আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি · পাতা ৫
৮১. বিগত কপ-২৬ কোন শহরে অনুষ্ঠিত হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজেনেভা
- খপ্যারিস
- গগ্লাসগো
- ঘব্রাসেলস
সঠিক উত্তর: গ. গ্লাসগো
প্রশ্নটা জাতিসংঘ জলবায়ু সম্মেলন কপ ছাব্বিশের স্থান জানতে চেয়েছে। উত্তর যুক্তরাজ্যের স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহর। কপ মানে জাতিসংঘ জলবায়ু সনদের পক্ষগুলোর সম্মেলন।
সম্মেলনটি ২০২০ সালে হওয়ার কথা থাকলেও কোভিড মহামারির কারণে এক বছর পিছিয়ে ২০২১ সালের অক্টোবর ও নভেম্বরে হয়। সম্মেলনের সিদ্ধান্তগুলো গ্লাসগো জলবায়ু চুক্তি নামে পরিচিত। পরীক্ষার সময় এটিই ছিল সর্বশেষ অনুষ্ঠিত কপ।
প্যারিস চুক্তি হয়েছিল ২০১৫ সালের কপ একুশে, প্যারিসে। তাই প্যারিসকে অনেকে সব জলবায়ু সম্মেলনের শহর ভেবে বেছে নেন, এটাই সবচেয়ে বড় ফাঁদ।
জেনেভা ও ব্রাসেলসও বিভ্রান্তি তৈরি করে, কারণ দুই শহরেই অনেক আন্তর্জাতিক সংস্থার দপ্তর। জলবায়ু সনদের সচিবালয় অবশ্য জার্মানির বনে।
মনে রাখুন: কপ একুশ প্যারিস, কপ ছাব্বিশ গ্লাসগো।
৮২. বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পাদিত গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তি কখন শেষ হবে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২০৪০
- খ২০২৬
- গ২০২৪
- ঘ২০৩০
সঠিক উত্তর: খ. ২০২৬
প্রশ্নটা বাংলাদেশ ও ভারতের গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ জানতে চেয়েছে। চুক্তিটি ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর নয়াদিল্লিতে সই হয় এবং এর মেয়াদ ৩০ বছর, তাই মেয়াদ শেষ হবে ২০২৬ সালে।
চুক্তিতে সই করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী এইচ ডি দেবগৌড়া। শুষ্ক মৌসুমে, অর্থাৎ ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মে পর্যন্ত, ফারাক্কা পয়েন্টে গঙ্গার পানি দশ দিন করে ভাগ হিসেবে দুই দেশের মধ্যে বণ্টন হয়।
হিসাবটা সহজ: ১৯৯৬ সালের সঙ্গে ৩০ যোগ করলে ২০২৬। চুক্তির পটভূমি ১৯৭৫ সালে চালু হওয়া ভারতের ফারাক্কা বাঁধ, যার কারণে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশে পানির প্রবাহ কমে যায়।
ফাঁদ হলো ২০৩০, কারণ সংখ্যাটি গোল এবং অনেক উন্নয়ন লক্ষ্যের শেষ সালও ২০৩০। কিন্তু চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর, সাল ২০৩০ নয়।
মনে রাখুন: সই করার সাল যোগ মেয়াদ: ১৯৯৬ যোগ ৩০ সমান ২০২৬।
৮৩. কোন দেশকে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজার্মানি
- খইতালি
- গপোল্যান্ড
- ঘইউক্রেন
সঠিক উত্তর: ঘ. ইউক্রেন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন দেশকে ইউরোপের রুটির ঝুড়ি বলা হয়। উত্তর ইউক্রেন।
ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ সমতলভূমিতে আছে কালো, জৈব পদার্থে সমৃদ্ধ উর্বর মাটি, যাকে চেরনোজেম বলে। এই মাটিতে গম, ভুট্টা, যব ও সূর্যমুখী প্রচুর জন্মে, আর ইউক্রেন বিশ্বের অন্যতম বড় শস্য ও সূর্যমুখী তেল রপ্তানিকারক।
রুটির প্রধান উপাদান গম, আর ইউরোপসহ নানা অঞ্চলে গমের বড় জোগান আসে ইউক্রেন থেকে; সেখান থেকেই এই নাম। ২০২২ সালে রুশ আক্রমণের পর কৃষ্ণসাগর দিয়ে শস্য রপ্তানি ব্যাহত হলে বিশ্ববাজারে খাদ্যের দাম বেড়ে যায়, যা দেশটির গুরুত্ব আরও স্পষ্ট করে।
জার্মানি, ইতালি বা পোল্যান্ডও কৃষিপণ্য উৎপাদন করে, কিন্তু রুটির ঝুড়ি উপাধিটি ঐতিহাসিকভাবে ইউক্রেনের। জার্মানি বরং শিল্পের জন্য বেশি পরিচিত।
মনে রাখুন: রুটির ঝুড়ি মানে গমের ভাণ্ডার; ইউরোপে সেটি ইউক্রেন।
৮৪. গণতন্ত্রের ধারণা উৎসারিত হয় প্রথম কোন দেশে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কযুক্তরাষ্ট্র
- খপ্রাচীন গ্রীস
- গপ্রাচীন রোম
- ঘপ্রাচীন ভারত
সঠিক উত্তর: খ. প্রাচীন গ্রীস
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে গণতন্ত্রের ধারণা প্রথম কোথায় জন্ম নেয়। উত্তর প্রাচীন গ্রিস, বিশেষ করে নগররাষ্ট্র এথেন্স।
খ্রিস্টপূর্ব ৫০৮ সালের দিকে এথেন্সে ক্লেইস্থেনিসের সংস্কারের মাধ্যমে নাগরিকদের সভায় সরাসরি ভোটে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যবস্থা চালু হয়, যাকে প্রথম গণতন্ত্র ধরা হয়। এটি ছিল প্রত্যক্ষ গণতন্ত্র; তবে নারী, দাস ও বিদেশিদের ভোটাধিকার ছিল না।
ইংরেজি শব্দ ডেমোক্রেসি এসেছে গ্রিক দুটি শব্দ থেকে: ডেমোস মানে জনগণ, ক্রাতোস মানে শাসন। অর্থাৎ জনগণের শাসন। শব্দের উৎসই বলে দেয় ধারণাটি কোথা থেকে এসেছে।
ফাঁদ হলো প্রাচীন রোম। প্রায় একই সময়ে রোমে প্রজাতন্ত্র গড়ে ওঠে, কিন্তু সেটি ছিল অভিজাতদের প্রাধান্যের প্রতিনিধিত্বমূলক ব্যবস্থা। আর যুক্তরাষ্ট্র আধুনিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতন্ত্রের উদাহরণ, ধারণার জন্মস্থান নয়।
মনে রাখুন: শব্দের উৎস যে ভাষায়, ধারণার জন্মও প্রায়ই সেখানে: ডেমোক্রেসি গ্রিক, তাই গ্রিস।
৮৫. কখন এবং কোথায় International Union for Conservation of Nature (IUCN) প্রতিষ্ঠিত হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১৯৪৮, ফ্রান্স
- খ১৯৪৯, সুইজারল্যান্ড
- গ১৯৬১, রোম
- ঘ১৯৫২, লন্ডন
সঠিক উত্তর: ক. ১৯৪৮, ফ্রান্স
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ বা আইইউসিএনের প্রতিষ্ঠার সাল ও স্থান জানতে চেয়েছে। সংস্থাটি ১৯৪৮ সালের ৫ অক্টোবর ফ্রান্সের ফঁতেনব্লো শহরে প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠার সময় এর নাম ছিল আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সুরক্ষা সংঘ; ১৯৫৬ সালে বর্তমান নাম গ্রহণ করে। এর সদস্য সরকারি ও বেসরকারি দুই ধরনের প্রতিষ্ঠানই, আর বর্তমান সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের গ্লঁ শহরে।
আইইউসিএনের সবচেয়ে বিখ্যাত কাজ লাল তালিকা বা রেড লিস্ট, যা ১৯৬৪ সাল থেকে বিশ্বের বিপন্ন প্রজাতির অবস্থা তুলে ধরে। কোনো প্রাণী বা উদ্ভিদ বিপন্ন, সংকটাপন্ন না বিলুপ্ত, তা এই তালিকা থেকেই জানা যায়।
ফাঁদ হলো সুইজারল্যান্ড। বর্তমান সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডে বলে অনেকে প্রতিষ্ঠার দেশও সেটিই ভাবেন। প্রশ্ন প্রতিষ্ঠার স্থান জানতে চেয়েছে: ফ্রান্স।
মনে রাখুন: প্রতিষ্ঠার স্থান আর বর্তমান সদর দপ্তর আলাদা প্রশ্ন; আইইউসিএন জন্মেছে ফ্রান্সে, থাকে সুইজারল্যান্ডে।
৮৬. কোন দুটি আরব রাষ্ট্র ক্যাম্প ডেভিড (Camp David) চুক্তি স্বাক্ষরের ফলশ্রুতিতে ইসরাইলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কজর্ডান ও মিশর
- খকুয়েত ও বাহরাইন
- গলিবিয়া ও ওমান
- ঘতিউনিশিয়া ও আলজেরিয়া
সঠিক উত্তর: ক. জর্ডান ও মিশর
প্রশ্নটা ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির পরবর্তী আরব-ইসরায়েল সম্পর্ক নিয়ে। ১৯৭৮ সালের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্প ডেভিডে প্রেসিডেন্ট জিমি কার্টারের মধ্যস্থতায় মিসরের প্রেসিডেন্ট আনোয়ার সাদাত ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী মেনাখেম বেগিন এই চুক্তি সই করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ১৯৭৯ সালের মার্চে মিসর-ইসরায়েল শান্তিচুক্তি হয় এবং মিসর প্রথম আরব দেশ হিসেবে ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে। ক্যাম্প ডেভিড চুক্তির জন্য সাদাত ও বেগিন ১৯৭৮ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার পান।
দ্বিতীয় আরব দেশ হিসেবে জর্ডান ১৯৯৪ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের সঙ্গে শান্তিচুক্তি করে। এটি সরাসরি ক্যাম্প ডেভিডের ফল নয়, তবে ক্যাম্প ডেভিড যে শান্তি প্রক্রিয়ার সূচনা করে, তারই ধারাবাহিকতা; আর বিকল্পের জোড়াগুলোর মধ্যে কেবল এই জোড়ার দুটি দেশই ইসরায়েলের সঙ্গে পূর্ণ সম্পর্ক স্থাপন করেছে।
ফাঁদ হলো বাহরাইন। ২০২০ সালের আব্রাহাম চুক্তির মাধ্যমে বাহরাইন ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করে, ক্যাম্প ডেভিডের চার দশক পরে; আর কুয়েতের সঙ্গে ইসরায়েলের কোনো কূটনৈতিক সম্পর্কই নেই।
মনে রাখুন: ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দুই আরব দেশ মিসর ও জর্ডান; আব্রাহাম চুক্তির দেশগুলো অনেক পরের।
৮৭. জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের অস্থায়ী সদস্য পদ কত সময়ের জন্য? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১ বছর
- খ২ বছর
- গ৪ বছর
- ঘ৫ বছর
সঠিক উত্তর: খ. ২ বছর
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য মোট ১৫টি দেশ। এর মধ্যে ৫টি স্থায়ী সদস্য, যাদের ভেটো ক্ষমতা আছে: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন। বাকি ১০টি অস্থায়ী সদস্য।
জাতিসংঘ সনদের ২৩ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অস্থায়ী সদস্যরা সাধারণ পরিষদের ভোটে ২ বছরের জন্য নির্বাচিত হয়। মেয়াদ শেষ হলে পরপরই আবার নির্বাচিত হওয়া যায় না।
প্রতি বছর ১০টির অর্ধেক, মানে ৫টি আসনে নির্বাচন হয়, যাতে পরিষদে সবসময় কিছু অভিজ্ঞ সদস্য থাকে। বাংলাদেশ দুবার অস্থায়ী সদস্য ছিল: ১৯৭৯ থেকে ৮০, আর ২০০০ থেকে ০১।
প্রতি বছর নির্বাচন হয় বলে অনেকে মেয়াদ ১ বছর ভেবে ভুল করেন; আসলে প্রতি বছর অর্ধেক আসন বদলায়, প্রত্যেকের মেয়াদ ২ বছর।
মনে রাখুন: সংখ্যা মনে রাখুন ৫-১০-২: ৫ স্থায়ী, ১০ অস্থায়ী, মেয়াদ ২ বছর।
৮৮. আন্তর্জাতিক আদালতের একজন বিচারক কয় বছরের জন্য নির্বাচিত হন? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কতিন বছর
- খসাত বছর
- গচার বছর
- ঘনয় বছর
সঠিক উত্তর: ঘ. নয় বছর
প্রশ্নটা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের বিচারকদের মেয়াদ জানতে চেয়েছে। প্রতিটি বিচারক ৯ বছরের জন্য নির্বাচিত হন এবং পুনর্নির্বাচিত হতে পারেন।
আদালতে মোট ১৫ জন বিচারক থাকেন। তাঁদের নির্বাচন করে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ ও নিরাপত্তা পরিষদ আলাদাভাবে ভোট দিয়ে; দুই জায়গাতেই নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাগে। একই দেশের দুজন বিচারক একসঙ্গে থাকতে পারেন না।
সবাই একসঙ্গে বদলান না। প্রতি ৩ বছর পরপর মোট বিচারকের এক-তৃতীয়াংশ, মানে ৫ জন, নির্বাচিত হন। ফলে প্রতিটি দলের মেয়াদ তিন দফা তিন বছর, অর্থাৎ ৯ বছর। আদালতটি নেদারল্যান্ডসের হেগে পিস প্যালেসে অবস্থিত।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ তিন বছর, কারণ প্রতি তিন বছরে নির্বাচন হয়। কিন্তু তিন বছর হলো নির্বাচনের বিরতি, একজন বিচারকের মেয়াদ নয়।
মনে রাখুন: নির্বাচনের বিরতি ৩ বছর, মেয়াদ তার তিনগুণ: ৯ বছর।
৮৯. ইসলাম ও সুফিমতের প্রভাবে ভারতবর্ষে ঘটেছিল- (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কবর্ণবাদের পুনরুত্থান
- খরাষ্ট্রবিপ্লব
- গচিন্তাবিপ্লব
- ঘঅভিবাসন বিপ্লব
সঠিক উত্তর: গ. চিন্তাবিপ্লব
প্রশ্নটা ভারতবর্ষের সমাজ ও চিন্তায় ইসলাম এবং সুফিবাদের প্রভাব নিয়ে। প্রচলিত উত্তর চিন্তাবিপ্লব, মানে মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক চিন্তায় বড় ধরনের পরিবর্তন।
ইসলাম এক আল্লাহর ধারণা আর মানুষে মানুষে সাম্যের কথা নিয়ে আসে। সুফি সাধকেরা কঠোর আচার-অনুষ্ঠানের চেয়ে স্রষ্টার প্রতি প্রেম, মানবসেবা আর সহনশীলতার ওপর জোর দেন, এবং তাঁদের দরগায় ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে মানুষ যেত। আজমিরের খাজা মইনুদ্দিন চিশতি বা সিলেটের হজরত শাহজালাল এই ধারার পরিচিত নাম।
অনেক ইতিহাসবিদের মতে, এই সাম্য ও প্রেমের শিক্ষা মধ্যযুগের ভক্তি আন্দোলনকেও প্রভাবিত করে; কবির ও গুরু নানকের মতো সাধকেরা জাতিভেদ ও আচারসর্বস্বতার বিরুদ্ধে কথা বলেন। এভাবে সমাজের চিন্তায় যে পরিবর্তন আসে, তাকেই চিন্তাবিপ্লব বলা হয়েছে।
ফাঁদ হলো রাষ্ট্রবিপ্লব। ভারতে মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল সামরিক অভিযান ও রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায়, সুফিবাদের প্রভাব ছিল মূলত চিন্তা ও সমাজের ক্ষেত্রে, রাষ্ট্রক্ষমতা দখলে নয়।
মনে রাখুন: সুফিবাদ ও ভক্তি আন্দোলনের প্রশ্নে পরিবর্তনটা চিন্তা ও সমাজে, রাষ্ট্রে নয়।
৯০. ২০২২ সালে কোন দেশ জাতিসংঘের শান্তিস্থাপন কমিশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কযুক্তরাষ্ট্র
- খসুইজারল্যান্ড
- গবাংলাদেশ
- ঘভারত
সঠিক উত্তর: গ. বাংলাদেশ
প্রশ্নটি জাতিসংঘ শান্তিবিনির্মাণ কমিশনের নেতৃত্ব নিয়ে। ২০২২ সালের ১ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমা সর্বসম্মতিক্রমে এই কমিশনের ২০২২ সালের সভাপতি নির্বাচিত হন, তাই উত্তর বাংলাদেশ।
শান্তিবিনির্মাণ কমিশন জাতিসংঘের একটি উপদেষ্টা সংস্থা। যুদ্ধ বা সংঘাত থামার পর কোনো দেশ যেন আবার সংঘাতে ফিরে না যায়, সেজন্য পুনর্গঠন ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা নিয়ে এটি কাজ করে। এর সভাপতি এক বছরের জন্য নির্বাচিত হন।
বাংলাদেশ এর আগেও এই দায়িত্ব পেয়েছিল। ২০১২ সালে তৎকালীন স্থায়ী প্রতিনিধি আব্দুল মোমেন কমিশনের সভাপতি হন। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ শীর্ষ সেনা প্রেরণকারী দেশগুলোর একটি, তাই শান্তি প্রতিষ্ঠার কাজে দেশটির অভিজ্ঞতা দীর্ঘ।
যুক্তরাষ্ট্র বা ভারতকে বড় শক্তি বলে অনেকে বেছে নেন, কিন্তু ২০২২ সালে সভাপতির পদ তাদের কাছে ছিল না।
মনে রাখুন: শান্তিবিনির্মাণ কমিশনে বাংলাদেশ দুবার সভাপতি: ২০১২ ও ২০২২।
৯১. স্টিভ চেন ও চাড হারলির সাথে যৌথভাবে কোন বাংলাদেশী ইউটিউব (YouTube) প্রতিষ্ঠা করেন? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কজাবেদ করিম
- খফজলুল করিম
- গজাওয়াদুল করিম
- ঘমঞ্জুরুল করিম
সঠিক উত্তর: ক. জাবেদ করিম
প্রশ্নটা ইউটিউবের তিন প্রতিষ্ঠাতার একজনকে চিনতে বলছে। ইউটিউব প্রতিষ্ঠা করেন তিনজন: চ্যাড হার্লি, স্টিভ চেন এবং জাভেদ করিম। তিনজনই আগে অনলাইন লেনদেন প্রতিষ্ঠান পেপ্যালে কাজ করতেন।
জাভেদ করিমের জন্ম তৎকালীন পূর্ব জার্মানিতে। জন্ম ১৯৭৯ সালের ২৮ অক্টোবর। তাঁর বাবা বাংলাদেশি, মা জার্মান; এই কারণেই তাঁকে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত বলা হয়। প্রশ্নে নামটি জাবেদ বানানে লেখা, বাংলায় সাধারণত লেখা হয় জাভেদ।
ইউটিউব প্রতিষ্ঠিত হয় ২০০৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে। ওই বছরের ২৩ এপ্রিল জাভেদ করিম নিজেই ইউটিউবের প্রথম ভিডিও আপলোড করেন, চিড়িয়াখানায় হাতির সামনে দাঁড়িয়ে তোলা মি অ্যাট দ্য জু। ২০০৬ সালে গুগল ইউটিউব কিনে নেয়।
বাকি তিনটি নাম শুধু করিম পদবি মিলিয়ে বসানো। বিশেষ করে জাওয়াদুল করিম শুনতে জাভেদের কাছাকাছি, তাই তাড়াহুড়োয় এটিতে ভুল হতে পারে।
মনে রাখুন: ইউটিউবের প্রথম ভিডিওর মানুষটিই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত সহপ্রতিষ্ঠাতা জাভেদ করিম।
৯২. ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল কোন দেশ ভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংস্থা? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসুইডেন
- খমার্কিন যুক্তরাষ্ট্র
- গযুক্তরাজ্য
- ঘজার্মানি
সঠিক উত্তর: ঘ. জার্মানি
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের ঘাঁটি কোন দেশে। সংস্থাটি দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করা একটি বেসরকারি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান, যার সদর দপ্তর জার্মানির রাজধানী বার্লিনে।
সংস্থাটি ১৯৯৩ সালে বার্লিনে প্রতিষ্ঠিত হয়, প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন বিশ্বব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা জার্মান নাগরিক পিটার আইগেন। তাই জন্ম ও সদর দপ্তর দুটোই জার্মানিতে।
সংস্থাটি প্রতি বছর দুর্নীতির ধারণা সূচক প্রকাশ করে, যেখানে সরকারি খাতের দুর্নীতি সম্পর্কে বিশেষজ্ঞ ও ব্যবসায়ীদের ধারণার ভিত্তিতে দেশগুলোকে সাজানো হয়। বাংলাদেশে এর জাতীয় শাখা টিআইবি নামে পরিচিত।
ইংরেজি নাম দেখে অনেকে যুক্তরাজ্য বা যুক্তরাষ্ট্র ধরে নেন, বিশেষ করে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের সদর দপ্তর লন্ডনে বলে। কিন্তু ট্রান্সপারেন্সির ঠিকানা বার্লিন।
মনে রাখুন: দুর্নীতির সূচক মানেই বার্লিন: ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল।
৯৩. সামরিক ভাষায় ‘WMD’ অর্থ কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কWeapons of Mass Destruction
- খWorldwide Mass Destruction
- গWeapons of Missile Defence
- ঘWeapons for Massive Destruction
সঠিক উত্তর: ক. Weapons of Mass Destruction
প্রশ্নটা একটি বহুল ব্যবহৃত সামরিক সংক্ষিপ্ত রূপের পূর্ণরূপ জানতে চেয়েছে। ডব্লিউএমডি মানে ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন, বাংলায় গণবিধ্বংসী অস্ত্র।
গণবিধ্বংসী অস্ত্র বলতে এমন অস্ত্র বোঝায় যা একবারে বিপুলসংখ্যক মানুষ মারতে বা বিশাল এলাকা ধ্বংস করতে পারে। প্রধান তিন ধরন হলো পারমাণবিক, রাসায়নিক ও জৈব অস্ত্র; অনেক সময় তেজস্ক্রিয় অস্ত্রকেও এর মধ্যে ধরা হয়।
পূর্ণরূপ মনে রাখার উপায় হলো প্রতিটি অক্ষর মেলানো: ডব্লিউ মানে ওয়েপনস, এম মানে মাস, ডি মানে ডেস্ট্রাকশন। মাঝে সংযোগ শব্দটি অব, ফর নয়।
সবচেয়ে কাছের ফাঁদ হলো ওয়েপনস ফর ম্যাসিভ ডেস্ট্রাকশন। শুনতে প্রায় একই হলেও প্রচলিত ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত রূপটি হলো ওয়েপনস অব মাস ডেস্ট্রাকশন।
মনে রাখুন: স্বীকৃত রূপটিতে সংযোগ শব্দ of এবং বিশেষণ Mass; for বা Massive থাকলে বাদ।
৯৪. ২০২০ সালে প্রকাশিত “আইনের শাসন” সূচকে শীর্ষস্থান অর্জনকারী দেশের নাম কী? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কডেনমার্ক
- খনরওয়ে
- গজার্মানি
- ঘসিঙ্গাপুর
সঠিক উত্তর: ক. ডেনমার্ক
প্রশ্নটা ওয়ার্ল্ড জাস্টিস প্রজেক্টের আইনের শাসন সূচকের কথা বলছে। এটি একটি স্বাধীন সংস্থার বার্ষিক সূচক, যা প্রতিটি দেশে আইনের শাসন কতটা কার্যকর তা মাপে।
সূচকটি আটটি দিক দেখে: সরকারের ক্ষমতার ওপর নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতির অনুপস্থিতি, উন্মুক্ত সরকার, মৌলিক অধিকার, শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা, বিধি প্রয়োগ, দেওয়ানি বিচার এবং ফৌজদারি বিচার।
২০২০ সালের সূচকে মোট ১২৮টি দেশ ছিল। শীর্ষে ছিল ডেনমার্ক, এরপর নরওয়ে ও ফিনল্যান্ড। অর্থাৎ শীর্ষ তিনটি স্থানই নর্ডিক দেশগুলোর দখলে।
ফাঁদ হলো নরওয়ে, কারণ দেশটি তালিকার একেবারে ওপরের দিকে, দ্বিতীয় স্থানে। জার্মানি ও সিঙ্গাপুরও ভালো অবস্থানে থাকলেও শীর্ষ তিনে ছিল না।
মনে রাখুন: আইনের শাসন বা দুর্নীতিমুক্ততার সূচকে নর্ডিক দেশ, বিশেষ করে ডেনমার্ক, প্রায়ই শীর্ষে থাকে।
৯৫. জাতিসংঘের কোন সংস্থা বার্ষিক বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন প্রকাশ করে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কWTO
- খMIGA
- গWorld Bank
- ঘUNCTAD
সঠিক উত্তর: ঘ. UNCTAD
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন কোন সংস্থা প্রকাশ করে। উত্তর আঙ্কটাড, মানে জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন, যার সদর দপ্তর জেনেভায়।
আঙ্কটাড ১৯৬৪ সালে গঠিত হয় উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে সহায়তা দিতে। বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদনে সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ, কোন দেশে কত বিনিয়োগ এল আর গেল, তার হিসাব থাকে।
মনে রাখার কৌশল হলো প্রতিবেদনের নাম আর সংস্থাকে জোড়ায় শেখা। বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন বিশ্বব্যাংকের, বিশ্ব বাণিজ্য প্রতিবেদন ডব্লিউটিওর, বিশ্ব অর্থনৈতিক পূর্বাভাস আইএমএফের, আর বিশ্ব বিনিয়োগ প্রতিবেদন আঙ্কটাডের।
সাধারণ ফাঁদ হলো বিশ্বব্যাংক, কারণ এর নামের প্রতিবেদন বিশ্ব উন্নয়ন প্রতিবেদন শুনতে একই রকম। আরেক ফাঁদ বিনিয়োগ শব্দ দেখে বিনিয়োগ নিশ্চয়তা সংস্থা মিগাকে বেছে নেওয়া।
মনে রাখুন: প্রতিবেদনের নামের মাঝের শব্দটি ধরুন: Investment আঙ্কটাড, Development বিশ্বব্যাংক, Trade ডব্লিউটিও।
৯৬. আন্তর্জাতিক আদালতে মিয়ানমার কর্তৃক রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগে মামলা করে কোন দেশ? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কনাইজেরিয়া
- খগাম্বিয়া
- গবাংলাদেশ
- ঘআলজেরিয়া
সঠিক উত্তর: খ. গাম্বিয়া
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলার বাদী কে। উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে সামরিক অভিযানের পর লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর প্রেক্ষিতে ২০১৯ সালের ১১ নভেম্বর গাম্বিয়া ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা ওআইসির সমর্থন নিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে মামলা করে।
মামলার ভিত্তি ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদ। এই সনদের সদস্য যেকোনো দেশ অন্য সদস্য দেশের বিরুদ্ধে সনদ ভঙ্গের অভিযোগ আনতে পারে, তাই সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত না হয়েও গাম্বিয়া বাদী হতে পেরেছে। আদালত নেদারল্যান্ডসের হেগে।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ বাংলাদেশ। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে বলে অনেকে ধরে নেন মামলাটিও বাংলাদেশ করেছে, কিন্তু বাদী গাম্বিয়া।
মনে রাখুন: আশ্রয়দাতা বাংলাদেশ, কিন্তু বাদী গাম্বিয়া: এই পার্থক্যটাই প্রশ্নের প্রাণ।
৯৭. কোন বিদেশি রাষ্ট্র বাংলাকে অন্যতম রাষ্ট্রভাষার মর্যাদা দিয়েছে? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করুয়ান্ডা
- খসিয়েরা লিয়ন
- গসুদান
- ঘলাইবেরিয়া
সঠিক উত্তর: খ. সিয়েরা লিয়ন
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন বিদেশি দেশ বাংলাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে। প্রচলিত উত্তর পশ্চিম আফ্রিকার সিয়েরা লিওন।
সিয়েরা লিওনে ১৯৯১ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত গৃহযুদ্ধ চলে। সেখানে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশি সেনাদের বড় অবদান ছিল; সেই কৃতজ্ঞতায় ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট আহমদ তেজান কাব্বা বাংলাকে সম্মানসূচক দাপ্তরিক ভাষার মর্যাদা দেন বলে বাংলাদেশের গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচলিত।
তবে জেনে রাখা দরকার, সিয়েরা লিওনের একমাত্র দাপ্তরিক ভাষা ইংরেজি, আর বাংলা সেখানে ব্যবহৃত হয় না। একাধিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান এমন কোনো ঘোষণার নথি বা প্রমাণ খুঁজে পায়নি। তাই এটিকে পরীক্ষার প্রচলিত উত্তর হিসেবে মনে রাখুন, প্রতিষ্ঠিত সরকারি তথ্য হিসেবে নয়।
বিকল্পের বাকি তিনটি দেশও আফ্রিকার, তাই মহাদেশ দেখে বাছাই করা যাবে না। মূল সূত্র হলো শান্তিরক্ষী আর গৃহযুদ্ধ: সিয়েরা লিওন।
মনে রাখুন: আফ্রিকার কোনো দেশে বাংলা ভাষার মর্যাদার প্রশ্ন এলে উত্তর সিয়েরা লিওন, শান্তিরক্ষীদের কারণে।
৯৮. জাতিসংঘ নামকরণ করেন- (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- করুজভেল্ট
- খস্টালিন
- গচার্চিল
- ঘদ্যা গল
সঠিক উত্তর: ক. রুজভেল্ট
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে জাতিসংঘ নামটি কে দেন। নামটি প্রস্তাব করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি রুজভেল্ট।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ১৯৪২ সালের ১ জানুয়ারি অক্ষশক্তির বিরুদ্ধে লড়াইরত ২৬টি দেশ জাতিসংঘ ঘোষণাপত্রে সই করে। এই ঘোষণাপত্রেই রুজভেল্টের প্রস্তাবিত ইউনাইটেড নেশনস নামটি প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যবহৃত হয়।
পরে ১৯৪৫ সালের ২৬ জুন সানফ্রান্সিসকোতে জাতিসংঘ সনদ সই হয় এবং ২৪ অক্টোবর ১৯৪৫ সনদ কার্যকর হয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এ কারণেই ২৪ অক্টোবর জাতিসংঘ দিবস।
ফাঁদ হলো চার্চিল। তিনি ১৯৪১ সালে রুজভেল্টের সঙ্গে যৌথভাবে আটলান্টিক সনদ ঘোষণা করেছিলেন এবং নামটিতে সম্মতি দেন, কিন্তু নামটির প্রস্তাবক রুজভেল্ট।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের নাম, আটলান্টিক সনদ, দুটোতেই রুজভেল্ট; নামের প্রস্তাবক একা তিনিই।
৯৯. কোন মুসলিম দেশ সামরিক জোট ন্যাটোর সদস্য? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- কসৌদি আরব
- খমালয়েশিয়া
- গপাকিস্তান
- ঘতুরস্ক
সঠিক উত্তর: ঘ. তুরস্ক
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে মুসলিমপ্রধান কোন দেশ উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সংস্থা ন্যাটোর সদস্য। বিকল্পগুলোর মধ্যে উত্তর তুরস্ক।
তুরস্ক ১৯৫২ সালে গ্রিসের সঙ্গে একই সময়ে ন্যাটোতে যোগ দেয়। স্নায়ুযুদ্ধের সময় সোভিয়েত ইউনিয়নের দক্ষিণ সীমান্তের কাছে অবস্থান আর কৃষ্ণসাগরের প্রণালী নিয়ন্ত্রণের জন্য দেশটি জোটের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
জানা থাকা ভালো, তুরস্ক একমাত্র মুসলিমপ্রধান সদস্য নয়; ২০০৯ সাল থেকে আলবেনিয়াও ন্যাটোর সদস্য। তবে আলবেনিয়া বিকল্পে নেই, তাই এখানে উত্তর তুরস্ক।
ফাঁদ হলো পাকিস্তান। যুক্তরাষ্ট্র ২০০৪ সালে পাকিস্তানকে ন্যাটো বহির্ভূত প্রধান মিত্র ঘোষণা করে, কিন্তু এর মানে ন্যাটোর সদস্যপদ নয়।
মনে রাখুন: ন্যাটো উত্তর আটলান্টিকের জোট; বিকল্পে ইউরোপের অংশ আছে এমন মুসলিম দেশ খুঁজুন: তুরস্ক।
১০০. নর্থ আটলান্টিক ট্রিটি অর্গানাইজেশন কোন বছর প্রতিষ্ঠিত হয়? (৪১তম বিসিএস, ২০২১)
- ক১৯৪৫ সালে
- খ১৯৪৯ সালে
- গ১৯৪৮ সালে
- ঘ১৯৫১ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯৪৯ সালে
প্রশ্নটা ন্যাটোর প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চেয়েছে। ১৯৪৯ সালের ৪ এপ্রিল ওয়াশিংটনে উত্তর আটলান্টিক চুক্তি সই হয়, এর মাধ্যমেই ন্যাটো গঠিত হয়।
প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিল ১২টি দেশ, যার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও কানাডা অন্যতম। জোটের মূল নীতি চুক্তির পঞ্চম অনুচ্ছেদে: একটি সদস্যের ওপর আক্রমণ মানে সবার ওপর আক্রমণ। সদর দপ্তর বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে।
কাছাকাছি সালগুলো আলাদা করে মনে রাখলে ভুল হয় না। ১৯৪৫ সালে জাতিসংঘ, ১৯৪৮ সালে পশ্চিম ইউরোপের পাঁচ দেশের ব্রাসেলস চুক্তি, ১৯৪৯ সালে ন্যাটো, আর ১৯৫১ সালে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নিরাপত্তা চুক্তি আনজুস।
সবচেয়ে বড় ফাঁদ ১৯৪৮। ব্রাসেলস চুক্তিকে ন্যাটোর পূর্বসূরি বলা যায়, কিন্তু ন্যাটো নিজে গঠিত হয় পরের বছর।
মনে রাখুন: জাতিসংঘের চার বছর পর ন্যাটো: পঁয়তাল্লিশ যোগ চার, ঊনপঞ্চাশ।