বাংলাদেশ বিষয়াবলি · পাতা ১২
২২১. বাংলাদেশের কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান রয়েছে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কচট্টগ্রাম
- খসিলেট
- গপঞ্চগড়
- ঘমৌলভীবাজার
সঠিক উত্তর: ঘ. মৌলভীবাজার
প্রশ্নটা জানতে চেয়েছে কোন জেলায় সবচেয়ে বেশি চা বাগান। উত্তর মৌলভীবাজার।
বাংলাদেশে বাণিজ্যিক চা বাগান দেড়শো ষাটটির বেশি, আর এর অর্ধেকের বেশি, নব্বইটির মতো, মৌলভীবাজার জেলায়। এই জেলার শ্রীমঙ্গলকে চায়ের রাজধানী বলা হয়; সেখানে চা গবেষণা ইনস্টিটিউট ও চায়ের নিলামকেন্দ্র আছে।
চা চাষের জন্য দরকার প্রচুর বৃষ্টি আর ঢালু জমি, যেখানে পানি জমে থাকে না। বৃহত্তর সিলেটের টিলাময় এলাকা এর জন্য আদর্শ; মৌলভীবাজারের পর হবিগঞ্জেও অনেক বাগান আছে।
সিলেট শব্দটা চায়ের সঙ্গে এত জড়িত যে অনেকে সিলেট জেলাই বেছে নেন। কিন্তু চা বাগানের সংখ্যায় বৃহত্তর সিলেটের মধ্যেও মৌলভীবাজার জেলা সবার আগে।
মনে রাখুন: চায়ের রাজধানী শ্রীমঙ্গল, শ্রীমঙ্গল মৌলভীবাজারে: তাই সবচেয়ে বেশি বাগানও মৌলভীবাজারে।
২২২. ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা’ বাংলাদেশ সংবিধানের কোন অনুচ্ছেদে অন্তর্ভুক্ত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কঅনুচ্ছেদ ৩৮
- খঅনুচ্ছেদ ৫০
- গঅনুচ্ছেদ ৪১
- ঘঅনুচ্ছেদ ১০০
সঠিক উত্তর: গ. অনুচ্ছেদ ৪১
প্রশ্নটা সংবিধানের মৌলিক অধিকার অংশের একটি অনুচ্ছেদ জানতে চেয়েছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা আছে অনুচ্ছেদ ৪১ এ।
অনুচ্ছেদ ৪১ অনুযায়ী আইন, জনশৃঙ্খলা ও নৈতিকতা সাপেক্ষে প্রত্যেক নাগরিকের যেকোনো ধর্ম অবলম্বন, পালন ও প্রচারের অধিকার আছে। প্রত্যেক ধর্মীয় সম্প্রদায় নিজস্ব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারে। আর কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কাউকে নিজ ধর্মের নয় এমন ধর্মীয় শিক্ষা নিতে বাধ্য করা যাবে না।
স্বাধীনতাগুলো ক্রমে আসে: ৩৬ চলাফেরা, ৩৭ সমাবেশ, ৩৮ সংগঠন, ৩৯ চিন্তা ও বাক্স্বাধীনতা, ৪০ পেশা, ৪১ ধর্ম। এই ক্রম মনে রাখলে প্রশ্নটা সহজ।
অনুচ্ছেদ ৩৮ ও ৪১ কাছাকাছি এবং দুটিই স্বাধীনতার কথা বলে, তাই ৩৮ বড় ফাঁদ। ৩৮ সংগঠনের স্বাধীনতা, ধর্মের নয়।
মনে রাখুন: চলা, সমাবেশ, সংগঠন, বাক্, পেশা, ধর্ম: ছত্রিশ থেকে একচল্লিশ।
২২৩. বাংলাদেশে প্রথম আদমশুমারি (জনগণনা) কবে অনুষ্ঠিত হয়? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১৯৭২ সালে
- খ১৯৭৩ সালে
- গ১৯৭৪ সালে
- ঘ১৯৭৫ সালে
সঠিক উত্তর: গ. ১৯৭৪ সালে
প্রশ্নটা স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম আদমশুমারি বা জনশুমারির বছর জানতে চেয়েছে। উত্তর ১৯৭৪ সাল।
স্বাধীনতার পর প্রথম জনশুমারি হয় ১৯৭৪ সালে। এরপর দশ বছরের ব্যবধানে শুমারি হয় ১৯৮১, ১৯৯১, ২০০১ ও ২০১১ সালে। পরীক্ষার পরে, ২০২২ সালের জুনে, করোনার কারণে পিছিয়ে যাওয়া ষষ্ঠ শুমারি হয়, যা দেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি।
১৯৭৪ এর পর পরেরটা ১৯৮১ সালে এনে দশকের প্রথম বছরের নিয়মে ফেরানো হয়েছিল। তাই এই বছরগুলো একটা ছক ধরে মনে রাখা যায়: চুয়াত্তর, তারপর প্রতিটি দশকের এক সাল।
স্বাধীনতার ঠিক পরের বছর হিসেবে অনেকে ১৯৭২ বা ১৯৭৩ ধরে নেন। কিন্তু ১৯৭১ সালের নির্ধারিত শুমারি যুদ্ধের কারণে হয়নি, আর স্বাধীন দেশে প্রথম শুমারি হয় ১৯৭৪ সালে।
মনে রাখুন: জনশুমারি: চুয়াত্তর, একাশি, একানব্বই, এক, এগারো, বাইশ।
২২৪. বাংলাদেশের জিডিপি (GDP)-তে কোন খাতের অবদান সবচেয়ে বেশি? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককৃষি
- খশিল্প
- গবাণিজ্য
- ঘসেবা
সঠিক উত্তর: ঘ. সেবা
প্রশ্নটা জিডিপিতে খাতভিত্তিক অবদান জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় বাংলাদেশের জিডিপিতে সবচেয়ে বেশি অবদান ছিল সেবা খাতের, যা অর্ধেকের বেশি।
জিডিপিকে তিনটি বড় খাতে ভাগ করা হয়: কৃষি, শিল্প ও সেবা। সেবা খাতে আছে পাইকারি ও খুচরা বাণিজ্য, পরিবহন, ব্যাংক-বিমা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, লোক প্রশাসন ইত্যাদি। এতগুলো উপখাত থাকায় এর মোট অবদান সবচেয়ে বড়।
অর্থনীতির উন্নয়নের সঙ্গে সঙ্গে কৃষির ভাগ কমে আর শিল্প ও সেবার ভাগ বাড়ে। বাংলাদেশে এখন অবদানের ক্রম সেবা, তারপর শিল্প, আর সবচেয়ে কম কৃষি; যদিও কর্মসংস্থানে কৃষি এখনো বড় খাত।
বাণিজ্য বিকল্পটি ফাঁদ, কারণ বাণিজ্য আলাদা বড় খাত নয়, এটি সেবা খাতেরই একটি উপখাত। আর কৃষিপ্রধান দেশ শুনে কৃষি বেছে নেওয়াও সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: তিন খাতের ক্রম: সেবা, শিল্প, কৃষি। বাণিজ্য সেবার ভেতরে।
২২৫. ২০২০-২০২১ অর্থবছরে জিডিপি (GDP) প্রবৃদ্ধির হার কত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক৫.৬৮%
- খ৯.৯৪%
- গ৭.৬৬%
- ঘ৬.৯৪%
সঠিক উত্তর: ঘ. ৬.৯৪%
প্রশ্নটা ২০২০-২১ অর্থবছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার জানতে চেয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর চূড়ান্ত হিসাবে এটি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশ।
পরিসংখ্যান ব্যুরো প্রথমে একটি সাময়িক হিসাব দেয়, পরে পূর্ণ তথ্য পেয়ে চূড়ান্ত হিসাব প্রকাশ করে। ২০২০-২১ অর্থবছরের সাময়িক হিসাব ছিল ৫ দশমিক ৪৩ শতাংশ, আর ২০২২ সালের শুরুতে প্রকাশিত চূড়ান্ত হিসাবে তা দাঁড়ায় ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে।
এই অর্থবছরটি ছিল করোনা মহামারির ধাক্কা সামলানোর বছর। ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রবৃদ্ধি অনেক কমে যাওয়ার পর ২০২০-২১ এ অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়ায়।
সংখ্যার প্রশ্নে সাময়িক আর চূড়ান্ত হিসাব আলাদা করে মনে রাখা জরুরি। পরীক্ষায় সাধারণত চূড়ান্ত হিসাবটিই সঠিক ধরা হয়।
মনে রাখুন: করোনার পরের বছর, ২০২০-২১: চূড়ান্ত প্রবৃদ্ধি ছয় দশমিক নয় চার।
২২৬. বিশ্বব্যাংক কবে বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক১ জুন ২০১৪
- খ১ জুন ২০১৫
- গ১ জুলাই ২০১৫
- ঘ১ জুলাই ২০১৬
সঠিক উত্তর: গ. ১ জুলাই ২০১৫
প্রশ্নটা বিশ্বব্যাংকের আয়ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগে বাংলাদেশের উত্তরণের তারিখ জানতে চেয়েছে। বিশ্বব্যাংক ২০১৫ সালের ১ জুলাই বাংলাদেশকে নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
বিশ্বব্যাংক প্রতি বছর ১ জুলাই, অর্থাৎ তার নতুন অর্থবছরের শুরুতে, মাথাপিছু মোট জাতীয় আয়ের ভিত্তিতে দেশগুলোর আয়শ্রেণি হালনাগাদ করে। এই নিয়ম জানা থাকলে জুন মাসের বিকল্পগুলো সহজেই বাদ পড়ে।
এটি জাতিসংঘের স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে উত্তরণের বিষয় থেকে আলাদা। এলডিসি থেকে উত্তরণের সব মানদণ্ড বাংলাদেশ প্রথম পূরণ করে ২০১৮ সালে, আর উত্তরণের চূড়ান্ত সুপারিশ পায় ২০২১ সালে।
জুলাই না জুন, আর ২০১৫ না ২০১৬: এই দুই জায়গায় বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে। নিয়মটা মনে রাখুন, বিশ্বব্যাংকের তালিকা বদলায় ১ জুলাই।
মনে রাখুন: বিশ্বব্যাংকের শ্রেণি বদলায় ১ জুলাই; বাংলাদেশের বছর ২০১৫।
২২৭. বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ কী ধরণের স্যাটেলাইট হবে? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ককমিউনিকেশন স্যাটেলাইট
- খওয়েদার স্যাটেলাইট
- গআর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
- ঘন্যাভিগেশন স্যাটেলাইট
সঠিক উত্তর: গ. আর্থ অবজারভেশন স্যাটেলাইট
প্রশ্নটা বাংলাদেশের দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের ধরন জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় পরিকল্পনা ছিল বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ হবে আর্থ অবজারভেশন বা ভূ-পর্যবেক্ষণ স্যাটেলাইট।
প্রথম স্যাটেলাইটটি, যা ২০১৮ সালের মে মাসে উৎক্ষেপণ করা হয়, একটি যোগাযোগ স্যাটেলাইট। এটি টেলিভিশন সম্প্রচার ও দুর্গম এলাকায় যোগাযোগ সেবা দেয়। পরীক্ষার পরে, ২০২৫ সালের মার্চে, এর নাম বদলে বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ রাখা হয়।
দ্বিতীয়টির কাজ আলাদা: মহাকাশ থেকে পৃথিবীর ছবি ও তথ্য সংগ্রহ। এর মাধ্যমে কৃষি, মৎস্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সমুদ্রসীমায় জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণ ও নিরাপত্তায় সহায়তা পাওয়ার লক্ষ্য ধরা হয়েছে।
প্রথম স্যাটেলাইটের ধরন মনে রেখে দ্বিতীয়টিকেও যোগাযোগ স্যাটেলাইট ভাবা এখানে প্রধান ফাঁদ।
মনে রাখুন: প্রথমটি কথা বলায়, দ্বিতীয়টি দেখায়: যোগাযোগ, তারপর পর্যবেক্ষণ।
২২৮. বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনার (Perspective Plan) সময়সীমা কত? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- ক২০২১-২০৩০
- খ২০২৪-২০৩২
- গ২০২১-২০৪১
- ঘ২০২২-২০৫০
সঠিক উত্তর: গ. ২০২১-২০৪১
প্রশ্নটা বাংলাদেশের প্রেক্ষিত পরিকল্পনার মেয়াদ জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময় চলমান ছিল দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা, যার মেয়াদ ২০২১ থেকে ২০৪১।
প্রেক্ষিত পরিকল্পনা হলো দীর্ঘমেয়াদি দিকনির্দেশনা, যার ভিত্তিতে পাঁচ বছর মেয়াদি পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনাগুলো সাজানো হয়। প্রথম প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ছিল ২০১০ থেকে ২০২১, যা রূপকল্প ২০২১ বাস্তবায়নের জন্য।
দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা রূপকল্প ২০৪১ বাস্তবায়নের রূপরেখা। এর লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উচ্চ আয়ের উন্নত দেশে পৌঁছানো। অষ্টম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ছিল এর প্রথম ধাপ।
দুই হাজার তিরিশ সাল টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার শেষ বছর বলে ২০২১-২০৩০ বিকল্পটি বিভ্রান্ত করে। আর শতবর্ষী দীর্ঘ পরিকল্পনা হলো ডেল্টা প্ল্যান ২১০০, প্রেক্ষিত পরিকল্পনা নয়।
মনে রাখুন: প্রেক্ষিত পরিকল্পনার শেষ বছর আর রূপকল্পের বছর একই: ২০২১ ও ২০৪১।
২২৯. মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ‘কনসার্ট ফর বাংলাদেশ’ (Concert for Bangladesh) কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল? (৪৪তম বিসিএস, ২০২২)
- কনিউইয়র্ক
- খবোস্টন
- গলন্ডন
- ঘক্যানবেরা
সঠিক উত্তর: ক. নিউইয়র্ক
প্রশ্নটা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে আন্তর্জাতিক সমর্থনের একটি বড় ঘটনা নিয়ে। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ অনুষ্ঠিত হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে।
১৯৭১ সালের ১ আগস্ট নিউইয়র্কের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে বিটলসের সাবেক সদস্য জর্জ হ্যারিসন ও সেতারশিল্পী পণ্ডিত রবিশঙ্করের উদ্যোগে এই কনসার্ট হয়। বব ডিলান, এরিক ক্ল্যাপটনসহ বিখ্যাত শিল্পীরা এতে অংশ নেন।
কনসার্টের উদ্দেশ্য ছিল ভারতে আশ্রয় নেওয়া শরণার্থীদের জন্য অর্থ সংগ্রহ এবং বিশ্ববাসীর দৃষ্টি বাংলাদেশের দিকে আনা। জর্জ হ্যারিসনের বাংলাদেশ গানটি এই কনসার্ট থেকেই বিখ্যাত হয়।
জর্জ হ্যারিসন ব্রিটিশ শিল্পী হওয়ায় অনেকে লন্ডন বেছে নেন। কিন্তু কনসার্টটি হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রে।
মনে রাখুন: ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেন মনে পড়লেই নিউইয়র্ক।
২৩০. Where is Bangladesh Rice Research Institute located? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কGazipur
- খDhaka
- গMymensingh
- ঘKhulna
সঠিক উত্তর: ক. Gazipur
বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, সংক্ষেপে ব্রি, এর প্রধান কার্যালয় গাজীপুরের জয়দেবপুরে। প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
ব্রি ধানের উচ্চফলনশীল ও প্রতিকূলতা সহিষ্ণু জাত উদ্ভাবন করে, যেমন লবণ ও বন্যা সহিষ্ণু জাত। বিআর ও ব্রি ধান নামে পরিচিত জাতগুলো এখান থেকেই আসে।
গাজীপুরে আরও আছে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বারি। আর ময়মনসিংহে আছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট বা বিনা, এবং মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট।
ফাঁদ হলো ময়মনসিংহ: কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিনা সেখানে বলে অনেকে ধান গবেষণাকেও সেখানে ধরে নেন।
মনে রাখুন: ধান আর কৃষি গবেষণা দুটোই গাজীপুরে; পরমাণু কৃষি আর মৎস্য ময়মনসিংহে।
২৩১. Who is the Chairman of the Executive Committee of National Economic Council? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কPresident
- খPrime Minister
- গFinance minister
- ঘPlanning minister
সঠিক উত্তর: খ. Prime Minister
একনেক মানে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি। বড় উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদনের সর্বোচ্চ ফোরাম এটি, আর এর চেয়ারপারসন প্রধানমন্ত্রী।
মূল সংস্থা জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ বা এনইসি, যার সভাপতিও প্রধানমন্ত্রী। এনইসি জাতীয় পরিকল্পনা ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি অনুমোদন করে; একনেক তার হয়ে প্রকল্প পর্যায়ের সিদ্ধান্ত নেয়।
প্রধানমন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে একনেকের বিকল্প চেয়ারপারসন হন অর্থমন্ত্রী, আর পরিকল্পনামন্ত্রী এর সদস্য। প্রকল্পগুলো আসে পরিকল্পনা কমিশন হয়ে।
ফাঁদ হলো পরিকল্পনামন্ত্রী: প্রকল্প পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় থেকে আসে বলে অনেকে তাঁকেই প্রধান ধরে নেন। আর রাষ্ট্রপতি নির্বাহী কাজের এই কমিটিতে থাকেন না।
মনে রাখুন: এনইসি, একনেক, পরিকল্পনা কমিশন: তিনটিরই প্রধান প্রধানমন্ত্রী।
২৩২. Chittagong Stock Exchange was established in: (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- ক1998
- খ1994
- গ1995
- ঘ1996
সঠিক উত্তর: গ. 1995
বাংলাদেশে দুটি স্টক এক্সচেঞ্জ: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ আর চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। প্রশ্নটা দ্বিতীয়টির প্রতিষ্ঠার সাল জানতে চেয়েছে।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ বা CSE প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে, দেশের দ্বিতীয় স্টক এক্সচেঞ্জ হিসেবে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ অনেক পুরনো, ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ নামে গঠিত। আর পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন গঠিত হয় ১৯৯৩ সালে।
১৯৯৬ সাল ফাঁদ, কারণ ওই বছরের শেয়ারবাজার ধসের কথা অনেকের মনে থাকে।
মনে রাখুন: ঢাকা ১৯৫৪, নিয়ন্ত্রক BSEC ১৯৯৩, চট্টগ্রাম ১৯৯৫: নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের দুই বছর পরে চট্টগ্রাম।
২৩৩. Who of the following received the Ekushey Padak 2022 for the language movement? (সমন্বিত ৫ ব্যাংক: অফিসার, ক্যাশ) (২০২২)
- কMustafa M. Matin
- খKhaled Mahmud Khan
- গKamal Chowdhury
- ঘAbdul Jabbar
সঠিক উত্তর: ক. Mustafa M. Matin
একুশে পদক বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক রাষ্ট্রীয় সম্মাননা, যা ভাষা আন্দোলনের স্মৃতিতে প্রতি বছর দেওয়া হয়। ২০২২ সালে ২৪ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এই পদক পান।
২০২২ সালে ভাষা আন্দোলন ক্যাটাগরিতে পদক পান দুজন: মোস্তফা এম এ মতিন এবং মির্জা তোফাজ্জল হোসেন মুকুল। প্রশ্নের Mustafa M. Matin বলতে প্রথমজনকেই বোঝানো হয়েছে।
একই বছর ভাষা ও সাহিত্যে পান কবি কামাল চৌধুরী ও ঝর্না দাশ পুরকায়স্থ, আর অভিনয়ে পান খালেদ খান। তাই ক্যাটাগরি গুলিয়ে ফেললেই ভুল হয়।
আব্দুল জব্বার নামটি ফাঁদ: ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বারের নাম সবাই জানে, কিন্তু ২০২২ সালের তালিকায় তিনি নেই।
মনে রাখুন: ক্যাটাগরি মিলিয়ে পড়ুন: কামাল চৌধুরী কবি, তাই ভাষা ও সাহিত্যে।
২৩৪. From which country, does Bangladesh import the most? (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কIndia
- খChina
- গUSA
- ঘBritain
সঠিক উত্তর: খ. China
প্রশ্নটা বাংলাদেশের আমদানির প্রধান উৎস দেশ জানতে চেয়েছে। পরীক্ষার সময়, মানে ২০২২ সালের শুরুতে, বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি পণ্য আমদানি করত চীন থেকে; দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারত।
চীন থেকে আসে মূলত পোশাক শিল্পের কাঁচামাল যেমন সুতা ও কাপড়, যন্ত্রপাতি, ইলেকট্রনিক পণ্য ও রাসায়নিক। রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্প এসব কাঁচামালের উপর নির্ভর করে বলেই চীনের ভাগ এত বড়।
ভারত থেকে আসে খাদ্যশস্য, তুলা, জ্বালানি ও শিল্পের কাঁচামাল। প্রতিবেশী ও স্থলবন্দর থাকায় অনেকে ভারতকেই প্রধান উৎস ভাবেন, এটাই এখানে ফাঁদ।
রপ্তানির ক্ষেত্রে ছবিটা উল্টো: বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। আমদানি আর রপ্তানির প্রশ্ন আলাদা করে মনে রাখুন।
মনে রাখুন: আমদানি চীন থেকে, রপ্তানি যুক্তরাষ্ট্রে: কাঁচামাল আসে পূর্ব থেকে, পোশাক যায় পশ্চিমে।
২৩৫. The highest revenue earning source of Bangladesh Government is- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কIncome Tax
- খValue Added Tax
- গHolding Tax
- ঘImport Tax
সঠিক উত্তর: খ. Value Added Tax
বাংলাদেশ সরকারের রাজস্বের বড় অংশ আদায় করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, এনবিআর। এনবিআরের আদায়ের তিনটি প্রধান খাত হলো মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট, আয়কর, আর আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি আসে ভ্যাট থেকে। ভ্যাট প্রায় সব পণ্য ও সেবা কেনাবেচার উপর বসে, তাই এর ভিত্তি অনেক চওড়া; ধনী-গরিব সবাই কেনাকাটার সময় এটি দেন।
আয়কর দ্বিতীয় অবস্থানে, কারণ বাংলাদেশে আয়কর দাতার সংখ্যা জনসংখ্যার তুলনায় কম। আমদানি শুল্ক বড় হলেও ভ্যাটের চেয়ে কম। হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা, এটি কেন্দ্রীয় সরকারের রাজস্বই নয়।
ফাঁদ হলো আয়কর: উন্নত দেশে আয়করই প্রধান উৎস, তাই অনেকে বাংলাদেশেও তাই ভাবেন। কিন্তু বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশে পরোক্ষ কর, বিশেষ করে ভ্যাট, সবচেয়ে বড় উৎস।
মনে রাখুন: উন্নয়নশীল দেশে প্রধান রাজস্ব উৎস পরোক্ষ কর; বাংলাদেশে সেটা ভ্যাট।
২৩৬. The length of Padma Bridge is____ (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ক4.15 km
- খ5.14 km
- গ6.74 km
- ঘ6.15 km
সঠিক উত্তর: ঘ. 6.15 km
পদ্মা সেতুর দৈর্ঘ্য ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার। এটি মুন্সীগঞ্জের মাওয়া আর শরীয়তপুরের জাজিরাকে যুক্ত করেছে, এবং ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধন হয়। পরীক্ষার সময় সেতুটির নির্মাণ শেষ পর্যায়ে ছিল।
দৈর্ঘ্যটা হিসাব করে মনে রাখা যায়। সেতুতে ৪২টি খুঁটি আর তাদের মাঝে ৪১টি স্প্যান, প্রতিটি স্প্যান ১৫০ মিটার লম্বা। ৪১ গুণ ১৫০ হয় ৬ হাজার ১৫০ মিটার, মানে ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার।
সেতুটি দ্বিতল: উপরে চার লেনের সড়ক, নিচে রেলপথ। এটি নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো প্রকল্প।
ফাঁদ হলো ৫ দশমিক ১৪ কিলোমিটার, যা আসল সংখ্যার অঙ্ক উল্টে বানানো। আর ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের বঙ্গবন্ধু যমুনা সেতুর সাথে গুলিয়ে কম মান বেছে নেওয়াও সাধারণ ভুল।
মনে রাখুন: ৪১ × ১৫০ = ৬১৫০: স্প্যানের হিসাব মনে থাকলে দৈর্ঘ্য ভুল হবে না।
২৩৭. The number of Stock Exchanges in Bangladesh is______. (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- ক1
- খ2
- গ3
- ঘ4
সঠিক উত্তর: খ. 2
বাংলাদেশে স্টক এক্সচেঞ্জ দুটি: ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ। এখানেই কোম্পানির শেয়ার ও বন্ড কেনাবেচা হয়।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ পুরোনো: ১৯৫৪ সালে পূর্ব পাকিস্তান স্টক এক্সচেঞ্জ নামে এর যাত্রা। চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৯৫ সালে।
দুটি এক্সচেঞ্জের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, বিএসইসি, যা ১৯৯৩ সালে গঠিত হয়। বিএসইসি নিজে কোনো এক্সচেঞ্জ নয়, তাই একে গুনে তিনটি বলা ভুল।
শেয়ার জমা রাখার প্রতিষ্ঠান সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড, সিডিবিএল, এটাও এক্সচেঞ্জ নয়। ফাঁদ হলো এসব সংস্থাকে এক্সচেঞ্জ ধরে বেশি সংখ্যা বেছে নেওয়া।
মনে রাখুন: দুই শহর, দুই এক্সচেঞ্জ: ঢাকা আর চট্টগ্রাম; নিয়ন্ত্রক একটাই, বিএসইসি।
২৩৮. The First Prime Minister of Bangladesh Mr. Tajuddin Ahmed was born in- (সমন্বিত ৮ ব্যাংক: অফিসার, ২০২২)
- কCumilla
- খManikganj
- গMunshiganj
- ঘGazipur
সঠিক উত্তর: ঘ. Gazipur
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ জন্মগ্রহণ করেন ১৯২৫ সালের ২৩ জুলাই, গাজীপুর জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দরদরিয়া গ্রামে। তখন এলাকাটি ঢাকা জেলার অংশ ছিল।
১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকারের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তিনি, আর মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনার মূল দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে জাতীয় চার নেতার সাথে তাঁকে হত্যা করা হয়।
অপশনের অন্য জেলাগুলো, মানে কুমিল্লা, মানিকগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জ, সবই ঢাকার আশপাশের জেলা, তাই আন্দাজে গুলিয়ে যায়। মনে রাখুন, কাপাসিয়া এখন গাজীপুর জেলায়; তাই উত্তর গাজীপুর।
মনে রাখুন: জাতীয় চার নেতার জন্মজেলা: তাজউদ্দীন গাজীপুর, সৈয়দ নজরুল কিশোরগঞ্জ, মনসুর আলী সিরাজগঞ্জ, কামারুজ্জামান নাটোর।
২৩৯. During Liberation War of Bangladesh, Dhaka was under which sector? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কsector 1
- খsector 2
- গsector 5
- ঘsector 7
সঠিক উত্তর: খ. sector 2
মুক্তিযুদ্ধের সময় যুদ্ধ পরিচালনার সুবিধার জন্য পুরো বাংলাদেশকে ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ঢাকা পড়েছিল ২ নম্বর সেক্টরে।
২ নম্বর সেক্টরে ছিল ঢাকা, কুমিল্লা, ফরিদপুর আর নোয়াখালীর একাংশ। এর অধিনায়ক ছিলেন মেজর খালেদ মোশাররফ, পরে মেজর এ টি এম হায়দার। ঢাকায় আলোচিত গেরিলা দল ক্র্যাক প্লাটুন এই সেক্টরের অধীনেই কাজ করত।
১ নম্বর সেক্টরে ছিল চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর একাংশ। ৫ নম্বর সেক্টর ছিল সিলেটের উত্তরাঞ্চলে, আর ৭ নম্বর সেক্টর রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া ও দিনাজপুরের একাংশ নিয়ে।
সেক্টর ১ শুনলে রাজধানী ভেবে বসার ঝোঁক থাকে, কিন্তু সেক্টরের নম্বর গুরুত্ব অনুযায়ী নয়, ভৌগোলিক অবস্থান অনুযায়ী দেওয়া।
মনে রাখুন: ১০ নম্বর সেক্টর ছিল নৌ কমান্ডো, আর ১১টির মধ্যে রাজধানী ঢাকা ২ নম্বরে: এই দুটি সবচেয়ে বেশি আসে।
২৪০. Who is the first Bangladeshi woman to climb the world's highest peak, the Mount Everest? (সমন্বিত ৯ ব্যাংক: অফিসার, জেনারেল) (২০২২)
- কNishat Mujumder
- খWasfia Nazreen
- গNisha Nazreen
- ঘWasfia Majumder
সঠিক উত্তর: ক. Nishat Mujumder
প্রথম বাংলাদেশি নারী হিসেবে মাউন্ট এভারেস্ট জয় করেন নিশাত মজুমদার। তিনি ২০১২ সালের ১৯ মে চূড়ায় পৌঁছান।
এর এক সপ্তাহ পরে, ২০১২ সালের ২৬ মে, দ্বিতীয় বাংলাদেশি নারী হিসেবে এভারেস্ট জয় করেন ওয়াসফিয়া নাজরীন। তাই দুজনের নাম প্রায় একসঙ্গে আসে এবং প্রথম কে, তা নিয়েই প্রশ্ন হয়।
বাংলাদেশি হিসেবে প্রথম এভারেস্ট জয় করেন মুসা ইব্রাহীম, ২০১০ সালের ২৩ মে। এরপর এম এ মুহিত দুবার এভারেস্টে ওঠেন।
এখানে অপশন ৩ আর ৪-এ দুই নামের অংশ মিশিয়ে বানানো নাম দেওয়া হয়েছে; এমন মিশ্র নাম দেখলে সতর্ক থাকুন।
মনে রাখুন: একই মাসে দুজন: আগে নিশাত (১৯ মে), পরে ওয়াসফিয়া (২৬ মে)।