ভূগোল, পরিবেশ ও দুর্যোগ · পাতা ৯
১৬১. পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ কোনটি? (৩৩তম বিসিএস, ২০১২)
- ককাস্পিয়ান
- খবৈকাল
- গমানস সরোবর
- ঘডেড সী (Dead Sea)
সঠিক উত্তর: খ. বৈকাল
পৃথিবীর গভীরতম হ্রদ রাশিয়ার সাইবেরিয়ায় অবস্থিত বৈকাল হ্রদ। এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় এক হাজার ছয়শো বিয়াল্লিশ মিটার।
বৈকাল একটি গ্রস্ত উপত্যকা হ্রদ: ভূত্বক দুই দিকে সরে গিয়ে মাঝখানে যে গভীর ফাটল তৈরি হয়েছে, তাতেই পানি জমে হ্রদ। এটি পৃথিবীর প্রাচীনতম হ্রদগুলোর একটি, আর পানির পরিমাণের হিসাবে পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মিঠা পানি ধারণ করে।
কাস্পিয়ান সাগর আয়তনে পৃথিবীর বৃহত্তম হ্রদ, গভীরতায় নয়; এর সর্বোচ্চ গভীরতা প্রায় এক হাজার পঁচিশ মিটার। মৃত সাগর বিখ্যাত অতিরিক্ত লবণাক্ততা আর পৃথিবীর সবচেয়ে নিচু স্থলভাগের তীরের জন্য।
বৃহত্তম আর গভীরতম গুলিয়ে কাস্পিয়ান বেছে নেওয়াই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: বৃহত্তম কাস্পিয়ান, গভীরতম বৈকাল, লবণাক্ততম ও নিচুতম মৃত সাগর।
১৬২. হাজার হ্রদের দেশ কোনটি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কনরওয়ে
- খফিনল্যান্ড
- গইন্দোনেশিয়া
- ঘজাপান
সঠিক উত্তর: খ. ফিনল্যান্ড
এই প্রশ্নটি ত্রিশতম বিসিএসেও হুবহু এসেছিল, উত্তর ফিনল্যান্ড। দেশটিকে হাজার হ্রদের দেশ বলা হয়।
ফিনল্যান্ডের মোট আয়তনের প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ পানি। হিমযুগের হিমবাহ সরে যাওয়ার সময় ভূমি চেঁছে অসংখ্য অগভীর খাদ তৈরি করে, যেগুলো পরে বরফগলা পানিতে ভরে হ্রদ হয়ে যায়।
উত্তর ইউরোপের দেশগুলোর উপনাম একসঙ্গে মনে রাখলে সুবিধা: নরওয়ে নিশীথ সূর্যের দেশ, ফিনল্যান্ড হাজার হ্রদের দেশ। দূর প্রাচ্যে জাপান সূর্যোদয়ের দেশ।
ইন্দোনেশিয়ায় হাজারো দ্বীপ আছে, তাই হাজার শব্দটি দেখে সেটি বেছে নেওয়ার ফাঁদ আছে। কিন্তু উপনামটি হ্রদের, দ্বীপের নয়।
মনে রাখুন: ‘হাজার হ্রদ’ শুনলেই ফিনল্যান্ড।
১৬৩. পৃথিবীর সর্বাপেক্ষা বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ কোনটি? (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কঅস্ট্রেলিয়া
- খকানাডা
- গযুক্তরাষ্ট্র
- ঘচীন
সঠিক উত্তর: ঘ. চীন
প্রশ্নটি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদনকারী দেশ জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময়, মানে দুই হাজার এগারো সালের দিকে, এক নম্বরে ছিল চীন, তার পরে ভারত।
চীনের উত্তরের সমভূমি, বিশেষ করে হোয়াংহো অববাহিকা, গম চাষের প্রধান এলাকা। বিশাল আবাদি জমি, সেচ ব্যবস্থা আর বিপুল জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা চীনকে শীর্ষে রেখেছে।
মনে রাখার বিষয় হলো, উৎপাদন আর রপ্তানি আলাদা জিনিস। চীন নিজের উৎপাদিত গম মূলত নিজেই খায়, তাই রপ্তানিতে এগিয়ে থাকে অন্য দেশ।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা আর অস্ট্রেলিয়া বড় গম রপ্তানিকারক হিসেবে পরিচিত, তাই এদের একটিকে উৎপাদনেও শীর্ষ ভাবার ভুল হয়।
মনে রাখুন: ধান ও গম দুটোর উৎপাদনেই শীর্ষ চীন, দ্বিতীয় ভারত।
১৬৪. প্রবল জোয়ারের কারণ, যখন- (৩১তম বিসিএস, ২০১১)
- কসূর্য ও চন্দ্র পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে অবস্থান করে
- খচন্দ্র পৃথিবীর সবচেয়ে কাছে অবস্থান করে
- গপৃথিবী সূর্যের সবচেয়ে কাছে থাকে
- ঘসূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী যথাক্রমে এক সরলরেখায় অবস্থান করে
সঠিক উত্তর: ঘ. সূর্য, চন্দ্র ও পৃথিবী যথাক্রমে এক সরলরেখায় অবস্থান করে
প্রশ্নটি প্রবল জোয়ার, যাকে ভরা কটাল বা তেজকটালও বলে, তার কারণ জানতে চেয়েছে। উত্তর হলো সূর্য, চাঁদ ও পৃথিবী যখন একই সরলরেখায় থাকে।
জোয়ার হয় মূলত চাঁদের আকর্ষণে, আর সূর্যের আকর্ষণও এতে কিছুটা যোগ হয়। অমাবস্যায় চাঁদ আর সূর্য পৃথিবীর একই দিকে থাকে, পূর্ণিমায় থাকে বিপরীত দিকে। দুই ক্ষেত্রেই তিনটি একই রেখায়, তাই দুই আকর্ষণ একসঙ্গে কাজ করে জোয়ার সবচেয়ে উঁচু হয়।
উল্টো দিকে, অষ্টমী তিথিতে চাঁদ আর সূর্য পৃথিবীর সঙ্গে সমকোণে থাকে। তখন দুই আকর্ষণ পরস্পরকে কিছুটা কাটাকাটি করে, ফলে জোয়ার দুর্বল হয়। একে মরা কটাল বলে।
প্রথম বিকল্পে সমকোণের কথা আছে, যা আসলে মরা কটালের অবস্থা। এটাই এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: এক রেখা = তেজকটাল, সমকোণ = মরা কটাল।
১৬৫. সাগরকন্যা কোন এলাকার ভৌগোলিক নাম? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কটেকনাফ
- খকক্সবাজার
- গপটুয়াখালী
- ঘখুলনা
সঠিক উত্তর: গ. পটুয়াখালী
সাগরকন্যা নামে পরিচিত কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, যা পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়া উপজেলায়। তাই সাগরকন্যা পটুয়াখালী অঞ্চলের ভৌগোলিক নাম।
কুয়াকাটার বিশেষত্ব হলো একই সৈকত থেকে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দুটোই দেখা যায়। সমুদ্রের কোলে জেগে থাকা এই সৈকতের সৌন্দর্যের জন্যই এর নাম সাগরকন্যা।
বাংলাদেশের আরও কিছু জায়গার এমন উপনাম পরীক্ষায় আসে। যেমন প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে বলা হয় নারিকেল জিঞ্জিরা।
কক্সবাজারকে সাগরকন্যা ভাবা সাধারণ ভুল। কক্সবাজার বিশ্বের দীর্ঘতম প্রাকৃতিক সমুদ্রসৈকতের জন্য বিখ্যাত, কিন্তু সাগরকন্যা উপনাম কুয়াকাটার।
মনে রাখুন: সাগরকন্যা মানেই কুয়াকাটা, জেলা পটুয়াখালী।
১৬৬. হাজার হ্রদের দেশ কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কনরওয়ে
- খফিনল্যান্ড
- গইন্দোনেশিয়া
- ঘজাপান
সঠিক উত্তর: খ. ফিনল্যান্ড
হাজার হ্রদের দেশ বলা হয় ফিনল্যান্ডকে। দেশটিতে ছোট-বড় মিলিয়ে এক লাখ আশি হাজারেরও বেশি হ্রদ আছে।
এত হ্রদের কারণ হিমযুগ। হাজার হাজার বছর আগে বিশাল হিমবাহ ফিনল্যান্ডের ভূমি ঘষে অসংখ্য গর্ত তৈরি করেছিল। বরফ গলে যাওয়ার পর সেই গর্তগুলো পানিতে ভরে হ্রদ হয়ে যায়।
অন্য দেশগুলোরও এমন উপনাম আছে, যা পরীক্ষায় গুলিয়ে দেওয়া হয়। নরওয়েকে বলে নিশীথ সূর্যের দেশ, আর জাপানকে বলে সূর্যোদয়ের দেশ।
নরওয়েও উত্তরের ঠান্ডা দেশ বলে অনেকে এটা বেছে নেন। কিন্তু নরওয়ে বিখ্যাত ফিয়র্ড আর মাঝরাতের সূর্যের জন্য, হ্রদের জন্য নয়।
মনে রাখুন: হ্রদ ফিনল্যান্ড, নিশীথ সূর্য নরওয়ে, সূর্যোদয় জাপান।
১৬৭. গ্রিন হাউজ ইফেক্টের পরিণতিতে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি কী হবে? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কবৃষ্টিপাত কমে যাবে
- খনিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
- গউত্তাপ অনেক বেড়ে যাবে
- ঘসাইক্লোনের প্রবণতা বাড়বে
সঠিক উত্তর: খ. নিম্নভূমি নিমজ্জিত হবে
প্রশ্নটি গ্রিনহাউস প্রভাবের ফলে বাংলাদেশের সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি জানতে চেয়েছে। উত্তর হলো নিম্নভূমি তলিয়ে যাওয়া।
কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেনের মতো গ্রিনহাউস গ্যাস পৃথিবীর তাপ আটকে রাখে, ফলে গড় তাপমাত্রা বাড়ে। তাপ বাড়লে মেরু ও পাহাড়ের বরফ গলে, আর গরমে সমুদ্রের পানিও প্রসারিত হয়। দুটো মিলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ে।
বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ব-দ্বীপের অংশ, যার বড় এলাকা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে মাত্র কয়েক মিটার উঁচু। তাই সমুদ্রের পানি সামান্য বাড়লেই উপকূলের বিস্তীর্ণ নিম্নভূমি স্থায়ীভাবে তলিয়ে যাবে, লাখো মানুষ ঘর হারাবে, আর লবণাক্ততা ভেতরে ঢুকবে।
উত্তাপ বাড়া বা ঘূর্ণিঝড় বেড়ে যাওয়াও সম্ভাব্য প্রভাব, তাই এগুলো আকর্ষণীয় মনে হয়। কিন্তু স্থায়ীভাবে ভূমি হারানোই বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে গুরুতর ক্ষতি।
মনে রাখুন: জলবায়ু পরিবর্তনে বাংলাদেশের এক নম্বর ঝুঁকি: সমুদ্রপৃষ্ঠ বৃদ্ধি ও উপকূল নিমজ্জন।
১৬৮. সুনামির (Tsunami) কারণ হলো- (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- কআগ্নেয়গিরির অগ্নুৎপাত
- খঘূর্ণিঝড়
- গচন্দ্র ও সূর্যের আকর্ষণ
- ঘসমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
সঠিক উত্তর: ঘ. সমুদ্র তলদেশের ভূমিকম্প
সুনামি শব্দটি জাপানি, অর্থ বন্দরের ঢেউ। প্রশ্নটি এর প্রধান কারণ জানতে চেয়েছে, আর উত্তর হলো সমুদ্রের তলদেশের ভূমিকম্প।
সমুদ্রের তলায় দুটি ভূত্বকীয় প্লেট হঠাৎ সরে গেলে তলদেশের একটা বড় অংশ এক ধাক্কায় উপরে উঠে বা নিচে নেমে যায়। তখন তার উপরের পুরো জলস্তম্ভ সরে যায়, আর সেই শক্তি বিশাল ঢেউ হয়ে চারদিকে ছুটে চলে।
গভীর সমুদ্রে এই ঢেউ খুব দ্রুত চলে কিন্তু উচ্চতা কম থাকে। উপকূলের অগভীর পানিতে এসে গতি কমে আর ঢেউ ফুলে অনেক উঁচু হয়ে তীরে আছড়ে পড়ে। দুই হাজার চার সালে সুমাত্রার কাছে সমুদ্রতলের ভূমিকম্প থেকেই ভারত মহাসাগরের ভয়াবহ সুনামি হয়েছিল।
আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত বা ভূমিধস থেকেও কখনো সুনামি হয়, তাই প্রথম বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে। কিন্তু বেশিরভাগ সুনামির কারণ সমুদ্রতলের ভূমিকম্প। আর চাঁদ-সূর্যের আকর্ষণে হয় জোয়ার-ভাটা, সুনামি নয়।
মনে রাখুন: জোয়ার = চাঁদ-সূর্য, সুনামি = সমুদ্রতলের ভূমিকম্প।
১৬৯. জমির লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণ করে কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ককৃত্রিম সার প্রয়োগ
- খপানি সেচ
- গজমিতে নাইট্রোজেন ধরে রাখা
- ঘপ্রাকৃতিক সার প্রয়োগ
সঠিক উত্তর: খ. পানি সেচ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জমির লবণাক্ততা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। উত্তর পানি সেচ।
মাটির লবণ পানিতে গলে যায়। পর্যাপ্ত মিঠা পানি দিয়ে সেচ দিলে উপরের স্তরের লবণ গলে পানির সঙ্গে নিচের দিকে চুইয়ে নেমে যায়, অথবা নালা দিয়ে বেরিয়ে যায়। একে লবণ ধুয়ে ফেলা বা লিচিং বলে।
ফলে গাছের শিকড় যেখানে থাকে, সেই স্তরে লবণ কমে আর ফসল ভালো হয়। বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলে শুকনো মৌসুমে লবণাক্ততা বাড়ে, তাই সেখানে মিঠা পানির সেচ ও পানি নিষ্কাশন খুব জরুরি।
সার দিলে মাটির পুষ্টি বাড়ে, কিন্তু লবণ সরে না। উল্টো রাসায়নিক সার বেশি দিলে মাটিতে লবণের মাত্রা আরও বাড়তে পারে, তাই কৃত্রিম সার বেছে নেওয়া বড় ভুল।
মনে রাখুন: লবণ সরাতে পানি: সেচ দিয়ে ধুয়ে ফেলা।
১৭০. বিশ্ব পরিবেশ দিবস কোনটি? (৩০তম বিসিএস, ২০১০)
- ক৫ মে
- খ১৫ মে
- গ৫ জুন
- ঘ১৫ জুন
সঠিক উত্তর: গ. ৫ জুন
বিশ্ব পরিবেশ দিবস পালিত হয় প্রতি বছর পাঁচ জুন।
উনিশশো বাহাত্তর সালের পাঁচ জুন সুইডেনের স্টকহোমে পরিবেশ নিয়ে জাতিসংঘের প্রথম বড় সম্মেলন শুরু হয়। সেই দিনটিকে স্মরণে রাখতে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ দিনটিকে বিশ্ব পরিবেশ দিবস ঘোষণা করে, আর উনিশশো চুয়াত্তর সাল থেকে এটি পালিত হচ্ছে।
দিবসটির আয়োজন করে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি, যার সংক্ষিপ্ত নাম ইউএনইপি। প্রতি বছর একটি প্রতিপাদ্য আর একটি আয়োজক দেশ বেছে নেওয়া হয়।
পনেরো মে আন্তর্জাতিক পরিবার দিবস, তাই মে মাসের তারিখগুলো দেখে বিভ্রান্ত হওয়া সহজ। পরিবেশ দিবস মনে রাখুন জুনের পাঁচ তারিখ।
মনে রাখুন: স্টকহোম সম্মেলন শুরুর দিন = পরিবেশ দিবস = ৫ জুন।
১৭১. East London কোথায় অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কইংল্যান্ডে
- খজার্মানিতে
- গআমেরিকায়
- ঘদক্ষিণ আফ্রিকায়
সঠিক উত্তর: ঘ. দক্ষিণ আফ্রিকায়
প্রশ্নটি নামের ফাঁদে ফেলার জন্য। ইস্ট লন্ডন হলো দক্ষিণ আফ্রিকার ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের একটি বন্দর শহর, ভারত মহাসাগরের তীরে।
ব্রিটিশ উপনিবেশ আমলে অনেক শহরের নাম ইংল্যান্ডের শহরের নামে রাখা হয়েছিল। সেই ধারায় দক্ষিণ আফ্রিকার এই শহরের নাম রাখা হয় ইস্ট লন্ডন।
একইভাবে কানাডায় লন্ডন নামে একটি শহর আছে, আর অস্ট্রেলিয়ায় আছে নিউক্যাসেল, পার্থের মতো ব্রিটিশ নাম। তাই নামের মিল দেখে দেশ ধরে নেওয়া যায় না।
লন্ডন শব্দটি দেখে ইংল্যান্ড বেছে নেওয়াই এখানে সবচেয়ে বড় ফাঁদ। ইংল্যান্ডের লন্ডনের পূর্বাংশকে কথ্যভাবে ইস্ট এন্ড বা পূর্ব লন্ডন বলা হলেও, ইস্ট লন্ডন নামের শহরটি দক্ষিণ আফ্রিকায়।
মনে রাখুন: ইস্ট লন্ডন, কেপটাউন, ডারবান, পোর্ট এলিজাবেথ: সব দক্ষিণ আফ্রিকার বন্দর।
১৭২. টেকনাফ কোন নদীর তীরে অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কপদ্মা
- খযমুনা
- গনাফ
- ঘকর্ণফুলী
সঠিক উত্তর: গ. নাফ
প্রশ্নটি টেকনাফের অবস্থান নিয়ে। টেকনাফ কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে দক্ষিণের উপজেলা, যা নাফ নদীর তীরে অবস্থিত।
নাফ নদী বাংলাদেশ আর মিয়ানমারের সীমান্ত নদী। এর পূর্ব পারে মিয়ানমার, পশ্চিম পারে টেকনাফ। টেকনাফ নামের শেষেই নাফ শব্দটি আছে, তাই মনে রাখা সহজ।
টেকনাফ বাংলাদেশের মূল ভূখণ্ডের দক্ষিণতম প্রান্ত, আর সেন্ট মার্টিন দ্বীপে যাওয়ার প্রধান নৌপথ টেকনাফ থেকেই।
কর্ণফুলীও চট্টগ্রাম অঞ্চলের নদী, তাই অনেকে এটা বেছে নেন। কিন্তু কর্ণফুলীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দর, টেকনাফ নয়।
মনে রাখুন: নামেই উত্তর: টেক-নাফ = নাফ নদী।
১৭৩. দক্ষিণ তালপট্টি কোন নদীর মোহনায় অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কনাফ
- খতেতুলিয়া
- গআড়িয়াল খাঁ
- ঘহাড়িয়াভাঙ্গা
সঠিক উত্তর: ঘ. হাড়িয়াভাঙ্গা
প্রশ্নটি দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের অবস্থান জানতে চেয়েছে। এটি ছিল হাড়িয়াভাঙ্গা নদীর মোহনায়, বঙ্গোপসাগরে।
হাড়িয়াভাঙ্গা সাতক্ষীরা জেলায় বাংলাদেশ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সীমান্ত নদী। উনিশশো সত্তর সালের ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়ের পর এর মোহনায় একটি চর জেগে ওঠে, বাংলাদেশ যার নাম দেয় দক্ষিণ তালপট্টি আর ভারত বলত নিউ মুর বা পূর্বাশা।
দ্বীপটির মালিকানা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘ বিরোধ ছিল। পরীক্ষার পর দুই হাজার দশ সালের দিকে দ্বীপটি সমুদ্রে তলিয়ে যায়, আর দুই হাজার চৌদ্দ সালে সমুদ্রসীমা মামলার রায়ে এলাকাটি ভারতের ভাগে পড়ে।
নাফ নদী মিয়ানমার সীমান্তে, তাই পূর্ব-পশ্চিম গুলিয়ে ফেললে এটা বেছে নেওয়ার ভুল হয়।
মনে রাখুন: পশ্চিমে হাড়িয়াভাঙ্গা-তালপট্টি, পূর্বে নাফ-সেন্ট মার্টিন।
১৭৪. জোয়ারের কত সময় পর ভাঁটার সৃষ্টি হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- ক৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
- খ৮ ঘণ্টা
- গ১২ ঘণ্টা
- ঘ১৩ ঘণ্টা ১৫ মি.
সঠিক উত্তর: ক. ৬ ঘণ্টা ১৩ মি.
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জোয়ার শুরুর কত পরে ভাটা আসে। উত্তর ছয় ঘণ্টা তেরো মিনিট।
পৃথিবী নিজের অক্ষে একবার ঘুরতে চব্বিশ ঘণ্টা নেয়, কিন্তু এই সময়ে চাঁদও নিজের কক্ষপথে কিছুটা এগিয়ে যায়। তাই একই জায়গা আবার চাঁদের ঠিক নিচে আসতে লাগে চব্বিশ ঘণ্টা পঞ্চাশ মিনিট।
এই সময়ে একটি জায়গায় দুবার জোয়ার আসে: একবার চাঁদের দিকে মুখ করে থাকার সময়, আরেকবার ঠিক উল্টো দিকে থাকার সময়। তাই এক জোয়ার থেকে পরের জোয়ার বারো ঘণ্টা পঁচিশ মিনিট পর।
জোয়ার আর পরের জোয়ারের ঠিক মাঝামাঝি সময়ে আসে ভাটা। বারো ঘণ্টা পঁচিশ মিনিটের অর্ধেক হলো ছয় ঘণ্টা সাড়ে বারো মিনিট, যা প্রায় ছয় ঘণ্টা তেরো মিনিট। বারো ঘণ্টা বিকল্পটি আসলে দুই জোয়ারের ব্যবধানের কাছাকাছি, ভাটার নয়।
মনে রাখুন: ২৪ ঘণ্টা ৫০ মিনিট ÷ ৪ ≈ ৬ ঘণ্টা ১৩ মিনিট।
১৭৫. নিঝুম দ্বীপের আয়তন কত? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৮০ব. মা.
- খ৮২ ব. মা.
- গ৮৫ ব. মা.
- ঘ৯০ ব. মা.
সঠিক উত্তর: ঘ. ৯০ ব. মা.
প্রশ্নটি নোয়াখালী জেলার হাতিয়া উপজেলার দ্বীপ নিঝুম দ্বীপের আয়তন জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার উত্তরমালায় যে উত্তরটি চলে আসছে, তা হলো নব্বই বর্গমাইল।
তবে মনে রাখতে হবে, দ্বীপের আয়তন নিয়ে সূত্রভেদে বেশ ফারাক আছে। বিশ্বকোষীয় সূত্রে নিঝুম দ্বীপ জাতীয় উদ্যানের মোট আয়তন প্রায় একশো তেষট্টি বর্গকিলোমিটার, মানে প্রায় তেষট্টি বর্গমাইল, যার বড় অংশই পানি। আর দ্বীপের আয়তন ধরা হয় প্রায় চৌদ্দ হাজার পঞ্চাশ একর, মানে বাইশ বর্গমাইলের মতো।
চর গঠনের দ্বীপ বলে নিঝুম দ্বীপের আকার সময়ের সঙ্গে বদলায়, তাই বিভিন্ন বইয়ে আলাদা সংখ্যা পাওয়া যায়। পরীক্ষার জন্য দ্বীপটির পরিচয়গুলো বেশি জরুরি: এটি মেঘনার মোহনায়, চিত্রা হরিণের জন্য বিখ্যাত, আর দুই হাজার এক সালে জাতীয় উদ্যান ঘোষিত হয়।
অপশনগুলো আশি থেকে নব্বইয়ের মধ্যে কাছাকাছি রাখা হয়েছে, তাই আন্দাজে উত্তর করা কঠিন। এই প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর নব্বই বর্গমাইল মনে রাখাই নিরাপদ।
মনে রাখুন: নিঝুম দ্বীপ মানে হাতিয়া, চিত্রা হরিণ, জাতীয় উদ্যান ২০০১; আয়তনের প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর ৯০ বর্গমাইল।
১৭৬. হোয়াংহো নদীর উৎপত্তি স্থল কোথায়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কহিমালয়
- খকুয়েনলুন পর্বত
- গব্ল্যাক ফরেস্ট
- ঘআল্পস
সঠিক উত্তর: খ. কুয়েনলুন পর্বত
প্রশ্নটি চীনের হোয়াংহো নদীর উৎস জানতে চেয়েছে। হোয়াংহো উৎপন্ন হয়েছে কুয়েনলুন পর্বতমালার অংশ বায়ান হার পর্বত থেকে, চীনের চিংহাই প্রদেশে।
সেখান থেকে নদীটি উত্তর চীনের সমভূমি পেরিয়ে বোহাই সাগরে পড়েছে। পথে বিপুল পরিমাণ হলুদ পলি বয়ে আনে বলে একে পীত নদী বা হলুদ নদী বলা হয়।
পলি জমে নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে যায়, ফলে বারবার ভয়াবহ বন্যা হয় আর নদী গতিপথ বদলায়। এই কারণে হোয়াংহোকে চীনের দুঃখ বলা হয়।
হিমালয় নামটি শুনে অনেকে ভুল করেন, কারণ এশিয়ার বড় অনেক নদী হিমালয় থেকে আসে। কিন্তু হোয়াংহো এসেছে আরও উত্তরের কুয়েনলুন পর্বত থেকে।
মনে রাখুন: হোয়াংহো = পীত নদী = চীনের দুঃখ, উৎস কুয়েনলুন।
১৭৭. জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কপ্রাকৃতিক পরিবেশ
- খসামাজিক পরিবেশ
- গবায়বীয় পরিবেশ
- ঘসাংস্কৃতিক পরিবেশ
সঠিক উত্তর: ক. প্রাকৃতিক পরিবেশ
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে জনসংখ্যা বৃদ্ধির সবচেয়ে বড় আঘাত কোন পরিবেশে পড়ে। উত্তর প্রাকৃতিক পরিবেশ, মানে মাটি, পানি, বায়ু, বন আর জীববৈচিত্র্য।
মানুষ বাড়লে খাদ্য, বাসস্থান আর জ্বালানির চাহিদা বাড়ে। তখন বন কেটে আবাদি জমি ও বসতি বানানো হয়, জলাভূমি ভরাট হয়, বেশি সার-কীটনাশক দেওয়া হয়, আর কলকারখানা ও যানবাহনের ধোঁয়া বাড়ে।
এর ফলে মাটি, পানি ও বায়ু দূষিত হয়, প্রাণী তাদের আবাস হারায়। বাংলাদেশের মতো ঘনবসতির দেশে এই চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট।
সামাজিক ও সাংস্কৃতিক পরিবেশেও প্রভাব পড়ে, কিন্তু সবচেয়ে ব্যাপক ও সরাসরি ক্ষতি প্রাকৃতিক পরিবেশের। আর বায়বীয় পরিবেশ আলাদা কোনো শ্রেণি নয়, বায়ু প্রাকৃতিক পরিবেশেরই অংশ।
মনে রাখুন: মাটি-পানি-বায়ু-বন যেখানে, ক্ষতিও সেখানে: প্রাকৃতিক পরিবেশ।
১৭৮. কোথায় দিন রাত্রি সর্বত্র সমান? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কমেরু অঞ্চলে
- খনিরক্ষরেখায়
- গউত্তর গোলার্ধে
- ঘদক্ষিণ গোলার্ধে
সঠিক উত্তর: খ. নিরক্ষরেখায়
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোথায় সারা বছর দিন আর রাত সমান থাকে। উত্তর নিরক্ষরেখা।
পৃথিবীর অক্ষ প্রায় সাড়ে তেইশ ডিগ্রি হেলে আছে বলে বছরের বিভিন্ন সময়ে উত্তর বা দক্ষিণ গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝোঁকে। তখন এক গোলার্ধে দিন বড় হয়, অন্যটিতে রাত বড় হয়।
কিন্তু আলোকিত অর্ধেক আর অন্ধকার অর্ধেকের সীমারেখা, যাকে ছায়াবৃত্ত বলে, সবসময় নিরক্ষরেখাকে ঠিক মাঝখান দিয়ে কাটে। তাই নিরক্ষরেখায় সারা বছর প্রায় বারো ঘণ্টা দিন আর বারো ঘণ্টা রাত।
মেরু অঞ্চলে উল্টো অবস্থা: সেখানে টানা ছয় মাস দিন আর ছয় মাস রাত। আর মার্চ ও সেপ্টেম্বরের বিষুবে সারা পৃথিবীতে দিন-রাত সমান হয় ঠিকই, কিন্তু সেটা বছরে মাত্র দুই দিন।
মনে রাখুন: সারা বছর দিন-রাত সমান: নিরক্ষরেখা। সারা পৃথিবীতে সমান: শুধু ২১ মার্চ ও ২৩ সেপ্টেম্বরের কাছাকাছি বিষুবে।