আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · পাতা ৩
৪১. কোন দিনটি বিশ্ব শরণার্থী দিবস হিসেবে পালিত হয়? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক৫ জুন
- খ১০ জুন
- গ২০ জুন
- ঘ২৫ জুন
সঠিক উত্তর: গ. ২০ জুন
প্রতিবছর ২০ জুন বিশ্ব শরণার্থী দিবস পালিত হয়। জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ২০০০ সালের ডিসেম্বরে এ বিষয়ে প্রস্তাব নেয়, আর ২০০১ সাল থেকে দিনটি পালিত হচ্ছে।
২০০১ সাল বেছে নেওয়ার কারণ, ওই বছর ছিল ১৯৫১ সালের শরণার্থী মর্যাদা বিষয়ক কনভেনশনের পঞ্চাশ বছর পূর্তি। দিবসটির মূল আয়োজক জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা ইউএনএইচসিআর।
বাংলাদেশের জন্য দিনটি বিশেষ প্রাসঙ্গিক, কারণ দেশটি দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে।
ফাঁদ হলো ৫ জুন, যেটি বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে বেশি পরিচিত।
মনে রাখুন: জুনের তিন দিবস: ৫ পরিবেশ, ২০ শরণার্থী, ২৫ নাবিক।
৪২. জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ সংক্রান্ত সংস্থা UNODC-র প্রধান কার্যালয় কোথায় অবস্থিত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করোম
- খভিয়েনা
- গজেনেভা
- ঘপিটসবার্গ
সঠিক উত্তর: খ. ভিয়েনা
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক কার্যালয়ের সদর দপ্তর অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনায়। এটি অবৈধ মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ, দুর্নীতি ও সন্ত্রাস প্রতিরোধে কাজ করে।
ভিয়েনা জাতিসংঘের চারটি প্রধান দপ্তর শহরের একটি; বাকি তিনটি নিউইয়র্ক, জেনেভা ও নাইরোবি। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা ও জাতিসংঘ শিল্প উন্নয়ন সংস্থার সদর দপ্তরও আছে।
ফাঁদ হলো জেনেভা। সেখানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও শরণার্থী সংস্থার মতো বহু জাতিসংঘ সংস্থা থাকায় অনেকে সেটাই বেছে নেন।
মনে রাখুন: ভিয়েনায় তিনটি পরিচিত: মাদক ও অপরাধ, আণবিক শক্তি, শিল্প উন্নয়ন।
৪৩. আলেপ্পো শহরটি কোন দেশে অবস্থিত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কইরান
- খইরাক
- গজর্ডান
- ঘসিরিয়া
সঠিক উত্তর: ঘ. সিরিয়া
আলেপ্পো সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলের শহর, দেশটির অন্যতম বড় নগর। এটি বিশ্বের প্রাচীনতম টানা জনবসতির শহরগুলোর একটি এবং এর পুরোনো নগর ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্য।
২০১১ সালে শুরু হওয়া সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে আলেপ্পো ভয়াবহভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক, আলেপ্পো নয়; এটা আলাদা করে মনে রাখা দরকার।
বাকি তিন দেশের পরিচিত শহর মিলিয়ে নিলে বিভ্রান্তি কমে: ইরানের তেহরান ও ইস্পাহান, ইরাকের বাগদাদ ও মসুল, জর্ডানের আম্মান ও পেত্রা।
মনে রাখুন: সিরিয়ার দুই বড় শহর: রাজধানী দামেস্ক, উত্তরে আলেপ্পো।
৪৪. উন্নয়নশীল দেশসমূহের বৈশ্বিক জোট 'জি-৭৭' এর বর্তমান সদস্য সংখ্যা কত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক১০৫
- খ১১৫
- গ১২৫
- ঘ১৩৫
সঠিক উত্তর: ঘ. ১৩৫
জি সাতাত্তর উন্নয়নশীল দেশগুলোর জোট, ১৯৬৪ সালের ১৫ জুন ৭৭টি দেশ নিয়ে গঠিত। প্রতিষ্ঠার সময়ের সংখ্যা থেকেই নাম; সদস্য বাড়লেও নাম বদলায়নি।
পরীক্ষার সময় জোটের নিজস্ব তালিকায় সদস্য ছিল ১৩৪টি দেশ, আর সেই তালিকায় চীনের নামও আছে। চীন অবশ্য নিজেকে আনুষ্ঠানিক সদস্য মনে করে না, তাই জোটের বিবৃতি আসে জি সাতাত্তর ও চীনের নামে।
বিকল্পে ১৩৪ নেই। সবচেয়ে কাছের সংখ্যা ১৩৫, আর নির্ধারিত উত্তরও এটিই। কেউ কেউ চীনকে আলাদা করে যোগ করে ১৩৫ গোনেন, কিন্তু জোটের তালিকায় চীন আগে থেকেই গোনা আছে।
১০৫, ১১৫ বা ১২৫ অনেক কম। সদস্যসংখ্যা একশো ত্রিশ ছাড়িয়েছে, এটুকু মনে রাখলেই এগুলো বাদ পড়ে।
মনে রাখুন: জি সাতাত্তর: সদস্য ১৩৪, চীন এর মধ্যেই গোনা; বিকল্পে নিকটতম ১৩৫।
৪৫. "২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের দরিদ্র নারী, পুরুষ ও শিশুর সংখ্যা অর্ধেক নামিয়ে আনতে হবে" -এটি টেকসই উন্নয়ন লক্ষমাত্রায় কোন অভীষ্ট লক্ষ্য? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কটার্গেট ১.১
- খটার্গেট ১.২
- গটার্গেট ১.৩
- ঘটার্গেট ১.৪
সঠিক উত্তর: খ. টার্গেট ১.২
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার প্রথম অভীষ্ট হলো সব জায়গা থেকে সব ধরনের দারিদ্র্যের অবসান। এর অধীনে কয়েকটি নির্দিষ্ট টার্গেট আছে, আর প্রশ্নের বক্তব্যটি টার্গেট এক দশমিক দুই।
টার্গেট এক দশমিক দুই বলছে, ২০৩০ সালের মধ্যে জাতীয় সংজ্ঞা অনুযায়ী সব ধরনের দারিদ্র্যে থাকা সব বয়সের নারী, পুরুষ ও শিশুর অনুপাত অন্তত অর্ধেকে নামাতে হবে।
ফাঁদ হলো টার্গেট এক দশমিক এক। সেটি চরম দারিদ্র্য পুরোপুরি নির্মূলের কথা বলে, যা দৈনিক এক দশমিক দুই পাঁচ ডলারের নিচে আয় দিয়ে মাপা হতো; অর্ধেকে নামানোর কথা নয়। মূল সূত্র: নির্মূল হলে এক দশমিক এক, অর্ধেক হলে এক দশমিক দুই। প্রশ্নে ছাপা “লক্ষমাত্রায়” বানানটি ভুল; প্রমিত বানান লক্ষ্যমাত্রা।
মনে রাখুন: এক দশমিক একে শূন্য, এক দশমিক দুইয়ে অর্ধেক।
৪৬. বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোক্তা এর প্রস্তাবক হচ্ছে – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কচীন
- খজাপান
- গডেনমার্ক
- ঘসুইডেন
সঠিক উত্তর: ক. চীন
প্রশ্নটা চীনের বৈশ্বিক উদ্যোগগুলো পরীক্ষা করছে। বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ, ইংরেজিতে Global Development Initiative বা GDI, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ভাষণে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং প্রস্তাব করেন।
এর লক্ষ্য জাতিসংঘের ২০৩০ টেকসই উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন ত্বরান্বিত করা, বিশেষ করে দারিদ্র্য বিমোচন, খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য আর জলবায়ু খাতে।
চীনের আরও তিনটি বড় উদ্যোগ একসাথে মনে রাখুন: ২০১৩ সালের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ, ২০২২ সালের গ্লোবাল সিকিউরিটি ইনিশিয়েটিভ, আর ২০২৩ সালের গ্লোবাল সিভিলাইজেশন ইনিশিয়েটিভ। পরীক্ষায় এগুলো ঘুরেফিরে আসে।
ফাঁদ হলো জাপান, ডেনমার্ক বা সুইডেন, কারণ এরা বড় উন্নয়ন সহায়তাদাতা দেশ হিসেবে পরিচিত। কিন্তু এই নির্দিষ্ট নামের উদ্যোগটি চীনের।
মনে রাখুন: “Global ... Initiative” নামের নতুন উদ্যোগ দেখলে প্রথমে চীনের কথা ভাবুন: GDI, GSI, GCI।
৪৭. কপ ২৮ সম্মেলনটি কী সম্পর্কিত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কশরণার্থীর অধিকার
- খজ্বালানি নিরাপত্তা
- গসমুদ্র সীমানা
- ঘজলবায়ু পরিবর্তন
সঠিক উত্তর: ঘ. জলবায়ু পরিবর্তন
কপ মানে কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজ, অর্থাৎ জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক কাঠামো সনদের পক্ষভুক্ত দেশগুলোর বার্ষিক সম্মেলন। তাই কপ আটাশ জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত।
কপ আটাশ হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে, ২০২৩ সালের ৩০ নভেম্বর থেকে ১৩ ডিসেম্বর। এই সম্মেলনে প্রথমবারের মতো জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে সরে আসার আহ্বান চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসে, আর ক্ষয়ক্ষতি তহবিল চালুর সিদ্ধান্ত হয়।
ফাঁদ হলো জ্বালানি নিরাপত্তা। জীবাশ্ম জ্বালানি নিয়ে আলোচনা হয় ঠিকই, তবে সেটা জলবায়ু পরিবর্তন ঠেকানোর অংশ হিসেবে; সম্মেলনের মূল বিষয় জলবায়ু।
মনে রাখুন: কপ শুনলেই জলবায়ু সম্মেলন।
৪৮. বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২৩ অনুযায়ী কোন দেশটি সবচেয়ে বেশি সন্ত্রাসবাদের ঝুঁকির মধ্যে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআফগানিস্তান
- খমায়ানমার
- গপেরু
- ঘমালি
সঠিক উত্তর: ক. আফগানিস্তান
বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ সূচক প্রকাশ করে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস। ২০২৩ সালের সূচকে সন্ত্রাসবাদে সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত দেশ ছিল আফগানিস্তান।
সূচকে দেশগুলোকে সন্ত্রাসী হামলা, নিহত, আহত ও জিম্মির সংখ্যা মিলিয়ে নম্বর দেওয়া হয়; নম্বর যত বেশি, প্রভাব তত বেশি। ২০২৩ সালের তালিকায় আফগানিস্তানের পরে ছিল বুরকিনা ফাসো, সোমালিয়া ও মালি।
মালি শীর্ষ পাঁচে থাকায় এটি বড় ফাঁদ, কিন্তু প্রথম নয়, চতুর্থ।
মনে রাখুন: সন্ত্রাসবাদ সূচক ২০২৩: শীর্ষে আফগানিস্তান, দ্বিতীয় বুরকিনা ফাসো।
৪৯. বৈশিক শান্তিসূচক ২০২৩ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ হলো – (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআইসল্যান্ড
- খজাপান
- গসিংগাপুর
- ঘসুইজারল্যান্ড
সঠিক উত্তর: ক. আইসল্যান্ড
বৈশ্বিক শান্তি সূচক ২০২৩ অনুযায়ী বিশ্বের সবচেয়ে শান্তিপূর্ণ দেশ আইসল্যান্ড। সূচকটি প্রকাশ করে ইনস্টিটিউট ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড পিস। প্রশ্নে ছাপা “বৈশিক” আসলে বৈশ্বিক।
সূচকে সমাজের নিরাপত্তা, চলমান সংঘাত এবং সামরিকীকরণের মাত্রা বিবেচনা করা হয়। আইসল্যান্ড ২০০৮ সাল থেকে টানা শীর্ষে আছে; দেশটির কোনো স্থায়ী সেনাবাহিনী নেই এবং অপরাধের হার খুব কম।
অন্য তিনটি দেশও শীর্ষ দশে ছিল: সিঙ্গাপুর ষষ্ঠ, জাপান নবম, সুইজারল্যান্ড দশম। তাই এরা শান্তিপূর্ণ ঠিকই, কিন্তু প্রথম নয়।
মনে রাখুন: শান্তি সূচকে আইসল্যান্ড ২০০৮ সাল থেকে প্রতিবছর এক নম্বর।
৫০. 'বার বিধি' (The Twelve Tables) কী? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- করোমান আইনের ভিত্তি
- খস্থাপত্যের ১২টি নির্দেশনা
- গফুটবল খেলার নিয়মাবলি
- ঘস্থানীয়/দেশি খেলা
সঠিক উত্তর: ক. রোমান আইনের ভিত্তি
বারো বিধি বা টুয়েলভ টেবলস হলো প্রাচীন রোমের প্রথম লিখিত আইন সংকলন, যাকে রোমান আইনের ভিত্তি ধরা হয়।
খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতকের মাঝামাঝি দশজন বিশেষ কর্মকর্তার একটি পরিষদ এই আইনগুলো তৈরি করে, আর তা বারোটি ফলকে খোদাই করে সবার দেখার জন্য প্রকাশ্যে রাখা হয়। আগে আইন ছিল অলিখিত, আর তার ব্যাখ্যা করত অভিজাত শ্রেণি; লিখিত হওয়ায় সাধারণ নাগরিক বা প্লেবিয়ানরা নিজেদের অধিকার জানতে পারে।
এই আইন পরবর্তী প্রায় এক হাজার বছর রোমান আইনের ভিত্তি ছিল এবং পরের রোমান আইনসংকলনগুলোকেও প্রভাবিত করে।
বারো সংখ্যাটা দেখে স্থাপত্য বা খেলার নিয়ম ভাবলে ভুল হবে; টেবলস মানে এখানে আইনের ফলক।
মনে রাখুন: টুয়েলভ টেবলস মানে রোমের প্রথম লিখিত আইন।
৫১. সিয়াচেন হিমবার (Siachen Glaciar) কোন দুইটি দেশের মধ্যে অবস্থিত? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কভারত ও চীন
- খনেপাল ও চীন
- গপাকিস্তান ও চীন
- ঘভারত ও পাকিস্তান
সঠিক উত্তর: ঘ. ভারত ও পাকিস্তান
সিয়াচেন হিমবাহ কারাকোরাম পর্বতমালায়, কাশ্মীরের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে, ভারত ও পাকিস্তানের বিরোধপূর্ণ এলাকায় অবস্থিত।
১৯৮৪ সালে ভারত অপারেশন মেঘদূতের মাধ্যমে হিমবাহের বেশির ভাগ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নেয়, আর তখন থেকে দুই দেশের সেনারা সেখানে মুখোমুখি। অনেক উঁচুতে স্থায়ী সেনা মোতায়েন থাকায় একে বিশ্বের সর্বোচ্চ যুদ্ধক্ষেত্র বলা হয়; সেখানে শত্রুর গুলির চেয়ে প্রচণ্ড ঠান্ডা ও তুষারধসে বেশি সেনা মারা গেছেন।
ফাঁদ হলো ভারত ও চীন। এই দুই দেশের বড় বিরোধ লাদাখের আকসাই চীন ও অরুণাচল নিয়ে; সিয়াচেন ভারত-পাকিস্তানের বিরোধ। প্রশ্নে ছাপা “হিমবার” ও “Glaciar” বানান দুটি ভুল; শুদ্ধ রূপ হিমবাহ ও Glacier।
মনে রাখুন: সিয়াচেন মানে ভারত-পাকিস্তান; আকসাই চীন মানে ভারত-চীন।
৫২. টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (SDG) চতুর্থ লক্ষ্যমাত্রা কোনটি? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কজলবায়ু কার্যক্রম
- খমানসম্মত শিক্ষা
- গদারিদ্র বিমোচন
- ঘশান্তি, ন্যায়বিচার ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান
সঠিক উত্তর: খ. মানসম্মত শিক্ষা
টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় মোট ১৭টি অভীষ্ট, আর চতুর্থটি হলো মানসম্মত শিক্ষা। এর লক্ষ্য সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ও সমতাভিত্তিক মানসম্মত শিক্ষা এবং আজীবন শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা।
এই লক্ষ্যমাত্রা ২০১৫ সালে জাতিসংঘে গৃহীত হয় এবং ২০৩০ সালের মধ্যে অর্জনের কথা। প্রথম কয়েকটির ক্রম মনে রাখলে এমন প্রশ্ন সহজ: এক দারিদ্র্য বিমোচন, দুই ক্ষুধামুক্তি, তিন সুস্বাস্থ্য, চার মানসম্মত শিক্ষা, পাঁচ লিঙ্গসমতা।
বিকল্পের বাকি তিনটিও লক্ষ্যমাত্রার অংশ, শুধু নম্বর আলাদা: জলবায়ু কার্যক্রম তেরো, শান্তি ও ন্যায়বিচার ষোলো, দারিদ্র্য বিমোচন এক।
মনে রাখুন: এক দারিদ্র্য, দুই ক্ষুধা, তিন স্বাস্থ্য, চার শিক্ষা, পাঁচ লিঙ্গসমতা।
৫৩. আন্তর্জাতিক আদালতের (International Court of Justice) সভাপতির মেয়াদ কত বৎসর? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- ক২ বৎসর
- খ৩ বৎসর
- গ৬ বৎসর
- ঘ৯ বৎসর
সঠিক উত্তর: খ. ৩ বৎসর
আন্তর্জাতিক আদালতের সভাপতি ও সহসভাপতি তিন বছরের জন্য নির্বাচিত হন। আদালতের সংবিধির একুশ অনুচ্ছেদে এ কথা বলা আছে, এবং তাঁরা পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।
আদালতে মোট ১৫ জন বিচারক, একই দেশের দুজন থাকতে পারেন না। বিচারকরা নির্বাচিত হন নয় বছরের জন্য; সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ আলাদা ভোটে তাঁদের বেছে নেয়। এরপর বিচারকরা নিজেদের মধ্য থেকে সভাপতি নির্বাচন করেন।
ফাঁদ হলো নয় বছর, যা বিচারকের মেয়াদ, সভাপতির নয়। আদালতটি নেদারল্যান্ডসের হেগে অবস্থিত।
মনে রাখুন: বিচারক নয় বছর, সভাপতি তিন বছর।
৫৪. উত্তর আটলান্টিক চুক্তির কত নম্বর ধারায় যৌথ নিরাপত্তার ধারণাটি ব্যক্ত হয়েছে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কআর্টিকেল ২
- খআর্টিকেল ৩
- গআর্টিকেল ৪
- ঘআর্টিকেল ৫
সঠিক উত্তর: ঘ. আর্টিকেল ৫
উত্তর আটলান্টিক চুক্তির পাঁচ নম্বর অনুচ্ছেদে যৌথ নিরাপত্তার কথা আছে: ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকায় এক বা একাধিক সদস্যের ওপর সশস্ত্র আক্রমণকে সবার ওপর আক্রমণ ধরা হবে, এবং প্রত্যেকে প্রয়োজনে সামরিক শক্তি দিয়েও সাহায্য করবে।
চুক্তিটি ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে সই হয়, এর মাধ্যমেই ন্যাটো গঠিত। পাঁচ অনুচ্ছেদ এখন পর্যন্ত একবারই প্রয়োগ হয়েছে, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে হামলার পর।
অন্য অনুচ্ছেদগুলো আলাদা বিষয়ে। দুই অনুচ্ছেদ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, তিন অনুচ্ছেদ নিজের ও যৌথ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলা, চার অনুচ্ছেদ হুমকির সময় পরামর্শ।
ফাঁদ হলো চার অনুচ্ছেদ, কারণ সেটিও নিরাপত্তা হুমকির কথা বলে; তবে তাতে শুধু আলোচনার বাধ্যবাধকতা, যৌথ প্রতিরক্ষার নয়।
মনে রাখুন: ন্যাটোর পাঁচ মানে যৌথ প্রতিরক্ষা, চার মানে পরামর্শ।
৫৫. আন্তর্জাতিক সম্পর্কের কোন তত্ত্বটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যকরী ভূমিকার বিষয়ে ইতিবাচক ধারণা প্রদান করে? (৪৬তম বিসিএস, ২০২৪)
- কউদারবাদ
- খবাস্তববাদ
- গমার্ক্সবাদ
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. উদারবাদ
আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উদারবাদী তত্ত্ব মনে করে আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। তাই উত্তর উদারবাদ।
উদারবাদের যুক্তি হলো, প্রতিষ্ঠান তথ্য আদান-প্রদান সহজ করে, নিয়ম ঠিক করে দেয় এবং প্রতারণার ঝুঁকি কমায়, ফলে রাষ্ট্রগুলো পরস্পরের প্রতি আস্থা রাখতে পারে। রবার্ট কিওহেন ও জোসেফ নাইয়ের নব্য উদারবাদী প্রাতিষ্ঠানিকতাবাদ এই ধারার পরিচিত রূপ।
বাস্তববাদ উল্টো কথা বলে: আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নৈরাজ্যপূর্ণ, রাষ্ট্র নিজের ক্ষমতা ও স্বার্থ দেখে, আর প্রতিষ্ঠান বড় শক্তির হাতিয়ার মাত্র। মার্ক্সবাদ প্রতিষ্ঠানকে পুঁজিবাদী শ্রেণির স্বার্থরক্ষার উপায় হিসেবে দেখে।
জাতিসংঘ বা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মতো প্রতিষ্ঠান নিয়ে ইতিবাচক দৃষ্টি মানেই উদারবাদ।
মনে রাখুন: প্রতিষ্ঠানে আস্থা মানে উদারবাদ, ক্ষমতায় আস্থা মানে বাস্তববাদ।
৫৬. বাংলাদেশ সদস্য নয় : (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কILO
- খSAARC
- গNATO
- ঘBIMSTEC
সঠিক উত্তর: গ. NATO
প্রশ্নটি জানতে চেয়েছে কোন সংস্থায় বাংলাদেশ সদস্য নয়। উত্তর ন্যাটো, অর্থাৎ উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা।
ন্যাটো একটি সামরিক জোট, ১৯৪৯ সালে ওয়াশিংটনে চুক্তির মাধ্যমে গঠিত। এর সদস্য কেবল ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার দেশ, তাই দক্ষিণ এশিয়ার বাংলাদেশ এর সদস্য হতে পারে না।
বাকি তিনটিতে বাংলাদেশ সদস্য। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলও জাতিসংঘের বিশেষায়িত সংস্থা, বাংলাদেশ স্বাধীনতার পরপর ১৯৭২ সালে এতে যোগ দেয়। সার্ক ১৯৮৫ সালে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়, আর বিমসটেক ১৯৯৭ সালে ব্যাংককে; দুটিরই প্রতিষ্ঠাতা সদস্য বাংলাদেশ।
এ ধরনের প্রশ্নে আঞ্চলিক জোটের ভৌগোলিক সীমা মনে রাখলেই উত্তর মেলে।
মনে রাখুন: ন্যাটোর সদস্য হতে হলে ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার দেশ হতে হয়।
৫৭. ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল কখন প্রথম অনুষ্ঠিত হয়? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- ক১৯২৯
- খ১৯৩০
- গ১৯৩১
- ঘ১৯৩২
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৩০
প্রথম ফিফা বিশ্বকাপ হয় ১৯৩০ সালে, দক্ষিণ আমেরিকার উরুগুয়েতে। ফাইনালে স্বাগতিক উরুগুয়ে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে প্রথম চ্যাম্পিয়ন হয়।
উরুগুয়েকে আয়োজক বেছে নেওয়ার একটা কারণ ছিল, দেশটি ১৯২৪ ও ১৯২৮ সালের অলিম্পিক ফুটবলে স্বর্ণ জিতেছিল এবং ১৯৩০ সালে দেশটির প্রথম সংবিধানের শতবর্ষ ছিল।
তারপর থেকে বিশ্বকাপ সাধারণত চার বছর পরপর হয়; শুধু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে ১৯৪২ ও ১৯৪৬ সালে আসর বসেনি।
ফাঁদ হলো ১৯২৯, কারণ ওই বছর ফিফার সভায় উরুগুয়েকে আয়োজক ঠিক করা হয়, কিন্তু খেলা হয় পরের বছর।
মনে রাখুন: প্রথম বিশ্বকাপ ১৯৩০, আয়োজক ও চ্যাম্পিয়ন দুটোই উরুগুয়ে।
৫৮. কোন দেশে সমুদ্র বন্দর নাই? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কমালদ্বীপ
- খনেপাল
- গগ্রীস
- ঘভেনেজুয়েলা
সঠিক উত্তর: খ. নেপাল
প্রশ্নটি স্থলবেষ্টিত দেশ চেনার। নেপালের চারদিকে স্থল, একদিকে চীন আর তিন দিকে ভারত; সমুদ্রের সঙ্গে কোনো সীমা নেই, তাই নেপালের নিজস্ব সমুদ্রবন্দর নেই।
সমুদ্রপথে বাণিজ্যের জন্য নেপাল ভারতের বন্দর ব্যবহার করে, যেমন কলকাতা ও হলদিয়া।
বাকি তিনটি দেশ সমুদ্রতীরবর্তী। মালদ্বীপ ভারত মহাসাগরের দ্বীপরাষ্ট্র, রাজধানী মালেতেই প্রধান বন্দর। গ্রিসের পিরেউস ভূমধ্যসাগরের বড় বন্দর। ভেনেজুয়েলার উত্তরে ক্যারিবীয় সাগরের দীর্ঘ উপকূল।
দক্ষিণ এশিয়ায় স্থলবেষ্টিত দেশ দুটি: নেপাল ও ভুটান। আফগানিস্তানকে দক্ষিণ এশিয়ায় ধরলে সংখ্যা তিন।
মনে রাখুন: দক্ষিণ এশিয়ার স্থলবেষ্টিত দেশ: নেপাল ও ভুটান।
৫৯. কোথায় ঐতিহাসিক ট্রয় নগর অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কইটালি
- খগ্রীস
- গতুরস্ক
- ঘফ্রান্স
সঠিক উত্তর: গ. তুরস্ক
হোমারের মহাকাব্য ইলিয়াডের ট্রয় নগরীর ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে বর্তমান তুরস্কে, চানাক্কালে প্রদেশের হিসারলিক টিলায়।
উনিশ শতকে খননকাজ শুরু হয়; জার্মান প্রত্নতত্ত্ববিদ হাইনরিখ শ্লিম্যান ১৮৭০ সালের দিকে এখানে ব্যাপক খনন করেন। একের পর এক স্তরে বহু যুগের নগরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ১৯৯৮ সালে ইউনেস্কো একে বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় তোলে।
ফাঁদ হলো গ্রিস। ট্রয়ের যুদ্ধের কাহিনি গ্রিক মহাকাব্যে, আর আক্রমণকারী আগামেমননের নগরী মাইসিনি গ্রিসে। কিন্তু ট্রয় ছিল সাগরের ওপারে, আনাতোলিয়ায়, যা আজ তুরস্ক।
মনে রাখুন: গল্প গ্রিসের, শহর তুরস্কের।
৬০. কোথায় আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট অবস্থিত? (৪৫তম বিসিএস, ২০২৩)
- কটোকিও
- খম্যানিলা
- গভারত
- ঘনেপাল
সঠিক উত্তর: খ. ম্যানিলা
আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ইরি, ফিলিপাইনে অবস্থিত। এর সদর দপ্তর রাজধানী ম্যানিলার কাছে লাগুনা প্রদেশের লস বানিওস শহরে, তাই প্রচলিত উত্তর ম্যানিলা।
প্রতিষ্ঠানটি ১৯৬০ সালে ফোর্ড ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন ও ফিলিপাইন সরকারের সহায়তায় যাত্রা শুরু করে। এর উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল জাত আইআর আট এশিয়ার সবুজ বিপ্লবে বড় ভূমিকা রাখে।
বাংলাদেশে ধান গবেষণার জাতীয় প্রতিষ্ঠান হলো গাজীপুরের বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, যাকে ব্রি বলা হয়; আন্তর্জাতিক ইরির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলবেন না।
টোকিও ধান উৎপাদনের দেশ জাপানে বলে অনেকে ভুল করেন, কিন্তু ইরির ঠিকানা ফিলিপাইন।
মনে রাখুন: ধানের আন্তর্জাতিক গবেষণা: ফিলিপাইন; দেশের ধান গবেষণা: গাজীপুর।