টির ধরন বদলে কোথাও বন্যা আর কোথাও খরা ও মরুকরণ বাড়ে।
ভূমিকম্প হয় পৃথিবীর ভেতরের টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ায়, ভূগর্ভের শিলায় চাপ জমে হঠাৎ মুক্ত হলে। এর উৎস কয়েক কিলোমিটার থেকে শত কিলোমিটার গভীরে, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই।
মরুকরণ অনেকে উষ্ণায়নের সঙ্গে মেলান না, তাই এটি বিভ্রান্ত করে। কিন্তু তাপ বাড়লে মাটির পানি বাষ্প হয়ে যায় আর খরা দীর্ঘ হয়, তাই মরুকরণও উষ্ণায়নের ঝুঁকি।
মনে রাখুন: আকাশ ও পানির দুর্যোগ উষ্ণায়নের সঙ্গে যুক্ত; মাটির নিচের দুর্যোগ নয়।
৪৩. বন্যা নিয়ন্ত্রণে সাধারণ ব্যবস্থাপনার অন্তর্ভুক্ত নয় কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কনদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
- খনদী শাসন ব্যবস্থা সুনিশ্চিত করা
- গনদীর দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি করা
- ঘবন্যার পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন সাধন করা
সঠিক উত্তর: ক. নদী খননের মাধ্যমে পানি পরিবহন সক্ষমতা বৃদ্ধি করা
প্রশ্নটা বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থাগুলোর শ্রেণিবিভাগ পরীক্ষা করছে। সাধারণত দুই ভাগ: কাঠামোগত ব্যবস্থা, যেমন বাঁধ, নদী খনন, নদী শাসন; আর অকাঠামোগত ব্যবস্থা, যেমন পূর্বাভাস, সতর্কীকরণ, বনায়ন।
প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী নদী খনন বড় আকারের ব্যয়বহুল প্রকৌশল প্রকল্প, যা নিয়মিত ব্যবস্থাপনার অংশ নয়; তাই একে সাধারণ ব্যবস্থাপনার বাইরে ধরা হয়েছে।
অন্যদিকে নদী শাসন, দুই তীরে বনাঞ্চল সৃষ্টি, আর পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন নিয়মিত ব্যবস্থাপনার কাজ হিসেবে ধরা হয়। বনাঞ্চল পানির প্রবাহ ধীর করে ও ভাঙন কমায়, আর পূর্বাভাস মানুষকে আগেই সরে যাওয়ার সুযোগ দেয়।
সতর্ক থাকুন: প্রশ্নটি বিতর্কিত, কারণ নদী খননকেও সাধারণত বন্যা নিয়ন্ত্রণের একটি প্রচলিত ব্যবস্থা হিসেবেই ধরা হয়। পরীক্ষায় প্রচলিত উত্তর নদী খনন, তাই সেটাই মনে রাখুন।
৪৪. নিচের কোনটি কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ (Hazard)? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কভূমিকম্প
- খভূমিধস
- গসুনামি
- ঘখরা
সঠিক উত্তর: ঘ. খরা
প্রশ্নটা প্রাকৃতিক আপদের শ্রেণিবিভাগ যাচাই করছে। আপদকে উৎস অনুযায়ী ভাগ করা হয়: পৃথিবীর ভিতরের শক্তি থেকে ভূতাত্ত্বিক আপদ, আর আবহাওয়া ও জলবায়ু থেকে আবহাওয়াজনিত আপদ।
খরা হয় দীর্ঘ সময় স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি আর বেশি তাপমাত্রার কারণে। এর সবচেয়ে বড় আঘাত পড়ে ফসল ও কৃষির উপর, তাই খরাকে কৃষি-আবহাওয়াজনিত আপদ বলা হয়।
ভূমিকম্প আর সুনামির উৎস ভূত্বকের নড়াচড়া, তাই এগুলো ভূতাত্ত্বিক আপদ। ভূমিধস হয় ঢালের মাটি ও পাথর ধসে পড়ে; ভারী বৃষ্টি একে উসকে দিলেও এটি মূলত ভূমিরূপ ও মাটির অবস্থাজনিত আপদ।
ফাঁদ হলো ভূমিধস, কারণ বর্ষায় বেশি হয় বলে একে আবহাওয়ার আপদ মনে হয়। কিন্তু বৃষ্টি এখানে কেবল ট্রিগার; কৃষির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত আবহাওয়াজনিত আপদ হলো খরা।
মনে রাখুন: ‘কৃষি’ আর ‘আবহাওয়া’ দুটো শব্দ একসাথে দেখলেই বৃষ্টির অভাবের আপদ, মানে খরা।
৪৫. Which of the following is the second highest rice producer in the world? (সমন্বিত ৭ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৪)
- কChina
- খRussia
- গIndia
- ঘBangladesh
- ঙকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ঙ. কোনোটিই নয়
প্রশ্নটি তখনকার তথ্য অনুযায়ী; তখন সঠিক ছিল: India। এখন: মার্কিন কৃষি বিভাগের ২০২৪-২৫ হিসাবে ভারত এখন বিশ্বের শীর্ষ চাল উৎপাদক, চীন দ্বিতীয়।।
পরীক্ষার সময়, মানে ২০২৪ সালের মে মাসে, বিশ্বে চাল উৎপাদনে প্রথম ছিল চীন, দ্বিতীয় ভারত আর তৃতীয় বাংলাদেশ। এফএও ও মার্কিন কৃষি বিভাগের তখনকার হিসাবে এই ক্রম ছিল।
চীন ও ভারতের উৎপাদন অনেক কাছাকাছি, দুটি দেশই বিশ্বের মোট চালের বড় অংশ উৎপাদন করে। বাংলাদেশ তাদের থেকে অনেক পেছনে হলেও তৃতীয় অবস্থানে।
রপ্তানিতে কিন্তু ছবিটা ভিন্ন: চাল রপ্তানিতে ভারত শীর্ষে। তাই উৎপাদন আর রপ্তানি আলাদা করে মনে রাখুন।
বাংলাদেশ তৃতীয় বলে অনেকে ভুল করে একে দ্বিতীয় ভেবে বসেন। আর রাশিয়া চাল নয়, গম উৎপাদনে বড় দেশ।
মনে রাখুন: চাল উৎপাদনের ক্রম: চীন, ভারত, বাংলাদেশ (পরীক্ষার সময়); রপ্তানিতে শীর্ষ ভারত।
৪৬. বাংলাদেশের কয়টি জেলার সাথে 'সুন্দরবন' সংযুক্ত আছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক৪ (চার) টি
- খ৫ (পাঁচ) টি
- গ৬ (ছয়) টি
- ঘ৭ (সাত) টি
সঠিক উত্তর: খ. ৫ (পাঁচ) টি
প্রশ্নটি সুন্দরবনের বিস্তার নিয়ে। প্রচলিত উত্তর অনুযায়ী বাংলাদেশের পাঁচটি জেলার সঙ্গে সুন্দরবন যুক্ত।
সুন্দরবনের মূল বনভূমি খুলনা বিভাগের তিন জেলায়: পশ্চিমে সাতক্ষীরা, মাঝে খুলনা আর পূর্বে বাগেরহাট। এর পূর্ব দিকে বরিশাল বিভাগের উপকূলীয় দুটি জেলাও সুন্দরবনের সঙ্গে যুক্ত বলে ধরা হয়, তাই মোট সংখ্যা পাঁচ।
এই দুটি জেলার নাম নিয়ে সূত্রে একটু ভিন্নতা আছে। গাইড বইগুলো সাধারণত বরগুনা ও পটুয়াখালী লেখে, আর সুন্দরবন দিবসের প্রতিবেদনে প্রভাব-এলাকা হিসেবে বরগুনা ও পিরোজপুরের নাম আসে। তবে দুই হিসাবেই মোট জেলা পাঁচটি।
সুন্দরবন পৃথিবীর বৃহত্তম একক ম্যানগ্রোভ বন, যার প্রায় তিন ভাগের দুই ভাগ বাংলাদেশে, বাকিটা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে। উনিশশো সাতানব্বই সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্য ঘোষণা করে।
চার বিকল্পটি ফাঁদ হতে পারে, কারণ অনেকে শুধু খুলনা বিভাগের জেলাগুলো গোনেন। কিন্তু বরিশাল বিভাগের উপকূলের জেলাগুলোও এর সঙ্গে যুক্ত।
মনে রাখুন: তিনটি খুলনা বিভাগের আর দুটি বরিশাল বিভাগের: মোট পাঁচ।
৪৭. কোন এলাকাকে 'Marine Protected Area (MPA)' ঘোষণা করা হয়েছে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কসেন্টমার্টিন
- খসেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
- গপটুয়াখালী ও বরগুনা
- ঘহিরন পয়েন্ট
সঠিক উত্তর: খ. সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা
প্রশ্নটি বাংলাদেশের সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা নিয়ে। দুই হাজার বাইশ সালের জানুয়ারিতে সেন্ট মার্টিন দ্বীপ এবং এর আশেপাশের এলাকাকে মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া ঘোষণা করা হয়।
মেরিন প্রটেক্টেড এরিয়া মানে সমুদ্রের এমন এলাকা, যেখানে মাছ ধরা, খনন বা দূষণ নিয়ন্ত্রণ করে জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা হয়। সেন্ট মার্টিন দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ। প্রবাল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ও নানা মাছ বাঁচাতে শুধু দ্বীপ নয়, এর চারপাশের প্রায় এক হাজার সাতশো তেতাল্লিশ বর্গকিলোমিটার সমুদ্র এলাকা সুরক্ষার আওতায় আনা হয়।
এর আগে, দুই হাজার চোদ্দ সালে, দেশের প্রথম সামুদ্রিক সংরক্ষিত এলাকা ঘোষিত হয় সুন্দরবনের দক্ষিণের সোয়াচ অব নো গ্রাউন্ড। তাই প্রথম আর দ্বিতীয়টি আলাদা করে মনে রাখুন।
শুধু সেন্টমার্টিন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ঘোষণাটি দ্বীপের সঙ্গে চারপাশের সমুদ্রকেও ধরেছে, তাই সম্পূর্ণ উত্তর হলো সেন্টমার্টিন এবং এর আশেপাশের এলাকা।
মনে রাখুন: সেন্ট মার্টিনের ঘোষণায় দ্বীপের সঙ্গে চারপাশের সমুদ্রও আছে; শুধু দ্বীপ বললে উত্তর অসম্পূর্ণ।
৪৮. ক্ষুদ্রতম মহাদেশ : (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঅস্ট্রেলিয়া
- খইউরোপ
- গআফ্রিকা
- ঘদক্ষিণ আমেরিকা
সঠিক উত্তর: ক. অস্ট্রেলিয়া
প্রশ্নটি মহাদেশের আয়তন নিয়ে। আয়তনে সবচেয়ে ছোট মহাদেশ অস্ট্রেলিয়া।
পৃথিবীতে সাতটি মহাদেশ। আয়তনে বড় থেকে ছোট: এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, দক্ষিণ আমেরিকা, অ্যান্টার্কটিকা, ইউরোপ আর অস্ট্রেলিয়া। অস্ট্রেলিয়া প্রায় সাতাত্তর লাখ বর্গকিলোমিটার, যেখানে ইউরোপ প্রায় এক কোটি বর্গকিলোমিটার।
অস্ট্রেলিয়া একমাত্র মহাদেশ যা একই সঙ্গে একটি দেশ। চারদিকে সাগর থাকায় একে দ্বীপ-মহাদেশও বলে। আশপাশের দ্বীপগুলোসহ অঞ্চলটিকে ওশেনিয়াও বলা হয়।
ইউরোপ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ ইউরোপও ছোট মহাদেশ এবং ছোট ছোট অনেক দেশে ভাগ। কিন্তু আয়তনে ইউরোপ অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে বড়, তাই ক্ষুদ্রতম নয়।
মনে রাখুন: বৃহত্তম এশিয়া, ক্ষুদ্রতম অস্ট্রেলিয়া; ইউরোপ ছোট হলেও ষষ্ঠ।
৪৯. পৃথিবীর গভীরতম স্থান : (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
- খডেড সী
- গবৈকাল হ্রদ
- ঘলোহিত সাগর
সঠিক উত্তর: ক. ম্যারিয়ানা ট্রেঞ্চ
প্রশ্নটি পৃথিবীর গভীরতম স্থান জানতে চেয়েছে। উত্তর প্রশান্ত মহাসাগরের মারিয়ানা ট্রেঞ্চ, যার সবচেয়ে গভীর বিন্দুর নাম চ্যালেঞ্জার ডিপ।
চ্যালেঞ্জার ডিপের গভীরতা প্রায় এগারো কিলোমিটার, মানে এভারেস্টকে উল্টো করে বসালেও চূড়া পানির নিচে থাকবে। এটি তৈরি হয়েছে প্যাসিফিক প্লেট মারিয়ানা প্লেটের নিচে ঢুকে যাওয়ায়, এ রকম খাদকে বলে সমুদ্রখাত বা ট্রেঞ্চ।
বাকি বিকল্পগুলোও কোনো না কোনো রেকর্ডের, তাই বিভ্রান্তি তৈরি করে। মৃত সাগরের তীর স্থলভাগের সর্বনিম্ন স্থান, সমুদ্রপৃষ্ঠের চারশো ত্রিশ মিটারেরও বেশি নিচে। বৈকাল পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ, প্রায় এক হাজার ছয়শো বিয়াল্লিশ মিটার। লোহিত সাগর একটি সাগর, গভীরতায় মারিয়ানার ধারেকাছেও নয়।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ মৃত সাগর। মনে রাখুন, স্থলভাগের সর্বনিম্ন মৃত সাগর, কিন্তু সব মিলিয়ে পৃথিবীর গভীরতম মারিয়ানা ট্রেঞ্চ।
মনে রাখুন: স্থলে নিচু মৃত সাগর, হ্রদে গভীর বৈকাল, সব মিলিয়ে গভীরতম মারিয়ানা।
৫০. 'ভিক্টোরিয়া ডিজার্ট' কোথায় অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককানাডা
- খপশ্চিম আফ্রিকা
- গনর্থ আমেরিকা
- ঘঅস্ট্রেলিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. অস্ট্রেলিয়া
প্রশ্নটি একটি মরুভূমির অবস্থান জানতে চেয়েছে। ভিক্টোরিয়া মরুভূমি, পুরো নাম গ্রেট ভিক্টোরিয়া মরুভূমি, অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত।
এটি অস্ট্রেলিয়ার বৃহত্তম মরুভূমি, পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যজুড়ে বিস্তৃত। ব্রিটিশ রানি ভিক্টোরিয়ার নামে এর নামকরণ। অস্ট্রেলিয়ার মাঝখানের বিশাল অংশ শুষ্ক, তাই সেখানে গ্রেট স্যান্ডি, গিবসন, সিম্পসনসহ অনেক মরুভূমি আছে।
একই নামে অনেক কিছু আছে, তাই গুলিয়ে যায়। আফ্রিকার ভিক্টোরিয়া হ্রদ আর ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত আছে, কানাডার ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার রাজধানীর নামও ভিক্টোরিয়া। কিন্তু ভিক্টোরিয়া নামের মরুভূমি অস্ট্রেলিয়ায়।
পশ্চিম আফ্রিকা বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ সেখানে সাহারার অংশ আছে আর আফ্রিকায় ভিক্টোরিয়া হ্রদ আছে। মরুভূমি হলে মনে রাখুন অস্ট্রেলিয়া।
মনে রাখুন: ভিক্টোরিয়া, গিবসন, গ্রেট স্যান্ডি, সিম্পসন: এই মরুভূমিগুলো সব অস্ট্রেলিয়ায়।
৫১. কোন নদীটির উৎপত্তিস্থান বাংলাদেশে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককর্ণফুলি
- খনাফ
- গমেঘনা
- ঘহালদা
সঠিক উত্তর: ঘ. হালদা
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন নদীর উৎপত্তি বাংলাদেশের ভেতরে। উত্তর হালদা।
হালদা উৎপন্ন হয়েছে খাগড়াছড়ি জেলার রামগড় উপজেলার বাদনাতলী পাহাড়শ্রেণি থেকে। এরপর ফটিকছড়ি, হাটহাজারী ও রাউজান হয়ে চট্টগ্রামের কালুরঘাটের কাছে কর্ণফুলীতে মিশেছে। পুরো পথটাই বাংলাদেশের ভেতরে।
হালদা রুই, কাতলা, মৃগেল ও কালবাউশের প্রাকৃতিক প্রজননক্ষেত্র, যেখান থেকে সরাসরি নিষিক্ত ডিম সংগ্রহ করা হয়। এই বৈশিষ্ট্যের জন্য একে অনন্য প্রাকৃতিক মৎস্য প্রজননক্ষেত্র বলা হয়।
কর্ণফুলী বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ এটি চট্টগ্রামের প্রধান নদী আর হালদা এতেই মেশে। কিন্তু কর্ণফুলীর উৎপত্তি ভারতের মিজোরামের লুসাই পাহাড়ে।
মনে রাখুন: দেশের ভেতরে জন্ম, দেশের ভেতরে শেষ: হালদা।
৫২. পানিতে দ্রবীভূত অক্সিজেন কোথায় অবস্থান করে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপানির উপরিভাগে
- খপানির মধ্যভাগে
- গপানির আন্তঃআণবিক স্থানে
- ঘপানির তলদেশে
সঠিক উত্তর: গ. পানির আন্তঃআণবিক স্থানে
প্রশ্নটি পানিতে অক্সিজেন কীভাবে থাকে তা নিয়ে। দ্রবীভূত অক্সিজেন পানির আন্তঃআণবিক স্থানে, মানে পানির অণুগুলোর মাঝের ফাঁকে অবস্থান করে।
বাতাসের অক্সিজেন পানির উপরিতলে মিশে যায়, আর জলজ উদ্ভিদ ও শৈবাল সালোকসংশ্লেষণে অক্সিজেন ছাড়ে। এই অক্সিজেন অণু পানির অণুর সঙ্গে রাসায়নিকভাবে যুক্ত হয় না; পানির অণুগুলোর মাঝে যে ফাঁকা জায়গা থাকে, সেখানে ছড়িয়ে থাকে। মাছ ফুলকা দিয়ে এই অক্সিজেনই নেয়।
পানি যত ঠান্ডা, তত বেশি অক্সিজেন ধরে রাখতে পারে। গরম পানিতে অণুগুলো দ্রুত নড়ে, তাই অক্সিজেন বেরিয়ে যায়। এজন্য গরমকালে পুকুরে অক্সিজেনের ঘাটতিতে মাছ ভেসে ওঠে।
উপরিভাগ বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ অক্সিজেন উপরিতল দিয়েই ঢোকে। কিন্তু দ্রবীভূত হওয়ার পর তা নির্দিষ্ট কোনো স্তরে নয়, অণুর ফাঁকে ফাঁকে থাকে।
মনে রাখুন: দ্রবীভূত মানে অণুর ফাঁকে মিশে থাকা; কোনো নির্দিষ্ট স্তরে নয়।
৫৩. গ্রীন হাউস গ্যাসের কোন গ্যাস বর্তমানে বৃদ্ধি পাচ্ছে না? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ককার্বন ডাইঅক্সাইড
- খমিথেন
- গসিএফসি
- ঘনাইট্রাস অক্সাইড
সঠিক উত্তর: গ. সিএফসি
প্রশ্নটি গ্রিনহাউস গ্যাসের বর্তমান প্রবণতা নিয়ে। যে গ্যাসের পরিমাণ এখন আর বাড়ছে না, সেটি সিএফসি বা ক্লোরোফ্লুরোকার্বন।
সিএফসি একসময় ফ্রিজ, এয়ারকন্ডিশনার ও স্প্রেতে ব্যাপকভাবে ব্যবহার হতো। এটি ওজোনস্তর ক্ষয় করে, আবার শক্তিশালী গ্রিনহাউস গ্যাসও। উনিশশো সাতাশি সালের মন্ট্রিল প্রটোকলের মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে সিএফসি উৎপাদন ধাপে ধাপে বন্ধ করা হয়।
ফলে নতুন সিএফসি বায়ুমণ্ডলে যোগ হওয়া প্রায় থেমে যায়, আর এর ঘনত্ব এখন ধীরে ধীরে কমছে। অন্যদিকে জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানো, ধানক্ষেত, গবাদিপশু ও রাসায়নিক সারের কারণে কার্বন ডাইঅক্সাইড, মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড এখনো বাড়ছে।
মিথেন বিকল্পটি অনেকে বেছে নেন, কারণ এর পরিমাণ কার্বন ডাইঅক্সাইডের চেয়ে কম। কিন্তু পরিমাণ কম হলেও এর ঘনত্ব প্রতিবছর বাড়ছে।
মনে রাখুন: যে গ্যাস আইন করে বন্ধ করা হয়েছে, সেটিই আর বাড়ছে না: সিএফসি।
৫৪. বাংলাদেশে সিডর কখন আঘাত হানে? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৫ নভেম্বর ২০০৭
- খ১৬ নভেম্বর ২০০৭
- গ১৭ নভেম্বর ২০০৭
- ঘ১৮ নভেম্বর ২০০৭
সঠিক উত্তর: ক. ১৫ নভেম্বর ২০০৭
প্রশ্নটি ঘূর্ণিঝড় সিডরের তারিখ জানতে চেয়েছে। সিডর বাংলাদেশে আঘাত হানে দুই হাজার সাত সালের পনেরো নভেম্বর।
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া এই অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় পনেরো নভেম্বর রাতে উপকূলে আঘাত হানে এবং রাতভর দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। জলোচ্ছ্বাসে উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা ডুবে যায়, কয়েক হাজার মানুষ মারা যায়।
সুন্দরবন ঝড়ের গতি অনেকটা কমিয়ে দিয়ে উপকূলকে রক্ষা করে, তবে বনেরও বিপুল ক্ষতি হয়। এর পর থেকে সুন্দরবনকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক ঢাল বলা হয়।
ঝড়টি রাত পেরিয়ে পরদিন পর্যন্ত চলেছিল বলে অনেকে ষোলো নভেম্বর বেছে নেন। কিন্তু আঘাত হানার, মানে স্থলভাগে ওঠার তারিখ পনেরো নভেম্বর।
মনে রাখুন: সিডর ২০০৭, আইলা ২০০৯: নভেম্বরের ১৫ তারিখ সিডর।
৫৫. বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা কত নটিক্যাল মাইল? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৫০ নটিক্যাল মাইল
- খ২০০ নটিক্যাল মাইল
- গ২৫০ নটিক্যাল মাইল
- ঘ৩০০ নটিক্যাল মাইল
সঠিক উত্তর: খ. ২০০ নটিক্যাল মাইল
প্রশ্নটি সমুদ্র আইনের অঞ্চলভাগ নিয়ে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সমুদ্রসীমা বা একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল উপকূলের ভিত্তিরেখা থেকে দুইশো নটিক্যাল মাইল।
জাতিসংঘের সমুদ্র আইন বিষয়ক কনভেনশন অনুযায়ী উপকূলীয় দেশের সমুদ্র কয়েকটি ধাপে ভাগ হয়। ভিত্তিরেখা থেকে বারো নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় সমুদ্রসীমা, যেখানে দেশের পূর্ণ সার্বভৌমত্ব। চব্বিশ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত সংলগ্ন অঞ্চল, যেখানে শুল্ক ও অভিবাসন আইন প্রয়োগ করা যায়।
আর দুইশো নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত একান্ত অর্থনৈতিক অঞ্চল। এখানে মাছ, তেল-গ্যাসসহ পানি ও তলদেশের সব সম্পদ আহরণের একচ্ছত্র অধিকার ওই দেশের। মহীসোপান প্রমাণ সাপেক্ষে সর্বোচ্চ তিনশো পঞ্চাশ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত দাবি করা যায়। দুই হাজার বারো সালে মিয়ানমার ও দুই হাজার চোদ্দ সালে ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধ নিষ্পত্তির পর বাংলাদেশ এই অধিকার নিশ্চিত করে।
সাড়ে তিনশো আর দুইশো গুলিয়ে ফেলাই সাধারণ ভুল। মনে রাখুন, অর্থনৈতিক অঞ্চল দুইশো, মহীসোপান সর্বোচ্চ সাড়ে তিনশো।
মনে রাখুন: সংখ্যাগুলো ক্রমে: ১২, ২৪, ২০০, সর্বোচ্চ ৩৫০।
৫৬. ভূমিকম্প সংঘটন বিন্দুর সরাসরি উপরে ভূপৃষ্ঠস্থ বিন্দুকে বলে- (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কফোকাস
- খএপিসেন্টার
- গফ্রাকচার
- ঘফল্ট
সঠিক উত্তর: খ. এপিসেন্টার
প্রশ্নটি ভূমিকম্পের পরিভাষা নিয়ে। ভূগর্ভে যেখানে ভূমিকম্পের উৎপত্তি, তার ঠিক ওপরে ভূপৃষ্ঠের বিন্দুকে বলে এপিসেন্টার বা উপকেন্দ্র।
ভূমিকম্প শুরু হয় মাটির নিচে, যেখানে শিলায় জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হয়। সেই উৎপত্তিস্থলের নাম ফোকাস বা কেন্দ্র, যাকে হাইপোসেন্টারও বলে। ফোকাস থেকে সোজা ওপরে উঠে ভূপৃষ্ঠের যে বিন্দু পাওয়া যায়, সেটিই এপিসেন্টার। এপি মানে ওপরে।
এপিসেন্টারে কম্পন প্রথমে ও সবচেয়ে তীব্রভাবে অনুভূত হয়, তাই খবরে ভূমিকম্পের উৎস বলতে এপিসেন্টারের অবস্থানই বলা হয়।
ফোকাস বিকল্পটি প্রধান ফাঁদ। ফোকাস মাটির নিচে, এপিসেন্টার মাটির ওপরে। ফল্ট মানে শিলার চ্যুতি বা ফাটল বরাবর সরে যাওয়া তল, আর ফ্র্যাকচার মানে সাধারণ ফাটল; এরা কোনো বিন্দু নয়।
মনে রাখুন: এপি মানে ওপরে: ফোকাসের ওপরে এপিসেন্টার।
৫৭. বিশ্বব্যাপী নিচের কোন অর্থনৈতিক খাত থেকে সবচাইতে বেশি গ্রিন হাউস গ্যাস নির্গত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কপরিবহন
- খবিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
- গভবন নির্মাণ
- ঘশিল্প
সঠিক উত্তর: খ. বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে বিশ্বে কোন অর্থনৈতিক খাত সবচেয়ে বেশি গ্রিনহাউস গ্যাস ছাড়ে। উত্তর বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদন খাত।
পৃথিবীর বেশিরভাগ বিদ্যুৎ এখনো কয়লা, গ্যাস ও তেল পুড়িয়ে তৈরি হয়। এক টন কয়লা পোড়ালেই বিপুল কার্বন ডাইঅক্সাইড বের হয়, আর বিদ্যুৎ লাগে ঘর, কারখানা, অফিস সব জায়গায়। তাই ওয়ার্ল্ড রিসোর্সেস ইনস্টিটিউটের হিসাবে বিশ্বের মোট নির্গমনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ আসে শুধু এই খাত থেকে।
এরপর আসে পরিবহন, শিল্পকারখানার জ্বালানি ব্যবহার, কৃষি ও ভবন। পরিবহন বড় খাত, কিন্তু এর নির্গমন বিদ্যুৎ ও তাপ উৎপাদনের অর্ধেকেরও কম।
পরিবহন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ গাড়ির ধোঁয়া চোখে পড়ে বেশি। কিন্তু বিদ্যুৎকেন্দ্রের চিমনি থেকে যে পরিমাণ গ্যাস বের হয়, তা পরিবহনের চেয়ে অনেক বেশি।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি জীবাশ্ম জ্বালানি যেখানে পোড়ে, সেখানেই সবচেয়ে বেশি নির্গমন: বিদ্যুৎকেন্দ্র।
৫৮. উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু প্রবাহিত হয়- (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কঘড়ির কাটার দিকে
- খঘড়ির কাটার বিপরীতে
- গসোজা
- ঘকোনটাই সঠিক নয়
সঠিক উত্তর: খ. ঘড়ির কাটার বিপরীতে
প্রশ্নটি ঘূর্ণিঝড়ের বায়ুর ঘূর্ণনের দিক নিয়ে। উত্তর গোলার্ধে ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়ের বায়ু ঘড়ির কাঁটার বিপরীত দিকে ঘোরে।
ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্রে থাকে নিম্নচাপ, তাই চারপাশ থেকে বাতাস কেন্দ্রের দিকে ছুটে আসে। কিন্তু পৃথিবী নিজের অক্ষে ঘুরছে বলে চলন্ত বাতাস সোজা পথে যেতে পারে না, বেঁকে যায়। একে বলে কোরিওলিস প্রভাব; এই বেঁকে যাওয়ার নিয়মটিকে ফেরেলের সূত্র বলা হয়।
উত্তর গোলার্ধে এই প্রভাবে বাতাস ডান দিকে বেঁকে যায়। চারদিক থেকে আসা বাতাস ডানে বাঁকতে বাঁকতে কেন্দ্রের চারপাশে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘুরতে থাকে। দক্ষিণ গোলার্ধে বাতাস বাঁ দিকে বাঁকে, তাই সেখানে ঘোরে ঘড়ির কাঁটার দিকে।
দুই গোলার্ধের দিক গুলিয়ে ফেলাই প্রধান ফাঁদ। বঙ্গোপসাগর উত্তর গোলার্ধে, তাই আমাদের সব ঘূর্ণিঝড় ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে ঘোরে।
মনে রাখুন: উত্তরে উল্টো, দক্ষিণে সোজা: উত্তর গোলার্ধে ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে।
৫৯. USA film industry Hollywood is located in (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কMaryland
- খVirginia
- গCalifornia
- ঘNew York
সঠিক উত্তর: গ. California
হলিউড যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের লস অ্যাঞ্জেলেস শহরের একটি এলাকা। বিশ শতকের শুরু থেকে মার্কিন চলচ্চিত্র শিল্প এখানে গড়ে ওঠে, তাই হলিউড নামটাই মার্কিন সিনেমার প্রতিশব্দ হয়ে গেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার রোদেলা আবহাওয়া প্রায় সারা বছর খোলা আকাশের নিচে শুটিংয়ের সুযোগ দিত; এটাই সেখানে চলচ্চিত্র শিল্প গড়ে ওঠার বড় কারণ।
এর আদলে অন্য দেশের চলচ্চিত্র শিল্পের নাম হয়েছে: ভারতের মুম্বাইয়ের বলিউড, আর বাংলাদেশের ঢাকার ঢালিউড।
নিউইয়র্ক যুক্তরাষ্ট্রের বিনোদন ও ব্রডওয়ে থিয়েটারের জন্য বিখ্যাত বলে অনেকে এটাকে বেছে নেন, কিন্তু হলিউড পশ্চিম উপকূলে, ক্যালিফোর্নিয়ায়।
মনে রাখুন: হলিউড = লস অ্যাঞ্জেলেস = ক্যালিফোর্নিয়া।
৬০. What is the name of the largest cotton-producing country as of 2022? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কPakistan
- খFrance
- গChina
- ঘUSA
সঠিক উত্তর: গ. China
প্রশ্নটা ২০২২ সালের বিশ্বের সবচেয়ে বড় তুলা উৎপাদনকারী দেশ নিয়ে। মার্কিন কৃষি বিভাগের হিসাবে সেই সময় চীন ছিল প্রথম, ভারত দ্বিতীয় আর যুক্তরাষ্ট্র তৃতীয়।
চীনের তুলার বড় অংশ আসে উত্তর-পশ্চিমের শিনজিয়াং অঞ্চল থেকে। ভারত আর চীন কয়েক বছর ধরে প্রথম স্থানের জন্য কাছাকাছি লড়াইয়ে থাকে, ২০২২ সালে চীন এগিয়ে ছিল।
এখানে বড় ফাঁদ যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় তুলা রপ্তানিকারক, কিন্তু উৎপাদনে তৃতীয়। রপ্তানি আর উৎপাদন গুলিয়ে ফেললেই ভুল উত্তর আসে।
পাকিস্তান তুলা উৎপাদনে শীর্ষ দশে থাকলেও প্রথম সারির অনেক পেছনে, আর ফ্রান্স বাণিজ্যিকভাবে তুলা চাষই করে না। বাংলাদেশ তুলার বড় আমদানিকারক, কারণ পোশাক শিল্পের কাঁচামাল বাইরে থেকে আনতে হয়।
মনে রাখুন: উৎপাদনে চীন, রপ্তানিতে যুক্তরাষ্ট্র, আমদানিতে বাংলাদেশ-চীন-ভিয়েতনাম সামনের সারিতে।