বাংলা ভাষা ও সাহিত্য · পাতা ৩১
৬০১. 'চর্মকার' কী ধরনের শব্দ? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবাংলা
- খপ্রাকৃত
- গতদ্ভব
- ঘসংস্কৃত
সঠিক উত্তর: ঘ. সংস্কৃত
চর্মকার শব্দটি সংস্কৃত থেকে অবিকৃতভাবে বাংলায় এসেছে, তাই এটি তৎসম বা সংস্কৃত শব্দ। চর্ম মানে চামড়া, কার মানে যে করে।
একই শব্দ প্রাকৃতের মধ্য দিয়ে বদলে বাংলায় এসেছে চামার বা মুচি রূপে। চামার হলো তদ্ভব শব্দ।
তৎসম আর তদ্ভব চেনার উপায়: সংস্কৃত রূপ হুবহু থাকলে তৎসম, বদলে গেলে তদ্ভব। চর্ম থেকে চাম, হস্ত থেকে হাত, চন্দ্র থেকে চাঁদ।
ফাঁদ হলো তদ্ভব, কারণ পেশাবাচক শব্দ বলে অনেকে খাঁটি বাংলা ভাবেন। কিন্তু চর্মকার রূপটি অবিকৃত সংস্কৃত।
মনে রাখুন: অবিকৃত সংস্কৃত রূপ মানেই তৎসম; ভাঙা রূপ (চামার, কামার) মানে তদ্ভব।
৬০২. নিচের কোন বাগধারাটি ভিন্নার্থক? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কআদায় -কাঁচকলায়
- খরুই-কাতলা
- গদা -কুমড়া
- ঘঅহি-নকুল
সঠিক উত্তর: খ. রুই-কাতলা
প্রশ্নটি চায় কোন বাগ্ধারার অর্থ বাকিদের থেকে আলাদা। চারটির মধ্যে তিনটির অর্থ একই: চরম শত্রুতা বা তীব্র বিরোধ।
আদায়-কাঁচকলায়, দা-কুমড়া আর অহি-নকুল, তিনটিই শত্রুতা বোঝায়। অহি মানে সাপ, নকুল মানে বেজি; এরা চিরশত্রু। দা আর কুমড়ার সম্পর্কও তেমনই।
রুই-কাতলা মানে প্রভাবশালী বা গণ্যমান্য ব্যক্তি, যেমন সমাজের রুই-কাতলারা। তাই এটিই ভিন্নার্থক।
এ ধরনের প্রশ্নে প্রত্যেকটির অর্থ লিখে ফেলুন; তিনটির মিল পেলে যেটি বাকি থাকে সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: শত্রুতার বাগ্ধারা: আদায়-কাঁচকলায়, দা-কুমড়া, অহি-নকুল, সাপে-নেউলে।
৬০৩. স্বর সংগতির উদাহরণ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কদেশী> দিশী
- খরাত্রি> রাইত
- গহইবে> হবে
- ঘকোনটিই নয়
সঠিক উত্তর: ক. দেশী> দিশী
স্বরসংগতি হলো এমন ধ্বনি পরিবর্তন, যেখানে একটি স্বর পাশের স্বরের প্রভাবে বদলে গিয়ে তার কাছাকাছি হয়ে যায়।
দেশি থেকে দিশি উদাহরণে শেষের ই-এর প্রভাবে প্রথম অক্ষরের এ বদলে ই হয়েছে। দুই স্বর একরকম হয়ে গেছে, তাই এটি স্বরসংগতি। একইভাবে বিলাতি থেকে বিলিতি, মুলা থেকে মুলো।
রাত্রি থেকে রাইত হলে ই-ধ্বনি আগেভাগে উচ্চারিত হয়েছে, যা অপিনিহিতির লক্ষণ। হইবে থেকে হবে হলে মাঝের ই বাদ পড়েছে, এটি স্বরলোপ।
একটি উদাহরণ সঠিক থাকায় কোনোটিই নয় বিকল্পটি বাদ।
মনে রাখুন: স্বর বদলে পাশের স্বরের মতো হলে স্বরসংগতি; স্বর আগে সরে এলে অপিনিহিতি; স্বর হারিয়ে গেলে স্বরলোপ।
৬০৪. 'পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়' কী ধরনের রচনা? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কছোটগল্প
- খউপন্যাস
- গকাব্যনাট্য
- ঘপত্রোপন্যাস
সঠিক উত্তর: গ. কাব্যনাট্য
পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় সৈয়দ শামসুল হকের লেখা একটি কাব্যনাট্য, প্রকাশ ১৯৭৬ সালে। অর্থাৎ এটি কবিতার ছন্দে লেখা নাটক।
নাটকটির পটভূমি মুক্তিযুদ্ধ। এক গ্রামের মাতবর পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী; মুক্তিযোদ্ধাদের পায়ের আওয়াজ এগিয়ে আসার মধ্য দিয়ে তার পতন ঘটে।
সৈয়দ শামসুল হক সব্যসাচী লেখক নামে পরিচিত। তাঁর আরেকটি বিখ্যাত কাব্যনাট্য নূরলদীনের সারাজীবন, আর বিখ্যাত কাব্য বৈশাখে রচিত পঙ্ক্তিমালা।
নামটি গদ্যের মতো শোনায় বলে অনেকে উপন্যাস বা ছোটগল্প ধরে নেন; এটিই এখানে ফাঁদ।
মনে রাখুন: সৈয়দ শামসুল হকের দুই কাব্যনাট্য: পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায় আর নূরলদীনের সারাজীবন।
৬০৫. 'সূর্য' - এর প্রতিশব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কসুধাংশু
- খশশাংক
- গবিধু
- ঘআদিত্য
সঠিক উত্তর: ঘ. আদিত্য
সূর্যের প্রতিশব্দ হলো আদিত্য, ভানু, রবি, দিবাকর, মার্তণ্ড, তপন ইত্যাদি। আদিত্য শব্দটি এসেছে অদিতির পুত্র অর্থে।
বাকি তিনটি বিকল্প সুধাংশু, শশাংক আর বিধু, তিনটিই চাঁদের প্রতিশব্দ।
সুধাংশু মানে যার কিরণ অমৃতের মতো, শশাংক মানে যার গায়ে খরগোশের চিহ্ন; দুটোই চাঁদকে বোঝায়।
এই প্রশ্নে সূর্য আর চাঁদের প্রতিশব্দ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে। দুই তালিকা আলাদা করে মনে রাখলে সহজেই ধরা যায়।
মনে রাখুন: শশ, সুধা, হিম, নিশা থাকলে চাঁদ (শশাংক, সুধাংশু, হিমাংশু, নিশাকর); দিবা, প্রভা, ভাস্ থাকলে সূর্য (দিবাকর, প্রভাকর, ভাস্কর)। শুধু অংশু দেখে ঠিক করবেন না: অংশুমালী মানে সূর্য।
৬০৬. 'এখন গোল্লায় যাও' - এটি কোন ক্রিয়ার উদাহরণ? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কমিশ্র ক্রিয়া
- খযৌগিক ক্রিয়া
- গনিজন্ত ক্রিয়া
- ঘনামধাতুর ক্রিয়া
সঠিক উত্তর: ক. মিশ্র ক্রিয়া
মিশ্র ক্রিয়া গঠিত হয় বিশেষ্য, বিশেষণ বা ধ্বন্যাত্মক অব্যয়ের সাথে কর্, হ্, দে, পা, যা ইত্যাদি ধাতু যুক্ত হয়ে। দুটো মিলে একটি বিশেষ অর্থ দেয়।
এখন গোল্লায় যাও বাক্যে গোল্লা একটি বিশেষ্য, তার সাথে যা ধাতু যোগ হয়েছে। দুটো মিলে অর্থ দাঁড়িয়েছে নষ্ট হয়ে যাও, তাই এটি মিশ্র ক্রিয়া।
যৌগিক ক্রিয়ায় একটি অসমাপিকা আর একটি সমাপিকা ক্রিয়া মেলে, যেমন খেয়ে ফেলো। নিজন্ত ক্রিয়ায় অন্যকে দিয়ে কাজ করানো বোঝায়, যেমন পড়াচ্ছেন। নামধাতু বিশেষ্য থেকে সরাসরি ধাতু হয়, যেমন বেত থেকে বেতানো।
ফাঁদ হলো যৌগিক ক্রিয়া, কারণ দুটো শব্দ দেখে অনেকেই যৌগিক ভাবেন। কিন্তু গোল্লায় ক্রিয়া নয়, বিশেষ্য।
মনে রাখুন: প্রথম অংশ বিশেষ্য বা বিশেষণ হলে মিশ্র; প্রথম অংশ অসমাপিকা ক্রিয়া (খেয়ে, হেসে) হলে যৌগিক।
৬০৭. কোনটি সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কউৎ +শাস = উচ্ছ্বাস
- খউৎ +ডীণ =উড্ডীণ
- গবৃহৎ + ঢক্কা= বৃহড্ঢক্কা
- ঘলভ্ + ধ =লদ্ধ
সঠিক উত্তর: গ. বৃহৎ + ঢক্কা= বৃহড্ঢক্কা
প্রশ্নটি ব্যঞ্জনসন্ধির সঠিক বিচ্ছেদ খুঁজছে। বৃহৎ আর ঢক্কা মিলে বৃহড্ঢক্কা সঠিক: ত্ এর পরে ঢ এলে ত্ বদলে ড্ হয়।
নিয়মটি হলো, ত্ বা দ্ এর পরে ট বা ঠ এলে ট্, আর ড বা ঢ এলে ড্ হয়। তাই উৎ আর ডীন মিলে উড্ডীন, বৃহৎ আর ঢক্কা মিলে বৃহড্ঢক্কা।
বাকিগুলোর ভুল দেখি। উচ্ছ্বাস এসেছে উৎ আর শ্বাস থেকে, শাস থেকে নয়। উড্ডীন বানানে দন্ত্য ন, মূর্ধন্য ণ নয়। আর লব্ধ এসেছে লভ্ আর ত থেকে।
ফাঁদ হলো উৎ যোগ ডীণ বিকল্প, কারণ নিয়ম ঠিক আছে কিন্তু বানানে ভুল ণ বসানো।
মনে রাখুন: ত্ বা দ্ পরের বর্ণের বর্গে মিশে যায়: ত্ + চ = চ্চ (উচ্চারণ), ত্ + ট = ট্ট (বৃহট্টীকা), ত্ + ড = ড্ড (উড্ডীন), ত্ + ঢ = ড্ঢ (বৃহড্ঢক্কা)।
৬০৮. 'বহুব্রীহি' শব্দের অর্থ কী? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কবগুগম
- খবহুধান
- গবহুবল
- ঘবহুধন
সঠিক উত্তর: খ. বহুধান
বহুব্রীহি শব্দের আক্ষরিক অর্থ বহু ধান। ব্রীহি মানে ধান, তাই বহু ব্রীহি যার, সে বহুব্রীহি, অর্থাৎ ধনী ব্যক্তি।
এই নামটিই সমাসের একটি ধরনের নাম, কারণ বহুব্রীহি শব্দটি নিজেই বহুব্রীহি সমাসের উদাহরণ। এ সমাসে পূর্বপদ বা পরপদ নয়, অন্য কোনো পদের অর্থ প্রধান হয়।
যেমন বহুব্রীহি বলতে ধানকে বোঝায় না, বোঝায় যার অনেক ধান আছে সেই লোককে। একইভাবে দশানন মানে দশ আনন যার, অর্থাৎ রাবণ।
ফাঁদ হলো বহুধন, কারণ এর মানে ধনী লোকের ধারণার কাছাকাছি। কিন্তু শব্দটির আক্ষরিক অর্থ চাইলে উত্তর বহুধান।
মনে রাখুন: সমাসের নামগুলো নিজেরাই সেই সমাসের উদাহরণ: বহুব্রীহি মানে বহু ধান যার; দ্বিগু মানে দুই গরু।
৬০৯. 'সতীশ' শব্দের সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কসতি + ইশ
- খসতি + ঈশ
- গসতী + ইশ
- ঘসতী + ঈশ
সঠিক উত্তর: ঘ. সতী + ঈশ
সতীশ শব্দটি স্বরসন্ধির উদাহরণ। সতী আর ঈশ মিলে সতীশ, মানে সতীর ঈশ্বর বা স্বামী, অর্থাৎ শিব।
নিয়মটি হলো, ই বা ঈ-এর পরে ই বা ঈ এলে দুটো মিলে দীর্ঘ ঈ হয়, আর সেটি আগের বর্ণে ঈ-কার হয়ে যুক্ত হয়।
এখানে সতী শব্দে দীর্ঘ ঈ, আর ঈশ শব্দে দীর্ঘ ঈ; দুটো মিলে ঈ। সতি বা ইশ কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নয়, তাই সেই বিকল্পগুলো বাদ।
একই নিয়মে ক্ষিতি আর ঈশ মিলে ক্ষিতীশ, গিরি আর ঈশ মিলে গিরীশ, অতি আর ইত মিলে অতীত।
মনে রাখুন: আগে দেখুন দুই অংশ অর্থপূর্ণ শব্দ কি না: সতী আর ঈশ দুটোই অভিধানের শব্দ, সতি আর ইশ নয়।
৬১০. কোনটি লিপির বিবর্তনের ধাপ নয়? (সমন্বিত ৪ ব্যাংক: অফিসার, সাধারণ) (২০১৯)
- কচৈনিক লিপি
- খজাপানি লিপি
- গদেবলিপি
- ঘচীনা লিপি
সঠিক উত্তর: গ. দেবলিপি
লিপির বিবর্তন চারটি ধাপে ঘটেছে বলে ধরা হয়: চিত্রলিপি, ভাবলিপি, অক্ষরলিপি বা দললিপি, আর সবশেষে ধ্বনিলিপি বা বর্ণলিপি।
প্রশ্নের বিকল্পগুলো আসলে এসব ধাপের উদাহরণ হিসেবে দেওয়া লিপি। চীনা বা চৈনিক লিপি ভাবলিপি ও শব্দলিপির পরিচিত উদাহরণ, কারণ এর প্রতিটি চিহ্ন একটি ভাব বা শব্দ বোঝায়। জাপানি কানা লিপি অক্ষরলিপির উদাহরণ, যেখানে প্রতিটি চিহ্ন একটি অক্ষর বা সিলেবল।
দেবলিপি নামে লিপির বিবর্তনের কোনো ধাপ নেই, আর এ নামে কোনো পরিচিত লিপির উদাহরণও পাঠ্যবইয়ে দেওয়া হয় না। নামটি দেবনাগরী লিপির সাথে গুলিয়ে ফেলার মতো; দেবনাগরী হলো ব্রাহ্মী থেকে আসা ধ্বনিলিপি।
চৈনিক আর চীনা একই লিপি, তাই এ দুটির একটিকে উত্তর ধরলে অন্যটিকেও ধরতে হতো; এ থেকেও বোঝা যায় উত্তর এ দুটির কোনোটি নয়।
মনে রাখুন: লিপির ধাপ মনে রাখুন: চিত্র, ভাব, অক্ষর, ধ্বনি; চীনা ভাবলিপি, জাপানি কানা অক্ষরলিপি। যে বিকল্প কোনো ধাপের উদাহরণ নয়, সেটিই উত্তর।
৬১১. কোনটি নিত্য সমাসের সমস্ত পদ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কনরপশু
- খমনমাঝি
- গগ্রামান্তর
- ঘউপনদী
সঠিক উত্তর: গ. গ্রামান্তর
প্রশ্নটা নিত্য সমাস চিনতে বলছে। যে সমাসে সমস্যমান পদগুলো সবসময় সমাসবদ্ধ থাকে, আলাদা করে ব্যাসবাক্য তৈরি করা যায় না, তাকে নিত্য সমাস বলে। এর অর্থ বোঝাতে অন্য শব্দ বা বাক্যাংশের সাহায্য নিতে হয়।
গ্রামান্তর মানে অন্য গ্রাম। গ্রাম আর অন্তর আলাদা করলে অন্য গ্রাম অর্থ আসে না, তাই ব্যাখ্যায় বলতে হয় অন্য গ্রাম। এজন্য গ্রামান্তর নিত্য সমাসের সমস্তপদ। একইভাবে দেশান্তর মানে অন্য দেশ, কালান্তর মানে অন্য কাল, দর্শনমাত্র মানে কেবল দর্শন।
নরপশু মানে নর পশুর ন্যায়, এটি উপমিত কর্মধারয়। মনমাঝি মানে মন রূপ মাঝি, এটি রূপক কর্মধারয়। উপনদী মানে ক্ষুদ্র নদী, এটি প্রাদি সমাস।
উপনদীতেও অর্থ বোঝাতে নতুন শব্দ লাগে বলে অনেকে একে নিত্য সমাস ভাবেন; কিন্তু উপ উপসর্গ যুক্ত হওয়ায় এটি প্রাদি সমাস।
মনে রাখুন: অন্তর বা মাত্র যুক্ত শব্দ দেখলে নিত্য সমাস ভাবুন: দেশান্তর, গ্রামান্তর, কালান্তর, দর্শনমাত্র।
৬১২. নিচের কোন শব্দে 'ণ' এর ভুল প্রয়োগ রয়েছে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কক্রন্দণ
- খচাণক্য
- গমাণিক্য
- ঘগণ
সঠিক উত্তর: ক. ক্রন্দণ
প্রশ্নটা ণত্ব বিধান যাচাই করছে: কোন শব্দে মূর্ধন্য ণ ভুলভাবে বসেছে। ক্রন্দণ ভুল, শুদ্ধ বানান ক্রন্দন।
ণত্ব বিধানের মূল নিয়ম: তৎসম শব্দে র, ঋ বা ষ-এর পরে ন থাকলে তা ণ হয়, যদি মাঝে স্বরবর্ণ, ক-বর্গ, প-বর্গ, য, য়, হ বা অনুস্বার থাকে। কিন্তু মাঝে চ-বর্গ, ট-বর্গ, ত-বর্গ, ল, শ বা স এলে ন বদলায় না।
ক্রন্দন শব্দে র-এর পরে আছে ন্দ, অর্থাৎ ত-বর্গের দ। তাই শেষের ন বদলায় না। তা ছাড়া ত-বর্গের সঙ্গে যুক্ত ন সবসময় দন্ত্য ন থাকে, যেমন ন্দ, ন্ত, ন্থ, ন্ধ: বৃন্দ, গ্রন্থ, ক্রন্দন।
চাণক্য, মাণিক্য আর গণ শব্দে র, ঋ বা ষ নেই, তবু ণ বসে; এগুলো স্বভাবত মূর্ধন্য ণ, যেমন বাণ, বীণা, কণা, লবণ। এগুলো মুখস্থ রাখতে হয়।
মনে রাখুন: ত-বর্গের সঙ্গে যুক্ত ন সবসময় দন্ত্য: ন্ত, ন্থ, ন্দ, ন্ধ।
৬১৩. উপসর্গযুক্ত শব্দ কোনটি? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কপঙ্কজ
- খজ্বালাতন
- গমাচান
- ঘকদবেল
সঠিক উত্তর: ঘ. কদবেল
প্রশ্নটা উপসর্গযুক্ত শব্দ চিনতে বলছে। উপসর্গ হলো শব্দ বা ধাতুর আগে বসে নতুন অর্থের শব্দ গঠন করে এমন অব্যয়সূচক শব্দাংশ, যার নিজের স্বাধীন অর্থ নেই।
কদবেল শব্দে কদ একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ, যা নিন্দিত বা খারাপ অর্থ দেয়। কদ আর বেল মিলে কদবেল, মানে নিকৃষ্ট বা ছোট জাতের বেল। তাই কদবেল উপসর্গযুক্ত শব্দ।
বাংলা উপসর্গের আরও উদাহরণ: অঘা থেকে অঘারাম, আড় থেকে আড়চোখে, হা থেকে হাভাতে, নি থেকে নিখুঁত, পাতি থেকে পাতিহাঁস।
পঙ্কজ মানে পঙ্কে জন্মে যা, এটি উপপদ তৎপুরুষ সমাস। জ্বালাতন আর মাচান শব্দে কোনো উপসর্গ নেই; শুরুর অংশগুলো শব্দেরই অংশ।
মনে রাখুন: বাংলা উপসর্গ ২১টি; কদ মানেই নিন্দিত অর্থ: কদবেল।
৬১৪. ক্রিয়াপদের সাথে সম্পর্কযুক্ত পদকে কী বলা হয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কসমাস
- খকারক
- গসন্ধি
- ঘবিশেষণ
সঠিক উত্তর: খ. কারক
প্রশ্নটা কারকের সংজ্ঞা জানতে চাইছে। বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের যে সম্পর্ক, তাকে কারক বলে। কারক শব্দের অর্থই যা ক্রিয়া সম্পাদন করে।
কারক ছয় প্রকার: কর্তা, কর্ম, করণ, সম্প্রদান, অপাদান ও অধিকরণ। প্রতিটি ক্রিয়াকে কে, কী, কী দিয়ে, কাকে, কোথা থেকে, কোথায় প্রশ্ন করে খুঁজে পাওয়া যায়।
উদাহরণ: রহিম কলম দিয়ে খাতায় লেখে। এখানে রহিম কর্তা, কলম দিয়ে করণ, খাতায় অধিকরণ; সবই লেখে ক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
সমাস হলো একাধিক পদ মিলে এক পদ হওয়া, সন্ধি হলো পাশাপাশি দুই ধ্বনির মিলন, আর বিশেষণ নামপদের দোষ-গুণ বোঝায়। এদের কোনোটিই ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্কের নাম নয়।
মনে রাখুন: কারক মানে ক্রিয়ার সঙ্গে সম্পর্ক; বিভক্তি হলো সেই সম্পর্ক দেখানোর চিহ্ন।
৬১৫. 'সমিতি' কোন লিঙ্গ? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কস্ত্রীলিঙ্গ
- খক্লীবলিঙ্গ
- গপুরুষলিঙ্গ
- ঘউভয়লিঙ্গ
সঠিক উত্তর: খ. ক্লীবলিঙ্গ
প্রশ্নটা লিঙ্গ নির্ণয় যাচাই করছে। বাংলা ব্যাকরণে লিঙ্গ চার প্রকার: পুরুষলিঙ্গ, স্ত্রীলিঙ্গ, ক্লীবলিঙ্গ ও উভয়লিঙ্গ।
যে শব্দ দিয়ে পুরুষ বা স্ত্রী কোনোটিই বোঝায় না, অর্থাৎ অচেতন বস্তু বা প্রতিষ্ঠান বোঝায়, তা ক্লীবলিঙ্গ। সমিতি একটি সংগঠন, তার নারী বা পুরুষ নেই; তাই সমিতি ক্লীবলিঙ্গ। একইভাবে বই, কলম, সভা, বিদ্যালয় ক্লীবলিঙ্গ।
যে শব্দে নারী-পুরুষ দুটোই বোঝায়, তা উভয়লিঙ্গ, যেমন সন্তান, শিশু, শিক্ষার্থী।
শব্দের শেষে ই-কার দেখে অনেকে স্ত্রীলিঙ্গ ধরেন; সংস্কৃতে সমিতি ব্যাকরণগতভাবে স্ত্রীলিঙ্গও বটে। কিন্তু বাংলায় লিঙ্গ ঠিক হয় অর্থ দিয়ে, শব্দের রূপ দিয়ে নয়।
মনে রাখুন: জীব না হলে প্রায় সবসময় ক্লীবলিঙ্গ: সমিতি, সভা, দল, বই।
৬১৬. ধাতুর পর কোন প্রত্যয় যুক্ত করে ভাববাচক বিশেষ্য বুঝায়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কআই
- খআল
- গআন
- ঘআও
সঠিক উত্তর: ঘ. আও
প্রশ্নটা বাংলা কৃৎ প্রত্যয় যাচাই করছে: কোন প্রত্যয় ধাতুর পরে বসে ক্রিয়ার ভাব বোঝানো বিশেষ্য, মানে ভাববাচক বিশেষ্য তৈরি করে।
আও প্রত্যয় ধাতুর পরে বসে ভাববাচক বিশেষ্য গঠন করে। যেমন ঘের্ ধাতু আর আও মিলে ঘেরাও, চড়্ আর আও মিলে চড়াও, পাকা আর আও মিলে পাকাও। এখানে ঘেরাও মানে ঘেরার কাজটি। উত্তরমালায় আও ধরা হয়েছে।
তবে জেনে রাখুন, আই প্রত্যয়ও ধাতুর পরে ভাববাচক বিশেষ্য গঠন করে: লড়্ আর আই মিলে লড়াই, যাচ্ আর আই মিলে যাচাই, বাছ্ আর আই মিলে বাছাই, ঢাল্ আর আই মিলে ঢালাই। তাই প্রশ্নটি পুরোপুরি নির্দোষ নয়।
আন প্রত্যয়ে চালান বা মানান জাতীয় শব্দ হয়, আর আল প্রত্যয়ে সাধারণত বিশেষণ হয়, যেমন মাতাল। পরীক্ষায় অপশনে আও থাকলে উত্তরদাতারা সাধারণত সেটিই প্রত্যাশা করেন।
মনে রাখুন: আও: ঘেরাও, চড়াও, পাকাও; আই: লড়াই, যাচাই, বাছাই।
৬১৭. 'বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে '- কোন ধরনের বাক্য? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কসরল
- খযৌগিক
- গজটিল
- ঘমিশ্র
সঠিক উত্তর: ক. সরল
প্রশ্নটা বাক্যের গঠন অনুযায়ী শ্রেণি চিনতে বলছে। বাক্য তিন প্রকার: সরল, জটিল ও যৌগিক। যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা বা কর্তাগুচ্ছ আর একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া থাকে, তা সরল বাক্য।
বিপদ এবং দুঃখ একই সঙ্গে আসে বাক্যে সমাপিকা ক্রিয়া একটিই: আসে। এবং এখানে দুটি বাক্যকে নয়, দুটি বিশেষ্য বিপদ আর দুঃখকে জুড়েছে; এরা মিলে একটি যৌথ কর্তা। তাই গঠনগতভাবে বাক্যটি সরল।
যৌগিক বাক্য হতে হলে দুটি বা তার বেশি স্বাধীন বাক্য এবং, ও, কিন্তু, অথবা জাতীয় অব্যয় দিয়ে যুক্ত হয়, প্রতিটির নিজের সমাপিকা ক্রিয়া থাকে। যেমন বিপদ আসে এবং দুঃখও আসে।
এবং দেখেই যৌগিক ধরা এই প্রশ্নের প্রধান ফাঁদ; প্রচলিত উত্তরমালাও এই ভুলে যৌগিক দিয়েছে। সমাপিকা ক্রিয়া গুনে দেখলেই উত্তর পরিষ্কার হয়। আর মিশ্র বাক্য জটিল বাক্যেরই আরেক নাম।
মনে রাখুন: এবং দেখে নয়, সমাপিকা ক্রিয়া গুনে বাক্য চিনুন: একটি ক্রিয়া মানেই সরল।
৬১৮. 'বহু দেখেছে যে' এক কথায় কী হবে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কদূরদর্শী
- খসমদর্শী
- গদার্শনিক
- ঘভূয়োদর্শী
সঠিক উত্তর: ঘ. ভূয়োদর্শী
প্রশ্নটা এক কথায় প্রকাশ বা বাক্য সংকোচন যাচাই করছে। বহু দেখেছে যে, তাকে বলে ভূয়োদর্শী।
ভূয়ঃ একটি সংস্কৃত শব্দ, অর্থ বহু বা বারবার। দর্শী মানে যে দেখেছে বা দেখে। তাই ভূয়োদর্শী মানে যিনি বহু কিছু দেখে অভিজ্ঞ হয়েছেন। এর বিশেষ্য ভূয়োদর্শন।
কাছাকাছি শব্দগুলো আলাদা: দূরদর্শী মানে যিনি ভবিষ্যৎ বা দূরের পরিণাম আগেই দেখতে পান, সমদর্শী মানে যিনি সবাইকে সমান চোখে দেখেন, আর দার্শনিক মানে দর্শনশাস্ত্রে পণ্ডিত।
দর্শী অংশ সব অপশনে থাকায় বিভ্রান্তি হয়; প্রথম অংশ ভূয়ঃ মানে বহু, এটা মনে রাখলেই উত্তর নিশ্চিত।
মনে রাখুন: ভূয়ঃ = বহু; ভূয়সী প্রশংসা মানে বহু প্রশংসা।
৬১৯. কাকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
- খবিহারীলাল চক্রবর্তী
- গভারতচন্দ্র
- ঘরবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
সঠিক উত্তর: ক. ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্ত
প্রশ্নটা বাংলা সাহিত্যের যুগবিভাগ নিয়ে। ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তকে যুগসন্ধির কবি বলা হয়, কারণ তাঁর কবিতায় মধ্যযুগের ধারা আর আধুনিক যুগের নতুন ভাবনা দুটোই মিশে আছে।
ভারতচন্দ্রের মৃত্যুর পর থেকে মধুসূদনের আবির্ভাব পর্যন্ত, আঠারো শতকের মাঝামাঝি থেকে উনিশ শতকের মাঝামাঝি সময়টিকে যুগসন্ধিক্ষণ বলা হয়। এ সময়ের প্রধান কবি ঈশ্বর গুপ্ত। তিনি সংবাদ প্রভাকর পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন এবং দেশপ্রেম ও সমাজ নিয়ে ব্যঙ্গাত্মক কবিতা লিখতেন।
ভারতচন্দ্র রায়গুণাকর মধ্যযুগের শেষ বড় কবি, অন্নদামঙ্গলের রচয়িতা। বিহারীলাল চক্রবর্তী বাংলা গীতিকবিতার পথিকৃৎ; রবীন্দ্রনাথ তাঁকে ভোরের পাখি বলেছেন।
বিহারীলালও দুই ধারার মাঝে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন; কিন্তু যুগসন্ধির কবি উপাধি ঈশ্বর গুপ্তের, আর বিহারীলাল ভোরের পাখি।
মনে রাখুন: যুগসন্ধি = ঈশ্বর গুপ্ত; ভোরের পাখি = বিহারীলাল; রায়গুণাকর = ভারতচন্দ্র।
৬২০. 'দুধেভাতে উৎপাত' গল্পগ্রন্থের রচয়িতা কে? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক ও ১ আর্থিক প্রতিষ্ঠান: অফিসার, ক্যাশ) (২০১৯)
- কশওকত ওসমান
- খজ্যোতিপ্রকাশ দত্ত
- গআখতারুজ্জামান ইলিয়াস
- ঘহাসান আজিজুল হক
সঠিক উত্তর: গ. আখতারুজ্জামান ইলিয়াস
প্রশ্নটা গল্পগ্রন্থ আর লেখক মেলাতে বলছে। দুধেভাতে উৎপাত আখতারুজ্জামান ইলিয়াসের গল্পগ্রন্থ।
ইলিয়াস বাংলাদেশের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কথাসাহিত্যিক। তাঁর উপন্যাস দুটি: চিলেকোঠার সেপাই, যার পটভূমি উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, আর খোয়াবনামা। গল্পগ্রন্থের মধ্যে আছে অন্য ঘরে অন্য স্বর, খোঁয়ারি, দুধেভাতে উৎপাত, দোজখের ওম ও জাল স্বপ্ন স্বপ্নের জাল।
নামটি ভারতচন্দ্রের বিখ্যাত প্রার্থনা মনে করিয়ে দেয়: আমার সন্তান যেন থাকে দুধে-ভাতে। দুধে-ভাতে থাকার সেই স্বপ্নের বিপরীতে গল্পগুলোয় উঠে এসেছে গরিব মানুষের টানাপোড়েনের জীবন।
শওকত ওসমানের বিখ্যাত উপন্যাস ক্রীতদাসের হাসি, আর হাসান আজিজুল হকের বিখ্যাত উপন্যাস আগুনপাখি। হাসান আজিজুল হকও ছোটগল্পের জন্য বিখ্যাত বলে অনেকে তাঁকে বেছে নেন; কিন্তু দুধেভাতে উৎপাত ইলিয়াসের।
মনে রাখুন: ইলিয়াসের উপন্যাস মাত্র দুটি: চিলেকোঠার সেপাই ও খোয়াবনামা; বাকিগুলো গল্পগ্রন্থ।