বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
১. কোনটি অপিনিহিতর উদাহরণ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কইস্কুল
- খধপাধপ
- গগেলাস
- ঘআইজ
সঠিক উত্তর: ঘ. আইজ
অপিনিহিতি হলো এমন ধ্বনি-পরিবর্তন, যেখানে শব্দের পরের দিকের ই বা উ আগেভাগেই উচ্চারিত হয়ে যায়। ফলে ই বা উ ধ্বনিটি নিজের জায়গার আগে, পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের আগে বসে পড়ে।
আজি শব্দে জ-এর পরে ই আছে। আঞ্চলিক উচ্চারণে সেই ই আগে চলে আসে, ফলে আজি হয়ে যায় আইজ। একইভাবে সাধু থেকে সাউধ, রাখিয়া থেকে রাইখ্যা, চারি থেকে চাইর।
অপিনিহিতি মূলত পূর্ববঙ্গের আঞ্চলিক ভাষার বৈশিষ্ট্য। আর এর পরের ধাপ হলো অভিশ্রুতি, যেখানে সরে আসা ধ্বনি পাশের স্বরকে বদলে দিয়ে চলিত রূপ দেয়, যেমন রাইখ্যা থেকে রেখে।
বাকি বিকল্পগুলো অন্য নিয়মের: ইস্কুল আদি স্বরাগম, গেলাস মধ্য স্বরাগম বা বিপ্রকর্ষ। এগুলোতে নতুন স্বর যোগ হয়েছে, পরের স্বর আগে সরে আসেনি।
মনে রাখুন: শব্দে ই বা উ পিছন থেকে সামনে চলে এলে অপিনিহিতি; নতুন স্বর যোগ হলে স্বরাগম। আইজ, সাউধ, চাইর, কাইল সব অপিনিহিতি।
২. 'মৃগশিশু' শব্দটির ব্যাসবাক্য কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কমৃগের শিশু
- খশিশুরূপ মৃগ
- গমৃগীর শিশু
- ঘমৃগ যে শিশু
সঠিক উত্তর: গ. মৃগীর শিশু
মৃগশিশু মানে হরিণের বাচ্চা। এখানে পূর্বপদ আর পরপদের সম্পর্ক সম্বন্ধের, অর্থাৎ কার শিশু। এমন সমাসে পূর্বপদের র বা এর বিভক্তি লোপ পায়, তাই এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
প্রশ্নটা সূক্ষ্ম জায়গায় হাত দিয়েছে: শিশুর সম্পর্ক তার মায়ের সঙ্গে। তাই প্রচলিত ব্যাকরণ ও পরীক্ষার উত্তরে ব্যাসবাক্য ধরা হয় মৃগীর শিশু, অর্থাৎ হরিণীর শিশু। সমস্তপদে স্ত্রীবাচক মৃগী সংক্ষিপ্ত হয়ে মৃগ রূপে বসে।
একই রকম ষষ্ঠী তৎপুরুষ: রাজপুত্র মানে রাজার পুত্র, বিদ্যালয় মানে বিদ্যার আলয়, গঙ্গাজল মানে গঙ্গার জল।
শিশুরূপ মৃগ আর মৃগ যে শিশু কর্মধারয়ের ধাঁচে লেখা, কিন্তু মৃগশিশু অর্থে হরিণ আর শিশু একই জিনিস নয়, তাই এগুলো বাদ। মৃগের শিশু রূপটিও শুনতে স্বাভাবিক, তাই এটি মূল ফাঁদ।
মনে রাখুন: ষষ্ঠী তৎপুরুষে কার জিনিস জিজ্ঞেস করুন; মৃগশিশুতে শিশু মায়ের, তাই মৃগীর শিশু।
৩. বাংলা বর্ণমালায় অর্ধ-মাত্রাযুক্ত ব্যঞ্জনবর্ণ কতটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- ক১০
- খ৮
- গ৭
- ঘ৯
সঠিক উত্তর: গ. ৭
বাংলা বর্ণমালার ৫০টি বর্ণকে মাত্রা অনুযায়ী তিন ভাগে ভাগ করা হয়: পূর্ণমাত্রা, অর্ধমাত্রা আর মাত্রাহীন। মাত্রা হলো বর্ণের মাথার উপরের আনুভূমিক রেখা।
অর্ধমাত্রার বর্ণ মোট ৮টি। এর মধ্যে স্বরবর্ণ মাত্র একটি, ঋ। বাকি ৭টি ব্যঞ্জনবর্ণ: খ, গ, ণ, থ, ধ, প, শ। প্রশ্ন শুধু ব্যঞ্জনবর্ণ জানতে চেয়েছে, তাই উত্তর ৭।
মাত্রাহীন বর্ণ মোট ১০টি: স্বরবর্ণে এ, ঐ, ও, ঔ এই ৪টি, আর ব্যঞ্জনবর্ণে ঙ, ঞ, ৎ, ং, ঃ, ঁ এই ৬টি। বাকি ৩২টি পূর্ণমাত্রার।
ফাঁদ হলো ৮: এটা অর্ধমাত্রার মোট সংখ্যা, ঋ-সহ। আর ১০ হলো মাত্রাহীন বর্ণের মোট সংখ্যা। প্রশ্নে ব্যঞ্জনবর্ণ শব্দটি খেয়াল করলেই এই ভুল এড়ানো যায়।
মনে রাখুন: অর্ধমাত্রার ব্যঞ্জন মুখস্থ করতে বাক্য বানান: “খগ ণথধ পশ”।
৪. যোগরূঢ় শব্দের উদাহরণ- (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কসন্দেশ
- খগবাক্ষ
- গদৌহিত্র
- ঘরাজপুত
সঠিক উত্তর: ঘ. রাজপুত
অর্থ অনুযায়ী শব্দ তিন রকম: যৌগিক, রূঢ়ি আর যোগরূঢ়। যৌগিক শব্দে গঠন থেকে যে অর্থ আসে, সেটাই আসল অর্থ। রূঢ়ি শব্দে গঠনের অর্থের সঙ্গে আসল অর্থের মিল নেই। আর যোগরূঢ় শব্দে গঠনের অর্থ থাকে, কিন্তু সেটা একটি বিশেষ অর্থে সীমিত হয়ে যায়।
রাজপুত গঠনে মানে রাজার পুত্র, কিন্তু শব্দটি দিয়ে যেকোনো রাজার ছেলে বোঝায় না; বোঝায় ভারতের একটি বিশেষ জাতিগোষ্ঠী। গঠনের অর্থ আছে, তবে বিশেষ অর্থে আটকে গেছে, তাই এটি যোগরূঢ়।
একই রকম উদাহরণ: পঙ্কজ মানে পাঁকে জন্মে যা, কিন্তু বোঝায় শুধু পদ্ম; জলধি মানে জল ধারণ করে যা, কিন্তু বোঝায় শুধু সমুদ্র।
সন্দেশ আর গবাক্ষ রূঢ়ি: সন্দেশের গঠনগত অর্থ সংবাদ, অথচ বোঝায় মিষ্টি; গবাক্ষের গঠনগত অর্থ গরুর চোখ, অথচ বোঝায় জানালা। দৌহিত্র যৌগিক, কারণ মেয়ের ছেলে অর্থটাই আসল অর্থ।
মনে রাখুন: গঠনের অর্থ পুরো মিললে যৌগিক, একদম না মিললে রূঢ়ি, মিলে কিন্তু সরু হয়ে গেলে যোগরূঢ়: পঙ্কজ, জলধি, রাজপুত, মহাযাত্রা।
৫. কোন উপসর্গটি ভিন্নার্থে ব্যবহৃত হয়েছে? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কপ্রতিপক্ষ
- খপ্রতিদ্বন্দ্বী
- গপ্রতিবিম্ব
- ঘপ্রতিবাদ
সঠিক উত্তর: গ. প্রতিবিম্ব
প্রশ্নটা প্রতি উপসর্গের অর্থ নিয়ে। একই উপসর্গ ভিন্ন শব্দে ভিন্ন অর্থ দিতে পারে; এখানে খুঁজতে হবে কোন শব্দে প্রতি অন্য তিনটির থেকে আলাদা অর্থে বসেছে।
প্রতিপক্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী আর প্রতিবাদ, তিনটিতেই প্রতি মানে বিপরীত বা বিরুদ্ধ। প্রতিপক্ষ মানে বিরুদ্ধ পক্ষ, প্রতিদ্বন্দ্বী মানে বিরুদ্ধে লড়ে যে, প্রতিবাদ মানে বিরুদ্ধ বক্তব্য।
প্রতিবিম্বে প্রতি মানে সদৃশ বা অনুরূপ: বিম্বের মতো আরেকটি বিম্ব, অর্থাৎ ছায়া বা প্রতিচ্ছবি। একই অর্থে প্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি, প্রতিচ্ছবি।
প্রতি উপসর্গের আরও অর্থ আছে: প্রতিদিন শব্দে প্রতি মানে প্রত্যেক, আর প্রতিদান বা প্রত্যুত্তর শব্দে মানে বিনিময়ে বা পাল্টা।
মনে রাখুন: প্রতি-যুক্ত শব্দ থেকে প্রতি বাদ দিয়ে মূল শব্দের সঙ্গে সম্পর্ক ভাবুন: বিরোধ না মিল, না প্রত্যেক।
৬. কোনটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কনিক্কন
- খদিশারী
- গনভোচর
- ঘদুর্গ
সঠিক উত্তর: ঘ. দুর্গ
চারটি বানানের মধ্যে শুধু দুর্গ শুদ্ধ। দুর্গ তৎসম শব্দ, অর্থ কেল্লা; দুর্ উপসর্গের সঙ্গে গম্ ধাতু থেকে এর উৎপত্তি, রেফ বসে গ-এর উপরে।
নিক্কন ভুল, শুদ্ধ নিক্বণ। নি উপসর্গের সঙ্গে ক্বণ ধাতু, অর্থ অলংকারের শব্দ; তাই ক-এর সঙ্গে ব-ফলা, দুটি ক নয়। আর ণত্ব বিধান মেনে মূর্ধন্য ণ।
নভোচর ভুল, শুদ্ধ নভশ্চর। নভঃ শব্দের বিসর্গের পরে চ থাকায় বিসর্গ শ্ হয়ে যায়, যেমন নিঃ আর চয় মিলে নিশ্চয়।
দিশারী বানানটিও ভুল, শুদ্ধ দিশারি। বাংলা একাডেমির প্রমিত বানানে অ-তৎসম শব্দের শেষে ই-কার দেওয়া হয়, যেমন সরকারি, কান্ডারি।
মনে রাখুন: বিসর্গের পরে চ বা ছ এলে শ্ হয়: নিশ্চয়, নভশ্চর, দুশ্চিন্তা, শিরশ্ছেদ।
৭. 'আসমুদ্রহিমাচল' কোন সমাসের উদাহরণ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কদ্বন্দ্ব
- খবহুব্রীহি
- গঅব্যয়ীভাব
- ঘদ্বিগু
সঠিক উত্তর: গ. অব্যয়ীভাব
আসমুদ্রহিমাচল মানে সমুদ্র থেকে হিমালয় পর্যন্ত, অর্থাৎ গোটা দেশজুড়ে। এখানে আ একটি অব্যয় উপসর্গ, যার অর্থ পর্যন্ত বা ব্যাপ্তি।
পূর্বপদে অব্যয় থাকলে এবং সেই অব্যয়ের অর্থই প্রধান হলে সমাসটি অব্যয়ীভাব। এখানে সমুদ্র বা হিমাচল কোনোটার নয়, পুরো সীমানা জুড়ে বিস্তৃতির ভাবটাই মুখ্য।
একই রকম আ-যুক্ত অব্যয়ীভাব: আজীবন মানে জীবন পর্যন্ত, আপাদমস্তক মানে পা থেকে মাথা পর্যন্ত, আকণ্ঠ মানে কণ্ঠ পর্যন্ত।
দুটি নাম পাশাপাশি দেখে অনেকে দ্বন্দ্ব সমাস ধরে নেন, কিন্তু দ্বন্দ্বে দুই পদ সমান গুরুত্বের আর মাঝে ও বা এবং থাকে। এখানে মাঝে আছে থেকে-পর্যন্ত সম্পর্ক, আর শুরুতে অব্যয় আ।
মনে রাখুন: শব্দের শুরুতে আ মানে পর্যন্ত হলে চোখ বুজে অব্যয়ীভাব: আজীবন, আকণ্ঠ, আপাদমস্তক, আসমুদ্রহিমাচল।
৮. 'বাংলাদেশ' শব্দটি কোন ধরনের সমাস? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কদ্বন্দ্ব
- খকর্মধারয়
- গতৎপুরুষ
- ঘবহুব্রীহি
সঠিক উত্তর: খ. কর্মধারয়
বাংলাদেশ শব্দটির ব্যাসবাক্য বাংলা নামক দেশ। মাঝের নামক শব্দটি লোপ পেয়ে সমস্তপদ হয়েছে বাংলাদেশ।
যে কর্মধারয় সমাসে ব্যাসবাক্যের মাঝখানের ব্যাখ্যামূলক পদ লোপ পায়, তাকে বলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়। এখানে বাংলা আর দেশ একই জিনিস নির্দেশ করে, আর মাঝের নামক পদটি বাদ পড়েছে।
একই রকম মধ্যপদলোপী কর্মধারয়: সিংহাসন মানে সিংহ চিহ্নিত আসন, ঘিভাত মানে ঘি মিশ্রিত ভাত, স্মৃতিসৌধ মানে স্মৃতি রক্ষার্থে সৌধ।
ফাঁদ হলো তৎপুরুষ: কেউ কেউ বাঙালির দেশ ধরে ষষ্ঠী তৎপুরুষ বলেন। কিন্তু প্রচলিত ব্যাকরণ ও পরীক্ষায় বাংলা নামক দেশ, অর্থাৎ কর্মধারয়ই গৃহীত।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে নামক, চিহ্নিত, মিশ্রিত, রক্ষার্থে এমন মাঝের শব্দ লুকিয়ে থাকলে মধ্যপদলোপী কর্মধারয়।
৯. উপমান কর্মধারয় সমাস নয় কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কআয়কর
- খফুটিফাটা
- গপ্রস্তরকঠিন
- ঘগজমূর্খ
সঠিক উত্তর: ক. আয়কর
উপমান কর্মধারয় সমাসে একটি উপমান, অর্থাৎ যার সঙ্গে তুলনা করা হয়, আর একটি সাধারণ ধর্ম, অর্থাৎ যে গুণে তুলনা, একসঙ্গে মিলে যায়। ব্যাসবাক্যে মাঝে থাকে ন্যায় বা মতো।
প্রস্তরকঠিন মানে প্রস্তরের ন্যায় কঠিন; পাথর উপমান, কঠিন সাধারণ ধর্ম। গজমূর্খ মানে গজের ন্যায় মূর্খ। ফুটিফাটা মানে ফুটির ন্যায় ফাটা; ফুটি এক ধরনের ফল, যা পাকলে ফেটে যায়। তিনটিই উপমান কর্মধারয়।
আয়কর মানে আয়ের উপর ধার্য কর। এখানে কোনো তুলনা নেই, আয় কোনো কিছুর উপমান নয়। তাই এটি উপমান কর্মধারয় নয়; একে মধ্যপদলোপী কর্মধারয় বা তৎপুরুষ হিসেবে পড়া হয়।
চেনার কৌশল: ব্যাসবাক্যে ন্যায় বা মতো বসিয়ে অর্থ ঠিক থাকে কি না দেখুন। আয়ের ন্যায় কর বললে অর্থই দাঁড়ায় না।
মনে রাখুন: ব্যাসবাক্যে “ন্যায়” বসিয়ে দেখুন: অর্থ ঠিক থাকলে উপমান কর্মধারয়, যেমন তুষারশুভ্র, কাজলকালো।
১০. কোন বানানটি অশুদ্ধ নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কউর্মি
- খপুষ্করিণী
- গউদীচি
- ঘপ্রজ্জ্বলন
সঠিক উত্তর: খ. পুষ্করিণী
প্রশ্নটা উল্টো করে জিজ্ঞেস করেছে: কোন বানানটি অশুদ্ধ নয়, অর্থাৎ কোনটি শুদ্ধ। চারটির মধ্যে শুধু পুষ্করিণী সঠিক।
পুষ্করিণী মানে পুকুর। ষ-এর পরে ক, তারপর র, আর র-এর পরে ণত্ব বিধান মেনে মূর্ধন্য ণ বসেছে। শেষে স্ত্রীবাচক ইনী প্রত্যয়ের জন্য ঈ-কার।
উর্মি ভুল, শুদ্ধ ঊর্মি, মানে ঢেউ; শুরুতে দীর্ঘ ঊ। উদীচি ভুল, শুদ্ধ উদীচী, মানে উত্তর দিক; শেষেও দীর্ঘ ঈ-কার।
প্রজ্জ্বলন ভুল, শুদ্ধ প্রজ্বলন। প্র উপসর্গের সঙ্গে জ্বলন যুক্ত হয়েছে, তাই জ একবারই আসে। উজ্জ্বল শব্দে দুটি জ আসে কারণ সেখানে উৎ আর জ্বল মিলে ত্ বদলে জ হয়; এই মিল দেখেই অনেকে ভুল করেন।
মনে রাখুন: জ্জ্ব শুধু উৎ + জ্বল থেকে আসে (উজ্জ্বল); প্র, সম্ ইত্যাদির সঙ্গে জ্বল একবার জ: প্রজ্বলন, প্রজ্বলিত।
১১. 'মুগ্ধ' শব্দের প্রকৃতি ও প্রত্যয় কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কমুগ্+ত্ব
- খমুগ্+অন
- গমুগ্ধ+শূন্য
- ঘমুহ্+ক্ত
সঠিক উত্তর: ঘ. মুহ্+ক্ত
মুগ্ধ একটি কৃৎ-প্রত্যয়যুক্ত তৎসম শব্দ। এর প্রকৃতি মুহ্ ধাতু, অর্থ মোহিত হওয়া, আর প্রত্যয় ক্ত। মুহ্ আর ক্ত মিলে হয় মুগ্ধ, অর্থাৎ মোহিত।
ক্ত প্রত্যয় অতীত বা সম্পন্ন অবস্থা বোঝায়, যেমন কৃ থেকে কৃত, শ্রু থেকে শ্রুত। কিছু হ-কারান্ত ধাতুর সঙ্গে ক্ত যুক্ত হলে ধ্বনি বদলে হয় গ্ধ।
একই ধাঁচের শব্দ: দুহ্ আর ক্ত মিলে দুগ্ধ, দহ্ আর ক্ত মিলে দগ্ধ, স্নিহ্ আর ক্ত মিলে স্নিগ্ধ। মুগ্ধ ঠিক এই দলেরই শব্দ।
ফাঁদ হলো মুগ্ ধরে নেওয়া। মুগ্ধ শব্দের বানান দেখে অনেকে মুগ্ ধাতু খোঁজেন, কিন্তু সংস্কৃতে এমন ধাতু নেই; আসল ধাতু মুহ্, যার থেকে মোহ, মোহন, মুগ্ধ সব এসেছে।
মনে রাখুন: শব্দে গ্ধ দেখলে হ-কারান্ত ধাতু আর ক্ত খুঁজুন: মুগ্ধ, দুগ্ধ, দগ্ধ, স্নিগ্ধ।
১২. কোন শব্দ-যুগলটি সঠিক নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কউহ্য : স্পষ্ট
- খঅস্তি : নাস্তি
- গচিন্ময় : চেতন
- ঘক্ষীণ : পুষ্ট
সঠিক উত্তর: গ. চিন্ময় : চেতন
প্রশ্নটা বিপরীত শব্দের জোড়া নিয়ে। চারটি জোড়ার মধ্যে কোনটিতে দুটি শব্দ পরস্পরের বিপরীত নয়, সেটা খুঁজতে হবে।
চিন্ময় মানে চৈতন্যময়, জ্ঞানময়। এর বিপরীত শব্দ মৃন্ময়, অর্থাৎ মাটির তৈরি বা জড়। চেতন শব্দটি চিন্ময়ের বিপরীত নয়, বরং কাছাকাছি অর্থের; চেতনের বিপরীত অচেতন। তাই চিন্ময় আর চেতন জোড়াটি সঠিক নয়।
বাকি জোড়াগুলো ঠিক আছে: অস্তি মানে আছে, নাস্তি মানে নেই। ক্ষীণ মানে রোগা বা দুর্বল, পুষ্ট মানে পরিপুষ্ট। উহ্য মানে যা বলা হয়নি, অনুক্ত; তার বিপরীতে স্পষ্ট বা ব্যক্ত।
দুটি শব্দেই চ থাকায় চিন্ময় আর চেতন দেখতে বিপরীত জোড়ার মতো লাগে, কিন্তু অর্থে এরা একই দিকের।
মনে রাখুন: ময় প্রত্যয়ের জোড়া মনে রাখুন: চিন্ময় বনাম মৃন্ময়; চিৎ মানে চেতনা, মৃৎ মানে মাটি।
১৩. কোন বানানটি শুদ্ধ? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- করুপায়ন
- খরূপায়ন
- গরূপায়ণ
- ঘরুপায়ণ
সঠিক উত্তর: গ. রূপায়ণ
শুদ্ধ বানান রূপায়ণ। এতে দুটি জিনিস ঠিক রাখতে হয়: রূ-তে দীর্ঘ ঊ-কার, আর শেষে মূর্ধন্য ণ।
রূপ তৎসম শব্দ, এর বানানে সব সময় দীর্ঘ ঊ-কার: রূপ, রূপক, রূপান্তর। তাই রুপায়ন বা রুপায়ণ, যেখানে হ্রস্ব উ-কার, সেগুলো বাদ।
শেষের ণ এসেছে ণত্ব বিধান থেকে। র, ঋ বা ষ-এর পরে যদি মাঝখানে শুধু স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, য় বা হ থাকে, তবে পরের দন্ত্য ন মূর্ধন্য ণ হয়ে যায়। রূপায়ণ শব্দে র-এর পরে আছে প, আ-কার, য় আর অ; সবই অনুমোদিত, তাই ন বদলে ণ।
একই নিয়মে রামায়ণ, নারায়ণ, পরায়ণ বানানেও ণ। রূপায়ন বিকল্পটি সবচেয়ে বড় ফাঁদ, কারণ এতে ঊ-কার ঠিক আছে, শুধু ণ ভুল।
মনে রাখুন: অয়ন যুক্ত হলে র-এর পরে প্রায়ই ণ: রামায়ণ, নারায়ণ, পরায়ণ, রূপায়ণ; তবে র না থাকলে ন: অধ্যয়ন, চয়ন।
১৪. কোনটি শুদ্ধ বানান? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কপ্রনিপাত
- খনির্মান
- গকৃপান
- ঘক্ষীণজীবী
সঠিক উত্তর: ঘ. ক্ষীণজীবী
চারটি বিকল্পেই প্রশ্ন একটাই: ন হবে না ণ। এর উত্তর দেয় ণত্ব বিধান। র, ঋ, ষ বা ক্ষ-এর পরে ন এলে, মাঝে বাধা না থাকলে, সেটি মূর্ধন্য ণ হয়।
প্রনিপাত ভুল, শুদ্ধ প্রণিপাত: প্র উপসর্গের র-এর পরে ণ। নির্মান ভুল, শুদ্ধ নির্মাণ: রেফের পরে ম আর আ-কার পেরিয়ে ণ। কৃপান ভুল, শুদ্ধ কৃপাণ: ঋ-কারের পরে প আর আ-কার পেরিয়ে ণ।
ক্ষীণজীবী শুদ্ধ। ক্ষ-এর পরে ঈ-কার, তারপর ণ, তাই ক্ষীণ বানানে মূর্ধন্য ণ। জীবী শব্দের শেষে ঈ-কার, কারণ এটি ইন্ প্রত্যয়ান্ত তৎসম শব্দ, যেমন সহযোগী, অভিমানী।
মনে রাখুন, ণত্ব বিধানে মাঝখানে প-বর্গ বা স্বরবর্ণ থাকলেও ণ হয়; কিন্তু চ-বর্গ, ট-বর্গ বা ত-বর্গ এসে গেলে ন-ই থাকে, যেমন অর্চনা।
মনে রাখুন: র, ঋ, ষ, ক্ষ চোখে পড়লে পরের ন-কে ণ বানানোর কথা ভাবুন: প্রণাম, নির্মাণ, কৃপাণ, ক্ষীণ, ভীষণ।
১৫. 'তাৎক্ষণিক' শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২৬)
- কতৎক্ষণিক
- খতাৎক্ষনিক
- গতৎক্ষণ+ইক
- ঘতৎক্ষন+ইক
সঠিক উত্তর: গ. তৎক্ষণ+ইক
তাৎক্ষণিক শব্দটি তৎক্ষণ শব্দের সঙ্গে তদ্ধিত প্রত্যয় ইক যোগে গঠিত। তাই একে ভাঙলে পাই তৎক্ষণ যোগ ইক। প্রশ্নে সন্ধি বিচ্ছেদ বলা হলেও কাজটি আসলে প্রকৃতি-প্রত্যয় ভাঙা।
ইক প্রত্যয় যুক্ত হলে শব্দের প্রথম স্বর বৃদ্ধি পায়: অ হয় আ, ই বা এ হয় ঐ, উ হয় ঔ। তাই তৎক্ষণের ত এর অ বেড়ে আ হয়ে হয় তাৎক্ষণিক। একইভাবে সমাজ থেকে সামাজিক, দেহ থেকে দৈহিক আর ইতিহাস থেকে ঐতিহাসিক।
বানানের দিকেও খেয়াল রাখতে হবে: ক্ষ আসলে ক আর ষ মিলে তৈরি, আর ষ এর পরে মূর্ধন্য ণ হয়। তাই শুদ্ধ বানান তৎক্ষণ, তৎক্ষন নয়; একই কারণে লক্ষণ, ক্ষণিক, শিক্ষণ।
ঘ অপশনটি ঠিক একই ভাঙন দেখালেও দন্ত্য ন দিয়ে বানান ভুল; ক আর খ অপশনে কোনো ভাঙনই নেই।
মনে রাখুন: ইক যুক্ত শব্দে প্রথম স্বর বেড়েছে দেখলে মূল শব্দে ফিরে যান: সাপ্তাহিক = সপ্তাহ + ইক, বার্ষিক = বর্ষ + ইক।
১৬. 'ঈদৃশ' এর বিপরীত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কসদৃশ
- খএরকম
- গসাদৃশ
- ঘতাদৃশ
সঠিক উত্তর: ঘ. তাদৃশ
ঈদৃশ শব্দের অর্থ এই রকম বা এমন। এর বিপরীত হলো তাদৃশ, যার অর্থ সেই রকম বা তেমন।
এই শব্দগুলো তৎসম, তৈরি হয়েছে দৃশ ধাতুর সঙ্গে সর্বনাম যুক্ত হয়ে। ইদম বা এই থেকে ঈদৃশ, তদ বা সেই থেকে তাদৃশ, যদ বা যে থেকে যাদৃশ, আর কিম বা কী থেকে কীদৃশ।
তাই এই আর সেই যেমন বিপরীত, ঈদৃশ আর তাদৃশও তেমনি বিপরীত শব্দজোড়।
ফাঁদ হলো এরকম অপশনটা; এটা ঈদৃশ এর সমার্থক, বিপরীত নয়। সদৃশ মানে একই রকম, যা আলাদা শব্দ।
মনে রাখুন: ঈদৃশ-তাদৃশ, ইহলোক-পরলোক, এই-সেই: কাছের বিপরীত দূর।
১৭. নিচের কোন বিপরীত শব্দটি ঠিক নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কঅমৃত-গরল
- খতস্কর-সাধু
- গকৃশ-স্থূল
- ঘঅর্বাচীন-আধুনিক
সঠিক উত্তর: ঘ. অর্বাচীন-আধুনিক
প্রশ্নে জানতে চাওয়া হয়েছে কোন জোড়াটি বিপরীত শব্দ হিসেবে ঠিক নয়। প্রতিটি জোড়ার দুই শব্দের অর্থ মিলিয়ে দেখতে হবে।
অমৃত মানে সুধা, আর গরল মানে বিষ; এরা বিপরীত। তস্কর মানে চোর, আর সাধু মানে সৎ মানুষ; এরাও বিপরীত। কৃশ মানে রোগা, স্থূল মানে মোটা; এটাও ঠিক।
অর্বাচীন মানে নবীন, আধুনিক বা অপরিপক্ব। তাই অর্বাচীন আর আধুনিক প্রায় সমার্থক। অর্বাচীন এর সঠিক বিপরীত হলো প্রাচীন।
যারা অর্বাচীন শব্দের অর্থ জানেন না, তারা আধুনিক শব্দটা দেখে বিপরীত ভেবে ফেলেন। এটাই ফাঁদ।
মনে রাখুন: অর্বাচীন-প্রাচীন, নবীন-প্রবীণ জোড়াগুলো একসঙ্গে মনে রাখুন।
১৮. বাক্যের অন্তর্গত পদসমূহের বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলনের নাম- (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কআসক্তি
- খযোগ্যতা
- গআকাঙ্ক্ষা
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: খ. যোগ্যতা
একটি সার্থক বাক্যের তিনটি গুণ থাকে: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি বা আসক্তি, আর যোগ্যতা। প্রশ্নটা এই তিনটির সংজ্ঞা আলাদা করতে পারছেন কি না তা যাচাই করছে।
যোগ্যতা মানে বাক্যের পদগুলোর অর্থগত ও ভাবগত মিল, যাতে বাক্যটা বিশ্বাসযোগ্য হয়। যেমন, বর্ষায় নদী পানিতে ভরে গেছে, বাক্যটা বিশ্বাসযোগ্য। কিন্তু গরু আকাশে উড়ছে, বাক্যে পদ সাজানো ঠিক থাকলেও যোগ্যতা নেই।
আকাঙ্ক্ষা মানে বাক্য শুনে পরের অংশ শোনার আগ্রহ থেকে যাওয়া, যেমন শুধু আমি ভাত বললে অর্থ অসম্পূর্ণ লাগে। আসক্তি মানে পদগুলোর সঠিক ক্রমে বসা।
প্রশ্নের মূল শব্দ বিশ্বাসযোগ্য ভাবসম্মিলন; বিশ্বাসযোগ্যতা দেখলেই যোগ্যতা বাছুন।
মনে রাখুন: ক্রম = আসক্তি, আগ্রহ = আকাঙ্ক্ষা, বিশ্বাস = যোগ্যতা।
১৯. বিশেষণ বর্গের উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কঅসুস্থ ছেলেটি আজ স্কুলে আসেনি।
- খআমার ভাই পড়তে বসেছে।
- গপোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে ভালো আসবাব হয় না।
- ঘসে লিখছে আর হাসছে।
সঠিক উত্তর: গ. পোকায় খাওয়া কাঠ দিয়ে ভালো আসবাব হয় না।
বর্গ মানে একাধিক পদ মিলে একটি পদের মতো কাজ করা। যে পদগুচ্ছ পুরোটা মিলে বিশেষ্যকে বিশেষিত করে, তাকে বিশেষণ বর্গ বলে।
পোকায় খাওয়া কাঠ বাক্যাংশে পোকায় খাওয়া দুই পদ মিলে কাঠ কেমন তা বোঝাচ্ছে। একক কোনো বিশেষণ নয়, পুরো গুচ্ছটাই বিশেষণের কাজ করছে, তাই এটি বিশেষণ বর্গ।
অসুস্থ ছেলেটি বাক্যে অসুস্থ একটি মাত্র বিশেষণ পদ, তাই এটা বর্গ নয়; বরং অসুস্থ ছেলেটি পুরোটা মিলে বিশেষ্য বর্গ। আমার ভাই বিশেষ্য বর্গের উদাহরণ, আর লিখছে আর হাসছে ক্রিয়ার সংযোগ।
ফাঁদ হলো অসুস্থ শব্দটা বিশেষণ দেখে প্রথম অপশন বেছে নেওয়া। বর্গ হতে হলে একাধিক পদ লাগে।
মনে রাখুন: আরও উদাহরণ: রোদে পোড়া মুখ, দুধে ভেজা ভাত, ঘামে ভেজা জামা।
২০. নিচের কোন শব্দটি পর্তুগিজ ভাষা থেকে আগত নয়? (সমন্বিত ৬ ব্যাংক ও ২ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, সাধারণ) (২০২৬)
- কআলপিন
- খজানালা
- গআনারস
- ঘলাশ
সঠিক উত্তর: ঘ. লাশ
বাংলায় অনেক বিদেশি শব্দ ঢুকেছে। পর্তুগিজরা ষোড়শ শতক থেকে বাংলায় বাণিজ্য করত, তাই তাদের ভাষা থেকে দৈনন্দিন জিনিসের অনেক নাম এসেছে।
আলপিন, জানালা আর আনারস তিনটিই পর্তুগিজ শব্দ। এই দলের আরও শব্দ হলো আলমারি, বালতি, চাবি, গির্জা, পাউরুটি, পেঁপে আর বোতাম।
লাশ শব্দটি তুর্কি ভাষা থেকে এসেছে, পর্তুগিজ নয়। তুর্কি থেকে আসা আরও শব্দ হলো চাকর, চাকু, কাঁচি, দারোগা, বাবুর্চি, মুচলেকা ও কুর্নিশ।
এ ধরনের প্রশ্নে আগে চেনা পর্তুগিজ শব্দগুলো বাদ দিন; যে শব্দটা বাকি থাকে, সাধারণত সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: পর্তুগিজ শব্দের ছড়া: আলমারি, আলপিন, আনারস, জানালা, বালতি, চাবি, গির্জা, পাউরুটি।