আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · পাতা ৩১
৬০১. খাদ্য ও কৃষি সংস্থার প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কনিউইয়র্কে
- খরোমে
- গজেনেভায়
- ঘঅটোয়ায়
সঠিক উত্তর: খ. রোমে
প্রশ্নটা জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা বা এফএওর প্রধান কার্যালয় কোথায়, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ইতালির রোম।
এফএও ১৯৪৫ সালের ১৬ অক্টোবর কানাডার কুইবেক শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়; এই দিনটিই এখন বিশ্ব খাদ্য দিবস। পরে সংস্থার সদর দপ্তর রোমে স্থানান্তরিত হয়।
রোমকে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষির শহর বলা যায়, কারণ এফএওর পাশাপাশি বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি আর আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল ইফাদের সদর দপ্তরও রোমে।
ফাঁদ অটোয়া: প্রতিষ্ঠা কানাডায় হয়েছিল বলে অনেকে কানাডার রাজধানীকে বেছে নেন। কিন্তু প্রতিষ্ঠার শহর ছিল কুইবেক, আর স্থায়ী দপ্তর রোমে।
মনে রাখুন: খাদ্য ও কৃষির তিন সংস্থাই রোমে: এফএও, বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি, ইফাদ।
৬০২. ডেভিস কাপ কোন খেলায় দেয়া হয়? (২৯তম বিসিএস, ২০০৯)
- কব্যাডমিন্টন
- খলন টেনিস
- গটেবিল টেনিস
- ঘক্রিকেট
সঠিক উত্তর: খ. লন টেনিস
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ডেভিস কাপ কোন খেলার প্রতিযোগিতা। উত্তর লন টেনিস।
ডেভিস কাপ পুরুষদের আন্তর্জাতিক দলগত টেনিস প্রতিযোগিতা। ১৯০০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রিটেনের মধ্যে প্রথম আসর হয়, আর ট্রফিটি দান করেছিলেন মার্কিন খেলোয়াড় ডোয়াইট ডেভিস; তাঁর নামেই প্রতিযোগিতার নাম। নারীদের সমতুল্য দলগত প্রতিযোগিতা পরীক্ষার সময় ফেড কাপ নামে পরিচিত ছিল।
এ ধরনের প্রশ্নে খেলাভিত্তিক দলগত কাপগুলো একসঙ্গে মনে রাখুন। ব্যাডমিন্টনে পুরুষদের টমাস কাপ ও নারীদের উবের কাপ, টেবিল টেনিসে পুরুষদের সোয়েথলিং কাপ ও নারীদের করবিলন কাপ।
ফাঁদ ব্যাডমিন্টন ও টেবিল টেনিস: দুটোই র্যাকেটের খেলা, তাই টেনিসের সঙ্গে গুলিয়ে যায়। কিন্তু এদের দলগত কাপের নাম আলাদা।
মনে রাখুন: ডেভিস কাপ টেনিস, টমাস কাপ ব্যাডমিন্টন, সোয়েথলিং কাপ টেবিল টেনিস।
৬০৩. যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটের মোট আসন সংখ্যা কতটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৯৯
- খ১০০
- গ১০১
- ঘ১০২
সঠিক উত্তর: খ. ১০০
প্রশ্নটা মার্কিন কংগ্রেসের উচ্চকক্ষ সিনেটের মোট আসনসংখ্যা জানতে চেয়েছে। উত্তর ১০০।
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী জনসংখ্যা যত বা কম হোক, প্রতিটি অঙ্গরাজ্য সিনেটে সমান ২ জন করে সদস্য পাঠায়। অঙ্গরাজ্য ৫০টি, তাই ৫০ গুণ ২, মোট ১০০ জন সিনেটর। তাঁদের মেয়াদ ৬ বছর, আর প্রতি ২ বছর পরপর প্রায় এক তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচন হয়।
নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে আসন ভাগ হয় জনসংখ্যার ভিত্তিতে, সেখানে ভোটাধিকারী সদস্য ৪৩৫ জন। সিনেটে সমান প্রতিনিধিত্ব আর প্রতিনিধি পরিষদে জনসংখ্যাভিত্তিক প্রতিনিধিত্ব: এই পার্থক্যটাই মার্কিন আইনসভার মূল কাঠামো।
ফাঁদ ১০১: ভাইস প্রেসিডেন্ট সিনেটের সভাপতি হিসেবে কাজ করেন এবং ভোট সমান হলে ভোট দেন, কিন্তু তিনি ১০০ জন সিনেটরের একজন নন।
মনে রাখুন: ৫০টি অঙ্গরাজ্য × ২ = ১০০ সিনেটর; প্রতিনিধি পরিষদে ৪৩৫।
৬০৪. ফেয়ার ফ্যাক্স কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কসংবাদ সংস্থা
- খপরিবেশ সংস্থা
- গগোয়েন্দা সংস্থা
- ঘমানবাধিকার সংস্থা
সঠিক উত্তর: গ. গোয়েন্দা সংস্থা
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ফেয়ারফ্যাক্স কী ধরনের প্রতিষ্ঠান। উত্তর গোয়েন্দা সংস্থা। ফেয়ারফ্যাক্স গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের একটি বেসরকারি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান।
নামটি দক্ষিণ এশিয়ায় আলোচনায় আসে ১৯৮৭ সালে। ভারতের তখনকার অর্থমন্ত্রী বিশ্বনাথ প্রতাপ সিং বিদেশে ভারতীয়দের অবৈধ আর্থিক লেনদেন তদন্তে এই প্রতিষ্ঠানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন বলে খবর বের হয়। একটি বিদেশি গোয়েন্দা প্রতিষ্ঠান নিয়োগ দেওয়া নিয়ে তুমুল বিতর্ক হয় এবং বিষয়টি তদন্তে কমিশন গঠিত হয়।
এ ধরনের প্রশ্নে প্রতিষ্ঠানটি কোন ঘটনার সূত্রে বিখ্যাত, সেটাই মনে রাখার চাবি। ফেয়ারফ্যাক্স বিতর্কের মূল কথা ছিল গোপন তদন্ত, তাই এটি গোয়েন্দা সংস্থা।
সংবাদ সংস্থা বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে, কারণ অস্ট্রেলিয়ায় ফেয়ারফ্যাক্স নামে একটি সংবাদপত্র প্রকাশক প্রতিষ্ঠান ছিল। কিন্তু সেটি সংবাদপত্র প্রকাশক, রয়টার্সের মতো সংবাদ সংস্থা নয়, আর প্রশ্নের ফেয়ারফ্যাক্স বিখ্যাত গোয়েন্দা কাজের জন্য।
মনে রাখুন: ফেয়ারফ্যাক্স মানেই ১৯৮৭ সালের ভারতের গোয়েন্দা বিতর্ক।
৬০৫. NASA এর সদর দপ্তর কোথায়? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কফ্লোরিডা
- খওয়াশিংটন ডিসি
- গকেপ কেনেডি
- ঘটেকসাস
সঠিক উত্তর: খ. ওয়াশিংটন ডিসি
প্রশ্নটা মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসার সদর দপ্তর কোথায়, তা জানতে চেয়েছে। উত্তর ওয়াশিংটন ডিসি।
১৯৫৮ সালে প্রতিষ্ঠিত নাসা একটি কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থা, তাই এর প্রশাসনিক সদর দপ্তর রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। কিন্তু নাসার মাঠপর্যায়ের বড় কেন্দ্রগুলো দেশের নানা জায়গায় ছড়ানো।
উৎক্ষেপণের জন্য বিখ্যাত কেনেডি স্পেস সেন্টার ফ্লোরিডায়, কেপ ক্যানাভেরালের কাছে। এই কেপের নামই ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৩ সাল পর্যন্ত ছিল কেপ কেনেডি। আর মহাকাশ অভিযানের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র জনসন স্পেস সেন্টার টেক্সাসের হিউস্টনে।
ফাঁদ ফ্লোরিডা আর কেপ কেনেডি: রকেট উৎক্ষেপণের ছবি সেখান থেকেই বেশি দেখা যায় বলে অনেকে সেটিকেই সদর দপ্তর ভাবেন। কিন্তু উৎক্ষেপণ কেন্দ্র আর প্রশাসনিক সদর দপ্তর আলাদা।
মনে রাখুন: নাসা: সদর দপ্তর ওয়াশিংটন, উৎক্ষেপণ ফ্লোরিডা, নিয়ন্ত্রণ হিউস্টন।
৬০৬. দক্ষিণ আফ্রিকা কত বছর শ্বেতাঙ্গ শাসনে ছিল? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- ক৩০০ বছর
- খ৩৩৫ বছর
- গ৩৪২ বছর
- ঘ৫০০ বছর
সঠিক উত্তর: গ. ৩৪২ বছর
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা কত বছর শ্বেতাঙ্গ শাসনে ছিল। হিসাবটা শুরু আর শেষের সাল থেকে বের করতে হয়। উত্তর ৩৪২ বছর।
শুরু ১৬৫২ সালে, যখন ডাচ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির পক্ষে ইয়ান ফান রিবেক কেপ অঞ্চলে বসতি স্থাপন করেন। পরে এলাকা ব্রিটিশদের হাতে যায়, আর ১৯৪৮ সাল থেকে শ্বেতাঙ্গ সরকার বর্ণবৈষম্যমূলক বা অ্যাপারথেইড নীতি চালু করে।
শেষ ১৯৯৪ সালে, যখন সব বর্ণের মানুষের অংশগ্রহণে প্রথম নির্বাচন হয় এবং নেলসন ম্যান্ডেলা দেশের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট হন। ১৯৯৪ থেকে ১৬৫২ বাদ দিলে পাওয়া যায় ৩৪২ বছর।
এ ধরনের প্রশ্নে দুটি সাল মনে রাখাই যথেষ্ট। ৩০০ বা ৫০০ এর মতো গোল সংখ্যা আন্দাজে বেছে নিলেই ভুল হয়।
মনে রাখুন: ১৬৫২ থেকে ১৯৯৪: ১৯৯৪ − ১৬৫২ = ৩৪২।
৬০৭. বসনিয়ায় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের মধ্যস্থতাকারী কে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবিল ক্লিনটন
- খজিমি কার্টার
- গনিক্সন
- ঘরিগান
সঠিক উত্তর: খ. জিমি কার্টার
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বসনিয়ায় যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরে কে মধ্যস্থতা করেন। প্রচলিত উত্তর সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টার।
১৯৯২ সালে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনায় যুদ্ধ শুরু হয়। ১৯৯৪ সালের ডিসেম্বরে কার্টার সেখানে গিয়ে বসনীয় সরকার ও বসনীয় সার্বদের মধ্যে আলোচনা করেন, আর ৩১ ডিসেম্বর চার মাসের যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত হয়।
১৯৯৫ সালের অক্টোবরে প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনের দূত রিচার্ড হলব্রুকের মধ্যস্থতায় আরেকটি যুদ্ধবিরতি হয়, আর যুদ্ধের স্থায়ী অবসান হয় ডেটন শান্তিচুক্তিতে, যা যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইওর ডেটনে চূড়ান্ত হয়ে ১৯৯৫ সালের ডিসেম্বরে প্যারিসে স্বাক্ষরিত হয়। তাই প্রশ্নে কোন যুদ্ধবিরতি বা চুক্তির কথা বলা হচ্ছে, তা আলাদা করা জরুরি।
বিল ক্লিনটন বিকল্পটি তাই বিভ্রান্ত করে: ১৯৯৫ সালের যুদ্ধবিরতি ও ডেটন চুক্তির সঙ্গে তাঁর প্রশাসন জড়িত, তাই কিছু গাইড তাঁকেই উত্তর লেখে। প্রচলিত উত্তরে ধরা হয় ১৯৯৪ সালের চার মাসের যুদ্ধবিরতি, যার মধ্যস্থতা করেছিলেন কার্টার।
মনে রাখুন: প্রচলিত উত্তর: যুদ্ধবিরতি কার্টার ১৯৯৪; ক্লিনটন প্রশাসনের নাম ১৯৯৫ সালের যুদ্ধবিরতি ও ডেটনের সঙ্গে।
৬০৮. ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম কি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
- খজ্যাক শিরাক
- গফ্রঁসিয়ে মিতেরাঁ
- ঘজেনারেল দ্য গল
সঠিক উত্তর: ক. ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ
প্রশ্নটা ফ্রান্সের বর্তমান প্রেসিডেন্টের নাম জানতে চেয়েছে। প্রশ্নের এখনকার রূপে উত্তর ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ, যিনি ২০১৭ সালের মে মাস থেকে প্রেসিডেন্ট।
খেয়াল রাখুন, প্রশ্নটি পরে হালনাগাদ করা। ২০০৮ সালের নভেম্বরে মূল পরীক্ষার সময় ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ছিলেন নিকোলা সারকোজি, যিনি ২০০৭ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত দায়িত্বে ছিলেন; তাঁর নাম বিকল্পে নেই।
ফ্রান্সের পঞ্চম প্রজাতন্ত্রের কয়েকজন প্রেসিডেন্টের ক্রম মনে রাখলে এ ধরনের প্রশ্ন সহজ হয়: দ্য গল ১৯৫৯ থেকে ১৯৬৯, মিতেরাঁ ১৯৮১ থেকে ১৯৯৫, শিরাক ১৯৯৫ থেকে ২০০৭, তারপর সারকোজি, ওলাঁদ ও ম্যাক্রোঁ।
বর্তমান শব্দ থাকা প্রশ্নে সবসময় খেয়াল করুন কোন সময়ের কথা বলা হচ্ছে। শিরাক, মিতেরাঁ বা দ্য গল সবাই সাবেক প্রেসিডেন্ট।
মনে রাখুন: ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ক্রম: মিতেরাঁ, শিরাক, সারকোজি, ওলাঁদ, ম্যাক্রোঁ।
৬০৯. মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্র বিভক্তকারী সীমারেখা কোনটি? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কসনোরা লাইন
- খম্যাকনামারা লাইন
- গডুরান্ড লাইন
- ঘহিন্ডারবার্গ লাইন
সঠিক উত্তর: ক. সনোরা লাইন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সীমারেখার নাম। প্রচলিত উত্তর সনোরা লাইন। তবে সত্যি বলতে, এই সীমান্তের সনোরা লাইন নামে কোনো আনুষ্ঠানিক নাম নেই।
সনোরা মেক্সিকোর একটি অঙ্গরাজ্য, যার সীমানা যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার সঙ্গে লাগোয়া। অন্য তিনটি বিকল্প বিখ্যাত রেখা হলেও প্রত্যেকটি অন্য দেশ বা অন্য ঘটনার, তাই বাদ দেওয়ার পদ্ধতিতে উত্তর সনোরা লাইন।
ডুরান্ড লাইন ১৮৯৩ সালে টানা আফগানিস্তান ও তখনকার ব্রিটিশ ভারতের সীমারেখা, এখন আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের সীমান্ত। ম্যাকনামারা লাইন ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী রবার্ট ম্যাকনামারার নামে পরিকল্পিত প্রতিরক্ষা প্রতিবন্ধক। হিন্ডেনবার্গ লাইন প্রথম বিশ্বযুদ্ধে পশ্চিম রণাঙ্গনে জার্মানির প্রতিরক্ষা রেখা।
সীমারেখার প্রশ্নে বিকল্পগুলো কোন দুই দেশের, তা জানা থাকলে উত্তর না জানলেও বাদ দিয়ে পৌঁছানো যায়। এখানে শুধু সনোরা নামটিই মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্ত।
মনে রাখুন: বিকল্পের নামগুলো কোন দেশের, তা মেলান: মেক্সিকোর সঙ্গে যুক্ত শুধু সনোরা।
৬১০. ইউরোপের ককপিট বলা হয় কোন দেশকে? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কবেলজিয়াম
- খফ্রান্স
- গজার্মানী
- ঘফিনল্যান্ড
সঠিক উত্তর: ক. বেলজিয়াম
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশকে ইউরোপের ককপিট বলা হয়। উত্তর বেলজিয়াম।
ককপিট শব্দের পুরোনো অর্থ মোরগ লড়াইয়ের ঘেরা জায়গা, অর্থাৎ লড়াইয়ের মঞ্চ। ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডসের মাঝখানে থাকা ছোট দেশ বেলজিয়ামের মাটিতে ইউরোপের বড় শক্তিগুলোর অনেক যুদ্ধ হয়েছে, তাই এই নাম।
উদাহরণ মনে রাখুন: ১৮১৫ সালে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় হয় বেলজিয়ামের ওয়াটারলুতে। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি বেলজিয়ামের ভেতর দিয়ে ফ্রান্সে ঢোকে, আর ১৯৪৪ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আর্দেন অঞ্চলে বাল্জের যুদ্ধ হয়।
ফাঁদ ফ্রান্স ও জার্মানি: এরা ইউরোপের বহু যুদ্ধের প্রধান পক্ষ, কিন্তু লড়াইয়ের মঞ্চ প্রায়ই ছিল তাদের মাঝখানের দেশ বেলজিয়াম।
মনে রাখুন: বড় শক্তিগুলোর মাঝখানের ছোট দেশ, যেখানে বারবার যুদ্ধ: বেলজিয়াম।
৬১১. বিশ্বের কোন দেশের সাক্ষরতার হার ১০০%? (২৮তম বিসিএস, ২০০৮)
- কপোল্যান্ড
- খফিনল্যান্ড
- গকাজাকিস্তান
- ঘস্লোভাকিয়া
সঠিক উত্তর: খ. ফিনল্যান্ড
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশের সাক্ষরতার হার শতভাগ। প্রচলিত উত্তর ফিনল্যান্ড।
ফিনল্যান্ডে সব শিশুর জন্য বিনা বেতনে স্কুল শিক্ষা বহু আগে থেকে চালু, আর দেশটির শিক্ষাব্যবস্থা বিশ্বে অন্যতম সেরা হিসেবে পরিচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় সবাই পড়তে ও লিখতে পারেন, তাই বিভিন্ন তথ্যসূত্রে ফিনল্যান্ডের সাক্ষরতার হার শতভাগ ধরা হয়।
মনে রাখবেন, উন্নত অনেক দেশেই সাক্ষরতা প্রায় শতভাগ, আর উৎসভেদে সংখ্যা সামান্য আলাদা হয়। পোল্যান্ড, কাজাখস্তান ও স্লোভাকিয়াতেও হার প্রায় শতভাগের কাছাকাছি, তবে প্রচলিত তথ্যসূত্র ও পরীক্ষার উত্তরে শতভাগের উদাহরণ হিসেবে ফিনল্যান্ডই আসে।
এ ধরনের প্রশ্নে বিকল্পগুলোর মধ্যে শিক্ষায় সবচেয়ে পরিচিত দেশটিকে খুঁজুন; এখানে নর্ডিক দেশ ফিনল্যান্ড।
মনে রাখুন: শতভাগ সাক্ষরতার প্রশ্নে প্রচলিত উত্তর নর্ডিক দেশ, বিশেষ করে ফিনল্যান্ড।
৬১২. মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল অর্জন করার কথা কোন সময়ে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক২০১০ সাল
- খ২০১৫ সাল
- গ২০২০ সাল
- ঘ২০২৫ সাল
সঠিক উত্তর: খ. ২০১৫ সাল
প্রশ্নটা জাতিসংঘের সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্য, সংক্ষেপে এমডিজি, পূরণের শেষ সময় জানতে চেয়েছে। উত্তর ২০১৫ সাল।
২০০০ সালের সেপ্টেম্বরে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সহস্রাব্দ শীর্ষ সম্মেলনে সহস্রাব্দ ঘোষণা গৃহীত হয়। এর ভিত্তিতে চরম দারিদ্র্য ও ক্ষুধা কমানো, সবার জন্য প্রাথমিক শিক্ষা, শিশুমৃত্যু কমানোসহ ৮টি লক্ষ্য ঠিক করা হয়, যা ২০১৫ সালের মধ্যে অর্জনের কথা ছিল।
এমডিজির মেয়াদ শেষ হওয়ার বছর, ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে, জাতিসংঘ এর উত্তরসূরি হিসেবে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি গ্রহণ করে। এসডিজিতে লক্ষ্য ১৭টি, আর শেষ সময় ২০৩০ সাল।
মনে রাখার সহজ উপায়: দুটোই ১৫ বছরের পরিকল্পনা। এমডিজি ২০০০ থেকে ২০১৫, এসডিজি ২০১৫ থেকে ২০৩০। ২০২০ বা ২০২৫ এর কোনোটির সঙ্গেই এমডিজির সময়সীমা মেলে না।
মনে রাখুন: এমডিজি ২০০০ থেকে ২০১৫, এসডিজি ২০১৫ থেকে ২০৩০: দুটোই ১৫ বছরের পরিকল্পনা।
৬১৩. জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের প্রথম বাংলাদেশী সভাপতি কে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কবি এ সিদ্দিকী
- খখাজা ওয়াসিউদ্দিন
- গহুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
- ঘশমসের মবিন চৌধুরী
সঠিক উত্তর: গ. হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির আসনে প্রথম কোন বাংলাদেশি বসেছিলেন। উত্তর হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী।
১৯৮৬ সালে সাধারণ পরিষদের ৪১তম অধিবেশনে তিনি সভাপতি নির্বাচিত হন। পরীক্ষার সময় পর্যন্ত তিনিই ছিলেন এই পদে বসা একমাত্র বাংলাদেশি। পরে ১৯৯৬ সালে তিনি জাতীয় সংসদের স্পিকার হন।
সাধারণ পরিষদের সভাপতি প্রতি বছর নতুন অধিবেশনের জন্য নির্বাচিত হন, আর পদটি পালাক্রমে বিভিন্ন আঞ্চলিক গোষ্ঠীর দেশগুলোর মধ্যে ঘোরে। তাই এই পদ পাওয়া একটি দেশের জন্য বড় কূটনৈতিক সম্মান।
ফাঁদ হলো অন্য তিনজনও জাতিসংঘ বা কূটনীতির সঙ্গে যুক্ত। খাজা ওয়াসিউদ্দিন ও বি এ সিদ্দিকী জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ছিলেন, আর শমসের মবিন চৌধুরী ছিলেন পররাষ্ট্রসচিব; কেউই সাধারণ পরিষদের সভাপতি হননি।
মনে রাখুন: সাধারণ পরিষদের সভাপতি আর জাতিসংঘে স্থায়ী প্রতিনিধি আলাদা পদ; সভাপতি বাংলাদেশ থেকে একজনই।
৬১৪. মুসলমান প্রধান না হয়েও কোন দেশটি ইসলামী সম্মেলন সংস্থার সদস্য? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কনাইজেরিয়া
- খলেবানন
- গনাইজারনুমো
- ঘউগান্ডা
সঠিক উত্তর: ঘ. উগান্ডা
প্রশ্নটা খুঁজছে এমন দেশ, যেখানে মুসলমানরা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়, তবুও দেশটি ইসলামি সম্মেলন সংস্থার সদস্য। সংস্থাটি এখন ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা, সংক্ষেপে ওআইসি নামে পরিচিত।
উগান্ডার জনসংখ্যার বড় অংশ খ্রিষ্টান; মুসলমান মোটামুটি ১৪ শতাংশ। তবুও দেশটি ১৯৭৪ সালে ওআইসির সদস্য হয়। আফ্রিকার গ্যাবন ও মোজাম্বিক এবং দক্ষিণ আমেরিকার গায়ানা ও সুরিনামও মুসলিমপ্রধান না হয়েও সদস্য।
এ ধরনের প্রশ্নে প্রতিটি বিকল্পের মুসলিম জনসংখ্যার আন্দাজ মাথায় রাখতে হয়। যে দেশে মুসলমান অর্ধেক বা তার বেশি, সেটি বাদ; যেখানে মুসলমান স্পষ্টভাবে সংখ্যালঘু অথচ দেশটি সদস্য, সেটিই উত্তর।
ফাঁদ নাইজেরিয়া: সেখানে মুসলমান প্রায় অর্ধেক, তাই দেশটিকে অমুসলিমপ্রধান বলা যায় না। লেবাননেও মুসলমানরা সংখ্যায় বেশি। তৃতীয় বিকল্পের নামটি প্রশ্নপত্রের প্রচলিত কপিগুলোতেই বিকৃতভাবে ছাপা; নাইজার বোঝানো হলে সেটি প্রায় পুরোপুরি মুসলিম দেশ।
মনে রাখুন: অমুসলিমপ্রধান ওআইসি সদস্য: উগান্ডা, গ্যাবন, মোজাম্বিক, গায়ানা, সুরিনাম।
৬১৫. কিউবায় ক্ষেপণাস্ত্র সঙ্কটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কে ছিলেন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- করিচার্ড এম নিক্সন
- খজন এফ কেনেডি
- গলিন্ডন বেইনস জনসন
- ঘহ্যারি এস ট্রুম্যান
সঠিক উত্তর: খ. জন এফ কেনেডি
প্রশ্নটা ১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের নাম জানতে চেয়েছে। উত্তর জন এফ কেনেডি।
১৯৬২ সালের অক্টোবরে মার্কিন গোয়েন্দা বিমান কিউবায় সোভিয়েত ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি শনাক্ত করে। কেনেডি কিউবার চারপাশে নৌ অবরোধ দেন। প্রায় ১৩ দিনের টানাপোড়েনের পর সোভিয়েত নেতা নিকিতা ক্রুশ্চেভ ক্ষেপণাস্ত্র সরিয়ে নিতে রাজি হন, বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র কিউবা আক্রমণ না করার প্রতিশ্রুতি দেয়।
স্নায়ুযুদ্ধের সময় পারমাণবিক যুদ্ধের সবচেয়ে কাছাকাছি পৌঁছানোর ঘটনা হিসেবে এই সংকট পরিচিত। প্রেসিডেন্টদের মেয়াদের ক্রম মনে রাখলে সহজে উত্তর মেলে: ট্রুম্যান, আইজেনহাওয়ার, কেনেডি, জনসন, নিক্সন।
ফাঁদ লিন্ডন জনসন: ১৯৬২ সালে তিনি ছিলেন কেনেডির ভাইস প্রেসিডেন্ট। ১৯৬৩ সালের নভেম্বরে কেনেডি নিহত হলে জনসন প্রেসিডেন্ট হন, অর্থাৎ সংকটের পরে।
মনে রাখুন: সংকট ১৯৬২, কেনেডির মেয়াদ ১৯৬১ থেকে ১৯৬৩: সালটা মেলালেই উত্তর।
৬১৬. কোন পরিষদের সুপারিশক্রমে জাতিসংঘে নতুন সদস্য গ্রহণ করা হয়? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কঅর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ
- খনিরাপত্তা পরিষদ
- গসাধারণ পরিষদ
- ঘঅছি পরিষদ
সঠিক উত্তর: খ. নিরাপত্তা পরিষদ
প্রশ্নটা জাতিসংঘে নতুন সদস্য গ্রহণের প্রক্রিয়া জানতে চেয়েছে। নিয়ম হলো: নিরাপত্তা পরিষদ সুপারিশ করে, তারপর সাধারণ পরিষদ ভোটে গ্রহণ করে। তাই সুপারিশ আসে নিরাপত্তা পরিষদ থেকে।
জাতিসংঘ সনদের ৪ নম্বর অনুচ্ছেদে এই নিয়ম আছে। নিরাপত্তা পরিষদে সুপারিশ পাস হতে ১৫ সদস্যের অন্তত ৯টি ভোট লাগে, আর ৫ স্থায়ী সদস্যের কেউ ভেটো দিলে সুপারিশ আটকে যায়। এরপর সাধারণ পরিষদে উপস্থিত ও ভোটদানকারী সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশের ভোটে নতুন সদস্য গৃহীত হয়।
বাংলাদেশের অভিজ্ঞতাই এর ভালো উদাহরণ। ১৯৭২ সালে চীনের ভেটোর কারণে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ আটকে যায়; পরে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হয়।
ফাঁদ সাধারণ পরিষদ: চূড়ান্ত ভোট সেখানে হলেও সুপারিশ সেখান থেকে আসে না। মহাসচিব নিয়োগেও একই ধারা: নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ, সাধারণ পরিষদের নিয়োগ।
মনে রাখুন: সদস্য গ্রহণ আর মহাসচিব নিয়োগ: দুটোতেই আগে নিরাপত্তা পরিষদের সুপারিশ, পরে সাধারণ পরিষদের অনুমোদন।
৬১৭. ভারতীয় লোকসভার নির্বাচিত সদস্য সংখ্যা কত? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক৫৪৩
- খ৫৪৫
- গ৪১৪
- ঘ৫৪০
সঠিক উত্তর: ক. ৫৪৩
প্রশ্নটা ভারতের সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় সরাসরি নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা জানতে চেয়েছে। উত্তর ৫৪৩।
লোকসভার সদস্যরা একক আসনভিত্তিক নির্বাচনী এলাকা থেকে সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন, আর এমন আসন ৫৪৩টি। পরীক্ষার সময় এর বাইরে রাষ্ট্রপতি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান সম্প্রদায় থেকে ২ জন সদস্য মনোনীত করতে পারতেন, তাই মোট সদস্য দাঁড়াত ৫৪৫।
প্রশ্নে নির্বাচিত শব্দটিই আসল সূত্র। মনোনীত সদস্য নির্বাচিত নন, তাই তাঁদের বাদ দিলে থাকে ৫৪৩। পরে ২০১৯ সালের সংবিধান সংশোধনী ২০২০ সালের জানুয়ারিতে কার্যকর হলে মনোনয়নের এই বিধান উঠে যায়।
ফাঁদ ৫৪৫: এটি তখনকার মোট সদস্যসংখ্যা, নির্বাচিত সদস্যের সংখ্যা নয়। প্রশ্নে মোট আর নির্বাচিত শব্দের পার্থক্য খেয়াল করলেই ভুল এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: নির্বাচিত ৫৪৩, মনোনীত যোগ করলে তখন মোট ৫৪৫।
৬১৮. কোন দেশের মহিলারা সর্বপ্রথম ভোটাধিকার লাভ করে? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- খনিউজিল্যান্ড
- গবাহামা
- ঘসুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর: খ. নিউজিল্যান্ড
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশ সবার আগে জাতীয় নির্বাচনে নারীদের ভোটাধিকার দেয়। উত্তর নিউজিল্যান্ড।
১৮৯৩ সালের সেপ্টেম্বরে নিউজিল্যান্ডে নতুন নির্বাচনী আইনে নারীরা ভোটাধিকার পান। কেট শেপার্ডের নেতৃত্বে হাজার হাজার নারীর স্বাক্ষর নিয়ে সংসদে আবেদন করা হয়েছিল, তারই ফল এই আইন। সেই বছরের নভেম্বরের নির্বাচনেই নারীরা ভোট দেন।
তুলনা করলে পার্থক্যটা স্পষ্ট হয়। যুক্তরাষ্ট্রে সংবিধানের ১৯তম সংশোধনীতে নারীরা ভোটাধিকার পান ১৯২০ সালে, বাহামায় নারীরা প্রথম ভোট দেন ১৯৬২ সালে, আর সুইজারল্যান্ডে জাতীয় পর্যায়ে নারীরা ভোটাধিকার পান মাত্র ১৯৭১ সালে।
ফাঁদ যুক্তরাষ্ট্র: নারী অধিকার আন্দোলনের জন্য দেশটি পরিচিত হলেও জাতীয় পর্যায়ে নারীর ভোটাধিকার সেখানে নিউজিল্যান্ডের প্রায় ২৭ বছর পরে আসে।
মনে রাখুন: নারীর ভোটাধিকারে প্রথম নিউজিল্যান্ড ১৮৯৩, ইউরোপে দেরিতে আসা সুইজারল্যান্ড ১৯৭১।
৬১৯. রাসায়নিক অস্ত্র চুক্তি (Chemical Weapons Convention) কোন সালে স্বাক্ষরিত হয়? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- ক১৯৯০
- খ১৯৯৩
- গ১৯৯৬
- ঘ১৯৯৯
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৯৩
প্রশ্নটা রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশন স্বাক্ষরের সাল জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৯৩।
১৯৯৩ সালের জানুয়ারিতে প্যারিসে চুক্তিটি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত করা হয় এবং প্যারিসের স্বাক্ষর অনুষ্ঠানেই বহু দেশ স্বাক্ষর করে। চুক্তিটি রাসায়নিক অস্ত্র তৈরি, মজুত, হস্তান্তর ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করে এবং বিদ্যমান মজুত ধ্বংসের বাধ্যবাধকতা দেয়।
স্বাক্ষর আর কার্যকর হওয়া আলাদা ধাপ। চুক্তিটি কার্যকর হয় ১৯৯৭ সালে, আর এর বাস্তবায়ন তদারক করে নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা, সংক্ষেপে ওপিসিডব্লিউ।
ফাঁদ ১৯৯০ ও ১৯৯৬: ১৯৯০ সালে যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন দুই দেশের মধ্যে রাসায়নিক অস্ত্র ধ্বংসের আলাদা চুক্তি করে, আর ১৯৯৬ সালে পারমাণবিক পরীক্ষা নিষিদ্ধকরণ চুক্তি স্বাক্ষরের জন্য উন্মুক্ত হয়। দুটোই আলাদা চুক্তি।
মনে রাখুন: স্বাক্ষর ১৯৯৩, কার্যকর ১৯৯৭: দুটো সাল আলাদা করে মনে রাখুন।
৬২০. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন প্রেসিডেন্ট ১২ বছর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিলেন? (২৭তম বিসিএস, ২০০৫)
- কতথ্যটি সঠিক নয়
- খজেমস মনরো
- গফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
- ঘহ্যারি এস ট্রুম্যান
সঠিক উত্তর: গ. ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। উত্তর ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।
রুজভেল্ট ১৯৩২, ১৯৩৬, ১৯৪০ ও ১৯৪৪ সালে মোট চারবার নির্বাচিত হন; চারবার নির্বাচিত হওয়া একমাত্র মার্কিন প্রেসিডেন্ট তিনিই। ১৯৩৩ সালের মার্চে দায়িত্ব নিয়ে ১৯৪৫ সালের এপ্রিলে চতুর্থ মেয়াদের শুরুতে মৃত্যু পর্যন্ত তিনি প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন। মহামন্দা আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, দুটোই তাঁর আমলে।
রুজভেল্টের পর এমন দীর্ঘ শাসন ঠেকাতে সংবিধানের ২২তম সংশোধনী আনা হয়, যা ১৯৫১ সালে কার্যকর হয়। এতে কোনো ব্যক্তি দুবারের বেশি প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হতে পারেন না। তাই আর কারও পক্ষে ১২ বছর থাকা কার্যত সম্ভব নয়।
ফাঁদ হ্যারি ট্রুম্যান: রুজভেল্টের মৃত্যুর পর তিনি প্রেসিডেন্ট হন এবং প্রায় ৮ বছর ছিলেন। আর তথ্যটি সঠিক নয় বিকল্পটি ভুল, কারণ রুজভেল্ট সত্যিই প্রায় ১২ বছর ক্ষমতায় ছিলেন।
মনে রাখুন: চারবার নির্বাচিত একমাত্র প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট; চার মেয়াদ মানেই ১২ বছরের বেশি থাকার সুযোগ।