ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৪
৬১. Time difference of Bangladesh with 'Greenwich Mean Time' is- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- ক6 hours
- খ18 hours
- গ12 hours
- ঘ24 hours
সঠিক উত্তর: ক. 6 hours
পৃথিবী ২৪ ঘণ্টায় ৩৬০ ডিগ্রি ঘোরে, তাই প্রতি ১৫ ডিগ্রি দ্রাঘিমায় সময়ের পার্থক্য ১ ঘণ্টা। পূর্ব দিকের দেশে সূর্য আগে ওঠে, তাই সময় এগিয়ে থাকে।
বাংলাদেশের প্রমাণ সময় ধরা হয় ৯০ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমা থেকে। ৯০ ভাগ ১৫ সমান ৬, তাই বাংলাদেশের সময় গ্রিনিচ মান সময়ের চেয়ে ৬ ঘণ্টা এগিয়ে।
অর্থাৎ গ্রিনিচে দুপুর ১২টা হলে ঢাকায় সন্ধ্যা ৬টা। ২০০৯ সালে কিছুদিন দিবালোক সংরক্ষণের জন্য ঘড়ি ১ ঘণ্টা এগিয়ে ৭ ঘণ্টা করা হয়েছিল, পরে আবার ৬ ঘণ্টায় ফেরানো হয়।
১২ বা ২৪ ঘণ্টা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না; ১২ ঘণ্টা হলো ১৮০ ডিগ্রি দ্রাঘিমার পার্থক্য।
মনে রাখুন: সময়ের পার্থক্য = দ্রাঘিমা ÷ ১৫; প্রতি ডিগ্রিতে ৪ মিনিট।
৬২. Which of the following is not in Asia ? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কIsrael
- খLibya
- গSaudi Arabia
- ঘLebanon
সঠিক উত্তর: খ. Libya
প্রশ্নটা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মহাদেশ নিয়ে। মধ্যপ্রাচ্য শব্দটি অনেক সময় উত্তর আফ্রিকার আরব দেশগুলোকেও বোঝায়, তাই গুলিয়ে যায়।
ইসরায়েল, লেবানন আর সৌদি আরব তিনটিই পশ্চিম এশিয়ার দেশ। লিবিয়া কিন্তু ভূমধ্যসাগরের দক্ষিণ তীরে, উত্তর আফ্রিকায়; মিশর, তিউনিসিয়া আর আলজেরিয়ার মাঝখানে।
এশিয়া আর আফ্রিকার সীমানা মোটামুটি সুয়েজ খাল আর লোহিত সাগর বরাবর। এর পশ্চিমের আরব দেশগুলো আফ্রিকায়, পূর্বের গুলো এশিয়ায়। মিশরের সিনাই উপদ্বীপ এশিয়ায় পড়ায় মিশরকে আন্তঃমহাদেশীয় দেশ বলা হয়।
আরবি ভাষা আর আরব লীগের সদস্য হওয়ায় অনেকে লিবিয়াকেও এশিয়ার দেশ ভেবে নেন; সেটাই এখানকার ফাঁদ।
মনে রাখুন: সুয়েজের পশ্চিমে আরব দেশ মানেই আফ্রিকা: মিশর (মূল অংশ), লিবিয়া, তিউনিসিয়া, আলজেরিয়া, মরক্কো।
৬৩. What is the capital of Australia? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কMelbourne
- খSydney
- গAdelaide
- ঘCanberra
সঠিক উত্তর: ঘ. Canberra
অস্ট্রেলিয়ার রাজধানী ক্যানবেরা। এটি একটি পরিকল্পিত রাজধানী, যা দেশের দুই বড় শহর সিডনি আর মেলবোর্নের মাঝখানের এলাকায় বানানো হয়েছে।
১৯০১ সালে অস্ট্রেলিয়া ফেডারেশন গঠনের সময় সিডনি আর মেলবোর্ন দুটোই রাজধানী হতে চাইছিল। সমঝোতা হিসেবে নতুন শহর ক্যানবেরা গড়া হয়, আর ততদিন মেলবোর্ন অস্থায়ী রাজধানী ছিল। ১৯২৭ সালে সংসদ ক্যানবেরায় চলে আসে।
সিডনি অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে বড় ও বিখ্যাত শহর, অপেরা হাউসের জন্য পরিচিত; তাই অনেকে এটাকেই রাজধানী ভেবে ভুল করেন। অ্যাডিলেড হলো সাউথ অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের রাজধানী।
একই ধরনের ফাঁদ অন্য দেশেও আছে: কানাডার রাজধানী অটোয়া, টরন্টো নয়; তুরস্কের আঙ্কারা, ইস্তাম্বুল নয়।
মনে রাখুন: বড় শহর রাজধানী নয়: অস্ট্রেলিয়া ক্যানবেরা, কানাডা অটোয়া, তুরস্ক আঙ্কারা।
৬৪. The highest densely populated country of the world is (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কBangladesh
- খIndia
- গMonaco
- ঘIndonesia
সঠিক উত্তর: গ. Monaco
জনঘনত্ব মানে প্রতি বর্গকিলোমিটারে কতজন মানুষ বাস করে। এটা মোট জনসংখ্যা নয়, জনসংখ্যা ভাগ আয়তন।
মোনাকো ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলে ভূমধ্যসাগরের তীরে একটি ছোট নগররাষ্ট্র, আয়তন মাত্র ২ বর্গকিলোমিটারের মতো। সেখানে প্রায় ৩৮ হাজার মানুষ থাকে, তাই প্রতি বর্গকিলোমিটারে প্রায় ১৮ থেকে ১৯ হাজার মানুষ; বিশ্বে সর্বোচ্চ।
বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটারে এক হাজারের কিছু বেশি মানুষ থাকে। বড় আয়তনের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ, কিন্তু সব দেশ ধরলে মোনাকো, সিঙ্গাপুরের মতো ছোট নগররাষ্ট্র অনেক এগিয়ে।
ফাঁদ হলো বাংলাদেশ: আমরা প্রায়ই শুনি বাংলাদেশ পৃথিবীর অন্যতম ঘনবসতিপূর্ণ দেশ, কিন্তু সর্বোচ্চ নয়। আর ভারত বা ইন্দোনেশিয়া জনসংখ্যায় বড়, ঘনত্বে নয়।
মনে রাখুন: ঘনত্বে শীর্ষ ছোট নগররাষ্ট্র: মোনাকো, তারপর সিঙ্গাপুর। বড় দেশের মধ্যে বাংলাদেশ।
৬৫. What is the name of the river that does not cross by any bridges? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, জেনারেল) (২০২৩)
- কYangtze
- খAmazon
- গNile
- ঘMwogo
সঠিক উত্তর: খ. Amazon
আমাজন বিশ্বের সবচেয়ে বেশি পানি বহনকারী নদী, আর এর মূল ধারার উপর কোথাও কোনো সেতু নেই। দক্ষিণ আমেরিকার পেরু থেকে ব্রাজিল হয়ে আটলান্টিকে পড়া এই নদী পার হতে হয় নৌকা বা ফেরিতে।
সেতু না থাকার কারণ কয়েকটি। নদীটি প্রধানত ঘন রেইনফরেস্টের মধ্য দিয়ে গেছে, যেখানে সড়ক খুব কম, তাই সেতুর চাহিদাও কম। বর্ষায় নদী কয়েক কিলোমিটার চওড়া হয়ে দুই পাড় প্লাবিত করে, আর নরম মাটির পাড় ক্রমাগত সরে যায়।
অন্যদিকে চীনের ইয়াংসি আর আফ্রিকার নীল নদের উপর বহু সেতু আছে; ইয়াংসির উপর তো শতাধিক সেতু।
মওগো রুয়ান্ডার একটি ছোট নদী, নীল নদের উৎস-অঞ্চলের ধারা; অপরিচিত নাম দিয়ে বিভ্রান্ত করতে রাখা হয়েছে।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি পানি, কিন্তু একটিও সেতু নেই: আমাজন।
৬৬. Which country in the world shares its border with the most countries? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কBrazil
- খGermany
- গRussia
- ঘJapan
সঠিক উত্তর: গ. Russia
প্রশ্নটা জানতে চায়, কোন দেশের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি দেশের স্থলসীমান্ত আছে। এখানে আয়তন নয়, প্রতিবেশী দেশের সংখ্যাই আসল বিষয়।
রাশিয়া ইউরোপ থেকে এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত, তাই নরওয়ে, ফিনল্যান্ড থেকে শুরু করে চীন, মঙ্গোলিয়া, উত্তর কোরিয়া পর্যন্ত মোট ১৪টি স্বীকৃত দেশের সঙ্গে তার সীমান্ত। চীনেরও প্রতিবেশী ১৪টি, তবে চীন অপশনে নেই।
ব্রাজিলের প্রতিবেশী ১০টি, জার্মানির ৯টি, আর জাপান দ্বীপরাষ্ট্র বলে তার কোনো স্থলসীমান্তই নেই। তাই অপশনগুলোর মধ্যে রাশিয়াই সঠিক।
ফাঁদ হলো ব্রাজিল: দক্ষিণ আমেরিকার প্রায় সব দেশের সঙ্গে সীমান্ত থাকায় অনেকে একেই বেছে নেন।
মনে রাখুন: সবচেয়ে বেশি প্রতিবেশী: চীন ও রাশিয়া, দুটোরই ১৪টি। অপশনে যেটা থাকে সেটাই উত্তর।
৬৭. Which of the following deserts is located in Mongolia? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কGobi desert
- খSahara desert
- গTakla Makan desert
- ঘKalahari desert
সঠিক উত্তর: ক. Gobi desert
প্রশ্নটা মরুভূমি আর তার অবস্থান মেলানোর। গোবি মরুভূমি মঙ্গোলিয়ার দক্ষিণাংশ আর চীনের উত্তরাংশ জুড়ে বিস্তৃত, এটি এশিয়ার অন্যতম বড় মরুভূমি।
গোবি একটি শীতল মরুভূমি; হিমালয়ের বৃষ্টিচ্ছায়ায় পড়ায় এখানে বৃষ্টি কম, শীতে তাপমাত্রা অনেক নিচে নামে।
সাহারা আফ্রিকার উত্তরে, কালাহারি দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলে, বিশেষ করে বতসোয়ানায়। তাকলামাকান এশিয়ায় হলেও চীনের শিনজিয়াং অঞ্চলে, মঙ্গোলিয়ায় নয়।
ফাঁদ হলো তাকলামাকান: এশিয়ার মরুভূমি আর গোবির কাছাকাছি বলে অনেকে গুলিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: মঙ্গোলিয়া মানেই গোবি; চীনের ভেতরে তাকলামাকান।
৬৮. Which one is the second highest mountain on the earth? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কMakalu
- খHimalayas
- গAnnapurna
- ঘK2
সঠিক উত্তর: ঘ. K2
প্রশ্নটা বিশ্বের উঁচু পর্বতশৃঙ্গের ক্রম নিয়ে। সর্বোচ্চ মাউন্ট এভারেস্ট, প্রায় ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কে টু, প্রায় ৮ হাজার ৬১১ মিটার।
কে টু কারাকোরাম পর্বতমালায়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট-বালতিস্তান ও চীনের সীমান্তে। একে গডউইন অস্টেনও বলা হয়।
তৃতীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, পঞ্চম মাকালু, আর অন্নপূর্ণা দশম। হিমালয় কোনো শৃঙ্গ নয়, পুরো একটি পর্বতমালা।
ফাঁদ হলো হিমালয়: পর্বতমালার নাম দেখে অনেকে বেছে নেন, অথচ প্রশ্ন একটি শৃঙ্গের।
মনে রাখুন: এক এভারেস্ট, দুই কে টু, তিন কাঞ্চনজঙ্ঘা।
৬৯. The southernmost town of the world resides in- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: সিনিয়র অফিসার, সাধারণ) (২০২৩)
- কNorway
- খAustralia
- গChile
- ঘNew Zealand
সঠিক উত্তর: গ. Chile
প্রশ্নটা বিশ্বের দক্ষিণতম শহর নিয়ে। চিলির পুয়ের্তো উইলিয়ামসকে সাধারণত বিশ্বের দক্ষিণতম শহর বলা হয়। এটি টিয়েরা দেল ফুয়েগোর দক্ষিণে নাভারিনো দ্বীপে।
আর্জেন্টিনার উশুয়াইয়াকে প্রায়ই দক্ষিণতম নগরী বলা হয়, কারণ এটি অনেক বড়। কিন্তু পুয়ের্তো উইলিয়ামস তার চেয়েও দক্ষিণে, আর আর্জেন্টিনা অপশনে নেই।
নরওয়ে উত্তর গোলার্ধে, সেখানে বরং বিশ্বের উত্তরতম শহরগুলোর একটি। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড দক্ষিণ গোলার্ধে হলেও দক্ষিণ আমেরিকার দক্ষিণ প্রান্তের মতো দক্ষিণে নয়।
ফাঁদ হলো নিউজিল্যান্ড: অ্যান্টার্কটিকার কাছাকাছি মনে হয়, তবে দক্ষিণ আমেরিকার শেষ প্রান্তই বেশি দক্ষিণে।
মনে রাখুন: দক্ষিণতম শহর: পুয়ের্তো উইলিয়ামস (চিলি); দক্ষিণতম বড় নগরী: উশুয়াইয়া (আর্জেন্টিনা)।
৭০. Which one is the second highest mountain on the earth? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কMakalu
- খHimalayas
- গAnnapurna
- ঘK2
সঠিক উত্তর: ঘ. K2
পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ মাউন্ট এভারেস্ট, প্রায় ৮ হাজার ৮৪৯ মিটার। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ K2, উচ্চতা প্রায় ৮ হাজার ৬১১ মিটার।
K2 কারাকোরাম পর্বতমালায়, পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত গিলগিট বালতিস্তান আর চীনের সীমান্তে অবস্থিত। এর আরেক নাম গডউইন অস্টিন।
তৃতীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা, পঞ্চম মাকালু, আর অন্নপূর্ণা দশম। পরীক্ষায় এই ক্রম প্রায়ই আসে।
ফাঁদ হলো Himalayas: এটি কোনো একক শৃঙ্গ নয়, একটি পুরো পর্বতমালা।
মনে রাখুন: এভারেস্ট, K2, কাঞ্চনজঙ্ঘা: শীর্ষ তিনের ক্রম মুখস্থ রাখুন।
৭১. Which country/countries are separated by the Radcliffe Line? (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কBangladesh-India
- খIndia-Pakistan
- গBangladesh-Myanmar
- ঘAll of these
সঠিক উত্তর: খ. India-Pakistan
১৯৪৭ সালে ভারত ভাগের সময় ব্রিটিশ আইনজীবী স্যার সিরিল র্যাডক্লিফের নেতৃত্বে সীমানা কমিশন পাঞ্জাব ও বাংলা প্রদেশকে ভাগ করে। এই সীমারেখার নামই র্যাডক্লিফ রেখা, যা ১৯৪৭ সালের ১৭ আগস্ট প্রকাশিত হয়।
রেখাটি ভারত আর পাকিস্তানের মধ্যে টানা হয়েছিল, তাই একে সাধারণভাবে ভারত-পাকিস্তান সীমারেখা বলা হয়। পশ্চিমে পাঞ্জাব ভাগ হয়ে এটি আজও ভারত-পাকিস্তান সীমান্ত।
পূর্বে বাংলা ভাগের রেখা তখন ছিল ভারত আর পূর্ব পাকিস্তানের সীমানা, যা ১৯৭১ সালের পর বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত। তাই বাংলাদেশ-ভারত অপশনটিও আংশিক সত্য।
কিন্তু বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্ত র্যাডক্লিফ রেখার অংশ নয়, কারণ মিয়ানমার তখন ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিল না। তাই "All of these" অপশনটি ভুল; প্রচলিত উত্তর ভারত-পাকিস্তান।
মনে রাখুন: ভারত-পাকিস্তান = র্যাডক্লিফ; ভারত-চীন = ম্যাকমোহন; পাকিস্তান-আফগানিস্তান = ডুরান্ড।
৭২. Qatar is located in- (বাংলাদেশ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০২২)
- কWestern Asia
- খSouth Asia
- গEast Asia
- ঘNorthern Asia
সঠিক উত্তর: ক. Western Asia
কাতার পারস্য উপসাগরের একটি ছোট উপদ্বীপ রাষ্ট্র, রাজধানী দোহা। ভৌগোলিকভাবে এটি পশ্চিম এশিয়া, যাকে সাধারণভাবে মধ্যপ্রাচ্যও বলা হয়।
কাতারের একমাত্র স্থলসীমান্ত সৌদি আরবের সাথে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, বাহরাইন, ওমানের মতো উপসাগরীয় দেশগুলোও পশ্চিম এশিয়ায়।
দক্ষিণ এশিয়া মানে বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ইত্যাদি; পূর্ব এশিয়া মানে চীন, জাপান, কোরিয়া। কাতার এগুলোর কোনোটিতে নয়।
২০২২ সালে কাতার ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন করে, তাই সে সময় প্রশ্নটি প্রাসঙ্গিক ছিল।
মনে রাখুন: পারস্য উপসাগরের সব আরব দেশ পশ্চিম এশিয়ায়।
৭৩. মকরক্রান্তি রেখা কোনটি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ
- খ২৩°৩০′ উত্তর অক্ষাংশ
- গ২৩°৩০′ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ
- ঘ২৩°৩০′ পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ
সঠিক উত্তর: ক. ২৩°৩০′ দক্ষিণ অক্ষাংশ
প্রশ্নটি পৃথিবীর গুরুত্বপূর্ণ অক্ষরেখা নিয়ে। মকরক্রান্তি রেখা হলো তেইশ ডিগ্রি তিরিশ মিনিট দক্ষিণ অক্ষাংশ।
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় সাড়ে তেইশ ডিগ্রি হেলে আছে। তাই বছরে সূর্য সর্বোচ্চ তেইশ ডিগ্রি তিরিশ মিনিট উত্তর আর তেইশ ডিগ্রি তিরিশ মিনিট দক্ষিণ পর্যন্ত লম্বভাবে কিরণ দেয়। উত্তরের সীমা কর্কটক্রান্তি, দক্ষিণের সীমা মকরক্রান্তি। বাইশে ডিসেম্বরের দিকে সূর্য মকরক্রান্তির ওপর লম্বভাবে কিরণ দেয়।
কর্কটক্রান্তি রেখা বাংলাদেশের প্রায় মাঝখান দিয়ে গেছে, তাই দুটো গুলিয়ে ফেলা সহজ। মনে রাখুন, মকর দক্ষিণে, কর্কট উত্তরে।
দ্রাঘিমাংশের বিকল্প দুটো সহজেই বাদ যায়, কারণ ক্রান্তি রেখা পূর্ব-পশ্চিমে টানা অক্ষরেখা; পূর্ব বা পশ্চিম শব্দ থাকে দ্রাঘিমার সঙ্গে।
মনে রাখুন: ক্রান্তি মানে অক্ষাংশ; মকর দক্ষিণে, কর্কট উত্তরে।
৭৪. কোন ধরনের শিলায় জীবাশ্ম থাকার সম্ভাবনা রয়েছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কআগ্নেয় শিলা
- খরূপান্তরিত শিলা
- গপাললিক শিলা
- ঘউপরের কোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: গ. পাললিক শিলা
প্রশ্নটি শিলার প্রকারভেদ নিয়ে। জীবাশ্ম পাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি পাললিক শিলায়।
পাললিক শিলা তৈরি হয় নদী, হ্রদ বা সাগরের তলায় পলি, বালি ও কাদা স্তরে স্তরে জমে, চাপে শক্ত হয়ে। মরে যাওয়া উদ্ভিদ ও প্রাণীর দেহ বা ছাপ সেই পলির নিচে চাপা পড়ে, আর শিলা তৈরির সময় কম তাপে তা নষ্ট হয় না। তাই এখানে জীবাশ্ম সংরক্ষিত থাকে। চুনাপাথর, বেলেপাথর, কয়লা পাললিক শিলার উদাহরণ।
আগ্নেয় শিলা গলিত ম্যাগমা ঠান্ডা হয়ে তৈরি হয়, ওই প্রচণ্ড তাপে কোনো জীবদেহ টেকে না। রূপান্তরিত শিলা তৈরি হয় তীব্র তাপ ও চাপে পুরোনো শিলা বদলে গিয়ে, তাতে জীবাশ্ম থাকলেও সাধারণত বিকৃত বা নষ্ট হয়ে যায়।
রূপান্তরিত শিলা বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ এটি পাললিক শিলা থেকেও তৈরি হতে পারে। কিন্তু রূপান্তরের সময়ই জীবাশ্ম মুছে যায়।
মনে রাখুন: জীবাশ্ম, স্তর, কয়লা, চুনাপাথর: এই শব্দগুলো দেখলেই পাললিক শিলা।
৭৫. নিচের কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব নয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবন্যা
- খভূমিকম্প
- গঘূর্ণিঝড়
- ঘখরা
সঠিক উত্তর: খ. ভূমিকম্প
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন দুর্যোগের কার্যকর পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। উত্তর ভূমিকম্প।
ভূমিকম্প হয় ভূগর্ভের শিলায় ধীরে ধীরে জমে থাকা চাপ হঠাৎ মুক্ত হলে। কোন দিন, কোন সময়ে, কত মাত্রায় চাপ মুক্ত হবে, তা বিজ্ঞানীরা এখনো আগে থেকে নির্ভরযোগ্যভাবে বলতে পারেন না। শুধু কোন এলাকা ঝুঁকিপূর্ণ, সেই দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা বলা যায়।
বাকি তিনটির পূর্বাভাস সম্ভব। ঘূর্ণিঝড় উপগ্রহ ও রাডারে কয়েক দিন আগে থেকেই দেখা যায় বলে সতর্কসংকেত দেওয়া হয়। বন্যার পূর্বাভাস দেয় বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র, উজানের বৃষ্টি ও নদীর পানির উচ্চতা দেখে। খরা ধীরে আসে, বৃষ্টির ঘাটতি দেখে আগেই বোঝা যায়।
ভূমিকম্প হঠাৎ আসে বলেই একে আকস্মিক দুর্যোগ বলা হয়, আর এর প্রস্তুতি মানে মূলত ভবন মজবুত করা ও মহড়া।
মনে রাখুন: যে দুর্যোগ হঠাৎ মাটির নিচ থেকে আসে, তার পূর্বাভাস নেই: ভূমিকম্প।
৭৬. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের কোন স্তরটি বেশি ব্যয়বহুল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপূর্বপ্রস্তুতি
- খসাড়াদান
- গপ্রশমন
- ঘপুনরুদ্ধার
সঠিক উত্তর: গ. প্রশমন
প্রশ্নটি দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ধাপ নিয়ে। প্রচলিত গাইড-উত্তর অনুযায়ী সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধাপ প্রশমন।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা চক্রের ধাপগুলো হলো দুর্যোগের আগে প্রশমন ও পূর্বপ্রস্তুতি, দুর্যোগের সময় সাড়াদান, আর দুর্যোগের পরে পুনরুদ্ধার। প্রশমন মানে দুর্যোগের ক্ষতি কমাতে আগে থেকেই স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
প্রশমনের কাজগুলো বড় অবকাঠামোর: বেড়িবাঁধ, ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র, নদীশাসন, ভূমিকম্প-সহনীয় ভবন, উপকূলীয় সবুজ বেষ্টনী। এগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি বিপুল বিনিয়োগ লাগে, তাই একে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ধরা হয়। অন্যদিকে পূর্বপ্রস্তুতি মানে মহড়া, সতর্কবার্তা, ত্রাণ মজুদ; এতে খরচ তুলনামূলক কম।
পুনরুদ্ধার বিকল্পটি বড় ফাঁদ, কারণ বড় দুর্যোগের পর পুনর্গঠনেও অনেক টাকা লাগে। তবে প্রচলিত উত্তর প্রশমন, কারণ এটি পরিকল্পিত স্থায়ী কাঠামোগত বিনিয়োগ।
মনে রাখুন: যে ধাপে কংক্রিটের বড় কাঠামো বানাতে হয়, সেটিই সবচেয়ে ব্যয়বহুল: প্রশমন।
৭৭. কোনটি নবায়নযোগ্য সম্পদ? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কপ্রাকৃতিক গ্যাস
- খচুনাপাথর
- গবায়ু
- ঘকয়লা
সঠিক উত্তর: গ. বায়ু
প্রশ্নটি নবায়নযোগ্য আর অনবায়নযোগ্য সম্পদের পার্থক্য নিয়ে। নবায়নযোগ্য সম্পদ বায়ু।
নবায়নযোগ্য সম্পদ হলো যা ব্যবহার করলেও প্রকৃতিতে আবার নিজে থেকে তৈরি হয় বা শেষ হয় না, যেমন সূর্যালোক, বায়ুপ্রবাহ, পানিপ্রবাহ, জৈববস্তু। সূর্যের তাপে বাতাস চলতেই থাকে, তাই বায়ুকল দিয়ে যত বিদ্যুৎই বানাই, বায়ু ফুরায় না।
অনবায়নযোগ্য সম্পদ তৈরি হতে লাখ লাখ বা কোটি বছর লাগে, তাই মানুষের সময়ের হিসাবে একবার তুললে শেষ। প্রাকৃতিক গ্যাস ও কয়লা জীবাশ্ম জ্বালানি, আর চুনাপাথর পাললিক শিলা।
চুনাপাথর বিকল্পটি অনেককে বিভ্রান্ত করে, কারণ এটি জ্বালানি নয়। কিন্তু খনিজ হিসেবে এটিও খনি থেকে তুললে শেষ হয়ে যায়।
মনে রাখুন: যা খনি থেকে তুলতে হয় তা অনবায়নযোগ্য; যা প্রকৃতিতে বয়ে চলে তা নবায়নযোগ্য।
৭৮. নিচের কোনটি বাংলাদেশের বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবাখরাবাদ
- খহরিপুর
- গতিতাস
- ঘহবিগঞ্জ
সঠিক উত্তর: গ. তিতাস
প্রশ্নটি বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে। মজুদের দিক থেকে বৃহত্তম গ্যাসক্ষেত্র ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস।
তিতাস উনিশশো বাষট্টি সালে আবিষ্কৃত হয় এবং দীর্ঘদিন ধরে দেশের সবচেয়ে বেশি মজুদের গ্যাসক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। এখান থেকে ঢাকাসহ দেশের বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ হয়।
অন্য গ্যাসক্ষেত্রগুলোর আলাদা পরিচয় আছে, যেগুলোও পরীক্ষায় আসে। সিলেটের হরিপুর দেশের প্রথম আবিষ্কৃত গ্যাসক্ষেত্র, উনিশশো পঞ্চান্ন সালে। কুমিল্লার বাখরাবাদ আর হবিগঞ্জ গ্যাসক্ষেত্রও বড়, আর এখন সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় হবিগঞ্জের বিবিয়ানা থেকে।
হরিপুর বিকল্পটি ফাঁদ: এটি প্রথম, বৃহত্তম নয়। প্রথম, বৃহত্তম আর সর্বোচ্চ উৎপাদন, এই তিনটি আলাদা করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: প্রথম হরিপুর, বৃহত্তম তিতাস, সর্বোচ্চ উৎপাদন বিবিয়ানা।
৭৯. বাংলাদেশে জি-কে প্রকল্প একটি- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজলবিদ্যুৎ প্রকল্প
- খনদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প
- গজল পরিবহন প্রকল্প
- ঘসেচ প্রকল্প
সঠিক উত্তর: ঘ. সেচ প্রকল্প
প্রশ্নটি জি-কে প্রকল্পের ধরন জানতে চেয়েছে। জি-কে প্রকল্প একটি সেচ প্রকল্প।
জি-কে মানে গঙ্গা-কপোতাক্ষ। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় পাম্প হাউস দিয়ে গঙ্গা বা পদ্মা নদী থেকে পানি তুলে খালের মাধ্যমে কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, ঝিনাইদহ ও মাগুরার জমিতে সেচ দেওয়া হয়। উনিশশো চুয়ান্ন-পঞ্চান্ন অর্থবছরে এর কাজ শুরু হয়, আর এটি দেশের অন্যতম বড় ভূ-উপরিস্থ পানির সেচ ব্যবস্থা।
সেচ প্রকল্প মানে কৃষিজমিতে পানি পৌঁছে দেওয়া। দেশের আরেকটি বড় সেচ প্রকল্প হলো লালমনিরহাট-নীলফামারীর তিস্তা ব্যারেজ সেচ প্রকল্প। আর জলবিদ্যুৎ বলতে কাপ্তাই, যা একেবারে আলাদা জিনিস।
নদী থেকে পানি তোলে বলে অনেকে নদী নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প ভাবেন। কিন্তু উদ্দেশ্য নদীকে শাসন করা নয়, ফসলের জন্য পানি দেওয়া।
মনে রাখুন: জি-কে আর তিস্তা ব্যারেজ মানে সেচ, কাপ্তাই মানে জলবিদ্যুৎ।
৮০. COP 26-এ COP মানে কী? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককনফারেন্স অব প্যারিস
- খকনফারেন্স অব দ্য পাওয়ার
- গকনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
- ঘকনফারেন্স অব দ্য প্রটোকল
সঠিক উত্তর: গ. কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস
প্রশ্নটি জলবায়ু সম্মেলনের পরিভাষা নিয়ে। কপ মানে কনফারেন্স অব দ্য পার্টিস, অর্থাৎ পক্ষগুলোর সম্মেলন।
উনিশশো বিরানব্বই সালে জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো সনদ গৃহীত হয় এবং রিও ডি জেনিরোর ধরিত্রী সম্মেলনে স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। যেসব দেশ এই সনদে যোগ দিয়েছে, তাদের বলা হয় পার্টি বা পক্ষ। এই পক্ষগুলো প্রতিবছর যে সম্মেলনে বসে সিদ্ধান্ত নেয়, সেটিই কপ। প্রথম কপ হয় উনিশশো পঁচানব্বই সালে বার্লিনে।
কপ ছাব্বিশ হয়েছিল দুই হাজার একুশ সালে স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে। কপের পরের সংখ্যাটি শুধু কততম সম্মেলন তা বোঝায়।
কনফারেন্স অব প্যারিস বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ দুই হাজার পনেরো সালের প্যারিস চুক্তি কপ একুশে হয়েছিল। কিন্তু প্যারিস একটি সম্মেলনের স্থান মাত্র, কপ শব্দের অংশ নয়।
মনে রাখুন: কপ মানে পার্টিস: সনদের সদস্য দেশগুলো।