বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩৩
৬৪১. যে যে পদে সমাস হয় তাদের প্রত্যেকটিকে কি পদ বলে? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কসমস্ত পদ
- খপূর্ব পদ
- গউত্তর পদ
- ঘসমস্যমান পদ
সঠিক উত্তর: ঘ. সমস্যমান পদ
সমাসের প্রতিটি অংশের আলাদা নাম আছে, আর প্রশ্নটা সেই পরিভাষা যাচাই করছে। যে যে পদ মিলে সমাস হয়, তাদের প্রত্যেকটিকে বলে সমস্যমান পদ।
উদাহরণ দেখি: সিংহ চিহ্নিত আসন মিলে সিংহাসন। এখানে সিংহ আর আসন দুটোই সমস্যমান পদ। প্রথমটি, সিংহ, হলো পূর্বপদ; পরেরটি, আসন, হলো উত্তরপদ বা পরপদ।
সমাস হওয়ার পর যে একটি নতুন শব্দ তৈরি হয়, যেমন সিংহাসন, তাকে বলে সমস্ত পদ বা সমাসবদ্ধ পদ। আর সমস্ত পদকে ভেঙে যে বাক্যাংশ পাওয়া যায়, তাকে বলে ব্যাসবাক্য বা বিগ্রহবাক্য।
সমস্ত পদ আর সমস্যমান পদ শুনতে কাছাকাছি বলে সহজেই গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন, সমস্ত মানে পুরোটা, তাই সমস্ত পদ হলো চূড়ান্ত একটি শব্দ।
মনে রাখুন: অংশ হলে সমস্যমান, পুরোটা হলে সমস্ত, ভেঙে লিখলে ব্যাসবাক্য।
৬৪২. 'কোথায় থাকা হয়' এটি কোন বাচ্যের উদাহরণ? (সোনালী ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ, মুক্তিযোদ্ধা কোটা) (২০১৯)
- কভাববাচ্য
- খকর্মবাচ্য
- গকর্তৃবাচ্য
- ঘকোনোটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. ভাববাচ্য
বাচ্য মানে বাক্যে কর্তা, কর্ম না ক্রিয়ার ভাব, কোনটি প্রধান। যে বাক্যে কর্তা বা কর্ম নয়, ক্রিয়ার ভাবটাই প্রধান হয়ে ওঠে, তাকে বলে ভাববাচ্য।
কোথায় থাকা হয় বাক্যে কে থাকে, তা বলা নেই; কর্তা উহ্য। প্রধান হয়ে আছে থাকার কাজটি। ভাববাচ্যের পরিচিত গঠন হলো ক্রিয়ার ক্রিয়াবিশেষ্য রূপ, যেমন থাকা, খাওয়া, যাওয়া, তার সাথে হয়, হলো, হবে। যেমন আমার খাওয়া হলো, এবার যাওয়া যাক।
কর্মবাচ্যে কর্মই প্রধান থাকে, যেমন চিঠিটি লেখা হয়েছে; এখানে চিঠি কর্ম। কোথায় থাকা হয় বাক্যে কোনো কর্ম নেই, তাই এটি কর্মবাচ্য নয়।
হয় দেখে অনেকে কর্মবাচ্য ভেবে ফেলেন। পরীক্ষা করার উপায়: বাক্যে কর্ম আছে কি না দেখুন। কর্ম না থাকলে, শুধু ক্রিয়ার ভাব থাকলে, সেটি ভাববাচ্য।
মনে রাখুন: ক্রিয়াবিশেষ্য (থাকা, খাওয়া, যাওয়া) + হয়/হলো/হবে, আর কোনো কর্ম নেই: ভাববাচ্য।