বাংলা ভাষা ও সাহিত্য
১. তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের 'কবি' গ্রন্থটিতে কোন্ বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅসম ভালোবাসা
- খআদিবাসীদের জীবন চিত্র
- গডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনী
- ঘপঞ্চাশের মন্বন্তর
সঠিক উত্তর: গ. ডোম সম্প্রদায়ের জীবন কাহিনী
প্রশ্নটি তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের কবি উপন্যাসের প্রধান বিষয় জানতে চেয়েছে। উপন্যাসের নায়ক নিতাইচরণ ডোম বংশের সন্তান, আর নিচু সমাজ থেকে উঠে এসে তার কবিয়াল হয়ে ওঠার কাহিনিই এর কেন্দ্র।
১৯৪২ সালে পত্রিকায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত এই উপন্যাসে ডোম সম্প্রদায়ের জীবন, তাদের প্রতি সমাজের অবজ্ঞা আর এর মধ্যেই এক শিল্পীর আত্মপ্রতিষ্ঠার লড়াই দেখানো হয়েছে। সঙ্গে আছে ঠাকুরঝি ও বসন, দুই নারীর সঙ্গে নিতাইয়ের সম্পর্ক।
উপন্যাসের বিখ্যাত চরণ, জীবন এত ছোট কেনে। এটি নিতাইয়ের গানের অংশ এবং পরীক্ষায় প্রায়ই আসে।
ফাঁদ হলো অসম ভালোবাসা, কারণ নিতাইয়ের প্রেম কাহিনির বড় অংশ। কিন্তু প্রেম এসেছে তার জীবনসংগ্রামের অংশ হিসেবে; সামগ্রিকভাবে প্রাধান্য পেয়েছে ডোম সমাজের এক মানুষের জীবনকাহিনি।
মনে রাখুন: তারাশঙ্করের কবি মানেই নিতাই ডোম আর জীবন এত ছোট কেনে।
২. কিশোর পত্রিকা 'বালক' প্রতিষ্ঠা কার অমর কীর্তি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কস্বর্ণকুমারী দেবী
- খসেলিনা হোসেন
- গআল মাহমুদ
- ঘকাদম্বরী দেবী
সঠিক উত্তর: ক. স্বর্ণকুমারী দেবী
প্রশ্নটি বালক নামের কিশোর পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা জানতে চেয়েছে। প্রচলিত গাইড উত্তর স্বর্ণকুমারী দেবী, আর পরীক্ষার উত্তরও তাই ধরা হয়েছে।
তবে তথ্যের দিক থেকে মনে রাখা দরকার, ১৮৮৫ সালে বালক পত্রিকা প্রতিষ্ঠা করেন ঠাকুরবাড়ির জ্ঞানদানন্দিনী দেবী, সত্যেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্ত্রী। এটিকে বাংলা ভাষায় শিশুকিশোরদের প্রথম সাহিত্য পত্রিকাগুলোর একটি ধরা হয়, আর রবীন্দ্রনাথ এতে অনেক লেখা দেন।
পরে বালক মিশে যায় ভারতী পত্রিকার সঙ্গে, নাম হয় ভারতী ও বালক। এই যুক্ত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন স্বর্ণকুমারী দেবী। এই যোগসূত্রের কারণেই বালকের সঙ্গে তাঁর নাম জড়িয়ে গেছে, আর বিকল্পগুলোর মধ্যে তিনিই একমাত্র যুক্ত ব্যক্তি।
বাকি তিনজনের কেউ উনিশ শতকের এই পত্রিকার সঙ্গে যুক্ত নন। সেলিনা হোসেন ও আল মাহমুদ বিশ শতকের বাংলাদেশের লেখক, আর কাদম্বরী দেবী ঠাকুরবাড়ির বধূ হলেও তিনি ১৮৮৪ সালে মারা যান, পত্রিকাটি শুরুর আগেই।
মনে রাখুন: বালক শুরু করেন জ্ঞানদানন্দিনী, ভারতী ও বালক চালান স্বর্ণকুমারী; বিকল্পে জ্ঞানদানন্দিনী না থাকলে উত্তর স্বর্ণকুমারী।
৩. 'পরমেশ' শব্দটির সঠিক সন্ধি বিচ্ছেদ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কপরম + এশ
- খপরম + ঈশ
- গপরম + ইশ
- ঘপরম + ইস
সঠিক উত্তর: খ. পরম + ঈশ
প্রশ্নটি পরমেশ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ চেয়েছে। এটি স্বরসন্ধি: পরম শব্দের শেষে অ, আর পরের শব্দ ঈশ শুরু হয়েছে ঈ দিয়ে।
নিয়ম হলো, অ বা আ এর পরে ই বা ঈ থাকলে দুটি মিলে এ হয়, আর তা আগের বর্ণে এ কার হিসেবে যুক্ত হয়। তাই পরম আর ঈশ মিলে হয় পরমেশ। ঈশ মানে প্রভু বা ঈশ্বর, আর পরমেশ মানে পরম প্রভু।
একই নিয়মে নর আর ঈশ মিলে নরেশ, গণ আর ঈশ মিলে গণেশ, মহা আর ঈশ মিলে মহেশ, আর দেব আর ইন্দ্র মিলে দেবেন্দ্র।
ফাঁদ হলো পরম আর ইশ। অ এর পরে হ্রস্ব ই এলেও যোগফল এ হয়, তাই ধ্বনির হিসেবে এটিও পরমেশ দেয়; কিন্তু বাংলায় ইশ বলে কোনো অর্থপূর্ণ শব্দ নেই। সন্ধি বিচ্ছেদে দুটি অংশকেই অর্থপূর্ণ শব্দ হতে হয়, আর এখানে সেই শব্দ ঈশ।
মনে রাখুন: শেষে এ কার আর মাঝে ঈশ্বর অর্থ থাকলে ভাঙুন অ + ঈশ দিয়ে: নরেশ, গণেশ, পরমেশ, মহেশ।
৪. 'ই' এর মাত্রার উপরের অংশের নাম কী? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কচৈতন
- খআঁকড়ি
- গপাগড়ি
- ঘজোড় আঁকড়ি
সঠিক উত্তর: ক. চৈতন
প্রশ্নটি বাংলা বর্ণের গঠনের একটি অংশের নাম জানতে চেয়েছে। ই বর্ণের মাত্রার উপরে যে বাঁকা অংশটি উঠে থাকে, তার নাম চৈতন।
চৈতন দেখা যায় ই, ঈ, উ, ঊ, ঐ, ঔ, আর ব্যঞ্জনের মধ্যে ট ও ঠ প্রভৃতি বর্ণে। এই অংশটি টিকি বা শিখা নামেও পরিচিত, কারণ মাথার টিকির মতো দেখায়।
বর্ণের অন্য অংশগুলোর নামও প্রশ্নে আসে। ঙ এর মাথার উপরের অংশটিকে পাগড়ি বলা হয়, বর্ণের গায়ে বাঁকা হুকের মতো অংশ আঁকড়ি, আর ঞ এর পিঠে থাকা জোড়া হুক জোড় আঁকড়ি।
ফাঁদ হলো পাগড়ি, কারণ পাগড়িও মাথার উপরের অংশ। কিন্তু পাগড়ি ঙ বর্ণের বৈশিষ্ট্য; ই এর মাথার অংশটি চৈতন।
মনে রাখুন: ই, ঈ, উ, ঊ, ঐ, ঔ, ট, ঠ: এসব বর্ণের মাথায় চৈতন।
৫. বাংলা পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কনূরনামা
- খআমীর হামজা
- গগুপি চন্দ্রের সন্ন্যাস
- ঘমহুয়া
সঠিক উত্তর: খ. আমীর হামজা
প্রশ্নটি পুঁথি সাহিত্যের উদাহরণ খুঁজতে বলেছে। পুঁথি সাহিত্য বলতে আঠারো ও উনিশ শতকে আরবি, ফারসি, হিন্দুস্তানি মেশানো মিশ্র ভাষায় লেখা কাব্যধারাকে বোঝায়, যাকে দোভাষী পুঁথিও বলে।
এ ধারার প্রথম সার্থক কবি ফকির গরীবুল্লাহ, আর তাঁর আমীর হামজা কাব্যের প্রথম অংশ পুঁথি সাহিত্যের পরিচিত নিদর্শন। পরে সৈয়দ হামজা কাব্যটি সম্পূর্ণ করেন। গরীবুল্লাহর অন্য রচনা জঙ্গনামা, ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান।
নূরনামা আবদুল হাকিমের সুফিতত্ত্বমূলক কাব্য, মধ্যযুগের ধারা। গুপীচন্দ্রের সন্ন্যাস নাথ সাহিত্যের কাহিনি, শুকুর মাহমুদের রচনা। আর মহুয়া মৈমনসিংহ গীতিকার একটি পালা, অর্থাৎ লোকগীতিকা।
ফাঁদ হলো নূরনামা, কারণ এর নামেও আরবি ফারসি শব্দ আছে আর লেখকও মুসলমান কবি। কিন্তু আবদুল হাকিম মধ্যযুগের কবি, দোভাষী পুঁথির নন।
মনে রাখুন: পুঁথি মানে গরীবুল্লাহ: আমীর হামজা, জঙ্গনামা, ইউসুফ জোলেখা, সোনাভান।
৬. 'স্বর্গ' শব্দের সঠিক সমার্থক শব্দজোড়া কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কহরিদশ্ব, বিবদান
- খক্ষিতি, উর্বী
- গদিনমণি, দিন নাথ
- ঘত্রিদিব, সুরপুর
সঠিক উত্তর: ঘ. ত্রিদিব, সুরপুর
প্রশ্নটি এমন শব্দজোড়া খুঁজতে বলেছে, যার দুটি শব্দই স্বর্গের প্রতিশব্দ। ত্রিদিব আর সুরপুর দুটিই স্বর্গ বোঝায়।
সুর মানে দেবতা, তাই সুরপুর মানে দেবতাদের পুরী। স্বর্গের আরও কয়েকটি প্রতিশব্দ: সুরলোক, দেবলোক, দ্যুলোক, ত্রিদিব।
বাকি জোড়াগুলো অন্য শব্দের প্রতিশব্দ। হরিদশ্ব মানে সূর্য; জোড়ের বিবদান শব্দটি প্রশ্নপত্রে এভাবেই ছাপা, সম্ভবত সূর্যের প্রতিশব্দ বিবস্বান বোঝাতে, তবে কোনোভাবেই স্বর্গ নয়। দিনমণি ও দিননাথও সূর্য। ক্ষিতি ও উর্বী মানে পৃথিবী।
ফাঁদ হলো দিনমণি আর দিননাথ, কারণ উজ্জ্বল আকাশের সঙ্গে স্বর্গের মিল খুঁজে কেউ এটি বেছে নেন। কিন্তু দুটিই সূর্যের নাম।
মনে রাখুন: সুর মানে দেবতা: সুরপুর, সুরলোক দুটিই স্বর্গ; দিন যুক্ত নাম সাধারণত সূর্য।
৭. কোন্ বাক্যটি প্রয়োগগত দিক থেকে শুদ্ধ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কমাছ আকাশে উড়ে।
- খতাঁর খুব আনন্দ পেল।
- গআবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
- ঘসকল ছাত্রগণ পাঠে মনোযোগী।
সঠিক উত্তর: গ. আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত।
প্রশ্নটি প্রয়োগের দিক থেকে শুদ্ধ বাক্য চেয়েছে। শুদ্ধ বাক্যে তিনটি গুণ থাকে: আকাঙ্ক্ষা, আসত্তি আর যোগ্যতা, আর সঙ্গে ব্যাকরণগত মিল।
আবশ্যক ব্যয়ে কার্পণ্য অনুচিত, এই বাক্যে অর্থ পূর্ণ, পদক্রম ঠিক, আর শব্দগুলো অর্থে পরস্পরের সঙ্গে খাপ খায়। মানে, প্রয়োজনীয় খরচে কৃপণতা করা উচিত নয়। তাই এটিই শুদ্ধ।
মাছ আকাশে উড়ে বাক্যে যোগ্যতা নেই, কারণ মাছ আকাশে ওড়ে না; তা ছাড়া প্রমিত চলিত রূপ ওড়ে। তাঁর খুব আনন্দ পেল বাক্যে কর্তা ভুল: পাওয়া ক্রিয়ার কর্তা হবে তিনি, ক্রিয়া পেলেন, অথবা বলতে হবে তাঁর খুব আনন্দ হলো। সকল ছাত্রগণ বাক্যে সকল আর গণ দুটিই বহুবচন বোঝায়, তাই একসঙ্গে বসালে বহুবচন দুবার হয়।
ফাঁদ হলো সকল ছাত্রগণ, কারণ বাক্যটি শুনতে স্বাভাবিক লাগে। বহুবচনের দুটি চিহ্ন একসঙ্গে বসানো যায় না; শুদ্ধ রূপ সকল ছাত্র বা ছাত্রগণ।
মনে রাখুন: বহুবচনের দ্বিত্ব ধরুন চোখে চোখে: সকল, সব, সমস্ত, অনেক এর সঙ্গে গণ, বৃন্দ, গুলো, সমূহ বসে না।
৮. 'মা তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন'- এটি কোন্ ধরণের বাক্য? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কইচ্ছাসূচক
- খঅনুজ্ঞাসূচক
- গপ্রশ্নবোধক
- ঘঅস্থিবাচক
সঠিক উত্তর: ঘ. অস্থিবাচক
প্রশ্নটি অর্থ অনুযায়ী বাক্যের প্রকার জানতে চেয়েছে। মা তাঁর সন্তানদের ভালোবাসেন, এই বাক্যটি একটি সাধারণ সত্যকে হ্যাঁ বোধক ভাবে বিবৃত করছে।
যে বাক্যে কোনো ঘটনা বা তথ্য বিবৃত করা হয়, তাকে নির্দেশক বা বিবৃতিমূলক বাক্য বলে। এর দুটি রূপ: হ্যাঁ বোধক হলে অস্তিবাচক, আর না বা নি থাকলে নেতিবাচক। এখানে না নেই, তাই বাক্যটি অস্তিবাচক।
প্রশ্নপত্রে বিকল্পটি অস্থিবাচক ছাপা হয়েছে, তবে শুদ্ধ বানান অস্তিবাচক, যা এসেছে অস্তি শব্দ থেকে, মানে আছে বা হ্যাঁ।
অন্য প্রকারগুলো মিলিয়ে দেখুন: ইচ্ছা বা প্রার্থনা জানালে ইচ্ছাসূচক, আদেশ বা অনুরোধ হলে অনুজ্ঞাসূচক, আর কিছু জানতে চাইলে প্রশ্নবোধক। এই বাক্যে এর কোনোটিই নেই।
মনে রাখুন: বাক্যে প্রশ্ন, আদেশ বা প্রার্থনা না থাকলে সেটি বিবৃতি; তারপর শুধু দেখুন না আছে কি না।
৯. 'ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ' কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- ক১৯২০ সালে
- খ১৯২৬ সালে
- গ১৯২৫ সালে
- ঘ১৯৩০ সালে
সঠিক উত্তর: খ. ১৯২৬ সালে
প্রশ্নটি মুসলিম সাহিত্য সমাজের প্রতিষ্ঠার বছর জানতে চেয়েছে। সংগঠনটি ১৯২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে প্রতিষ্ঠিত হয়।
এর প্রধান উদ্যোক্তাদের মধ্যে ছিলেন আবুল হুসেন, কাজী আবদুল ওদুদ, কাজী মোতাহার হোসেন ও আবুল ফজল। তাঁদের আন্দোলন বুদ্ধির মুক্তি আন্দোলন নামে পরিচিত, আর মুখপত্রের নাম শিখা।
শিখা পত্রিকার শিরোনামের নিচে লেখা থাকত, জ্ঞান যেখানে সীমাবদ্ধ, বুদ্ধি সেখানে আড়ষ্ট, মুক্তি সেখানে অসম্ভব। এই বাক্যটিও পরীক্ষায় আসে।
ফাঁদ হলো ১৯২৫ সাল, কারণ এটি ঠিক আগের বছর আর কাছাকাছি সময়ে অনেক সংগঠন গড়ে উঠছিল। সাল মনে রাখুন ১৯২৬, আর সংগঠন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুসলিম হলে।
মনে রাখুন: ঢাকা মুসলিম সাহিত্য সমাজ: ১৯২৬, শিখা, বুদ্ধির মুক্তি; তিনটি একসঙ্গে মনে রাখুন।
১০. কোনটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধ গ্রন্থ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কমৃত্যুক্ষুধা
- খসিন্ধু হিন্দোল
- গযুগবাণী
- ঘঅগ্নিবীণা
সঠিক উত্তর: গ. যুগবাণী
প্রশ্নটি কাজী নজরুল ইসলামের প্রবন্ধগ্রন্থ চিনতে বলেছে। যুগবাণী ১৯২২ সালে প্রকাশিত নজরুলের প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ, আর প্রকাশের বছরেই ব্রিটিশ সরকার বইটি বাজেয়াপ্ত করে।
যুগবাণীর প্রবন্ধগুলো মূলত নবযুগ পত্রিকায় লেখা সম্পাদকীয়, যেখানে উপনিবেশবিরোধী আর সাম্যের চিন্তা ফুটে উঠেছে। নজরুলের অন্য প্রবন্ধগ্রন্থ রাজবন্দীর জবানবন্দী, দুর্দিনের যাত্রী ও রুদ্রমঙ্গল।
বাকি তিনটি অন্য শাখার। মৃত্যুক্ষুধা উপন্যাস। অগ্নিবীণা নজরুলের প্রথম কাব্যগ্রন্থ, যাতে প্রলয়োল্লাস আর বিদ্রোহী কবিতা আছে। সিন্ধু হিন্দোলও কাব্যগ্রন্থ।
ফাঁদ হলো অগ্নিবীণা, কারণ এটি আর যুগবাণী একই বছরে প্রকাশিত এবং দুটিই প্রথম, একটি প্রথম কাব্য, অন্যটি প্রথম প্রবন্ধগ্রন্থ।
মনে রাখুন: নজরুলের প্রবন্ধ চার নামে মনে রাখুন: যুগবাণী, রাজবন্দীর জবানবন্দী, দুর্দিনের যাত্রী, রুদ্রমঙ্গল।
১১. 'কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল'- পদটির রচয়িতা কে? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কলুইপা
- খভুসুরুপা
- গশবরপা
- ঘকাহ্নপা
সঠিক উত্তর: ক. লুইপা
প্রশ্নটি চর্যাপদের একটি পদের রচয়িতা জানতে চেয়েছে। কাআ তরুবর পঞ্চ বি ডাল, অর্থাৎ দেহ একটি গাছ যার পাঁচটি ডাল, এটি চর্যাপদের প্রথম পদের প্রথম চরণ। এর রচয়িতা লুইপা।
লুইপাকে অনেকে আদি সিদ্ধাচার্য বলেন। চর্যাপদে তাঁর পদ দুটি। পদকর্তাদের সংখ্যার হিসাবও প্রশ্নে আসে: কাহ্নপা সবচেয়ে বেশি, ১৩টি পদ লিখেছেন; ভুসুকুপা ৮টি; শবরপা ২টি।
বিকল্পে ভুসুরুপা লেখা নামটি আসলে ভুসুকুপা। তিনি নিজেকে বাঙালি বলে পরিচয় দেওয়া পদের জন্য বিখ্যাত।
ফাঁদ হলো কাহ্নপা, কারণ সবচেয়ে বেশি পদ তাঁর। কিন্তু প্রথম পদটি লুইপার, আর প্রথম চরণের কাআ বা দেহের তত্ত্বই তাঁর পরিচয়।
মনে রাখুন: চর্যার প্রথম পদ লুইপার, সবচেয়ে বেশি পদ কাহ্নপার।
১২. জসীমউদ্দিনের 'কবর' কবিতাটি কোন্ পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কতত্ত্ব-বোধিনী
- খধূমকেতু
- গকালি ও কলম
- ঘকল্লোল
সঠিক উত্তর: ঘ. কল্লোল
প্রশ্নটি জসীমউদ্দীনের কবর কবিতার প্রথম প্রকাশের পত্রিকা জানতে চেয়েছে। কবিতাটি প্রথম ছাপা হয় কল্লোল পত্রিকায়, ১৯২৫ সালে।
জসীমউদ্দীন তখনও ছাত্র। কল্লোলে প্রকাশিত হয়েই কবিতাটি পাঠকের মন জয় করে। কবি ছাত্র থাকা অবস্থাতেই কবিতাটি প্রবেশিকা পরীক্ষার পাঠ্যতালিকায় ওঠে। পরে এটি তাঁর রাখালী কাব্যগ্রন্থে স্থান পায়।
অন্য পত্রিকাগুলোর পরিচয় মনে রাখুন: তত্ত্ববোধিনী উনিশ শতকে ব্রাহ্মসমাজের পত্রিকা; ধূমকেতু নজরুলের সম্পাদিত পত্রিকা; আর কালি ও কলমও একটি সাহিত্য পত্রিকা, কিন্তু কবরের প্রথম প্রকাশ সেখানে নয়।
ফাঁদ হলো ধূমকেতু, কারণ সময়টা কাছাকাছি আর পত্রিকাটি বিখ্যাত। কিন্তু কবর ছাপা হয়েছিল কল্লোলে, যে পত্রিকা ঘিরে তিরিশের আধুনিক কবিরা জড়ো হয়েছিলেন।
মনে রাখুন: জসীমউদ্দীনের কবর: কল্লোলে প্রকাশ, রাখালীতে স্থান, কবি ছাত্র থাকতেই প্রবেশিকার পাঠ্য।
১৩. 'বিষণ্ণ' শব্দটির সঠিক বিশেষ্য রূপ কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কবিষাদ
- খবিষণ্ণ
- গবিষাক্ত
- ঘবিষয়
সঠিক উত্তর: ক. বিষাদ
প্রশ্নটি বিষণ্ণ শব্দের বিশেষ্য রূপ চেয়েছে। বিষণ্ণ বিশেষণ, মানে দুঃখিত বা মনমরা। এর বিশেষ্য রূপ বিষাদ, মানে দুঃখ বা মনের ভার।
দুটি শব্দই একই সংস্কৃত মূল থেকে এসেছে: বি উপসর্গের সঙ্গে সদ্ ধাতু। ঘঞ্ প্রত্যয়ে হয়েছে বিশেষ্য বিষাদ, আর ক্ত প্রত্যয়ে বিশেষণ বিষণ্ণ। বিষণ্ণতাও বিশেষ্য, তবে বিকল্পে আছে বিষাদ। বাংলা একাডেমির বানানে শব্দটি বিষণ্ন, অর্থাৎ ণ এর সঙ্গে ন, লেখা হয়।
একই ধাঁচের আরও জোড়া মনে রাখুন: প্রসন্ন বিশেষণ, প্রসাদ বিশেষ্য; অবসন্ন বিশেষণ, অবসাদ বিশেষ্য। তিনটি জোড়াতেই সদ্ ধাতু।
ফাঁদ হলো বিষাক্ত, কারণ শব্দের শুরুতে বিষ অংশ দেখে মিল মনে হয়। কিন্তু বিষাক্ত এসেছে বিষ থেকে, মানে বিষযুক্ত, আর এটিও বিশেষণ।
মনে রাখুন: সন্ন থেকে সাদ: প্রসন্ন প্রসাদ, অবসন্ন অবসাদ, বিষণ্ণ বিষাদ।
১৪. কোনটি 'ভাত' এর প্রতিশব্দ? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅলিপিক
- খপ্রভঞ্জন
- গমহি
- ঘতণ্ডুল
সঠিক উত্তর: ঘ. তণ্ডুল
প্রশ্নটি ভাত শব্দের প্রতিশব্দ চেয়েছে। বিকল্পগুলোর মধ্যে ভাতের সঙ্গে সম্পর্কিত একমাত্র শব্দ তণ্ডুল। তণ্ডুল মূলত চাল, যা রান্না করলে ভাত হয়, আর প্রচলিত উত্তরে এটিকেই ভাতের প্রতিশব্দ ধরা হয়।
বানানটি খেয়াল করুন: তণ্ডুল, যেখানে ণ আর ড যুক্তবর্ণ হয়ে বসে। ভাতের আরও কয়েকটি প্রতিশব্দ: অন্ন, ওদন, ভক্ত।
বাকি বিকল্পগুলোর অর্থ আলাদা। প্রভঞ্জন মানে প্রবল ঝড় বা বায়ু। মহী, বিকল্পে যা মহি ছাপা, মানে পৃথিবী। আর অলিপিক শব্দটি ভাতের প্রতিশব্দের তালিকায় নেই।
ফাঁদ হলো অচেনা শব্দ দেখে আন্দাজে উত্তর দেওয়া। প্রতিশব্দের প্রশ্নে চেনা শব্দগুলোর অর্থ আগে বাদ দিন; যেটা বাকি থাকে আর বিষয়ের সঙ্গে মেলে, সেটিই উত্তর।
মনে রাখুন: ভাতের প্রতিশব্দ চার নামে মনে রাখুন: অন্ন, ওদন, ভক্ত, তণ্ডুল।
১৫. মুক্তিযুদ্ধকে উপজীব্য করে 'যাত্রা' উপন্যাসটি লিখেছেন- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কশওকত ওসমান
- খশহিদুল জহির
- গশওকত আলী
- ঘসেলিনা হোসেন
সঠিক উত্তর: গ. শওকত আলী
প্রশ্নটি মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক উপন্যাস যাত্রার লেখক জানতে চেয়েছে। যাত্রা শওকত আলীর লেখা। ১৯৭১ সালের পঁচিশে মার্চের পর প্রাণ বাঁচাতে ঢাকার মানুষের অনিশ্চিত গন্তব্যে ছুটে চলা, আর সেই পথেই প্রতিরোধের চেতনা জেগে ওঠা এর বিষয়।
শওকত আলীর সবচেয়ে বিখ্যাত উপন্যাস প্রদোষে প্রাকৃতজন, যার পটভূমি সেন আমল আর তুর্কি আক্রমণের সময়। তাঁর ত্রয়ী উপন্যাস দক্ষিণায়নের দিন, কুলায় কালস্রোত আর পূর্বরাত্রি পূর্বদিন।
অন্য তিন লেখকেরও মুক্তিযুদ্ধের উপন্যাস আছে, তাই আলাদা করে মনে রাখুন: শওকত ওসমানের জাহান্নাম হইতে বিদায়, সেলিনা হোসেনের হাঙর নদী গ্রেনেড, আর শহিদুল জহিরের জীবন ও রাজনৈতিক বাস্তবতা।
ফাঁদ হলো শওকত ওসমান, কারণ নামের প্রথম অংশ একই আর তিনিও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লিখেছেন। কিন্তু যাত্রা শওকত আলীর।
মনে রাখুন: দুই শওকত আলাদা রাখুন: আলীর যাত্রা ও প্রদোষে প্রাকৃতজন, ওসমানের জাহান্নাম হইতে বিদায় ও ক্রীতদাসের হাসি।
১৬. একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দে অপর স্বরের পরিবর্তন ঘটলে তাকে বলে- (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅভিশ্রুতি
- খঅপিনিহিতি
- গসমীভবন
- ঘস্বরসঙ্গতি
সঠিক উত্তর: ঘ. স্বরসঙ্গতি
প্রশ্নটি ধ্বনি পরিবর্তনের একটি সংজ্ঞা দিয়ে নাম জানতে চেয়েছে। একটি স্বরধ্বনির প্রভাবে শব্দের অন্য স্বরধ্বনি বদলে গেলে তাকে বলে স্বরসঙ্গতি। পরিবর্তনের ফলে দুটি স্বর কাছাকাছি বা একই রকম হয়ে যায়।
উদাহরণ: দেশি থেকে দিশি, এখানে শেষের ই এর প্রভাবে আগের এ বদলে ই হয়েছে। বিলাতি থেকে বিলিতি, মুলা থেকে মুলো, এগুলোও স্বরসঙ্গতি।
কাছাকাছি নামগুলো আলাদা করে চিনুন। অপিনিহিতিতে পরের ই বা উ আগেই উচ্চারিত হয়, যেমন আজি থেকে আইজ, সাধু থেকে সাউধ। অভিশ্রুতিতে অপিনিহিতির সেই ই বা উ পাশের স্বরের সঙ্গে মিশে স্বরটিকে বদলে দেয়, যেমন করিয়া থেকে কইর্যা হয়ে করে। আর সমীভবন ব্যঞ্জনের ব্যাপার, যেমন জন্ম থেকে জম্ম।
ফাঁদ হলো অভিশ্রুতি, কারণ সেখানেও স্বর বদলায়। কিন্তু অভিশ্রুতির শর্ত আগে অপিনিহিতি হওয়া; সাধারণভাবে এক স্বরের প্রভাবে অন্য স্বরের বদলকে বলে স্বরসঙ্গতি।
মনে রাখুন: স্বরে স্বরে মিল স্বরসঙ্গতি, ব্যঞ্জনে ব্যঞ্জনে মিল সমীভবন।
১৭. 'ফিকা কমলা রং'- এখানে ফিকা অর্থ কী? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কঅনুজ্জ্বল
- খউজ্জ্বল
- গতীব্র
- ঘঝাঁঝালো
সঠিক উত্তর: ক. অনুজ্জ্বল
প্রশ্নটি প্রসঙ্গ অনুযায়ী একটি শব্দের অর্থ চেয়েছে। ফিকা কমলা রং মানে হালকা, ম্লান কমলা রং; তাই ফিকা অর্থ অনুজ্জ্বল।
রঙের প্রসঙ্গে ফিকা বা চলিত রূপে ফিকে বলতে বোঝায়, যে রঙের তীব্রতা কম, চোখে কম উজ্জ্বল। এর বিপরীত গাঢ় বা উজ্জ্বল।
শব্দটির অন্য প্রয়োগও আছে: স্বাদের প্রসঙ্গে ফিকে মানে পানসে বা স্বাদহীন, যেমন ফিকে চা। কিন্তু প্রশ্নে রঙের কথা, তাই অর্থ অনুজ্জ্বল।
ফাঁদ হলো ঝাঁঝালো আর তীব্র। এরা উল্টো অর্থের শব্দ; গন্ধ বা স্বাদের ঝাঁঝ মনে পড়ায় অনেকে গুলিয়ে ফেলেন।
মনে রাখুন: রঙের বেলায় ফিকে মানে হালকা, স্বাদের বেলায় পানসে; বিপরীত গাঢ়।
১৮. কোনটি বাউল গানের বৈশিষ্ট্য? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কবীরত্বগাথা ও ভক্তিমূলক
- খমানবিক আবেগ ও দৈনন্দিন জীবন
- গআধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
- ঘপল্লী জীবনের সুখ দুঃখ
সঠিক উত্তর: গ. আধ্যাত্মিক প্রেম ও অন্তর্গত অনুসন্ধান
প্রশ্নটি বাউল গানের মূল বৈশিষ্ট্য জানতে চেয়েছে। বাউল গানের কেন্দ্রে আছে আধ্যাত্মিক প্রেম আর নিজের ভেতরে মনের মানুষের খোঁজ।
বাউলরা বিশ্বাস করেন, পরম সত্তা মানুষের দেহের ভেতরেই আছেন; তাই তাঁদের গানে দেহতত্ত্ব, গুরুর প্রতি ভক্তি আর অন্তরের সাধনার কথা বারবার আসে। এই ধারার শ্রেষ্ঠ সাধক লালন শাহ, যাঁর গান খাঁচার ভিতর অচিন পাখি এই খোঁজেরই উদাহরণ।
অন্য বিকল্পগুলো অন্য ধারার গানের বৈশিষ্ট্য। বীরত্বগাথা বীরের কাহিনিনির্ভর গাথার বিষয়, পল্লিজীবনের সুখ দুঃখ ভাটিয়ালি বা ভাওয়াইয়ার মতো লোকগানে বেশি, আর দৈনন্দিন জীবনের আবেগ সাধারণ লোকগানের বিষয়।
ফাঁদ হলো পল্লিজীবনের সুখ দুঃখ, কারণ বাউল গানও গ্রামবাংলার গান। কিন্তু বাউলের লক্ষ্য গ্রামের দৈনন্দিন জীবনের বর্ণনা নয়, অন্তরের আধ্যাত্মিক খোঁজ।
মনে রাখুন: বাউল মানেই মনের মানুষ, দেহতত্ত্ব আর লালন।
১৯. 'ময়দান, মুনাফা, বই' শব্দ তিনটি কোন্ ভাষা থেকে আগত? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- কউর্দু
- খফারসি
- গআরবি
- ঘপর্তূগীজ
সঠিক উত্তর: গ. আরবি
প্রশ্নটি তিনটি শব্দের উৎস ভাষা জানতে চেয়েছে, আর পরীক্ষার উত্তর ধরা হয়েছে আরবি। মুনাফা নিঃসন্দেহে আরবি শব্দ, মানে লাভ।
ময়দান শব্দটি মূলে আরবি, তবে বাংলায় এসেছে ফারসির মাধ্যমে, তাই অনেক তালিকায় এটিকে ফারসি শব্দ দেখানো হয়। মুসলিম শাসনামলে আরবি অনেক শব্দ এভাবে ফারসি হয়ে বাংলায় ঢুকেছে, তাই আরবি আর ফারসির সীমা প্রায়ই ঝাপসা।
বই শব্দের উৎস নিয়ে মতভেদ বেশি। কয়েকটি গাইড বাংলা একাডেমির অভিধানের সূত্রে একে আরবি ধরেছে, কিন্তু ব্যুৎপত্তির কোনো কোনো সূত্রে এটিকে সংস্কৃত বহিকা থেকে প্রাকৃত হয়ে আসা শব্দ দেখানো হয়। তাই প্রশ্নটি নিয়ে বিতর্ক আছে।
নিশ্চিত আরবি শব্দের কয়েকটি উদাহরণ মনে রাখুন: আদালত, উকিল, কলম, কানুন, কিতাব, মুনাফা। পর্তুগিজ শব্দ চেনার উদাহরণ: আনারস, আলমারি, চাবি, বালতি; এগুলোর সঙ্গে প্রশ্নের শব্দের মিল নেই।
মনে রাখুন: আদালত, উকিল, কলম, কানুন, কিতাব, মুনাফা: আইন আদালত আর লেখালেখির অনেক শব্দ আরবি।
২০. 'রাজপথ' শব্দের ব্যাসবাক্য কোনটি? (৫০তম বিসিএস, ২০২৬)
- করাজা ও পথ
- খরাজার পথ
- গবিশাল পথ
- ঘপথের রাজা
সঠিক উত্তর: ঘ. পথের রাজা
প্রশ্নটি রাজপথ শব্দের ব্যাসবাক্য চেয়েছে। রাজপথ মানে প্রধান বা বড় পথ, আর এর ব্যাসবাক্য পথের রাজা। এটি ষষ্ঠী তৎপুরুষ সমাস।
ষষ্ঠী তৎপুরুষে সাধারণত ষষ্ঠী বিভক্তিযুক্ত পদ সমস্তপদে আগে বসে, যেমন রাজার পুত্র থেকে রাজপুত্র। কিন্তু রাজপথ আর রাজহংসের মতো কিছু শব্দে রাজা অংশটি ব্যাসবাক্যে পরে থাকলেও সমস্তপদে আগে বসে: পথের রাজা থেকে রাজপথ, হংসের রাজা থেকে রাজহংস।
এখানে রাজা মানে সেরা বা প্রধান। পথের রাজা মানে সব পথের মধ্যে প্রধান পথ, তাই অর্থের সঙ্গে ব্যাসবাক্যটি মেলে।
ফাঁদ হলো রাজার পথ, কারণ সাধারণ নিয়মে এভাবেই ভাঙার কথা মনে হয়। কিন্তু রাজার পথ মানে রাজার নিজস্ব পথ, আর রাজপথ বলতে সেটা বোঝায় না।
মনে রাখুন: রাজা মানে সেরা বোঝালে ব্যাসবাক্যে রাজা পরে বসে: পথের রাজা রাজপথ, হংসের রাজা রাজহংস।